‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’

কানাডার মন্ট্রিয়লে রোববার এশীয়দের ওপর বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

‘নিজের শহরকে অচেনা লাগে’

যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাজ্যেও এশীয়বিরোধী বর্ণবাদ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত পূর্ব এশীয় কয়েকজনের সঙ্গে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে কথা বলেন আল জাজিরার প্রতিবেদক। আলাপকালে তারা জীবন নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগের কথা জানান।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত বছর যুক্তরাজ্যে প্রথম লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এরপর দেশটিতে বসবাসরত পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষদের ওপর বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ ৩০০ শতাংশ বেড়ে যায়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘এন্ড দ্য ভাইরাস অফ রেসিজম’ এমনই তথ্য তুলে ধরেছে।

চীনের উহান শহরকে করোনার উৎপত্তিস্থল উল্লেখ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হলে যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি চীনা রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করা হয়। বেশ কয়েকটি শহরে সংখ্যাগরিষ্ঠ চীনাদের একঘরে করে রাখা হয়। এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষ রাস্তাঘাটে হামলারও শিকার হন।

করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ হিসেবে অভিহিত করতে ছাড়েননি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীন বিশ্বজুড়ে এ মহামারি ছড়ায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষকের ভাষ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় বন্দুকধারীর গুলিতে ছয় এশীয় নারীর মৃত্যু এ বার্তা দেয়, এশীয়দের জীবন কী পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো যুক্তরাজ্যেও এশীয়বিরোধী বর্ণবাদ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত পূর্ব এশীয় সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সঙ্গে তাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে কথা বলেন আল জাজিরার প্রতিবেদক। আলাপকালে তারা জীবন নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগের কথা জানান।

আগের মতো নিরাপদ বোধ করি না: পেং

৩৭ বছর বয়সী পেং ওয়াং আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ের প্রভাষক। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে যুক্তরাজ্যে আসি। এর আগে ছয় বছর ফিনল্যান্ডে ছিলাম। প্রথম প্রথম এখানকার লোকজনের আচরণ ফিনল্যান্ডের মানুষের চেয়ে অনেক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ব্রেক্সিট ও করোনা মহামারির পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।’

বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে ওয়াং বলেন, ‘গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির কাছে জগিং করছিলাম। ওই সময় রাস্তার অপর পাশে চলমান এক গাড়ির চালক চিৎকার করে আমাকে “চায়নিজ ভাইরাস” বলে।

‘আমিও পাল্টা চিৎকার করি। নিজেকে শান্ত করার পর আবার জগিং শুরু করি। অল্প কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়িটি ফিরে আসে। আবার আমাকে চিৎকার করে কিছু বলে। আমি খুব ক্ষেপে যাই। গাড়ির কাছে গিয়ে বলি, “কেন এমন করছ? চলে যাও!” এরপর গাড়ির ভেতর থেকে চালকসহ আরও কয়েকজন বেরিয়ে এসে আমাকে পেটাতে শুরু থাকে। নিজেকে আর আগের মতো নিরাপদ লাগে না।’

করোনার আগে থেকেই এমন পরিস্থিতি: ব্রিটিশ এমপি

যুক্তরাজ্যের মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির এমপি ৩৮ বছর বয়সী সারাহ ওয়েন বলেন, ‘এশীয়দের ওপর হামলা কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, যুক্তরাজ্যেও হচ্ছে। করোনা মহামারির আগে থেকেই নিশ্চিতভাবেই এখানে এ সমস্যা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর করোনার সংক্রমণ শুরুর আগে টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’-এর ব্রডকাস্টার পিয়ার্স মরগান চীনা ভাষা নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করেন। একে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নেয় অনেকে। মরগান ওই ঘটনা নিয়ে কখনো ক্ষমাও চাননি।

‘আমি মনে করি, এশীয়দের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত মনোভাব, কর্মকাণ্ড বা অপরাধ ঠেকাতে সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। মাঝেমধ্যে তাদের উদ্দেশ্যে আবেগপূর্ণ কথা বলা হয়। যারা বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের শিকার বা যাদের দোকানপাটে হামলা হয়েছে, তারা ওই সব কথা শুনে স্বস্তিবোধ করেন। এর বেশি কিছু না।’

নিজের শহরকে অচেনা লাগে: লিসা

ভিয়েতনাম বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী লিসা ড্যাং পেশায় রাঁধুনি। তিনি বলেন, ‘বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাবা প্রায়ই বলতেন, “তোমাকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে। কারণ, তুমি নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে বাস করছ।” বাবার সঙ্গে এ নিয়ে তর্কাতর্কি করতাম। তাকে বলতাম, “আমার জন্ম এ দেশে। আমি এখানকারই মানুষ।’”

লিসা বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী নিঃসন্তান শ্বেতাঙ্গ দম্পতি। তারা আমাকে তাদের নাতি হিসেবে দত্তক নেন। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু মাধ্যমিকে পড়ার সময় হঠাৎ পরিবর্তন টের পাই। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে আমাকে আক্রমণ করা শুরু হয়।

‘আমার নাম নিয়ে ঠাট্টা, কুকুর খাই এমন সব বর্ণবাদী মন্তব্য আমাকে শুনতে হয়। পরে একপর্যায়ে বর্ণবাদী মন্তব্য শোনা কমতে থাকে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর নিজেকে সত্যিকার অর্থেই লন্ডনেরই একজন মনে হতে থাকে। নিরাপদ বোধ করতে থাকি।’

করোনা শুরুর পরের পরিস্থিতি নিয়ে লিসা বলেন, ‘গত বছরের মার্চে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর আমার চীনা প্রেমিককে নিয়ে এসেক্স যাই শ্বেতাঙ্গ বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে। মদের একটি দোকানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একজন আমাদের “উহান” বলে চিৎকার করে সম্ভাষণ জানায়। ওই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, সবকিছু থেমে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসেক্স লন্ডনের বাইরে। নানা বৈচিত্র্যের, সংস্কৃতির মানুষের বাস সেখানে কম। তাই ওই ঘটনাকে পরে বিচ্ছিন্ন হিসেবে দেখি। কিন্তু গত নভেম্বরে লন্ডনের সুপারমার্কেটের একটি ঘটনা আমার ধারণা পাল্টে দেয়। সেখানে ২০ বছর বয়সী কয়েকজন তরুণ আমাকে বর্ণবাদী গালি দেয়। ওই তরুণরা আমার মতোই জাতিগত সংখ্যালঘু। এখানে পারস্পরিক সম্প্রীতি কোথায়?’

শৈশবের স্মৃতিচারণা করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এ নারী বলেন, ‘এখন বুঝতে পারি বাবা আমাকে ছোটবেলায় কী বোঝাতে চেয়েছিলেন। এ শহর আমাকে স্বাগত জানিয়েছে, এখন আর তা মনে হয় না। যে শহর আমার জন্মভূমি, তাকে আর নিজের মনে হয় না, অচেনা লাগে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যার রায় ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর নিরাপত্তা

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যার রায় ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর নিরাপত্তা

ফ্লয়েড হত্যার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ছবি: এএফপি

তিন সপ্তাহের শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা এখনও বাকি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিনেপোলিস আদালত চত্বরে কাঁটাতারের বেড়া, ব্যারিকেড স্থাপনসহ মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মিনেপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

শুনানির শেষ দিন সোমবার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনকে ফ্লয়েডের হত্যাকারী আখ্যা দেন।

যদিও শভিনের পক্ষের আইনজীবীদের দাবি, পুলিশ প্রশিক্ষণ অনুযায়ীই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তিনি।

তিন সপ্তাহের শুনানি শেষ হলেও রায় ঘোষণা এখনও বাকি। নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিনেপোলিস আদালত চত্বরে কাঁটাতারের বেড়া, ব্যারিকেড স্থাপনসহ মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের।

রায় ঘোষণা হলে বিভিন্ন শহরে আন্দোলন শুরু হতে পারে, এমন আশঙ্কায় নেয়া হচ্ছে নানা নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গত বছরের মে মাসে পুলিশের হেফাজতে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। সে সময় ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ফ্লয়েডের ঘাড়ে নয় মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। এক পর্যায়ে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্স’ নামে গণবিক্ষোভের মুখে চার পুলিশ কর্মকর্তা বাহিনী থেকে বহিষ্কার হন। এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত শভিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় উল্লেখিত সব অভিযোগই অস্বীকার করেন শভিন। অপরাধ প্রমাণে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে তার।

দীর্ঘ শুনানিতে চিকিৎসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষজ্ঞ, শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা, পথচারী, ফ্লয়েডের স্বজন ও বন্ধুবান্ধবসহ ৪৫ জন সাক্ষীর বক্তব্য শুনেছে আদালত।

চূড়ান্ত রায়ে শভিন দণ্ডিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে তা হবে নজিরবিহীন ঘটনা। দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে আসামিদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচারের ঘটনাই বিরল।

মিনেপোলিসের আদালতে ফ্লয়েড হত্যা মামলার ১২ বিচারকের মধ্যে ছয় শ্বেতাঙ্গ, চার কৃষ্ণাঙ্গ ও দুইজন ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর। বিচারকদের মধ্যে সাতজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ।

শেয়ার করুন

উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

চীনের শিনজিয়াংয়ে ৪০০ শিবিরে উইঘুরসহ ১০ লাখ মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন সংস্থা। ছবি: এইচআরডব্লিউ

এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, কথিত ‘রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র’, বিচারপূর্ব আটককেন্দ্র ও কারাগারসহ ৪০০ শিবিরে ১০ লাখের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। মা-বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে, এমন সন্তানদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাখা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে।

চীনের জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুরদের প্রতি দেশটির সরকারের আচরণ মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটির মতে, শুধু উইঘুরই নয়, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিনজিয়াং প্রদেশের অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রতিও একই কায়দায় দমন-পীড়ন চালাচ্ছে বেইজিং।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন ‘ব্রেক দেয়ার লাইনএইজ, ব্রেক দেয়ার রুটস’-এ এসব মন্তব্য করা হয়েছে।

৫৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, শিনজিয়াংয়ের বাসিন্দাদের কোণঠাসা করতে গণআটক অভিযান, নির্যাতন, সাংস্কৃতিক নিপীড়নসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে চীনা সরকার।

প্রতিবেদনে উইঘুরদের গুম, নজরদারি, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা, বিদেশ থেকে চীনে ফিরতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক বিভিন্ন কাজ করানো, যৌন সহিংসতা ও সন্তান জন্মদানের অধিকার কেড়ে নেয়ার মতো বিভিন্ন আচরণের কথা তুলে ধরা হয়।

স্ট্যানফোর্ড ল’ স্কুলের হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট রেজোল্যুশন ক্লিনিকের সহযোগিতায় লেখা প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো বেইজিংয়ের জন্য নতুন নয়। তবে সম্প্রতি নতুন মাত্রা নিয়েছে অত্যাচারের ধরন।

এইচআরডব্লিউর অভিযোগ, কথিত ‘রাজনৈতিক শিক্ষাকেন্দ্র’, বিচারপূর্ব আটককেন্দ্র ও কারাগারসহ ৪০০ শিবিরে ১০ লাখের বেশি মানুষকে আটকে রাখা হয়েছে। মা-বাবাকে আটকে রাখা হয়েছে, এমন সন্তানদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাখা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে।

উইঘুরদের দমনে ২০১৭ সাল থেকে তৎপরতা জোরদার করে বেইজিং। ১৪০ কোটি মানুষের দেশ চীনের মাত্র দেড় শতাংশের বাস শিনজিয়াংয়ে। অথচ সারা দেশে যত মানুষ গ্রেপ্তার, তার ২১ শতাংশই এ প্রদেশে। গত পাঁচ বছরে অঞ্চলটিতে আগের পাঁচ বছরের তুলনায় গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে ৩০৬ শতাংশ।

২০১৭ সাল থেকে অঞ্চলটির দুই-তৃতীয়াংশ মসজিদ চীনা সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এইচআরডব্লিউর চীনের পরিচালক সোফি রিচার্ডসন বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের অর্থ হলো মানুষ হিসেবে প্রাপ্য কিছু অধিকার গুরুতর পর্যায়ে লঙ্ঘনের অপরাধ। বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত ও ঢালাওভাবে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়। শিনজিয়াংয়ে যা ঘটছে, আন্তর্জাতিক আইনে তা ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

উইঘুরদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে চীনের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এইচআরডব্লিউর নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ।

উইঘুরদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের আচরণকে আগেই ‘জেনোসাইড’ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। উইঘুর ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডা।

বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে চীনা সরকার। বেইজিংয়ের দাবি, উগ্রবাদ ঠেকাতে শিবিরগুলোতে উইঘুর মুসলমানদের কারিগরি শিক্ষা দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

চীনে জেন্ডার বৈষম্য থেকে বাদ পড়েন না একমাত্র কন্যা সন্তানটিও

চীনে জেন্ডার বৈষম্য থেকে বাদ পড়েন না একমাত্র কন্যা সন্তানটিও

২০০৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চল মা-বাবারা মেয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারেই খুব একটা আগ্রহী হন না। আবার অল্পবয়সেই তাদের জীবিকা উপার্জনের দিকেও ঠেলে দেয়া হয়।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট ২০২১-এ উঠে এসেছে, চীনে প্রতি ১০০ কন্যা শিশুর বিপরীতে পুত্র শিশু জন্মের সংখ্যা ১১৩। অর্থাৎ আধুনিক চীনেও পুত্র সন্তানের আকাঙ্ক্ষাই দেশটিতে প্রবল, মত বিশেষজ্ঞদের।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান যুগেও চীনে বংশরক্ষার কৃতিত্ব দেয়া হয় শুধু ছেলে সন্তানদেরই। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নগরায়নের ফলে দেশটিতে গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সামাজিক পরিবর্তন ঘটলেও ছেলে ও মেয়ে বলে সন্তানের মধ্যে বৈষম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এখনও ছেলের পড়াশোনা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধায় বেশি খরচ করার কথা ভাবেন চীনা মা-বাবারা। অন্যদিকে ১৯৭৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এক সন্তান নীতি বহাল থাকা দেশটিতে একমাত্র সন্তান মেয়ে হলে তার পড়াশোনা বা অন্যান্য মৌলিক সুবিধার পেছনে খরচ সামলে চলার প্রবণতাই বেশি।

চীনে মেয়ে শিশুদের জন্মের পর থেকেই প্রতিটি পদে জেন্ডার পক্ষপাতিত্বের শিকার হতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে সন্তানদের মধ্যে অসম সুযোগসুবিধার বিষয়টি উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণায়।

২০০৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চল মা-বাবারা মেয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর ব্যাপারেই খুব একটা আগ্রহী হন না। আবার অল্পবয়সেই তাদের জীবিকা উপার্জনের দিকেও ঠেলে দেয়া হয়।

একই বয়সী ছেলে সন্তানরা যখন স্কুলে পড়ে, তখন সমবয়সী মেয়ে সন্তানরা পরিবারের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে কাজে লেগে যায়। অথচ শিক্ষিত না হওয়ায় তাদের আয়ের সুযোগও সীমিত হয়ে আসে।

সাধারণত মনে করা হয় দরিদ্র ও গ্রাম্য পরিবারগুলোতেই শুধু এ ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান। শহরের মেয়েরা সমান অধিকার পায় এবং আধুনিক চীনের তারা অন্যতম উপকারভোগী বলে এক ধরনের মত প্রচলিত আছে। কিন্তু গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি আদৌ তা নয়।

বিশেষ করে ২০১৫ সালে এক সন্তান নীতি উঠে যাওয়ার পর থেকে অনেক কন্যা সন্তানই পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেয়ার মানসিকতার বলি হচ্ছেন। শহরে বসনাসরত কোনো পরিবারের একমাত্র সন্তান মেয়ে হলে গ্রামাঞ্চল তুলনায় তাদের সুযোগ-সুবিধা কিছুটা বেশি হলেও একমাত্র পুত্র সন্তানদের তুলনায় তাদের পেছনে মা-বাবাদের বিনিয়োগ এখনও কম।

২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে পুত্র সন্তান থাকলে মা-বাবাদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বেশি হয়। অন্যদিনে একমাত্র সন্তান মেয়ে হলে মা-বাবা গৃহস্থালী ব্যয় বেশি করেন। মূলত পুরুষই পরিবারের মূল উপার্জনক্ষম হবেন- এমন ধারণা থেকেই বছরের পর বছর ধরে এ প্রবণতা চলে আসছে।

আবার বিয়ের বাজারে ছেলেকে যোগ্য দেখাতে তার জন্য স্থায়ী সম্পত্তি কেনার দিকেও ঝোঁক থাকে চীনা মা-বাবাদের। এদিক থেকে আরও কোণঠাসা একমাত্র কন্যা সন্তানরা। মানসিক ও বৈবাহিক দৃষ্টিকোণ থেকে সহযোগিতা কম পাওয়ার পাশাপাশি মা-বাবার এ ধরনের মানসিকতার ফলে চীনের কন্যা সন্তানদের জীবনে অর্জনও থাকে সীমিত, যার বোঝা আজীবন বয়ে চলতে হয় তাদের।

শেয়ার করুন

বলাৎকারের পর মাদ্রাসায় ডেকে মারধর, মেলেনি জামিন

বলাৎকারের পর মাদ্রাসায় ডেকে মারধর, মেলেনি জামিন

রোববার আদালত যৌন নির্যাতনের শিকার ওই শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মোহাম্মদ ইউসুফকে জামিন বাতিল করে দিয়েছে।

মাদ্রাসা শিক্ষকের বলাৎকারের শিকারের পর ছাত্রের অভিভাবকরা বিচার দেন অধ্যক্ষের কাছে। অধ্যক্ষ বিচারের আশ্বাস দিয়ে ছাত্রকে মাদ্রাসায় ডেকে বেদম মারধর করেন। মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট হবে বলে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।

পরে অধ্যক্ষ ও নির্যাতনকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। ঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার একটি মাদ্রাসার।

রোববার আদালত যৌন নির্যাতনের শিকার ওই শিশু শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ মোহাম্মদ ইউসুফকে জামিন বাতিল করে দিয়েছে।

বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার তার জামিন আবেদনটি উত্থাপন হয়নি বলে খারিজ করে দেয়।

আদালতে জামিন আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার কাজী মাইনুল হাসান।

মামলার বিবরণে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার এক মাদরাসার শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বিভিন্ন সময়ে ১০ বছরের এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতন করেন।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক সংশ্লিষ্ট ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিচার দেয় অধ্যক্ষের কাছে। ভবিষ্যতে এ রকম আর ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করেন ও তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ।

কিন্তু পরে শিশুটিকে মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে বেদম পেটায় অধ্যক্ষ। মাদ্রাসার সুনাম নষ্ট করার অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়। পরে মারধরের এ ঘটনা জানাজানি হলে শিশুটির মা ও আত্মীয়স্বজন পুলিশকে জানালে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে।

এ সময় অধ্যক্ষ ও যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষককে গত ১ মার্চ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরদিন শিশুটির মা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় জামিন নিতে মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

শেয়ার করুন

শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেবে না বলেনি ম্যাকডোনাল্ড’স-কোকাকোলা

শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেবে না বলেনি ম্যাকডোনাল্ড’স-কোকাকোলা

ম্যাকডোনাল্ড’সের ওয়েবসাইট, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন বা ফেসবুক পেজের কোথাও শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের নিয়োগ বন্ধ করার কথা বলা নেই। অন্যদিকে কোকা-কোলার মুখপাত্র অ্যান মুর বলেন, ‘এ দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।’

ম্যাকডোনাল্ড’স ও কোকাকোলার শীর্ষস্থানীয় পদে শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেয়া হবে বলে সম্প্রতি একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

বর্ণকেন্দ্রিক অসাম্য ও বৈষম্য বিবেচনায় রেখে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের নিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এগুলোর মধ্যে ম্যাকডোনাল্ড’স, কোকাকোলাও রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় ১২ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি বেশ ভাইরাল হয়। এতে বলা হয়, ‘ম্যাকডোনাল্ড’স ও কোকাকোলা উভয় প্রতিষ্ঠানই শীর্ষস্থানীয় পদে কোনো শ্বেতাঙ্গকে নিয়োগ দেবে না।’

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে ইউএসএ টুডের ফ্যাক্ট চেক দল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেতৃত্বে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনার ঘোষণা দেয় ম্যাকডোনাল্ড’স। নারী ও ঐতিহাসিকভাবে অপ্রতিনিধিত্বশীল গ্রুপকে নেতৃত্বস্থানীয় পদে নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধিত্বমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তি বাড়াতে ‘অ্যালাইশিপ থ্রু অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ নামের ওই পরিকল্পনা হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফাস্ট ফুড কোম্পানিটি।

পরিকল্পনায় বলা হয়, ২০২৫ সালের মধ্যে কোম্পানির জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও উচ্চ পর্যায়ের পদগুলোতে বর্ণ ও জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এ ছাড়া বৈশ্বিক নেতৃত্বস্থানীয় পদে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত নারী প্রতিনিধি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়।

ম্যাকডোনাল্ড’সের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বস্থানীয় পদের ২৯ শতাংশে অপ্রতিনিধিত্বশীল গ্রুপ কাজ করছে।

ম্যাকডোনাল্ড’সের ওয়েবসাইট, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন বা ফেসবুক পেজের কোথাও শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের নিয়োগ বন্ধ করার কথা বলা নেই।

এ বিষয়ে ইউএসএ টুডে মন্তব্য জানতে চাইলে ম্যাকডোনাল্ড’স কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানায়।

অন্যদিকে কোকাকোলার মুখপাত্র অ্যান মুর বলেন, ‘এ দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।’

বহুজাতিক বেভারেজ করপোরেশন কোকাকোলা সম্প্রতি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনার ঘোষণা দেয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে করপোরেশনটি শ্বেতাঙ্গদের নিয়োগ দেয়া বন্ধ করবে।

এ বিষয়ে কোকাকোলার ওয়েবসাইট, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন বা ফেসফুক পেজেও কিছু পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা: সাক্ষ্য দেবেন না অভিযুক্ত শভিন

কৃষ্ণাঙ্গ ফ্লয়েড হত্যা: সাক্ষ্য দেবেন না অভিযুক্ত শভিন

জর্জ ফ্লয়েড হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিন। ছবি: এএফপি

মামলায় উল্লেখিত সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন শভিন। অপরাধ প্রমাণে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে তার।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড হত্যা মামলার বিচার শুনানি শেষ হচ্ছে আগামী সোমবার। প্রায় এক মাস শুনানির পর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিরতি নেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। এ দিন মূল অভিযুক্ত ডেরেক শভিনের স্বপক্ষে যুক্তি দেয়ার কথা থাকলেও অপ্রত্যাশিতভাবেই তা থেকে বিরত থাকেন তিনি।

বিচারক পিটার চাহিলকে শভিনের আইনজীবী এরিক নেলসন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর আওতায় নীরব থাকার অধিকার প্রয়োগ করতে চান ৪৫ বছর বয়সী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।

গত বছরের মে মাসে পুলিশের হেফাজতে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড। সে সময় ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ফ্লয়েডের ঘাড়ে নয় মিনিটের বেশি সময় হাঁটু দিয়ে জোরে চাপ দিয়ে রাখেন শ্বেতাঙ্গ শভিন। এক পর্যায়ে ফ্লয়েড নিস্তেজ হয়ে পড়লেও তাতে তোয়াক্কা ছিল না উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্স’ নামে গণবিক্ষোভের মুখে চার পুলিশ কর্মকর্তা বাহিনী থেকে বহিষ্কার হন। এদের মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত শভিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

মামলায় উল্লেখিত সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন শভিন। অপরাধ প্রমাণে সর্বোচ্চ ৪০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে তার।

যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতে আসামিদের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচার বিরল ঘটনা। এ কারণে ফ্লয়েড হত্যার বিচারকে দেশটির আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

শেয়ার করুন

কৃষ্ণাঙ্গ রাইট হত্যা: পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

কৃষ্ণাঙ্গ রাইট হত্যা: পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নিহত রাইটের পরিবারের সদস্য। ছবি: এএফপি

দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কিম পটারের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ডন্ট রাইটকে হত্যার অভিযোগে শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর পদত্যাগ করা কিম পটার নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে এক লাখ ডলারের বিনিময়ে জামিনে ছাড়া পান তিনি। বৃহস্পতিবার আদালতে তার হাজির হওয়ার কথা রয়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, দোষী সাব্যস্ত হলে পটারের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে।

নিহত রাইটের পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইচ্ছাকৃত ও অবৈধভাবে বলপ্রয়োগ করে রাইটকে হত্যা করা হয়। কিম পটার ২৬ বছর বাহিনীতে ছিলেন। ট্যাজার ও আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ফারাক তিনি ভালোভাবেই জানেন। বড় ধরনের কোনো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেননি রাইট। সামান্য অপরাধের জন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে।

রোববার দুপুরে মিনেসোটার ব্রুকলিন সেন্টার শহরে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ২০ বছর বয়সী রাইট।

ঘটনার দিন নিহত রাইটের মা কেটি রাইট সাংবাদিকদের বলেন, রোববার দুপুরের দিকে ছেলে তাকে ফোন করে বলেন, রিয়ার-ভিউ আয়নায় এয়ার ফ্রেশনারে ঝুলতে থাকায় (মিনেসোটায় যা বেআইনি) এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থামাতে বলে।

পরের দিন ব্রুকলিন সেন্টারের পুলিশপ্রধান টিম গ্যানন সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার বডি ক্যামেরা থেকে ধারণ করা ভিডিও সাংবাদিকদের দেখান। এতে দেখা যায়, রাস্তার ধারে পুলিশ কর্মকর্তারা রাইটকে হাতকড়া পরাতে চাইলে তিনি গাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করেন। ওই সময় এক পুলিশ সদস্যকে তিনবার ‘ট্যাজার!’ বলতে শোনা যায়। পুলিশের নীতিমালায় লক্ষ্য নিশানার সময় বন্দুক ব্যবহার না করে আগে ট্যাজার (ইলেকট্রিক শক দেয়ার মতো প্রাণঘাতী নয় এমন যন্ত্র) ব্যবহারের কথা বলা রয়েছে।

ভিডিওতে ওই একই কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি তাকে গুলি করে ফেলেছি’। সে সময় গুলিবিদ্ধ রাইটকে গাড়িতে ঢুকে তা চালাতে দেখা যায়। মারাত্মক আহত রাইট কিছুদূর গিয়েই একটি গাড়িকে ধাক্কা দেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পটারের ভাষ্য, রাইটকে থামাতে ট্যাজার ব্যবহার না করে ভুল করে পিস্তল বের করে ফেলেছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার ওই ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন পটার। একই সঙ্গে ব্রুকলিন সেন্টারের পুলিশপ্রধান গ্যাননও পদত্যাগ করেন।

এদিকে বুধবার রাতেও কারফিউ ভেঙে রাইট হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে ব্রুকলিন সেন্টারের হাজার হাজার মানুষ।

মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস শহরের উপকণ্ঠে ব্রুকলিস সেন্টার অবস্থিত। মিনিয়াপোলিসেই গত বছরের মে মাসে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের হেফাজতে নিহত হন। ফ্লয়েড যেখানে মারা যান, সেখান থেকে ১০ মাইল দূরে মৃ্ত্যু হয় রাইটের।

তিন সপ্তাহ আগে কড়া নিরাপত্তায় মিনিয়াপোলিসের একটি আদালতে ফ্লয়েড হত্যা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনের বিচার শুরু চলছে।

শেয়ার করুন