‘ইসলাম ম্যাপ’ নিয়ে উত্তেজনা, ক্ষুব্ধ-আতঙ্কিত অস্ট্রিয়ার মুসলমানরা

অস্ট্রিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রাজ শহরের একটি মসজিদ। ছবি: এএফপি

‘ইসলাম ম্যাপ’ নিয়ে উত্তেজনা, ক্ষুব্ধ-আতঙ্কিত অস্ট্রিয়ার মুসলমানরা

অস্ট্রিয়ায় অবস্থিত ৬২০টির বেশি মসজিদ, মুসলমানদের সমিতি, মুসলমান নেতা-কর্মকর্তাদের নাম, দেশ-বিদেশে সম্ভাব্য শাখা-প্রশাখার নাম ও অবস্থান চিহ্নিত করে চলতি সপ্তাহে একটি ওয়েবসাইট চালু করে অস্ট্রিয়া সরকার।

অস্ট্রিয়ায় মসজিদসহ মুসলমানদের বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক স্থাপনার মানচিত্র প্রকাশের ঘটনায় তোপের মুখে পড়েছে দেশটির সরকার। সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে মুসলমানদের সংগঠন মুসলিম ইয়ুথ অস্ট্রিয়া।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জের বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।

অস্ট্রিয়ার ইন্টিগ্রেশন মিনিস্টার সুজানে রাব ২৮ মে ‘ন্যাশনাল ম্যাপ অফ ইসলাম’ নামের একটি ওয়েবসাইট চালু করেন।

অস্ট্রিয়ায় অবস্থিত ৬২০টির বেশি মসজিদ, মুসলমানদের সমিতি, মুসলমান নেতা-কর্মকর্তাদের নাম, দেশ-বিদেশে তাদের সংগঠনের সম্ভাব্য শাখা-প্রশাখার নাম ও অবস্থান প্রকাশ করা হয় ওয়েবসাইটটিতে।

একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইসলামিক মানচিত্র’ আখ্যা দিয়েছে মুসলিম ইয়ুথ অস্ট্রিয়া।

শনিবার সংগঠনটির উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, ‘মুসলমানদের সব প্রতিষ্ঠান এবং মুসলমানদের সঙ্গে যেকোনোভাবে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম, ঠিকানা ও কার্যাবলি প্রকাশ করার ঘটনা নজিরবিহীন। এর মাধ্যমে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে সরকার।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের ইসলামবিরোধী এমন পদক্ষেপের ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেছেন অস্ট্রিয়ায় মুসলমানরা।

ভিয়েনাকে সতর্ক করে ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া- আইজিজিওই নামের একটি সংগঠন বলেছে, সরকারের এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে অস্ট্রিয়ার মুসলমানদের সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি হিসেবেও দেখানো হয়েছে তাদের।

এ পদক্ষেপে মুসলমানদের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও অভিযোগ আইজিজিওইর।

এই মানচিত্র প্রকাশের ঘটনায় সরকারের ভেতরেই চাপের মুখে পড়েছেন চ্যান্সেলর কুর্জ।

বিভেদ তৈরি হয়েছে কুর্জের রক্ষণশীল দল অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি ও জোট সরকারের অপর দল অস্ট্রিয়ান গ্রিন পার্টির মধ্যে।

গ্রিন পার্টির মুখপাত্র ফাইকা আল-নাগাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে লিখেছেন, কুর্জ প্রশাসনের এই পদক্ষেপের সঙ্গে গ্রিন পার্টির কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা ছিল না এবং তাদের কাউকে এ বিষয়ে কিছু জানানোও হয়নি।

এ ধরনের পদক্ষেপ একীভূত সমাজব্যবস্থার পরিপন্থি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অস্ট্রিয়া সরকারের এমন পদক্ষেপে উদ্বেগ জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশগুলো।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘অস্ট্রিয়ায় সামাজিক সংহতি ও সবার অংশগ্রহণমূলক সমাজব্যবস্থার মধ্যে সরকারের এই পদক্ষেপ দেশটিতে জাতিবিদ্বেষ, বৈষম্য ও ইসলাম বিরোধের বিষ ঢুকিয়ে দিল।’

মুসলমান ও অভিবাসীদের পৃথক করে দেখানোর এই মানসিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতেও ভিয়েনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জার্মানিও। ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির অন্যতম শীর্ষ ধর্মযাজক বিশপ মিখাইল শালুপকা।

ভিয়েনায় গত বছরের নভেম্বরে এক বন্দুকধারীর হামলায় চারজন নিহতের ঘটনার পর থেকেই চাপে রয়েছে অস্ট্রিয়ার মুসলমানরা।

হামলাকারী আলবেনিয়ান বংশোদ্ভূত ২০ বছরের তরুণ কুজতিম ফেজুল্লাই সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দেয়ার অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার এক বছরের মাথায় হামলা চালান তিনি। পুলিশের পাল্টা অভিযানে নিহত হন।

ওই ঘটনার পর থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি কঠোর হয় অস্ট্রিয়ার সরকার। শুধু নভেম্বরেই দেশজুড়ে ৬০টির বেশি অভিযান চালানো হয়েছিল মুসলমানদের বাড়িঘরে।

খ্রিষ্টান অধ্যুষিত অস্ট্রিয়ায় প্রায় আট লাখ মুসলমানের বাস, যা দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর আট শতাংশ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মুসলিমবিদ্বেষ রোধে তৎপর কানাডার আইনপ্রণেতারা

মুসলিমবিদ্বেষ রোধে তৎপর কানাডার আইনপ্রণেতারা

কানাডার হাউজ অফ কমন্সে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ফাইল ছবি

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় ৬ জুন সন্ধ্যায় একটি মুসলমান পরিবারের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাক হামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাউজ অফ কমন্সে শুক্রবার উপস্থাপিত প্রস্তাবটির ওপর ভোট হয়। সব দলের আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিতে অনুমোদন পায় প্রস্তাবটি।

কানাডায় ইসলামভীতি ও মুসলিমবিদ্বেষ ঠেকাতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা। এ লক্ষ্যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ কমন্সে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে।

এ প্রস্তাব পাস হওয়ায় জুলাইয়ের শেষের দিকে এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন হবে। এতে অংশ নেবেন কেন্দ্রীয় ও সব প্রদেশের শীর্ষ রাজনীতিক, আইনপ্রণেতা ও সরকারি কর্মকর্তারা।

জাতীয় ওই সম্মেলনের বিষয়ে কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গ্লোবাল নিউজ কানাডার প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাউজ অফ কমন্সে শুক্রবার উপস্থাপিত প্রস্তাবটির ওপর ভোট হয়েছে। সব দলের আইনপ্রণেতাদের সর্বসম্মতিতে অনুমোদন পায় প্রস্তাবটি।

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় ৬ জুন সন্ধ্যায় একটি মুসলমান পরিবারের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত ট্রাক হামলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এলো এ পদক্ষেপ।

ওই হামলায় প্রাণ গেছে একই পরিবারের চার সদস্যের। বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য ৯ বছরের ছেলেশিশু হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ধর্মবিশ্বাসের কারণেই হামলার লক্ষ্য হয় পরিবারটি। তাদের সঙ্গে ট্রাকচালকের কোনো পূর্বপরিচয় ছিল না।

ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। একই অভিযোগে নিন্দা জানিয়েছেন ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাউগ ফোর্ড ও কানাডার মুসলমানদের সংগঠন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস।

কিন্তু এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যানের বিরুদ্ধে।

এর আগে কানাডায় ইহুদিবিরোধিতার বিরুদ্ধেও একটি সম্মেলনের পরিকল্পনার কথা জানায় দেশটির সরকার।

মুসলিমবিদ্বেষের পাশাপাশি গত কয়েক মাসে কানাডায় ইহুদিদের ওপরও আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা বেড়েছে।

শেয়ার করুন

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

২৪৪ বছরে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক জাহিদ কুরাইশি। ছবি: টুইটার

কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জাহিদ কুরাইশি।

তার এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে ২৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান ফেডারেল বিচারক পেল দেশটি।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে গৃহীত হয় স্বাধীনতার ঘোষণা। সে সময় থেকে ধরলে আগামী ৪ জুলাই ২৪৫ বছর হবে দেশটির।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কুরাইশির নিয়োগে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে। উদ্বেগ জানিয়েছে দেশটিতে মুসলমান নাগরিকদের অধিকারবিষয়ক সংগঠন সিএআইআর।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজেই মনোনীত করেছেন রাটগার্স ল’ স্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা কুরাইশিকে। এরপর চলতি সপ্তাহে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ৬৫ ভোটের ব্যবধানে ফেডারেল বিচারক হিসেবে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।

কুরাইশিকে নিয়োগের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮১ জন আইনপ্রণেতা; বিপক্ষে ছিলেন ১৬ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলে দেশটির অভিবাসন ও শুল্কবিষয়ক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর (আইস) সঙ্গে কাজ করেছেন কুরাইশি। ইরাক যুদ্ধে অবদানের জন্যও ব্যাপক সমালোচিত তিনি।

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) চলতি বছরের এপ্রিলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে কুরাইশির পেশাজীবনের অতীত নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়।

এ বিষয়ে সিএআইআরের সরকারি সিদ্ধান্তবিষয়ক বিভাগের পরিচালক রবার্ট ম্যাকাও বলেন, ‘বিচারক কুরাইশির অতীত কর্মজীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন সিএআইআর। ইরাকযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল। সে সময় বন্দিদের আটকবিষয়ক আইনি পরামর্শ দিয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে কাজ করেছিলেন কুরাইশি।

‘বুশ প্রশাসনের মেয়াদের শেষ বছরে আইসের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। যুক্ত ছিলেন অভিবাসীবিরোধী সিদ্ধান্তের সঙ্গে।’

রবার্ট ম্যাকাও আরও বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে এখন না কুরাইশি নিজে কোনো কথা বলছেন, না হোয়াইট হাউস বা কংগ্রেস থেকে কিছু বলা হচ্ছে। খুব সচেতনভাবে কুরাইশির অতীত কর্মজীবন এখন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

‘কুরাইশির প্রতি এ বিষয়গুলো নিয়ে জবাবদিহির আহ্বান জানাচ্ছে সিএআইআর। একই সঙ্গে মুসলমানসহ যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিকের অধিকারের সমতা নিশ্চিতে বিচারক হিসেবে তার দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান জানাচ্ছি।’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কুরাইশির জন্মও যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে। বেড়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে।

আইন পাস করার পর ২০০৪ ও ২০০৬ সালে ইরাকে সামরিক কৌঁসুলি হিসেবে দুইবার নিয়োগ পান কুরাইশি। সেনাবাহিনীতে ‘ক্যাপ্টেন’ পদমর্যাদাও দেয়া হয় তাকে।

শেয়ার করুন

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

পুলিৎজার পেলেন ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও করা কিশোরী

২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার দৃশ্য ধারণ করার সময় ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার (ডান থেকে তৃতীয়, নীল ট্রাউজার পরিহিত)। ছবি: এপি

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার। পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য ভিডিও করা কিশোরী ডার্নেলা ফ্রেজিয়ার পেলেন পুলিৎজার সম্মাননা।

পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশেরই নির্মমতার ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেলেন কৃষ্ণাঙ্গ এই কিশোরী।

পুলিৎজার বোর্ড শুক্রবার ডার্নেলা ফ্রেজিয়ারকে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত করে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতায় সবচেয়ে বড় সম্মাননা এটি। সংবাদমাধ্যম, ম্যাগাজিন, অনলাইন সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত আর নাটকেও অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেয়া হয় পুরস্কার।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২০ সালের ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার সময় ১৭ বছর বয়স ছিল ফ্রেজিয়ারের।

রাস্তার ওপর ফ্লয়েডকে হত্যার ঘটনা নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেছিলেন ফ্রেজিয়ার। এরপর সেটি অনলাইনে ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে চাঞ্চল্য তৈরি হয় সারা বিশ্বে।

সবচেয়ে উন্নত বলে স্বীকৃত রাষ্ট্রে এমন ঘটনায় ফুঁসে উঠেছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনেপোলিস শহরের এ ঘটনার জেরে সৃষ্ট ‘ব্ল্যাক লাইফ ম্যাটার্স’ বিক্ষোভ পরে রূপ নেয় বিশ্বব্যাপী বর্ণবাদবিরোধী গণ-আন্দোলনে।

এর জেরে বিচারের আওতায় নেয়া হয় মূল অভিযুক্ত ডেরেক শভিনকে, দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। বহিষ্কার করা হয় শভিনসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত চার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যেককে।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে এসবই নজিরবিহীন। এমনকি এর ধারাবাহিকতায় পরিবর্তনের আওয়াজ ওঠে দেশটির পুলিশ প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও।

ফ্রেজিয়ারের ধারণ করা ৯ মিনিটের বেশি সময়ের ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছিল, ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ফ্লয়েডের ঘাড়ে ৯ মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। একপর্যায়ে দম আটকে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতার বাইরে নিতান্ত অনভিজ্ঞ কারও তোলা ছবি বা ভিডিওতে পুলিৎজারের স্বীকৃতি বিরল ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকতা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় এ স্বীকৃতি পেয়েছেন বর্তমানে ১৮ বছর বয়সী ফ্রেজিয়ার।

পুলিৎজার বোর্ডের সহসভাপতি মিন্ডি মার্কেজ অনলাইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেন, ফ্রেজিয়ারের ধারণকৃত ভিডিওটি সমাজে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। দর্শকদের নাড়া দিয়েছে ভিডিওটি। বিশ্বব্যাপী পুলিশের নির্মমতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছে এটি।

বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া এ ভিডিও ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডকে আলোচনায় আনলেও গত এক বছরে ফ্রেজিয়ার নিজে কখনো আলোচনায় আসেননি।

চলতি বছর শভিনের বিচার শুনানির সময় আদালতে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ফ্লয়েড হত্যার ভিডিও আদালতে যতবার চালানো হয়েছে, প্রতিবারই চোখ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন ফ্লয়েডের পরিবারের সদস্যরা।

বিচারকদের ফ্রেজিয়ার জানান, নাশতা কিনতে দোকানে যাওয়ার পথে ‘আতঙ্কিত এক ব্যক্তিকে প্রাণভিক্ষার আকুতি জানাতে’ দেখেন তিনি। সে সময় নিজের সঙ্গে থাকা ফোন বের করে ভিডিও ধারণ করেন। সেই রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেটি প্রকাশ করেন।

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দেখেছে সে ভিডিও।

ফ্লয়েড হত্যায় দোষী সাব্যস্ত শভিনের বিরুদ্ধে আগামী ২৫ জুন শাস্তি ঘোষণা করবে আদালত।

পুরস্কৃত হওয়ার বিষয়ে ফ্রেজিয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে সংখ্যালঘু কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশের কঠোর হওয়া এতই নিয়মিত যে ফ্রেজিয়ারের ভিডিওটি ভাইরাল না হলে ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও হয়তো জায়গা পেত না।

পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা বলিষ্ঠ করতে সাধারণ নাগরিক হয়েও ফ্রেজিয়ার যে ভূমিকা রেখেছেন’, তা সারা বিশ্বের জন্য উদাহরণ।

এর আগে ২০২০ সালে ভিডিওটির জন্য পেন আমেরিকার বেনেনসন কারেজ অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ফ্রেজিয়ার।

শেয়ার করুন

নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির

নারী পরিচালকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা বিজেপির

চলচ্চিত্র পরিচালক আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা করেছে বিজেপি। ছবি: দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

লাক্ষাদ্বীপের বিজেপির প্রধান সংগঠক সি আব্দুল কাদের হাজি থানায় আয়েশার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মন্তব্য করার অভিযোগ করেন। তার দাবি, আয়েশার মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রশাসকের সমালোচনা করায় দেশদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে নারী চলচ্চিত্র পরিচালকের বিরুদ্ধে।

সংবাদমাধ্যমে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসকের সমালোচনা ও করোনাকে ‘জৈব অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলতেই চলচ্চিত্র পরিচালক আয়েশা সুলতানার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করার অভিযোগ আনল লাক্ষাদ্বীপের বিজেপি শাখা।

আয়েশার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহ মামলার তীব্র নিন্দা করেছে লাক্ষাদ্বীপের সাহিত্য পরিবর্তক সংঘ।

সম্প্রতি লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসক প্রফুল্ল খোড়া পটেলের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছিলেন একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে গোটা নেটমাধ্যম। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ।

উন্নয়নের নামে জোর করে গুণ্ডা দমন আইন চাপিয়ে দেয়া, গো-মাংস নিষিদ্ধ করা, মদ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ময়দানে নামেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

লাক্ষাদ্বীপের বাসিন্দা আয়েশা সম্প্রতি একটি মালয়লম সংবাদমাধ্যমে বিতর্ক সভায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘সংক্রমণের শুরুর দিকে লাক্ষাদ্বীপে একজনও করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। এখন প্রতিদিনই ১০০ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে করোনাকে জৈব অস্ত্র হিসেবে পাঠানো হয়েছে।’

আয়েশার ওই মন্তব্যের পর বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা পথে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

লাক্ষাদ্বীপের বিজেপির প্রধান সংগঠক সি আব্দুল কাদের হাজি থানায় আয়েশার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মন্তব্য করার অভিযোগ করেন। তার দাবি, আয়েশার মন্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।

দেশদ্রোহিতার মামলা হওয়ার পর আয়েশা ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ করা হয়েছে। আমি বলতে চাই, সত্যের জয় হবেই। আমি যেখানে জন্মেছি, সেই মাটির জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

এদিকে আয়েশার বিরুদ্ধে অভিযোগের পর বিজেপির সমালোচনা শুরু হয়। কংগ্রেস নেতা শশী থারুর টুইটবার্তায় লেখেন, দেশদ্রোহী শব্দের অপব্যবহার করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন

শিনজিয়াংয়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে চীন

শিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের নিন্দা জানিয়ে ইস্তাম্বুলে চীনের কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দিশিবিরে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ড (নির্যাতন, নিপীড়ন, কারাবাস) সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলমান সংখ্যালঘুর উপর চীন গুরুতর মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে শিনজিয়াং নিয়ে ১৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন হাজির করে অ্যামনেস্টি। সেখানে এই মন্তব্য করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিনজিয়াংয়ে উইঘুর, কাজাখসহ অন্যান্য মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর গণ আটক, নজরদারি ও নির্যাতন চালাচ্ছে চীন। এসব বিষয় তদন্তে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানায় মানবাধিকার সংস্থাটি।

শিনজিয়াং প্রদেশে ‘বিভীষিকাময় পরিস্থিতি’ সৃষ্টির জন্য চীনা কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আনিয়েস ক্যালামার্দ।

তিনি বলেন, ‘শিনজিয়াংয়ে বন্দি শিবিরে বিপুল সংখ্যক মানুষ মগজ ধোলাই, নির্যাতন ও অন্যান্য অবমাননাকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া শিবিরের বাইরে লাখ লাখ মানুষ ব্যাপক নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওখানকার বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতি মানবতার বিবেকে ধাক্কা দেয়া উচিত।’

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বিরুদ্ধে ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনেন অ্যামনেস্টির মহাসচিব ক্যালামার্দ।

ক্যালামার্দ বিবিসিকে বলেন, ‘শিনজিয়াং পরিস্থিতির নিন্দা জানাননি গুতেরেস। আন্তর্জাতিক তদন্তেরও আহ্বান জানাননি তিনি।

‘মানবিক মূল্যবোধের সুরক্ষা নিশ্চিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ। সে হিসেবে শিনজিয়াং নিয়ে কথা বলা সংস্থাটির মহাসচিবের দায়িত্ব। মানবতবিরোধী অপরাধের ঘটনায় চুপ করে থাকা তাকে মানায় না।’

শিনজিয়াং শিবিরের ৫৫ সাবেক বন্দির সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে বলা হয়, বন্দিশিবিরে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি পরিপন্থি কর্মকাণ্ড (নির্যাতন, নিপীড়ন, কারাবাস) সংঘটনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এর আগে এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনেও অ্যামনেস্টির মতো প্রায় একই বক্তব্য উঠে আসে। শিনজিয়াংয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য চীনের সরকারকে দায়ী করে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনের লেখক জোনাথান লোয়েব বলেন, গণহত্যা অপরাধের সব প্রমাণ প্রতিবেদনে হাজির হয়নি। এটিতে কেবল ভয়াবহতার সামান্য অংশই প্রকাশ হয়েছে।

শিনজিয়াং প্রদেশে ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া লাখ লাখ উইঘুরসহ অন্যান্য মুসলমানদের শিবিরে আটকে রেখে চীন সরকারের নির্যাতন চালানোর বিষয়ে একমত বিশেষজ্ঞরা।

তবে এসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে চীন। দেশটির ভাষ্য, ঐচ্ছিক কারিগরী শিক্ষা দেয়া হয় শিবিরে। পাশাপাশি সেখানে সন্ত্রাসবাদ ঠেকাতে মৌলবাদ নির্মূলকরণ কর্মসূচিও পরিচালনা করা হয়।

শেয়ার করুন

মুসলমান হত্যা: গ্রেপ্তারের সময় ট্রাকচালকের উল্লাস

মুসলমান হত্যা: গ্রেপ্তারের সময় ট্রাকচালকের উল্লাস

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে মুসলমানবিদ্বেষী হামলায় নিহতদের প্রতি মঙ্গলবারের শোক কর্মসূচিতে যোগ দেন সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: এএফপি

লন্ডন ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, লন্ডনের কাছেই স্ট্যাথ্রয় এলাকায় ডিম প্যাকেটজাত করার একটি কারখানার খণ্ডকালীন কর্মী ছিলেন ভেল্টম্যান। লন্ডনের যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানকার অন্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাত পর্যন্ত ভেল্টম্যানের ভিডিও গেমস খেলার জোরালো আওয়াজ শুনতে পেতেন তার প্রতিবেশীরা।

কানাডায় ট্রাক তুলে দিয়ে চার মুসলমানকে হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় শুনানির জন্য আদালতে হাজিরা দেয়ার অপেক্ষায় চালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যান।

২০ বছরের ছেলের এ অপকর্মে হতবাক অভিযুক্তের বাবা মার্ক ভেল্টম্যান।

ই-মেইলে তিনি লিখেছেন, ‘বর্ণনার অযোগ্য এ অপরাধের সঙ্গে আমার ছেলের জড়িত থাকার খবরে আমি স্তম্ভিত, শংকিত। কতটা দুঃখ পেয়েছি, তা বলে বোঝানোর ভাষা আমার জানা নেই।

‘বোধশক্তিহীন এ আচরণের ভুক্তভোগীদের সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছু বলার নেই আমার।’

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বেশির ভাগই এখন প্রকাশ করবে না পুলিশ।

তবে অভিযুক্ত ভেল্টম্যান নিহতদের আগে থেকে না চিনলেও মুসলমান বুঝতে পেরেই ইচ্ছা করে ওই হামলা চালান বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে লন্ডন পুলিশের প্রধান স্টিভ উইলিয়ামস বলেন, ‘আমাদের কোনো কথা বা কাজে যেন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিতে তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভেল্টম্যানের অ্যাকাউন্টটি মুছে দেয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থায় ভেল্টম্যানের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে খুব সামান্যই প্রকাশ পেয়েছে।

লন্ডন ফ্রি প্রেস জানিয়েছে, লন্ডনের কাছেই স্ট্যাথ্রয় এলাকায় ডিম প্যাকেটজাত করার একটি কারখানার খণ্ডকালীন কর্মী ছিলেন ভেল্টম্যান।

লন্ডনের যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন, সেখানকার অন্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গভীর রাত পর্যন্ত ভেল্টম্যানের ভিডিও গেমস খেলার জোরালো আওয়াজ শুনতে পেতেন তার প্রতিবেশীরা।

মুসলমানদের ওপর ভেল্টম্যানের ক্ষোভের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিদ্বেষপ্রসূত হামলা নিশ্চিত হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো ‘হেইট গ্রুপের’ সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পায়নি পুলিশ।

পুলিশের হেফাজতে ভেল্টম্যান নিরাপদে আছেন জানালেও তার ছবি প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পুলিশ।

ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় গত রোববার সন্ধ্যার ওই হামলায় নিহত হন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের চার সদস্য। সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হন তারা।

পরিবারটির বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য, ৯ বছরের একটি ছেলেশিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

হামলা চালানোর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে একটি শপিং মলের পার্কিং লট থেকে আটক ও গ্রেপ্তার হন ঘাতক ট্রাকচালক।

সে সময় ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তাকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ট্যাক্সিচালকের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্যাক্সি ভাড়া দেয়া একটি প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট হাসান সাভেহিলাঘি।

লন্ডন সিটিভি নিউজের প্রতিবেদনে সাভেহিলাঘির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ভেল্টম্যানের পিক-আপ ট্রাকটির সামনের দিক ভেঙেচুরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে রক্তের দাগ লেগে ছিল।

সাভেহিলাঘি বলেন, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে যখন ভেল্টম্যানকে ট্রাক থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে আনছিল পুলিশ, তিনি হাসছিলেন, উল্লাস করছিলেন, অপমানসূচক কথাবার্তা বলছিলেন। চিৎকার করে স্লোগান দেয়ার মতো কিছু একটা বলছিলেন। কিন্তু তার বলা সব কথা স্পষ্ট শোনা যায়নি।’

তবে 'আমি মানুষ হত্যা করেছি' বলতে শোনা গেছে ভেল্টম্যানকে।

সাভেহিলাঘি জানান, তার ট্যাক্সির চালক এই আটকের ঘটনা ভিডিও করছিলেন বলে তার দিকে চিৎকার শুরু করেন ভেল্টম্যান।

সাভেহিলাঘি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন অভিযুক্ত লোকটি পুরো ঘটনা খুব উপভোগ করছেন। কেউ তার ভিডিও রেকর্ড করছেন, এটা তার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।’

ভেল্টম্যানকে আটক বা তার হামলাসংক্রান্ত ভিডিও ফুটেজ পেলেও সেগুলো প্রকাশ করা হয়নি।

যে ট্রাক নিয়ে হামলা চালিয়েছেন ভেল্টম্যান, চলতি বছরের ১২ মে সেটি কিনেছেন তিনি।

ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ জুমের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শুনানিতে অংশ নেন ভেল্টম্যান। আগামী সোমবার আবারও শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে তাকে।

তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

কানাডায় মুসলমানদের ওপর ট্রাকহামলা চালানো যুবক আদালতে

কানাডায় মুসলমানদের ওপর ট্রাকহামলা চালানো যুবক আদালতে

কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে মুসলমানবিদ্বেষী হামলায় নিহতদের প্রতি মঙ্গলবারের শোক কর্মসূচিতে যোগ দেন সর্বস্তরের মানুষ। ছবি: এএফপি

গ্রেপ্তারের সময় ঘাতক ট্রাকচালক ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

কানাডায় ট্রাক তুলে দিয়ে মুসলমান পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় হামলাকারী যুবককে আদালতে তোলা হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপ জুমের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শুনানিতে অংশ নেন ২০ বছর বয়সী ট্রাকচালক নাথানিয়েল ভেল্টম্যান।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী সোমবার আবারও শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে তাকে।

হামলাটি পুরোপুরি বিদ্বেষপ্রসূত বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। জানিয়েছে, নিহতদের সঙ্গে কোনো পূর্ব পরিচয় না থাকলেও মুসলমান বুঝতে পেরে তাদের ওপর ইচ্ছে করে ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিলেন ভেল্টম্যান।

কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে লন্ডন পুলিশের প্রধান স্টিভ উইলিয়ামস জানিয়েছেন, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের বেশির ভাগই এখন প্রকাশ করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কথা বা কাজে যেন আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিতে তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ আমরা।’

ওন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় ওই হামলায় নিহত হন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত একটি পরিবারের তিন প্রজন্মের চার সদস্য। পরিবারটির বেঁচে যাওয়া একমাত্র সদস্য, ৯ বছরের একটি ছেলেশিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হন তারা।

এর কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে খানিকটা দূরে একটি শপিং মলের পার্কিং লট থেকে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয় ঘাতক ট্রাকচালককে।

সে সময় ভেল্টম্যান একটি সশস্ত্র ভেস্ট ও হেলমেট পরে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ‘হেইট গ্রুপের’ সঙ্গে ভেল্টম্যানের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি। তবে এখনও অনুসন্ধান চলছে।

তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ গঠন করা হতে পারে।

একে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় অভিবাসীবান্ধব কানাডার সমাজে ইসলামভীতি, মুসলমানবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও ঘৃণার অস্তিত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন ট্রুডো।

শেয়ার করুন