ট্রান্সজেন্ডার ফরিদা শোনালেন স্বীকৃতি আদায়ের গল্প

মিসরের ট্রান্সজেন্ডার নারী ফরিদা রামাদান। ছবি: এএফপি

ট্রান্সজেন্ডার ফরিদা শোনালেন স্বীকৃতি আদায়ের গল্প

বয়স ২০ বছর পার হওয়ার পর ঘর-পরিবার ছাড়েন ফরিদা। লিঙ্গ নির্ধারণ অস্ত্রোপচার জিসিএসের জন্য প্রশাসনের কাছ অনুমতি আদায়ে তার দীর্ঘ লড়াই শুরু হয় ২০০০ সালে। শেষ পর্যন্ত ছুরিকাঁচির নিচে তিনি গিয়েছেন আরও ১৫ বছর পর।

আফ্রিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দেশ মিসরের ট্রান্সজেন্ডার নারী ফরিদা রামাদান। রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে প্রায় ৩০ বছর ধরে কাজ করছেন তিনি।

লৈঙ্গিক ও জেন্ডার পরিচয়ের জেরে সৃষ্ট সামাজিক বৈষম্য বন্ধে তার লড়াই। সবার মতো সমান অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে চান। এ লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সে লড়াইয়ের গল্প বলেছেন ফরিদা।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাক্ষাৎকারে মিসরে বেশিরভাগ মানুষ এলজিবিটিকিউ (লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, কুইয়ার) সম্প্রদায়ের প্রতি হীন ধারণা পোষণ করেন বলে জানান ফরিদা।

সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় মাথায় রঙিন স্কার্ফ, চোখে আইলাইনার আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক পরেছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই ট্রান্সজেন্ডার নারী।

তিনি জানান, মিসরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দামিয়েত্তা শহরে ছেলে হিসেবে বেড়ে ওঠা শুরু তার। কৈশোরের শুরুতে পরিবারকে জানান, নিজেকে ছেলে মনে করেন না তিনি।

ফরিদা বলেন, ‘চরম অবজ্ঞা আর অকল্পনীয় তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হয়েছিলাম আমি।’

বয়স ২০ বছর পার হওয়ার পর ঘর-পরিবার ছাড়েন ফরিদা। লিঙ্গ নির্ধারণ অস্ত্রোপচার জিসিএসের জন্য প্রশাসনের কাছ অনুমতি আদায়ে তার দীর্ঘ লড়াই শুরু হয় ২০০০ সালে। শেষ পর্যন্ত ছুরিকাঁচির নিচে তিনি গিয়েছেন আরও ১৫ বছর পর।

অস্ত্রোপচারের অনুমতি পাওয়ার চ্যালেঞ্জ

মিসরে সমকামী ও ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বেদায়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জানান, দেশটিতে ট্রান্সজেন্ডারদের স্বীকৃতি নেই। দেশটিতে লৈঙ্গিক পরিবর্তনের অস্ত্রোপচারের জন্য ইজিপশিয়ান মেডিক্যাল সিন্ডিকেটের অনুমতি দরকার হয়।

সিন্ডিকেট গঠিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মীয় নেতাদের সমন্বয়ে। ধর্মীয় অনুশাসন বা ফতোয়ার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় এই কমিটি।

আর ধর্মীয় অনুশাসনে শুধু ‘শারীরিক অবস্থা’ বিবেচনায় এ অস্ত্রোপচারের অনুমতি মেলে। ‘মানসিক চাহিদা’ এ ক্ষেত্রে বিবেচনাযোগ্য হিসেবে ধরা হয় না।

অনুমতি দেয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নিতে আবেদনকারীর রক্ত ও হরমোন পরীক্ষা, আর ক্রোমোসোম বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে পরবর্তী দুই বছর তাকে মানসিক ও নানা রকম হরমোন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

এসব শর্ত পূরণ করতে না পেরে ট্রান্সজেন্ডার হতে চাওয়া অনেক মানুষই অস্ত্রোপচারের অনুমতি পান না।

মিসরে এ সংখ্যা কত, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানও নেই।

অভিযোগ রয়েছে, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মতি ছাড়া কোনো অস্ত্রোপচার হয় না। অথচ কমিটির বৈঠকের কোনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। ইচ্ছেমতো বৈঠক হয়। দুই বছর ধরে কমিটির প্রধানের পদটিও খালি।

এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি আল-আজহার কর্তৃপক্ষ।

অস্ত্রোপচারের পরের লড়াই

লিঙ্গ নির্ধারণ অস্ত্রোপচারের অনুমতি পেতে যখন লড়ছিলেন, সে সময় চাকরিচ্যুত হন ১৩ বছরের স্কুলশিক্ষক ফরিদা।

এ নিয়ে ফরিদা বলেন, ‘আমার কাছে কোনো টাকা-পয়সা ছিল না। ২০১৬ সালে শেষ অস্ত্রোপচারের আগ পর্যন্ত ছোটখাটো কাজ করে টাকা জমিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।’

ট্রান্সজেন্ডার ফরিদা শোনালেন স্বীকৃতি আদায়ের গল্প
প্রায় ৩০ বছর ধরে সামাজিক স্বীকৃতির জন্য লড়াই করছেন ট্রান্সজেন্ডার নারী ফরিদা রামাদান। ছবি: এএফপি

বর্তমানে কর্মহীন ফরিদা। গত ১৫ বছরে অসংখ্য ছোটখাটো কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সব কাজ থেকেই বাদ দেয়া হয়েছে তাকে।

ফরিদা জানান, প্রতিবেশীরাও তাকে এড়িয়ে চলে। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে গেলেও হয়রানির শিকার হন তিনি। প্রতিনিয়ত অপমানিত ও লাঞ্ছিত হতে হয় তাকে। যৌন হয়রানির ঘটনাও তার জীবনে অজস্র।

শারীরিক রূপান্তর নিয়ে ফরিদা বলেন, ‘যারা নারী থেকে পুরুষ হয়, তাদেরকে আমাদের তুলনায় অনেক কম পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। তারা ট্রান্সজেন্ডার নারীদের চেয়ে অনেক বেশি সামাজিক স্বীকৃতি পায়।’

হাল ছাড়বেন না ফরিদা

চার বছর আগে উত্তরের বেহেরিয়া অঞ্চলের এক গ্রামে নিজের জন্য একটি বাড়ি পেয়েছেন ফরিদা। প্রতি মাসে গ্রামবাসী নিজেদের সঞ্চয় থেকে ফরিদাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেন তার খেয়ে-পড়ে বাঁচা নিশ্চিতে।

ফরিদার প্রতিবেশী ওম মেন্না এএফপিকে বলেন, ‘আর সবার মতোই ফরিদাকেও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।’

প্রতিবেশীরা ফরিদাকে ‘ওম আলা’ বলে ডাকেন, যার অর্থ ‘আলার মা’। যখন ছোট ছিলেন আর মা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তখন ভবিষ্যতে সন্তান হলে তার নাম আলা রাখবেন বলেন ভেবেছিলেন ফরিদা। সেখান থেকেই এই ডাক।

ফরিদা বলেন, ‘গ্রামের সবাই আমাকে এই নামেই ডাকে। খুব ভালো লাগে আমার। আমাকে ভালোবাসে এমন কিছু মানুষ আমি পেয়েছি। কিন্তু এখনও সম্মান নিয়ে বাঁচতে আরও অনেকটা পথ যেতে হবে আমাকে।’

নিজের অধিকার আদায়ে মামলার পরিকল্পনা করছেন ফরিদা।

তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করতে চাই। নিজের জীবিকা উপার্জন নিজেই করতে চাই। আমি চুপ করে বসে থাকব না। আমি ক্লান্ত। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি।’

ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি মিসরের সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি

গত বছরের মে মাসে মিসরের ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রথম সোচ্চার হন দেশটির প্রবীণ অভিনয়শিল্পী হিশাম সেলিম।

এই শিল্পীর ছেলে নূর নারী থেকে পুরুষ হয়েছেন। এতে বাবা হিসেবে নিজের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান তিনি।

এ ঘটনায় কিছু ভক্ত-অনুসারীর সহানুভূতি পেলেও তুমুল বিতর্কও শুরু হয় তাকে ঘিরে।

২০১৭ সালে ট্রান্সজেন্ডার অধিকারকর্মী সারাহ হেগাজি প্রকাশ্যে সমকামী ও ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতীক হিসেবে রংধনু পতাকা ওড়ানোয় গ্রেপ্তার হন।

বন্দি অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হন তিনি। মুক্তি পাওয়ার পর কানাডায় আশ্রয় নেন। গত বছর তিনি আত্মহত্যা করলে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।

বেদায়া নামের সংগঠনের অধিকারকর্মী বলেন, “নূর আর ফরিদা কিছুটা জনসমর্থন পেয়েছেন। কারণ সমাজের একটি অংশ বিশ্বাস করে যে নূর, ফরিদার লিঙ্গ পরিবর্তন ‘ভুল সংশোধন’ ছিল। যেহেতু নানা পরীক্ষায় উৎরে তারা প্রশাসনের কাছ থেকে লিঙ্গ পরিবর্তনের অনুমতি পেয়েছেন।”

হেগাজির প্রতি জনসমর্থন জানানোর কারণে নূরের প্রতি জনসমর্থন মুহূর্তের ক্ষোভে পরিণত হয়। নানাভাবে আক্রমণের শিকার হন তিনি।

গত নভেম্বরে ফরিদা রামাদান টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন। সেখানে তিনি আবারও শিক্ষক হিসেবে কাজ শুরু করার ইচ্ছা জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘নিজের উপার্জিত অর্থে বাঁচতে চাই আমি, অন্যের সাহায্যে নয়। আমি অসুস্থ। নিজের চিকিৎসা নিজেই করাতে চাই। এ জন্য অন্তত আমার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার অধিকার ফিরে পেতে আমাকে সাহায্য করুন।’

সে সময় মিসরের শিক্ষামন্ত্রী তারেক শাওকি জনগণের প্রতি ট্রান্সজেন্ডারদের প্রতি নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান।

মিসর সরকারের কোনো প্রতিনিধির সরাসরি এ ধরনের আহ্বান সেটাই ছিল প্রথম।

মন্ত্রী সে সময় ফরিদাকে পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দিলেও তা পূরণ হয়নি।

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

‘নারী কর্মকর্তা বাদের সুপারিশকারীদের ক্ষমা চাইতে হবে’

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ৮ মার্চ রাজধানীর শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে আমরাই পারি জোট। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অচিরেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়চেতনাবিরোধী সুপারিশকে প্রত্যাহার করে সুপারিশকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর গার্ড অফ অনারের সময় নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাদ দেয়ার সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছে সামাজিক সংগঠন আমরাই পারি জোট। একই সঙ্গে সুপারিশ প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অফ অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের বাদ দেয়ার সুপারিশের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মানিত করা হয়েছে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা মারা যাওয়ার পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা প্রশাসন। ডিসি বা ইউএনও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে থাকেন। কফিনে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

অনেক স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে নারী কর্মকর্তারা রয়েছেন। আর সেখানেই আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সংসদীয় কমিটির রোববারের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা ওঠার পর সরকারের কাছে সুপারিশ রাখা হয় গার্ড অফ অনার দেয়ার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের বিকল্প খোঁজার।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অফ অনার প্রদানের ক্ষেত্রে দিনের বেলায় আয়োজন করা এবং মহিলা ইউএনওর বিকল্প ব্যক্তি নির্ধারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।’

কোন যুক্তিতে এই সুপারিশ জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান সাংবাদিকদের বলেন, নারী ইউএনও গার্ড অফ অনার দিতে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন।

‘মহিলারা তো জানাজায় থাকতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে মহিলা গার্ড অফ অনার দেন, এ রকম একটি ব্যাপার আরকি…।’

শাজাহান খান বলেন, ‘বৈঠকে একটি প্রস্তাব এসেছে। মহিলার বিকল্প একজন পুরুষকে দিয়ে গার্ড অব অনার দেয়ার বিষয়টি এসেছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে এটা পরীক্ষা করে দেখতে বলেছি।’

এ বিষয়ে আমরাই পারি জোটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের মুক্তিযুদ্ধের অবদানকে অসম্মানিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এই একবিংশ শতাব্দীতে নারীর অগ্রগতির যুগে এই ধরনের সুপারিশ অত্যন্ত বিস্ময়কর এবং পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণায় পুষ্ট। স্পষ্টত এই সুপারিশ সংবিধান এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অচিরেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়চেতনাবিরোধী সুপারিশকে প্রত্যাহার করে সুপারিশকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং নারীসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?

পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন ৫৩ হাজারের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের কারও দাবি, ভুল করে এ ধরনের রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, কেউ কেউ দেখিয়েছেন বেপরোয়া মনোভাব।

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনি রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে দেশজুড়ে।

পরীমনির ওই পেজের ফলোয়ার ৯১ লাখের বেশি। তার আলোচিত ওই পোস্টে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। অনেকেই জানিয়েছেন ক্ষোভ, সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে এর মধ্যে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট পড়েছে ৫৩ হাজারের বেশি। এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য।

একজন নারী ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তোলার পর তাকে উপহাস করার এ ধরনের মানসিকতা নিয়েও আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সমাজ ও মনোবিশ্লেষকেরা বলছেন, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ তোলা নারীর পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্টকে বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের প্রকাশ। সেই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাগামহীন ব্যবহার উসকে দিচ্ছে মানসিক বিকৃতিকে।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তাদের কারও দাবি, ভুল করে এ ধরনের রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। আবার অনেকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন, কেউ কেউ দেখিয়েছেন বেপরোয়া মনোভাব।

পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন আশরাফ হোসেন নিপু। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হ্যাঁ, বিশেষ কারণেই দিয়েছি। যেহেতু বিশেষ কারণ তাই এটি সিক্রেট। বলব না।’

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পরীমনির পোস্ট

তার মন্তব্যটি প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে জানানো হলে নিপু জানান, এতে তার কোনো পরোয়া নেই। বরং প্রতিবেদনে যেন তার ছবি দিয়ে দেয়া হয়। এমনকি নিউজের লিংকও পাঠানোর অনুরোধ করেন নিপু।

আরিফুল ইসলাম অভি নামে একজন বলেন, ‘বিশেষ কোনো কারণ নাই, ইচ্ছা হয়েছে তাই হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছি। সাংবাদিকদের ডেকে এনে যে ভাবটা করতেছিল সেটা হাস্যকর লাগছে।’

পরীমনির পোস্টে সাংবাদিক কাহহার সামি হা হা রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন। এর যুক্তি দিয়ে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কিছু সাংবাদিক তার (পরীমনি) মনের মতো নিউজ না করায় এমন অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর তাই তার এমন অসহায়ত্বের অবস্থা দেখে হাসি পেল। হয়তো এটা তার জন্য শিক্ষা। তবে আমি চাই অপরাধীর বিচার হোক।’

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া অন্তত ২০ জনকে মেসেঞ্জারে টেক্সট করা হলেও তারা উত্তর দেননি। অনেকে আবার নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে কারণ জানার পর তাকে ব্লক করে দেন।

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
পরীমনির পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া অনেকেই বলছেন, তারা কোনো ভুল করেননি

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া কয়েকজন অবশ্য বলছেন, তারা ভুল করেছেন। এমন একজন আশাকুল ইসলাম তানজিল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এটা ভাবতেই পারি নাই যে সিরিয়াস ইস্যু। পড়ে দেখি এটা সিরিয়াস। তখন হা হা রিঅ্যাক্ট তুলে নিয়েছি।’

ওয়াজেদ আলী নামের একজন বলেন, ‘আমি প্রথমে বুঝিনি এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। ভেবেছি হয়তো কোনো সিনেমা বা এমন কিছু। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জেনে আমি হা হা রিঅ্যাক্ট সরিয়ে নিয়েছি।’

হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়া আফসানা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি না বুঝেই দিয়েছি আর এর জন্য আমি লজ্জিত। প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে আর একটা মাধ্যমে পড়ে যখন বুঝেছি, তখন আমি তা রিমুভ করে দিয়েছি।’

একজন মানুষ তার ওপর নিপীড়নের অভিযোগ তোলার পর তাকে উপহাসের মনস্তত্ত্ব জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে সমাজ ও মনোবিশ্লেষকদের সঙ্গে।

‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’-এর সমন্বয়ক জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে এখন এই গ্রুপের সংখ্যাটাই বেশি। আগে সংখ্যাটা এত বেশি ছিল না। আমরা দেখেছি এমন অনেকে ছিলেন, যারা নেতিবাচক ধারণা রাখলেও সেটা প্রকাশ করতে চাইতেন না। এর কারণ ছিল, তারা ভাবতেন যে আমি সাপোর্ট পাব কি না। তবে এখন সেটি বেড়ে গিয়েছে।’

জিনাত বলেন, ‘হা হা রিঅ্যাক্টের এত সংখ্যা দেখে অন্যরাও ভেবে নিয়েছেন তারা একা না। বরং পরীমনির সঙ্গে যারা এখন আছেন তারাই সমস্যায় পড়বেন কি না সেটি দেখার বিষয়। এর মানে, যারা ইতিবাচক তাদের সংখ্যা কমে গিয়েছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা এই অধিকারকর্মী বলেন, ‘কিছু মানুষ মনেই করতে থাকে এসব মেয়ে (অভিনয়শিল্পে জড়িতরা) এমন বা নারীর প্রতি এসব ঘটনা বানোয়াট। নারীরা খারাপ দেখেই এমন হয়, এটাও অনেকে মনে করেন। তারা বিনোদন দেখে, কিন্তু এটাকে যে একটা সম্মানজনক জায়গা হিসেবে দেখা বা পরীমনি যে সম্মানজনক জায়গায় আছেন- তিনিও যে ভালনারেবল হতে পারেন, এটা তারা ভাবে না।

‘নারীকে যেভাবে পুরুষ দেখতে চায়, ঠিক সেটির এক পা এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু তাকে কটাক্ষ করা হয়। আজ পরীমনি নায়িকা বলে তাকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। আবার এই যে মুনিয়া কেন এত টাকার ফ্ল্যাটে থাকবে সেটি নিয়েও কটাক্ষ করা হয়। কিন্তু এগুলো তো আলাদা বিষয়। এখানে যে অপরাধটা হয়েছে সেটির বিচার চাইতে হবে, করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন ও জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক মনে করেন, অনেকে না জেনে বা তথ্যগত ভুল ধারণার কারণেও এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসলে সব ক্ষেত্রে জেন্ডার ইস্যুটা বড় নয়। আমিও এমন শিকার হয়েছি। এখানে সত্য যে জিনিস সেটা দেখার বিষয় রয়েছে।

‘এখন অনেকেই না বুঝে প্রতিক্রিয়া দেখান। ঘটনার পেছনে আসলে কী সেটা জানা থাকে না। এখন ফেসবুক, ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বদৌলতে ছড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ঘটনা। সেখানে কে দোষী আর কে দোষী না, সেটা প্রমাণিত হওয়ার আগেই স্ট্যাটাস বা পোস্ট দেয়া হচ্ছে। এটা আগে বন্ধ করা দরকার।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘ধরেন আমার বিরুদ্ধে একটা সংবাদ হয়েছে। সেটি ছড়িয়ে পড়ছে। পরে যখন সেটা প্রমাণ হয় না বা বিস্তারিত আসে তখন আর কতজন এটা পড়ে?’

পরীমনির পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট কাদের?
ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন পরীমনি

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহফুজা খানমের মতে, এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার পেছনে বড় কারণ মূল্যবোধের পরিবর্তন।

মাহফুজা খানম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষের যে সহানুভূতি হয় সেটাকে আমরা ভ্যালুজ বলে থাকি। এটা মানুষের জীবনে অনেক দিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এটি পাস হয়। তবে আস্তে আস্তে এর পরিবর্তন হতে থাকে।

‘আমি যদি ৫০ বছর আগে আমাদের যে ভ্যালুজের সঙ্গে রিসেন্ট ভ্যালুজের কম্পেয়ার করি, তাহলে একটা পরিবর্তন দেখতে পাব। এই পরিবর্তনটা খুব আস্তে আস্তে হয়। এটি সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না। তেমন এটিও চেঞ্জ হচ্ছে। যে ভ্যালুজগুলোকে আমরা বেশি প্রাধান্য দিতাম সেটি এখন চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে।’

বর্তমান প্রজন্মে দুটি ভ্যালুজকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভ্যালুজকে বেশি প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এখন মা-বাবা দুজনেই চাকরি করছেন। ব্যস্ততা বেড়েছে। ছেলেমেয়েদের সময় দিতে পারছেন না। এই সমস্ত বিভিন্ন কারণে এমন হচ্ছে। যার কারণে ভ্যালুজটা এক জেনারেশন থেকে আরেক জেনারেশনে প্রবাহিত হচ্ছে না।’

মাহাফুজা খানম উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা স্টাডি করেছি। সেখানে দেখেছি যারা ইসলামিক ওয়েতে কাপড় পরেন বা সেগুলো লালন করেন, তাদের সেই ভ্যালুজ বেশি হয় কি না। তবে আমি কিন্তু তা পাইনি। তারা ওই বিষয়টি লালন করেন মানেই যে ওই ভ্যালুজ ধারণ করবেন তা নয়।’

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন

পুরুষ ছাড়াই হজের নিবন্ধন করতে পারবেন সৌদি নারীরা

পুরুষ ছাড়াই হজের নিবন্ধন করতে পারবেন সৌদি নারীরা

সৌদি আরবে হজের নিবন্ধন শুরু হয় রোববার দুপুর ১টার দিকে। ২৩ জুন রাত ১০টা পর্যন্ত নিবন্ধন করা যাবে। আগাম আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন না।

পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই এবারের হজে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন সৌদি আরবের নারীরা।

আরব নিউজের সোমবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে গত বছরের মতো এবারও সৌদি আরবের বাইরে কাউকে হজ করার অনুমতি দেয়া হয়নি। শনিবার দেশটির স্বাস্থ্য ও হজ মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, এ বছর কেবল ৬০ হাজার সৌদি মুসল্লি হজ করতে পারবেন।

৬০ হাজার মুসল্লি বেছে নিতে কিছু শর্ত বেঁধে দেয় সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ। হজে অংশগ্রহণকারীদের দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগ থাকা যাবে না।

বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে। হজের আগে করোনা প্রতিরোধী টিকা নেয়া লাগবে।

নির্দেশনার পরদিন রোববার দুপুর ১টার দিকে সৌদি আরবে হজের নিবন্ধন শুরু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ জুন রাত ১০টা পর্যন্ত নিবন্ধন করা যাবে। আগাম আবেদনকারীরা কোনো অগ্রাধিকার পাবেন না।

সৌদি সরকার ৩ হাজার ২৩০ ডলার থেকে শুরু করে ৪ হাজার ৪২৬ ডলার মূল্যের তিনটি প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে।

দেশটির হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়, হজের সময় পবিত্র স্থানে মুসল্লিদের পরিবহনে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি বাসে সর্বোচ্চ ২০ জন থাকতে পারবেন।

মিনায় মুসল্লিদের প্রতিদিন তিন বেলা এবং আরাফাতে সকাল ও দুপুরের খাবার দেয়া হবে। মুজদালিফায় মুসল্লিরা রাতের খাবার পাবেন। পানীয়সহ অন্যান্য খাবার পাওয়া যাবে। তবে মক্কার বাইরে থেকে মুসল্লিরা খাবার আনতে পারবেন না।

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন

কানাডায় ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিমদের দাফন

কানাডায় ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিমদের দাফন

কানাডার ওন্টারিও লন্ডন শহরে ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিম পরিবারের জানাজা ও দাফন হয় শনিবার। ছবি: এএফপি

কানাডার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন সামনে রেখে নামাজ পড়েন স্থানীয় মুসলিমরা। এতে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাজা বশির তারার।

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে শোকাবহ পরিবেশে সমাহিত হলেন বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাক হামলায় নিহত মুসলিম পরিবারের চার সদস্য।

লন্ডনের একটি ইসলামিক সেন্টারের বাইরে স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে তাদের জানাজায় অংশ নেন কয়েক শ মুসল্লি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি নেয়া হয়।

এ সময় সিবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে লন্ডনের মেয়র এড হোল্ডার বলেন, ‘শোক প্রকাশের ভাষা নেই আমাদের। একটি পরিবারের তিনটি প্রজন্মের মানুষের এভাবে হারিয়ে যাওয়া ভীষণ হৃদয়বিদারক। অপূরণীয় এ ক্ষতি উপলব্ধির চেষ্টা করছি আমরা।’

গত ৬ জুন সন্ধ্যায় লন্ডনের হাইড পার্কের কাছে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাক হামলায় প্রাণ হারান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পরিবারটির চার সদস্য। বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য ৯ বছরের এক ছেলেশিশু হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

এরপরই কানাডার জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন সামনে রেখে নামাজ পড়েন স্থানীয় মুসলিমরা।

এতে উপস্থিত ছিলেন কানাডায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাজা বশির তারার।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় পুরো পাকিস্তান শোকস্তব্ধ। আক্রোশের বশবর্তী হয়ে হাস্যোজ্জ্বল একটি পরিবারের ওপর এমন হামলায় আমাদের মন কাঁদছে। কঠিন এই সময়ে পরিবারটির পাশে আছে পুরো জাতি।’

পরে পরিবারটির আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধুবান্ধবদের উপস্থিতিতে সীমিত আকারে আলাদা জানাজা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মবিশ্বাসের কারণেই হামলার লক্ষ্য হয় পরিবারটি। তাদের সঙ্গে ঘাতক ট্রাকচালকের কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিলেও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কানাডায় বাড়তে থাকা মুসলিমবিদ্বেষ ও ইসলামভীতির মূলোৎপাটনের ডাক উঠেছে অভিবাসীবান্ধব দেশটির সর্বস্তরে।

এ লক্ষ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে পার্লামেন্টের হাউস অফ কমন্সে শুক্রবার একটি প্রস্তাব পাস হয়। এর ফলে জুলাই মাসের শেষ দিকে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন হবে। এতে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় ও সব প্রদেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ, আইনপ্রণেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।

কানাডার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা চলতি বছরের মার্চে জানিয়েছে, ২০১৯ সালে মুসলমানদের ওপর ১৮১টি হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করে পুলিশ। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬৬। কেবল ধর্মপরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হন তারা।

তবে কানাডার ইতিহাসে মুসলমানদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। কিউবেকের একটি মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করে ঘাতক।

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন

মুসলিমবিদ্বেষ রোধে তৎপর কানাডার আইনপ্রণেতারা

মুসলিমবিদ্বেষ রোধে তৎপর কানাডার আইনপ্রণেতারা

কানাডার হাউজ অফ কমন্সে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ফাইল ছবি

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় ৬ জুন সন্ধ্যায় একটি মুসলমান পরিবারের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাকহামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাউস অফ কমন্সে শুক্রবার উপস্থাপিত প্রস্তাবটির ওপর ভোট হয়। সব দলের আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিতে অনুমোদন পায় প্রস্তাবটি।

কানাডায় ইসলামভীতি ও মুসলিম বিদ্বেষ ঠেকাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। এ লক্ষ্যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

এ প্রস্তাব পাস হওয়ায় জুলাইয়ের শেষের দিকে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন হবে। এতে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় ও সব প্রদেশের শীর্ষ রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।

জাতীয় ওই সম্মেলনের বিষয়ে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গ্লোবাল নিউজ কানাডার প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাউস অফ কমন্সে শুক্রবার উপস্থাপিত প্রস্তাবটির ওপর ভোট হয়েছে। সব দলের আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিতে অনুমোদন পায় প্রস্তাবটি।

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় ৬ জুন সন্ধ্যায় একটি মুসলমান পরিবারের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাকহামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলো এ পদক্ষেপ।

ওই হামলায় প্রাণ গেছে একই পরিবারের চার সদস্যের। বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য ৯ বছরের ছেলেশিশু হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মবিশ্বাসের কারণেই হামলার লক্ষ্য হয় পরিবারটি। তাদের সঙ্গে ট্রাকচালকের কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না।

ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। একই অভিযোগে নিন্দা জানিয়েছেন ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাউগ ফোর্ড ও কানাডার মুসলমানদের সংগঠন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস।

কিন্তু এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে।

এর আগে কানাডায় ইহুদিবিরোধিতার বিরুদ্ধেও একটি সম্মেলনের পরিকল্পনার কথা জানায় দেশটির সরকার।

মুসলিমবিদ্বেষের পাশাপাশি গত কয়েক মাসে কানাডায় ইহুদিদের ওপরও আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা বেড়েছে।

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক জাহিদ কুরাইশি। ছবি: টুইটার

কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জাহিদ কুরাইশি।

তার এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে ২৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক পেল দেশটি।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গৃহীত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। সে সময় থেকে ধরলে আগামী ৪ জুলাই ২৪৫ বছর হবে দেশটির।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই মনোনীত করেছেন রাটগার্স ল’ স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা কুরাইশিকে। এরপর চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৬৫ ভোটের ব্যবধানে ফেডারেল বিচারক হিসেবে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

কুরাইশিকে নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮১ জন আইনপ্রণেতা; বিপক্ষে ছিলেন ১৬ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে দেশটির অভিবাসন ও শুল্কবিষয়ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (আইস) সঙ্গে কাজ করেছেন কুরাইশি। ইরাক যুদ্ধে অবদানের জন্যও ব্যাপক সমালোচিত তিনি।

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) চলতি বছরের এপ্রিলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে কুরাইশির পেশাজীবনের অতীত নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।

এ বিষয়ে সিএআইআরের সরকারি সিদ্ধান্তবিষয়ক বিভাগের পরিচালক রবার্ট ম্যাকাও বলেন, ‘বিচারক কুরাইশির অতীত কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সিএআইআর। ইরাকযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল। সে সময় বন্দিদের আটকবিষয়ক আইনি পরামর্শ দিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেছিলেন কুরাইশি।

‘বুশ প্রশাসনের মেয়াদের শেষ বছরে আইসের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। যুক্ত ছিলেন অভিবাসীবিরোধী সিদ্ধান্তের সঙ্গে।’

রবার্ট ম্যাকাও আরও বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এখন না কুরাইশি নিজে কোনো কথা বলছেন, না হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস থেকে কিছু বলা হচ্ছে। খুব সচেতনভাবে কুরাইশির অতীত কর্মজীবন এখন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

‘কুরাইশির প্রতি এ বিষয়গুলো নিয়ে জবাবদিহির আহ্বান জানাচ্ছে সিএআইআর। একই সঙ্গে মুসলমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকারের সমতা নিশ্চিতে বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানাচ্ছি।’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কুরাইশির জন্মও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে।

আইন পাস করার পর ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ইরাকে সামরিক কৌঁসুলি হিসেবে দুইবার নিয়োগ পান কুরাইশি। সেনাবাহিনীতে ‘ক্যাপ্টেন’ পদমর্যাদাও দেয়া হয় তাকে।

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার দৃশ্য ধারণ করার সময় ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার (ডান থেকে তৃতীয়, নীল ট্রাউজার পরিহিত)। ছবি: এপি

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার। পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ভিডিও করা কিশোরী ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার পেলেন পুলিৎজার সম্মাননা।

পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশেরই নির্মমতার ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেলেন কৃষ্ণাঙ্গ এই কিশোরী।

পুলিৎজার বোর্ড শুক্রবার ডার্নেলা ফ্রেজিয়ারকে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বড় সম্মাননা এটি। সংবাদমাধ্যম, ম্যাগাজিন, অনলাইন সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত আর নাটকেও অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেয়া হয় পুরস্কার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার সময় ১৭ বছর বয়স ছিল ফ্রেজিয়ারের।

রাস্তার ওপর ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনা নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেছিলেন ফ্রেজিয়ার। এরপর সেটি অনলাইনে ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্য তৈরি হয় সারা বিশ্বে।

সবচেয়ে উন্নত বলে স্বীকৃত রাষ্ট্রে এমন ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরের এ ঘটনার জেরে সৃষ্ট ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ বিক্ষোভ পরে রূপ নেয় বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী গণ-আন্দোলনে।

এর জেরে বিচারের আওতায় নেয়া হয় মূল অভিযুক্ত ডেরেক শভিনকে, দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। বহিষ্কার করা হয় শভিনসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত চার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যেককে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে এসবই নজিরবিহীন। এমনকি এর ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের আওয়াজ ওঠে দেশটির পুলিশ প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও।

ফ্রেজিয়ারের ধারণ করা ৯ মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছিল, ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ফ্লয়েডের ঘাড়ে ৯ মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। একপর্যায়ে দম আটকে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার।

পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া এ ভিডিও ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে আলোচনায় আনলেও গত এক বছরে ফ্রেজিয়ার নিজে কখনো আলোচনায় আসেননি।

চলতি বছর শভিনের বিচার শুনানির সময় আদালতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও আদালতে যতবার চালানো হয়েছে, প্রতিবারই চোখ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন ফ্লয়েডের পরিবারের সদস্যরা।

বিচারকদের ফ্রেজিয়ার জানান, নাশতা কিনতে দোকানে যাওয়ার পথে ‘আতঙ্কিত এক ব্যক্তিকে প্রাণভিক্ষার আকুতি জানাতে’ দেখেন তিনি। সে সময় নিজের সঙ্গে থাকা ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করেন। সেই রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেটি প্রকাশ করেন।

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দেখেছে সে ভিডিও।

ফ্লয়েড হত্যায় দোষী সাব্যস্ত শভিনের বিরুদ্ধে আগামী ২৫ জুন শাস্তি ঘোষণা করবে আদালত।

পুরস্কৃত হওয়ার বিষয়ে ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশের কঠোর হওয়া এতই নিয়মিত যে ফ্রেজিয়ারের ভিডিওটি ভাইরাল না হলে ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও হয়তো জায়গা পেত না।

পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা বলিষ্ঠ করতে সাধারণ নাগরিক হয়েও ফ্রেজিয়ার যে ভূমিকা রেখেছেন’, তা সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।

এর আগে ২০২০ সালে ভিডিওটির জন্য পেন আমেরিকার বেনেনসন কারেজ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ফ্রেজিয়ার।

আরও পড়ুন:
গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা
লিথুয়ানিয়া-সার্বিয়ায় জেন্ডার বৈষম্য কমেছে
ইন্দোনেশীয় ভাষায় রুমির নারী-জেন্ডার সমতা নিয়ে ভাবনা
জেন্ডার রিভিল পার্টির বিস্ফোরণে কাঁপল নিউ হ্যাম্পশায়ার
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না

শেয়ার করুন