লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড

লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড

একের পর এক ডিজাইন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত বৈষম্যহীন কার্ড তৈরি করেন মেলিঙ্ক। তার তৈরি কার্ডে কোনো রাজা, রানী বা জোকার নেই।

নেদারল্যান্ডসে ইন্ডি মেলিঙ্ক নামে মনোবিজ্ঞানের এক ছাত্রী গত বছর ভাইবোনদের কার্ড খেলার নিয়ম শেখাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ তার মনে উঁকি দেয় এই প্রশ্ন- ‘রানীর চেয়ে রাজার মূল্য কেন বেশি?’

বাবার অনুপ্রেরণা পেয়ে শখের ডিজাইনার মেলিঙ্ক সিদ্ধান্ত নেন, কার্ড খেলায় নারীর চেয়ে পুরুষকে বেশি মূল্য দেয়ার শতাব্দী পুরনো লৈঙ্গিক বৈষম্য ভাঙার এখনই সময়।

একের পর এক ডিজাইন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত লৈঙ্গিক বৈষম্যহীন কার্ড তৈরি করে ফেলেন মেলিঙ্ক। তার তৈরি কার্ডে কোনো রাজা, রানী বা জোকার নেই। তাহলে কী আছে?

মেলিঙ্ক উইয়ন টিভিকে বলেন, “আমি লিঙ্গ নিরপেক্ষ অবয়বহীন কার্ড তৈরি করেছি। এতে ‘কে’ বর্ণের জায়গায় লেখা হয়েছে ‘জি’, রানীর বদলে ‘এস’ ও জোকারের জায়গায় ‘বি’ লেখা হয়েছে। জি, এস ও বি এর অর্থ যথাক্রমে গোল্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ।

‘এ বিষয়ে আমি আমার বাবা-মা ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেছি। কার্ড ডিজাইন করতে ভালো লেগেছে। লৈঙ্গিক বৈষম্য নিয়ে আমি সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এ বৈষম্য এখনও কীভাবে প্রভাব ফেলে, সে বিষয়ে মানুষকে জানাতে চাই।’

মেলিঙ্কের গোল্ড বার, সিলভার কয়েন ও ব্রোঞ্জ শিল্ড ছবি সম্বলিত কার্ডের প্রথম ৫০টি প্যাকেট নিয়ে নেয় তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরাই। পরে অনলাইনে নিজের উদ্ভাবিত কার্ড বিক্রি শুরু করেন তিনি।

কয়েক মাসের মধ্যে প্রায় দেড় হাজার প্যাকেট কার্ড বিক্রি হয়েছে। বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও কার্ডের অর্ডার পাচ্ছেন মেলিঙ্ক।

অবশ্য ডাচ ব্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা মেলিঙ্কের সৃষ্টি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের ডিরেক্টর জেনারেল বেরিট ভ্যান ডোবেনবার্গ বলেন, ‘লৈঙ্গিক নিরপেক্ষতার দিকে আমরা নজর দিয়েছি, এটা ভালো। তবে রানীর চেয়ে রাজা ক্ষমতাবান- এ বিষয়টি কার্ড খেলার সময় কতজন মানুষের মাথায় থাকে, এ নিয়ে ভাবার আছে।’

অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হ্যান্স কেলডার বলেন, ‘৩৬ বছর ধরে আমি ব্রিজ খেলছি। কখনও মনে হয়নি, কোনো নারী বা জোকার নিজেকে কম মূল্যবান মনে করেছেন।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নেপালের ‘সাহসী’ মুসকান পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার

নেপালের ‘সাহসী’ মুসকান পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক পুরস্কার

মুসকানের বয়স যখন ১৫ তখন একটি ছেলের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন। এতে তার মুখাবয়ব, বুক ও হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

অ্যাসিড হামলার বিরুদ্ধে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন নেপালের মুসকান খাতুন।

নেপালে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে বলে কাঠমান্ডু পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, অ্যাসিড হামলার শেষ ঘটাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মুসকানকে এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

৮ মার্চ নারী দিবসের দিন দেয়া হবে এই পুরস্কার। এ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টনি ব্লিনকেন।

১৭ বছর বয়সী মুসকান নিজেও অ্যাসিড আক্রান্ত। পুরস্কারটির জন্য তাকে মনোনীত করায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেছেন নেপালে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত র‌্যান্ডি বেরি।

‘আমি সত্যিকার অর্থে খুব রোমাঞ্চিত যে, অ্যাসিড হামলা নির্মূলে নেপালের মুসকান খাতুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন।’

মুসকানের বয়স যখন ১৫ তখন একটি ছেলের প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় অ্যাসিড হামলার শিকার হয়েছিলেন। এতে তার মুখাবয়ব, বুক ও হাত মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।

নৃশংস ওই অ্যাসিড হামলার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন মুসকান। অ্যাসিড হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি তোলেন তিনি।

এর জেরে অ্যাসিড হামলার বিরুদ্ধে নতুন আইন প্রণয়নে বাধ্য হয় নেপাল সরকার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

নেপালে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, হিমালয় অধ্যুষিত দেশটির প্রথম নারী হিসেবে এই পুরস্কার পেতে যাচ্ছেন মুসকান। এই পুরস্কারজয়ী সবচেয়ে কম বয়সী নারী হবেন তিনি।

১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি কাজে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেয়া হয় এই পুরস্কার।

এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই ও বাংলাদেশের সারাহ হোসেনসহ অনেকে।

এবার মুসকান ছাড়াও আরও যারা পুরস্কারটি পাচ্ছেন, তারা হলেন- বেলারুশের মারিয়া কালেসনিকাভা, কলম্বিয়ার মায়েরলিস অ্যাঙ্গারিতা, কঙ্গোর জুলিয়েনে লুসেনগে, গুয়াতেমালার বিচারক এরিকা আইফান, ইরানের শোহরেহ বায়েত, সোমালিয়ার জাজরা মোহামেদ আহমেদ, স্পেনের সিস্টার অ্যালিসিয়া ভাকাস মোরো, শ্রীলঙ্কার রানিথা জ্ঞানারাজ, তুরস্কের ক্যানান গুলু ও ভেনেজুয়েলার রোসারিও কন্ট্রেরাস।

শেয়ার করুন

টোকিও অলিম্পিকের কার্যনির্বাহী বোর্ডে আরও ১২ নারী

টোকিও অলিম্পিকের কার্যনির্বাহী বোর্ডে আরও ১২ নারী

অলিম্পিক গেমসে স্পিড স্কেটিংয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী হাশিমোতো কার্যনির্বাহী বোর্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। হাশিমোতোর দায়িত্ব গ্রহণের আগে বোর্ডে প্রায় ২০ শতাংশ নারী ছিল। এখন তা বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে।

জেন্ডার সমতা উদ্যোগের অংশ হিসেবে টোকিও অলিম্পিকের কার্যনির্বাহী বোর্ডে আরও ১২ নারীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বোর্ডের ৪৫ সদস্যের মধ্যে নারীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে।

টোকিও অলিম্পিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তোশিরো মুতো কার্যনির্বাহী বোর্ডের বৈঠক শেষে নারী নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দ্য গার্ডিয়ানের বুধবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুতো বলেন, বোর্ডের সাত ভাইস প্রেসিডেন্টের মধ্যে একজন নারী থাকবেন।

সদ্য নিয়োগ দেয়া নারীদের জায়গা দিতে সম্প্রতি বোর্ডের সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়। আগে বোর্ডটি ৩৫ সদস্যের ছিল। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সদস্য মঙ্গলবার পদত্যাগ করায় আরও কিছু পদ শূন্য হয়ে পড়ে।

টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটির নতুন প্রেসিডেন্ট সিকো হাশিমোতো কার্যনির্বাহী বোর্ডের এ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গত মাসে আয়োজক কমিটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

হাশিমোতোর আগের প্রেসিডেন্ট ৮৩ বছর বয়সী ইয়োশিরো মোরি নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।

বোর্ডের বৈঠকের শুরুতে হাশিমোতো বলেন, ‘জেন্ডার সমতার অগ্রগতির বিষয়ে আমরা মনে করি, আয়োজক কমিটির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুততার সঙ্গে দৃশ্যমান পরিবর্তন হাজির করা জরুরি।’

অলিম্পিক গেমসে স্পিড স্কেটিংয়ে ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী হাশিমোতো কার্যনির্বাহী বোর্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগে বোর্ডে প্রায় ২০ শতাংশ নারী ছিল। এখন তা বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের জেন্ডার সমতা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫৩টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ১২১তম। দেশটির শীর্ষ পদগুলোতে বা কার্যনির্বাহী বোর্ডে নারীর অংশগ্রহণ তেমন একটা দেখা যায় না।

শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে ৩ নারী গণমাধ্যমকর্মী খুন

আফগানিস্তানে ৩ নারী গণমাধ্যমকর্মী খুন

জালালাবাদের হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু হয় তিন জনের। ছবি: এএফপি

নিহত তিন নারী একটি টেলিভিশনে ডাবিংয়ের কাজ করতেন। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের ওপর হামলা হয়।

আফগানিস্তানে তিনটি হামলায় তিন নারী গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে আরও একজনকে।

দেশটির জালালাবাদ শহরের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনিকাসে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে মঙ্গলবার হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ওই তিনজন।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, হামলার ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি তালেবান মতাদর্শী বলে দাবি করেছে পুলিশ। যদিও পুলিশের দাবি নাকচ করছে তালেবান।

টেলিভিশন চ্যানেলটির প্রধান জালমাই লতিফি জানান, নিহত তিনজনের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। সম্প্রতি হাই স্কুল শেষ হওয়া এ তরুণীরা ডাবিংয়ের কাজ করতেন।

পুলিশের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, নিহত তিন তরুণীর একজনের নাম মুর্শাল ওহিদি। বাড়ি যাওয়ার পথে বন্দুক হামলার শিকার হন তিনি। নিহত বাকি দুজনের একজন শাহনাজ ও অপরজন সাদিয়া। তারাও বাড়ি ফেরার পথে খুন হন।

টেলিভিশন মালিক জালমাই লতিফি বলেন, ‘তারা সবাই মারা গেছেন। অফিস শেষে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। আহত আরেক তরুণীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, এই টেলিভিশনে ১০ নারী কর্মী কাজ করেন। তাদের মধ্যে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে সংবাদ উপস্থাপক মালালাই মাইওয়ান্দকে হত্যা করা হয়। হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন আইএস।

বাকি হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নানগারহার পুলিশপ্রধান জুমা গুল হিমাত।

‘একজনকে গ্রেপ্তার করেছি। সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। হামলার কথা সে স্বীকার করেছে। জানিয়েছে সে তালেবানের সদস্য।’

এক বছর আগে আফগান সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে ‘টার্গেট কিলিং’ আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। সরকারি কর্মচারী, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক নেতারা হামলার শিকার হচ্ছেন।

জানুয়ারিতে রাজধানী কাবুলে দুই নারী বিচারককে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়। এর দায় স্বীকার করেনি কেউ।

শেয়ার করুন

শিশুদের পণ্যে জেন্ডার-বৈষম্য দূর করতে আইন

শিশুদের পণ্যে জেন্ডার-বৈষম্য দূর করতে আইন

ক্যালিফোর্নিয়ায় খেলনার দোকানে আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা শিশুদের পণ্য। ছবি: টুইটার

আইনটির প্রস্তাব তোলার প্রেক্ষাপট নিয়ে আইনপ্রণেতা লো বলেন, ‘আমার এক সহকর্মী তার মেয়েকে নিয়ে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গিয়েছিলেন। তখন মেয়েটি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে, কেন তার পছন্দের পণ্য ছেলের বিভাগে রাখা হয়েছে।’

শিশুদের পণ্যে জেন্ডার-বৈষম্য দূর করতে নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে।

এ আইনে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য আলাদা খেলনা বিক্রি, জেন্ডার পরিচয়ের ভিত্তিতে পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী আলাদা জায়গায় রাখা হলে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোকে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে।

আইন পাস হলে প্রত্যেক দোকানকে ৩০ দিনের সময় দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে শিশু পণ্যগুলোকে এক জায়গায় রাখতে হবে।

২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবটি তোলা হয় ক্যালিফোর্নিয়ার পার্লামেন্টে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন আইনপ্রণেতা ইভান লো ও ডি ক্যাম্বেল।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী দোকানের পণ্য সরাতে হবে না। কেবল ছেলে ও মেয়ে শিশুর জন্য আলদা কর্নারে তাদের সামগ্রী রাখা যাবে না।

আইনটির প্রস্তাব তোলার একটা প্রেক্ষাপট আছে। আইনপ্রণেতা লো বলেন, ‘আমার এক সহকর্মী তার মেয়েকে নিয়ে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গিয়েছিলেন। তখন মেয়েটি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে, কেন তার পছন্দের পণ্য ছেলের বিভাগে রাখা হয়েছে।’

ফক্স বিজনেসের খবরে বলে হয়েছে, অনেক ক্রেতা এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। তারা দাবি তুলেছিলেন শিশুরা যেন এই বৈষম্যের মুখে না পড়ে।

আইনটিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘লেটস টয় বি টয়’। তারা বলছে, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য দোকানে আলাদা স্থানে পণ্য রাখা ছাচিকরণ এবং তা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক।

শেয়ার করুন

জেন্ডার প্রকাশ পার্টিকে ‘ট্রান্সফোবিক’ বললেন গায়িকা লোভাটো

জেন্ডার প্রকাশ পার্টিকে ‘ট্রান্সফোবিক’ বললেন গায়িকা লোভাটো

ডেমি লোভাটো। ছবি: এএফপি

লোভাটো বলেন, ‘এটা শুধু রাজনৈতিক সঠিকতার বিষয় নয়। আমরা আমাদের পরিচয়ের কারণেই কেবল জেন্ডার প্রকাশ পার্টির নিন্দা করছি এমনটি নয়; বাস্তবতার কারণেও করছি।’

জেন্ডার প্রকাশ পার্টির কড়া সমালোচনা করে একে ‘ট্রান্সফোবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত অভিনেত্রী ও গায়িকা ডেমি লোভাটো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অনাগত শিশুকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের জেন্ডার প্রকাশ পার্টির চল হাল আমলে বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই এই পার্টির আয়োজন করছে। গোলাপি বা নীল রঙের আলো ও বেলুনসজ্জিত এসব অনুষ্ঠানে অনাগত শিশুর জেন্ডার প্রকাশ করা হয়।

জেন্ডার প্রকাশ পার্টির তীব্র সমালোচনা করে লোভাটো বলেন, ট্রান্স মানুষদের কথা মাথায় না রেখেই এসব পার্টির আয়োজন করা হয়।

ইনস্টাগ্রামে ‘জেন্ডার প্রকাশ পার্টি কেন ট্রান্সফোবিক’ শিরোনামে ৯ পৃষ্ঠার নিবন্ধ পোস্ট করেন ২৮ বছর বয়সী লোভাটো। ওই শিরোনামে আগে একটি লেখা লিখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক অলোক ভেইড-মেনন।

নিবন্ধে বলা হয়, ‘জেন্ডার প্রকাশ পার্টি ট্রান্সফোবিক নয়, এমনটি জাহির করা আন্তরিকতাহীন ও ভুল। আপনারা বাইনারি গোলাপি ও নীল রঙের কেক এসব অনুষ্ঠানে রাখতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘এটা শুধু রাজনৈতিক সঠিকতার বিষয় নয়। আমরা আমাদের পরিচয়ের কারণেই কেবল জেন্ডার প্রকাশ পার্টির নিন্দা করছি এমনটি নয়; বাস্তবতার কারণেও করছি।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘ট্রান্সফোবিয়া শুধু ব্যক্তি ট্রান্স মানুষের বিরুদ্ধে সংস্কার নয়। যারা ট্রান্স জেন্ডার নন, তারাই কেবল স্বাভাবিক বা জৈব আর বাকিরা তা নয়, চিন্তার এমন ধারাকেও প্রভাবিত করে ট্রান্সফোবিয়া।

‘জেন্ডার বাইনারির মতো এসব চিন্তা সব মানুষের প্রতি অসদাচরণের ক্ষেত্র প্রস্তুতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ট্রান্স ও জেন্ডার নন-কনফর্মিং মানুষজন এর শিকার বেশি হন।’

শেয়ার করুন

জেন্ডার নিরপেক্ষতা: ‘মিস্টার’ থাকছে না পটেটো হেড

জেন্ডার নিরপেক্ষতা: ‘মিস্টার’ থাকছে না পটেটো হেড

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল ইনকরপোরেশনের বার্বি পুতুলগুলো দীর্ঘদিন তাদের শ্বেতাঙ্গ ইমেজ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও এখন বিভিন্ন বর্ণ ও দেহের আকারের পুতুল তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খেলানা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হ্যাশব্রো ৭০ বছর ধরে আলু আকৃতির খেলনা তৈরি করছে। তাদের সেই আইকনিক ‘মিস্টার পটেটো হেড’ নামের খেলনাটিকে জেন্ডার নিরপেক্ষ করতে মিস্টার শব্দটি পেলে দিয়ে ‘পটেটো হেড’ নাম দিচ্ছে। চলতি বছরেই তাদের বাক্সে নামের এই পরিবর্তন দেখা যাবে।

কয়েকবছর ধরেই বিভিন্ন খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্ল্যাসিক ব্র্যান্ডগুলোকে হালনাগাদ করছে। এখনকার শিশুদের ও আধুনিক পরিবারের কথা মাথায় রেখেই হালনাগাদের কাজ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল ইনকরপোরেশনের বার্বি পুতুলগুলো দীর্ঘদিন তাদের শ্বেতাঙ্গ ইমেজ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও এখন বিভিন্ন বর্ণ ও দেহের আকারের পুতুল তৈরি করছে।

দ্য থমাস দ্য ট্যাঙ্ক ইঞ্জিন টয় লাইন তাদের খেলনার ক্ষেত্রে মেয়ে চরিত্র যুক্ত করছে। অ্যান অ্যামেরিকান গার্ল নামের খেলনা প্রতিষ্ঠান এখন ছেলে পুতুল বিক্রি করছে।

মিস্টার পটেটো হেড নিয়ে টয় ইনসাইডারের এডিটর ইন চিফ অ্যালি মেরজেজেওয়েস্কির বলেন, ‘এটা আলু আকৃতির খেলনা। তবে শিশুরা তাদের খেলনার মতো করেই নিজেদের দেখতে পছন্দ করে।’

দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হিসেবে এবারের বসন্তে হ্যাশব্রো পটেটো হেডের নতুন খেলনার সেট বাজারে আনবে। এই সেটে দুইজন মা বা দুইজন বাবা চরিত্রের পুতুল থাকবে এবং শিশুরা নিজেদের মতো করে খেলনা পরিবার তৈরি করতে পারবে।

হ্যাশব্রো জানায়, মিস্টার ও মিসেস পটেটো হেড চরিত্রগুলোকে রাখা হবে। তবে সেগুলো কীভাবে রাখা হবে তার ব্যাখ্যা দেয়নি তারা। পটেটো হেডের দুটি চরিত্রকেই ‘টয় স্টোরি’ সিনামতে দেখা গেছে।

অ্যালি জানান, মিস্টার পদবীটি সরানোর মধ্য দিয়ে হ্যাশব্রো অন্য কোম্পানিগুলোকে খেলনার ক্ষেত্রে জেন্ডার নির্ধারণের বিষয়ে বিরত রাখতে উৎসাহ দেবে।

তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা নির্ধারণের শুরু হচ্ছে।’

বার্বি নির্মাতা ম্যাটেল ইনকরপোরেশন ২০১৯ সালে একটি জেন্ডার নিরপেক্ষ পুতুল বাজারে ছাড়ে। তবে, পটেটো হেড এরকম উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাপের প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক মিডিয়া মনিটরিং প্রতিষ্ঠান গ্ল্যাড, এলজিবিটিকিউ এডভোকেসি গ্রুপ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

গ্ল্যাডের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা রিচ ফেরারো বলেন, ‘হ্যাশব্রো তাদের নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের খেলনাকে খেলনা হিসেবে চিন্তা করতে সাহায্য করছে। এর মাধ্যমে তারা জেন্ডারের চলমান নিয়মগুলোর বাইরে গিয়ে স্বকীয়তা বজায় রাখতে উৎসাহ পাবে।’

মিস্টার পটেটো হেড চরিত্রটি ১৯৫২ সালে খেলনা হিসেবে বাজারে আসে। তখনও এটি প্লাস্টিকের খেলনা হিসেবে চালু হয়নি। শিশুরা তখন বিভিন্ন সবজি দিয়ে চোখ, নাক বা গোঁফ তৈরি করত। পরে হ্যাশব্রো, যারা মনোপলি ও মাই লিটল পনি নামের খেলনা তৈরি করত তারা ব্র্যান্ডটিকে কিনে নেয় এবং প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি শুরু করে।

শেয়ার করুন

অস্ত্রোপচারে নারী হলো যমজ ভাই

অস্ত্রোপচারে নারী হলো যমজ ভাই

অস্ত্রোপচারের পর মাইলা ও সোফিয়া। ছবি:এএফপি

আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা মাইলা বলেন, ‘১৯ বছর আমরা যমজ বোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি; কখনোই আমাদের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। অনেকবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি, বুলিংয়ের শিকার হয়েছি। একে অপরকে সমর্থন দিয়ে ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।’

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জেন্ডার পরিবর্তন করে অনেকেই নারী থেকে পুরুষ কিংবা পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন। তবে যমজদের মধ্যে একসঙ্গে জেন্ডার পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রথমবারের মতো সেটি করলেন ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী যমজ ভাই।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বের ছোট্ট এক শহরে বেড়ে ওঠা দুই যমজ মাইলা ও সোফিয়া জন্মের পর ছেলে হিসেবে চিহ্নিত হন। কিন্তু তাদের কেউই পুরুষ ভাবেনি।

তাদের অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক হোসে কার্লোস মার্টিনস জানিয়েছেন, এই যমজেরা ছেলে হিসেবে জন্ম নিলেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের নারী জেন্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এই অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে মাইলা তাদের জীবনসংগ্রামের গল্প শেয়ার করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সব সময় আমি আমার শরীরকে ভালোবাসি।’

আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা মাইলা বলেন, ‘১৯ বছর ধরে আমরা যমজ বোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি; কখনোই আমাদের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। অনেকবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি, বুলিংয়ের শিকার হয়েছি। একে অপরকে সমর্থন দিয়ে ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শৈশব থেকেই পরিবার আমাদের পুরো সমর্থন জানিয়ে আসছে। মা-বাবা কখনোই আমাদের নিয়ে বিব্রত হননি। শুধু তাই নয়, এই অস্ত্রোপচারের টাকা দিয়েছেন আমাদের দাদা। আর তা করতে ২০ হাজার ডলারের সম্পত্তি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন।’

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg