স্ত্রীকে আটকে রেখে একাধিকবার গর্ভপাত

স্ত্রীকে আটকে রেখে একাধিকবার গর্ভপাত

মহারাষ্ট্রে সোলাপুর জেলায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাসহ তিনটি কন্যা শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন, ছেলেসন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে জোর করে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তার স্বামী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণসহ যৌন হয়রানি করেছেন। এ সময় একাধিকবার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছেন তাকে।

পুত্রসন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে দোষারোপ করে দেড় বছর আটক রেখে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে।

ভারতের মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

সোলাপুর পুলিশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী ওই নারীকে একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ওই বাড়ি থেকে এ দম্পতির তিনটি কন্যাশিশুকেও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন শিশুর বয়স আট থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

সোলাপুর জেলার পান্ধারপুর শহরের জেন্ডে গুল্লি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গত সোমবার ওই গৃহবধূ ও তিনটি কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়।

ওই স্বামীর বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের (আইপিসি) ধর্ষণবিষয়ক ধারা ৩৭৬সহ একাধিক ধারায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন, ছেলেসন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে জোর করে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার স্বামী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণসহ যৌন হয়রানি করেছেন। এ সময় একাধিকবার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছেন তাকে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন ওই ভুক্তভোগী নারী একটি জরুরি এসওএস বার্তা ছুড়ে দিতে সফল হন। পান্ধারপুর সিটি পুলিশের নির্ভয় স্কোয়াড বার্তাটি পাওয়ার পর ওই বাড়িটির ওপর নজরদারি বসায়। এর পরেই তারা অভিযান পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পায়রা সেতু: ক্ষতি এড়াতে মিলবে পূর্বাভাস

পায়রা সেতু: ক্ষতি এড়াতে মিলবে পূর্বাভাস

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, ‘এই সেতুতে হেল্প মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করার কারণই হলো নানা সুবিধা পাওয়া। ভূমিকম্প, বজ্রপাতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা ওভারলোডেড গাড়ির কারণে ক্ষতি এড়াতে পূর্বাভাস মিলবে এই মনিটরিং সিস্টেম থেকে।’

দেশে প্রথমবারের মতো ‘হেল্প মনিটরিং সিস্টেম’ ব্যবহার করা হচ্ছে পায়রা সেতুতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অতিরিক্ত ওজনের গাড়ি চলাচলের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির বিষয়ে পূর্বাভাস জানাবে এই ব্যবস্থা। এতে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে সেতু কর্তৃপক্ষ।

পায়রা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আব্দুল হালিম মঙ্গলবার বলেন, ‘এই সেতুতে হেল্প মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করার কারণই হলো নানা সুবিধা পাওয়া। ভূমিকম্প, বজ্রপাতসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা ওভারলোডেড গাড়ির কারণে ক্ষতি এড়াতে পূর্বাভাস মিলবে এই মনিটরিং সিস্টেম থেকে।

‘এ ছাড়া এটি দেশের দ্বিতীয় ব্রিজ, যা এক্সট্রা ডোজ ক্যাবল সিস্টেমে তৈরি করা।’

তিনি জানান, পায়রা সেতু নির্মাণে নদীর তলদেশে বসানো হয়েছে ১৩০ মিটার দীর্ঘ পাইল, যা দেশে সর্ববৃহৎ। ৩২টি স্প্যানের মূল সেতুটি বিভিন্ন মাপের ৫৫টি টেস্ট পাইলসহ দশটি পিয়ার, পাইল ও পিয়ার ক্যাপের ওপর নির্মিত। এ ছাড়া ১৬৭টি বক্স গার্ডার সেগমেন্ট রয়েছে এটিতে। যার ফলে দূর থেকে সেতুটিকে মনে হবে ঝুলে আছে।

আব্দুল হালিম আরও জানান, জোয়ারের সময় নদী থেকে সেতুটি ১৮ দশমিক ৩০ মিটার উঁচু থাকবে। চারলেনের সেতুটির উভয় পাশে মোট ১ হাজার ২৬৮ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। টোলপ্লাজা, প্রশাসনিক ভবন, ইলেকট্রিফিকেশন, নদীশাসন প্রকল্পের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী মাসের যেকোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট ‘শিগগিরই’

যুক্তরাষ্ট্রে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট ‘শিগগিরই’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিমান নিয়ে এসেছেন। এটি চার্টার্ড ফ্লাইট হতে পারে, কিন্তু তারা তো বিমানকে অ্যালাউ করেছে। আমি সে জন্য আশা করি, আগামীতে নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালু হবে। সঠিক তারিখ জানি না। দোয়া করবেন, তাড়াতাড়ি হলে ভালো।’

জাতীয় পতাকাবাহী বিমানের ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের এমন সফরের মধ্য দিয়েই কাটতে পারে দীর্ঘ দিনের অচলাবস্থা। শিগগিরই চালু হতে পারে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ফ্লাইট।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন নিউইয়র্কের হোটেল লোটে প্যালেসে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনেক বছর পর বাংলাদেশের ফ্লাইট যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ায় সন্তোষ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকাবাসী খুব খুশি হবে যদি বাংলাদেশ থেকে এখানে বিমানের ফ্লাইট চালু হয়। প্রধানমন্ত্রী বিমান নিয়ে এসেছেন। এটি চার্টার্ড ফ্লাইট হতে পারে, কিন্তু তারা তো বিমানকে অ্যালাউ করেছে। আমি সে জন্য আশা করি, আগামীতে নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান চালু হবে। সঠিক তারিখ জানি না। দোয়া করবেন, তাড়াতাড়ি হলে ভালো।’

ড. মোমেন বলেন, ‘বহু বছর আগে নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমানের ফ্লাইট পরিচালিত হতো। তারপর বিমানটা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আবার আমাদের বিমান এখানে এসেছে। আমাদের প্রত্যাশা যে, আগামীতে বাংলাদেশ বিমানের নিউইয়র্ক-ঢাকা এই লাইনটা চালু হবে।’

ফ্লাইট চালুর অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেনে খুশি হবেন, এরই মধ্যে এখানকার ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে একটা চুক্তি হয়েছে। এটা বেশ ভালো পর্যায়ে রয়েছে। সে জন্য আমরা আশাবাদী হতে পারি।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ইমেজ, বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বহু বছর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে জানিয়ে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম নিজ দেশের বিমান নিয়ে এসেছেন।’

ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাসোসিয়েশনের (এফএএ) ক্যাটাগরি-১ ছাড়পত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে কোনো দেশের এয়ারলাইনস ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে না। এই ছাড়পত্র না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। বিমানের ফ্লাইট চালু করতে এরই মধ্যে ফেডারেল এভিয়েশনের সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে। তাতেই ধরে নেয়া হচ্ছে দীর্ঘ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চালু হবে ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

বাঁধা ছিল শিকলে, পুড়ে মরল আগুনে

বাঁধা ছিল শিকলে, পুড়ে মরল আগুনে

স্থানীয়রা জানান, তিন মাস আগে মানসিক ভারসাম্য হারায় আলাউদ্দিন। এরপর থেকে তাকে ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুতের মিটার থেকে তাদের ঘরে আগুন লাগে।

কুমিল্লায় ঘরে আগুন লেগে শিকলে বাঁধা অবস্থায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের ফকিরবাজার খাড়েরা গ্রামে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

১৯ বছরের ওই যুবকের নাম আলাউদ্দিন। সে খাড়েরা গ্রামের আবদুল মোমেনের ছেলে। স্থানীয় বুড়িচং আবদুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ত সে।

স্থানীয়রা জানান, তিন মাস আগে মানসিক ভারসাম্য হারায় আলাউদ্দিন। এরপর থেকে তাকে ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বিদ্যুতের মিটার থেকে তাদের ঘরে আগুন লাগে।

ওই সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বের হতে পারলেও আলাউদ্দিন শিকলে বাঁধা থাকায় আটকা পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও তার আগেই আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়।

বুড়িচং ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মী জহিরুল ইসলাম জানান, তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন প্রায় নিভিয়ে ফেলেন স্থানীয়রা। পরে তারা ঘর থেকে আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি শুনেই ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই এবং আমার থানা থেকে ফোর্স পাঠাই। শুনেছি, স্থানীয়রা ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিভিয়ে ফেলে। একজন কলেজছাত্র অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছে বলে খবর পেয়েছি।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ

বিকাশ প্রতারকদের নিত্যনতুন ফাঁদ

নিত্যনতুন ফন্দি বের করে বিকাশের গ্রাহকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলছেন প্রতারকরা। পুলিশের বিশেষ দল এদের নানা সময় গ্রেপ্তার করছে। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না তৎপরতা। পুলিশ বলছে, একেক জন ভুক্তভোগীর অল্প পরিমাণ অর্থ খোয়া যায় বলে অধিকাংশ সময় অভিযোগই দায়ের হয় না। 

গোপালগঞ্জের রামদিয়া সরকারি শ্রীকৃষ্ণ কলেজ। এই কলেজের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক প্রভাষক কদর আলী। কদর আলীর নাম ব্যবহার করে এক দল প্রতারক এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন দিয়ে বলছে, ‘আমি তোমাদের কদর আলী স্যার। তোমাদের উপবৃত্তির ৮ হাজার ২০০ টাকা পাঠাতে হবে। একটা বিকাশ নম্বর দাও।’

এভাবে প্রতারকরা ওই কলেজের ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা।

এ রকম কয়েকটি অডিও রেকর্ড এসেছে নিউজবাংলার হাতে।

কয়েকজন ভুক্তভোগি শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার। তাদের একজন পলাশ মিয়া।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাকে ফোন দিয়ে বলা হলো, কদর আলী স্যার বলছি। একটা বিকাশ নম্বর দাও, উপবৃত্তির ৮ হাজার ২০০ টাকা যাবে। তখন আমি ফোনটা আমার ভাইয়ের কাছে দেই। আমার ভাই আমার কথায় বিশ্বাস করে স্যার ভেবে তার সঙ্গে কথা বলে তার কথা মতো কাজ করে। ফলে আমার ভাইয়ের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ২৪০০ টাকা নিয়ে নেয় প্রতারক। আমার মতো অনেকের সঙ্গে এই কাজ করেছে বিকাশ প্রতারক।’

এ বিষয়ে কথা হয় সরকারি রামদিয়া সরকারি শ্রীকৃষ্ণ কলেজের শিক্ষক কদর আলী সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের কলেজে কয়েকজন ছাত্র এসে অভিযোগ করেছে এই প্রতারণার বিষয়ে। কয়েকটি নম্বরও দিয়েছে তারা আমাদের। পরবর্তীতে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের ফোন দিয়ে প্রতরণার বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছি।’

বিকাশ-কেন্দ্রিক প্রতারকদের নতুন নতুন ফাঁদ

বিকাশ-কেন্দ্রিক প্রতারকদের নানান ফাঁদের বিষয়ে কথা হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধরের সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি জানান, পুরনো কিছু কৌশলের পাশাপাশি নতুন নতুন উদ্ভাবনী কৌশল অবলম্বন করছেন প্রতারকেরা।

ভুল নম্বরে ভুল করে টাকা পাঠানোর কথা বলে সেটা ফেরত চাওয়া বা ওটিপি নম্বর নেওয়ার ফাঁদ পুরনো।

মুক্তা ধর বলেন, ‘নতুন কৌশলের মধ্যে দেখা গেছে, টিকা নিবন্ধনের এসএমএস পাঠিয়ে প্রতারণা করা। এক্ষেত্রে প্রতারক বলে, “আমি টিকার নিবন্ধন করেছি। তবে ভুলক্রমে আপনার নম্বরে চলে গেছে। যদি কোডটা একটু কষ্ট করে দেন, না হলে আমার আবার রেজিস্ট্রেশন করা লাগবে। না হলে আমার দেরি হয়ে যাবে।” তখন ভিকটিম মানবিক দিক বিবেচনা করে কোডটা দিয়ে দেয়। তারা মানসিকভাবে দুর্বল করে প্রতারণা করছে।’

বিকাশের প্রতারণা নিয়ে কাজ করেন সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম সেলের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান। গত নয় মাসে ঢাকা থেকে টিম পাঠিয়ে ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জনের মতো বিকাশ প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছেন তারা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে একটা পেজে দেখলাম লেখা, উপবৃত্তির টাকার জন্য এই নম্বরে যোগাযোগ করুন। আমি তখন লোকেশনটা চেক করে দেখলার ভাঙ্গা, ফরিদপুর। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিকাশ এজেন্টকেও ফোন দেয় প্রতারকরা। ফোন দিয়ে বলে, “আপনি তো দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ কমিশন পান। আমাদের অফিস থেকে কমিশন দ্বিগুণ করে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে। এটা অ্যাক্টিভেট করার জন্যে আমরা যা বলি তাই করেন।” প্রতারকদের কথামতো কাজ করলে টাকা অন্য নম্বরে ট্র্যান্সফার হয়ে যায়। প্রতারক টাকা নিয়ে একাধিক নম্বরে ট্র্যান্সফার করে দেয়। পরে একটা জায়গা থেকে ক্যাশ আউট করে নেয়।

‘এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির নামে বিভিন্ন অফারের কথা বলে প্রতারক। ১৬২৪৭ বিকাশের হটলাইন। এই নম্বরের সামনে অনেক সময় +৮৮ যুক্ত করে প্রতারক ফোন দিয়ে নানা ধরনের প্রলোভন দেখায়। এই বিকাশ কেন্দ্রিক চক্রের ৯০ শতাংশ ফরিদপুরের। বাকিরা মাদারিপুর ও মাগুরার।’

গ্রাহকের তথ্য প্রতারক জানে কীভাবে?

সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, এজেন্টের দোকান একটা খাতা ব্যবহার করে, যে খাতায় বিকাশের ট্রানজ্যাকশনের বিকাশ নম্বর লেখা হয়। অনেক সময় প্রতারক বিকাশের টাকা তোলা বা পাঠানোর নামে গিয়ে গোপনে ওই খাতার ছবি তুলে আনে। অনেক সময় এই প্রতারনায় বিকাশের এজেন্ট ও বিকাশ কর্মকর্তারাও জড়িত থাকে।’

এ ছাড়া অনেক সংস্থা ভোক্তার ডাটা সংগ্রহ করে বলেও জানান কামরুল আহসান। তারা থার্ড পার্টির কাছে ডাটা বিক্রি করে। এ ধরনের সংস্থার কাছ থেকেও প্রতারক ডাটা সংগ্রহ করে থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন লোভ দেখিয়েও প্রতারক নিশ্চিত হন, গ্রাহকের নম্বরে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা।

বিকাশের গ্রাহকের তথ্যের বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের সকল কার্যক্রম অনলাইনভিত্তিক হয়েছে। যে শিক্ষার্থীরা ভিকটিম হয়েছে, তারা যাচাই-বাছাই না করে তথ্য দিয়ে দিয়েছে। সে তার অসাবধানতার কারণে ভিকটিমে পরিণত হয়েছে। এখানে সচেতনতা জরুরি।’

প্রতারক মোবাইল সিম সংগ্রহ করে কোথা থেকে?

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা যে সকল প্রতারক গ্রেপ্তার করেছি, তাদের তথ্যমতে, একদল অসাধু সিম বিক্রেতা রয়েছে, যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ফ্রি সিমের সঙ্গে কিছু টাকা দেবে বলে সিম গ্রাহকের আঙ্গুলের ছাপ সংগ্রহ করে। এ ছাড়া তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সংগ্রহ করে এবং এই আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে একাধিক সিম রেজিস্ট্রেশন করে। এই চক্রগুলোর কাছ থেকে সাধারণ দামের থেকে কয়েক গুণ বেশি দামে সিম কেনে প্রতারকরা। এ কারণে প্রতারকের পরিচয় পাওয়া যায় না।’

বিকাশ প্রতারক কেন নির্মূল সম্ভব নয়!

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘সিআইডির যে ট্রেসিং পদ্ধতি সেটা দিয়ে এরিয়া ট্রেসিং করা যায়। যেমন, প্রতারক কোন এলাকায় আছে বা কোন টাওয়ারের আওতায় আছে। এছাড়া পিনপয়েন্ট করে প্রতারকের স্থান নির্ণয় করা সম্ভব। তবে পিনপয়েন্ট করার যে ব্যবস্থা আছে, সেটা খুব ব্যয়বহুল। রাষ্ট্রীয় অপরাধ ছাড়া পিনপয়েন্ট ট্রেসিং ব্যবহার হয় না, তাই প্রতারক গ্রেপ্তার করতে ঝামেলায় পড়তে হয়।

‘অনেক সময় ঢাকা থেকে টিম পাঠিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রতারকরা অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলে। ফরিদপুরে আমাদের দল থাকলেও এই কাজের জন্য বিশেষজ্ঞ দলের প্রয়োজন। আর এই বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় আছে শুধু।’

প্রতারণার শিকার হয়েও মামলা বা অভিযোগে অনীহা

বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর বলেন, ‘প্রতারকরা গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত হাতিয়ে নেয়। সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পেয়েছি। ভিকটিম হয়তো মনে করেন, মাত্র তো ২ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু প্রতারণা করে দিনে ২-৩ লাখ টাকাও হাতিয়ে নেয় প্রতারক।

‘ভিকটিম আমাদের জানালে আমরা বিকাশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাদের বলি প্রতারক তথ্য নিয়েছে, আপনারা এই নম্বর থেকে ট্রানজেকশনটা বন্ধ করে দেন। টাকা ট্রানজেকশন হয়ে গেলে এটা বের করতে কঠিন হয়ে যায়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভিকটিম অভিযোগ করেন না।’

সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কামরুল আহসান বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ছোট ছোট অংকের টাকা প্রতারকের কাছে খোয়ান। এই অল্প টাকার কারণে তারা মামলা করেন না। সে কারণে অপারেশনও ওভাবে হয় না। ফলে প্রতারকরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এটা শুধু বিকাশের ক্ষেত্রে নয়, সকল ক্ষেত্রে হচ্ছে। প্রতারকরা বিভিন্ন রকম কথার ফাঁদে ফেলে এই প্রতারণা করে। পিন নম্বর ও ওটিপি এই দুইটা হচ্ছে মূল বিষয়। ফোনে যখন কোনো কোড আসে, এগুলো কাউকে বলার জন্য আসে না। আমার নিজের জন্য আসে। সব সময় আমরা বলছি, এই সচেতনাটা দরকার। যখনই কেউ এই কোড নম্বর চাইবে, তখনই মনে করতে হবে সে প্রতারক। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান কখনই এ ধরনের কোড চাইবে না।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

বিরিয়ানি খেয়ে দম্পতি হাসপাতালে

বিরিয়ানি খেয়ে দম্পতি হাসপাতালে

হাসপাতালে নেয়ার সময় নিরাপত্তাকর্মী জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী পারুল বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

নিরাপত্তাকর্মী জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী পারুল বেগম দুপুরে বিরিয়ানি খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। সে খাবার বাড়ির এক ভাড়াটিয়া তাদের দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেশী তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বাড়ির ভাড়াটিয়ার রান্না করা বিরিয়ানি দেয়া হয়েছিল নিরাপত্তাকর্মীকে। সে খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন নিরাপত্তাকর্মী ও তার স্ত্রী। তাদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে।

ঘটনাটি রাজধানীর আদাবর থানাধীন মুনসুরাবাদ আবাসিক এলাকার। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে অসুস্থ জিল্লুর রহমান ও তার স্ত্রী পারুল বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাদেরকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) স্থানান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবেশী বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, ‘মনসুরাবাদ ৪ নম্বর সড়কের ২৫ নম্বর বাসার নিচতলায় পড়েছিলেন জিল্লুর ও তার স্ত্রী। অচেতন অবস্থায় তাদেরকে হাসপাতালে এনেছি। ওই বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড জিল্লুর ঘটনার আগে স্ত্রীকে নিয়ে বিরিয়ানি খেয়েছেন বলে শুনেছি, ওপর তলার ভাড়াটিয়া দুপুরে তাদের এ খাবার দেন।’

বাড়িটির অন্য কেউ অসুস্থ হওয়ার তথ্য জানা যায়নি। ঘটনা জেনে পুলিশ বাড়িটিতে বসবাস করা কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘আদাবর থেকে অচেতন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারে উত্তেজনা

অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ে নিয়ে দুই পরিবারে উত্তেজনা

ছেলের বাবা বাড়ি খুলে জিনিসপত্র সরিয়ে নেন। ছবি: নিউজবাংলা

ছেলের বাবা অভিযোগ করেন, ‘আমি এই বিয়ে মানতে রাজি না হওয়ায় মেয়ের পরিবার আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। ১২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে মেয়ের চাচা স্থানীয় কিছু লোকসহ আমার বাড়িতে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। শুধু আমাকে নয়, তারা আমার ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়েকেও বেধড়ক পিটিয়েছে।’

নবম শ্রেণির ছাত্র ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নিজ পছন্দে পালিয়ে বিয়ে করে। দেড় মাস পর মেয়েপক্ষ বিয়ে মেনে নিলেও নেয়নি ছেলের পরিবার। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চলছে উত্তেজনা।

মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার ঘাষিয়ারা গ্রামে ঘটেছে এ ঘটনা। বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে মেয়ের পরিবার, ছেলের পরিবার বাসা স্থানান্তর করেছে।

ছেলের বাবার দাবি, তার ছেলে না বুঝেই এই সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পাশের বাড়ির ওই মেয়ে তার ছেলেকে পটিয়ে গত আগস্টে বিয়ে করে। মেয়ের পরিবার বিয়ে মেনে নেয়ায় ৭ সেপ্টেম্বর তারা মেয়ের বাড়িতে ওঠে।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আমি এই বিয়ে মানতে রাজি না হওয়ায় মেয়ের পরিবার আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। ১২ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে মেয়ের চাচা স্থানীয় কিছু লোকসহ আমার বাড়িতে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

‘শুধু আমাকে নয়, তারা আমার ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়েকেও বেধড়ক পিটিয়েছে। আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেছে। না গেলে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে। পরদিনই আমি আমার ভাইদের নিয়ে গিয়ে সাতজনের নামে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করেছি।’

ছেলের চাচা স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাইকে মারধরের পর স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে তাদের নিরাপদ দূরত্বে রেখে এসেছি। থানায় অভিযোগের পর মেয়ের বাড়ির লোক মীমাংসা করবে বললেও তারা কথা রাখেনি।’

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, তারা মারধরের প্রমাণ পেয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর মেয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ১৪ সেপ্টেম্বর থানায় বসতে চান। তবে ছেলের বাবা পরে জানায়, তারা সালিশ করে মীমাংসা করতে চান। থানার হস্তক্ষেপ চান না।

এসআই বলেন, ‘এরপর আর আমি এই বিষয়টি দেখিনি। এখন শুনছি তারা মেয়ের পরিবারের হুমকিতে বাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। আমাকে তারা এটা জানায়নি।’

এ বিষয়ে ছেলের বাবা বলেন, ‘মেয়েপক্ষ আমার নিজের মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের পরিচিত এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। তাই বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি। বুধবার শ্রীপুর থানায় তাদের নামে মামলা করব।’

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ওই মেয়ের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। এক প্রতিবেশী জানান, মামলার খবর জানতে পেরে তারা কাউকে কিছু না বলে কোথাও চলে গেছে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

অপহরণের ৪ দিন পর কিশোর উদ্ধার

অপহরণের ৪ দিন পর কিশোর উদ্ধার

অপহৃত কিশোর নাজমুল ইসলামকে উখিয়া থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

নাজমুল জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াহিয়া গার্ডেন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে পরিবারের ফোন নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত কিশোর নাজমুল ইসলামকে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

কুতুপালং মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে সোমবার রাত ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

১৬ বছর বয়সী নাজমুলের বাড়ি কক্সবাজারের খরুলিয়া এলাকায়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী।

তিনি জানান, রোববার কক্সবাজার সদর থানায় একটি অভিযোগ দেন এক ব্যক্তি। এতে বলা হয়, তার ছোট ভাই ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ। পরে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে তার কাছে। বলা হয়, ৫ লাখ টাকা না দিলে তার ভাইকে জীবিত পাওয়া যাবে না।

অভিযোগের পর র‍্যাবের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ওই কিশোরের অবস্থান শনাক্ত করে। অপহরণের চার দিনের মাথায় উখিয়া থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ-ছয় জন অপহরণকারী পালিয়ে যান।

নাজমুল জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির ইয়াহিয়া গার্ডেন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে পরিবারের ফোন নম্বর নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে।

র‍্যাব কর্মকর্তা শেখ সাদী জানান, এই ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা হয়েছে। অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন