‘খামার বন্ধ করো, ভিক্ষা করে খাও’

মুরগির খামার করায় হামলায় আহত নিলু আক্তার। ছবিটি এপ্রিলের

‘খামার বন্ধ করো, ভিক্ষা করে খাও’

‘আমাকে বলে, তুমি প্রতিবন্ধী এবং নারী। তোমার ইনকাম করার সুযোগ নাই। হাদিস-কোরআনে নারীর আয় করার সুযোগ নাই। ফতোয়া আছে। তুমি এসব বন্ধ করো। বাড়ির সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তুমি প্রতিবন্ধী। ভিক্ষা করো। আমার কাছ থেকে থালাবাসন নিয়ে যাও।’

জন্ম থেকে হাত নেই নিলু আকতারের। জীবনের সংগ্রামটা তার অন্যদের চেয়ে বেশি। আর এই অবস্থাতেও মুরগির খামার দিয়ে প্রতিবেশীর রোষানলে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিলুর বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জিরি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মালিয়ারা গ্রামে। তার খামারের পাশে আরেকটি খামার আছে প্রতিবেশী আবু তৈয়বের।

স্থানীয় লোকজন সহমর্মী হয়ে নিলুর কাছ থেকে মুরগি কেনে বলে ভীষণ রাগ তৈয়বের। তার বিক্রি কম হয় বলে নিলুর খামারটি বন্ধ করে দিতে হুমকিধমকি দেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

কথা না শোনায় নিলু ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর গত ৩ এপ্রিল হামলা হয়। সুস্থ হয়ে ১২ এপ্রিল তৈয়ব ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে পটিয়া থানায় মামলা করেন নিলু।

হামলার পর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করলেও মামলার আগেই তাদের ছেড়ে দেয়। পরে আর গ্রেপ্তার করেনি।

নিলুর অভিযোগ আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছেন। তাকে আবার চাপ দিচ্ছেন।

নিলুর সংগ্রামী জীবন

নিলুরা চার বোন। তার জন্ম এক হাত কাটা অবস্থাতেই। পড়াশোনা করেছেন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত।

১০ বছর আগে পাশের মালিয়ারা সাতভাই পাড়ার কামাল উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকে বাপের বাড়িতে থাকেন নিলু। সেখানে মাকে নিয়ে বসবাস করার পাশাপাশি একটি পোলট্রি ফার্ম পরিচালনা করেন।

নিউজবাংলাকে নিলু বলেন, ‘আবু তৈয়ব আমার প্রতিবেশী। তারও পোলট্রি ফার্ম রয়েছে। লোকজন আমার কাছ থেকে মুরগি বেশি কেনে। এ জন্য তৈয়বের হিংসা হয়। সেটি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

‘আমাকে বলে, তুমি প্রতিবন্ধী এবং নারী। তোমার ইনকাম করার সুযোগ নাই। হাদিস-কোরআনে নারীর আয় করার সুযোগ নাই। ফতোয়া আছে। তুমি এসব বন্ধ করো। বাড়ির সুনাম নষ্ট হচ্ছে। তুমি প্রতিবন্ধী। ভিক্ষা করো। আমার কাছ থেকে থালাবাসন নিয়ে যাও।’

নিলু বলেন, ‘আমি তার কথা শুনিনি। প্রতিবন্ধী হয়েও এক হাতে কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেটি মেনে নিতে পারেননি তৈয়ব। তিনি প্রথমে আমাকে হুমকিধমকি দেন। এরপর আমি তার কথা না শোনাতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন।’

তবে আবু তৈয়ব সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ওই মেয়ের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নাই। ধর্ম নিয়ে আমি কিছু বলিনি। তাদের সঙ্গে জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ আছে। সেটি থেকে মাঝেমধ্যে ঝগড়া হয়। কিন্তু নিলু তার প্রতিবন্ধী হওয়া বিষয়টি কাজে লাগিয়ে আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

নিলুর মামলায় যা বলা হয়েছে

নিলুর মামলায় বলা হয়, তিনি কৃষি ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে বাবার দেয়া জায়গায় দেড় হাজার শেডের একটি খামার দেন।

এরপর থেকেই প্রতিবেশী আবু তৈয়বের রোষানলের শিকার হন তিনি। তিনি খামারটি বন্ধের জন্য চাপ দেন। কিন্তু তিনি কথা শোনেননি।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নিলুকে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকেন। তার সাত বছরের মেয়েকে অপহরণ করলে পুলিশ উদ্ধার করে এবং এ ব্যাপারে মামলা হয়।

এর জের গত ৩ এপ্রিল আবু তৈয়বসহ কয়েকজন নিলুর বাবার বাড়িতে ঢুকে কিরিচ দিয়ে নিলু ও তার মাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে।

স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

নিলু আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মামলা করায় আবু তৈয়ব পুলিশের সহযোগিতায় আমার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে। আমার ওপর হামলাকারীরা এলাকায় বীরদর্পে ঘুরলেও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।’

নিলুর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা

আবু তৈয়বও পাল্টা মামলা করেছেন নিলুর বিরুদ্ধে। এজাহারে বলা হয়েছে, নিলুর বাবার সঙ্গে তার জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেটিকে কেন্দ্র করে ৩ এপ্রিল নিলু ও তার পরিবারের সদস্যরা আবু তৈয়বের পরিবারের ওপর হামলা করে। এতে করে আবু তৈয়বের স্ত্রী নাজমা পারভীন আহত হন। প্রথমে তাকে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এরপর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

পুলিশ যা বলছে

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, নিলুর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন এসআই আক্কাস। তিনি পটিয়া থানা থেকে বদলি হয়ে গেছেন। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে।

মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কাউন্টার মামলা আছে। দুই পক্ষই মামলা করেছে। তাই বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। আমরা তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পুরোনো ক্ষত দগদগে হয়ে উঠছে কানাডার আদিবাসীদের

পুরোনো ক্ষত দগদগে হয়ে উঠছে কানাডার আদিবাসীদের

মেরিভ্যালের স্কুলে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে চলছে অচিহ্নিত কবর শনাক্তের কাজ। ছবি: কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন

সাসকাচোয়ান প্রদেশের ৭৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর জোট ফেডারেশন অফ সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) প্রধান ববি ক্যামেরন বলেন, ‘আদিবাসীদের নির্মূলের চেষ্টা চালানো একটি জাতি হিসেবে একদিন পরিচিত হবে কানাডা। এটা তো কেবল শুরু।’

প্রথমে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে আদিবাসী শিশুদের একটি আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২১৫ জনের দেহাবশেষের সন্ধান। মাস না গড়াতেই যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তের সাসকাচোয়ান প্রদেশের এক আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে শনাক্ত হয় আরও ৭৫১টি পুরোনো অচিহ্নিত কবর।

ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বিব্রত হালের অভিবাসীবান্ধব উদার রাষ্ট্র কানাডা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ‘যে আঘাত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কানাডার আদিবাসীরা যাচ্ছেন, সে বোঝা কমানোর দায়িত্ব পুরো দেশের।’

তবে ট্রুডোর এই বক্তব্যেও দৃশ্যত কমেনি কানাডার আদিবাসীদের মানসিক চাপের বোঝা। দুই বারে প্রায় এক হাজার অচিহ্নিত কবর শনাক্তের ঘটনায় আবারও দগদগে হয়ে উঠেছে তাদের পুরোনো ক্ষত।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ক্ষত দেশটির ঔপনিবেশিক শাসনামলে আদিবাসী নির্মূলের লক্ষ্যে চালানো নির্মম নির্যাতনের।

গত ২ জুন একসময়ের মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে কবরগুলো খুঁজে বের করার কাজ শুরু করে স্থানীয় আদিবাসী গোষ্ঠী কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন। সাসকাচোয়ানে এ ধরনের কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

ওই এলাকায় অচিহ্নিত প্রাচীন কবর শনাক্তে ২০১৯ সালে গোষ্ঠীটিকে ৭০ হাজার কানাডিয়ান ডলারের অর্থ সহায়তা দেয় স্থানীয় ক্যাথলিক প্রশাসন।

এ ছাড়া রোমান ক্যাথলিক চার্চ যত বছর স্কুলটি চালিয়েছে, সেই সময়ে কাওয়েসেস আদিবাসীদের মৃত্যুর খতিয়ানও কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশনকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে নিজেদের অঞ্চলে অচিহ্নিত কবর শনাক্তে কাওয়েসেসরা কার্যকর পদক্ষেপ নেয় মূলত মে মাসে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার কামলুপসে ২১৫ আদিবাসী শিশুর দেহাবশেষের সন্ধান মেলার পর।

মেরিভ্যালে অচিহ্নিত কবর শনাক্তে ব্যবহার করা হয় গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার। যন্ত্রটি মেরিভ্যালের মাটিতে মোট ৭৫১টি জায়গা কবর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বলা হচ্ছে, ১০ শতাংশ যান্ত্রিক ত্রুটি ধরে নিলেও ছয় শতাধিক কবর আছে এলাকাটিতে।

সাম্প্রতিক কবর আবিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় আর্চবিশপ ডন বোলেন বৃহস্পতিবার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশনের প্রধান কাডমুস ডেলোরমিকে।

এতে ‘গির্জা কর্তৃপক্ষ ও কর্মীদের পাপ ও ব্যর্থতার জন্য’ আবার ক্ষমা চেয়েছেন আর্চবিশপ। তিনি অনুরোধ করেছেন দেহাবশেষের পরিচয় শনাক্তে আদিবাসী গোষ্ঠীটিকে গির্জা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সহযোগিতা দেয়ার।

আদিবাসীদের ওপর ঔপনিবেশিকতার ক্ষত

কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার অধীনে আদিবাসী শিশুদের ওপর নির্যাতনের পুরোনো ক্ষতকে জাগিয়ে তুলেছে এসব কবর শনাক্তের ঘটনা।

সাসকাচোয়ান প্রদেশের ৭৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর জোট ফেডারেশন অফ সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) প্রধান ববি ক্যামেরন বলেন, ‘আদিবাসীদের নির্মূলের চেষ্টা চালানো একটি জাতি হিসেবে একদিন পরিচিত হবে কানাডা। এটা তো কেবল শুরু।’

আদিবাসী নিপীড়ন কার্যক্রমের কেন্দ্রে ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থা।

গত ১০০ বছরের বেশি সময়ে এসব স্কুলে আদিবাসী শিশুদের ওপর চলা নির্মমতা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই কানাডা সরকারের হাতে। ফলে অপরাধীদের কখনো জবাবদিহিতার মুখেও পড়তে হয়নি।

১৮৩১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এ ব্যবস্থার আওতায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে। তাদের জোর করে খ্রিস্টানদের আবাসিক স্কুলে রেখে দেয়া হতো, খেতে দেয়া হতো না; চালানো হতো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন।

কানাডার তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত ক্যাথলিক চার্চগুলো।

কানাডার ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন ২০১৫ সালে ‘সাংস্কৃতিক জেনোসাইড’বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে আবাসিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে এই জেনোসাইডের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল সাসকাচোয়ানের প্রদেশে সদ্য আবিষ্কৃত মেরিভ্যাল স্কুলটির সমাধিক্ষেত্রের কথা।

প্রদেশটির আদিবাসী গোষ্ঠী কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন অধ্যুষিত এলাকায় ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ১০০ বছরের বেশি সময় চলেছে স্কুলটির কার্যক্রম।

এফএসআইএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার বিয়ার সত্তরের দশকে মেরিভ্যাল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় স্কুলটিতে ছোট একটি সমাধিক্ষেত্র তিনি দেখেছিলেন বলে জানান।

সমাধিক্ষেত্রটি আসলে কত বড়, বৃহস্পতিবার তা জানার পর বিস্মিত এই নারী বলেন, ‘এরপর তো স্কুলের ভেতরে একা একা হেঁটে বেড়ানোও কষ্টকর হয়ে যাবে। সেখানকার দুঃখ তাড়িয়ে বেড়াবে।

‘প্রতিটি আবাসিক স্কুল এলাকাতেই এখন এ রকম একটা অশুভ বিষয় ছায়া হয়ে থাকবে।’

নানা বিতর্কের মুখে ১৯৯৯ সালে মেরিভ্যাল স্কুলটি ভেঙে দিয়ে সেখানে অনাবাসিক একটি স্কুল চালু করা হয়।

চলতি মাসের শুরুতে ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস দুঃখ প্রকাশ করলেও তাতে মন গলেনি কানাডার ভুক্তভোগী আদিবাসীদের। কারণ তিনি বা এসব স্কুল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রোমান ক্যাথলিক চার্চ এসব ঘটনায় সরাসরি ক্ষমা চায়নি।

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন

কানাডার সেই স্কুলে ৭৫১ কবর শনাক্ত

কানাডার সেই স্কুলে ৭৫১ কবর শনাক্ত

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে দুই যুগ আগে পর্যন্ত আবাসিক স্কুল হিসেবে ব্যবহৃত এই এলাকার সমাধিক্ষেত্রে মিলেছে ৭৫১টি অচিহ্নিত কবর। ছবি: ফেডারেশন অব সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্স

একসময়ের মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলপ্রাঙ্গণে শ শ কবর শনাক্তের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেন, ‘যে আঘাত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কানাডার আদিবাসীরা যাচ্ছেন, সে বোঝা কমানোর দায়িত্ব পুরো দেশের।’

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে একটি স্কুলপ্রাঙ্গণে আবিষ্কৃত কবরের সংখ্যা সাড়ে সাত শর বেশি।

প্রদেশটিতে এ ধরনের কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসেও এর আগে একসঙ্গে এত বেশি অচিহ্নিত কবর শনাক্ত হয়নি।

স্থানীয় আদিবাসীদের সংগঠন কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে এসব তথ্য।

সংগঠনটির প্রধান কাডমুস ডেলোরমির বরাত দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনাক্ত ৭৫১টি কবরের মধ্যে শিশুদের কবর কতগুলো, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

লোকমুখে ছড়ানো ঘটনা সত্য হলে সেখানে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কবরও থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থল মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত।

নানান বিতর্কের মুখে রোমান ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত স্কুলটি ১৯৯৯ সালে ভেঙে দিয়ে চালু করা হয় অনাবাসিক একটি স্কুল। সেখানে রয়ে গেছে গির্জা, ধর্মযাজকব্যবস্থা আর সমাধিস্থল।

ডেলোরমির অভিযোগ, যে গির্জা কর্তৃপক্ষের অধীনে মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল পরিচালিত হতো, তারাই অচিহ্নিত এসব কবরের সমাধিফলক সরিয়েছে।

বিষয়টির মীমাংসায় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সমাধিফলক সরানো কানাডার আইনে অপরাধ। এই সমাধিক্ষেত্রকে তাই অপরাধস্থল বলে মনে করছি আমরা।’

অচিহ্নিত কবর শনাক্তে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার। যন্ত্রটি মেরিভ্যালের মাটিতে মোট ৭৫১টি জায়গা কবর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বলা হচ্ছে, ১০ শতাংশ যান্ত্রিক ত্রুটি ধরে নিলেও ছয় শতাধিক কবর আছে এলাকাটিতে।

মে মাসে ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের কামলুপসে আদিবাসী শিশুদের একটি আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২১৫ জনের দেহাবশেষের সন্ধান মেলে। এরপরই কানাডায় আদিবাসীদের ওপর একসময়ের ঔপনিবেশিক বর্বরতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

একসময়ের মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুলপ্রাঙ্গণে শ শ কবর শনাক্তের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

তিনি বলেন, ‘যে আঘাত ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে কানাডার আদিবাসীরা যাচ্ছেন, সে বোঝা কমানোর দায়িত্ব পুরো দেশের।’

১৮৩১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে। তাদের জোর করে খ্রিষ্টানদের আবাসিক স্কুলে রেখে দেয়া হতো, খেতে দেয়া হতো না; চালানো হতো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন।

কানাডার তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করত ক্যাথলিক চার্চগুলো।

সাসকাচোয়ান প্রদেশের ৭৪টি আদিবাসী গোষ্ঠীর জোট ফেডারেশন অব সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) প্রধান ববি ক্যামেরন বলেন, ‘আদিবাসীদের নির্মূল করার চেষ্টা চালানো একটি জাতি হিসেবে একদিন পরিচিত হবে কানাডা। এটা তো কেবল শুরু।’

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

ইরানের যে দ্বীপ শুধু নারী জেলেদের

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হেনগ্যাম দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষ সদস্যরাই মাছ ধরার কাজ করতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন কিংবা মাছের দোকানে বসতেন। তবে বদলে গেছে সেই দিন।

ইরানের ছোট্ট দ্বীপ হেনগ্যাম। ছোট ছোট নৌকায় কন্যা সন্তানদের নিয়ে জেলেদের মাছ ধরা সেখানকার প্রতিদিন ভোরের নিয়মিত দৃশ্য।

তীব্র স্রোতেও এই কিশোরী-তরুণী জেলেরা পিছু হটেন না। প্রতিদিনের মাছ ধরতে তাদের পারি দিতে হয় একের পর এক উঁচু ঢেউ। হাসিমুখেই সেসব ঢেউ পার করে মাছ নিয়ে ঘরে ফেরেন তারা।

কারণ তাদের মায়েরা একই শিক্ষা পেয়েছেন, একই শিক্ষা দিয়েছেন মেয়েদেরও।

ভাইস এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রক্ষণশীল ইরানে হেনগ্যাম একমাত্র দ্বীপ যেখানে পুরুষের সাহায্য ছাড়াই কাজের জন্য সাগরে ভাসেন নারীরা।

ইরানের দক্ষিণে পারস্য উপসাগরীয় এই দ্বীপে বসবাস প্রায় ৫০০ পরিবারের। তাদের জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা।

কঠিন পুরুষতান্ত্রিক ইরানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই দ্বীপটিতেও একসময় কেবল পুরুষেরাই মাছ ধরতেন। পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে নারীরা বড় জোর কিছু হাতের কাজ করতেন বা মাছের দোকানে বসতেন।

তবে দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে কয়েক বছর আগে। বাড়তি আয় আর উন্নত জীবনের আশায় দ্বীপ ছেড়ে কাজের জন্য ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে জেলে পরিবারের তরুণেরা।

আর পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস মাছ শিকার ধরে রাখতে এতে যুক্ত হতে শুরু করেন নারীরা।

বাবা, স্বামী, ভাই বা সন্তান যখন অন্য শহরে জীবিকা উপার্জনের আরও ভালো মাধ্যম খুঁজছে, তখন তাদের অনুপস্থিতিতে পরিবারের শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিতে শুরু করেন নারীরা।

এভাবেই দ্বীপটির নারীদের জীবিকা উপার্জনের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে মাছ ধরা।

ইরানের দক্ষিণ প্রান্তের দ্বীপটির আছে স্বতন্ত্র সংস্কৃতি। শিল্প, সঙ্গীত আর খাবারের ঐতিহ্যের পাশাপাশি কয়েক শ বছর ধরে সেখানে চল ছিল উন্নতমানের রেশম উৎপাদন।

দাস ব্যবসার জন্য মানুষ পাচারের অন্যতম রুটও ছিল এটি।

পুরোনো সব পেছনে ফেলে দ্বীপটির নারীরা এখন সাগরকে জীবীকার প্রধান অবলম্বন করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

তরুণী জেলে খাদিজা গোডসি বলেন. ‘আমরা মাছ ধরার সরকারি স্বীকৃতি পেলে জ্বালানি আর আমাদের নৌকার বিমায় ভর্তুকি পাব।’

একই কারণে দ্বীপের অন্য তরুণীরাও চান জেলে হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি। এতে নৌকার দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি পর্যটকদের সাগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবেন তারা।

তবে এই সরকারি অনুমোদন পেতে পার হতে হবে বড় বাধা।

অনুমতিপত্রের জন্য নারীরা প্রথম আবেদন করার পর স্থানীয় মৎস্যবিভাগ জানায়, নিরাপত্তার কারণে দুইজন নারীকে একটি করে অনুমতিপত্র দেয়া হবে।

সে ক্ষেত্রে দুটি নৌকার মালিক দুইজন নারী আর তাদের অনুমতিপত্র একটি হলে সেটি কার কাছে থাকবে, মাছ ধরা ও আয়ের ভাগাভাগি কীভাবে হবে- ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর নেই।

বিষয়টির মীমাংসায় গভর্নরের কাছে মাসের পর মাস দেনদরবারের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৩০ জন নারীকে আলাদাভাবে জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নিশ্চয়তা দেয় কর্তৃপক্ষ।

যদিও আবেদনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিবন্ধন পাননি কেউ।

অনুমতিপত্রের জন্য অপেক্ষা করার সময়ে সংসার তো থেমে নেই। এ অবস্থায় আপাতত হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য বিক্রি বা সেবা দিয়ে আয় করার চেষ্টা করছেন তারা।

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন

কানাডার স্কুলে আদিবাসীদের আরও কয়েক শ কবরের সন্ধান

কানাডার স্কুলে আদিবাসীদের আরও কয়েক শ কবরের সন্ধান

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পরিচালিত মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। ছবি: সংগৃহীত

যে স্কুল প্রাঙ্গণে এসব কবর শনাক্ত হয়েছে, সেটির নাম মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। আবাসিক স্কুল হিসেবে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হয়েছে ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। একসময় স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ।

২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর আবিষ্কারের কয়েক সপ্তাহের মাথায় নতুন করে কয়েক শ অচিহ্নিত কবরের সন্ধান মিলেছে কানাডায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী সাসকাচোয়ানে আবিষ্কৃত হয়েছে এসব কবর। প্রদেশটিতে এ ধরনের কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

দেশটির একটি আদিবাসী গোষ্ঠী বুধবার জানায়, অনেক আগে আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত একটি এলাকায় কবরগুলো আবিষ্কার হয়েছে। বিষয়টিকে ‘ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক’ আখ্যা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ফেডারেশন অফ সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) বিবৃতিতে বলা হয়, কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসে একসঙ্গে এত বেশি অচিহ্নিত কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম। তবে কতগুলো কবরের সন্ধান মিলেছে, সে সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লিডারপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য আবিষ্কৃত এসব কবরের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আদিবাসী গোষ্ঠী কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন।

যে স্কুল প্রাঙ্গণে এসব কবর শনাক্ত হয়েছে, সেটির নাম মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। আবাসিক স্কুল হিসেবে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হয় ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত।

একসময় স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ।

নানা বিতর্কের মুখে ১৯৯৯ সালে স্কুলটি ভেঙে দিয়ে সেখানে অনাবাসিক একটি স্কুল চালু করা হয়। যদিও রয়ে গেছে গির্জা, ধর্মযাজক আর সমাধিস্থল।

এফএসআইএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার বিয়ারও সত্তরের দশকে স্কুলটির শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় সেখানে আদিবাসী শিশুদের ওপর ভয়াবহতার মাত্রা নিয়ে কিছু জানা ছিল না বলে জানান তিনি।

এখন নিমর্মতার খবরে স্তম্ভিত হিদার বিয়ার বলেন, ‘কে জানে কত শিশু নিখোঁজ হয়েছে, বাড়ি ফিরতে পারেনি। কোন ভাষায় এই নির্মমতার প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব, জানি না।’

এর আগে মে মাসে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের কামলুপসে আদিবাসী শিশুদের একটি আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২১৫ জনের দেহাবশেষের সন্ধান মেলে।

এরপরই কানাডায় আদিবাসীদের ওপর একসময়ের ঔপনিবেশিক বর্বরতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

১৮৩১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে। তাদের খেতে দেয়া হতো না; করা হতো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন।

বিষয়টিকে ২০১৫ সালে ‘সাংস্কৃতিক জেনোসাইড’ আখ্যা দেয় কানাডার ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন।

আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে এমন ব্যবস্থার জন্য ২০০৮ সালে ক্ষমা চেয়েছিল কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার।

কিন্তু এ ধরনের স্কুল পরিচালনা করত যে রোমান ক্যাথলিক চার্চ, তারা এখনও ক্ষমা চায়নি।

চলতি মাসের শুরুতে পোপ ফ্রান্সিস দুঃখ প্রকাশ করলেও তাতে মন গলেনি কানাডার ভুক্তভোগী আদিবাসীদের।

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন

উইঘুর ইস্যুতে ৪০ দেশের উদ্বেগ, ক্ষুব্ধ চীন

উইঘুর ইস্যুতে ৪০ দেশের উদ্বেগ, ক্ষুব্ধ চীন

চীনের শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের একটি বন্দিশিবির। ছবি: এএফপি

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা মিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াং দুয়ান একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি কানাডায় সম্প্রতি ২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কানাডার নেতৃত্বে একযোগে নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে ৪০টির বেশি দেশ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধু শিনজিয়াংই নয়, চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং আর তিব্বতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে প্রায় ৫০টি দেশ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ইউএনএইচআরসিতে মঙ্গলবার চীনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তোলে কানাডা। এতে সমর্থন দেয় আরও অনেক দেশ।

জবাবে কানাডার ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় চীন।

মানবাধিকার, বাণিজ্য ইস্যু আর উসকানিমূলক কূটনীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত চীন-কানাডা সম্পর্ক।

কানাডার দূত লেসলি নর্টন বলেন, ‘উইঘুরদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন।’

নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে শিনজিয়াংয়ে প্রবেশাধিকার দিতে চীনের প্রতি আহ্বানও জানায় কানাডা। অঞ্চলটিতে ১০ লাখ মুসলিমকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে জাতিসংঘের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হয় এ আহ্বান।

এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে সমর্থন দেয় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, উইঘুরদের সঙ্গে নির্মম, অমানবিক আচরণ করছে বেইজিং। সন্তান জন্মদান নিয়ন্ত্রণ, যৌন সহিংসতা, সন্তানদের কাছ থেকে মা-বাবাদের জোরপূর্বক আলাদা করে দেয়ার অভিযোগও করা হয়।

জবাবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা মিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াং দুয়ান একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি কানাডায় সম্প্রতি ২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আগে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করুক কানাডা। এর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুক।

চীনের এ বক্তব্যে সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, ইরান, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

চীনকে সমর্থন দেয়া সবগুলো দেশের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন

দেশে বিধবা ৫৩ লাখ

দেশে বিধবা ৫৩ লাখ

প্রতীকী ছবি।

বিবিএসের জরিপ বলছে, দেশে বিধবার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০ জন। এ হার ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১০ সাল থেকে জাতিসংঘে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস। বুধবার দিবসটি উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি নেই। 

দেশে গত চার বছরে বিধবার হার বেড়েছে ০.৮ ভাগ। এর ফলে বর্তমানে মোট নারী জনগোষ্ঠীর ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ, ২০১৯ বলছে, বয়সী নারীরাই বিধবা হচ্ছেন বেশি।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুসারে, দেশে নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৭ লাখ। বিবিএস-এর ‘দি রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৯’ শীর্ষক এই জরিপ বলছে, এই নারীদের ৬৩ দশমিক ৮ ভাগ বিবাহিত। অর্থাৎ দেশে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার নারী বিবাহিত। যাদের ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। যার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০ জন।

এই জরিপ আরও বলছে, দেশে এ পরিমাণ বিধবা নারীর মধ্যে মাত্র ০.৪ ভাগের বয়স হচ্ছে ২০-২৪ বছরের মধ্যে। বিধবা নারীর ০.৭ ভাগের বয়স ২৫-২৯ বছর বয়সী। এছাড়া ৩০-৩৪ বছর বয়সী বিধবার সংখ্যা মোট বিধবার ১ দশমিক ৩ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী বিধবা ৩ দশমিক ১ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী বিধবা নারী হার ৬ ভাগ।

আর ১০ দশমিক ৪ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৪৫-৪৯ এর মধ্যে। ১৯.১ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৫০-৪৫ বছরের মধ্যে। ২৭ দশমিক ৮ ভাগ বিধবা নারী ৫৫-৫৯ বছর বয়সী। ৬০-৬৪ বছর বয়সী বিধবা নারী রয়েছেন, যাদের সংখ্যা মোট বিধবার ৪২ দশমিক ৪ ভাগ এবং ৬৭ দশমিক ৫ ভাগ নারী বিধবা রয়েছেন যাদের বয়স ৬৫ তদুর্ধ্ব। অর্থাৎ নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধবা হওয়ার হারও বাড়ছে।

তবে দাম্পত্য জীবনে নারী-পুরুষের মধ্যে বিচ্ছেদও ঘটছে। ২০১৯ সালের জরিপেও তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর সংখ্যা মোট বিবাহিত নারীর ১ দশমিক ৩ ভাগ। এ ক্ষেত্রে বয়সভেদে এই বিচ্ছেদের পরিমাণও কমবেশি হচ্ছে। জরিপ বলছে, ২০-২৪ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার সংখ্যা ১ দশমিক ৪ ভাগ। এটা ২৫-২৯ বয়সীদের ক্ষেত্র ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩০-৩৪ বয়সীদের ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী ১ দশমিক ৮ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৯ ভাগ, ৪৫-৪৯ বয়সী ২ দশমিক ২ ভাগ, ৫০-৫৪ বছর বয়সী ২ দশমিক ৩ ভাগ, ৫৫-৫৯ বয়সী ২ দশমিক ০ ভাগ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৭ ভাগ এবং ৬৫ তদুর্ধ্বো বয়সীদের মধ্যে ১ দশমিক ৬ ভাগ।

একাধিক জরিপের প্রবণতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেশে বিধবা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালের জরিপে যেখানে এই হার ছিল মোট নারীর ৮ দশমিক ৭ ভাগ, সেখানে ২০১৯ এ তা ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। তবে এই সময়ে দেশে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর অবস্থান ২০১৬ সালের মতো ২০১৯ সালের জরিপেও ১ দশমিক ৩ ভাগ অপরিবর্তিত রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বুধবার (২৩ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস। দেশে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন হয় না। কারণ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও দেয়া হয়নি। ফলে দেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক কোনো কর্মসূচি নেই।

আবার কোনো সংস্থা বা সংগঠন থেকে দিবসটি পালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপনও করা হয়নি। এমনকি বেসরকারিভাবেও দেশে দিবসটি পালনের তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি দেখা যায় না।

তবে সারা বিশ্বের বিধবাদের সম্মান-মর্যাদা এবং অধিকার সুরক্ষা ও নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য লোম্বা ফাউন্ডেশন’-এর প্রস্তাবনার আলোকে জাতিসংঘে পাস হওয়া সাপেক্ষে ২০১০ সাল থেকে এই দিবসটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

দ্য লোম্বা ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ বিধবা নারী রয়েছেন। এর সঙ্গে করোনা মহামারির কারণে আনুমানিক আরও ১ লাখের বেশি নারীকে বিধবা হতে হয়েছে। জীবন-জীবিকার প্রশ্নে এসব বিধবার প্রায় সবারই অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ এই দিবসটিকে সামনে রেখে প্রত্যেক দেশের সরকারকে করোনা পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রত্যাশী বিধবাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে বিধবা নারীদের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। জাতিসংঘে এ দিবস গৃহিত হওয়ারও দশ বছর আগে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছর থেকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কর্মসূচির আওতায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা চালু করেছে।

শুরুতে ৩ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলার প্রত্যেককে মাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা দেয়া শুরু হলেও ২০২১-২২ অর্থবছরে এসে এই ভাতাভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার।

একই সঙ্গে ভাতার হার মাসে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার পর সর্বশেষ ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ হিসাবে দেশে মোট বিধবার ৩৮ দশমিক ৮৯ ভাগ সরকারি ভাতার সুবিধায় এসেছে।

তবে বিধবাদের এই ভাতার হার আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, বর্তমানে বিধবারা মাসে যে ভাতা পান, তা দিয়ে একজন দরিদ্র মানুষ ৫ দিন খেতে পারেন। তাই তাদের ভাতার পরিমাণ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি সব দুস্থ বিধবাকে ভাতার আওতায় আনার পরামর্শ তার।

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফাইল ছবি

একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি ইমরান বলেন, ‘স্বল্পবাস নারীকে দেখে পুরুষের মন চঞ্চল হওয়াটাই স্বাভাবিক, যদি না সেই পুরুষ রোবট হয়। সাধারণ বুদ্ধি অন্তত তাই বলে।’ মঙ্গলবার টুইটারে ইমরান খানের একটি খালি গায়ের ছবি পোস্ট করে পাল্টা নিলেন আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।  

ধর্ষণের জন্য মেয়েদের স্বল্পবসনকে দায়ী করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে একহাত নিলেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন।

পাকিস্তান ক্রিকেটের অধিনায়ক থাকাকালীন, নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ইমরান। সেই সময় তোলা ইমরানের একটি ছবি মঙ্গলবার টুইটারে তুলে ধরেছেন তসলিমা। ছবিতে ইমরানের উদোম ছবি পোস্ট করে নারীবাদী নির্বাসিত লেখক তসলিমা লেখেন, ‘পুরুষ যদি স্বল্প পোশাক পরে, তাতে মেয়েদেরও মন চঞ্চল হতে পারে। যদি না তারা রোবট হয়।’

তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরে তার লেখালেখির মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে তার ফাঁসির দাবিতে ইসলামপন্থিরা আন্দোলন শুরু করলে ১৯৯৪ সালে তিনি দেশত্যাগ করেন। প্রবাস জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে বসবাস করেন।

ইমরান খানকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের শুরু গত এপ্রিলে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এইচবিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী জানান, উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধ হলে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বন্ধ হবে।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পবাস নারীকে দেখে পুরুষের মন চঞ্চল হওয়াটাই স্বাভাবিক, যদি না সেই পুরুষ রোবট হয়। সাধারণ বুদ্ধি অন্তত তাই বলে।’

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল) মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে তার অসুস্থ চিন্তা, নারীবিদ্বেষ ও তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

ইমরানের এই মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠলে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গান ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে পর্দার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম, তাও পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে।’

তিনি বলেন, তার দেশের সমাজ ও জীবন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই পাকিস্তান সরকারের বরাতে বলছে, পাকিস্তানে দিনে গড়ে ১১ জন ধর্ষণের শিকার হন। আর গত ছয় বছরে থানায় ২২ হাজার ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাসেলকে হারিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
স্টুয়ার্টের সাইফকে গোল করা শেখাল চট্টগ্রাম আবাহনী
চবির নতুন উপ উপচার্য অধ্যাপক বেনু কুমার দে
ঘাম ঝরিয়ে জিতল চট্টগ্রাম আবাহনী
চট্টগ্রাম আবাহনীকে হারিয়ে জয়ের ধারায় শেখ জামাল

শেয়ার করুন