গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা

গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে কাপড় বিতরণ করছেন ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা

‘এক কথায় কাউকে কিছু দেওয়ার মধ্যে আনন্দ অন্য রকম। বলে বুঝাতে পারব না। আল্লাহ যদি আমাকে আরও দেয়, আমি আরও দান করতে চাই।’

মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলে চলেন নিজেরাই। করোনা পরিস্থিতিতে আরও বিপাকে আছে যারা তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টায় ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা।

শনিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া ১ নং ওয়ার্ডে প্রায় ২০০ জনের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন তিনি। এদের মধ্যে ১৫০ জনকে দেয়া হয়েছে শাড়ি।

এর উদ্যোক্তা নাছিমা নামে একজন।

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারিতে বহু মানুষ কষ্টে আছে। লকডাউনে অর্থনৈতিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় তারা। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর আমার মূল উদ্দেশ্য।’

এ রকম সহায়তা অবশ্য বরাবরই করেন নাছিমা। তিনি বলেন, ‘আমার গুরু মা দিপালী কাশ্মীরি আমাকে আদেশ করেছেন। তা তাই আমি প্রতিবছর গরিব দুখি মানুষের মাঝে কাপড়, লুঙ্গি বিতরণ করে থাকি।

‘আল্লাহ আমার যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে, আমি একইভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে যাব।’

গত বছর ৩০০ জনকে শাড়ি-লুঙ্গি দিয়েছিলেন বলে জানান নাছিমা।

রূপগঞ্জের উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া গ্রামে বসবাস তার।

তিনি জানান, তাদের দল রূপগঞ্জে ও ডেমরা থানার একাংশ এলাকা থেকে টাকা তুলে থাকে। তার অধীনে আট-নয় জন শিশু আছে।

নাছিমা জানান যে টাকা উঠে তার একটি অংশ শিশুদের মধ্যে বিলিয়ে দেন তিনি। তারা এই টাকায় খাওয়া দাওয়া করে। বাকি টাকা থেকে মসজিদ-মাদ্রাসায় সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন তারা।

তিনি বলেন, ‘কোনো গরিব মানুষ যদি এসে তার কষ্টের কথা জানায় তাদেরকেও টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি।’

ট্রান্সজেন্ডারদের টাকা তোলা নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা আছে। তাদের মধ্য থেকেই এর জনের দেয়ার এই মানসিকতার প্রশংসাও আছে রূপগঞ্জে।

নাছিমা বলেন, ‘এক কথায় কাউকে কিছু দেওয়ার মধ্যে আনন্দ অন্য রকম। বলে বুঝাতে পারব না। আল্লাহ যদি আমাকে আরও দেয়, আমি আরও দান করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

রাঙ্গামাটিতে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যা

গুলিতে নিহত চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেথোয়াই মারমা। ছবি: নিউজবাংলা

কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে সন্তু লারমার জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বাড়িতে ঢুকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নে শনিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী।

৫৬ বছর বয়সী নিহত নেথোয়াই মারমা ১১ নভেম্বর চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী লোক নেথোয়াইয়ের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

এই হত্যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

এ বিষয়ে জেএসএসের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাতব্বর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামমী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আমি জেলার আওয়ামী লীগের সব পদপ্রার্থীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানাই।’

ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, মরদেহ আনতে পুলিশের টিম রওনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

কাশ্মীরে ৬ দিনে ৯ ভারতীয় সেনার মৃত্যু

কাশ্মিরে ভারতীয় সেনা

পুঞ্চ-রাজৌরির ডেরা কি গালি এলাকার ঘন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল। অভিযানের শুরুতেই একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) সহ পাঁচ জওয়ান নিহত হন।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর দেশটির দুই সেনা নিখোঁজ হন। গত বৃহস্পতিবার নিখোঁজের এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর সৈন্যদের খুঁজতে সেনাবাহিনী ঘন জঙ্গলে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছিল।

নিখোঁজের প্রায় ৪৮ ঘন্টা পর, শনিবার পুঞ্চ এবং রাজৌরির জঙ্গলে রাইফেলম্যান যোগম্বর সিং এবং রাইফেলম্যান বিক্রম সিং নেগির মরদেহ পাওয়া গেছে।

এই এলাকাতেই গত চার দিন আগে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর আরও পাঁচ সৈনিক নিহত হন।

পুঞ্চ-রাজৌরির ডেরা কি গালি এলাকার ঘন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনী তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল। অভিযানের শুরুতেই একজন জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) সহ ওই পাঁচ জওয়ান নিহত হন। পরে সেখানে আরও সৈন্য পাঠানো হয়। এরপর থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনী ওই এলাকায় এক দীর্ঘতম সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করেছে।

পরে গত শুক্রবার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়। আগের দিন সন্ধ্যায় নার খাস বন এলাকায় অভিযানের সময় এক জেসিও ও এক সৈনিক গুরুতর আহত হন। এই আঘাতের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়।

সোম থেকে শনিবার পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী সেনা অভিযানে দেশটির মোট ৯ সেনার মৃত্যু হয়েছে।

তবে শনিবার অভিযানের ষষ্ঠ দিন পর্যন্ত কোনো সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। গত কয়েক বছরে এই প্রথম দেশটির সেনাবাহিনীর একক অভিযানে এত সৈন্য নিহত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার কারণে পুঞ্চ জম্মু হাইওয়ে বন্ধ রেখেছে।

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

দাঁড়ানো ট্রাকে বাইকের ধাক্কা, নিহত দুই

দাঁড়ানো ট্রাকে বাইকের ধাক্কা, নিহত দুই

প্রতীকী ছবি।

শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে রাজাবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন কাজল ও কালাম। ইকো কয়েল কারখানার সামনে সড়কের ওপর একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। মোটরসাইকেলটি সেই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।

শ্রীপুর-রাজাবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের জয়নারায়ণপুর এলাকায় শনিবার রাত ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, শ্রীপুরের মালিপাড়া গ্রামের ৩০ বছরের কাজল সরদার ও ভিটিপাড়া গ্রামের ৪০ বছরের আবুল কালাম।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে করে রাজাবাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন কাজল ও কালাম। ইকো কয়েল কারখানার সামনে সড়কের ওপর একটি ট্রাক দাঁড়ানো ছিল। মোটরসাইকেলটি সেই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মোটরসাইকেল চালক কাজল। হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় আরোহী কালামের।

নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার দুই

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার দুই

ওসি কাওসার আলী জানান, শুক্রবার ওই তরুণীর সঙ্গে সদরে দেখা করতে আসেন তার প্রেমিক মাহবুব। সঙ্গে ছিল তার বন্ধু পলাশ। এক পর্যায়ে কাশবনে ছবি তোলার কথা বলে ওই তরুণীকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া চরে নিয়ে আসেন মাহবুব ও তার বন্ধু।

গাইবান্ধায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সাঘাটা উপজেলার ভাঙামোড় এলাকা থেকে শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা হলেন, সাঘাটা উপজেলার ২১ বছরের মাহবুব ও ২০ বছরের পলাশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, সদরের এক তরুণীর সঙ্গে সাঘাটা উপজেলার মাহবুব নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শুক্রবার ওই তরুণীর সঙ্গে সদরে দেখা করতে আসেন মাহবুব। সঙ্গে ছিল তার বন্ধু পলাশ।

এক পর্যায়ে কাশবনে ছবি তোলার কথা বলে ওই তরুণীকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া চরে নিয়ে যান মাহবুব ও তার বন্ধু।

সেখানে প্রেমিক মাহবুব তাকে ধর্ষণ করে। পরে এতে যুক্ত হন পলাশও। ধর্ষণ শেষে তরুণীকে ফেলে পালিয়ে যায় দুইজন। পরে স্থানীয়রা তরুণীকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়।

শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখলেও, শনিবার সন্ধ্যায় তরুণীর পরিবার সব জানতে পারে। তরুণীর মা রাতেই ফুলছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এর কিছু সময় পর গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্তকে।

ওসি কাওসার আলী আরও জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার দুইজনকে আদালতে তোলা হবে।

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

দুর্গন্ধের উৎস খুঁজে মিলল চিকিৎসকের মরদেহ

দুর্গন্ধের উৎস খুঁজে মিলল চিকিৎসকের মরদেহ

নিকুঞ্জে এই বাসা থেকেই এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

খিলক্ষেত থানার ওসি মুন্সি সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, এমন খবরে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। দরজা ভেঙে খাটে শোয়া অবস্থায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করি।’

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এর একটি বাসা থেকে সদ্য পাশ করা এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম জয়দেব চন্দ্র দাস।

শনিবার রাত ৮টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নম্বর সড়কের নরেন নিবাস নামে একটি বাড়ির ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

এক সপ্তাহ আগে ওই এলাকার এক ছাত্রী হোস্টেল থেকে আরেক নারী চিকিৎসকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, এমন খবরে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। দরজা ভেঙে খাটে শোয়া অবস্থায় একজনের মরদেহ উদ্ধার করি।’

পাশের কক্ষের বাসিন্দা ও অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ওসি সাব্বির বলেন, ‘উনি সিলেট ওসমানি মেডিক্যাল থেকে পাস করেছেন। ঢাকায় কোনো হাসপাতালে চাকরি করছিলেন কিনা তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।’

যে ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে চিকিৎসকরা মেস করে থাকতেন।

বাড়ির দারোয়ানের বরাতে ওসি সাব্বির জানান, তিন দিন আগে জয়দেব বাসায় প্রবেশ করেছেন। এরপর আর বের হননি।

ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ক্রাইম সিন ইউনিট গিয়েছে। আলামত সংগ্রহ শেষে সুরতহাল করা হবে। পরে পাঠানো হবে ময়নাতদন্তের জন্য।

জয়দেব চন্দ্রের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা প্রাথমিকভাবে কিছু বলছে না পুলিশ। তারা বলছে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জানা যাবে মৃত্যুর কারণ।

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন নিউজবাংলাকে জানান, সকালে শিশুটি নিখোঁজের খবর পেয়ে ডুবুরি দল বুড়িগঙ্গা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর আতিফ আফনান নামে পঞ্চম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জের শাহিন কোলস্টোর ঘাট এলাকা থেকে শনিবার বিকেল ৫টার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সকাল ৯টার দিকে নদীর তীরে থাকা একটি বাল্কহেড থেকে অন্যটিকে লাফ দিয়ে যাওয়ার সময় নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় শিশুটি।

লক্ষীপুর জেলার দোলাকান্দী মাওলানা বাড়ির শাহাদাত হোসেনের ছেলে আতিফ আফনানের বয়স ১২ বছর। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে ফতুল্লার হরিহরপাড়া আমতলা এলাকায় বসবাস করেন এবং ধর্মগঞ্জ ইসলামিয়া আরাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন নিউজবাংলাকে জানান, সকালে শিশুটি নিখোঁজের খবর পেয়ে ডুবুরি দল বুড়িগঙ্গা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান জানান, সন্ধ্যার দিকে শিশুটির মরদেহ তার পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা কোনো মামলা হয়নি।

আফনানের বাবা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সকালে জানতে পারি আফনান নদীতে পড়ে গেছে। আমরা নদীর তীরে গিয়ে তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করছি, কিন্তু পাইনি। আফনান সাঁতার জানে না। পরে জানতে পারি আফনান সকাল ৯টায় দিকে তার মাদ্রাসার সহপাঠীদের সঙ্গে নদীর তীরে ঘুরতে গিয়েছে সেখানে।’

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন

উত্তরবঙ্গ যাত্রার বাসস্টপ অজ্ঞান পার্টির ‘হটস্পট’

উত্তরবঙ্গ যাত্রার বাসস্টপ অজ্ঞান পার্টির ‘হটস্পট’

অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খোয়ানো এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফাইল ছবি

দুপুরে বাসটি সিরাজগঞ্জের ফুড ভিলেজে যাত্রাবিরতি দেয়। তিনজন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। খাওয়া শেষে দুই যুবকের একজন শরীফকে ডাব খাওয়ার প্রস্তাব দেন। যুবক নিজেও ডাব খেয়ে বলেন, বেশ ভালো খেতে পারেন। পরে ডাব খেয়ে বাসে ওঠেন ওমর শরীফ। এরপর আর কিছু জানেন না, কী হয়েছে। একদিন পর নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়। দুই যুবকসহ তার মালামাল গায়েব।

নাটোরের ওমর শরীফ লন্ডন থেকে ঢাকায় আসেন ৫ অক্টোবর ভোরে। গ্রামে যেতে উত্তরার আজমপুর এলাকায় দেশ ট্রাভেলসের বাস কাউন্টারে যান। সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসে সিট না পেয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা দুই যুবক শরীফকে পরিচয় দেন তারা মিশর থেকে এসেছেন, যাবেন নাটোরে।

মিশর থেকে আসা দুজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিট না পেয়ে কল্যাণপুর যাবেন। শরীফকেও প্রস্তাব দেন একসঙ্গে কল্যাণপুর যাওয়ার।

পরে রাজি হলে একটি সিএনজিঅটোরিকশায় কল্যাণপুর যান। সেখানে দুই যুবকের একজন নিজের নামে কাউন্টার থেকে শরীফসহ তিনজনের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিট কেটে রওনা হন।

দুপুরে বাসটি সিরাজগঞ্জের ফুড ভিলেজে যাত্রাবিরতি দেয়। তিনজন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খান। খাওয়া শেষে দুই যুবকের একজন শরীফকে ডাব খাওয়ার প্রস্তাব দেন। যুবক নিজেও ডাব খেয়ে বলেন, ‘বেশ ভালো খেতে পারেন।’

পরে ডাব খেয়ে বাসে ওঠেন ওমর শরীফ। এরপর আর কিছু জানেন না, কী হয়েছে। একদিন পর নিজেকে আবিষ্কার করেন হাসপাতালের বিছানায়। দুই যুবকসহ তার মালামাল গায়েব।

শরীফের সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলো বাসের বক্সে রাখা হয়েছিল ওই টিকিটের অধীনে। যা দুই যুবকের একজনের নামে করা। এ ঘটনায় নাটোরের বড়াইগ্রামে মামলা করেন ওমর শরীফ।

শুধু ওমর শরীফ নন, এ ধরনের শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে একই কৌশলে অজ্ঞানের পর লুট করা হয়েছে মালামাল।

রাজধানীর উত্তরা ও বিমানবন্দর কেন্দ্রিক এমন অজ্ঞানপার্টির সক্রিয় চক্রের সদস্যদের সন্ধানে দীঘদিন ধরেই কাজ করছিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

গত ৭ অক্টোবর মিশরফেরত লিটন সরকার নামে এক যুবকের মালামাল লুটের ঘটনায় চক্রের হোতা আমির, আপেল ও শামীমকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের উত্তরা বিভাগ। শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শামীমের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীতে এবং আপেল ও আমিরের বাড়ি জামালপুরে। তাদের চক্রে আরও সদস্য রয়েছে। তাদেরকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের ডিবি জানায়, তারা উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের টার্গেট করে ফুড ভিলেজে নিয়ে কৌশলে অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নিত।

ডিবি জানায়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বাসিন্দা লিটন সরকার ৭ অক্টোবর সকালে টার্কিস বিমানে ঢাকায় আসেন। এরপর সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিমানবন্দরের সামনে ফুটওভার ব্রিজের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে এসে গন্তব্য সম্পর্কে জানতে চায়। মাইক্রোবাসে পৌঁছে দেয়ার অফার দেন।

লিটন এ সময় প্রয়োজন নেই জানালে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয় অজ্ঞাতপরিচয় ৪-৫ জন। ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন লিটন।

মামলার তদন্তের এক পর্যায়ে ডিবির বিমানবন্দর জোনাল টিম এই চক্রের সদস্যকে চিহ্নিত করে। শনিবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মূলত অজ্ঞানপার্টির সদস্য বলে স্বীকার করেন।

লিটন তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় লুটের পথে পা বাড়ান বলে জানায় চক্রের সদস্যরা।

সে দিন নেশা করার জন্য তাদের টাকার বেশি প্রয়োজন ছিল বলেও স্বীকার করেন।

অজ্ঞানপার্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা চলতি মাসের ৫ তারিখ ওমর শরীফের ঘটনা জানান। এরপর গোয়েন্দা পুলিশ নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় মামলার খুঁজে পান।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, নাটোরের বড়াইগ্রাম পৌঁছানোর আগের একটি বাস স্টপে নেমে যায় ওই চক্রের সদস্যরা। নেমে যাওয়ার সময় ওমর শরীফকে বড়াইগ্রাম নামিয়ে দেয়ার জন্য বাসের সুপারভাইজারকে অনুরোধ করেন। বড়াইগ্রাম আসার পর ওমর শরীফকে নামার জন্য ডাক দেয়া হলে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর পুলিশের সহায়তায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করায় বাসের লোকজন।

ওই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে সিরাজগঞ্জের এক এসআইয়ের সঙ্গে অজ্ঞানপার্টির দুই সদস্যদের কথা বলার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ওই এসআইকে অজ্ঞাসপার্টির সদস্য মনে করে তুলে আনে বড়াইগ্রাম পুলিশ। নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেয়ার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর দেখা যায় আরও একটি অজ্ঞানের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওই এসআই।

তিনি তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ছদ্মবেসে কথা বলছিলেন। বিষয়টি প্রমাণের পর এসআইয়ের কাছে ক্ষমা চান বড়াইগ্রাম থানার ওসি।

সিরাজগঞ্জের ওই মামলাতেও এই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানায় ডিবি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এই তিনজনের নামে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ডজন খানেক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। যার বেশিরভাগই অজ্ঞানপার্টি সংশ্লিষ্ট।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘‘তারা এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে মালামাল লুট করেছেন। বিমানবন্দর থেকে টার্গেট করে ব্যক্তির পিছু নিয়ে তারা গাড়িতে ওঠেন। উত্তরবঙ্গের কোনো এক স্থানে গিয়ে অজ্ঞান করে মালামাল লুটে নেন। মূলত ঢাকায় উত্তরবঙ্গগামী বাসস্টপেজগুলো অজ্ঞান পার্টির ‘হটস্পট’।’’

অজ্ঞানপার্টির সদস্যদের ধরতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি ঢাকার দক্ষ পুলিশ সদস্যরাও ঢাকার বাইরে অভিযান শুরু করেছে। যার বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গকেন্দ্রীক বলে জানান ডিবির কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
দুই বেলা ভাত দেন, আর কিছু চাই না
করোনারোগীর সেবায় ‘বৃহন্নলা’
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ
ভিক্ষা নয়, কাজ চান ময়মনসিংহের ট্রান্সজেন্ডাররা
কুমিল্লায় ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২

শেয়ার করুন