স্ত্রীকে আটকে রেখে একাধিকবার গর্ভপাত

মহারাষ্ট্রে সোলাপুর জেলায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাসহ তিনটি কন্যা শিশুকে উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে আটকে রেখে একাধিকবার গর্ভপাত

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন, ছেলেসন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে জোর করে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। তার স্বামী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণসহ যৌন হয়রানি করেছেন। এ সময় একাধিকবার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছেন তাকে।

পুত্রসন্তান না হওয়ায় স্ত্রীকে দোষারোপ করে দেড় বছর আটক রেখে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক স্বামীর বিরুদ্ধে।

ভারতের মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলায় এ ঘটনা ঘটে।

সোলাপুর পুলিশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ৪১ বছর বয়সী ওই নারীকে একটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ওই বাড়ি থেকে এ দম্পতির তিনটি কন্যাশিশুকেও উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া তিন শিশুর বয়স আট থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

সোলাপুর জেলার পান্ধারপুর শহরের জেন্ডে গুল্লি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গত সোমবার ওই গৃহবধূ ও তিনটি কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়।

ওই স্বামীর বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের (আইপিসি) ধর্ষণবিষয়ক ধারা ৩৭৬সহ একাধিক ধারায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন, ছেলেসন্তান জন্ম দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে জোর করে বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এ সময় তার স্বামী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণসহ যৌন হয়রানি করেছেন। এ সময় একাধিকবার গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছেন তাকে।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন ওই ভুক্তভোগী নারী একটি জরুরি এসওএস বার্তা ছুড়ে দিতে সফল হন। পান্ধারপুর সিটি পুলিশের নির্ভয় স্কোয়াড বার্তাটি পাওয়ার পর ওই বাড়িটির ওপর নজরদারি বসায়। এর পরেই তারা অভিযান পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার দৃশ্য ধারণ করার সময় ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার (ডান থেকে তৃতীয়, নীল ট্রাউজার পরিহিত)। ছবি: এপি

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার। পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ভিডিও করা কিশোরী ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার পেলেন পুলিৎজার সম্মাননা।

পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশেরই নির্মমতার ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেলেন কৃষ্ণাঙ্গ এই কিশোরী।

পুলিৎজার বোর্ড শুক্রবার ডার্নেলা ফ্রেজিয়ারকে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বড় সম্মাননা এটি। সংবাদমাধ্যম, ম্যাগাজিন, অনলাইন সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত আর নাটকেও অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেয়া হয় পুরস্কার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার সময় ১৭ বছর বয়স ছিল ফ্রেজিয়ারের।

রাস্তার ওপর ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনা নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেছিলেন ফ্রেজিয়ার। এরপর সেটি অনলাইনে ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্য তৈরি হয় সারা বিশ্বে।

সবচেয়ে উন্নত বলে স্বীকৃত রাষ্ট্রে এমন ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরের এ ঘটনার জেরে সৃষ্ট ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ বিক্ষোভ পরে রূপ নেয় বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী গণ-আন্দোলনে।

এর জেরে বিচারের আওতায় নেয়া হয় মূল অভিযুক্ত ডেরেক শভিনকে, দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। বহিষ্কার করা হয় শভিনসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত চার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যেককে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে এসবই নজিরবিহীন। এমনকি এর ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের আওয়াজ ওঠে দেশটির পুলিশ প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও।

ফ্রেজিয়ারের ধারণ করা ৯ মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছিল, ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ফ্লয়েডের ঘাড়ে ৯ মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। একপর্যায়ে দম আটকে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার।

পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া এ ভিডিও ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে আলোচনায় আনলেও গত এক বছরে ফ্রেজিয়ার নিজে কখনো আলোচনায় আসেননি।

চলতি বছর শভিনের বিচার শুনানির সময় আদালতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও আদালতে যতবার চালানো হয়েছে, প্রতিবারই চোখ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন ফ্লয়েডের পরিবারের সদস্যরা।

বিচারকদের ফ্রেজিয়ার জানান, নাশতা কিনতে দোকানে যাওয়ার পথে ‘আতঙ্কিত এক ব্যক্তিকে প্রাণভিক্ষার আকুতি জানাতে’ দেখেন তিনি। সে সময় নিজের সঙ্গে থাকা ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করেন। সেই রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেটি প্রকাশ করেন।

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দেখেছে সে ভিডিও।

ফ্লয়েড হত্যায় দোষী সাব্যস্ত শভিনের বিরুদ্ধে আগামী ২৫ জুন শাস্তি ঘোষণা করবে আদালত।

পুরস্কৃত হওয়ার বিষয়ে ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশের কঠোর হওয়া এতই নিয়মিত যে ফ্রেজিয়ারের ভিডিওটি ভাইরাল না হলে ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও হয়তো জায়গা পেত না।

পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা বলিষ্ঠ করতে সাধারণ নাগরিক হয়েও ফ্রেজিয়ার যে ভূমিকা রেখেছেন’, তা সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।

এর আগে ২০২০ সালে ভিডিওটির জন্য পেন আমেরিকার বেনেনসন কারেজ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ফ্রেজিয়ার।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির

নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির

চলচ্চিত্র পরিচালক আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা করেছে বিজেপি। ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

লাক্ষাদ্বীপের বিজেপির প্রধান সংগঠক সি আব্দুল কাদের হাজি থানায় আয়েশার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মন্তব্য করার অভিযোগ করেন। তার দাবি, আয়েশার মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রশাসকের সমালোচনা করায় দেশদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে নারী চলচ্চিত্র পরিচালকের বিরুদ্ধে।

সংবাদমাধ্যমে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসকের সমালোচনা ও করোনাকে ‘জৈব অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলতেই চলচ্চিত্র পরিচালক আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ আনল লাক্ষাদ্বীপের বিজেপি শাখা।

আয়েশার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলার তীব্র নিন্দা করেছে লাক্ষাদ্বীপের সাহিত্য পরিবর্তক সংঘ।

সম্প্রতি লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল্ল খোড়া পটেলের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিলেন একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে গোটা নেটমাধ্যম। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ।

উন্নয়নের নামে জোর করে গুণ্ডা দমন আইন চাপিয়ে দেয়া, গো-মাংস নিষিদ্ধ করা, মদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

লাক্ষাদ্বীপের বাসিন্দা আয়েশা সম্প্রতি একটি মালয়লম সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক সভায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘সংক্রমণের শুরুর দিকে লাক্ষাদ্বীপে একজনও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। এখন প্রতিদিনই ১০০ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে করোনাকে জৈব অস্ত্র হিসেবে পাঠানো হয়েছে।’

আয়েশার ওই মন্তব্যের পর বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

লাক্ষাদ্বীপের বিজেপির প্রধান সংগঠক সি আব্দুল কাদের হাজি থানায় আয়েশার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মন্তব্য করার অভিযোগ করেন। তার দাবি, আয়েশার মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দেশদ্রোহিতার মামলা হওয়ার পর আয়েশা ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ করা হয়েছে। আমি বলতে চাই, সত্যের জয় হবেই। আমি যেখানে জন্মেছি, সেই মাটির জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

এদিকে আয়েশার বিরুদ্ধে অভিযোগের পর বিজেপির সমালোচনা শুরু হয়। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর টুইটবার্তায় লেখেন, দেশদ্রোহী শব্দের অপব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন

শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন

শিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে ইস্তাম্বুলে চীনের কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দিশিবিরে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ড (নির্যাতন, নিপীড়ন, কারাবাস) সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলমান সংখ্যালঘুর উপর চীন গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিনজিয়াং নিয়ে ১৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন হাজির করে অ্যামনেস্টি। সেখানে এই মন্তব্য করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিনজিয়াংয়ে উইঘুর, কাজাখসহ অন্যান্য মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর গণ আটক, নজরদারি ও নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। এসব বিষয় তদন্তে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি।

শিনজিয়াং প্রদেশে ‘বিভীষিকাময় পরিস্থিতি’ সৃষ্টির জন্য চীনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আনিয়েস ক্যালামার্দ।

তিনি বলেন, ‘শিনজিয়াংয়ে বন্দি শিবিরে বিপুল সংখ্যক মানুষ মগজ ধোলাই, নির্যাতন ও অন্যান্য অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া শিবিরের বাইরে লাখ লাখ মানুষ ব্যাপক নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওখানকার বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতি মানবতার বিবেকে ধাক্কা দেয়া উচিত।’

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বিরুদ্ধে ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনেন অ্যামনেস্টির মহাসচিব ক্যালামার্দ।

ক্যালামার্দ বিবিসিকে বলেন, ‘শিনজিয়াং পরিস্থিতির নিন্দা জানাননি গুতেরেস। আন্তর্জাতিক তদন্তেরও আহ্বান জানাননি তিনি।

‘মানবিক মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ। সে হিসেবে শিনজিয়াং নিয়ে কথা বলা সংস্থাটির মহাসচিবের দায়িত্ব। মানবতবিরোধী অপরাধের ঘটনায় চুপ করে থাকা তাকে মানায় না।’

শিনজিয়াং শিবিরের ৫৫ সাবেক বন্দির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দিশিবিরে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ড (নির্যাতন, নিপীড়ন, কারাবাস) সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনেও অ্যামনেস্টির মতো প্রায় একই বক্তব্য উঠে আসে। শিনজিয়াংয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য চীনের সরকারকে দায়ী করে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনের লেখক জোনাথান লোয়েব বলেন, গণহত্যা অপরাধের সব প্রমাণ প্রতিবেদনে হাজির হয়নি। এটিতে কেবল ভয়াবহতার সামান্য অংশই প্রকাশ হয়েছে।

শিনজিয়াং প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া লাখ লাখ উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলমানদের শিবিরে আটকে রেখে চীন সরকারের নির্যাতন চালানোর বিষয়ে একমত বিশেষজ্ঞরা।

তবে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। দেশটির ভাষ্য, ঐচ্ছিক কারিগরী শিক্ষা দেয়া হয় শিবিরে। পাশাপাশি সেখানে সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে মৌলবাদ নির্মূলকরণ কর্মসূচিও পরিচালনা করা হয়।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

মুসলমান হত্যা: গ্রেপ্তারের সময় ট্রাকচালকের উল্লাস

মুসলমান হত্যা: গ্রেপ্তারের সময় ট্রাকচালকের উল্লাস

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে মুসলমানবিদ্বেষী হামলায় নিহতদের প্রতি মঙ্গলবারের শোক কর্মসূচিতে যোগ দেন সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: এএফপি

লন্ডন ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, লন্ডনের কাছেই স্ট্যাথ্রয় এলাকায় ডিম প্যাকেটজাত করার একটি কারখানার খণ্ডকালীন কর্মী ছিলেন ভেল্টম্যান। লন্ডনের যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানকার অন্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাত পর্যন্ত ভেল্টম্যানের ভিডিও গেমস খেলার জোরালো আওয়াজ শুনতে পেতেন তার প্রতিবেশীরা।

কানাডায় ট্রাক তুলে দিয়ে চার মুসলমানকে হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় শুনানির জন্য আদালতে হাজিরা দেয়ার অপেক্ষায় চালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যান।

২০ বছরের ছেলের এ অপকর্মে হতবাক অভিযুক্তের বাবা মার্ক ভেল্টম্যান।

ই-মেইলে তিনি লিখেছেন, ‘বর্ণনার অযোগ্য এ অপরাধের সঙ্গে আমার ছেলের জড়িত থাকার খবরে আমি স্তম্ভিত, শংকিত। কতটা দুঃখ পেয়েছি, তা বলে বোঝানোর ভাষা আমার জানা নেই।

‘বোধশক্তিহীন এ আচরণের ভুক্তভোগীদের সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নেই আমার।’

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বেশির ভাগই এখন প্রকাশ করবে না পুলিশ।

তবে অভিযুক্ত ভেল্টম্যান নিহতদের আগে থেকে না চিনলেও মুসলমান বুঝতে পেরেই ইচ্ছা করে ওই হামলা চালান বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে লন্ডন পুলিশের প্রধান স্টিভ উইলিয়ামস বলেন, ‘আমাদের কোনো কথা বা কাজে যেন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিতে তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেল্টম্যানের অ্যাকাউন্টটি মুছে দেয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থায় ভেল্টম্যানের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই প্রকাশ পেয়েছে।

লন্ডন ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, লন্ডনের কাছেই স্ট্যাথ্রয় এলাকায় ডিম প্যাকেটজাত করার একটি কারখানার খণ্ডকালীন কর্মী ছিলেন ভেল্টম্যান।

লন্ডনের যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানকার অন্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাত পর্যন্ত ভেল্টম্যানের ভিডিও গেমস খেলার জোরালো আওয়াজ শুনতে পেতেন তার প্রতিবেশীরা।

মুসলমানদের ওপর ভেল্টম্যানের ক্ষোভের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিদ্বেষপ্রসূত হামলা নিশ্চিত হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো ‘হেইট গ্রুপের’ সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

পুলিশের হেফাজতে ভেল্টম্যান নিরাপদে আছেন জানালেও তার ছবি প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পুলিশ।

ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় গত রোববার সন্ধ্যার ওই হামলায় নিহত হন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের চার সদস্য। সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হন তারা।

পরিবারটির বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য, ৯ বছরের একটি ছেলেশিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

হামলা চালানোর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে একটি শপিং মলের পার্কিং লট থেকে আটক ও গ্রেপ্তার হন ঘাতক ট্রাকচালক।

সে সময় ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ট্যাক্সিচালকের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্যাক্সি ভাড়া দেয়া একটি প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট হাসান সাভেহিলাঘি।

লন্ডন সিটিভি নিউজের প্রতিবেদনে সাভেহিলাঘির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভেল্টম্যানের পিক-আপ ট্রাকটির সামনের দিক ভেঙেচুরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে রক্তের দাগ লেগে ছিল।

সাভেহিলাঘি বলেন, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে যখন ভেল্টম্যানকে ট্রাক থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনছিল পুলিশ, তিনি হাসছিলেন, উল্লাস করছিলেন, অপমানসূচক কথাবার্তা বলছিলেন। চিৎকার করে স্লোগান দেয়ার মতো কিছু একটা বলছিলেন। কিন্তু তার বলা সব কথা স্পষ্ট শোনা যায়নি।’

তবে 'আমি মানুষ হত্যা করেছি' বলতে শোনা গেছে ভেল্টম্যানকে।

সাভেহিলাঘি জানান, তার ট্যাক্সির চালক এই আটকের ঘটনা ভিডিও করছিলেন বলে তার দিকে চিৎকার শুরু করেন ভেল্টম্যান।

সাভেহিলাঘি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন অভিযুক্ত লোকটি পুরো ঘটনা খুব উপভোগ করছেন। কেউ তার ভিডিও রেকর্ড করছেন, এটা তার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।’

ভেল্টম্যানকে আটক বা তার হামলাসংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ পেলেও সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি।

যে ট্রাক নিয়ে হামলা চালিয়েছেন ভেল্টম্যান, চলতি বছরের ১২ মে সেটি কিনেছেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ জুমের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শুনানিতে অংশ নেন ভেল্টম্যান। আগামী সোমবার আবারও শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে তাকে।

তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

কানাডায় মুসলমানদের ওপর ট্রাকহামলা চালানো যুবক আদালতে

কানাডায় মুসলমানদের ওপর ট্রাকহামলা চালানো যুবক আদালতে

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে মুসলমানবিদ্বেষী হামলায় নিহতদের প্রতি মঙ্গলবারের শোক কর্মসূচিতে যোগ দেন সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: এএফপি

গ্রেপ্তারের সময় ঘাতক ট্রাকচালক ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

কানাডায় ট্রাক তুলে দিয়ে মুসলমান পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় হামলাকারী যুবককে আদালতে তোলা হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ জুমের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শুনানিতে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী সোমবার আবারও শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে তাকে।

হামলাটি পুরোপুরি বিদ্বেষপ্রসূত বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। জানিয়েছে, নিহতদের সঙ্গে কোনো পূর্ব পরিচয় না থাকলেও মুসলমান বুঝতে পেরে তাদের ওপর ইচ্ছে করে ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিলেন ভেল্টম্যান।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে লন্ডন পুলিশের প্রধান স্টিভ উইলিয়ামস জানিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বেশির ভাগই এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কথা বা কাজে যেন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিতে তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা।’

ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় ওই হামলায় নিহত হন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের চার সদস্য। পরিবারটির বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য, ৯ বছরের একটি ছেলেশিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হন তারা।

এর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে একটি শপিং মলের পার্কিং লট থেকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক ট্রাকচালককে।

সে সময় ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ‘হেইট গ্রুপের’ সঙ্গে ভেল্টম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তবে এখনও অনুসন্ধান চলছে।

তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ গঠন করা হতে পারে।

একে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় অভিবাসীবান্ধব কানাডার সমাজে ইসলামভীতি, মুসলমানবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন ট্রুডো।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

‘শিশুদের শিশুর মতো থাকার সুযোগ ছিল না’

‘শিশুদের শিশুর মতো থাকার সুযোগ ছিল না’

সম্প্রতি কানাডার পরিত্যক্ত এই স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ পাওয়া যায়। ছবি: ক্যামলুপস দিজ উইক

রুলেট বলেন, স্কুলের প্রথম দিন খ্রিষ্টান এক সন্ন্যাসিনী তাকে পেন্সিল ও কাগজ দেন। কাগজে লেখার গতি ধীর হওয়ায় একপর্যায়ে তার মুখে ঘুষি মারেন ওই সন্ন্যাসিনী।

কানাডার আদিবাসী শিশুদের এক সময় জোর করে আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো। ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত ওইসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের জীবন ছিল আধাসামরিক ধাঁচের। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রার্থনা, লাইনে দাঁড়ানো, নিয়মিত মার খাওয়ার মধ্য দিয়ে স্কুলজীবন পার হতো তাদের।

আবাসিক স্কুলে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া আদিবাসী শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এভাবেই নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলেন ।

সম্প্রতি কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে পরিত্যক্ত এক আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনা দেশটির আদিবাসীদের তিক্ত অভিজ্ঞতা ফের মনে করিয়ে দেয়। রাডারের মাধ্যমে ওই শিশুদের গণকবরের খোঁজ পাওয়া যায়।

সরকারি নীতি অনুযায়ী কানাডার আদিবাসী শিশুদের জোর করে পরিবার থেকে আলাদা করে আবাসিক স্কুলে ভর্তি করানো হতো। পরে ওই নীতির নাম দেয়া হয় ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’।

১৮৩১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বলবৎ থাকা ওই নীতির কারণে প্রায় দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়।

ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত আবাসিক স্কুলগুলো নিয়ে কয়েক বছর আগে তদন্ত করে কানাডিয়ান ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন (টিআরসি)।

২০১৫ সালে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুরা ওইসব স্কুলে অপুষ্টিতে ভুগত। নিয়মিত তাদের পেটানো ও গালাগাল দেয়া হতো। ‘সাংস্কৃতিক গণহত্যা’ নামের ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব করা হতো।

কানাডার মানিটোবা অঙ্গরাজ্যের লং প্লেইন ফার্স্ট নেশন রিসার্ভে বেড়ে ওঠেন রুথ রুলেট।

৬৯ বছর বয়সী রুলেট স্মৃতি ঘেঁটে রয়টার্সকে বলেন, প্রথমবার গাড়িতে চড়তে পেরে খুব আনন্দিত ছিলেন তিনি ও তার ভাইবোনেরা। লেক মানিটোবার কাছে স্যান্ডি বে আবাসিক স্কুলে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। স্কুলে পৌঁছার পরপরই ভাইদের কাছ থেকে রুলেট ও তার বোনদের বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং তাদের চুল কেটে দেয়া হয়।

টিআরসির তথ্য অনুযায়ী, স্কুলে নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল শিশুদের। পরিবারের দেয়া নাম বাদ দিয়ে ইউরোপীয় নাম দেয়া হতো তাদের।

রুলেট বলেন, স্কুলের প্রথম দিন খ্রিষ্টান এক সন্ন্যাসিনী তাকে পেন্সিল ও কাগজ দেন। কাগজে লেখার গতি ধীর হওয়ায় একপর্যায়ে তার মুখে ঘুষি মারেন ওই সন্ন্যাসিনী।

রুলেট বলেন, ‘চারদিক রক্তে ভেসে যায়। আমি বুঝছিলাম না, কী ভুলটা আমি করেছি। আমি শুধু কাঁদছিলাম। রক্ত আমাকেই পরিষ্কার করতে হয়।’

তিনি বলেন, তিনি ও তার বন্ধুরা স্কুল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ধরা পড়ে যান। পালানোর চেষ্টা করায় তাদের মারধর করা হয়। এক সপ্তাহ তাদের শুধু গাজর খেতে দেয়া হয়।

রুলেট বলেন, ‘অদিবাসী শিশুদের শিশুর মতো থাকার সুযোগ ছিল না।’

স্কুলে ছাত্রদের ছুতার কাজসহ হাতেকলমে অন্যান্য শিক্ষা দেয়া হতো। আর ছাত্রীদের গৃহস্থালি কাজের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো।

২০০৮ সালে আদিবাসী শিশুদের নিপীড়নের ঘটনায় ক্ষমা চায় কানাডা সরকার।

গত মাসে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া অঙ্গরাজ্যে পরিত্যক্ত ক্যামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে শিশুদের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্যাথলিক চার্চকে ওই ঘটনার দায় নিতে বলেন তিনি।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিশুদের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনা বেদনাহত করেছে বলে জানান খ্রিষ্টানদের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস। তবে ওই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাননি তিনি।

ক্যামলুপস স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শিশুদের দেহাবশেষ পাওয়ার ঘটনায় কানাডিয়ান কনফারেন্স অফ ক্যাথলিক বিশপস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন

ব্রিটেনে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নগ্ন ছবিতে সয়লাব সামাজিকমাধ্যম

ব্রিটেনে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নগ্ন ছবিতে সয়লাব সামাজিকমাধ্যম

অফস্টেডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জনই অভিযোগ করেছেন সহপাঠীরা তাদেরকে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি পাঠিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ও ঘৃণিত বিষয়টি হচ্ছে, এমন নৈরাজ্য এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে মেয়ে শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা অথবা রুখে দাঁড়ানোর মানসিক জোরও হারিয়ে ফেলেছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, অফস্টেডের প্রতিবেদনে উঠে আসা এমন অপ্রত্যাশিত ও ন্যক্কারজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুল-কলেজের কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সহায়তা দেয়া হবে।

স্কুল-কলেজের ছেলে শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠীদের আপত্তিকর ও নগ্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ ও মান নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থা অফস্টেডের এক প্রতিবেদনে এমনটি উঠে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কালেকশন গেমস, হোয়াটস অ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাটে সয়লাব হয়ে গেছে মেয়ে শিক্ষার্থীদের একান্ত খোলামেলা ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও। এবং এই ধরনের ছবি প্রতিনিয়ত শেয়ার করা হচ্ছে এসব মাধ্যমে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি চালানো সংস্থাটি অন্তত ৯০০ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতি ১০ জন মেয়ে শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জনই অভিযোগ করেছে সহপাঠীরা তাদেরকে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি পাঠিয়েছে।

প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

স্কুল-কলেজে যৌন হয়রানির ঘটনা এত বেশি নিয়মিত হয়ে উঠেছে যে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে এখন অভিযোগ করাও বাদ দিচ্ছে।

সংস্থাটি প্রতিবেদন তৈরি করতে দেশটির ৩২টি রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুসন্ধান চালিয়েছে।

ব্রিটেনে মেয়ে শিক্ষার্থীদের নগ্ন ছবিতে সয়লাব সামাজিকমাধ্যম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কালেকশন গেমস, ওয়াটস অ্যাপ ও স্ন্যাপচ্যাটে সয়লাব হয়ে গেছে মেয়ে শিক্ষার্থীদের একান্ত খোলামেলা ও অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও। ছবি: সংগৃহীত

৮০ শতাংশ মেয়ে শিক্ষার্থী জানিয়েছে, সামাজিকমাধ্যমগুলোতে অপ্রত্যাশিত ও আপত্তিকর মন্তব্যেরও শিকার হয়েছে তারা। একই সঙ্গে উত্তেজক ছবি পাঠাতে তাদেরকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেছে তাদের সহপাঠীরা।

৬০ শতাংশের বেশি মেয়ে শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের ভেতরে আপত্তিকর স্পর্শের শিকার হয়েছে সহপাঠীদের কাছ থেকে। এদিকে, অন্তত ২৫ শতাংশ ছেলে শিক্ষার্থীও এ ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

তবে সবচেয়ে হতাশাজনক বিষয় হচ্ছে, এমন ন্যক্কারজনক কাজের জন্য অধিকাংশ ছেলে শিক্ষার্থীর মধ্যে কোনো অনুশোচনার প্রকাশ পায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানি সম্পর্কিত এমন হাজারও অ্যাকাউন্ট নিয়মিত দেখত এবং সেগুলোর ছবি ও ভিডিও শেয়ার করত।

সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ও ঘৃণিত বিষয়টি হচ্ছে, এমন নৈরাজ্য এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা অথবা রুখে দাঁড়ানোর মানসিক জোরও হারিয়ে ফেলেছে।

দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, অফস্টেডের প্রতিবেদনে উঠে আসা এমন অপ্রত্যাশিত ও ন্যক্কারজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্কুল-কলেজের কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি সহায়তা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে দ্য ইনডিপেনডেন্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে গঠিত ঐক্যজোটের পরিচালক অ্যান্ড্রু সিমন বলেন, ‘এমন প্রতিবেদন ভয়াবহ ও সত্যিকার অর্থে দুঃখজনক। আমরা যদি এখনই এই সংকটের লাগাম টেনে ধরতে না পারি, তবে তরুণ শিক্ষার্থীদের পুরো একটি প্রজন্ম নষ্ট হয়ে যাবে।’

অফস্টেডের প্রধান পরিদর্শক আমান্ডা স্পিলম্যান জানান, এমন প্রতিবেদন তাকে ভীষণভাবে মর্মাহত করেছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী মেনে নিয়েছে যে তাদের বড় হওয়ার এই প্রক্রিয়ায় যৌন নিপীড়ন সহ্য করে নিতে হবে। এ বিষয়ে অভিযোগ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও ভ্রান্ত ধারণা জন্মেছে তাদের মধ্যে। আমাদের সম্মিলিতভাবে এই অরাজকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

আরও পড়ুন:
গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামীকে গ্রেপ্তার
গৃহবধূ তাছলিমা হত্যায় স্বামীর স্বীকারোক্তি
মিরপুরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্ত্রীকে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক: স্বামীর স্বীকারোক্তি

শেয়ার করুন