উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

চীনের শিনজিয়াংয়ে ৪০০ শিবিরে উইঘুরসহ ১০ লাখ মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন সংস্থা। ছবি: এইচআরডব্লিউ

এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, কথিত ‘রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র’, বিচারপূর্ব আটককেন্দ্র ও কারাগারসহ ৪০০ শিবিরে ১০ লাখের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। মা-বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে, এমন সন্তানদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাখা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে।

চীনের জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুরদের প্রতি দেশটির সরকারের আচরণ মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটির মতে, শুধু উইঘুরই নয়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতিও একই কায়দায় দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বেইজিং।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন ‘ব্রেক দেয়ার লাইনএইজ, ব্রেক দেয়ার রুটস’-এ এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

৫৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, শিনজিয়াংয়ের বাসিন্দাদের কোণঠাসা করতে গণআটক অভিযান, নির্যাতন, সাংস্কৃতিক নিপীড়নসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে চীনা সরকার।

প্রতিবেদনে উইঘুরদের গুম, নজরদারি, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, বিদেশ থেকে চীনে ফিরতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজ করানো, যৌন সহিংসতা ও সন্তান জন্মদানের অধিকার কেড়ে নেয়ার মতো বিভিন্ন আচরণের কথা তুলে ধরা হয়।

স্ট্যানফোর্ড ল’ স্কুলের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রেজোল্যুশন ক্লিনিকের সহযোগিতায় লেখা প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো বেইজিংয়ের জন্য নতুন নয়। তবে সম্প্রতি নতুন মাত্রা নিয়েছে অত্যাচারের ধরন।

এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, কথিত ‘রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র’, বিচারপূর্ব আটককেন্দ্র ও কারাগারসহ ৪০০ শিবিরে ১০ লাখের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। মা-বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে, এমন সন্তানদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাখা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে।

উইঘুরদের দমনে ২০১৭ সাল থেকে তৎপরতা জোরদার করে বেইজিং। ১৪০ কোটি মানুষের দেশ চীনের মাত্র দেড় শতাংশের বাস শিনজিয়াংয়ে। অথচ সারা দেশে যত মানুষ গ্রেপ্তার, তার ২১ শতাংশই এ প্রদেশে। গত পাঁচ বছরে অঞ্চলটিতে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে ৩০৬ শতাংশ।

২০১৭ সাল থেকে অঞ্চলটির দুই-তৃতীয়াংশ মসজিদ চীনা সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এইচআরডব্লিউর চীনের পরিচালক সোফি রিচার্ডসন বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের অর্থ হলো মানুষ হিসেবে প্রাপ্য কিছু অধিকার গুরুতর পর্যায়ে লঙ্ঘনের অপরাধ। বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত ও ঢালাওভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। শিনজিয়াংয়ে যা ঘটছে, আন্তর্জাতিক আইনে তা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

উইঘুরদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে চীনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এইচআরডব্লিউর নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ।

উইঘুরদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের আচরণকে আগেই ‘জেনোসাইড’ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। উইঘুর ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডা।

বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীনা সরকার। বেইজিংয়ের দাবি, উগ্রবাদ ঠেকাতে শিবিরগুলোতে উইঘুর মুসলমানদের কারিগরি শিক্ষা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’

‘মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ’

মোদির বিকল্প মুখ মমতাই, রাহুল নয়- সুদীপ। ছবি: সংগৃহীত

‘মোদির বিকল্প হিসেবে জবরদস্ত, বিশ্বাসযোগ্য মুখ সামনে রেখে প্রচারে যেতে হবে। আর তা হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

জোটের রাস্তা খোলা রেখে মোদিবিরোধিতায় মমতাই যোগ্য মুখ বলে কংগ্রেসকে খোলাখুলি বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপের কর্মীসভায় দেয়া একটি বক্তব্যের অংশ ছেপে শুক্রবার তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ‘জাগো বাংলা’ মুখপত্রটিতে।

সেখানে সুদীপ বলেছেন, ‘রাহুল গান্ধীকে আমি বহুদিন চিনি। বলতে বাধ্য হচ্ছি, তিনি এখনও নরেন্দ্র মোদির বিকল্প মুখ হয়ে উঠতে পারেননি।

‘আমরা সব বিরোধীদলের সঙ্গে কথা বলেই মমতাকে বিকল্প মুখ হিসেবে সামনে রেখে প্রচারে যাব। তবে কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে আমরা কখনই বিকল্প জোটের কথা বলছি না।’

তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘রাহুল সুযোগ পেয়েছেন, কিন্তু পারেননি। বারবার নির্বাচনি ব্যর্থতায় সুযোগ ও সময় নষ্ট করা যাবে না।

‘মোদির বিকল্প হিসেবে জবরদস্ত, বিশ্বাসযোগ্য মুখ সামনে রেখে প্রচারে যেতে হবে। আর তা হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

তৃণমূলের তরফে মোদিবিরোধী জোটের নেতৃত্ব দেয়ার বার্তা প্রকাশের পরই কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী তার প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন ‘তৃণমূলের এই বার্তায় সবচেয়ে খুশি হবেন নরেন্দ্র মোদি। কারণ, প্রধানমন্ত্রী চান আঞ্চলিক দলগুলো যেন ঐক্যবদ্ধ হতে না পারে।’

অধীর আরও বলেন, ‘বিজেপি পাঞ্জাবকে সাহায্য করছে। বাংলায় হয়তো তৃণমূলকে সাহায্য করবে। বিজেপি বলে, রাহুল পারবেন না। একথা তৃণমূল বললে বিজেপির সঙ্গে তাদের পার্থক্য কমবে।’

মোদিবিরোধী জোটের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘১৯টি দল সংসদের ভেতরে-বাইরে বিজেপির বিরোধিতা করছে। এ আন্দোলন চলবে। কিন্তু কোনো ফ্রন্ট এখনো তৈরি হয়নি। ভোটের অনেক দেরি। এর মধ্যে অনেক রকম প্রস্তাব আসতে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন

তৃণমূলে যোগ দিলেন বাবুল সুপ্রিয়

তৃণমূলে যোগ দিলেন বাবুল সুপ্রিয়

রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রেয়ান ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন বিজেপি সাংসদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। ছবি: সংগৃহীত

তৃণমূলে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কী ক্ষমতা আপনারা সবাই জানেন। সাত বছর ধরে আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাঙালি হিসেবে কোন কাজ করতে পারিনি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কাজ করার সুযোগ আমার সামনে এসেছে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে আমি সেই সুযোগটি নিয়েছি।’

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর শনিবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের বিজেপি সাংসদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলে যোগ দেন।

এদিন রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ওব্রেয়ানের উপস্থিতিতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন বাবুল।

তৃণমূলে যোগ দিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কী ক্ষমতা আপনারা সবাই জানেন। সাত বছর ধরে আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য বাঙালি হিসেবে কোন কাজ করতে পারিনি। পশ্চিমবঙ্গের জন্য কাজ করার সুযোগ আমার সামনে এসেছে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে আমি সেই সুযোগটি নিয়েছি।’

এদিন বাবুল বলেন, ‘মমতা দিদি, অভিষেক দায়িত্ব দিচ্ছেন। আমি খুব উৎসাহী। মন থেকে রাজনীতি ছেড়ে ছিলাম। মন থেকে পশ্চিমবঙ্গের কাজ করার সুযোগ গ্রহণ করলাম।’

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন টুইট করে লেখেন, ‘খেলা হবে’।

সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে বাবুলকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল। তিনি ইস্তফা দিয়ে দেন। এরপর তার রাজনৈতিক জীবন নিয়ে জলঘোলা হয়।

বাবুল রাজনীতি, এমনকি সাংসদ পদ ছেড়ে দেয়ার কথা ফেসবুকে ঘোষণা করেন। সে সময় তিনি বলেন সমাজসেবা করতে কোন দল লাগে না। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে দল না ছাড়ার পরামর্শ দিলে, তিনি বলেছিলেন তার একটাই দল, বিজেপি। মানুষের কথা ভেবে তিনি এখনই সাংসদ পদে ইস্তফা দিচ্ছেন না।

সম্প্রতি ভবানীপুর উপনির্বাচনে বিজেপির তারকা প্রচারকের তালিকায় তার নাম ছিল। যদিও বাবুল প্রচারে অংশ নেবেন না বলে আগেই জানিয়ে ছিলেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারে অংশ নেবেন কিনা সে প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে বাবুলকে লাগে না। তবে দল চাইলে যাবো।’

শুক্রবার বাবুলের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাবুল সুপ্রিয় আচমকা তৃণমূলে যোগ দেয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তবে কি অর্পিতা ঘোষের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভা সাংসদ পদে যাচ্ছেন বাবুল সুপ্রিয়। সূত্রের খবর, বাবুল সাংসদ পদ ছেড়ে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

মোদির জন্মদিনে টিকায় বিশ্ব রেকর্ড ভারতের

ভারতে এক দিনে আড়াই কোটি মানুষকে টিকা দেয়া হয়। ছবি: এনডিটিভি

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস। সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে রেকর্ড টিকাদানের পরিকল্পনা নিয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার মধ্য দিয়ে।

১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বর্তমান গুজরাটের বড়নগরে জন্ম হয় নরেন্দ্র দামোদারদাস মোদির। শুক্রবার তার জন্মদিনে ভারতে টিকা দেয়া হয় দুই কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ জনকে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্দাবিয়া শুক্রবার রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে টুইট করে টিকাদানে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও একই বিষয় জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকের রেকর্ড সংখ্যার জন্য গর্ব বোধ করবেন প্রতিটি ভারতীয়।’

টিকাদান অভিযান সফল করতে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও সম্মুখসারির কর্মীদের ধন্যবাদ জানান মোদি।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে আড়াই কোটি টিকা দেয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। এক দিনে সে লক্ষ্যের বেশি মানুষকে টিকা দেয়া হয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে এক দিনে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৪৭ লাখ মানুষকে টিকা দিয়েছিল চীন।

ভারতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেয়ার পর টুইটে অভিনন্দন বার্তা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অফিস।

সরকারের ট্র্যাকারে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৮০০ বা এক মিনিটে প্রায় ৪৮ হাজার মানুষের টিকা নেয়ার তথ্য উঠে এসেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) প্রধান আর এস শর্মা শুক্রবার সন্ধ্যায় এনডিটিভিকে বলেন, দিনটি ঐতিহাসিক।

ওই সময় তিনি দেশব্যাপী টিকাদানে যুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন।

সরকারের শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এনকে অরোরা বলেন, কয়েক মাসের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকা দেয়া সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

কাবুলে বেসামরিক নাগরিক হত্যার কথা স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে গাড়িতে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হয় এক পরিবারের ১০ সদস্য। ছবি: এএফপি

গত ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়। নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের আগে দেশটির রাজধানী কাবুলে ড্রোন হামলায় ১০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট ভেবে গাড়িতে ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, যার বলি হয় একটি পরিবারের সদস্যরা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ আগস্টের ওই হামলায় এক ত্রাণকর্মী ও তার পরিবারের অন্য ৯ সদস্য নিহত হয়।

নিহত ১০ জনের মধ্যে সাত শিশু রয়েছে। সবচেয়ে ছোট শিশুটির বয়স দুই বছর।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে দেশটিতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। পরে ‘অজেয়’ উপত্যকা পাঞ্জশিরও দখলে নেয় সংগঠনটি।

তালেবানের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার পরই কাবুল থেকে সামরিক-বেসামরিক নাগরিকদের প্রত্যাহারে তোড়জোড় শুরু করে বিভিন্ন দেশ। এ পরিস্থিতির মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। সে হামলার কয়েক দিন পর ড্রোন হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

ড্রোন হামলার বিষয়ে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তা জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি বলেন, ত্রাণকর্মীর গাড়িটি আটঘণ্টা ধরে ট্র্যাক করা হচ্ছিল। ধারণা ছিল, গাড়িটি আইএসের স্থানীয় শাখা আইএস-কে সংশ্লিষ্ট।

ম্যাকেঞ্জির মতে, হামলাটি ছিল ‘বেদনাদায়ক ভুল’।

যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত অনুযায়ী, জামাইরি আহমাদি নামের ত্রাণকর্মী

কাবুল বিমানবন্দর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে নিজ বাড়িতে গাড়িতে চড়ার পরপরই হামলা চালানো হয়।

বোমা হামলার পর আরেকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়, যাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, গাড়িতে বিস্ফোরক ছিল। তবে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলিন্ডার থেকে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ হতে পারে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করা এক অনুবাদকও রয়েছেন, যার নাম আহমদ নাসের।

তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেন, ‘আমরা এ পর্যায়ে এসে জানতে পেরেছি, আহমাদির সঙ্গে আইএস-খোরাসানের কোনো যোগসূত্র ছিল না। ওই দিন (হামলার সময়) তার কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অহিংস ছিল এবং সেটি ছিল আমাদের মনে করা আসন্ন হুমকির একেবারে উল্টো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ এ ভুল থেকে শিক্ষা নিতে সচেষ্ট হব।’

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন

স্বাভাবিক রূপে ফিরছে পাঞ্জশির

স্বাভাবিক রূপে ফিরছে পাঞ্জশির

পাঞ্জশিরের প্রবেশদ্বার। ছবি: সংগৃহীত

খুলে দেয়া হয়েছে পাঞ্জশিরের রাস্তাগুলো; ফিরে এসেছে টেলিফোন নেটওয়ার্ক। তবে পাঞ্জশিরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে তালেবান ও স্থানীয় প্রতিরোধী বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সেখানকার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

তালেবান ও স্থানীয় যোদ্ধাদের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের প্রায় ২০ দিন পর স্বাভাবিক রূপে ফিরতে শুরু করেছে আফগানিস্তানের পর্বতঘেরা প্রদেশ পাঞ্জশির। সেখানকার রাস্তাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্কেও মেরামতের কাজ চলছে।

পাঞ্জশিরের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকর্তা এবং বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য দিয়েছে টলোনিউজ

অবশ্য বাসিন্দাদের অনেকে বলছেন, রাজ্যটিতে এখনও বিদ্যুৎ ফেরেনি।

স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়াসি আলমাস বলেছেন, ‘টেলিকম নেটওয়ার্ক গতকাল থেকে কাজ করছে। বড় সমস্যা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন, যা এখনও সমাধান হয়নি।’

পাঞ্জশিরের বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে তালেবান ও স্থানীয় প্রতিরোধী বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সেখানকার বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। তারা পাহাড়-পর্বতের ঢালে আশ্রয় নিয়েছে। মারাত্মক সংকটে পড়েছে তারা।

পাঞ্জশিরের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এক বাসিন্দা বলেন, ‘অর্থনৈতিক দুর্দশা দেখা দিয়েছে। মানুষজনকে অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।’

প্রদেশটির আরেকজন বাসিন্দা বলেন, ‘১০০ ভাগ মানুষের মধ্যে এখন ১০ ভাগ মানুষ এখানে বাস করছে। বাকিরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।’

অবশ্য পাঞ্জশিরের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রদেশটির পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা মৌলভি সানা সানগিন ফাতিহ বলেন, ‘নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের রক্ষা আমাদের দায়িত্বের বাধ্যবাধকতা। বিদ্যুৎ নেই, খাদ্য নেই- এসব যা বলা হচ্ছে তা মিথ্যা।’

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নিলেও পাঞ্জশির নিয়ন্ত্রণে নিতে পারছিল না তালেবান। তুমুল লড়াই শেষে গত ৬ আগস্ট আফগানিস্তানের সবচেয়ে ছোট প্রদেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় কট্টর ইসলামপন্থি সংগঠনটি।

প্রদেশটিকে তালেবান মুক্ত রাখার ঘোষণা দেন ‘পাঞ্জশিরের সিংহ’ খ্যাত আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ, কিন্তু সম্ভব হয়নি। প্রথমবারের মতো কোনো শক্তির কাছে পরাজিত হয় ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের (এনআরএফ)।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর, এনআরএফ প্রধান আহমেদ মাসুদ যুক্তরাষ্ট্রে একজন লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন, যাতে তার বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সহায়তা পায়।

আহমেদ মাসুদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, লবিস্ট নিয়োগ দেয়ার উদ্দেশ্য, যুক্তরাষ্ট্র যাতে তালেবানকে স্বীকৃতি না দেয়, এ বিষয়ে নিরুৎসাহিত করা।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই কাজ করে যাচ্ছে তালেবানও। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈধতা এবং অর্থ সহায়তা পেতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন

৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার

অদম্য জয়ন্ত কানড়োইয়ের কাছে ছয়বার হার মেনেছে ক্যানসার। ছবি: দ্য বেটার ইন্ডিয়া

২০২০ সালের নভেম্বরে ষষ্ঠবার ক্যানসার শনাক্তের পর অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের জটিল চিকিৎসার যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয় জয়ন্তকে। তিনি বলেন, ‘ছয়বার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছি। প্রায় প্রতিবারই দেহের নতুন কোনো অংশ আক্রান্ত হয়েছে। যতবার অসুস্থ হয়েছি, আত্মীয়রা আমার মা-বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিল কোনো হাসপাতালে আমাকে ফেলে রেখে আসতে। তারা ভেবেছিল যে আমি যেহেতু বাঁচবোই না, শুধু শুধু কেন আমার বোঝা টানবেন আমার মা-বাবা।’

২৩ বছর বয়সী ভারতীয় যুবক জয়ন্ত কানড়োইয়ের ওজন মাত্র ৩৬ কেজি, কিন্তু তার কণ্ঠের বলিষ্ঠতায় স্পষ্ট লড়াকু ব্যক্তিত্ব। জয়ন্তর প্রতিদ্বন্দ্বী সহজ কেউ নয়। প্রাণঘাতী রোগ ক্যানসারের সঙ্গে তার লড়াই চলছে কিশোর বয়স থেকে। জীবন জয়ের যুদ্ধে গত নয় বছরে ছয়বার ক্যানসারকে হারিয়েছেন তিনি।

জয়ন্ত জানান, গত নয় বছরে গুণে গুণে এক হাজার ২৩৭ দিন বা প্রায় চার বছরই হাসপাতালে কেটেছে তার। ক্যানসারকে জিততে না দিলেও তার শরীরজুড়ে রোগটির ধ্বংসলীলা। ১৭টি কেমোথেরাপি, ৬০টির বেশি রেডিওথেরাপি আর অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের মতো কঠিন চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।

একের পর এক অস্ত্রোপচার, আর শরীর-মনের শক্তি নিংড়ে নেয়া ওষুধ, আর স্বাস্থ্যপরীক্ষার কষ্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছেন জয়ন্ত। তার কাছে ক্যানসার এখনও অজেয়।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের আজমির শহরের বাসিন্দা জয়ন্ত। ২০১৩ সালে যখন দশম শ্রেণির ছাত্র সে, তখন প্রথম ক্যানসার ধরা পড়ে তার।

তিনি বলেন, ‘ঘাড়ের ডান দিকে মাংসপিণ্ডর মতো কিছু একটা অনুভব করি। পরে জানা যায়, এটা ক্যানসার। সেই প্রথম হজকিন লিম্ফোমার নাম শুনি আমি। কোনো ব্যথা ছিল না। কিন্তু দিন দিন মাংসপিণ্ডটি বড় হচ্ছিল।

‘প্রথমবার অপারেশন থিয়েটার দেখি আমি সে সময়। ভয় পাইনি একটুও। জয়পুরের ভগবান মহাবীর ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি হই। অস্ত্রোপচারের পর শুরু হয় কেমোথেরাপির ধাক্কা। ছয়টি কেমোথেরাপি নিয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি প্রথম আমাকে ক্যানসারমুক্ত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সেই দিনটির সব স্মৃতি আজও চোখে ভাসে আমার।’

এরপর জয়পুর থেকে আজমিরে ফেরেন জয়ন্ত, অংশ নেন মাধ্যমিক পরীক্ষায়, নিজ ক্লাসে প্রথম হন তিনি। গর্ব নিয়ে জয়ন্ত বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের পুরো সময়েই প্রথম সারির শিক্ষার্থী ছিলাম আমি।’

এসবের মধ্যেই ক্যানসারমুক্ত জয়ন্ত তীব্র ক্লান্তিতে ভুগতেন। এতটাই যে লম্বা সময়ের জন্য স্কুলেও যেতে পারছিলেন না। অথচ পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত একটি দিনও স্কুল বাদ না দেয়ার রেকর্ড ছিল তার।

একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় জয়ন্তর দেহে আরেকটি মাংসপিণ্ড ধরা পড়ে; এবার ঘাড়ের বাম পাশে। ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আবারও ভগবান মহাবীর ক্যানসার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে শুরু করেন।

জয়ন্ত কখনোই নিজের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটতে দেননি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় উৎরে যান এসবের মধ্যেই, বিকমে পড়াশোনা শুরু করেন।

জয়ন্ত বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৭ সালের শুরুতে আবারও ক্যানসার ধরা পড়ে আমার শরীরে, এবার অগ্ন্যাশয়ে। প্রায়ই পেটে অসহ্য ব্যথা হতো। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় শেষ বর্ষে পড়াশোনার সময়। দিল্লিতে একা থাকছিলাম বলে বাবা আমাকে দ্রুত বাড়িতে ফিরে চিকিৎসা শুরু করার অনুরোধ করেন।’

দ্য বেটার ইন্ডিয়ার জুলাই মাসের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অসুস্থতা মারাত্মক রূপ নেয়ায় পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই ২০১৭ সালে আজমিরে ফেরেন জয়ন্ত। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ না করে বাড়ি ফেরার কারণে খুব কষ্টে ছিলাম। কিন্তু ব্যথাও সহ্য করতে পারছিলাম না। ভেঙেচুরে যাচ্ছিলাম মনে হতো।’

সেবার চিকিৎসকরা জানান, অগ্ন্যাশয়ের টিউমারে পৌঁছাতে জয়ন্তর পেটে নয় ইঞ্চি লম্বা ফুটো করতে হবে।

জয়ন্ত বলেন, ‘সেবারই প্রথম বাবার মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ দেখলাম। টিউমারটা মাত্র এক সেন্টিমিটার ছিল। কিন্তু পাকস্থলীর যে অংশে এটি ছিল, সে অংশটি কেটে ফেলে দিতে হবে- এই চিন্তা আমার বাবাকে কুড়ে খাচ্ছিল।’

অগ্ন্যাশয়ে টিউমার ধরা পড়ার দুই বছর পর কেমোথেরাপিসহ সব চিকিৎসা শেষ করেন জয়ন্ত। তৃতীয়বার ক্যানসারকে হারিয়ে বাড়ি ফিরেই নতুন উদ্যমে শুরু করেন পড়াশোনা। সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমে নাম লেখান তিনি, সম্পন্ন করেন স্নাতক।

জয়ন্তর বাবা ৫৭ বছর বয়সী অশোক কানড়োই বলেন, ‘পড়াশোনার জন্য ছেলেকে আবারও দূরে পাঠানোর ঝুঁকি নিতে চাইনি। ওর ডিগ্রির চেয়ে জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নয় বছর ধরে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু সন্তানের সুস্বাস্থ্য চেয়েছি। তাই চেয়ে যাব আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।’

২০১৯ সালে আবারও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন জয়ন্ত; ২০১৭ সালে যেখানে ক্যানসার ধরা পড়েছিল, ঠিক সেই একই জায়গায় ধরা পড়ে নতুন টিউমার।

চতুর্থবার ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পরও মুখের হাসি মুছতে দেননি জয়ন্ত। দীর্ঘযুদ্ধে শরীর ভেঙে পড়লেও আবারও চিকিৎসা শুরু করেন; আবারও জয়ী হয়ে ফেরেন।

গত দুই বছরে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার আর দেখা দেয়নি। কিন্তু গত বছর জয়ন্তর ডান হাতের বগলের নিচে আরেকটি টিউমার ধরা পড়ে। এবার ছেলেকে নিয়ে আহমেদাবাদের গুজরাট ক্যানসার হাসপাতালে যান বাবা।

জয়ন্ত বলেন, ‘২০২০ সালের ২০ মার্চ চিকিৎসা শেষে আজমিরে নিজের বাড়িতে ফিরলাম। পরদিন থেকে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে লকডাউন শুরু হলো। অস্ত্রোপচারপরবর্তী চিকিৎসার জন্য আহমেদাবাদ যাওয়ার দরকার হলেও আর যেতে পারিনি।’

ক্যানসারের পঞ্চম আঘাত থেকে সেরে উঠতে না উঠতেই আট মাসের ব্যবধানে জয়ন্ত জানতে পারেন ষষ্ঠবারের মতো শরীরে বাসা বেঁধেছে হতচ্ছাড়া রোগটি। সময় ২০২০ সালের নভেম্বর। এবার ক্যানসারের আক্রমণস্থল তলপেট।

এই সময় অস্থিমজ্জা স্থানান্তরের জটিল চিকিৎসার যন্ত্রণাও সহ্য করতে হয় জয়ন্তকে। শরীরে সুঁই ঢোকাতে ভয় না পেলেও মেরুদণ্ডের নিচ থেকে অস্তিমজ্জা বের করে আনার সময় অসহনীয় ব্যথা সহ্য করতে হয়েছিল তাকে।

জয়ন্ত বলেন, ‘ছয়বার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করেছি। প্রায় প্রতিবারই দেহের নতুন কোনো অংশ আক্রান্ত হয়েছে। যতবার অসুস্থ হয়েছি, আত্মীয়রা আমার মা-বাবাকে পরামর্শ দিয়েছিল কোনো হাসপাতালে আমাকে ফেলে রেখে আসতে। তারা ভেবেছিল যে আমি যেহেতু বাঁচবোই না, শুধু শুধু কেন আমার বোঝা টানবেন আমার মা-বাবা।

‘আজ যখন আমি অন্যদের বাঁচতে উৎসাহ দিই, আমার ওই আত্মীয়-স্বজনরা হাঁ করে তাকিয়ে শোনে। তারা আজ আমাকে ভাগনে ডেকে যোগাযোগ করতে চায়।’

পুরো যাত্রা শুধু জয়ন্তর জন্য নয়, তার পরিবারের জন্যও একইরকম ক্লান্তিকর ছিল। শারীরিক ব্যথা সহ্য করেছেন তিনি, একইরকম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে তার পুরো পরিবার। এখন সবাই খুশি।

ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা তৈরি, দুঃস্থদের চিকিৎসায় তহবিল সংগ্রহ, ক্যানসারে আক্রান্তদের মনোবল বাড়ানো ইত্যাদি লক্ষ্য নিয়ে বন্ধুদের সহযোগিতায় একটি দাতব্য সংগঠন গড়ে তুলেছেন জয়ন্ত। সংগঠনটিতে বর্তমানে ৩৫০ জন নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবক আছেন।

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন

উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা: মোদি

উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা: মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আফগানিস্তানে কী ঘটছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছি। এক সময় আফগানিস্তানেও শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সাংহাই করপোরেশনের সদস্য হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব উগ্রপন্থা ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান যেন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা।’

উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবেতে আয়োজিত সাংহাই করপোরেশন অর্গানাইজেশনের বার্ষিক সম্মেলনে শুক্রবার এ মন্তব্য করেন মোদি।

সম্মেলনে তিনি ভার্চুয়ালি যোগ নেন।

মোদি বলেন, ‘আফগানিস্তানে কী ঘটছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছি। এক সময় আফগানিস্তানেও শান্তি ও সমৃদ্ধি ছিল। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। সাংহাই করপোরেশনের সদস্য হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব উগ্রপন্থা ও মৌলবাদী শক্তির উত্থান যেন না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা।’

মোদি বলেন, ‘মধ্য এশিয়ার আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। সব দেশের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক যেন উষ্ণ থাকে সেজন্য সবাইকে চেষ্টা করে যেতে হবে। যেকোন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া কিভাবে বাড়ানো যায়, সে উপায় বের করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখতে পাবেন মধ্য এশিয়া বরাবরই প্রগতিশীল সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত। সেই ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে সাংহাই করপোরেশনের সদস্যদের উচিত উগ্রপন্থা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট হওয়া।’

সাংহাই করপোরেশনের নবম সদস্য হিসেবে ইরানকে স্বাগত জানিয়ে মোদি বলেন, ‘ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে আফগানিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা করছে ভারত। তবে যে কোন প্রকল্প প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে করা উচিত।’

সম্মেলনে পাকিস্তান প্রসঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বলেন, পাকিস্তান যেভাবে আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে লস্কর-ই-তাইয়েবা, জইশ-ই-মুহাম্মদের মতো জঙ্গি গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তা নিয়ে ভারত যথেষ্ট উদ্বিগ্ন।’

পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদকে তাদের নীতিতে যুক্ত করে নিয়েছে তা কারও অজানা নয় বলেও মন্তব্য করেন অজিত দোভাল।

আরও পড়ুন:
উইঘুর: চীনা কর্মকর্তাদের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অবরোধ
উইঘুরদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ অযৌক্তিক: চীন
উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: কানাডা
স্কুলশিক্ষকের বর্ণনায় উইঘুর বন্দিশিবিরে নির্যাতন
বন্দিশিবিরে উইঘুর নারীদের ‘ধর্ষণ’: যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

শেয়ার করুন