তাসে জেন্ডারের পর বর্ণবৈষম্যও দূর করল কিশোরী

নানা জাতি-বর্ণের ছবি স্থান পেয়েছে মায়ানের তাসের নতুন সংস্করণে। ছবি: সিএনএন

তাসে জেন্ডারের পর বর্ণবৈষম্যও দূর করল কিশোরী

তাসে বৈষম্য রয়ে গিয়েছিল বলে অনেক ব্যবহারকারী জানান মায়ানকে। এমন বাস্তবতায় তাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে সে দেখে, এগুলোতে জেন্ডার-বৈষম্য কমানো হলেও বর্ণগত বৈচিত্র্যহীনতা রয়ে গেছে। পরে সেটাও কমানোর উদ্যোগ নেয় কিশোরীটি।

কয়েক বছর আগে ছুটিতে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোরী মায়ান সেগাল। সেখানে তাস খেলার সময় পুরুষ কার্ডের চেয়ে নারী কার্ডের মান কম কেন, এ নিয়ে প্রশ্ন জাগে তার।

প্রশ্নটি বাবা ওরি সেগালকে করেছিল মায়ান। তারপর বাবা-মেয়ের মধ্যে অনেক আলোচনা হয় বিষয়টি নিয়ে। একপর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, এমন একধরনের কার্ড বানানো হবে, যেখানে থাকবে না জেন্ডার-বৈষম্য।

মায়ানের বাবা ওরি বলেন, সন্তানকে এটা শিক্ষা দেওয়া জরুরি যে ছেলে হোক কিংবা মেয়ে, দুজনই সমান শক্তিশালী।

বাবার সঙ্গে শেয়ার করা ভাবনা ‍অনুযায়ী কার্ড বানানো শুরু করে মায়ান। তাসে রাজার জায়গায় সম্রাট বসায় সে। আর রানির জায়গায় বসায় ডাচেস কিংবা ডিউক। জ্যাকের বদলে আসে প্রিন্স অথবা প্রিন্সেস।

এই ঘটনা তিন বছর আগের। সে সময় ‘কুইং’ নামের ওই তাসগুলোর ৫০ হাজারের বেশি প্যাকেট বিক্রি হয়েছিল।

তবে তাসে বৈষম্য রয়ে গিয়েছিল বলে অনেক ব্যবহারকারী জানান মায়ানকে। এমন বাস্তবতায় তাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে সে দেখে, এগুলোতে জেন্ডার-বৈষম্য কমানো হলেও বর্ণগত বৈচিত্র্যহীনতা রয়ে গেছে।

তাসে শুধু শ্বেতাঙ্গদের স্থান দেয়া হয়েছিল। সে জায়গায় মায়ান বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে সেগুলোতে স্থান দেয়। মাত্র পাঁচ দিনে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করে সে।

শুরুতেই বাজিমাত করেছে মায়ানের তাসের নতুন সংস্করণ। ‘কুইং ২.০’ তাসগুলোর ৪০ হাজারের বেশি প্যাকেট এরই মধ্যে বিক্রি হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

ফেসবুকের বিজ্ঞাপনেও জেন্ডার পক্ষপাত

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’ ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক চাকরির বিজ্ঞাপনে নারী-পুরুষ বৈষম্য করে। অনেক ব্যবহারকারী যথাযথ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সঠিক বিজ্ঞাপনটি দেখতে পান না। কারণ, ফেসবুকে বিজ্ঞাপন প্রচারের যে প্রক্রিয়ায় তাতে সেটি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় না।

ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। শুক্রবার প্রকাশ করা হয় প্রতিবেদনটি। এতে বলা হয়, ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন সমান অনুপাতে নারী ও পুরুষ ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছায় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপভিত্তিক পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইনস্টাকার্টের বিজ্ঞাপন বেশি দেখতে পেয়েছেন ফেসবুকের নারী ব্যবহারকারীরা। আবার ডোমিনোজ পিৎজায় আবেদনের জন্য ফেসবুকে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন যাদের কাছে পৌঁছেছে, তাদের বেশিরভাগই পুরুষ।

ইনস্টাকার্টে বেশিরভাগই নারী চালক, যারা গ্রাহকের পণ্য সংগ্রহ করেন এবং পৌঁছে দেন। অন্যদিকে ডোমিনোজের বেশিরভাগ কর্মীই পুরুষ।

অথচ মাইক্রোসফটের প্ল্যাটফর্ম লিংকডইনে ইনস্টাকার্ট ও ডোমিনোজের একই চাকরির বিজ্ঞাপন নারী-পুরুষ ভেদে সমান ব্যবহারকারী দেখতে পেয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘যোগ্যতা বিচারে সম্ভাব্য চাকরির বিজ্ঞাপন ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না দেখিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা দেখানো হচ্ছে নারী-পুরুষ বিচারে।’

ফেসবুকের এই অ্যালগরিদম যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যবিরোধী আইন পরিপন্থি হতে পারে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনে।

ফেসবুকের মুখপাত্র জো অসবোর্নে জানান, ব্যবহারকারীরা কোন বিষয়ে বেশি আগ্রহী, সাংকেতিকভাবে তা যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সে অনুযায়ী তাদের কাছে ফেসবুক বিজ্ঞাপন পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন প্রচারে নারী-পুরুষ ভেদাভেদের অভিযোগে একাধিক মামলা ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার তদন্তে ফেসবুকের নাম জড়িয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে স্বচ্ছতা অবলম্বনের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহযোগিতা নেয়ার কথা জানিয়েছে ফেসবুক, লিংকডইন উভয় প্রতিষ্ঠানই।

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন

আফিম নয়, ফ্লয়েডের মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবে

আফিম নয়, ফ্লয়েডের মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবে

জর্জ ফ্লয়েডের বিচারের দাবিতে মিনেসোটায় সমাবেশ। ছবি: এএফপি

আসামি পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে চিকিৎসক ডা. মার্টিন টোবিন বলেন, ব্যথানাশক আফিম গোত্রের ওষুধের কারণে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়নি। ফ্লয়েডকে যেভাবে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে মাটিতে শোয়ানো হয়েছিল, তাতে যেকোনো স্বাস্থ্যবান মানুষ অক্সিজেনের ঘাটতিতে পড়তে পারেন, যা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

আফিম জাতীয় কোনো ওষুধের কারণে নয় গ্রেপ্তারের সময় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু অক্সিজেনের অভাবেই হয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস শহরের এক আদালতে ফ্লয়েড হত্যা মামলায় অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিচার শুরু হয়। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেন চিকিৎসক ডা. মার্টিন টোবিন। ফ্লয়েডের মৃত্যুর বিষয়ে আদালতকে তিনি এমনটাই জানান বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

আসামি পক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টোবিন বলেন, ফেন্টানিলের (ব্যথানাশক আফিম গোত্রের ওষুধ) কারণে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়নি। ফ্লয়েডকে যেভাবে পিছমোড়া করে হাতকড়া পরিয়ে মাটিতে শোয়ানো হয়েছিল, তাতে যেকোনো স্বাস্থ্যবান মানুষ অক্সিজেনের ঘাটতিতে পড়তে পারেন, যা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে।

২০২০ সালের ২৫ মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে জাল টাকা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফ্লয়েডকে মাটিতে শুইয়ে তার ঘাড়ে প্রায় নয় মিনিট চেপে বসেন শভিন। ওই সময় বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে নামেননি। এক পর্যায়ে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো মানুষ। শুরু হয় বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ, যা তখন কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপেও।

ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা শভিনসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে নিহতের পরিবার।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া বিচারকাজ আরও অন্তত এক মাস চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামনের সপ্তাহে আসামি শভিনের পক্ষের আইনজীবী তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

ফ্লয়েডের মৃত্যু নিয়ে গত বছরের জুনে একটি টক্সিকোলজি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তাতে বলা হয়, ফ্লয়েডের শরীরে ব্যথানাশক ওষুধ ফেন্টানিল ও মেথামফেটামাইনের (স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলার মতো উত্তেজক ওষুধ) উপস্থিতি ছিল।

প্রতিবেদনের পর আসামি পক্ষের আইনজীবীদের ভাষ্য, গ্রেপ্তারের সময় ফ্লয়েডের অক্সিজেনের ঘাটতি ফেন্টানিলের কারণেই হয়েছে।

তবে আদালতে ফুসফুসের রোগবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. টোবিন বলেন, ফ্লয়েডের শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি ফেন্টানিলের কারণে কমে যায়নি।

পরে শুনানির এক পর্যায়ে কেনটাকি পুলিশ সার্জন ডা. বিল স্মককে প্রশ্ন করেন আসামী পক্ষের আইনজীবী।

স্মক বলেন, অতি মাত্রায় ফেন্টানিল নিলে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি কমে যায়। ফেন্টানিল গ্রহণকারীরা অক্সিজেন ঘাটতির বিষয়টি বুঝতে পারেন না। তাদের মধ্যে ওই সময় ঘুমঘুম ভাব আসে। কিন্তু মৃত্যুর আগে ফ্লয়েডকে সতর্ক থাকতে দেখা যায়। তিনি অক্সিজেনের জন্য মরিয়া ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতে চিকিৎসা বন্ধ

শিশু বিশেষজ্ঞ, সামাজিক কর্মী, ট্রান্স কিশোরদের অভিভাবকদের অনুরোধের ভিত্তিতে সোমবার আরকানসাসের গভর্নর আসা হাচিংসন বিলটির পক্ষে ভেটো দিয়েছিলেন। তাদের ভাষ্য, বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ট্রান্স জনগোষ্ঠীর জন্য এ পদক্ষেপ ক্ষতিকর।

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জেন্ডার নিশ্চিতকরণ চিকিৎসা ও সার্জারি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরকানসাসের গভর্নরের আপত্তি অগ্রাহ্য করে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার আইনপ্রণেতারা এ-সংক্রান্ত বিল পাস করেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

শিশু বিশেষজ্ঞ, সামাজিক কর্মী, ট্রান্স কিশোরদের অভিভাবকদের অনুরোধের ভিত্তিতে সোমবার আরকানসাসের গভর্নর আসা হাচিংসন বিলটির পক্ষে ভেটো দিয়েছিলেন। তাদের ভাষ্য, বিষণ্নতা ও আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ট্রান্স জনগোষ্ঠীর জন্য এ পদক্ষেপ ক্ষতিকর।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসসহ বেশ কয়েকটি শিশুকল্যাণ সংগঠন, চিকিৎসাবিষয়ক সংগঠন আরকানসাসের এ বিলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গভর্নর হাচিংসনের ভেটো আমলে না নিয়ে বিলের পক্ষে ভোট দেয় রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউজ ও সিনেট।

বিলে বলা হয়, চিকিৎসকেরা ১৮ বছরের কম বয়সী ট্রান্স কিশোরদের জেন্ডার নিশ্চিতকরণ হরমোন চিকিৎসা, বয়ঃসন্ধি বন্ধ করার চিকিৎসা বা সার্জারি করা থেকে বিরত থাকবেন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ট্রান্স কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ওই সব চিকিৎসা সহায়ক, এমনকি জীবন রক্ষাকারীও।

চলতি বছরের জুলাইয়ে বিলটি কার্যকর হওয়ার আগেই এটি বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বিলের বিরোধী পক্ষ।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্বাহী পরিচালক হলি ডিকসন বলেন, ‘আরকানসাসের জন্য আজকের দিনটি দুঃখজনক। তবে লড়াই শেষ হয়ে যায়নি।’

শিকাগোর লুরি চিলড্রেনস হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রবার্ট গারোফ্যালো বলেন, ‘ট্রান্স কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো এ আইনের মাধ্যমে জারি থাকবে। এটি কেবল ট্রান্সবিরোধীই নয়। এটি বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যবিরোধী।’

অন্যদিকে বিলের পক্ষে রিপাবলিকান পার্টির নেতা রবিন লুন্ডস্ট্রাম বলেন, ‘শারীরিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ট্রান্স কিশোরদের ১৮ বছর হওয়াটা জরুরি।’

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা: পুলিশি নীতিমালা ভেঙেছেন শভিন

জর্জ ফ্লয়েড হত্যা: পুলিশি নীতিমালা ভেঙেছেন শভিন

ডেরেক শভিনের হাঁটুর চাপায় নিস্তেজ হয়ে পড়েন জর্জ ফ্লয়েড। ফাইল ছবি

মিনেপোলিস পুলিশের প্রধান বলেন, পুলিশি প্রশিক্ষণ, নীতি ও মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে ফ্লয়েডকে আটকেছিলেন শভিন। ফ্লয়েড বাধা দিলেও তাকে গ্রেপ্তারে বেছে নেয়া পথ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মিনেপোলিস পুলিশের প্রধান মেডারিয়া আরাডোন্ডো।

তিনি জানিয়েছেন, ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তারের চেষ্টার সময় পুলিশের বলপ্রয়োগের নীতিমালা স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন অভিযুক্ত ডেরেক শভিন।

ফ্লয়েড হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্স’ নামে গণবিক্ষোভের মুখে গত বছরের মে মাসে প্রধান অভিযুক্ত শভিনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করেন আরাডোন্ডো।

হত্যা মামলায় বিচারাধীন শভিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার ছিল শভিনের বিচার শুনানির ষষ্ঠ দিন।

এতে আরাডোন্ডো বলেন, পুলিশি প্রশিক্ষণ, নীতি ও মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে ফ্লয়েডকে আটকেছিলেন শভিন। ফ্লয়েড বাধা দিলেও তাকে গ্রেপ্তারে বেছে নেয়া পথ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যখন তিনি শারীরিকভাবে তীব্র কষ্ট পাচ্ছিলেন।

জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিন। ছবি: এএফপি

ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আফ্রিকান-আমেরিকান ফ্লয়েডের ঘাড়ে নয় মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। এক পর্যায়ে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

এ প্রসঙ্গে আদালতে ফ্লয়েড পরিবারের পক্ষে আইনজীবীরা জানতে চান, এ ধরনের প্রশিক্ষণ পুলিশ বাহিনীতে দেয়া হয় কি না এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিভাগীয় নীতিমালা কী হতে পারে।

জবাবে আরাডোন্ডো বলেন, ফ্লয়েডের দিক থেকে যখন বাধা দেয়া বন্ধ হলো, তিনি যখন আর কথাও বলতে পারছিলেন না, এমনকি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে পড়লেন, তখনও তার ওপর শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করেননি শভিন। কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে কখনোই এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না। এটি বিভাগীয় নীতি ও মূল্যবোধ পরিপন্থি আচরণ।

জাল বিল সরবরাহের অভিযোগে কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও স্বাভাবিক নয় বলে জানান আরাডোন্ডো, যেমনটা হয়েছিল ফ্লয়েডের ক্ষেত্রে।

মিনেপোলিস পুলিশের প্রধান জানান, শক্তি প্রয়োগের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমেই এ ধরনের সমস্যার সমাধান করা হয় বেশি। প্রয়োজনে স্থানীয়দের সহযোগিতাও নেয়া হয়।

কমপক্ষে এক মাস চলবে শভিনের বিচার শুনানি। অপরাধ প্রমাণে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে তার।

যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতে আসামিদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচার বেশ বিরল ঘটনা। ফলে ফ্লয়েড হত্যার বিচারকে দেশটির আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন

‘চিকিৎসকদের লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য বুঝতে হবে’

‘চিকিৎসকদের লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য বুঝতে হবে’

লিঙ্গ ও জেন্ডার সমার্থক নয়। লিঙ্গের উল্লেখ মানেই এর সঙ্গে জীববিজ্ঞান, অর্থাৎ ব্যক্তির জননকোষ, ক্রোমোজোম, হরমোন ও প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কিত। আর ব্যক্তির জেন্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তির মনস্তত্ত্ব, আচার-আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, সামাজিকতাবোধ ইত্যাদি। ফলে রোগীদের মধ্যে দুটি বিষয়ের পার্থক্য নির্ণয় করতে না পারলে চিকিৎসায় বড় ধরনের ফাঁক থেকে যেতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য নিয়ে চিকিৎসকদের বিভ্রান্তি চিকিৎসায় ত্রুটির কারণ হতে পারে। চিকিৎসকদের প্রতি এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন স্কটিশ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ ইউনিভার্সিটির একদল মেডিক্যাল গবেষক বলছেন, প্রায় সময়ই চিকিৎসকরা লিঙ্গ ও জেন্ডারের পার্থক্য গুলিয়ে ফেলেন। এতে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা অথবা চিকিৎসা অকার্যকর হয় বলে প্রমাণ মিলেছে।

শুক্রবার চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয় এ বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনটি।

এতে বলা হয়, সুষ্ঠু স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে লিঙ্গ ও জেন্ডারের পুঙ্খানুপুঙ্খ পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারা একজন চিকিৎসকের জন্য খুবই জরুরি। এতে ব্যর্থতা হৃদরোগ থেকে শুরু করে মাদকাসক্তিসহ সব ধরনের রোগীর চিকিৎসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লিঙ্গ ও জেন্ডারের মধ্যকার পার্থক্যটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারণ করে দিয়েছে আগেই। সহজ সংজ্ঞায়, লিঙ্গ ব্যাপারটি জীববিজ্ঞান সম্পর্কিত; যার মাধ্যমে নারী-পুরুষের জৈবিক পার্থক্য তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে, নারী ও পুরুষের সামাজিক পার্থক্য প্রসঙ্গে জেন্ডার শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

লিঙ্গ বা নারী-পুরুষের জৈবিক পার্থক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বৈশিষ্ট্যগুলো শারীরিক, সর্বজনীন, অপরিবর্তনীয় ও প্রাকৃতিক।

অন্যদিকে জেন্ডার অর্থাৎ নারী-পুরুষের ওপর সামাজিকভাবে আরোপিত পার্থক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক। ব্যক্তির সামাজিক দায়দায়িত্ব, আচরণ ও প্রত্যাশা জেন্ডার শব্দটির সঙ্গে সম্পৃক্ত; যা স্থান, কাল, সমাজ, সংস্কৃতিভেদে ভিন্ন, পরিবর্তনীয় এবং অনেক সময় ইতিহাসনির্ভরও হতে পারে।

স্কটিশ গবেষক দলটি বলছে, পার্থক্যটি অহরহ গুলিয়ে ফেলছেন চিকিৎসকরা। ফলে সাম্প্রতিক চিকিৎসা দেয়ার সময় লিঙ্গ ও জেন্ডার শব্দ দুটির একটিকে অন্যটির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের চর্চা বেড়েছে।

সেইন্ট অ্যান্ড্রুজ ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ মেডিসিনের ড. মার্গারেট ম্যাককার্টেনি বলেন, ‘শুধু চিকিৎসকরাই নন, আমাদের সমাজে, এমনকি গবেষকদের মধ্যেও এই চর্চা বাড়ছে। দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে শ্রেণিভুক্ত ও সঠিক ক্ষেত্রে এ দুটির ব্যবহার নিশ্চিত করা না হলে সামগ্রিকভাবে চিকিৎসায় ত্রুটি ও অকার্যকারিতার ঘটনা বাড়বে।’

কিন্তু দুটি শব্দের পার্থক্য নির্ধারণে ভুলের ফলে কেন সব ধরনের রোগীর চিকিৎসায় ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ে?

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, লিঙ্গ ও জেন্ডার সমার্থক নয়। লিঙ্গের উল্লেখ মানেই এর সঙ্গে জীববিজ্ঞান, অর্থাৎ ব্যক্তির জননকোষ, ক্রোমোজোম, হরমোন ও প্রজনন অঙ্গ সম্পর্কিত। আর ব্যক্তির জেন্ডারের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তির মনস্তত্ত্ব, আচার-আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, সামাজিকতাবোধ ইত্যাদি।

ফলে রোগীদের মধ্যে দুটি বিষয়ের পার্থক্য নির্ণয় করতে না পারলে চিকিৎসায় বড় ধরনের ফাঁক থেকে যেতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

লন্ডনের কিংস কলেজের নারী স্বাস্থ্য ও ধাত্রীবিদ্যার ইমেরিটাস অধ্যাপক সুজান বিউলি বলেন, ‘সব ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে এ পার্থক্য সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে না পারলে নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জটিল হয়ে যায়।’

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন

নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক

নিস্তেজ পাওয়া যায় ফ্লয়েডকে: প্যারামেডিক

জর্জ ফ্লয়েডকে নিয়ে আঁকা ম্যুরাল। ছবি: এএফপি

প্যারামেডিক সেথ ব্রেভিন্ডার বলেন, ‘আমার সহকর্মী ডেরেক স্মিথ ফ্লয়েডের ঘাড়ে নাড়ি পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোনো নাড়িই পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ফ্লয়েডকে দেখে মনে হয়েছিল, তিনি আর নেই। স্ট্রেচারে তোলার সময় মাটিতে যাতে আঘাত না লাগে এজন্য ফ্লয়েডের মাথা উপরের দিকে ধরে রাখি। অ্যাম্বুলেন্সে ঢোকানোর পর ফ্লয়েডের বুকে চাপ দেয়া শুরু হয়।’

কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিচারের চতুর্থ দিনে সাক্ষ্য দিয়েছেন দুইজন প্যারামেডিক (জরুরি চিকিৎসা সেবাদানকারী)। আদালতকে জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্লয়েডের কোনো নাড়ি পাননি তারা, দেখে মনে হয়েছিল শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের এক আদালতে বৃহস্পতিবার জুরিদের সামনে সাক্ষ্যে এসব কথা বলেন দুই প্যারামেডিক।

সোমবার থেকে শুরু হয় বিচার। ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তারের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিন পুলিশ কর্মকর্তার বডি ক্যামেরার ফুটেজ আদালতে উপস্থাপন করা হয় বুধবার। ফুটেজে দেখা যায়, ফ্লয়েড পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধ করে বলছেন, ‘আমাকে গুলি করবেন না; আমি আমার মাকে ভালোবাসি।’

ফুটেজে আরও দেখা যায়, হাতকড়া পরানোর সময় ফ্লয়েড পুলিশ কর্মকর্তা টমাস লেইন ও জে আলেক্সান্ডার কুয়েংকে বারবার অনুরোধ করে বলছেন, তিনি কোনো ধরনের প্রতিরোধ করবেন না। তাকে যাই করতে হবে বলা হবে, তিনি তাই করবেন। এরপর ফ্লয়েডকে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে ফ্লয়েডকে গাড়ি থেকে বের করে মাটিতে ফেলে চেপে ধরা হয়। ওই সময় পথচারীরা চিৎকার করে পুলিশ কর্মকর্তাদের ফ্লয়েডের নাড়ি পরীক্ষা করতে বলে। তাকে চেপে ধরতেও নিষেধ করে তারা। ফুটেজে নয় মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ফ্লয়েডের ঘাড়ে শভিনকে হাঁটু চাপ দিয়ে রাখতে দেখা যায়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার আদালতে প্যারামেডিক সেথ ব্রেভিন্ডার সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর শুরুতে ভেবেছিলেন সাধারণ কোনো হাতাহাতি হয়েছে। কিন্তু দ্রুতই বুঝতে পারেন, বিষয়টি গুরুতর; ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়ে রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার সহকর্মী ডেরেক স্মিথ ফ্লয়েডের ঘাড়ে নাড়ি পরীক্ষা করেন। কিন্তু কোনো নাড়িই পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ফ্লয়েডকে দেখে মনে হয়েছিল, তিনি আর নেই। স্ট্রেচারে তোলার সময় মাটিতে যাতে আঘাত না লাগে এজন্য ফ্লয়েডের মাথা উপরের দিকে ধরে রাখি। অ্যাম্বুলেন্সে ঢোকানোর পর ফ্লয়েডের বুকে চাপ দেয়া শুরু হয়।’

আরেক প্যারামেডিক স্মিথ আদালতকে বলেন, ‘এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল ফ্লয়েডের হৃদপিণ্ডে বৈদ্যুতিক চলাচল হচ্ছে। তা ফের চালুর চেষ্টায় তাকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া শুরু করি।’

ব্রেভিন্ডার বলেন, ‘হৃদপিণ্ড মনিটরে ফ্লয়েডের হৃদ চলাচলের রেখা সরল দেখার পর হাসপাতালমুখী অ্যাম্বুলেন্স থামাতে হয়। এরপর ফ্লয়েডকে বাঁচাতে আরও চেষ্টা করা হয়, কিন্তু সব চেষ্টাই বিফলে যায়।’

দুই প্যারামেডিক ছাড়াও ফ্লয়েডের প্রেমিকা কোর্টনি রজ ওই দিন আদালতে সাক্ষ্য দেন।

তিনি বলেন, তারা দুজনই আফিমে আসক্ত ছিলেন। তবে ঘটনার দিন ফ্লয়েড আফিম নিয়েছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না।

২০২০ সালের ২৫ মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে জাল টাকা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস পুলিশ। হাতকড়া পরানোর পর ফ্লয়েডকে মাটিতে পিছমোড়া করে শুইয়ে তার ঘাড়ে প্রায় নয় মিনিট চেপে বসেন শভিন।

ওই সময় বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে নামেননি। এক পর্যায়ে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনার ঝড় ওঠে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। গড়ে ওঠে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন। শভিনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে ফ্লয়েডের পরিবার।

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন

‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’

‘গুলি করবেন না, আমি আমার মাকে ভালোবাসি’

জার্মানিতে জর্জ ফ্লয়েডের ম্যুরাল। ছবি: এএফপি

লেইনের ফুটেজে ফ্লয়েডকে পুলিশের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। তিনি তাদের অনুরোধ করে বলেন, ‘আমাকে গুলি করবেন না; আমি আমার মাকে ভালোবাসি।’

কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলায় শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিচার শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বুধবার বিচারের তৃতীয় দিনে ফ্লয়েডকে গ্রেপ্তারের সময় ধারণ করা বডি ক্যামেরার ফুটেজ দেখানো হয় আদালতকে।

২০২০ সালের ২৫ মে ৪৬ বছর বয়সী ফ্লয়েডকে জাল টাকা ব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিস পুলিশ। হাতকড়া পরানোর পর ফ্লয়েডকে মাটিতে পিছমোড়া করে শুইয়ে তার ঘাড়ে প্রায় নয় মিনিট চেপে বসেন শভিন।

ওই সময় বারবার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বলার পরও ওই পুলিশ কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড় থেকে নামেননি। একপর্যায়ে শ্বাসকষ্টে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনার ঝড় ওঠে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। শভিনসহ চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করে ফ্লয়েডের পরিবার।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ কর্মকর্তা টমাস লেইন, জে আলেক্সান্ডার কুয়েং ও টাউ থাওয়ের বডি ক্যামেরা আদালতে উপস্থাপন করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় শভিনের ক্যামেরা মাটিতে পড়ে যাওয়ায় সেখান থেকে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি।

লেইনের ফুটেজে ফ্লয়েডকে পুলিশের মুখোমুখি হতে দেখা যায়। তিনি তাদের অনুরোধ করে বলেন, ‘আমাকে গুলি করবেন না; আমি আমার মাকে ভালোবাসি।’

ফুটেজে আরও দেখা যায়, ফ্লয়েডকে হাতকড়া পরানো হচ্ছে। তিনি লেইন ও কুয়েংকে বারবার অনুরোধ করে বলছেন, তিনি কোনো ধরনের প্রতিরোধ করবেন না। তাকে যাই করতে হবে বলা হবে, তিনি তাই করবেন।

ফ্লয়েডকে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, তার ক্লস্ট্রোফোবিয়া (বদ্ধ জায়গার প্রতি ভীতি) ও উদ্বেগজনিত রোগ রয়েছে।

ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ফ্লয়েডকে গাড়ি থেকে বের করে মাটিতে ফেলে চেপে ধরা হয়। ফ্লয়েড তখন বলেন, পরিবারের সদস্যদের তিনি ভালোবাসেন।

ওই সময় পথচারীরা চিৎকার করে পুলিশ কর্মকর্তাদের ফ্লয়েডের নাড়ি পরীক্ষা করতে বলে। তাকে চেপে ধরতেও নিষেধ করে তারা।

ফুটেজে নয় মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু দিয়ে শভিনকে চাপ দিতে দেখা যায়।

আদালতে ওই দিন কাপ ফুডস নামের দোকানের কর্মচারী ১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার মার্টিন সাক্ষ্য দেন। তার ভাষ্য, গ্রেপ্তারের অল্প সময় আগে ক্রেতা ফ্লয়েডের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপ হয় তার।

মার্টিন বলেন, ফ্লয়েডকে নেশাসক্ত মনে হয় তার। কারণ সহজ প্রশ্নের জবাব দিতে বেগ পেতে হচ্ছিল তার। তবে তার আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল।

দোকানটির নজরদারি ক্যামেরায় ফ্লয়েডকে হাসতে, লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।

মার্টিন বিচারকদের বলেন, ফ্লয়েডের কাছে এক প্যাকেট সিগারেট বিক্রি করেন তিনি। ফ্লয়েড বিনিময়ে তাকে জাল টাকা দেন। তবে টাকাটি জাল ছিল, তা ফ্লয়েড জানতেন বলে তার আচরণ দেখে মনে হয়নি।

তিনি বলেন, জাল টাকার বিষয়টি ম্যানেজারকে জানান তিনি। দোকানের আরেক কর্মচারী তখন পুলিশে খবর দেন।

আরও পড়ুন:
বিচ্ছেদ হচ্ছে কিম-কানিয়ের
লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড
শেষ হলো ‘কিপিং আপ উইথ দ্য কার্ডাশিয়ানসে’র শুটিং
ফ্যাশন ডিজাইনার পিয়ের কার্ডিনের মৃত্যু
সবাইকে স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনতে প্রকল্প

শেয়ার করুন