মাসিক নিয়ে লজ্জার কিছু নেই

মাসিক নিয়ে লজ্জার কিছু নেই

মাসিক বা পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা, সংকোচ খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে আদতে মাসিক নিয়ে লজ্জার কিছু নেই। এটি অস্বস্তিতে পড়ার মতো বিষয়ও নয়। একটা সময় ঘরের কোনায় আলনার পেছনে অন্ধকার জায়গায় মাসিকের ভেজা কাপড় শুকাতে দিতাম। বাবা বা ভাইয়ের নজরে যাতে না পড়ে, সে জন্য বাইরে রোদে দেয়ার কথা ভাবতেই পারতাম না।

‘মা, তুমি কি ডায়াপার পর?’

হঠাৎ ছেলের এ প্রশ্নের মুখোমুখি হতেই খেয়াল করলাম আমার হাতে প্যাড।

‘হ্যাঁ। পরি তো। তবে আমার ডায়াপারকে প্যাড বলে’, আমি উত্তর দিলাম।

অন্য আরেক দিন বাবার সঙ্গে ছেলের আলাপ।

‘বাবা, তুমিও কি ডায়াপার পর?’

‘না, বড়দের ডায়াপার পরতে হয় না।’

‘মা তো বড় কিন্তু মা ডায়াপার পরে। মায়ের ডায়াপারকে প্যাড বলে।’

গত সপ্তাহে কাপড় গুছাতে গিয়ে কখন প্যাডের প্যাকেটটা বিছানার ওপর রেখেছি! ছেলে দেখতে পেয়ে খুলে ভেতর থেকে রঙিন প্যাডগুলো বের করে একের পর এক রঙের নাম বলছে। প্রথমে খেয়াল করিনি হঠাৎ ফোনকল আসায়। কথা বলার একপর্যায়ে নজরে পড়লে ফোনের ওপারে থাকা বন্ধুকে বলতেই ও আঁতকে উঠল।

‘এমা ছেলের সামনে এগুলো রাখিস কেন?’

ততধিক আঁতকে উঠে আমি বললাম, ‘রাখলে কী সমস্যা?’

‘না, কখন কার সামনে বলে ফেলে। এমব্যারাসিং সিচুয়েশনে পড়বি।’

আমি হাসলাম। বললাম, ‘আমি এমব্যারাসড হলে না এমব্যারাসিং সিচুয়েশনে পড়ব! আমি তো পিরিয়ডকে এভাবে দেখি না।’

উপরের ঘটনাগুলো বলার কারণ মাসিক বা পিরিয়ড নিয়ে লজ্জা, সংকোচ খুবই সাধারণ ঘটনা। তবে আদতে মাসিক নিয়ে লজ্জার কিছু নেই। এটি অস্বস্তিতে পড়ার মতো বিষয়ও নয়।

একটা সময় ঘরের কোনায় আলনার পেছনে অন্ধকার জায়গায় মাসিকের ভেজা কাপড় শুকাতে দিতাম। বাবা বা ভাইয়ের নজরে যাতে না পড়ে, সে জন্য বাইরে রোদে দেয়ার কথা ভাবতেই পারতাম না।

এরপর প্রতি মাসে কষ্টকর দিনগুলোতে ব্যথায় যখন ছটফট করতাম তখন ভাইয়া এসে খেলার জন্য ডাকলে বলতাম, ‘আমার পেট খারাপ।’

ভাইয়া ক্ষ্যাপাত। বলত, ‘এত পেট খারাপ কেন হয় তোমার? কী হাবিজাবি খাও?’

কিশোরী আমি ব্যথা চেপে হাসতাম এবং লুকিয়ে এক টুকরো কাপড় প্যান্টে গুঁজে বড় উঠোন পাড়ি দিতাম স্যাঁতসেঁতে টয়লেটে যাওয়ার জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেও কাপড় দিয়েই মাসিক সামলাতাম। এই নিয়ে ঢাকার বন্ধুরা হাসত। হাতখরচের টাকা থেকে প্যাড কেনা তখনো বিলাসিতা। তবু ‘আধুনিক’ হওয়ার চাপে আস্তে আস্তে কিনতে শুরু করি এবং একটা প্যাড যাতে অনেক সময় পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়, সেটা মাথায় রেখে ব্যবহার করতে শুরু করি।

তারপর বহুদিন পর বহু বর্ণিল প্যাড কভার দেখে ছেলে একদিন জানতে চায় ‘মা তুমি কি ডায়াপার পর?’

'হ্যাঁ, ডায়াপার পরি, তবে সব সময় না।'

‘কখন পর?’

‘উম, যখন আমি ব্লিড করি।’

ওকে আর বলা হয় না যে, এই ডায়াপার ছাড়া আমার হাতে আপাতত অন্য আর কিছু নেই। আরও বলা হয় না এই ডায়াপার আমার শরীরসহ পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

মেন্সট্রুয়াল কাপের ব্যবহার এখনও আয়ত্ব করতে পারিনি। তাই পরি।

তবে হ্যাঁ, আমি ওকে মিথ্যা বলি না, যে মিথ্যা প্রতিনিয়ত ভাইকে বলেছি। ছেলে বোঝে কি বোঝে না তবে খুশি হয়। মা-ও ওর মতো ডায়াপার পরে কিন্তু মায়ের ডায়াপারকে প্যাড বলে।

কেন ছেলেকে মিথ্যা বলি না আমি? কেনই বা এড়িয়ে যাই না?

কারণ, মাসিক নিয়ে হাজারো রকম ট্যাবু আছে। আমি এই ট্যাবুগুলোকে ভাঙি। এগুলোর প্রতি অস্বীকৃতি জানাই। মাসিক মানেই লজ্জা। মাসিক মানেই নারীর গোপন ব্যথা। পুরুষ জানবে না কিংবা জানতে দেয়া যাবে না। জানলে বরং নারীরই লজ্জা, নারীরই অস্বস্তি!

জ্বর-সর্দিকাশি-ডায়রিয়া যা-ই হোক তা নিয়ে কথা বলা যাবে, কিন্তু মাসিকের ব্যাপারে কোনো কথা না। ফলে মাসিকের সময় রোজা না রেখেও নারীরা পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সামনে রোজাদার সাজতে থাকেন এবং এ অভিনয় নারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছেন যুগের পর যুগ।

শুধু লজ্জা বা সংকোচ না, এ সময় খাওয়াদাওয়ার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। যেমন, আঁশটে গন্ধ হবে সে জন্য মাছ খেতে না দেয়া কিংবা রক্ত সাদা হয়ে যাবে ভেবে দুধ না খেতে দেয়া ইত্যাদি।

অথচ এ সময় পুষ্টিকর খাবার দরকার। কারণ, এই শারীরিক প্রক্রিয়ায় মেয়েদের শরীর থেকে প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেরিয়ে যায়।

খাবারদাবারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতিতে নারীর বিচরণের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। যেমন, এ সময় বাড়ির বাইরে না যাওয়া। ঘরে থাকা।

কিশোরীবেলায় অনেককেই দেখেছি মাসিক হবার কারণে স্কুল কামাই দিতে। তা ছাড়া আমাদের স্কুলের টয়লেটগুলো এত নোংরা, অপরিচ্ছন্ন থাকত যে সেখানে গিয়ে মাসিকের কাপড় বদলানো ছিল এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা।

আমরা অনেকেই এই অসহনীয় পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যও স্কুল কামাই দিতাম কিংবা মাসিকের শেষের দিনগুলোতে স্কুলে যেতাম অথবা গেলেও প্রস্রাব আটকে রাখতাম সারা দিন।

তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, আমরা মাসিক নিয়ে খোলামেলা আলাপ করতাম না। যদিও সবারই মাসিক হতো কিন্তু সেটি কেবল ঘনিষ্ঠ বন্ধুটিই জানত এবং একমাত্র সে-ই হদিস দিতে পারত কেন তার সহচরী স্কুলে অনুপস্থিত। বাকিরা ফিসফাস করত এবং ফিসফাসের একপর্যায়ে এ-কান থেকে ও-কানে সংবাদটি পাচার হয়ে যেত।

এমন একটি পরিস্থিতিতে স্কুল চলাকালীন কারও মাসিক হয়ে গেলে কিংবা কারও স্কুল ড্রেসের ওপর রক্ত ভেসে উঠলে তাকে খুব অস্বস্তি নিয়ে স্কুল ত্যাগ করতে হতো। আমরা তখন কিশোরীসুলভ স্বভাবে এ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে হাসতাম। যেন হঠাৎ মাসিক হওয়া সহপাঠীর এক নিরেট বেকুবিপনা!

এই যে মাসিক নিয়ে হাসাহাসি, লজ্জা, খোলামেলা কথা না বলা কিংবা সামাজিক রাখঢাক এসব কিছুই মাসিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবাকে নানাবিধ অস্বাস্থ্যকর চর্চা ও বিধিনিষেধের মধ্যে আটকে রেখেছে।

আশার কথা হলো সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে এ-বিষয়ক সচেতনতা বাড়ছে। কিশোরীরাও নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে, প্রচারমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রচার চলছে। তবে আমাদের উদ্যোগগুলো কোনো ধরনের ভাবনাচিন্তাকে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

যদিও পুরোনো নরম কাপড় মাসিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে উত্তম হিসেবে বিবেচিত (কারণ এটি নারীর শরীর ও পরিবেশবান্ধব), কিন্তু হাল আমলে নারীকে রুখে না দেবার বাহারি বিজ্ঞাপন, যা বোঝায় মাসিক নিয়ে ঘরে বসে কান্নাকাটি করে কেবল ভ্যাবলারা, এটি মোটেই স্মার্টনেস নয়, এবং বাজারব্যবস্থার এই রমরমা যুগে যেখানে বাহারি প্যাডে বিপণিবিতানগুলো সয়লাব, তখন কে আর ঝামেলা বাড়াতে চায় বলুন?

লেখক: নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নারীর ক্ষমতায়নে একসঙ্গে কাজ করবে সিটি ব্যাংক-জেসিআই

নারীর ক্ষমতায়নে একসঙ্গে কাজ করবে সিটি ব্যাংক-জেসিআই

নারীর ক্ষমতায়নে সিটি ব্যাংক ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অতিথিরা

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। চুক্তির আওতায় যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করবে সিটি ব্যাংক ও জেসিআই।

নারীর ক্ষমতায়নে একসঙ্গে কাজ করবে সিটি ব্যাংক ও জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই)।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

চুক্তির আওতায় যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মশালা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করবে সিটি ব্যাংক ও জেসিআই।

বিশেষ এই চুক্তির আওতায় নারীদের একটি বিশ্ব সম্প্রদায়ে জড়িত থাকার জন্য নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগও তৈরি করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন সিটি ব্যাংকের হেড অব রিটেইল ব্যাংকিং অরূপ হায়দার এবং জেসিআই বাংলাদেশ-এর ২০২১ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট নিয়াজ মোরশেদ এলিট।

অনুষ্ঠানে জেসিআই বাংলাদেশ লিমিটেডের ফার্স্ট লেডি তাসমিনা আহমেদ শ্রাবণী এবং সিটি ব্যাংকের হেড অফ সিটি আলো মারিয়াম জাভেদ জুহিসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন

যৌন হয়রানির শিকার বলিউডের যেসব তারকা

যৌন হয়রানির শিকার বলিউডের যেসব তারকা

বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী জাইরা ওয়াসিম মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তির হাতে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘তখন আমি আধো ঘুমে ছিলাম। এই সুযোগে লোকটা পা দিয়ে আমার স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে।’

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি ধর্ষণচেষ্টার যে অভিযোগ করেছেন, তা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে চলচ্চিত্রাঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে। তবে শোবিজ মিডিয়ায় এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়।

বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের তারকারা যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন। ভারতের প্রভাবশালী হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্প বলিউডের বেশ কিছু তারকা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে যৌন হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।

প্রথমেই আসা যাক দীপিকা পাডুকোনের কথায়। ‘পদ্মাবত’ খ্যাত এই অভিনেত্রী মাত্র ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান।

সে সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে দীপিকা বলেন, ‘ঘটনাটা আমার স্পষ্ট মনে আছে। একটা রেস্তোরাঁয় খেয়ে পরিবারের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটছিলাম। বাবা ও আমার ছোট বোন সামনে ছিল। আমি পেছনে মায়ের সঙ্গে ছিলাম। এমন সময় একটা লোক খুব দ্রুত আমার কাছে চলে আসে এবং যৌন হয়রানি করে।

‘আমি ঘটনাটা এড়িয়ে যেতে পারতাম, ভুলে যেতে পারতাম। কিন্তু আমি তেমনটা করিনি। আমি সেই লোকটার পেছন পেছন যাই এবং তার কলার চেপে ধরি। মাঝরাস্তায় সবার সামনে আমি তাকে চড় মেরে স্বাভাবিকভাবেই ফিরে আসি।’

মাত্র ১৫ বছর বয়সের এক কিশোরের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান সুস্মিতা সেন। একটা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ছিলেন সেদিন।

ওই ছেলেটিকে ঘাড় ধরে বাইরে নিয়ে এসে শাসিয়ে দিয়েছিলেন সুস্মিতা।

দীপিকা যে বয়সে যৌন হয়রানির শিকার হন, ঠিক তার কাছাকাছি বয়সে একই অভিজ্ঞতায় পড়ার কথা জানান সোনম কাপুর। তখন তার বয়স ১৩।

সোনম বলেন, ‘সেদিন আমি মুম্বাইয়ের গাইতি গ্যালাক্সি থিয়েটারে ছিলাম। পেছন থেকে একটা লোক এসে আমার স্তনে হাত দেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি কাঁপতে শুরু করি। বুঝতে পারছিলাম না কী হচ্ছে। একসময় কেঁদে ফেলি।’

বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী জাইরা ওয়াসিম মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির হাতে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন।

জাইরা জানান, তিনি বিমানে করে দিল্লি থেকে মুম্বাই যাচ্ছিলেন।

‘তখন আমি আধো ঘুমে ছিলাম। এই সুযোগে লোকটা পা দিয়ে আমার স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে।’

টিভি সিরিজ রাসভারি করে সবার পরিচিত মুখ এখন স্বরা ভাস্কর। সালমান খানের ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ সিনেমায় শুটিং করার জন্য রাজকোট এয়ারপোর্টে ছিলেন তিনি। এ সময় যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। অনুপম খের এগিয়ে এসে স্বরাকে রক্ষা করেন।

জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিপাশা বসুও যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা জানান। মুম্বাইয়ের একটি নাইট ক্লাবে ‘জিসম’ মুভির প্রমোশনে গিয়েছিলেন তিনি।

হঠাৎ এক ব্যক্তি বিপাশাকে যৌন হয়রানি করে পালানোর চেষ্টা করে। অভিনেতা জন আব্রাহাম তখন সঙ্গে ছিলেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে আটকে মারধর করে ছেড়ে দেন।

কাল্কি কোচলিন এক টিভি ইন্টারভিউতে বলেন, মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন।

‘দঙ্গল’ খ্যাত অভিনেত্রী ফাতিমা সানা শেখ মাত্র তিন বছর বয়সে এই অভিজ্ঞতায় পড়ার কথা জানান।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

সাভারে গার্ড অফ অনারে সাবেক ইউএনও শামীম আরা নিপা। ফাইল ছবি

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর ‘গার্ড অব অনার’ দেয়ার সময় নারী কর্মকর্তাদের বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওদের সঙ্গে। তারা বলছেন, এই সুপারিশের মাধ্যমে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় সরকারের নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আপত্তিতে ক্ষুব্ধ নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ধর্মের বিষয়টিকে সামনে আনা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৯তম বৈঠক হয় রোববার। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে ‘গার্ড অফ অনার’ দেয়ার সময় নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আপত্তি জানিয়ে বিকল্প খোঁজার সুপারিশ করে কমিটি।

সংসদীয় এই কমিটির সভাপতি হিসেবে আছেন শাজাহান খান। সদস্য হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, রাজি উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (বীর উত্তম), কাজী ফিরোজ রশীদ, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোছলেম উদ্দিন।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় প্রশাসন। গার্ড অফ অনার দিতে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। রাষ্ট্রীয় সম্মানের অংশ হিসেবে সরকারের প্রতিনিধি হয়ে মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধাও জানান ওই সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর শাহজাহান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রশ্ন আসছে ধর্মীয় অনুভূতি থেকে। কোনো কোনো জায়গা থেকে বলা হয়েছে, জানাজায় নারীরা অংশ নিতে পারেন না।’

‘গার্ড অফ অনার সাধারণত জানাজার সময় দেয়া হয়’ জানিয়ে স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এ জন্য এই ইয়েটা (সুপারিশ) আসছে। যদি গার্ড অফ অনার জানাজার আগে দেয় বা পরে দেয়, তখন জানাজা থাকে না। সেইটা একটা জিনিস। আমরা দেখেছি, সব জায়গায় জানাজার সময় গার্ড অফ অনার দেয়। ওই জায়গায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনা করে এটা সুপারিশ করা হয়েছে।’

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

তিনি বলেন, ‘মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অফ অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত নারী ইউএনওদের সঙ্গে। তারা বলছেন, এই সুপারিশের মাধ্যমে নারীকে হেয় করার পাশাপাশি তাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে বিতর্কিত করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর ইউএনও নাজমুন নাহার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথমত আমি এই সুপারিশের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গার্ড অফ অনার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। এটার সঙ্গে ধর্মকে টেনে আনা অযৌক্তিক।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছে। এই সুপারিশ সংবিধানবিরোধী। এখানে নারীকে ছোট করা হয়েছে। তার ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হচ্ছে। প্রশ্নবিদ্ধ সুপারিশ এটি।

‘এ ধরনের সুপারিশ স্বাধীন বাংলাদেশে একেবারেই অগ্রহণযোগ্য, সংবিধান পরিপন্থি, নারীর মানবাধিকার পরিপন্থি ও নারীর ক্ষমতায়ন পরিপন্থি। এ ধরনের সুপারিশ একজন নারীর জন্য যেমন অবমাননাকর, ঠিক একইভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার জন্যেও অপমানজনক।’

ইউএনও নাজমুন নাহার দীর্ঘদিন মাঠ প্রশাসনে কাজ করছেন। প্রয়াত অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধার গার্ড অফ অনারে তিনি উপস্থিত থেকেছেন।

তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে গার্ড অফ অনার দিতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হইনি। মাঠের মানুষগুলো সহজ সরল। এদের (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি) চেয়ে মাঠপর্যায়ের মানুষগুলো ভালো বোঝে।’

ইউএনও নাজমুন নাহারের আশঙ্কা, এ ধরনের সুপারিশের পেছনে কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠীর উসকানি থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি শ্রেণি আছে, যারা নারীর ক্ষমতায়ন পছন্দ করে না। তারা নারীকে ঘরবন্দি করে রাখতে চায়। ওই শ্রেণির লোকজনের রোষানল থেকে বাঁচতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি এই সুপারিশ করতে পারে।’

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ইউএনও চৈতী সর্ববিদ্যা পাল্টা প্রশ্ন তুলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা তো কর্মকর্তাই। এতে নারী-পুরুষের প্রশ্ন কেন আসবে?’

একই জেলার কবিরহাটের ইউএনও হিসেবে আছেন হাসিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘ইউএনও একটি প্রশাসনিক পদ, ধর্মীয় নয়।’


গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা
জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় গার্ড অফ অনারে ইউএনও মুনমুন জাহান লিজা

হাসিনা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে জেন্ডার কোনো জটিল বিষয় নয়। এটাকে কেউ খাটো করলে তা নিতান্তই অগ্রহণযোগ্য। এটি (সংসদীয় কমিটির সুপারিশ) একান্তই কোনো মহলের ব্যক্তিগত মত। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তাই নারী, সে ক্ষেত্রে বিষয়টাকে একপেশে করে দেখা উচিত নয়।’

আরও পড়ুন: ‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর ইউএনও হেলেনা পারভিনের প্রশ্ন, একজন নারী কর্মকর্তা যদি সব কাজ করতে পারেন, তাহলে গার্ড অফ অনার দিতে বাধা কোথায়?

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিকোণের কথা যদি ওঠে, তাহলে অন্য ধর্মের পুরুষ অফিসাররাও তো গার্ড অফ অর্নার দিতে পারবেন না। কাজেই এ নিয়ে বিতর্কের কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।’

একই জেলোর শ্রীবরদী উপজেলার ইউএনও নিলুফা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীরা মুক্তিযুদ্ধে অনেক বড় অবদান রেখেছেন। তারা এখন গার্ড অফ অনার দিলে সমস্যা কোথায়? আমরা মাঠপর্যায়ে সব কাজই তো করছি। তাহলে গার্ড অফ অনার দিতে পারব না কেন? রাষ্ট্র আমাদের যে দায়িত্ব দেবে, সেটা আমরা অন্য সব পুরুষ অফিসারের মতোই পালন করতে পারব।’

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন নাটোরের লালপুরের ভারপ্রাপ্ত ইউএনও শাম্মী আক্তার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারিভাবে সব সময় নারী অধিকারের কথা বলা হচ্ছে। গার্ড অফ অনারে নারীর অংশগ্রহণে আপত্তি তোলা সরকারি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেখানে সব সময় নারী অধিকারের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার সুপারিশ বেমামান।’

গার্ড অফ অনারে ‘নিষেধের’ সুপারিশ: ক্ষুব্ধ নারী ইউএনওরা

নাটোরের বাগাতিপাড়ার ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়। এটা তো জানাজার অংশ নয়। গার্ড অফ অনারের অর্থ হলো সামরিক উপায়ে সম্মান জানানো। এটা ধর্মীয় কোনো বিষয় না। তাই নারী কর্মকর্তার অংশগ্রহণ নিয়ে আপত্তি তোলার কোনো কারণ দেখি না।’

জানাজা ও গার্ড অফ অনার এক নয় বলে মন্তব্য করেছেন মানিকগঞ্জ সদরের ইউএনও জেসমিন সুলতানাও।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে গার্ড অফ অনার দিই। সেখানে কে নারী আর কে পুরুষ সেটা বিবেচ্য বিষয় না, বিষয়টি হলো মুক্তিযোদ্ধা। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী কিন্তু কোনো নারী-পুরুষ পার্থক্য করা যাবে না, ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী দেখা যাবে না ,এটাও বলা আছে। সুতরাং আমি মনে করি, এটা সংবিধানবিরোধী কার্যকলাপ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মহান জাতীয় সংসদ এটা প্রণয়ন করছে। নতুন করে এ ধরনের কিছু জাতীয় সংসদে পাস হবে না বলেই আমাদের বিশ্বাস। বর্তমান সরকার আমাদের নারী-পুরুষে ভেদাভেদ করবে না। কারণ আমরা আমাদের অবস্থান থেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করছি কি না, সেটা আলোচ্য বিষয়। আমাদের দেশে পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধাও রয়েছে।’

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন চট্টগ্রাম থেকে সিফায়াত উল্লাহ, মানিকগঞ্জ থেকে আজিজুল হাকিম, সাভার থেকে ইমতিয়াজ উল ইসলাম, নাটোর থেকে নাজমুল হাসান, নোয়াখালী থেকে মোহাম্মদ সোহেল, শেরপুর থেকে শাহরিয়ার শাকির ও জামালপুর থেকে সাইমুম সাব্বির শোভন।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন

কানাডায় ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ গঠন

কানাডায় ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ গঠন

কানাডার ওন্টারিওর লন্ডন শহরে ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিম পরিবারের জানাজা ও দাফন হয় শনিবার। ছবি: এএফপি

লন্ডন পুলিশ সার্ভিস সোমবার বিবৃতিতে জানায়, অভিযুক্ত নাথানিয়েল ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চারটি ও হত্যাচেষ্টার একটিসহ মোট পাঁচটি মামলা সন্ত্রাসবাদী আইনের অধীনে নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

কানাডায় মুসলিম পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে গত ৬ জুনের ওই হামলায় নিহত হন একই পরিবারের চার সদস্য। বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য নয় বছরের ছেলে শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ধর্মবিশ্বাসের কারণে বিদ্বেষপ্রসূত হামলা বলে আগেই নিশ্চিত করলেও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ গঠনে এক সপ্তাহের বেশি সময় নিয়েছে পুলিশ। চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে আগেই।

লন্ডন পুলিশ সার্ভিস সোমবার বিবৃতিতে জানায়, অভিযুক্ত নাথানিয়েল ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চারটি ও হত্যাচেষ্টার একটিসহ মোট পাঁচটি মামলা সন্ত্রাসবাদী আইনের অধীনে নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক কৌঁসুলিরা তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদবিষয়ক আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সোমবার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী ভেল্টম্যান। তার আত্মপক্ষ সমর্থন এখনও বাকি আছে।

তার শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ২১ জুন।

পুলিশ জানিয়েছে, মুসলিম বুঝতে পেরেই রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারটির ওপর নিজের ট্রাক তুলে দেন ভেল্টম্যান। হতাহতদের আগে থেকে চিনতেন না তিনি।

ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্তে সন্তোষ জানিয়েছে কানাডার মুসলিম সম্প্রদায়।

কানাডার উপ-প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেন, ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করতে পারা গুরুত্বপূর্ণ… উগ্র শ্বেতাঙ্গবাদীরা যে কানাডা ও কানাডার সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছেন, সেটা স্বীকার করার বিকল্প নেই।’

অভিবাসীবান্ধব কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা চলতি বছরের মার্চে জানায়, ২০১৯ সালে মুসলমানদের ওপর ১৮১টি হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ হয়েছে। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬৬। কেবল ধর্মপরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছেন তারা।

তবে কানাডার ইতিহাসে মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। কিউবেকের একটি মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে ঘাতক।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন

‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৮ মার্চ রাজধানীর শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জালন করে আমরাই পারি জোট। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অচিরেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়চেতনাবিরোধী সুপারিশকে প্রত্যাহার করে সুপারিশকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অফ অনারের সময় নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাদ দেয়ার সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন আমরাই পারি জোট। একই সঙ্গে সুপারিশ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অফ অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার সুপারিশের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মানিত করা হয়েছে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা প্রশাসন। ডিসি বা ইউএনও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে থাকেন। কফিনে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

অনেক স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে নারী কর্মকর্তারা রয়েছেন। আর সেখানেই আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সংসদীয় কমিটির রোববারের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা ওঠার পর সরকারের কাছে সুপারিশ রাখা হয় গার্ড অফ অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের বিকল্প খোঁজার।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অফ অনার প্রদানের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় আয়োজন করা এবং মহিলা ইউএনওর বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।’

কোন যুক্তিতে এই সুপারিশ জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, নারী ইউএনও গার্ড অফ অনার দিতে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

‘মহিলারা তো জানাজায় থাকতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে মহিলা গার্ড অফ অনার দেন, এ রকম একটি ব্যাপার আরকি…।’

শাজাহান খান বলেন, ‘বৈঠকে একটি প্রস্তাব এসেছে। মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

এ বিষয়ে আমরাই পারি জোটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে অসম্মানিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই একবিংশ শতাব্দীতে নারীর অগ্রগতির যুগে এই ধরনের সুপারিশ অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় পুষ্ট। স্পষ্টত এই সুপারিশ সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অচিরেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়চেতনাবিরোধী সুপারিশকে প্রত্যাহার করে সুপারিশকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং নারীসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?

পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন ৫৩ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের কারও দাবি, ভুল করে এ ধরনের রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, কেউ কেউ দেখিয়েছেন বেপরোয়া মনোভাব।

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।

পরীমনির ওই পেজের ফলোয়ার ৯১ লাখের বেশি। তার আলোচিত ওই পোস্টে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন ক্ষোভ, সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে এর মধ্যে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট পড়েছে ৫৩ হাজারের বেশি। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য।

একজন নারী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর তাকে উপহাস করার এ ধরনের মানসিকতা নিয়েও আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সমাজ ও মনোবিশ্লেষকেরা বলছেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলা নারীর পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টকে বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের প্রকাশ। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাগামহীন ব্যবহার উসকে দিচ্ছে মানসিক বিকৃতিকে।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের কারও দাবি, ভুল করে এ ধরনের রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, কেউ কেউ দেখিয়েছেন বেপরোয়া মনোভাব।

পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন আশরাফ হোসেন নিপু। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশেষ কারণেই দিয়েছি। যেহেতু বিশেষ কারণ তাই এটি সিক্রেট। বলব না।’

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পরীমনির পোস্ট

তার মন্তব্যটি প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে জানানো হলে নিপু জানান, এতে তার কোনো পরোয়া নেই। বরং প্রতিবেদনে যেন তার ছবি দিয়ে দেয়া হয়। এমনকি নিউজের লিংকও পাঠানোর অনুরোধ করেন নিপু।

আরিফুল ইসলাম অভি নামে একজন বলেন, ‘বিশেষ কোনো কারণ নাই, ইচ্ছা হয়েছে তাই হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছি। সাংবাদিকদের ডেকে এনে যে ভাবটা করতেছিল সেটা হাস্যকর লাগছে।’

পরীমনির পোস্টে সাংবাদিক কাহহার সামি হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। এর যুক্তি দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছু সাংবাদিক তার (পরীমনি) মনের মতো নিউজ না করায় এমন অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর তাই তার এমন অসহায়ত্বের অবস্থা দেখে হাসি পেল। হয়তো এটা তার জন্য শিক্ষা। তবে আমি চাই অপরাধীর বিচার হোক।’

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া অন্তত ২০ জনকে মেসেঞ্জারে টেক্সট করা হলেও তারা উত্তর দেননি। অনেকে আবার নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে কারণ জানার পর তাকে ব্লক করে দেন।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া অনেকেই বলছেন, তারা কোনো ভুল করেননি

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া কয়েকজন অবশ্য বলছেন, তারা ভুল করেছেন। এমন একজন আশাকুল ইসলাম তানজিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এটা ভাবতেই পারি নাই যে সিরিয়াস ইস্যু। পড়ে দেখি এটা সিরিয়াস। তখন হা হা রিঅ্যাক্ট তুলে নিয়েছি।’

ওয়াজেদ আলী নামের একজন বলেন, ‘আমি প্রথমে বুঝিনি এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। ভেবেছি হয়তো কোনো সিনেমা বা এমন কিছু। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জেনে আমি হা হা রিঅ্যাক্ট সরিয়ে নিয়েছি।’

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া আফসানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি না বুঝেই দিয়েছি আর এর জন্য আমি লজ্জিত। প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে আর একটা মাধ্যমে পড়ে যখন বুঝেছি, তখন আমি তা রিমুভ করে দিয়েছি।’

একজন মানুষ তার ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তোলার পর তাকে উপহাসের মনস্তত্ত্ব জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে সমাজ ও মনোবিশ্লেষকদের সঙ্গে।

‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর সমন্বয়ক জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এখন এই গ্রুপের সংখ্যাটাই বেশি। আগে সংখ্যাটা এত বেশি ছিল না। আমরা দেখেছি এমন অনেকে ছিলেন, যারা নেতিবাচক ধারণা রাখলেও সেটা প্রকাশ করতে চাইতেন না। এর কারণ ছিল, তারা ভাবতেন যে আমি সাপোর্ট পাব কি না। তবে এখন সেটি বেড়ে গিয়েছে।’

জিনাত বলেন, ‘হা হা রিঅ্যাক্টের এত সংখ্যা দেখে অন্যরাও ভেবে নিয়েছেন তারা একা না। বরং পরীমনির সঙ্গে যারা এখন আছেন তারাই সমস্যায় পড়বেন কি না সেটি দেখার বিষয়। এর মানে, যারা ইতিবাচক তাদের সংখ্যা কমে গিয়েছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই অধিকারকর্মী বলেন, ‘কিছু মানুষ মনেই করতে থাকে এসব মেয়ে (অভিনয়শিল্পে জড়িতরা) এমন বা নারীর প্রতি এসব ঘটনা বানোয়াট। নারীরা খারাপ দেখেই এমন হয়, এটাও অনেকে মনে করেন। তারা বিনোদন দেখে, কিন্তু এটাকে যে একটা সম্মানজনক জায়গা হিসেবে দেখা বা পরীমনি যে সম্মানজনক জায়গায় আছেন- তিনিও যে ভালনারেবল হতে পারেন, এটা তারা ভাবে না।

‘নারীকে যেভাবে পুরুষ দেখতে চায়, ঠিক সেটির এক পা এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু তাকে কটাক্ষ করা হয়। আজ পরীমনি নায়িকা বলে তাকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। আবার এই যে মুনিয়া কেন এত টাকার ফ্ল্যাটে থাকবে সেটি নিয়েও কটাক্ষ করা হয়। কিন্তু এগুলো তো আলাদা বিষয়। এখানে যে অপরাধটা হয়েছে সেটির বিচার চাইতে হবে, করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক মনে করেন, অনেকে না জেনে বা তথ্যগত ভুল ধারণার কারণেও এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে সব ক্ষেত্রে জেন্ডার ইস্যুটা বড় নয়। আমিও এমন শিকার হয়েছি। এখানে সত্য যে জিনিস সেটা দেখার বিষয় রয়েছে।

‘এখন অনেকেই না বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখান। ঘটনার পেছনে আসলে কী সেটা জানা থাকে না। এখন ফেসবুক, ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে ছড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ঘটনা। সেখানে কে দোষী আর কে দোষী না, সেটা প্রমাণিত হওয়ার আগেই স্ট্যাটাস বা পোস্ট দেয়া হচ্ছে। এটা আগে বন্ধ করা দরকার।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ধরেন আমার বিরুদ্ধে একটা সংবাদ হয়েছে। সেটি ছড়িয়ে পড়ছে। পরে যখন সেটা প্রমাণ হয় না বা বিস্তারিত আসে তখন আর কতজন এটা পড়ে?’

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরীমনি

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহফুজা খানমের মতে, এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পেছনে বড় কারণ মূল্যবোধের পরিবর্তন।

মাহফুজা খানম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষের যে সহানুভূতি হয় সেটাকে আমরা ভ্যালুজ বলে থাকি। এটা মানুষের জীবনে অনেক দিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এটি পাস হয়। তবে আস্তে আস্তে এর পরিবর্তন হতে থাকে।

‘আমি যদি ৫০ বছর আগে আমাদের যে ভ্যালুজের সঙ্গে রিসেন্ট ভ্যালুজের কম্পেয়ার করি, তাহলে একটা পরিবর্তন দেখতে পাব। এই পরিবর্তনটা খুব আস্তে আস্তে হয়। এটি সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। তেমন এটিও চেঞ্জ হচ্ছে। যে ভ্যালুজগুলোকে আমরা বেশি প্রাধান্য দিতাম সেটি এখন চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।’

বর্তমান প্রজন্মে দুটি ভ্যালুজকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভ্যালুজকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এখন মা-বাবা দুজনেই চাকরি করছেন। ব্যস্ততা বেড়েছে। ছেলেমেয়েদের সময় দিতে পারছেন না। এই সমস্ত বিভিন্ন কারণে এমন হচ্ছে। যার কারণে ভ্যালুজটা এক জেনারেশন থেকে আরেক জেনারেশনে প্রবাহিত হচ্ছে না।’

মাহাফুজা খানম উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা স্টাডি করেছি। সেখানে দেখেছি যারা ইসলামিক ওয়েতে কাপড় পরেন বা সেগুলো লালন করেন, তাদের সেই ভ্যালুজ বেশি হয় কি না। তবে আমি কিন্তু তা পাইনি। তারা ওই বিষয়টি লালন করেন মানেই যে ওই ভ্যালুজ ধারণ করবেন তা নয়।’

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন

পুরুষ ছাড়াই হজের নিবন্ধন করতে পারবেন সৌদি নারীরা

পুরুষ ছাড়াই হজের নিবন্ধন করতে পারবেন সৌদি নারীরা

সৌদি আরবে হজের নিবন্ধন শুরু হয় রোববার দুপুর ১টার দিকে। ২৩ জুন রাত ১০টা পর্যন্ত নিবন্ধন করা যাবে। আগাম আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন না।

পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই এবারের হজে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন সৌদি আরবের নারীরা।

আরব নিউজের সোমবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের বাইরে কাউকে হজ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য ও হজ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, এ বছর কেবল ৬০ হাজার সৌদি মুসল্লি হজ করতে পারবেন।

৬০ হাজার মুসল্লি বেছে নিতে কিছু শর্ত বেঁধে দেয় সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হজে অংশগ্রহণকারীদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকা যাবে না।

বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। হজের আগে করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া লাগবে।

নির্দেশনার পরদিন রোববার দুপুর ১টার দিকে সৌদি আরবে হজের নিবন্ধন শুরু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ জুন রাত ১০টা পর্যন্ত নিবন্ধন করা যাবে। আগাম আবেদনকারীরা কোনো অগ্রাধিকার পাবেন না।

সৌদি সরকার ৩ হাজার ২৩০ ডলার থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৪২৬ ডলার মূল্যের তিনটি প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে।

দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়, হজের সময় পবিত্র স্থানে মুসল্লিদের পরিবহনে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বাসে সর্বোচ্চ ২০ জন থাকতে পারবেন।

মিনায় মুসল্লিদের প্রতিদিন তিন বেলা এবং আরাফাতে সকাল ও দুপুরের খাবার দেয়া হবে। মুজদালিফায় মুসল্লিরা রাতের খাবার পাবেন। পানীয়সহ অন্যান্য খাবার পাওয়া যাবে। তবে মক্কার বাইরে থেকে মুসল্লিরা খাবার আনতে পারবেন না।

আরও পড়ুন:
ঢাবিতে ‘নিষিদ্ধকে ভাঙি’ শীর্ষক প্রদর্শনী
সাত দশক আগে মাসিকের ছুটি চালু জাপানে

শেয়ার করুন