২২৮ বছরে প্রথম নারী পরিচালক পাচ্ছে ল্যুভ

২২৮ বছরে প্রথম নারী পরিচালক পাচ্ছে ল্যুভ

১৭৯৩ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় প্রতিষ্ঠিত ল্যুভর মিউজিয়ামের প্রথম নারী পরিচালক হতে যাচ্ছেন লরেন্স দেজ কার্স। ছবি: এএফপি

বর্তমানে প্যারিসের আরেকটি ঐতিহাসিক জাদুঘর মুজি দো’র্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৪ বছর বয়সী লরেন্স দেজ কার্স। চার বছর আগে ল্যুভের কাছেই অবস্থিত এই জাদুঘরটিরও প্রথম নারীপ্রধান হন তিনি।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ শিল্পকর্ম জাদুঘর ল্যুভ-এ প্রথমবারের মতো নারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন লরেন্স দেজ কার্স।

১৭৯৩ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় প্রতিষ্ঠিত হয় ল্যুভ। ২২৮ বছরের ইতিহাসে জাদুঘরটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া একমাত্র নারী কার্স।

শিল্পকলার মাধ্যমে সামাজিক নানা সমস্যা তুলে ধরার জন্য সুপরিচিত কার্সকে বুধবার ল্যুভ-এর পরবর্তী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ল্যুভপ্রধান হিসেবে কার্স আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন।

ল্যুভ-এর বর্তমান পরিচালক জ্যঁ-লাক মার্টিনেজের মেয়াদ শেষে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন কার্স। ২০১৩ সাল থেকে ল্যুভ-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মার্টিনেজ।

বর্তমানে প্যারিসের আরেকটি ঐতিহাসিক জাদুঘর মুজি দো’র্সের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৪ বছর বয়সী লরেন্স দেজ কার্স। চার বছর আগে ল্যুভ-এর কাছেই অবস্থিত এই জাদুঘরটিরও প্রথম নারীপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

ল্যুভ, মুজি দো’র্সে, শ্যাতু দে ভ্যার্সাই ও পম্পিদু মর্ডান আর্ট মিউজিয়ামসহ ফ্রান্সের শীর্ষ সব রাষ্ট্রীয় জাদুঘরের প্রধানদের নিয়োগে সরাসরি যুক্ত থাকেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলাবিষয়ক ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞ লরেন্স দেজ কার্স। মুজি দো’র্সে জাদুঘরের পরিবর্তন ও বৈচিত্র্যে বড় ধরনের ভূমিকা রাখার কৃতিত্ব দেয়া হয় তাকে।

২০১৯ সালে কার্সের নেতৃত্বে জাদুঘরটির একটি প্রদর্শনী সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। একই সঙ্গে এই প্রদর্শনীটি কার্সের মেয়াদে মুজি দো’র্সের সবচেয়ে আলোচিত আয়োজন হিসেবেও সুনাম কুড়ায়।

‘ব্ল্যাক মডেলস: ফ্রম জেরিকোল্ট টু ম্যাটিস’ শীর্ষক ওই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছিল ফ্রান্সে শিল্পকলার পুরোধা খ্যাত সেসব কৃষ্ণাঙ্গ মডেলদের, আধুনিক বিশ্ব যাদের নাম ভুলতে বসেছে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কার্স বলেছিলেন, ‘সামাজিক বিতর্কগুলোর সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষার মাধ্যমেই কেবল নতুন প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবে জাদুঘরগুলো।’

উনবিংশ শতাব্দীর অস্ট্রিয়ান চিত্রশিল্পী গুস্তভ ক্লিমতের আঁকা একটি ছবি ১৯৩৮ সালে নাৎসি বাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছিল একটি ইহুদি পরিবার। ছবিটি এত দিন মুজি দো’র্স জাদুঘরে সুরক্ষিত ছিল। চলতি বছর কার্সের নেতৃত্বেই ছবিটি ওই পরিবারের উত্তরসূরিদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

২০১৭ সালে মুজি দো’র্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন কার্স। এর আগে সোফি ম্যাকারিউয়ের পর প্যারিসের প্রধান কোনো জাদুঘরের দ্বিতীয় নারী কিউরেটর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন কার্স।

তিনি এমন একসময়ে ল্যুভ-এর দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন করোনাভাইরাস মহামারি ও লকডাউনের প্রভাবে সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে কম দর্শনার্থী জাদুঘরটিতে পা রাখছে।

মহামারির দুই বছর আগে ১২ মাসে এক কোটির বেশি মানুষ ল্যুভ দর্শন করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব। ছবি: নিউজবাংলা

‘এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন ও নিন্দনীয় বলে মনে করেন দেশের কাব-সাহিত্যিক-সাংবাদিকরা।

এই ভয়াবহ অমানবিক ঘটনায় তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। শনিবার সন্ধ্যায় দেয়া এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে ‘কোরআন রাখার’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ঘটার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হলে হাজীগঞ্জসহ অন্যত্র এর পুনরাবৃত্তি ঘটত না।

“‘কোরআন অবমাননার’ ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে আমাদের সন্দেহ। কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য এই ঘটনা সাজিয়ে থাকতে পারে। ঘটনা সাজিয়ে তারা সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। কিছু মানুষ ষড়যন্ত্রীদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। জনগণ সচেতন হলে ষড়যন্ত্রীরা কোনোভাবেই তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে পারত না।”

জনগণকে সচেতন করা, তাদের মননকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে গড়ে তোলার দায় রাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুমিল্লার ঘটনায় আমরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

‘এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।’

প্রস্তাব জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রদায়িকতা একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে ধারাবাহিক জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে। দেশের শিক্ষাবিদ, লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, আলেম, পুরোহিতসহ সব ধর্মের নেতাদের নিয়ে, সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে, আলোচনা করে এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল চিহ্নিত করা যেতে পারে। আমরা এমন একটি জাতীয় সংলাপ কামনা করি, যার মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিবৃতিদাতা লেখকরা হচ্ছেন ইমতিয়ার শামীম, শাহনাজ মুন্নী, আহমাদ মোস্তফা কামাল, কবির হুমায়ূন, শামীম রেজা, আলফ্রেড খোকন, চঞ্চল আশরাফ, টোকন ঠাকুর, রাজীব নূর, শাহেদ কায়েস, শোয়াইব জিবরান, ওবায়েদ আকাশ, জোবায়দা নাসরিন, রুমা মোদক, পাপড়ি রহমান, লোপা মমতাজ, ভাগ্যধন বড়ুয়া, হেনরী স্বপন, সাইমন জাকারিয়া, আফরোজা সোমা, রেজা ঘটক, মতিন রায়হান, বিধান রিবেরু, মোজাফফর হোসেন, পিয়াস মজিদ, মামুন খান, মনিরুজ্জামান মিন্টু, অঞ্জন আচার্য, অরবিন্দ চক্রবর্তী, সরকার আমিন, স্বকৃত নোমান।

বিবৃতির শেষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলা আছে, ‘আপনি কবি-সাহিত্যিক হলে এই বিবৃতিতে আপনার নামটি যুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট করতে পারেন। এই বিবৃতি যে কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন

মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন: পরমব্রত

মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন: পরমব্রত

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরমব্রত লেখেন, ‘গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজিতে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবাদী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগুলির সমালোচনা করার বা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী শক্তি গুলিকে পরাস্ত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরও বেশি করে নিতে হবে! 

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অভিনয় গুণে তিনি বাংলাদেশেও জনপ্রিয়। এদেশের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।

এবার কলকাতায় দুর্গা পূজা বেশ ভালোই কাটিয়েছেন এ অভিনেতা। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে সেই ধারণাই পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় পূজা মণ্ডপে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ব্যথিত হয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে লেখা দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সে কথাই জানিয়েছেন পরমব্রত। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে আমার সমস্ত বন্ধুদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, কুমিল্লা বা নোয়াখালীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা করুণ কোনো দ্বিধা না রেখে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করুন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সুবার্তা বলে উল্লেখ করে পরমব্রত লেখেন, ‘আপনাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সুবার্তা দিয়েছেন, আপনারাও সেই মৌলবাদ বিরোধী সুর বজায় রাখুন। প্রতি বছরই প্রায় এরকম কিছু না কিছু ঘটে, সত্যি বলছি ভালো লাগে না।’

এসব ঘটনা উদারহণ হিসেবে থেকে যায় এবং রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার পথ মসৃণ হয় বলে মনে করেন এ অভিনেতা।

তিনি লেখেন, ‘প্রাণের উৎসবের উপর আক্রমণ বলে ভালো লাগে না তো বটেই, তা ছাড়াও আরও বড়ো একটা কারণ হলো, এই ঘটনাগুলি সীমানার এই পারে গোঁড়া হিন্দুত্ববাদীদের বড়ো সুবিধে করে দেয়। তাদের আস্ফালন বাড়ে, ধর্মের জিগির তুলে, এই উদাহরণ টেনে, মানুষের মনে অন্য সম্প্রদায় সম্বন্ধে ঘেন্না জন্মিয়ে রাজনৈতিক মুনাফা তোলার পথ মসৃণ হয়।’

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরমব্রত লেখেন, ‘গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজিতে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবাদী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগুলির সমালোচনা করার বা সেই বিস্বাসে বিশ্বাসী শক্তিগুলিকে পরাস্ত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরও বেশি করে নিতে হবে!

‘আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের ধর্মের অতিরিক্ততার বিরুদ্ধে কথা বলা আরম্ভ করি। ধর্ম মানে বিশ্বাস, কিছু মানুষের এক সঙ্গে হওয়া, অনেক বছর ধরে চলে আসা কিছু আচার, কিংবা সমাজকে এক রকমভাবে সংঘবদ্ধ রাখার জন্যে তৈরি করা কিছু নিয়ম বা হয়তো নানান উৎসব! যেটাই হোক, বিশ্বাস আর অতি বা অন্ধ বিশ্বাস (যা অন্য মানুষকে জোর করে, বা ক্ষতি করে) এর মধ্যে সূক্ষ্ম লাইনটা কোথায় সেটা আমাদেরই বুঝে নিতে হবে!

‘আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাস খুব জটিল। তাই আমাদের, মানে এই ভূমির বাসিন্দাদের দায়িত্বও অনেক বেশি। নিঃশ্বাস নেয়া যেমন দরকার, ঠিক তেমন দরকার এই বোধগুলো নিজেদের মধ্যে মোমবাতির মতো জ্বালিয়ে রাখা।’

পরমব্রত তার লেখা শুরু করেন এভাবে- ‘ফেসবুকে বড়ো একটা আসা হয় না, কিন্তু একটি বিশেষ কারণে এলাম। বাংলাদেশে কয়েক জায়গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ইসলামি মৌলবাদীদের তাণ্ডব নিয়ে কিছু পোস্ট নবমীর দিন সকাল থেকে চোখ পড়লো।’

পরমব্রত দুজনের কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘আমাকে যে ছেলেটি শ্যুটে অ্যাটেন্ড করে, আমার স্পট বয়, তার নাম নাসির গাজী। পূজার পাঁচটা দিন নিয়ম করে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছে। শুভ ষষ্ঠী থেকে বিজয়া! প্রতিবারই জানায়। সরস্বতী পূজার দিন-ক্ষণ আমার না থাকলেও ওর মনে থাকে এবং মনে করিয়েও দেয়। বাইরে শ্যুট করতে গিয়ে কোনো দর্শনীয় মন্দিরের সন্ধান পেলে সেটাও নাসিরই আমাকে এনে দেয়।

“নবমীর দিনই সকালে আমার কাঠের মিস্তিরি সানোয়ার আলী ফোন করেছিলেন একটা কাজের কথা বলতে। ফোনালাপ শুরুই করলেন ‘শুভ নবমী, দাদা’ বলে।”

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন

রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্মদিন আজ। ছবি সংগৃহীত

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ৬৫তম জন্মদিন আজ।

তারুণ্য ও সংগ্রামের প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে রেড ক্রস হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এদিন সকালে মোংলার মিঠাখালিতে শোভাযাত্রা এবং কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে মিঠেখালি ফুটবল মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যায় মোংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রুদ্র স্মৃতি সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা শাখা স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।

স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গানের আয়োজন করা হবে।

১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

স্বল্প আয়ুর জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্যসহ অর্ধ শতাধিক গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি থেকে ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।

‘উপদ্রুত উপকুল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য সাংস্কৃতিক সংসদ থেকে পরপর দুই বছর মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন রুদ্র।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন

লালনের তিরোধান দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ গবেষক-সাধক

লালনের তিরোধান দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ গবেষক-সাধক

লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধন দিবসে ৭ গবেষক ও সাধককে সম্মাননা দেবে শিল্পকলা একাডেমি। ছবি: সংগৃহীত

শিল্পকলা একাডেমি প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মাননা দিচ্ছে লালন গবেষক ও সাধকদের।

লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধন দিবস শনিবার। ওই দিন সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ লালন গবেষক ও সাধক।

শিল্পকলা একাডেমি প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মাননা দিচ্ছে লালন গবেষক ও সাধকদের।

২০১৯ সাল থেকে প্রতি মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ‘সাধুমেলা’র আয়োজন করে আসছে শিল্পকলা একাডেমি।

প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার বিকেল ৫টায় একাডেমির বাউলকুঞ্জে লালন সাঁইজির ১৩১তম তিরোধন দিবস উপলক্ষে ‘লালন স্মরণোৎসব’ ও ৩১তম সাধুমেলার আসর আয়োজন করা হয়েছে। সে অনুষ্ঠান থেকেই দেয়া হবে সম্মাননা স্মারক।

লালন গবেষণায় সম্মাননা স্মারক পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. শক্তিনাথ ঝা (ভারত)।

লালন সাধনায় সম্মাননা পাচ্ছেন পার্বতী দাস বাউল (ভারত), ফকির মোহাম্মদ আলী শাহ (কুষ্টিয়া), ফকির আজমল শাহ্ (ফরিদপুর), নিজাম উদ্দিন লালনী (মাগুরা) ও শুরু বালা রায় (ঠাকুরগাঁও)।

সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রত্যেকে পাচ্ছেন একটি করে ক্রেস্ট, স্মারকপত্র ও ২৫ হাজার টাকা।

একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মনসুর।

লালন সাঁইজিকে নিয়ে আলোচনা করবেন ফকির নহীর শাহ্ ও দেবোরাহ জান্নাত।

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল

ছোট ও বড় পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সবশেষ প্রায় ২৪ বছর আগে ‘কেরামত মঙ্গল’ নামে একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ওই নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন বাচ্চু। এরপর পেশাগত ব্যস্ততা ও ভালো গল্পের অভাবে আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি।

নির্মাতা, ছোট ও বড় পর্দার তুমুল জনপ্রিয় মুখ আফজাল হোসেন। প্রায় দুই যুগ পর তিনি ফিরছেন মঞ্চে। পেন্ডুলাম নামের নতুন এক নাটক দিয়ে মঞ্চে ফেরা হচ্ছে তার।

নাটকটির রচয়িতা নাট্যকার মাসুম রেজা। নির্দেশনা দিচ্ছেন খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।

৪৭ বছর আগে ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘বিদায় মোনালিসা’ দিয়ে মঞ্চে যাত্রা শুরু আফজাল হোসেনের। এরপর টানা অভিনয় করেছেন মঞ্চে।

সবশেষ প্রায় ২৪ বছর আগে ‘কেরামত মঙ্গল’ নামে একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ওই নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন বাচ্চু। এরপর পেশাগত ব্যস্ততা ও ভালো গল্পের অভাবে আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি।

দীর্ঘ প্রায় ২৪ পর মঞ্চে ফেরা নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন আফজাল।

তিনি বলেন, ‘একটা সময় নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করতাম। এরপর পেশাগত কারণে আর ওইভাবে সময় দেয়া হতো না; যেতেও না। কারণ মঞ্চে অভিনয়ের জন্য তো প্রচুর সময় লাগে।

‌‘আমার প্রধান দুর্বলতম বিষয় ছিল অভিনয় এবং মঞ্চের জন্য আলাদা একটা টান তো ছিলই। কারণ মঞ্চই তো আমার আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করে দিয়েছিল।’

অনেক বছর ধরেই মঞ্চে অভিনয়ের পরিকল্পনা ছিল জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই পরিকল্পনা ছিল আবার মঞ্চে অভিনয় করব, কিন্তু প্রোপার ক্রিপ্ট ও সে রকম কোনো কিছু হয়তো মেলে নাই। অনেক দিন পর একটা ভালো স্ক্রিপ্ট ও স্পেশাল কিছুর জন্য নাটকটি করা।

‘স্পেশাল বলতে ঢাকা থিয়েটার এবং দেশ নাটক দুটি দল একসঙ্গে নাটকটি প্রযোজনা করছে। সব মিলিয়ে ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়। সেই কারণেই আবার মঞ্চে অভিনয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাকে আমরা নাট্যগুরু ভাবি, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, তিনি এই নাটকের ডিরেকশন দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আমার জন্য আনন্দের বিষয়; ভালো লাগার বিষয়।’

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল
‘পেন্ডুলাম’ নাটকের মহড়ায় বাঁ থেকে নাজনীন চুমকি, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু (মাঝে) ও আফজাল হোসেন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

পেন্ডুলাম নাটকটির গল্প নিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘এটা মূলত আমাদের যে শহরে সোসাইটি...আমরা তো প্রত্যেকেই মফস্বল থেকে আসি। এরপর জীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা তো বহু কিছু করি। তারপর কী হয়? একটা সময় বহু কিছুতে আমাদের সব পাওয়া পূর্ণ হয় বলে মনে করি। আমরা যখন একদম একটা মানুষ পরিচয়হীন অবস্থায় পরিচয়ের সন্ধানে শহরে আসি, তারপর নানা কিছু করি, একটা পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করি।

‌‘অনেক কিছু করি; এটায় আমার সাফল্য আসবে, ওইটায় আমার সাফল্য আসবে। সব পাওয়া হয়, তারপর শেষমেশ কি মনে হয় সব পাওয়া হলো? এটা এমন কোনো অসাধারণ বিষয় না; যেকোনো মানুষের গল্প। গল্পটা হচ্ছে এই, আমরা যে জীবনটা যাপন করি স্বার্থসিদ্ধির জন্য, ভালোর জন্য, জীবন উপভোগের জন্য, এগুলো একটা সময় যে কী হয়ে ফেরত আসে, সেই চিত্রটা দেখানো হবে।’

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল
‘পেন্ডুলাম’ নাটকের মহড়ায় আফজাল হোসেন ও নাজনীন চুমকি। ছবি: সংগৃহীত

নাটকটি ডিসেম্বরের শেষে মঞ্চে আসবে বলে জানালেন নাট্যকার মাসুম রেজা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকটির মহড়া করছি। আগামী ডিসেম্বরে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। তবে হল বুকিংয়ের আগে তারিখ ঘোষণা করতে পারছি এখন।’

নাটকে আরও অভিনয় করছেন নাজনীন চুমকি, কামাল আহমেদসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন

নড়াইলে এস এম সুলতানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নড়াইলে এস এম সুলতানের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ২৭তম মত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সদর উপজেলার মাছিমদিয়া গ্রামে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে শিল্পীর মাজারে রোববার সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসক, নড়াইল প্রেস ক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মূর্ছনা সংগীত নিকেতনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

নড়াইলে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ২৭তম মত্যুবার্ষিকী পালন করেছে এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসন।

কোরআনখানি, শিল্পীর মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং দোয়া প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়েছে।

সদর উপজেলার মাছিমদিয়া গ্রামে এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে শিল্পীর মাজারে রোববার সকালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এস এম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসক, নড়াইল প্রেস ক্লাব, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মূর্ছনা সংগীত নিকেতনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা প্রশাসক মোহম্মদ হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ফকরুল হাসান, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. কামরুজ্জামান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মলয় কুমার কুণ্ডু, এস এম সুলতান বেঙ্গল চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ অনাদি বালা বৈরাগী, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ হানিফসহ অনেকে।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর বিখ্যাত এই শিল্পীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত ও পরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববরেণ্য এই শিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

৭০ বছরের জীবনে এই চিত্রশিল্পী রংতুলির আঁচড়ে দেশ ও দেশের মেহনতি মানুষের সঙ্গে নিজের চিন্তাকে মিলিয়ে সৃষ্টি করেছেন ‘পাটকাটা’, ‘ধানকাটা’, ‘চর দখল’, ‘গ্রামের খাল’, ‘নদী পারাপার’, ‘মাছ ধরা’, ‘নদীর ঘাটে’, ‘গুণ টানা’, ‘শরতের গ্রামীণ জীবন’-এর মতো বিখ্যাত সব ছবি।

১৯৫০ সালে ইউরোপে তার ছবি সমকালীন বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালির আঁকা ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়।

এ চিত্রশিল্পীকে ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে সম্মানিত করা হয়।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন এস এম সুলতান।

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন

বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমেদ

বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমেদ

মানিকগঞ্জের জামশায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় নাট্যকর আফসার আহমেদকে। ছবি: নিউজবাংলা

সিঙ্গাইর উপজেলার জামশা গ্রামের উত্তর জামশা কেন্দ্রীয় আদর্শ ঈদগাহ মাঠে রোববার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে বাবা ও দাদার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং নাট্যকার ড. আফসার আহমেদকে।

সিঙ্গাইর উপজেলার জামশা গ্রামের উত্তর জামশা কেন্দ্রীয় আদর্শ ঈদগাহ মাঠে রোববার সকাল ১০টার দিকে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

সেখানে জানাজায় অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান ইসরাফিল আহমেদ, অধ্যাপক রশিদ হারুন, সহযোগী অধ্যাপক রেজা মোহাম্মদ আরিফ, আনন জামান, কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকার কলা বিভাগের চেয়ারম্যান আল জাবিরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

প্রিয় ব্যক্তিত্বকে শেষবারের মতো দেখতে জামশায় আফসার আহমেদের বাড়িতে জড়ো হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।


বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমেদ

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আফসার আহমেদের প্রথম জানাজা হয়।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে শনিবার দুপুরে মারা যান অধ্যাপক আফসার আহমেদ।

সাবেক শিক্ষার্থী কমলেশ রায়ের বিয়ে উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার রাতে খুলনায় গিয়েছিলেন আফসার আহমেদ। শুক্রবার কমলেশের বিয়ের আশীর্বাদে অংশ নেন তিনি।

আফসার আহমেদের সাবেক শিক্ষার্থী মাসুদ নিক্সন নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার সকালে খুলনা থেকে যশোর গিয়ে সাড়ে ১০টার ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন অধ্যাপক। বিমানেই তার হার্ট অ্যাটাক হয়। ঢাকায় পৌঁছার পর তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।

বাবা-দাদার পাশে চিরনিদ্রায় আফসার আহমেদ
ছেলে আফসারের প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ৯৬ বছর বয়সী মা নুরুননাহার বাতাসী

আফসার আহমেদের বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার উত্তর জামশা গ্রামে ১৯৫৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জন্ম তার।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন আফসার।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মধ্যযুগের বাংলা আখ্যান কাব্যের আলোকে বাংলাদেশের নৃগোষ্ঠী নাট্য’ শীর্ষক অভিসন্দর্ভের জন্য তাকে পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়।

আফসার আহমেদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীকালে রবীন্দ্র-উত্তরকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ড. সেলিম আল দীনের সঙ্গে ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতায় ছিলেন। তিনি বিভাগের সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন, প্রক্টর, সিনেট-সিন্ডিকেটের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. আফসার একাধারে কবি, নাট্যকার, অনুবাদক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ল্যুভর জাদুঘরে প্রাণ ফিরেছে

শেয়ার করুন