আফিম নয়, ফ্লয়েডের মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবে

জর্জ ফ্লয়েডের বিচারের দাবিতে মিনেসোটায় সমাবেশ। ছবি: এএফপি

আফিম নয়, ফ্লয়েডের মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবে

আসামি পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে চিকিৎসক ডা. মার্টিন টোবিন বলেন, ব্যথানাশক আফিম গোত্রের ওষুধের কারণে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়নি। ফ্লয়েডকে যেভাবে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে মাটিতে শোয়ানো হয়েছিল, তাতে যেকোনো স্বাস্থ্যবান মানুষ অক্সিজেনের ঘাটতিতে পড়তে পারেন, যা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আফিম জাতীয় কোনো ওষুধের কারণে নয় গ্রেপ্তারের সময় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবেই হয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস শহরের এক আদালতে ফ্লয়েড হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিচার শুরু হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেন চিকিৎসক ডা. মার্টিন টোবিন। ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিষয়ে আদালতকে তিনি এমনটাই জানান বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টোবিন বলেন, ফেন্টানিলের (ব্যথানাশক আফিম গোত্রের ওষুধ) কারণে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়নি। ফ্লয়েডকে যেভাবে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে মাটিতে শোয়ানো হয়েছিল, তাতে যেকোনো স্বাস্থ্যবান মানুষ অক্সিজেনের ঘাটতিতে পড়তে পারেন, যা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

২০২০ সালের ২৫ মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে জাল টাকা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফ্লয়েডকে মাটিতে শুইয়ে তার ঘাড়ে প্রায় নয় মিনিট চেপে বসেন শভিন। ওই সময় বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে নামেননি। এক পর্যায়ে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো মানুষ। শুরু হয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ, যা তখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপেও।

ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা শভিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে নিহতের পরিবার।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া বিচারকাজ আরও অন্তত এক মাস চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামনের সপ্তাহে আসামি শভিনের পক্ষের আইনজীবী তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়ে গত বছরের জুনে একটি টক্সিকোলজি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তাতে বলা হয়, ফ্লয়েডের শরীরে ব্যথানাশক ওষুধ ফেন্টানিল ও মেথামফেটামাইনের (স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলার মতো উত্তেজক ওষুধ) উপস্থিতি ছিল।

প্রতিবেদনের পর আসামি পক্ষের আইনজীবীদের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের সময় ফ্লয়েডের অক্সিজেনের ঘাটতি ফেন্টানিলের কারণেই হয়েছে।

তবে আদালতে ফুসফুসের রোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. টোবিন বলেন, ফ্লয়েডের শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি ফেন্টানিলের কারণে কমে যায়নি।

পরে শুনানির এক পর্যায়ে কেনটাকি পুলিশ সার্জন ডা. বিল স্মককে প্রশ্ন করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী।

স্মক বলেন, অতি মাত্রায় ফেন্টানিল নিলে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি কমে যায়। ফেন্টানিল গ্রহণকারীরা অক্সিজেন ঘাটতির বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তাদের মধ্যে ওই সময় ঘুমঘুম ভাব আসে। কিন্তু মৃত্যুর আগে ফ্লয়েডকে সতর্ক থাকতে দেখা যায়। তিনি অক্সিজেনের জন্য মরিয়া ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে রণাঙ্গনে

মিয়ানমারের মডেল তার তেত তেত। ছবি: ফেসবুক

ফেসবুকে তেত লিখেছেন, ‘এখন শোধ নেয়ার সময় এসেছে। আপনি অস্ত্র হাতে তুলে নিন, লেখালেখি করুন বা অর্থ সহযোগিতা যাই করুন না কেন, বিপ্লব সফল করতে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু করার আছে।’

আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় মিয়ানমারের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতেন তার তেত তেত। ২০১৩ সালে দেশটির হয়ে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগীতায়ও অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

আট বছর পরে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ ছেড়ে ৩২ বছর বয়সী সেই তেত এখন অস্ত্র হাতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে। দেশটির সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে লড়তে একটি সশস্ত্র বিদ্রোহী দলে যোগ দিয়েছেন তিনি।

নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তেত লিখেছেন, ‘এখন শোধ নেয়ার সময় এসেছে। আপনি অস্ত্র হাতে তুলে নিন, লেখালেখি করুন বা অর্থ সহযোগিতা যাই করুন না কেন, বিপ্লব সফল করতে প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু করার আছে।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি যতখানি পারি লড়ব। সব কিছু ছাড়ার প্রস্তুতি আমার রয়েছে। এমনকি আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।’

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টেও আর্জেন্টিনার বিপ্লবী নেতা চে গুয়েভারার একটি উক্তি লিখেছেন তার তেত তেত।

তিনি লিখেছেন, ‘বিপ্লব কোনো আপেল নয় যে পেকে গেলে টুপ করে পড়বে। একে পরিণতি দেয়ার দায়িত্ব আমাদেরই।’

তেত
মিয়ানমারের সীমান্ত অঞ্চলে অস্ত্র কাঁধে তার তেত তেত। ছবি: ফেসবুক

১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে গ্রেপ্তার ও নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটির সেনাবাহিনী। তখন থেকেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে গণআন্দোলন চলছে মিয়ানমারে।

প্রায় তিন মাসের আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৫৬ জন বিক্ষোভকারী।

এ সময়ে মিয়ানমারের উত্তর ও পূর্ব সীমান্তে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতও তীব্র হয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

করোনায় অশ্বেতাঙ্গ নারীদের চাকরি হারানো নিয়ে উদ্বেগ মেগানের

করোনায় অশ্বেতাঙ্গ নারীদের চাকরি হারানো নিয়ে উদ্বেগ মেগানের

বিবিসিতে রোববার হাজির হন ডাচেস অফ সাসেক্স মেগান মার্কেল। ছবি: এএফপি

মেগান বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নারীদের এক প্রজন্মের অর্থনৈতিক অর্জন পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫৫ লাখ নারী, বিশেষ করে অশ্বেতাঙ্গ নারী চাকরি হারান। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে আরও ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী চরম দরিদ্র্যের মুখে পড়ে।’

চলতি বছরের মার্চে অপরাহ উইনফ্রেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ রাজপরিবারে থাকাকালীন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন ডাচেস অফ সাসেক্স মেগান মার্কেল। এরপর দুই মাস তাকে আর গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা যায়নি। রোববার তিনি কথা বলেন বিবিসির সঙ্গে।

তার এ আলাপে উঠে আসে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও তাদের নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিষয়গুলো।

মেগান বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির কারণে নারীদের এক প্রজন্মের অর্থনৈতিক অর্জন পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫৫ লাখ নারী, বিশেষ করে অশ্বেতাঙ্গ নারী চাকরি হারান। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে আরও ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী চরম দরিদ্র্যের মুখে পড়েন।

‘তবে করোনার টিকা সব দেশ ও মহাদেশে পৌঁছানোর পাশাপাশি টিকার সমবণ্টন ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। এ ছাড়া যেসব দেশে টিকার খুব দরকার, বিভিন্ন দেশের সরকার যদি তাদের অতিরিক্ত টিকা সেসব দেশে দান করে, তাহলে আমরা আবার নতুন করে সবকিছু গড়ে তুলতে পারব।’

ডাচেস অফ সাসেক্স বলেন, ‘করোনার আগে যে অবস্থানে ছিলাম, সেখানে কেবল ফিরে যাওয়াই নয়, বরং আরও সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া আমাদের লক্ষ্য। বিশ্বের সব নারীর সুযোগ-সুবিধা ও গতিশীলতা দ্রুত বৃদ্ধির মাধ্যমে এ জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব।’

অনাগত সন্তানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনাগত মেয়েশিশুকে ঘিরে আমি ও আমার স্বামী যথেষ্ট রোমাঞ্চিত। এ আনন্দ বিশ্বের আরও লাখ লাখ পরিবারের সঙ্গে আমরা ভাগাভাগি করে নিচ্ছি। যখন আমাদের কন্যাশিশুর কথা ভাবি, তখন বিশ্বের সব কিশোরী ও তরুণীর কথা আমাদের মনে আসে।

‘এসব কিশোরী ও তরুণীদের অবশ্যই সমর্থন দিতে হবে যাতে তারা আমাদের ভবিষ্যতের পথ দেখাতে পারে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব আমাদের সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে।’

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা

গরিবের বন্ধু ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে কাপড় বিতরণ করছেন ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা

‘এক কথায় কাউকে কিছু দেওয়ার মধ্যে আনন্দ অন্য রকম। বলে বুঝাতে পারব না। আল্লাহ যদি আমাকে আরও দেয়, আমি আরও দান করতে চাই।’

মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলে চলেন নিজেরাই। করোনা পরিস্থিতিতে আরও বিপাকে আছে যারা তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টায় ট্রান্সজেন্ডার নাছিমা।

শনিবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া ১ নং ওয়ার্ডে প্রায় ২০০ জনের মধ্যে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করেছেন তিনি। এদের মধ্যে ১৫০ জনকে দেয়া হয়েছে শাড়ি।

এর উদ্যোক্তা নাছিমা নামে একজন।

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারিতে বহু মানুষ কষ্টে আছে। লকডাউনে অর্থনৈতিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত অবস্থায় তারা। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর আমার মূল উদ্দেশ্য।’

এ রকম সহায়তা অবশ্য বরাবরই করেন নাছিমা। তিনি বলেন, ‘আমার গুরু মা দিপালী কাশ্মীরি আমাকে আদেশ করেছেন। তা তাই আমি প্রতিবছর গরিব দুখি মানুষের মাঝে কাপড়, লুঙ্গি বিতরণ করে থাকি।

‘আল্লাহ আমার যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে, আমি একইভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে যাব।’

গত বছর ৩০০ জনকে শাড়ি-লুঙ্গি দিয়েছিলেন বলে জানান নাছিমা।

রূপগঞ্জের উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া গ্রামে বসবাস তার।

তিনি জানান, তাদের দল রূপগঞ্জে ও ডেমরা থানার একাংশ এলাকা থেকে টাকা তুলে থাকে। তার অধীনে আট-নয় জন শিশু আছে।

নাছিমা জানান যে টাকা উঠে তার একটি অংশ শিশুদের মধ্যে বিলিয়ে দেন তিনি। তারা এই টাকায় খাওয়া দাওয়া করে। বাকি টাকা থেকে মসজিদ-মাদ্রাসায় সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন তারা।

তিনি বলেন, ‘কোনো গরিব মানুষ যদি এসে তার কষ্টের কথা জানায় তাদেরকেও টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকি।’

ট্রান্সজেন্ডারদের টাকা তোলা নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা আছে। তাদের মধ্য থেকেই এর জনের দেয়ার এই মানসিকতার প্রশংসাও আছে রূপগঞ্জে।

নাছিমা বলেন, ‘এক কথায় কাউকে কিছু দেওয়ার মধ্যে আনন্দ অন্য রকম। বলে বুঝাতে পারব না। আল্লাহ যদি আমাকে আরও দেয়, আমি আরও দান করতে চাই।’

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড ‘হত্যা’: ৪ পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্ত

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড ‘হত্যা’: ৪ পুলিশ কর্মকর্তা অভিযুক্ত

জর্জ ফ্লয়েড হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত চার পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: আল জাজিরা

শভিন, তার সঙ্গী তিন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা থমাস লেন, তউ থাও ও জে অ্যালেকজান্ডার কুয়েং স্বেচ্ছায় ফ্লয়েডের নাগরিক অধিকার খর্ব করেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের প্রশ্নে ‘আইনের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘন না করতে’ স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া আছে।

যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় ডেরেক শভিনসহ মিনিয়াপোলিসের সাবেক চার পুলিশ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছেন ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি।

ফ্লয়েডের নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার প্রকাশিত তিনটি অভিযোগপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অভিযোগপত্রের তথ্যের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শভিন, তার সঙ্গী তিন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা থমাস লেন, তউ থাও ও জে অ্যালেকজান্ডার কুয়েং স্বেচ্ছায় ফ্লয়েডের নাগরিক অধিকার খর্ব করেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের প্রশ্নে ‘আইনের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘন না করতে’ স্পষ্ট নির্দেশ দেয়া আছে।

২০২০ সালের ২৫ মে ফ্লয়েডকে আটকের পর রাস্তার ওপরই নয় মিনিটের বেশি সময় তার ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চাপ দিতে থাকেন শভিন। দীর্ঘক্ষণ কাকুতি-মিনতির পর দম আটকে সেখানেই মারা যান ফ্লয়েড।

এ ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগে এপ্রিলে শভিনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। তবে নতুন করে বিচারের জন্য আপিল আবেদন করেছেন শভিন।

ফ্লয়েডের ওপর অকারণে পুলিশি ক্ষমতা, শক্তি প্রয়োগ ও বিচার-বহির্ভূতভাবে আটকে রাখার অভিযোগও আনা হয়েছে শভিনের বিরুদ্ধে।

শ্বেতাঙ্গ এই পুলিশ কর্মকর্তা ২০১৭ সালেও ১৪ বছরের এক কিশোরকে গ্রেপ্তারের বদলে তার ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে চাপা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিনা বিচারে আটক ফ্লয়েডকে ছেড়ে না দিয়ে তার নাগরিক অধিকার খর্ব করেছেন বলে থাও আর কুয়েঙের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। এমনকি পায়ের নিচে যখন ফ্লয়েডের শ্বাসরোধ হচ্ছিল, তখন শভিনকে তারা বাধা দেননি বলেও রয়েছে অভিযোগ।

অভিযুক্ত চারজনই সঠিক সময়ে ফ্লয়েডকে চিকিৎসার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ফ্লয়েড হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্স’ নামে গণবিক্ষোভের মুখে গত বছরের মে মাসে বহিষ্কৃত হন প্রধান অভিযুক্ত শভিনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতে আসামিদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচার বেশ বিরল ঘটনা। এ কারণে ফ্লয়েড হত্যার বিচারকে দেশটির আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে নারী সেনাদের ঝুঁটি-বেণিতে বাধা নেই

যুক্তরাষ্ট্রে নারী সেনাদের ঝুঁটি-বেণিতে বাধা নেই

এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট অফিসার বলেন, ‘পোশাকের এই পরিবর্তন আমাদের নারী সেনাদের জন্য আরও বেশি ব্যবহার উপযোগী হবে। সেনাদুর্গে আরও বেশি পেশাদারিত্ব বজায় রাখা যাবে। এর ফলে নারী সেনাদের চুল পড়া কমবে এবং মাথার ত্বক সুরক্ষা পাবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের সামারিক বাহিনীতে নারী সদস্যদের পোশাকে ব্যাপক পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এখন থেকে নারী সেনাদের চুলে ঝুঁটি ও বেণি বাঁধতে আর কোনো বাধা নেই।

গত জানুয়ারিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এ ব্যাপারে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল। এবার আসল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

নতুন নিয়মানুযায়ী, নারী সেনারা চুলে ঝুঁটি বাঁধতে পারবেন। ঠোঁট রাঙাতে পারবেন লিপস্টিক দিয়ে, পরতে পারবেন কানের রিং, ছোট ছোট গুচ্ছ করে সাজাতে পারবেন চুল।

চুলের ঝুঁটি বেঁধেই যুদ্ধপোশাক বা হেডগিয়ার পরার পাশাপাশি অনুশীলন বা রণক্ষেত্রেও নামতে পারবেন নারী সেনারা। যেকোনো পোশাকের ক্ষেত্রে ঝুঁটি বা বেণি লম্বায় হবে পিঠের মাঝামাঝি পর্যন্ত।

তবে ছোট করে রাখার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো মাপ নেই। লম্বার ক্ষেত্রে শুধু এটা লক্ষ্য রাখতে হবে যে, বেণি বা ঝুঁটির কারণে টেকনিক্যাল বা শারীরিক অনুশীলন বাধাগ্রস্ত না হয়।

চুলগুলো বাঁধা থাকতে হবে আঁটসাঁট করে। ঝুঁটির ক্ষেত্রে একটি হবে। আর বেণির ক্ষেত্রে একটি বা দুটি হতে পারে।

এর আগে মহিলা সেনাদের চুলে শুধু খোঁপা বাঁধতে হতো। সেই খোঁপা হেলমেটের জন্য অস্বস্তির কারণ হতো। নতুন নিয়মের ফলে বদল আনা হচ্ছে হেলমেট বা টুপির গড়নেও।

নারী সেনাদের পোশাকে পরিবর্তন আনার বিষয়ে সেনাদের পোশাক বিভাগের সার্জেন্ট ম্যাজর ব্রায়ান সি স্যান্ডার্স বলেন, ‘পোশাকের এই পরিবর্তন আমাদের নারী সেনাদের জন্য আরও বেশি ব্যবহার উপযোগী হবে। সেনাদুর্গে আরও বেশি পেশাদারিত্ব বজায় রাখা যাবে। এর ফলে নারী সেনাদের চুল পড়া কমবে এবং মাথার ত্বক সুরক্ষা পাবে।’

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

দিনাজপুরে গৃহকর্মী ও ট্রান্সজেন্ডার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার

দিনাজপুরে গৃহকর্মী ও ট্রান্সজেন্ডার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার

অনুষ্ঠানে ৪৫০ জন গৃহকর্মী ও মেসকর্মী ও ৫০ জন ট্রান্সজেন্ডারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, সেমাই ও চিনি উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি।

দিনাজপুরে গৃহকর্মী, মেসকর্মী ও ট্রান্সজেন্ডারদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা ষ্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপহারগুলো বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে ৪৫০ জন গৃহকর্মী ও মেসকর্মী ও ৫০ জন ট্রান্সজেন্ডারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, সেমাই ও চিনি উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকি।

তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে অনেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্মহীনদের ঈদ উপহার ঘোষণা করেছেন। বর্তমানে আমরা এক অদৃশ্য শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করছি।

‘এই শত্রুর সঙ্গে মোকাবেলা করতে সকলকে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে। তবেই করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে আমরা বিজয়ী হতে পারব।’

এ সময় পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরিফুল ইসলাম, দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাগফুরুল হাসান আব্বাসী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় ফের বিচারের আবেদন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় ফের বিচারের আবেদন

জার্মানিতে জর্জ ফ্লয়েডের ম্যুরাল। ছবি: এএফপি

ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক পিটার কাহিলকে দেয়া আবেদনপত্রে নেলসন বলেন, ডেরেক শভিন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আদালতের রায় আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় নতুন করে বিচারের আবেদন জানিয়েছেন দোষী সাব্যস্ত হওয়া শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের আইনজীবী।

আদালতের রায়ের দুই সপ্তাহ পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আইনজীবী এরিক নেলসন এই আবেদন করেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক পিটার কাহিলকে দেয়া আবেদনপত্রে নেলসন বলেন, ডেরেক শভিন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আদালতের রায় আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ছিল না।

তিনি বলেন, ‘বিচার শুরুর আগে ও পরে মিডিয়া প্রচারণা এত বেশি বিস্তৃত ও প্রভাব বিস্তারকারী ছিল যে, কাঠামোগত পরাজয় ঠেকানো যায়নি।’

২০ এপ্রিল শভিনকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দেয় মিনিয়াপোলিসের একটি আদালত। ওই রায়কে স্বাগত জানান অধিকারকর্মী, দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও প্রভাবশালী রাজনীতিকরা।

তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওই রায় গুরুত্বপূর্ণ।

তিন সপ্তাহ ধরে ৪৫ প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য এবং আদালতে উপস্থাপিত ভিডিও ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ শেষে শভিনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের সত্যতা পায় ১২ জুরি।

সাজা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের হেফাজতে থাকবেন শভিন। জুনে ৪৫ বছর বয়সী সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাজা দেয়ার কথা।

বিচার চলাকালে নেলসন আদালতকে বলেছিলেন, বিচারকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন জুরিদের প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে রায়ের পর কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনীতিকদের মন্তব্য আদালতের রায়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

নেলসনের বক্তব্য সে সময় প্রত্যাখ্যান করেন বিচারক কাহিল। তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এড়াতে জুরিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

গত বছরের ২৫ মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে জাল টাকা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মিনিয়াপলিস পুলিশ।

গ্রেপ্তারের সময় ফ্লয়েডকে রাস্তায় শুইয়ে তার ঘাড়ে প্রায় ৯ মিনিট চেপে বসেন শভিন। ওই সময় বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে নামেননি। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারও মানুষ। শুরু হয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সীমা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপেও।

ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা শভিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে তার পরিবার।

আরও পড়ুন:
নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক
‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’
‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশ সমর্থকদের সংঘর্ষ

শেয়ার করুন