নিউইয়র্ক পুলিশে প্রথম বাংলাদেশি নারী সার্জেন্ট ফজিলা

নিউইয়র্ক পুলিশে প্রথম বাংলাদেশি নারী সার্জেন্ট ফজিলা

বাংলাদেশ থেকে ২১ বছর বয়সে আমেরিকায় অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান ফজিলা। ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা ও চাকরি দুটোই সমানতালে সামলেছেন তিনি। চাকরিতে বীরত্ব দেখিয়ে পেয়েছেন মর্যাদাসম্পন্ন সেঞ্চুরিয়ান অ্যাওয়ার্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারী নিয়োগ পেয়েছেন। তার নাম ফজিলাতুন নেসা।

বৃহস্পতিবার ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে। ফজিলার একটি ছবি প্রকাশ করে তাকে অভিনন্দন জানায় এবং সবাইকে বিষয়টি উদযাপনেরও আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

ফেসবুক পোস্টটিতে লেখা হয়েছে, ‘অভিনন্দন এনওয়াইপিডি পিএসএ-৪ এর সার্জেন্ট নেসা, প্রথম বাংলাদেশি মহিলা সার্জেন্ট।’

প্রথম বাংলাদেশি নারী সার্জেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ফজিলাতুন নেসাকে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অভিনন্দন জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টও। তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের হ্যান্ডেলগুলোতে খবরটি প্রকাশ করা হয় গত ১২ মে।

পোস্ট দুটির মন্তব্যের ঘরে অনেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ফজিলাকে।

বাংলাদেশ থেকে ২১ বছর বয়সে আমেরিকায় অভিবাসী হিসেবে পাড়ি জমান ফজিলা। ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা ও চাকরি দুটোই সমানতালে সামলেছেন তিনি। চাকরিতে বীরত্ব দেখিয়ে মর্যাদাসম্পন্ন সেঞ্চুরিয়ান অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক নারীকে ছাদ থেকে লাফ দেয়া থেকে রক্ষা করে আলোচনায় ওঠে আসেন ফজিলা। তাকে সহায়তা করেন অফিসার টোরেস।

২০১৭ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের নতুন সদস্য হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন হয় ১২০ জনের। এই ১২০ জনের ২৫ শতাংশই ছিল বাংলাদেশি আমেরিকান। তাদের মধ্যে তিনজন নারী। তাদের প্রায় সবাই সিটি পুলিশের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট বিভাগের সদস্য।

প্রতি বছরই নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক করার মধ্য দিয়ে তারা এখন পুলিশ বিভাগের ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টসহ বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ পাওয়ার পর বাংলাদেশিরা এনওয়াইপিডির মূল বিভাগে অফিসার হওয়ার জন্যও তারা আবেদন করতে পারেন।

এখানে মূল বিভাগের অফিসার পদে এরই মধ্যে অন্তত দুইশতাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাজ করছেন। মোট সদস্য হাজারের বেশি।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান খন্দকার আবদুল্লাহ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের নির্বাহী পদে যোগ দেন। বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী হিসেবে পরিচিত এনওয়াইপিডির ক্যাপ্টেন পদে যোগ দেন তিনি।

২০১৯ সালে আমেরিকায় পুলিশ সার্জেন্ট পদে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নিয়োগ পান মহম্মদ আরমান কায়সার৷ আটলান্টিক সিটির পুলিশ সার্জেন্ট পদে পদোন্নতি পান তিনি।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কানাডার স্কুলে আদিবাসীদের আরও কয়েক শ কবরের সন্ধান

কানাডার স্কুলে আদিবাসীদের আরও কয়েক শ কবরের সন্ধান

কানাডার সাসকাচোয়ান প্রদেশে ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পরিচালিত মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। ছবি: সংগৃহীত

যে স্কুল প্রাঙ্গণে এসব কবর শনাক্ত হয়েছে, সেটির নাম মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। আবাসিক স্কুল হিসেবে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হয়েছে ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। একসময় স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ।

২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর আবিষ্কারের কয়েক সপ্তাহের মাথায় নতুন করে কয়েক শ অচিহ্নিত কবরের সন্ধান মিলেছে কানাডায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী সাসকাচোয়ানে আবিষ্কৃত হয়েছে এসব কবর। প্রদেশটিতে এ ধরনের কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম।

দেশটির একটি আদিবাসী গোষ্ঠী বুধবার জানায়, অনেক আগে আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত একটি এলাকায় কবরগুলো আবিষ্কার হয়েছে। বিষয়টিকে ‘ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক’ আখ্যা দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

ফেডারেশন অফ সভরেইন ইনডিজেনাস নেশন্সের (এফএসআইএন) বিবৃতিতে বলা হয়, কানাডার সাম্প্রতিক ইতিহাসে একসঙ্গে এত বেশি অচিহ্নিত কবর শনাক্তের ঘটনা এটাই প্রথম। তবে কতগুলো কবরের সন্ধান মিলেছে, সে সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লিডারপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সদ্য আবিষ্কৃত এসব কবরের সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আদিবাসী গোষ্ঠী কাওয়েসেস ফার্স্ট নেশন।

যে স্কুল প্রাঙ্গণে এসব কবর শনাক্ত হয়েছে, সেটির নাম মেরিভ্যাল ইন্ডিয়ান রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। আবাসিক স্কুল হিসেবে সেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা হয় ১৮৯৯ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত।

একসময় স্কুলটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চ।

নানা বিতর্কের মুখে ১৯৯৯ সালে স্কুলটি ভেঙে দিয়ে সেখানে অনাবাসিক একটি স্কুল চালু করা হয়। যদিও রয়ে গেছে গির্জা, ধর্মযাজক আর সমাধিস্থল।

এফএসআইএনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিদার বিয়ারও সত্তরের দশকে স্কুলটির শিক্ষার্থী ছিলেন। সে সময় সেখানে আদিবাসী শিশুদের ওপর ভয়াবহতার মাত্রা নিয়ে কিছু জানা ছিল না বলে জানান তিনি।

এখন নিমর্মতার খবরে স্তম্ভিত হিদার বিয়ার বলেন, ‘কে জানে কত শিশু নিখোঁজ হয়েছে, বাড়ি ফিরতে পারেনি। কোন ভাষায় এই নির্মমতার প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব, জানি না।’

এর আগে মে মাসে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের কামলুপসে আদিবাসী শিশুদের একটি আবাসিক স্কুলপ্রাঙ্গণে অপ্রাপ্তবয়স্ক ২১৫ জনের দেহাবশেষের সন্ধান মেলে।

এরপরই কানাডায় আদিবাসীদের ওপর একসময়ের ঔপনিবেশিক বর্বরতার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

১৮৩১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কানাডার আবাসিক শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল দেড় লাখ আদিবাসী শিশুকে। তাদের খেতে দেয়া হতো না; করা হতো শারীরিক ও যৌন নির্যাতন।

বিষয়টিকে ২০১৫ সালে ‘সাংস্কৃতিক জেনোসাইড’ আখ্যা দেয় কানাডার ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন।

আদিবাসীদের নিয়ন্ত্রণে এমন ব্যবস্থার জন্য ২০০৮ সালে ক্ষমা চেয়েছিল কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার।

কিন্তু এ ধরনের স্কুল পরিচালনা করত যে রোমান ক্যাথলিক চার্চ, তারা এখনও ক্ষমা চায়নি।

চলতি মাসের শুরুতে পোপ ফ্রান্সিস দুঃখ প্রকাশ করলেও তাতে মন গলেনি কানাডার ভুক্তভোগী আদিবাসীদের।

শেয়ার করুন

উইঘুর ইস্যুতে ৪০ দেশের উদ্বেগ, ক্ষুব্ধ চীন

উইঘুর ইস্যুতে ৪০ দেশের উদ্বেগ, ক্ষুব্ধ চীন

চীনের শিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলিমদের একটি বন্দিশিবির। ছবি: এএফপি

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা মিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াং দুয়ান একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি কানাডায় সম্প্রতি ২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে কানাডার নেতৃত্বে একযোগে নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে ৪০টির বেশি দেশ। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুধু শিনজিয়াংই নয়, চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকং আর তিব্বতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে প্রায় ৫০টি দেশ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ইউএনএইচআরসিতে মঙ্গলবার চীনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তোলে কানাডা। এতে সমর্থন দেয় আরও অনেক দেশ।

জবাবে কানাডার ঔপনিবেশিক শাসনের ইতিহাস মনে করিয়ে দেয় চীন।

মানবাধিকার, বাণিজ্য ইস্যু আর উসকানিমূলক কূটনীতির অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তপ্ত চীন-কানাডা সম্পর্ক।

কানাডার দূত লেসলি নর্টন বলেন, ‘উইঘুরদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন।’

নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলকে শিনজিয়াংয়ে প্রবেশাধিকার দিতে চীনের প্রতি আহ্বানও জানায় কানাডা। অঞ্চলটিতে ১০ লাখ মুসলিমকে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে জাতিসংঘের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো হয় এ আহ্বান।

এ বিষয়ে যৌথ বিবৃতিতে সমর্থন দেয় অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, স্পেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ।

বিবৃতিতে বলা হয়, উইঘুরদের সঙ্গে নির্মম, অমানবিক আচরণ করছে বেইজিং। সন্তান জন্মদান নিয়ন্ত্রণ, যৌন সহিংসতা, সন্তানদের কাছ থেকে মা-বাবাদের জোরপূর্বক আলাদা করে দেয়ার অভিযোগও করা হয়।

জবাবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের চীনা মিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াং দুয়ান একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি কানাডায় সম্প্রতি ২১৫ আদিবাসী শিশুর গণকবর শনাক্তের বিষয়টি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আগে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করুক কানাডা। এর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুক।

চীনের এ বক্তব্যে সমর্থন দিয়েছে রাশিয়া, বেলারুশ, ইরান, উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া ও ভেনেজুয়েলা।

চীনকে সমর্থন দেয়া সবগুলো দেশের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার করুন

দেশে বিধবা ৫৩ লাখ

দেশে বিধবা ৫৩ লাখ

প্রতীকী ছবি।

বিবিএসের জরিপ বলছে, দেশে বিধবার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০ জন। এ হার ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১০ সাল থেকে জাতিসংঘে চালু হয়েছে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস। বুধবার দিবসটি উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি নেই। 

দেশে গত চার বছরে বিধবার হার বেড়েছে ০.৮ ভাগ। এর ফলে বর্তমানে মোট নারী জনগোষ্ঠীর ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জরিপ, ২০১৯ বলছে, বয়সী নারীরাই বিধবা হচ্ছেন বেশি।

বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য অনুসারে, দেশে নারীর সংখ্যা ৮ কোটি ৭ লাখ। বিবিএস-এর ‘দি রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৯’ শীর্ষক এই জরিপ বলছে, এই নারীদের ৬৩ দশমিক ৮ ভাগ বিবাহিত। অর্থাৎ দেশে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৬ হাজার নারী বিবাহিত। যাদের ৯ দশমিক ৫ ভাগ বিধবা। যার সংখ্যা ৫২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০ জন।

এই জরিপ আরও বলছে, দেশে এ পরিমাণ বিধবা নারীর মধ্যে মাত্র ০.৪ ভাগের বয়স হচ্ছে ২০-২৪ বছরের মধ্যে। বিধবা নারীর ০.৭ ভাগের বয়স ২৫-২৯ বছর বয়সী। এছাড়া ৩০-৩৪ বছর বয়সী বিধবার সংখ্যা মোট বিধবার ১ দশমিক ৩ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী বিধবা ৩ দশমিক ১ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী বিধবা নারী হার ৬ ভাগ।

আর ১০ দশমিক ৪ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৪৫-৪৯ এর মধ্যে। ১৯.১ ভাগ বিধবা নারীর বয়স ৫০-৪৫ বছরের মধ্যে। ২৭ দশমিক ৮ ভাগ বিধবা নারী ৫৫-৫৯ বছর বয়সী। ৬০-৬৪ বছর বয়সী বিধবা নারী রয়েছেন, যাদের সংখ্যা মোট বিধবার ৪২ দশমিক ৪ ভাগ এবং ৬৭ দশমিক ৫ ভাগ নারী বিধবা রয়েছেন যাদের বয়স ৬৫ তদুর্ধ্ব। অর্থাৎ নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিধবা হওয়ার হারও বাড়ছে।

তবে দাম্পত্য জীবনে নারী-পুরুষের মধ্যে বিচ্ছেদও ঘটছে। ২০১৯ সালের জরিপেও তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর সংখ্যা মোট বিবাহিত নারীর ১ দশমিক ৩ ভাগ। এ ক্ষেত্রে বয়সভেদে এই বিচ্ছেদের পরিমাণও কমবেশি হচ্ছে। জরিপ বলছে, ২০-২৪ বছর বয়সের নারীদের মধ্যে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার সংখ্যা ১ দশমিক ৪ ভাগ। এটা ২৫-২৯ বয়সীদের ক্ষেত্র ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩০-৩৪ বয়সীদের ১ দশমিক ৬ ভাগ, ৩৫-৩৯ বয়সী ১ দশমিক ৮ ভাগ, ৪০-৪৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৯ ভাগ, ৪৫-৪৯ বয়সী ২ দশমিক ২ ভাগ, ৫০-৫৪ বছর বয়সী ২ দশমিক ৩ ভাগ, ৫৫-৫৯ বয়সী ২ দশমিক ০ ভাগ, ৬০-৬৪ বছর বয়সী ১ দশমিক ৭ ভাগ এবং ৬৫ তদুর্ধ্বো বয়সীদের মধ্যে ১ দশমিক ৬ ভাগ।

একাধিক জরিপের প্রবণতা লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দেশে বিধবা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৬ সালের জরিপে যেখানে এই হার ছিল মোট নারীর ৮ দশমিক ৭ ভাগ, সেখানে ২০১৯ এ তা ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। তবে এই সময়ে দেশে তালাকপ্রাপ্ত বা বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়া নারীর অবস্থান ২০১৬ সালের মতো ২০১৯ সালের জরিপেও ১ দশমিক ৩ ভাগ অপরিবর্তিত রয়েছে।

এ প্রেক্ষাপটে বুধবার (২৩ জুন) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিধবা দিবস। দেশে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন হয় না। কারণ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও দেয়া হয়নি। ফলে দেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কিংবা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক কোনো কর্মসূচি নেই।

আবার কোনো সংস্থা বা সংগঠন থেকে দিবসটি পালনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপনও করা হয়নি। এমনকি বেসরকারিভাবেও দেশে দিবসটি পালনের তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি দেখা যায় না।

তবে সারা বিশ্বের বিধবাদের সম্মান-মর্যাদা এবং অধিকার সুরক্ষা ও নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘দ্য লোম্বা ফাউন্ডেশন’-এর প্রস্তাবনার আলোকে জাতিসংঘে পাস হওয়া সাপেক্ষে ২০১০ সাল থেকে এই দিবসটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

দ্য লোম্বা ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি ৮০ লাখ বিধবা নারী রয়েছেন। এর সঙ্গে করোনা মহামারির কারণে আনুমানিক আরও ১ লাখের বেশি নারীকে বিধবা হতে হয়েছে। জীবন-জীবিকার প্রশ্নে এসব বিধবার প্রায় সবারই অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ধরনের সমস্যারও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ এই দিবসটিকে সামনে রেখে প্রত্যেক দেশের সরকারকে করোনা পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রত্যাশী বিধবাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে বিধবা নারীদের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। জাতিসংঘে এ দিবস গৃহিত হওয়ারও দশ বছর আগে বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৮-১৯৯৯ অর্থবছর থেকে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কর্মসূচির আওতায় বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা চালু করেছে।

শুরুতে ৩ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলার প্রত্যেককে মাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা দেয়া শুরু হলেও ২০২১-২২ অর্থবছরে এসে এই ভাতাভোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫০ হাজার।

একই সঙ্গে ভাতার হার মাসে ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করার পর সর্বশেষ ৫০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এ হিসাবে দেশে মোট বিধবার ৩৮ দশমিক ৮৯ ভাগ সরকারি ভাতার সুবিধায় এসেছে।

তবে বিধবাদের এই ভাতার হার আরও বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, বর্তমানে বিধবারা মাসে যে ভাতা পান, তা দিয়ে একজন দরিদ্র মানুষ ৫ দিন খেতে পারেন। তাই তাদের ভাতার পরিমাণ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি সব দুস্থ বিধবাকে ভাতার আওতায় আনার পরামর্শ তার।

শেয়ার করুন

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফাইল ছবি

একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি ইমরান বলেন, ‘স্বল্পবাস নারীকে দেখে পুরুষের মন চঞ্চল হওয়াটাই স্বাভাবিক, যদি না সেই পুরুষ রোবট হয়। সাধারণ বুদ্ধি অন্তত তাই বলে।’ মঙ্গলবার টুইটারে ইমরান খানের একটি খালি গায়ের ছবি পোস্ট করে পাল্টা নিলেন আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।  

ধর্ষণের জন্য মেয়েদের স্বল্পবসনকে দায়ী করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে একহাত নিলেন আলোচিত লেখক তসলিমা নাসরিন।

পাকিস্তান ক্রিকেটের অধিনায়ক থাকাকালীন, নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন ইমরান। সেই সময় তোলা ইমরানের একটি ছবি মঙ্গলবার টুইটারে তুলে ধরেছেন তসলিমা। ছবিতে ইমরানের উদোম ছবি পোস্ট করে নারীবাদী নির্বাসিত লেখক তসলিমা লেখেন, ‘পুরুষ যদি স্বল্প পোশাক পরে, তাতে মেয়েদেরও মন চঞ্চল হতে পারে। যদি না তারা রোবট হয়।’

তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরে তার লেখালেখির মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ এনে তার ফাঁসির দাবিতে ইসলামপন্থিরা আন্দোলন শুরু করলে ১৯৯৪ সালে তিনি দেশত্যাগ করেন। প্রবাস জীবনে তিনি বিভিন্ন সময় সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে বসবাস করেন।

ইমরান খানকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের শুরু গত এপ্রিলে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল এইচবিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী জানান, উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধ হলে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বন্ধ হবে।

তিনি বলেন, ‘স্বল্পবাস নারীকে দেখে পুরুষের মন চঞ্চল হওয়াটাই স্বাভাবিক, যদি না সেই পুরুষ রোবট হয়। সাধারণ বুদ্ধি অন্তত তাই বলে।’

পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পাকিস্তান মুসলিম লীগের (পিএমএল) মুখপাত্র মরিয়ম আওরঙ্গজেব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে তার অসুস্থ চিন্তা, নারীবিদ্বেষ ও তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।

স্বল্পবসন পুরুষ দেখলেও নারীর মন চঞ্চল হয়: তসলিমা

ইমরানের এই মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় উঠলে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গান ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘আমি আসলে পর্দার গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম, তাও পাকিস্তানের প্রেক্ষাপটে।’

তিনি বলেন, তার দেশের সমাজ ও জীবন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই পাকিস্তান সরকারের বরাতে বলছে, পাকিস্তানে দিনে গড়ে ১১ জন ধর্ষণের শিকার হন। আর গত ছয় বছরে থানায় ২২ হাজার ধর্ষণ মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

জেন্ডার সমতার চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন শরণার্থী নারীরা

জেন্ডার সমতার চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন শরণার্থী নারীরা

নারীদের প্রতি বৈষম্য ও যৌন সহিংসতা নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন গ্রিসের শরণার্থী নারীরা। ছবি: এএফপি

প্যারিসে জেন্ডার সমতাবিষয়ক জাতিসংঘের একটি ফোরামের অনুষ্ঠান আগামী ৩০ জুন। সেখানে জেন্ডার সমতা নিশ্চিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইবেন এই শরণার্থী নারীরা। 

নারী ও পুরুষের সামাজিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করছেন গ্রিসের শরণার্থী নারীরা।

দেশটির রাজধানী এথেন্সে কারিগরি প্রশিক্ষণ দানকারী দাতব্য সংস্থার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক নির্মাতার সহযোগিতায় হয়েছে এ কাজটি। তার তত্ত্বাবধানে নারীদের একটি দল তৈরি করছেন শর্ট ফিল্ম, পডকাস্টের মতো কন্টেন্টগুলো।

ফ্রান্স টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে জানানো হয়, কঙ্গো, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরানের নারী শরণার্থীদের এ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে গ্লোবালগার্ল মিডিয়া নামের একটি সংগঠন।

সুবিধাবঞ্চিত তরুণীদের ডিজিটাল মাধ্যম ও সাংবাদিকতাবিষয়ক দক্ষতা অর্জনে সহযোগিতা করে প্রতিষ্ঠানটি।

এদের অনেকে উন্নত জীবনের আশায় অর্ধেক পৃথিবী পার হয়ে গ্রিস পর্যন্ত এলেও বৈষম্যমুক্ত জীবনের দেখা পাননি সেখানেও।

২৫ বছর বয়সী আফগান তরুণী ফাতেমা জাফরি বলেন, ‘গ্রিক নারীদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা আমার জানা ছিল না। সাক্ষাৎকার নিয়ে আমি জেনেছি তাদের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতার খুব একটা পার্থক্য নেই।

‘দেশ, জাতিভেদে আমাদের সবারই একে অন্যের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

কয়েক দশক নীরবতার পর গ্রিসে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারী হত্যার ঘটনাগুলো বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে।

গত জানুয়ারিতে গ্রিক অলিম্পিকের সেইলিং চ্যাম্পিয়ন সোফিয়া বেকাতোরু তার ফেডারেশনের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় হ্যাশট্যাগ মি-টু আন্দোলন, যার মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে শুরু করে দেশটিতে ঘটে যাওয়া অসংখ্য যৌন হয়রানির ঘটনা।

গ্রিসে গ্লোবালগার্ল মিডিয়ার সমন্বয়ক ও পরিচালক অ্যামি উইলিয়ামস বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে নারীদের আওয়াজ শোনাই যায় না। বিশেষ করে শরণার্থী তরুণীদের জীবন একেবারেই পর্দার আড়ালে।

‘তাদের সাংবাদিকতা পেশায় আসতে উৎসাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়াই আমাদের লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শুধু তাদের সংগ্রামই নয়, অন্য নারীদের সংগ্রাম তুলে ধরার মাধ্যমে নিজেদের পায়ের নিচের মাটিও শক্ত করতে সমর্থ্য হবেন তারা। নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিতে আনতে পারবেন বড় পরিবর্তন।’

প্যারিসে জেন্ডার সমতাবিষয়ক জাতিসংঘের একটি ফোরামের অনুষ্ঠান আগামী ৩০ জুন। সেখানে জেন্ডার সমতা নিশ্চিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইবেন এই শরণার্থী নারীরা।

আয়োজনটি সামনে রেখে গ্রিসের বিভিন্ন নারীবাদী সংগঠন ও ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণে তাদের প্রশিক্ষণ ও অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন

নারীকে বসের দেয়া উপহারের ঘড়িতে গোপন ক্যামেরা!

নারীকে বসের দেয়া উপহারের ঘড়িতে গোপন ক্যামেরা!

এ ধরনের স্পাই ক্যাম দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় চলছে নারীর গোপন ভিডিও ধারণ। ছবি: সংগৃহিত

অনলাইনে ঘড়িটি সম্পর্কে খোঁজখবর করতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। ওই নারী বুঝতে পারেন, ঘড়িটি আসলে একটি গোপন ক্যামেরা। আর এটি এক মাসের বেশি সময় ধরে বসের মোবাইলে পাঠাচ্ছিল তার শোবার ঘরের ভিডিও।

অফিসের বস তার নারী সহকর্মীকে উপহার দিয়েছিলেন একটি টেবিল ঘড়ি। সেই ঘড়িটি জায়গা পায় ওই নারীর শোবার ঘরের এক কোণে। সব কিছুই চলছিল ঠিকঠাক। তবে একদিন ঘড়িটি কক্ষের আরেক কোনো সরিয়ে রাখার পরই দেখা দেয় বিপত্তি।

বস ওই নারীকে বলে বসেন, যদি উপহারের ঘড়িটি পছন্দ না হয়, তবে যেন ফিরিয়ে দেন। আর এতেই তৈরি হয় সন্দেহ। ঘড়ির জায়গা পরিবর্তনের বিষয়টি বস কী করে জানলেন?

এরপর অনলাইনে ঘড়িটি সম্পর্কে খোঁজখবর করতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য। ওই নারী বুঝতে পারেন, ঘড়িটি আসলে একটি গোপন ক্যামেরা। আর এটি এক মাসের বেশি সময় ধরে বসের মোবাইলে পাঠাচ্ছিল তার শোবার ঘরের ভিডিও।
এ বিষয়ে বসকে প্রশ্ন করতেই তিনি নির্বিকার ভঙ্গিতে জবাব দেন, এই কারণেই কি সারারাত গুগল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন?

ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায় এক নারীর সঙ্গে। চলতি সপ্তাহে এ রকম বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে ১০৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

মাই লাইফ ইজ নট ইওর পর্ন: ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম ইন সাউথ কোরিয়া’ শিরোনামে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে ৩৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে। তাদের কেউ ভুক্তভোগী, কেউ সরকারি কর্মকর্তা আবার কেউ মানবাধিকারকর্মী। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সাহায্য করেছেন অনলাইন জরিপে অংশ নেয়া ৫৫৪ জন উত্তরদাতা।

এতে দেখা গেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় সেক্স ক্রাইম সবচেয়ে বেশি হয়েছে ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ২০০৮ সালে যেখানে ৫৮৫টি মামলা হয়েছিল, ২০১৮ সালে তা ৬ হাজার ৬১৫-তে দাঁড়ায়। এ রকম অনেক ঘটনা অবশ্য অপ্রকাশিত রয়ে গেছে।

ঘড়িতে গোপন ক্যামেরার বিষয়টি যখন দক্ষিণ কোরিয়ান ওই নারী বুঝতে পারেন, তিনি আইনের আশ্রয় নেন। তবে তিনি হতাশা জানিয়েছেন বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। বিচারে অবশ্য অভিযুক্তের ১০ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপরেও কয়েক বছর আগের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

মানবাধিকার সংস্থা ইউম্যান রাইটস ওয়াচকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার নিজের ঘরে ঘটনাটি ঘটেছিল। এখনও আমি নিজের ঘরে কোনো কারণ ছাড়াই আতঙ্কিত হয়ে উঠি।’

২০১৮ সালে এমন এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ায় আরেক নারীর। অপরিচিত এক যুবক তার ঘরের জানালা দিয়ে গোপনে ভিডিও করছিল। বিষয়টি তিনি জানতে পারেন যখন পুলিশ তার দরজায় কড়া নাড়ে। তবে ততদিনে দুই সপ্তাহের বেশি পার হয়ে গেছে। এ সময় ধরে চলেছে গোপন ভিডিও ধারণ।

ওই নারী হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, সেই ঘটনার পর তিনি আর স্বাভাবিক হতে পারেননি। নতুন বাড়ি কিংবা জনসমাগমস্থল সবখানেই মনে হয় গোপনে তাকে কেউ দেখছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, তার এক পরিচিত যিনি গোপন ক্যামেরার ভুক্তভোগী, তিনি এখন নিজের ঘরে তাবু গেড়ে বসবাস করেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া অনেক নারী আত্মহত্যার কথা ভাবতে শুরু করেছেন, অনেকে তা করেও ফেলেছেন।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিয়ের ঠিক তিন মাস আগে আত্মহত্যা করেন এক হাসপাতালকর্মী। তিনি জানতে পেরেছিলেন এক সহকর্মী তার কাপড় বদলের সময় গোপনে ভিডিও করেছিলেন। সেই অভিযুক্তকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন বিচারক।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, দুর্বল আইনের কারণে এ ধরনের ঘটনার রাশ টানা যাচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে তারা দেখিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় আইন অনুযায়ী কেবল অনুমতি ছাড়া কারও ছবি বা ভিডিও যেগুলোর মাধ্যমে ব্যক্তিকে যৌন হয়রানি করা যায়, সেগুলো অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর অর্থ হলো, কারও নগ্ন ছবি না তোলা হলে, সেগুলোকে সেক্স ক্রাইম হিসেবে ধরা হবে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, একবার তিনি এক যুগলের অন্তরঙ্গ ছবি খুঁজে পান ওই নারীর সাবেক প্রেমিকের কাছে, যেটি তোলা হয়েছিল তার অনুমতি ছাড়া। কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে পুলিশ, গোয়েন্দা আর আইনজীবীরা ওই নারীকে অভিযোগ তুলে নিতে পরামর্শ দেয়। তারা জানায়, এই ঘটনায় উল্টো বিপদে পড়বেন তিনি। কেননা তার সাবেক প্রেমিক ব্যক্তিগত ছবির জন্য তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন।

তবে অভিযোগ প্রত্যাহার করেননি ওই নারী। বিচারে সাবেক প্রেমিকের ২ হাজার ৬৫০ ডলার জরিমানা হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিজিটাল সেক্স ক্রাইমের সাজার মাত্রা পুনর্বিবেচনা করতে কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া যৌনতায় সম্মতি নিয়ে আলোচনা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদও দেয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার। এই লক্ষ্যে ২০১৮ সালে ডিজিটাল সেক্স ক্রাইম ভিকটিম সেন্টার চালু করেছে দেশটির সরকার। তবে এই পদক্ষেপ দেশজুড়ে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মনে করছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

শেয়ার করুন

অলিম্পিকসে প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট

অলিম্পিকসে প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট

অলিম্পিকসের প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট লরেল হুবার্ড। ছবি: এএফপি

২০১৩ সালে হুবার্ড নিজের রূপান্তর সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নিতেন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নিয়ম বদলানোর পর তিনি অলিম্পিকসে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান।

অলিম্পিকসের ইতিহাসে প্রথম ট্র্যান্সজেন্ডার অ্যাথলিট হতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের লরেল হুবার্ড। ৪৩ বছর বয়সী এই ভারোত্তলোক সুযোগ পেয়েছেন টোকিও অলিম্পিকসে অংশ নিতে যাওয়া নিউজিল্যান্ডের নারী দলে।

২০১৩ সালে হুবার্ড নিজের রূপান্তর সম্পন্ন করেন। এর আগে তিনি ছেলেদের ইভেন্টে অংশ নিতেন। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি নিয়ম বদলানোর পর তিনি অলিম্পিকসে অংশ নেওয়ার অনুমতি পান।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ভালোত্তলোনের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের বাছাইপর্বের নিয়মে কয়েকটি পরিবর্তন আনার পর হুবার্ড কোয়ালিফাই করেন। ছয়টি কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টের জায়গায় এবারে চারটি টুর্নামেন্ট খেলতে হয়েছে ভারোত্তলোকদের।

ভারোত্তলনের সুপার হেভিওয়েট শ্রেণিতে খেলেন হুবার্ড। ২০১৭ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রৌপ্য পদক জেতা এই অ্যাথলিটের বর্তমান র‍্যাঙ্কিং ১৭।

শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন ভারোত্তলোক এবারের অলিম্পিকসে থাকছেন না। কারণ প্রতি ওজন শ্রেণিতে একজন করেই ভারোত্তলোক খেলতে পারছেন টোকিও আসরে।

শেয়ার করুন