স্বীকৃতিহীন সন্তান নিয়ে বিপাকে মধ্যপ্রাচ্যফেরত নারী

স্বীকৃতিহীন সন্তান নিয়ে বিপাকে মধ্যপ্রাচ্যফেরত নারী

গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারীর নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ আছে; প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে। ছবি: এএফপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরব যান। সেখানে তিনি প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা জানান। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে পুলিশের মাধ্যমে তাকে সফর জেলে পাঠানো হয়। সফর জেলেই জন্ম হয় শিশুর।

সৌদি আরবে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের পর হওয়া ছয় মাসের ছেলেসন্তান নিয়ে মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরেন ৩২ বছরের এক নারী। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

ওই নারীর দাবি, সৌদি আরবে যে বাড়িতে কাজ করতেন সেই গৃহকর্তা তার সন্তানের বাবা। এখন ‘স্বীকৃতিহীন’ এই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে নিজের বাড়িতে যাবেন বুঝতে পারছেন না।

২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এই নারী সৌদি আরব যান। তিনি জানান, দেশটিতে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হতেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে পুলিশের মাধ্যমে তাকে সফর জেলে পাঠানো হয়।

সফর জেলেই জন্ম হয় শিশুটির। তার নাম রাখা হয় আব্দুর রহমান। ছয় মাসের সন্তানসহ তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ওই নারী বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ বিষয়টি জানে না। সন্তান নিয়ে আমি পরিবারে ফিরতে পারব না। সমাজের লোকেরা ভালোভাবে নিবে না।’

অসহায় নারী বিমানবন্দরে নেমেই কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে বিষয়টি জানান বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কাছে। এরপর সেখান থেকে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য হস্তান্তর করা হয় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কাছে। ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে তিনি আপাতত অবস্থান করছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ভীষণ দুর্ভাগ্যজনক। ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

‘সৌদি আরবের কোন বাড়িতে তিনি কাজ করতে গিয়েছিলেন, তার নিয়োগকর্তা কে ছিলেন, এগুলো তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে ডিএনএ টেস্ট করে সন্তানের পিতৃপরিচয় বের করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমরা একই ধরনের ১২টি ঘটনা দেখেছি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে আমাদের সোচ্চার হওয়া এবং নীতি নির্ধারকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।’

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মার্চ সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সন্তান দিয়ে দেশে ফিরেছেন নরসিংদী জেলার শাহনাজ আক্তার।

২৭ বছর বয়সী তরুণী ছিলেন অবিবাহিত। তিনি সৌদি আরবের মক্কার কেন্দ্রীয় জেলে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।

এর আগে গত ২ এপ্রিল নিজের আট মাসের শিশু সন্তানকে বিমানবন্দরে ফেলেই চলে গেছেন সৌদিফেরত আরেক নারী। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সন্তান ফেলে যাওয়ার চেয়ে বিকল্প খুঁজে পাননি।

চার মাসের মেয়ে সন্তান নিয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি ওমান থেকে দেশে ফিরতে বাধ্য হন আরেক নারী গৃহকর্মী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখানে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ অফিসে গিয়ে ঘটনা জানান।

তার সন্তানের বাবা একজন ওমানি নাগরিক বলে দাবি করেন। ‘নির্যাতনের একপর্যায়ে’ তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে ওমান পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ওমান ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় তার সন্তানের জন্ম হয়।

এর আগেও ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওমান থেকে হবিগঞ্জ জেলার আরেক গৃহকর্মী তিন মাস বয়সী সন্তানসহ দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানসহ নারী গৃহকর্মীদের দেশে ফেরার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এমন পরিস্থিতির শিকার নারী ও তাদের সন্তানরা সমাজ ও পরিবারে অবহেলিত হয়ে বেড়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ব্র্যাকের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে এ ধরনের ১২ শিশুসহ নারীকে সহযোগিতা করা হয়েছে। এখনও করা হচ্ছে।

বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারীদের হিসাব রাখছে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক।

সেখানকার হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালের প্রথম ১০ মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ২২ জন নারী গৃহকর্মীর মরদেহ এসেছে। এদের সিংহভাগই হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

২০১৬ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ নারীর মরদেহ এসেছে। এদের মধ্যে ৮১ জনের আত্মহত্যার তথ্য রয়েছে। বাকিরা হত্যার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ আছে।

এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার পায় না বলেও নানা সময় আলোচনা হয়েছে। গৃহকর্মী হিসেবে বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারীর নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ আছে; প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে।

অর্থ উপার্জনের আশায় গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে দেশে ফিরেছেন অনেক শ্রমিক। এসব ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর সংসারেও ফিরতে পারছেন না অনেক নারী। তাদের অনেকে সেফ হোমে অবস্থান করছেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বৈরুতে বিক্ষোভে গোলাগুলি, নিহত ৬

বৈরুতে বিক্ষোভে গোলাগুলি, নিহত ৬

বৈরুতে বিক্ষোভে গোলাগুলির ঘটনায় ঘটনাস্থলে সশস্ত্র অবস্থান নেয় হিজবুল্লাহ ও আমল মুভমেন্টের যোদ্ধারা। ছবি: এএফপি

ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। বন্দুকধারীদের কমপক্ষে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। বন্দুকধারীদের পরিচয় কিংবা কাদের নির্দেশে তারা গুলি চালিয়েছে- সেসব এখনও স্পষ্ট নয়। বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ ও সংগঠনটির মিত্র আমল সমর্থকদের প্রতি শান্ত থাকার এবং ‘কোনোরকম উস্কানির জবাব না দেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর সমর্থকদের বিক্ষোভের সময় গোলাগুলিতে প্রাণ গেছে কমপক্ষে ছয়জনের। বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তকারী বিচারকের বিরুদ্ধে চলছিল ওই বিক্ষোভ।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈরুত জাস্টিস প্যালেস প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার জড়ো হন কয়েক শ হিজবুল্লাহ সমর্থক। তাদের সবার পরনে ছিল কালো রঙের পোশাক।

বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তকারী বিচারক তারেক বিতারের পদত্যাগের দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। তাদের অভিযোগ, তদন্তে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বিচারক তারেক।

বিক্ষোভের ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী তাইয়ুন এলাকা থেকে গোলাগুলির তীব্র শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এতে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেড ক্রসের লেবানিজ শাখা জানিয়েছে, গুলিতে কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং আরও ২৫ জন আহত হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে লেবাননের সেনাবাহিনী। বন্দুকধারীদের কমপক্ষে একজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। বন্দুকধারীদের পরিচয় কিংবা কাদের নির্দেশে তারা গুলি চালিয়েছে- সেসব এখনও স্পষ্ট নয়।

জনগণের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি। লেবাননকে সহিংস করে তোলার অপচেষ্টা হলে তা রুখে দেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ঘটনাস্থল ত্যাগে বেসামরিক মানুষজনকে আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী। কেউ গুলি করলেই সেনাবাহিনী পাল্টা জবাব দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ ও সংগঠনটির মিত্র আমল সমর্থকদের প্রতি শান্ত থাকার এবং ‘কোনোরকম উস্কানির জবাব না দেয়ার’ আহ্বান জানিয়েছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখনও গোলাগুলি চলছে। গোলাগুলিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের পরিবারসহ নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে বেসামরিক প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবকরা।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত নিয়ে লেবাননের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত ছিল। অনিরাপদে রাখা বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুত বিস্ফোরিত হয়ে প্রাণ যায় দুই শতাধিক মানুষের, আহত হয়েছিল সাড়ে ছয় হাজারের বেশি।

বৈরুত বন্দরে এ বিস্ফোরণের ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ অপারমাণবিক বিস্ফোরণ এবং রাজনৈতিক সংকটপ্রবণ লেবাননের ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ঘটনা। ওই বিস্ফোরণে রাজধানী নগরীর কয়েকটি এলাকা পুরোপুরি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল।

এ ঘটনায় সম্প্রতি উত্তেজনা আরও বাড়ে হিজবুল্লাহর মহাসচিব হাসান নাসরাল্লাহ তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক তারেক বিতারের কঠোর সমালোচনা করার পর। তারেক ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়ে তদন্তের নামে অনেক কর্মকর্তাকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন নাসরাল্লাহ।

বিচারক তারেক বিতার গত কয়েক মাস ধরে সাবেক লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীসহ বিগত সরকারের অনেক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার চেষ্টা করেছেন। এই নেতাদের অনেকেই হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও স্পিকার নাবিহ বেরি নেতৃত্বাধীন শিয়া গোষ্ঠী আমল মুভমেন্টের সদস্য।

লেবাননের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রধান মেজর জেনারেল আব্বাস ইব্রাহিম ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রধান মেজর জেনারেল টোনি সালিবার বিরুদ্ধেও সমন জারি করার চেষ্টা করেছিরেন তারেক বিতার। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও শীর্ষ প্রতিরক্ষা পরিষদের অনুমতি না মেলায় তা সম্ভব হয়নি।

এখন পর্যন্ত কোনো সাবেক বা বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হননি।

তারেক বিতারের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন রয়েছে লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকের অন এবং প্রধানমন্ত্রী মিকাতির। এর আগেও বিস্ফোরণের তদন্ত থেকে এক বিচারককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং দ্বিতীয়বার এমন কিছু ঘটার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন মিকাতি।

এ অবস্থায় বিতারের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন মন্ত্রিসভায় থাকা হিজবুল্লাহ, আমল ও অন্যান্য সমর্থক গোষ্ঠীর সদস্যরা।

শেয়ার করুন

ইরাকের নির্বাচনে এগিয়ে শিয়া নেতা আল-সদর

ইরাকের নির্বাচনে এগিয়ে শিয়া নেতা আল-সদর

বাগদাদে শিয়া নেতা মুক্তাদা আল-সদরের সমর্থকদের বিজয়োল্লাস। ছবি: এএফপি

যৌথ বিবৃতিতে ফাতাহ জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন মঙ্গলবার ভোটের ফল পুনর্গণনার আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে এবং ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা হায়দার আল-আবাদি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভোট কারচুপি রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবো আমরা।’

ইরাকের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগণনায় প্রাথমিকভাবে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে শিয়া ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল-সদরের দল। পার্লামেন্টে দলটি আগের চেয়েও বেশি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানপন্থি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী নির্বাচনের প্রাথমিক ফল প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে রোববারের ভোটে ভোটার উপস্থিতি ছিল রেকর্ড নিম্ন ৪১ শতাংশ। ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা অভিযানে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশটিতে এটি পঞ্চম সাধারণ নির্বাচন।

প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ৩২৯ আসনের পার্লামেন্টে আল-সদরের দলের আসনসংখ্যা বেড়ে ৭৩ হতে পারে। আসনসংখ্যা কমেছে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ইরানপন্থি রাজনৈতিক জোট হাশদ আল-শাবির।

পার্লামেন্টে আগের দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ফাতাহ জোটএর আসনসংখ্যা ৪৮ থেকে কমে ১২তে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

যৌথ বিবৃতিতে ফাতাহ জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন মঙ্গলবার ভোটের ফল পুনর্গণনার আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে এবং ফল প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা হায়দার আল-আবাদি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভোট কারচুপি রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবো আমরা।’

ইরাকের ইরানপন্থি অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠনের নেতা হাদি আল-আমিরি বলেন, ‘এই ভুয়া ফল আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এর জন্য যা পরিণতি ভোগ করতে হয়, করব।’

ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে হাশদের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহ ব্রিগেডও।

স্বঘোষিত খিলাফত ঘোষণা করা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা হাশদ জোট গঠিত হয় ২০১৪ সালে। হাশদের সঙ্গে যোগসূত্র থাকা অনেক আইনপ্রণেতা ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হন।

২০২২ সালে ইরাকের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্নীতি, বেকারত্বসহ নানা সংকটে দুই বছর ধরে চলতে থাকা সহিংস সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে আগাম নির্বাচন দেন প্রধানমন্ত্রী মুস্তাফা আল-কাদিমি।

শেয়ার করুন

ইরাকের নির্বাচনে ইরানপন্থিদের হার

ইরাকের নির্বাচনে ইরানপন্থিদের হার

ইরানবিরোধী দল সদরিস্ট মুভমেন্টের ইরাকের নির্বাচনে জয়ের খবরে সমর্থকদের উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সদরিস্ট মুভমেন্টের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদের ৩২৯ আসনের মধ্যে ধর্মীয় নেতা আল-সদরের দল ৭৩টি আসন জিতেছে।

ইরাকে এবারের সংসদীয় নির্বাচনে শিয়া মুসলমান ধর্মীয় নেতা মুক্তাদা আল-সদরের দল সদরিস্ট মুভমেন্ট জয় পেতে যাচ্ছে। আর ইরানপন্থি দলগুলোর হয়েছে ভরাডুবি।

স্থানীয় সময় রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফল, নির্বাচন কর্মকর্তা ও সদরিস্ট মুভমেন্টের মুখপাত্র এসব তথ্য জানান বলে আল-জাজিরাআরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সোমবার ইরাকের সংসদীয় নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে দেখা যায়, সদরিস্ট মুভমেন্টের পর নির্বাচনি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাউরি আল-মালিকির দল ইসলামিক দাওয়া পার্টি।

এ ছাড়া সদরিস্ট মুভমেন্টের প্রার্থীরা ইরানপন্থি ফাতাহ জোটকে হারিয়েছেন। আধা সামরিক নেতা হাদি আল-আমেরির নেতৃত্বাধীন ওই জোটে বেশ কয়েকটি দল রয়েছে।

২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন মিত্র বাহিনী ইরাকে সামরিক অভিযান চালিয়ে সুন্নি শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই ঘটনার পর ইরাকের শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ও কুর্দিদের দেশটির সরকারে আধিপত্য বিস্তার করতে দেখা যায়।

ক্ষমতাসীন নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগে ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে ২০১৯ সালে ইরাকজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়।

গণবিক্ষোভের চাপে একপর্যায়ে ইরাকের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল-মাহদি পদত্যাগে বাধ্য হন। এরপর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুস্তাফা আল-কাধিমিকে নিয়োগ দেয়া হয়।

তেলসমৃদ্ধ অথচ দারিদ্র্যপীড়িত ইরাকে ২০২২ সালে সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ের কয়েক মাস আগে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়া হয়।

রোববারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাত্র ৪১ শতাংশ ইরাকি ভোট দেন। এই প্রথম ইরাকে এত কম মানুষ নির্বাচনে অংশ নেন।

প্রাথমিক ফল বলছে, রাজধানী বাগদাদসহ ইরাকের বেশ কয়েকটি প্রদেশে সদরিস্ট মুভমেন্ট ৭০টির বেশি আসন জিতেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সদরিস্ট মুভমেন্টের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদের ৩২৯ আসনের মধ্যে ধর্মীয় নেতা আল-সদরের দল ৭৩টি আসন জিতেছে।

ইরাকের নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে আল-সদর এগিয়ে।

তবে আল-সদরের দল ঠিক কতটি আসন জিতেছে, তা নিশ্চিত করেননি তিনি।

প্রাথমিক ফলে আরও দেখা যায়, ২০১৯ সালের গণ-আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সংস্কারপন্থি প্রার্থীরা নির্বাচনে বেশ কয়েকটি আসনে জিতেছেন।

ইরাকে গণবিক্ষোভ চলাকালে ইরান সমর্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে প্রায় ৬০০ মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক ফল ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ওই দলগুলো ২০১৮ সালের নির্বাচনের চেয়েও এবার কম ভোট পেয়েছে।

২০১৮ সালের সংসদীয় নির্বাচনে প্রথম অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা বিস্তার করেন আল-সদর। ওই নির্বাচনে তার জোট ৫৪টি আসন পেয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ইরাকের রাজনীতিতে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যান আল-সদর। ওই অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানেরও নেতৃত্ব দেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, প্রতিবেশী দেশ ইরানসহ সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী পপুলিস্ট নেতা আল-সদর। ইরাকের রাজনীতিতে ইরানের নাক গলানো নীতির বরাবরই সমালোচনা করেন তিনি।

শেয়ার করুন

৩৬৭ ফুট গভীর ‘নরকের কুয়ায়’ জিন নেই, আছে সাপের গর্ত

৩৬৭ ফুট গভীর ‘নরকের কুয়ায়’ জিন নেই, আছে সাপের গর্ত

ইয়েমেনের কথিত 'নরকের কুয়ায়' নামছেন এক অভিযাত্রী। ছবি: এএফপি

কয়েক শ বছর ধরে কুয়াটিকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা কল্পকাহিনি। বিভিন্ন ভৌতিক বা কাল্পনিক চরিত্রকে ঘিরে তৈরি এসব গল্পে কুয়ার বাসিন্দা মূলত জিন, যাদের পার করে যেতে হয় নরকে। অর্থাৎ নরকের প্রবেশপথও মনে করা হয় কুয়াটিকে। স্থানীয় বাসিন্দারা একে দুর্ভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন।

ইয়েমেনের কথিত ‘নরকের কুয়া’। স্থানীয়দের বিশ্বাস- এটি একটি কারাগার, যেখানে জিনদের আটকে রাখা হয় বা হতো। ‘নিষিদ্ধ’ কুয়ার গভীরে গেলে জীবন অভিশপ্ত হয়ে যাবে বলেও মনে করেন অনেকে।

যদিও এসব ধারণার কোনো ভিত্তি নেই, তাও ভয়েই কখনো সাড়ে তিন শ ফুটের বেশি গভীর কুয়াটিতে নামার চেষ্টা করেননি কুসংস্কারাচ্ছন্ন স্থানীয় ইয়েমেনিরা। অদ্ভুত এক গন্ধ ভেসে আসে গুহা থেকে।

শেষ পর্যন্ত গুজব আমলে না নিয়ে প্রথমবারের মতো কুয়াটির রহস্য উন্মোচনে এর তলদেশে পৌঁছেছেন ওমানের একদল বিশেষজ্ঞ।

বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে ফ্রান্স টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলীয় আল-মাহরা প্রদেশের মরু অঞ্চলে অবস্থিত অন্ধকার গুহাটি প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময়। কয়েকটি হিসাব অনুযায়ী এটি চওড়ায় ১০০ ফুট; সমতল থেকে তলদেশ পর্যন্ত এর উচ্চতা ৩৬৭ ফুট।

ওমানের গুহা পর্যবেক্ষক দল ওসিইটি কুয়াটির ভেতরে সাপ, প্রাণির দেহাবশেষ আর ‘কেইভ পার্ল’ বা চুনাপাথরের মুক্তা খুঁজে পেয়েছেন। জিন বা অতিপ্রাকৃত কিছুর চিহ্ন খুঁজে পাননি তারা।

৩৬৭ ফুট গভীর ‘নরকের কুয়ায়’ জিন নেই, আছে সাপের গর্ত
কথিত নরকের কুয়ার প্রবেশপথ। ছবি: এএফপি

ওমানের জার্মান ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির ভূতত্ত্বের অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-কিন্দি বলেন, ‘অনেক সাপ ছিল। কেউ বিরক্ত না করলেও সেগুলোও কারও দিকে তাকিয়ে দেখে না।’

গত সপ্তাহে গুহাটিতে নামেন আটজন অভিজ্ঞ অভিযাত্রী। ওসিইটি দলের বাকি দুই সহকর্মী অবস্থান নেন গুহার বাইরে। গুহায় নামার সময়ের এবং তলদেশ থেকে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে কুয়ার দেয়ালের গঠন, ধূসর আর হালকা সবুজ পাথুরে মুক্তা দেখা যায়। ওপর থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় পড়া পানির কারণে তৈরি হয়েছে মুক্তাগুলো।

একটি খনিজ ও তেলবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী কিন্দি বলেন, ‘রোমাঞ্চের অনুভূতি পেতেই কুয়াটির প্রতি আগ্রহী হয়েছিলাম আমরা। মনে হয়েছিল একটা নতুন রহস্যে আলো ফেলতে পারব আমরা, উন্মোচন করতে পারব ইয়েমেনের ইতিহাসের একটি অংশ।

‘আমরা কুয়াটির পানি, পাথর, মাটি ও কিছু মৃত জীবের নমুনা সংগ্রহ করেছি। সেগুলো বিশ্লেষণের পর দ্রুতই একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।’

কুয়ার ভেতরের অদ্ভুত গন্ধের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কিছু মরা পাখি পড়েছিল। সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায় বটে, কিন্তু তা অসহনীয় কিছু নয়।’

৩৬৭ ফুট গভীর ‘নরকের কুয়ায়’ জিন নেই, আছে সাপের গর্ত
ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুহাটিকে 'দুর্ভাগ্যের প্রতীক' মনে করেন স্থানীয়রা। ছবি: এএফপি

চলতি বছরের জুনেই ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তারা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, গুহার তলদেশে কী আছে না আছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা নেই তাদের। কখনোই গুহার তলদেশে তারা পৌঁছাননি। গুহাটির বয়স কয়েক কোটি বছর বলে ধারণার কথাও জানান তারা।

মাহরাহ অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনিজ সম্পদবিষয়ক কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সালাহ বাভাইর সে সময় বলেছিলেন, ‘গুহার ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি আমরা। গুহায় প্রবেশও করেছিলাম। কিন্তু ৫০-৬০ মিটারের বেশি গভীরে যেতে পারিনি।

‘ভিতরে অদ্ভুত কিছু লক্ষ্য করেছিলাম। অপরিচিত গন্ধ ভেসে আসছিল… রহস্যময় একটা পরিবেশ ছিল।’

কয়েক শ বছর ধরে কুয়াটিকে ঘিরে ছড়িয়েছে নানা কল্পকাহিনি। বিভিন্ন ভৌতিক বা কাল্পনিক চরিত্রকে ঘিরে তৈরি এসব গল্পে কুয়ার বাসিন্দা মূলত জিন, যাদের পার করে যেতে হয় নরকে। অর্থাৎ নরকের প্রবেশপথও মনে করা হয় কুয়াটিকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা একে দুর্ভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করেন। অনেকে এলাকাটিতে পা ফেলতেও অস্বস্তিবোধ করেন, কেউ কেউ এ নিয়ে কথা বলতেও ভয় পান।

তারা মনে করেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন যথেষ্ট দুর্ভাগ্যের শিকার, নতুন করে কোনো অভিশাপের প্রয়োজন নেই তাদের।

২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ চলছে ইয়েমেনে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানবিক সংকট পীড়িত দেশটির জনসংখ্যা তিন কোটি, যাদের এক-তৃতীয়াংশই বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভর করে বাঁচছেন।

শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে চামচ

ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে চামচ

ইসরায়েলি সেনাদের চামচ দেখাচ্ছেন দুই ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী।

মামুলি চামচই হয়ে উঠেছে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার নতুন প্রতীক। ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিদের হাতে হাতে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পতাকা ও প্ল্যাকার্ডের পাশাপাশি এখন এই চামচও দেখা যাচ্ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতার নতুন প্রতীক ‘চামচ’ হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে একটি জেল পালানোর ঘটনা। গত ৬ সেপ্টেম্বর মরিচা ধরা চামচ দিয়েই সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইসরায়েলের সুরক্ষিত কারাগার থেকে পালিয়েছেন ছয় ফিলিস্তিনি। যদিও বড় ধরনের তল্লাশি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই বন্দিকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

এএফপির বরাতে ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, সুড়ঙ্গ দিয়ে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ওই ঘটনাটি ঘটেছিল ইসরায়েলের জিলবোয়া কারাগারে। পালানোর আগে কয়েক মাসের নিরলস প্রচেষ্টায় সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছিলেন বন্দিরা। কারাগারের দেয়ালের ঠিক পাশেই ছিল বড় রাস্তা। বন্দিরা যে কক্ষে অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে সুড়ঙ্গটির অপর মাথা সেই রাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।

পালিয়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সশস্ত্র আল-আকসা মারটায়ার্স ব্রিগেডের সাবেক এক নেতা ছাড়াও ছিলেন ইসলামিক জিহাদের পাঁচ সদস্য।

ইসরায়েল এই ঘটনাটিকে ‘বড় ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ বললেও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এ ঘটনাকে ‘বীরত্বপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। বন্দিদের সবাই ইসরায়েলিদের ওপর হামলার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন।

ফিলিস্তিনি কার্টুনিস্ট মোহাম্মেদ সাবানেহ বন্দি পালানোর ঘটনাটি নিয়ে বেশ কয়েকটি কার্টুনও এঁকেছেন। একটি কার্টুনচিত্রে চামচ দিয়ে খোঁড়া সুড়ঙ্গটিকে ‘মুক্তির সুড়ঙ্গ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনের বাইরে কুয়েতের ভাস্কর মাইথাম আব্দেল একটি ভাস্কর্যও নির্মাণ করেছেন। সেই ভাস্কর্যে দেখা যায়, একটি বিশাল হাত একটি চামচ ধরে আছে।

আরেকটি ব্যাপার হলো, সাম্প্রতিক পালানোর ঘটনাটি অনেক পুরোনো আরেকটি জেল পালানোর ঘটনাকেও সামনে টেনে এনেছে। ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের ঘাসেন মাহদাওয়ি ছিলেন সেই জেল পালানোর নায়ক। ১৯৯৬ সালে আরেক বন্দিকে সঙ্গে নিয়ে তিনিও একটি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ইসরায়েলের কারাগার থেকে পালিয়েছিলেন। আর সেই সুড়ঙ্গটি তিনি খুঁড়েছিলেন শুধু হাতের নখ দিয়ে!

শেয়ার করুন

হুতিদের ছোড়া ৩ ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংসের দাবি সৌদির

হুতিদের ছোড়া ৩ ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংসের দাবি সৌদির

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে একটি মিসাইল ব্যাটারি। ফাইল ছবি

ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক এলাকার ওপর পড়ায় দুই সৌদি শিশু আহত হয়েছে, ১৪টি ভবন হালকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া বিস্ফোরকবোঝাই তিনটি ড্রোন ধ্বংস করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেয়ার দাবি করেছে দেশটি। দক্ষিণের দুই শহর নাজরান ও জাজান আর তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল এসব ক্ষেপণাস্ত্র।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবারের এসব হামলার দায় স্বীকার করেনি কোনো গোষ্ঠী। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা।

হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ একটি আবাসিক এলাকার ওপর পড়ায় দুই সৌদি শিশু আহত হয়েছে, ১৪টি ভবন হালকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, পূর্বাঞ্চলের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি দাম্মাম শহরের আকাশ অতিক্রম করার সময় ধ্বংস করা হয়।

এর আগে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া বিস্ফোরকবোঝাই তিনটি ড্রোন ধ্বংস করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

দক্ষিণের আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চারদিন পর হয় এসব হামলা। ওই হামলায় আট ব্যক্তি আহত এবং একটি বেসামরিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে প্রায়ই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। বিশেষ করে তেল ক্ষেত্রগুলো তাদের হামলার লক্ষ্য থাকে।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দরাব্বু মনসুর হাদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাজধানী সানাসহ দেশের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নেয় হুতি বিদ্রোহীরা। সে সময় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

দীর্ঘ সংঘাতে বহু প্রাণহানি ও লাখো মানুষ গৃহহীন হওয়ার পর এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ইয়েমেন। যুদ্ধে ইতি টানতে জাতিসংঘ বারবার অনুরোধ জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি সৌদি জোট।

অস্ত্রবিরতি বা যেকোনো আলোচনার আগে সানা বিমানবন্দর পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছে হুতিরা। ২০১৬ সাল থেকে সৌদি অবরোধের কারণে বন্ধ রয়েছে বিমানবন্দরটি।

শেয়ার করুন

সৌদির মসজিদে ‘উগ্রবাদী বই’ নিষিদ্ধ

সৌদির মসজিদে ‘উগ্রবাদী বই’ নিষিদ্ধ

ফাইল ছবি

মসজিদের গ্রন্থাগারকে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রিয়াদ। নির্দেশ দিয়েছে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বই রেখে মৌলবাদ বা কট্টরপন্থায় উৎসাহ দেয়- এমন সব বই সরিয়ে ফেলতে।

সৌদি আরবে মসজিদের গ্রন্থাগার থেকে ‘উগ্রবাদী’ সাহিত্যের নিদর্শন সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে রাজপরিবার। অনুমতি ছাড়া অমুসলিমদের ধর্মীয় উপদেশ দেয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ইসলাম ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী শেখ আব্দুল লতিফ আল-শেখ এ নির্দেশনা জারি করেন বলে জানানো হয়েছে সৌদি গেজেটের একটি প্রতিবেদনে

নির্দেশনায় সৌদি রাজতন্ত্রের সব মসজিদের কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ গ্রন্থাগারে থাকা বইয়ের তালিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলা হয়। সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয় ‘উগ্রবাদী মতাদর্শ’ সংবলিত সাহিত্যিক সব বইপত্র।

মসজিদ কর্মকর্তা ও ইমামদের পাঠানো পাঁচ দফা নির্দেশনায় অনুমতি ছাড়া ‘দাওয়াহ’ প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ বলেও উল্লেখ করা হয়। দাওয়াহ বলতে বোঝানো হয় অমুসলিমদের ইসলামের পথে আনতে উৎসাহিত করা।

নির্দেশনায় বলা হয়, শুধু প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত বাধ্যতামূলক নামাজ ও জানাজার পর ‘দাওয়াহ’ জাতীয় বক্তব্য দিতে পারবেন ইমামরা।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, মসজিদের গ্রন্থাগারকে বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে রিয়াদ। পরামর্শ দিয়েছে গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান আহরণের মতো বইপত্র সংগ্রহের।

এ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী বই রেখে মৌলবাদ বা কট্টরপন্থায় উৎসাহ দেয়- এমন সব বই সরিয়ে ফেলতে বলা হয়।

মসজিদের যাবতীয় কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশাসনকে নিয়মিত অবহিত করতেও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় রিয়াদ।

মসজিদের কর্মীদের নিজ নিজ গ্রন্থাগারে থাকা বইয়ের তালিকা তৈরি করতে এবং প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো বই অন্তর্ভুক্ত না করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইমাম ও ধর্মীয় বক্তাদের সৌদি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘বুদ্ধিবৃত্তিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণে’ অংশ নিতেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে নির্দেশনায়।

এর আগে আরব বসন্তের পর মিসরেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল দেশটির নতুন সরকার।

শেয়ার করুন