মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে মিয়ানমারের প্রতিযোগীর আর্তি

মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে মিয়ানমারের প্রতিযোগীর আর্তি

মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার মঞ্চে মিয়ানমারের প্রতিযোগী থুজার উইন্ত লুইন। ছবি: এএফপি

প্রতিযোগিতার জন্য নির্মিত একটি ভিডিওবার্তায় লুইন বলেন, ‘আমাদের নাগরিকরা মরছে প্রতিদিন, সেনাদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের জন্য আওয়াজ তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমি। মিস ইউনিভার্স মিয়ানমার হিসেবে আমাদের দেশে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যতটা প্রতিবাদ করা আমার পক্ষে সম্ভব, আমি করছি।’

নিজ দেশে সেনাবাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়ন বন্ধে মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে মুখ খুললেন মিয়ানমারের প্রতিযোগী থুজার উইন্ত লুইন।

স্থানীয় সময় রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় তিনি মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব হয় রোববার রাত ৮টায়। হলিউড শহরের সেমিনোলে হার্ড রক হোটেল অ্যান্ড ক্যাসিনোতে জমকালো আয়োজনে অংশ নেয়া শীর্ষ ২১ প্রতিযোগীর একজন ছিলেন লুইন।

প্রতিযোগিতায় মিস ইউনিভার্সের মুকুট জিততে না পারলেও সেরা জাতীয় পোশাক ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হন তিনি।

মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় চিন জনগোষ্ঠীর সদস্য লুইন নিজস্ব ঐতিহ্য তুলে ধরতে ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মঞ্চে পা রাখেন। সে সময় ‘প্রে ফর মিয়ানমার’ লেখা সংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিযোগিতার জন্য নির্মিত একটি ভিডিওবার্তায় লুইন বলেন, ‘আমাদের নাগরিকরা মরছে প্রতিদিন, সেনাদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের জন্য আওয়াজ তুলতে সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমি। মিস ইউনিভার্স মিয়ানমার হিসেবে আমাদের দেশে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যতটা প্রতিবাদ করা আমার পক্ষে সম্ভব, আমি করছি।’

পর্যবেক্ষক সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের পর থেকে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে আন্দোলনরত কমপক্ষে ৭৯০ জনকে গুলি করে হত্যা করে সেনাবাহিনী।

সংবাদকর্মী, অধিকারকর্মীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে। এদের মধ্যে মাত্র হাজারখানেক মানুষ ছাড়া পেলেও বাকিরা এখনও কারাগারে।

দেশটির চিন প্রদেশে কিছুদিন ধরে সেনাবাহিনী ও সেনাবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহিংসতা তীব্র রূপ নিয়েছে।

মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করায় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন দেশটির অর্ধশতাধিক তারকা, অভিনয়শিল্পী, খেলোয়াড়সহ অনেকে। এদের অন্যতম উইন্ত লুইন।

বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মঞ্চে তার এই প্রতিবাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মিয়ানমার সেনাবাহিনী।

মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে মিয়ানমারের প্রতিযোগীর আর্তি
মিস ইউনিভার্স ২০২১ বিজয়ী মেক্সিকোর আন্দ্রিয়া মিজা। ছবি: এএফপি

৬৯তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় ৭০ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে সেরা সুন্দরীর মুকুট পরেন মেক্সিকোর আন্দ্রিয়া মিজা।

ফার্স্ট ও সেকেন্ড রানার-আপ হয়েছেন যথাক্রমে ব্রাজিলের জুলিয়া গামা ও পেরুর জ্যানিক মাসেতা।

সেরা পাঁচে আরও ছিলেন ভারতের অ্যাডলিন ক্যাসেলিনো ও ডোমিনিকান রিপাবলিকের কিম্বার্লি জিমেনেজ।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম জমকালো এ প্রতিযোগিতাটির গত বছরের আসর।

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলি, নিহত ৮

রাশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাগুলি, নিহত ৮

প্রতীকী ছবি

রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দুকধারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

বার্তা সংস্থা এএফপি সোমবার এ সংবাদ জানিয়েছে।

বিস্তারিত আসছে…

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

ভৃপৃষ্ঠ থেকে হাওড়া মেট্রো স্টেশনের গভীরতা ৩২ দশমিক ৪ মিটার। ছবি: সংগৃহীত

ভূমি থেকে ১০৫ ফুট নিচে এ স্টেশনে যেতে চারটি লেভেল, পাঁচটি স্ল্যাব পার হতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে চলতে যাদের অসুবিধা, তাদের জন্য রয়েছে ১২টি চলন্ত সিঁড়ি বা অ্যাসকেলেটর। তা ছাড়া থাকছে ছয়টি লিফট।

ভারতে এত দিন সবচেয়ে গভীর মেট্রোরেল স্টেশন ছিল দিল্লির হাউস খাস। ভূপৃষ্ঠ থেকে স্টেশনটির গভীরতা ৩০ মিটার।

পশ্চিমবঙ্গে নির্মাণাধীন হাওড়া মেট্রো স্টেশন গভীরতায় দিল্লির স্টেশনটিকে ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের সবচেয়ে গভীর এ মেট্রোরেল স্টেশনে চড়তে ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২ দশমিক ৪ মিটার নিচে নামতে হবে যাত্রীদের।

এক মিনিটে হাওড়া থেকে ধর্মতলা

হুগলি নদীর ৩০ মিটার গভীরে ৫২০ মিটারের দুটি টানেল দিয়ে চলবে হাওড়া মেট্রো। টানেলের এক প্রান্তে হাওড়া, অন্য প্রান্তে মহাকরণ।

ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে নদীর তলা দিয়ে ছুটবে এ ট্রেন। হাওড়া থেকে ধর্মতলা পৌঁছতে সময় লাগবে ১ মিনিট।

হাওড়া মেট্রো স্টেশনকে ‘দ্য ডিপেস্ট সাবওয়ে স্টেশন’ (গভীরতম পাতাল রেল) বলেছে ভারতের রেল বোর্ড। এ স্টেশনে ট্রেন চালু হওয়ার সম্ভাবনা ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে। জোর কদমে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

রেলওয়ে সূত্রের খবর, হাওড়া মেট্রো স্টেশন গঠনের কাজ শেষ হয়েছে। চলছে ফিনিশিং টাচ।

কী আছে স্টেশনে

ভূমি থেকে ১০৫ ফুট নিচে এ স্টেশনে যেতে চারটি লেভেল, পাঁচটি স্ল্যাব পার হতে হবে। সিঁড়ি দিয়ে চলতে যাদের অসুবিধা, তাদের জন্য রয়েছে ১২টি চলন্ত সিঁড়ি বা অ্যাসকেলেটর। তা ছাড়া থাকছে ছয়টি লিফট।

হাওড়ায় ভারতের গভীরতম মেট্রো স্টেশন

স্টেশনে থাকছে তিনটি প্ল্যাটফর্ম। হাওড়া ময়দান স্টেশন বা মহাকরণ, যেদিক দিয়ে ট্রেন আসুক না কেন, হাওড়া মেট্রো স্টেশনে রেকের দুই দিকের দরজা খুলে যাবে। যাত্রী চাপ সামলাতে এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

দেশের ব্যস্ততম হওয়ায় কলকাতা মেট্রোর ইস্ট-ওয়েস্টে হাওড়া স্টেশনকে ‘কী স্টেশন’ বলা হয়েছে।

‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’

ভারতে প্রথম নদীর তল দিয়ে মেট্রো চলার পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়েছিলেন দেশটির রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সে উদ্যোগের বাস্তবায়ন দেখতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে চায় আর্জেন্টিনা

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে চায় আর্জেন্টিনা

পাকিস্তান নির্মিত যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি। ছবি: দ্য ডন

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে যুদ্ধ বিমান কেনার জন্য ২০২২ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চেয়ে একটি খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি কেনার পরিকল্পনা করছে আর্জেন্টিনা। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাবিষয়ক একটি জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২০২২ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার বরাদ্দ চেয়ে একটি খসড়া বাজেট পার্লামেন্টে পাঠিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার।

ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের কারণে অন্যান্য দেশ থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের কাছ থেকেই তা কেনার জন্য ভাবছে বুয়েনসআয়ার্স।

১৯৮২ সালে ফকল্যান্ডস যুদ্ধের পর থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা চলছে। ফলে যুক্তরাজ্যের বন্ধুপ্রতীম কোনো দেশ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কেনা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না আর্জেন্টিনার জন্য।

আর্জেন্টিনা ২০১৫ সালে সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধবিমান কেনার চেষ্টা করেছিল। পরে উভয় দেশই যুক্তরাজ্যের চাপে বুয়েনসআয়ার্সের কাছে অস্ত্র বিক্রি থেকে পিছু হটে।

যুদ্ধ বিমান কিনতে অগত্যা পাকিস্তানমুখী হয়েছে আর্জেন্টিনা। গত এক দশকে যুদ্ধবিমানে বেশ উৎকর্ষতা দেখিয়েছে ইসলামাবাদ। এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে চীন।

যুদ্ধ বিমান জেএফ-১৭এ ব্লক-থ্রি নির্মাণ করেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশন। ‘জেএফ-১৭ থান্ডার’ নামে পরিচিত এই যুদ্ধ বিমান আকাশপথে পাকিস্তানকে শক্তিশালী করেছে।

এই যুদ্ধ বিমানে যুক্তরাজ্যের যন্ত্রাংশও রয়েছে। বিপজ্জনক মুহূর্তে বিমান থেকে পাইলটের বের হয়ে আসার ইজেক্টর সিটটি তৈরি করেছে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান মার্টিন বেকার।

মেরকোপ্রেস, সাউথ আটলান্টিক নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফকল্যান্ড যুদ্ধের সময় অর্ধশতের বেশি যুদ্ধবিমান হারানো, অর্থনৈতিক সংকট এবং যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার ফলে আর্জেন্টিনা বিমানবাহিনী খর্ব শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

কী আছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ এ?

এক ইঞ্জিনের এই যুদ্ধবিমান বিভিন্ন কাজে লাগানো যায়। এটি পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স ও চীনের শেংডু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হচ্ছে।

আকাশপথে শত্রুপক্ষের আক্রমণ রুখে দেয়া, আকাশ থেকে ভূমিতে আক্রমণ, আকাশ পথে আক্রমণ, আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ-নিরীক্ষা ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করা যায় বিমান।

এই যুদ্ধবিমানের ৫৮ শতাংশই পাকিস্তান প্রযুক্তিতে তৈরি এবং ৪২ শতাংশ চীনের প্রযুক্তি। বিমানটি নির্মাণের পুরো কাজটিই হয় পাকিস্তানের মাটিতে।

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌঁড়ে প্যাকিয়াও

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌঁড়ে প্যাকিয়াও

বক্সিং রিংয়ে ম্যানি প্যাকিয়াও। ছবি: এএফপি

দুতের্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও এর আগে প্যাকিয়াও দুতের্তের বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তব্যকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধ ও সমকামীদের ‘পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট’ মন্তব্যের প্রতি সমর্থন ছিল প্যাকিয়াওর।

ফিলিপিনের বক্সিং সুপারস্টার ম্যানি প্যাকিয়াও দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন তিনি।

নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করে প্যাকিয়াও বলেন, ‘এখনই সময়। নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জে এগিয়ে আসতে আমরা প্রস্তুত।’

ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে বর্তমানে একজন সিনেটর আট ডিভিশনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন প্যাকিয়াও।

২০১০ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন প্যাকিয়াও। তারপর থেকেই দেশটির সর্বোচ্চ পদে এই জনপ্রিয় বক্সারকে দেখার দাবি ভক্ত সমর্থকদের।

৪২ বছর বয়সী প্যাকিয়াওর বিশ্বজুড়ে ভক্ত রয়েছে। একেবারে সাদামাটা অবস্থা থেকে উঠে এসে তার সর্বকালের অন্যতম সেরা, সফল ও ধনী বক্সারে পরিণত হওয়ার গল্প ফিলিপাইনের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

দুতের্তের বিরুদ্ধে দাঁড়ালেও এর আগে প্যাকিয়াও দুতের্তের বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তব্যকে সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ যুদ্ধ ও সমকামীদের ‘পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট’ মন্তব্যের প্রতি সমর্থন ছিল প্যাকিয়াওর।

দুতের্তের দলেরই বিদ্রোহী অংশের গড়া পিডিপি লাবান দলের হয়ে প্রার্থীতা ঘোষণার পর প্যাকিয়াও জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

পার্লামেন্টে নিজের প্রার্থীতা নিয়ে ‘প্যাকম্যান’ নামে খ্যাত এই বক্সার বলেন, ‘যারা জানতে চায় আমার যোগ্যতা কী, তাদের প্রতি আমার জিজ্ঞাসা, কখনও ক্ষুধার্ত থেকেছেন? কখনও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যখন আপনার কাছে কোনো খাবার নেই? প্রতিবেশির কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে বা খাবারের দোকানের ফেলে দেয়া খাবারের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে?

‘আপনাদের সামনে আজ যে ম্যানি প্যাকিয়াও, সে দরিদ্র অবস্থা থেকেই উঠে এসেছে।’

বক্সিং রিংয়ে ৭২টি ম্যাচের মধ্যে ৬২টি জেতা প্যাকিয়াওর রাজনীতির মাঠে লড়াইটা সহজ হবে না বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচনে প্যাকিয়াওর মূল প্রতিদ্বন্দ্বি ডাভাও শহরের বর্তমান মেয়র ও প্রেসিডেন্ট দুতের্তের মেয়ে সারাহ দুতের্তে-কারপিও। সাম্প্রতিক এক জরিপে প্যাকিয়াওয়ের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন সারাহ দুতের্তে।

২০২২ সালের নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের নাম জমা দেয়ার শেষ দিন ৮ অক্টোবর।

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন

আফগান ও বিদেশিদের নিয়ে কাবুল ছাড়ল চতুর্থ চার্টার ফ্লাইট

আফগান ও বিদেশিদের নিয়ে কাবুল ছাড়ল চতুর্থ চার্টার ফ্লাইট

বিমানটিতে ২৩৬ জন আরোহী ছিলেন। ৩১ আগস্ট আফগান ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর এই বিমানেই প্রথম একসঙ্গে এত বেশি মানুষকে কাবুল থেকে বের করে নেয়া হলো।

দেশত্যাগী আফগান ও আমেরিকান-ইউরোপিয়ানসহ ২৩০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে কাবুল বিমানবন্দর ছেড়ে গেছে আরেকটি চার্টার ফ্লাইট। আগের তিনটি চার্টার ফ্লাইটের মতোই চতুর্থটিরও গন্তব্য কাতারের রাজধানী দোহা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রোববার কাবুল বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয় কাতার এয়ারওয়েজের বিমানটি। আরোহীদের প্রাথমিকভাবে রাখা হবে দোহায় আগে থেকে আশ্রিত আফগান ও অন্যান্য উদ্ধারকৃতদের সঙ্গে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কাতারের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোলওয়াহ রশিদ আল খাতের জানান, বিমানটিতে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের নাগরিক ছিলেন।

কাতারের আরেক কর্মকর্তা জানান, বিমানটিতে ২৩৬ জন আরোহী ছিলেন। ৩১ আগস্ট আফগান ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর এই বিমানেই প্রথম একসঙ্গে এত বেশি মানুষকে কাবুল থেকে বের করে নেয়া হলো।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে স্বাধীন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে যাচ্ছে কাতার। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের উন্নয়নমূলক অগ্রগতি নিশ্চিতে সেখানকার বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে।’

তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার ২৭ দিন পর গত ৯ সেপ্টেম্বর হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায় কাতার এয়ারওয়েজের প্রথম চার্টার ফ্লাইট। সেটিতে বেশিরভাগ বিদেশিসহ ১১৩ আরোহী ছিলেন। দেশত্যাগী আফগান ও বিদেশিসহ উদ্ধারকৃতদের নিয়ে দ্বিতীয় চার্টার ফ্লাইটটি কাবুল ছাড়ে ১০ সেপ্টেম্বর।

পশ্চিমা বিশ্ব ও আফগানিস্তানের নতুন শাসকদল তালেবানের সঙ্গে মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে কাতার।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারে অবস্থিত। ২০১৩ সাল থেকে দেশটিতে তালেবানের একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ও চালু আছে।

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি। ছবি: গালফ নিউজ/ফেসবুক

আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া।

কয়েদির পেট থেকে একটি মোবাইল ফোন বের করেছেন এক চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ কসোভোতে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দিন পেট ব্যথায় ভোগার পর গত সপ্তাহে ওই কয়েদিকে প্রিস্টিনা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

ওই ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারদিন ধরে পাকস্থলীতে মোবাইল ফোনটি ছিল। পুরো যন্ত্রটি ওই ব্যক্তি গিলে ফেলেছিলেন।

৩৩ বছর বয়সী ওই রোগীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলটির প্রধান স্কেন্দার তেলাকু বলেন, ‘ছোট একটা ফোন সে গিলে ফেলেছে বলে জানতে পারি আমরা। সেটা বের করেও এনেছি।

‘তবে মোবাইল ফোনটি বের করার জন্য ওই ব্যক্তির পেট কাটতে হয়নি। এন্ডোসকপির সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।’

ওই চিকিৎসক আরও জানান, আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই পুরো কাজটি শেষ হয়েছে।

তেলাকু বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম মোবাইলের ব্যাটারি নিয়ে… পেটের ভেতরের রাসায়নিক ও অ্যাসিডে ব্যাটারির অংশ ক্ষয়ে পাকস্থলীতে ঢুকে যেতে পারত।

‘অস্ত্রোপচারটি ছিল অনেকটা রাস্তায় পুঁতে রাখা অবিস্ফোরিত মাইন খুঁজে বের করার মতো জটিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে সব ভালোভাবেই শেষ হয়েছে।’

অস্ত্রোপচার শেষ পুলিশ রোগীকে আটক ও মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। মোবাইল ফোনটির মডেল ২০০০ সালের পরের কোনো সময়ের।

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি।

চিকিৎসকদের ধারণা, ও ব্যক্তি যে কারাগারে শাস্তিভোগ করছিলেন, সেখানে লুকিয়ে মোবাইলটি ঢোকানো হয়েছিল। সম্ভবত মোবাইল ফোনটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি গোপনে বাইরে যোগাযোগ করতেন তিনি। কোনো এক সময়ের ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে দ্রুত সেটি গিলে ফেলেছেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেনি কসোভো পুলিশ কিংবা এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন

কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকবেন ট্রুডো?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ফাইল ছবি

আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে আঘাত করতে বসেছে ট্রুডোকেই। মহামারির চতুর্থ ধাক্কা আসন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আগাম নির্বাচনের দরকার ছিল কি না, সে প্রশ্নে তোপের মুখে ট্রুডোর ভাগ্য; যার সুযোগে গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে প্রধান বিরোধী দলের। এ অবস্থায় এখন প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতেই মরিয়া ট্রুডো।

দিন গড়ালেই কানাডায় শুরু হবে সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। সোমবারের ভোটের দুই দিন আগে শনিবার টরন্টো অঞ্চলে প্রচার চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী এরিন ও’টুল। প্রচারের শেষ দিকে এসে দুই প্রার্থীরই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভোট বিভাজনের শঙ্কা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দলের পাশাপাশি তুলনামূলক কম জনপ্রিয় দুটি দলের প্রতি মানুষের সমর্থন বেড়েছে। দল দুটি হলো বামঘেঁষা নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) ও পপুলিস্ট বা গণমানুষের কথা বলার দাবি করা পিপলস পার্টি অফ কানাডা (পিপিসি)।

জরিপ সংস্থা সুন্দাশ লেজারের সবশেষ জরিপ বলছে, ট্রুডোর উদারপন্থি (লিবারেল পার্টি) ও টুলের রক্ষণশীলদের (কনজারভেটিভ) মধ্যে জনসমর্থনের পার্থক্য মাত্র ১ শতাংশ। ৩৩ শতাংশ সমর্থনে এগিয়ে আছে উদারপন্থিরা, ৩২ শতাংশ সমর্থন রয়েছে রক্ষণশীলদের প্রতি।

বিপরীতে এনডিপি ও পিপিসির জনসমর্থন বেড়ে যথাক্রমে ১৯ শতাংশ ও ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এ অবস্থায় নির্বাচনে দল দুটির পরাজয় নিশ্চিত হলেও তাদের প্রাপ্ত ভোট প্রধান দুই দলের হারজিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা ট্রুডো ও টুলের।

৪৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো এবারের নির্বাচনে জিতলে টানা তৃতীয়বার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। বর্তমান পার্লামেন্টে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় প্রশ্নের মুখে জনসমর্থনের প্রমাণ দিতে আগাম নির্বাচন দিয়েছেন তিনি।

কিন্তু তার এ পদক্ষেপ বুমেরাং হয়ে আঘাত করতে বসেছে ট্রুডোকেই। মহামারির চতুর্থ ধাক্কা আসন্ন পরিস্থিতির মধ্যে আগাম নির্বাচনের দরকার ছিল কি না, সে প্রশ্নে তোপের মুখে ট্রুডোর ভাগ্য; যার সুযোগে গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে গেছে প্রধান বিরোধী দলের। এ অবস্থায় এখন প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতেই মরিয়া ট্রুডো।

ওন্টারিওর অরোরায় ট্রুডো বলেন, ‘এনডিপি যা-ই বলুক না কেন, জনগণ কনজারভেটিভ আর লিবারেলদের মধ্য থেকেই কাউকে সরকার হিসেবে বেছে নেবে। আর আমাদের সরকার উদারপন্থি কি না, তার প্রভাব কানাডার সমাজে পড়বেই।’

৩৬ দিনের নির্বাচনী প্রচারের শেষ তিন দিনের দুই দিনই ওন্টারিওতে কেটেছে ট্রুডোর। কারণ জনমত জরিপ বলছে, ওন্টারিওতে এনডিপির ভাগ্যে কোনো আসন জুটলে ভাগ পড়বে উদারপন্থিদের আসনসংখ্যায়।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফল হতে পারে, আবারও জগমিৎ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এনডিপির সঙ্গে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে হতে পারে ট্রুডোর দলকে।

শনিবার প্রকাশিত আরেকটি জরিপের ফলে ট্রুডোর দল এগিয়ে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটে, বিপরীতে রক্ষণশীলদের প্রতি সমর্থন ২৭ দশমিক ৭ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলেও কোনো দলই একক সরকার গঠন করতে পারবে না।

৩৩৮ আসনের হাউস অফ কমন্সে একক সরকার গঠনে কমপক্ষে ১৭০টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলকে।

জনমত জরিপের ফলের ওপর ভিত্তি করে ট্রুডোকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এটাই তার শেষ নির্বাচন হতে যাচ্ছে কি না। তিনি বলেছেন, ‘এখনও অনেক কাজ বাকি এবং আমি সব কাজ শেষ করার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারিনি।’

রক্ষণশীল নেতা এরিন ও’টুল শনিবারের প্রচারে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘ট্রুডো তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’

পিপিসিকে একহাত নিতে লিবারেলদের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারদের জন্য কনজারভেটিভই একমাত্র বিকল্প বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনডিপি যেমন লিবারেলদের জন্য, তেমনি পিপিসি কনজারভেটিভদের ভোটে ভাগ বসাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ জেলাগুলোতে পিছিয়ে যেতে পারে প্রধান দুই দল।

আরও পড়ুন:
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে
মিয়ানমারে বিমান বাহিনীর ২ ঘাঁটিতে হামলা
আসিয়ান সম্মেলনে যেতে চায় মিয়ানমারের ছায়া সরকার
মিয়ানমারে কারামুক্ত আরও ২৩ হাজার কয়েদি
রাতভর হত্যা, মিয়ানমারকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণার আহ্বান

শেয়ার করুন