সম্মাননা পেল খুলনার শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’রা

সম্মাননা পেল খুলনার শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’রা

খুলনা বিভাগের ১০ জেলা হতে নির্বাচিত ৫০ জন নারীর মধ্যে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জয়িতাকে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মাননা পেয়েছেন বিভাগের পাঁচ নারী।

মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা পাবলিক কলেজ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা ঢাকার শিশু একাডেমি থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলা হতে নির্বাচিত ৫০ জন নারীর মধ্যে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ জয়িতা হলেন ঝিনাইদহের লাভলী ইয়াসমিন, নড়াইলের শেখ মুসলিমা মুন ও সানজিদা রহমান আদরী, খুলনার রাবেয়া বেগম ও অঞ্জনা বালা বিশ্বাস।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে লাভলী ইয়াসমিন, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী ক্যাটাগরিতে শেখ মুসলিমা মুন, সফল জননী ক্যাটাগরিতে রাবেয়া বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা ক্যাটাগরিতে সানজিদা রহমান আদরী ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ক্যাটাগরিতে অঞ্জনা বালা বিশ্বাসকে সম্মাননা দেয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালে জয়িতা সম্মাননা চালু করেন। নারী-পুরুষ সমতাভিত্তিক সমাজ নিশ্চিত করতে ও বিশেষ ক্ষেত্রে নারীদের সম্মান জানানোর জন্যই এ উদ্যোগ নেয়া।’

প্রতিমন্ত্রী খুলনা বিভাগে বিজয়ী জয়িতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘জয়িতারা জীবনের সবখানে বিজয়ী হবেন।’

অনুষ্ঠনে সভাপতিত্ব করেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার ইসমাইল হোসেন। তিনি শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের হাতে প্রধান অতিথির পক্ষে পুরস্কারের চেক, সনদপত্র ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

নির্বাচিত পাঁচ জন রানার-আপ জয়িতা ও খুলনা বিভাগের জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত সকল জয়িতাকেও সম্মাননা স্মারক, পুরস্কারের চেক ও সনদপত্র দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) সৈয়দ রবিউল আলম, খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল মোক্তাদের, জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক নার্গিস ফাতেমাসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিশুদের পণ্যে জেন্ডার-বৈষম্য দূর করতে আইন

শিশুদের পণ্যে জেন্ডার-বৈষম্য দূর করতে আইন

ক্যালিফোর্নিয়ায় খেলনার দোকানে আলাদা আলাদা জায়গায় রাখা শিশুদের পণ্য। ছবি: টুইটার

আইনটির প্রস্তাব তোলার প্রেক্ষাপট নিয়ে আইনপ্রণেতা লো বলেন, ‘আমার এক সহকর্মী তার মেয়েকে নিয়ে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গিয়েছিলেন। তখন মেয়েটি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে, কেন তার পছন্দের পণ্য ছেলের বিভাগে রাখা হয়েছে।’

শিশুদের পণ্যে জেন্ডার-বৈষম্য দূর করতে নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে।

এ আইনে ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য আলাদা খেলনা বিক্রি, জেন্ডার পরিচয়ের ভিত্তিতে পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী আলাদা জায়গায় রাখা হলে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোকে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে।

আইন পাস হলে প্রত্যেক দোকানকে ৩০ দিনের সময় দেয়া হবে। এই সময়ের মধ্যে শিশু পণ্যগুলোকে এক জায়গায় রাখতে হবে।

২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবটি তোলা হয় ক্যালিফোর্নিয়ার পার্লামেন্টে। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন আইনপ্রণেতা ইভান লো ও ডি ক্যাম্বেল।

প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী দোকানের পণ্য সরাতে হবে না। কেবল ছেলে ও মেয়ে শিশুর জন্য আলদা কর্নারে তাদের সামগ্রী রাখা যাবে না।

আইনটির প্রস্তাব তোলার একটা প্রেক্ষাপট আছে। আইনপ্রণেতা লো বলেন, ‘আমার এক সহকর্মী তার মেয়েকে নিয়ে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গিয়েছিলেন। তখন মেয়েটি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করে, কেন তার পছন্দের পণ্য ছেলের বিভাগে রাখা হয়েছে।’

ফক্স বিজনেসের খবরে বলে হয়েছে, অনেক ক্রেতা এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। তারা দাবি তুলেছিলেন শিশুরা যেন এই বৈষম্যের মুখে না পড়ে।

আইনটিকে সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘লেটস টয় বি টয়’। তারা বলছে, ছেলে ও মেয়ে শিশুদের জন্য দোকানে আলাদা স্থানে পণ্য রাখা ছাচিকরণ এবং তা শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকারক।

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

জেন্ডার প্রকাশ পার্টিকে ‘ট্রান্সফোবিক’ বললেন গায়িকা লোভাটো

জেন্ডার প্রকাশ পার্টিকে ‘ট্রান্সফোবিক’ বললেন গায়িকা লোভাটো

ডেমি লোভাটো। ছবি: এএফপি

লোভাটো বলেন, ‘এটা শুধু রাজনৈতিক সঠিকতার বিষয় নয়। আমরা আমাদের পরিচয়ের কারণেই কেবল জেন্ডার প্রকাশ পার্টির নিন্দা করছি এমনটি নয়; বাস্তবতার কারণেও করছি।’

জেন্ডার প্রকাশ পার্টির কড়া সমালোচনা করে একে ‘ট্রান্সফোবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত অভিনেত্রী ও গায়িকা ডেমি লোভাটো।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি এ নিয়ে কথা বলেন বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইউনিল্যাডের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অনাগত শিশুকে ঘিরে পরিবার ও স্বজনদের জেন্ডার প্রকাশ পার্টির চল হাল আমলে বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই এই পার্টির আয়োজন করছে। গোলাপি বা নীল রঙের আলো ও বেলুনসজ্জিত এসব অনুষ্ঠানে অনাগত শিশুর জেন্ডার প্রকাশ করা হয়।

জেন্ডার প্রকাশ পার্টির তীব্র সমালোচনা করে লোভাটো বলেন, ট্রান্স মানুষদের কথা মাথায় না রেখেই এসব পার্টির আয়োজন করা হয়।

ইনস্টাগ্রামে ‘জেন্ডার প্রকাশ পার্টি কেন ট্রান্সফোবিক’ শিরোনামে ৯ পৃষ্ঠার নিবন্ধ পোস্ট করেন ২৮ বছর বয়সী লোভাটো। ওই শিরোনামে আগে একটি লেখা লিখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের লেখক অলোক ভেইড-মেনন।

নিবন্ধে বলা হয়, ‘জেন্ডার প্রকাশ পার্টি ট্রান্সফোবিক নয়, এমনটি জাহির করা আন্তরিকতাহীন ও ভুল। আপনারা বাইনারি গোলাপি ও নীল রঙের কেক এসব অনুষ্ঠানে রাখতে পারেন না।’

তিনি বলেন, ‘এটা শুধু রাজনৈতিক সঠিকতার বিষয় নয়। আমরা আমাদের পরিচয়ের কারণেই কেবল জেন্ডার প্রকাশ পার্টির নিন্দা করছি এমনটি নয়; বাস্তবতার কারণেও করছি।’

নিবন্ধে আরও বলা হয়, ‘ট্রান্সফোবিয়া শুধু ব্যক্তি ট্রান্স মানুষের বিরুদ্ধে সংস্কার নয়। যারা ট্রান্স জেন্ডার নন, তারাই কেবল স্বাভাবিক বা জৈব আর বাকিরা তা নয়, চিন্তার এমন ধারাকেও প্রভাবিত করে ট্রান্সফোবিয়া।

‘জেন্ডার বাইনারির মতো এসব চিন্তা সব মানুষের প্রতি অসদাচরণের ক্ষেত্র প্রস্তুতে সহায়তা করে। বিশেষ করে ট্রান্স ও জেন্ডার নন-কনফর্মিং মানুষজন এর শিকার বেশি হন।’

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

জেন্ডার নিরপেক্ষতা: ‘মিস্টার’ থাকছে না পটেটো হেড

জেন্ডার নিরপেক্ষতা: ‘মিস্টার’ থাকছে না পটেটো হেড

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল ইনকরপোরেশনের বার্বি পুতুলগুলো দীর্ঘদিন তাদের শ্বেতাঙ্গ ইমেজ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও এখন বিভিন্ন বর্ণ ও দেহের আকারের পুতুল তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খেলানা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হ্যাশব্রো ৭০ বছর ধরে আলু আকৃতির খেলনা তৈরি করছে। তাদের সেই আইকনিক ‘মিস্টার পটেটো হেড’ নামের খেলনাটিকে জেন্ডার নিরপেক্ষ করতে মিস্টার শব্দটি পেলে দিয়ে ‘পটেটো হেড’ নাম দিচ্ছে। চলতি বছরেই তাদের বাক্সে নামের এই পরিবর্তন দেখা যাবে।

কয়েকবছর ধরেই বিভিন্ন খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাদের ক্ল্যাসিক ব্র্যান্ডগুলোকে হালনাগাদ করছে। এখনকার শিশুদের ও আধুনিক পরিবারের কথা মাথায় রেখেই হালনাগাদের কাজ করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক খেলনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল ইনকরপোরেশনের বার্বি পুতুলগুলো দীর্ঘদিন তাদের শ্বেতাঙ্গ ইমেজ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও এখন বিভিন্ন বর্ণ ও দেহের আকারের পুতুল তৈরি করছে।

দ্য থমাস দ্য ট্যাঙ্ক ইঞ্জিন টয় লাইন তাদের খেলনার ক্ষেত্রে মেয়ে চরিত্র যুক্ত করছে। অ্যান অ্যামেরিকান গার্ল নামের খেলনা প্রতিষ্ঠান এখন ছেলে পুতুল বিক্রি করছে।

মিস্টার পটেটো হেড নিয়ে টয় ইনসাইডারের এডিটর ইন চিফ অ্যালি মেরজেজেওয়েস্কির বলেন, ‘এটা আলু আকৃতির খেলনা। তবে শিশুরা তাদের খেলনার মতো করেই নিজেদের দেখতে পছন্দ করে।’

দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়, রিব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হিসেবে এবারের বসন্তে হ্যাশব্রো পটেটো হেডের নতুন খেলনার সেট বাজারে আনবে। এই সেটে দুইজন মা বা দুইজন বাবা চরিত্রের পুতুল থাকবে এবং শিশুরা নিজেদের মতো করে খেলনা পরিবার তৈরি করতে পারবে।

হ্যাশব্রো জানায়, মিস্টার ও মিসেস পটেটো হেড চরিত্রগুলোকে রাখা হবে। তবে সেগুলো কীভাবে রাখা হবে তার ব্যাখ্যা দেয়নি তারা। পটেটো হেডের দুটি চরিত্রকেই ‘টয় স্টোরি’ সিনামতে দেখা গেছে।

অ্যালি জানান, মিস্টার পদবীটি সরানোর মধ্য দিয়ে হ্যাশব্রো অন্য কোম্পানিগুলোকে খেলনার ক্ষেত্রে জেন্ডার নির্ধারণের বিষয়ে বিরত রাখতে উৎসাহ দেবে।

তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা নির্ধারণের শুরু হচ্ছে।’

বার্বি নির্মাতা ম্যাটেল ইনকরপোরেশন ২০১৯ সালে একটি জেন্ডার নিরপেক্ষ পুতুল বাজারে ছাড়ে। তবে, পটেটো হেড এরকম উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি বড় মাপের প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক মিডিয়া মনিটরিং প্রতিষ্ঠান গ্ল্যাড, এলজিবিটিকিউ এডভোকেসি গ্রুপ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

গ্ল্যাডের প্রধান যোগাযোগ কর্মকর্তা রিচ ফেরারো বলেন, ‘হ্যাশব্রো তাদের নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের খেলনাকে খেলনা হিসেবে চিন্তা করতে সাহায্য করছে। এর মাধ্যমে তারা জেন্ডারের চলমান নিয়মগুলোর বাইরে গিয়ে স্বকীয়তা বজায় রাখতে উৎসাহ পাবে।’

মিস্টার পটেটো হেড চরিত্রটি ১৯৫২ সালে খেলনা হিসেবে বাজারে আসে। তখনও এটি প্লাস্টিকের খেলনা হিসেবে চালু হয়নি। শিশুরা তখন বিভিন্ন সবজি দিয়ে চোখ, নাক বা গোঁফ তৈরি করত। পরে হ্যাশব্রো, যারা মনোপলি ও মাই লিটল পনি নামের খেলনা তৈরি করত তারা ব্র্যান্ডটিকে কিনে নেয় এবং প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি শুরু করে।

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

অস্ত্রোপচারে নারী হলো যমজ ভাই

অস্ত্রোপচারে নারী হলো যমজ ভাই

অস্ত্রোপচারের পর মাইলা ও সোফিয়া। ছবি:এএফপি

আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা মাইলা বলেন, ‘১৯ বছর আমরা যমজ বোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি; কখনোই আমাদের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। অনেকবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি, বুলিংয়ের শিকার হয়েছি। একে অপরকে সমর্থন দিয়ে ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।’

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জেন্ডার পরিবর্তন করে অনেকেই নারী থেকে পুরুষ কিংবা পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন। তবে যমজদের মধ্যে একসঙ্গে জেন্ডার পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রথমবারের মতো সেটি করলেন ব্রাজিলের ১৯ বছর বয়সী যমজ ভাই।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বের ছোট্ট এক শহরে বেড়ে ওঠা দুই যমজ মাইলা ও সোফিয়া জন্মের পর ছেলে হিসেবে চিহ্নিত হন। কিন্তু তাদের কেউই পুরুষ ভাবেনি।

তাদের অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক হোসে কার্লোস মার্টিনস জানিয়েছেন, এই যমজেরা ছেলে হিসেবে জন্ম নিলেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের নারী জেন্ডার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্বে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এই অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের এক সপ্তাহ পর বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে মাইলা তাদের জীবনসংগ্রামের গল্প শেয়ার করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সব সময় আমি আমার শরীরকে ভালোবাসি।’

আর্জেন্টিনায় চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা মাইলা বলেন, ‘১৯ বছর ধরে আমরা যমজ বোন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি; কখনোই আমাদের ছেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। অনেকবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি, বুলিংয়ের শিকার হয়েছি। একে অপরকে সমর্থন দিয়ে ওই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শৈশব থেকেই পরিবার আমাদের পুরো সমর্থন জানিয়ে আসছে। মা-বাবা কখনোই আমাদের নিয়ে বিব্রত হননি। শুধু তাই নয়, এই অস্ত্রোপচারের টাকা দিয়েছেন আমাদের দাদা। আর তা করতে ২০ হাজার ডলারের সম্পত্তি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

গৃহস্থালি কাজের পারিশ্রমিক পেলেন চীনা নারী

গৃহস্থালি কাজের পারিশ্রমিক পেলেন চীনা নারী

বৈবাহিক অবস্থায় সাংসারিক কাজকর্মের মূল্য বাবদ সাবেক স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নজিরবিহীন এ নির্দেশ দেয় বেইজিংয়ের একটি আদালত।

গৃহস্থালি কাজের জন্য স্ত্রীকে অর্থ পরিশোধের ঐতিহাসিক রায় দিলো চীনের বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত আদালত।

বিবিসি জানিয়েছে, বৈবাহিক অবস্থায় সাংসারিক কাজকর্মের মূল্য বাবদ সাবেক স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নজিরবিহীন এ নির্দেশ দেয় বেইজিংয়ের আদালত।

এর ফলে পাঁচ বছরের সংসারে যে শ্রম দিয়েছেন ওই নারী, সে জন্য তিনি পাচ্ছেন চীনা মুদ্রায় ৫০ হাজার ইউয়ান বা সাত হাজার ৭০০ ডলার।

আদালতের নথি থেকে জানা যায়, গত বছর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চেয়ে মামলা করেন শেন নামের এক ব্যক্তি। ওয়াং নামের নারীর সঙ্গে ২০১৫ সালে বিয়ে হয়েছিল তার।

প্রথমে বিচ্ছেদে অনীহা থাকলেও পরে তা মেনে নিয়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেন ওয়াং। তার যুক্তি ছিল, স্বামী থাকাকালীন কখনোই গৃহস্থালি কাজে কোনো সহযোগিতা করেননি শেন। এমনকি বাবা হিসেবে একমাত্র সন্তানের জন্মের পর তার বেড়ে ওঠা বা দেখাশোনাতেও কোনো দায়-দায়িত্ব পালন করেননি।

পরে ওই নারীর সমর্থনে রায় দেয় বেইজিংয়ের ফাংশাং জেলা আদালত। গৃহস্থালি কাজের জন্য এককালীন হিসেবে ৫০ হাজার ইউয়ান ছাড়াও খোরপোষ বাবদ সাবেক স্বামীর কাছ থেকে প্রতি মাসে ২ হাজার ইউয়ান করেও পাবেন তিনি।

চীনে চলতি বছর দাম্পত্য ও বিবাহবিচ্ছেদ বিষয়ক নতুন একটি আইন কার্যকরের পর এ সংক্রান্ত প্রথম রায় এটি। আইন অনুযায়ী, সন্তানের দেখাশোনা, পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের যত্নআত্তি এবং গৃহস্থালি কাজে যার ভূমিকা বেশি, বিচ্ছেদ হলে তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।

চীনা সমাজব্যবস্থা অনুযায়ী, এতদিন বিয়ের আগে নির্দিষ্ট চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই কেবল বিচ্ছেদের পর এ ধরনের আবেদন করতে পারতেন সাবেক স্ত্রীরা। তবে এ ধরনের চুক্তিও খুব একটা প্রচলিত ছিল না।

আদালতের এ আদেশের পর গৃহস্থালি কাজের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই বলছে, আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে এটি খুবই নগণ্য একটি অঙ্ক।

অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, বাসাবাড়িতে চীনা নারীরা অবৈতনিক কাজকর্মে প্রতিদিন প্রায় চার ঘণ্টা ব্যয় করেন। পুরুষের তুলনায় এটি আড়াই গুণ বেশি।

ওইসিডিভুক্ত অন্য দেশগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীদের অবৈতনিক কাজের হার দ্বিগুণ।

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

নথিতে ‘এক্স’ জেন্ডার যুক্ত করবে বাইডেন প্রশাসন

নথিতে ‘এক্স’ জেন্ডার যুক্ত করবে বাইডেন প্রশাসন

পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডসহ কেন্দ্রীয় সব নথিতে ‘এক্স’ জেন্ডার মার্কার যুক্ত করতে নির্বাহী আদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের পক্ষের লোকজনের।

দীর্ঘদিনের লবিং ও মামলা-মোকদ্দমার পর যুক্তরাষ্ট্রের নন-বাইনারি ও ইন্টারসেক্স লোকজন হয়তো তাদের সঠিক পরিচয়পত্র পেতে যাচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্ট, সামাজিক নিরাপত্তা কার্ডসহ কেন্দ্রীয় সব নথিতে ‘এক্স’ জেন্ডার মার্কার যুক্ত করতে নির্বাহী আদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চলছে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের পক্ষের লোকজনের।

সোমবার ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ-সংক্রান্ত নীতি কখন, কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি হোয়াইট হাউজ।

তবে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ম্যাট হিল বলেন, নির্বাচনি প্রচারের সময় নন-বাইনারি কার্ড ইস্যু করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বাইডেন। তিনি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবেন।

জেন্ডার, রাজনীতি ও নীতিবিষয়ক প্রতিবেদন করা দ্য নাইনটিন্থকে এক বিবৃতিতে হিল বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার ও নন-বাইনারি আমেরিকানদের শনাক্তকরণ নথি হালনাগাদ করতে অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রের উদ্যোগ জোরদার করার বিষয়ে বাইডেন অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছেন। এসব নথিতে তাদের জেন্ডার পরিচয় সঠিকভাবে উল্লেখ থাকবে।

‘শনাক্তকরণ নথিতে পরিচয় যথাযথভাবে উল্লেখ না থাকায় বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার ও নন-বাইনারি ব্যক্তিরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন। বিভিন্ন ধরনের সেবা পেতেও তাদের সমস্যা হয়।’

এসিএলইউর ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজিস্ট আরলি ক্রিস্টিয়ানের চাওয়া, প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের কাজ শুরুর ১০০ দিনের মধ্যে তার প্রশাসন যেন কেন্দ্রীয় সব নথিতে ‘এক্স’ জেন্ডার মার্কার ইস্যু করেন।

পরিসংখ্যানে বলা হয়, হাজার হাজার ট্রান্সজেন্ডার মানুষের কাছে সঠিক পরিচয়পত্র নেই।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ট্রান্সজেন্ডার ইক্যুয়ালিটির জরিপে দেখা যায়, নাম ও জেন্ডার সঠিকভাবে উল্লেখ রয়েছে এমন পরিচয়পত্র নেই ৪৬ শতাংশ ট্রান্সজেন্ডারের।

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

জেন্ডার পরিচয় যন্ত্র বিস্ফোরণে হবু বাবার মৃত্যু

জেন্ডার পরিচয় যন্ত্র বিস্ফোরণে হবু বাবার মৃত্যু

জেন্ডার পরিচয় পার্টিতে নিজের তৈরি যন্ত্র বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ক্রিস্টোফার পেকনি। ছবি: ফেসবুক

ক্রিস্টোফার পেকনি রোববার জেন্ডার পরিচয় পার্টির আয়োজন করেছিলেন। এ ধরনের পার্টিতে অনাগত শিশুর জেন্ডার ঘোষণা করা হয়।

অনাগত সন্তান ছেলে নাকি মেয়ে হবে, তা জানতে ক্রিস্টোফার পেকনি তৈরি করেছিলেন একটি যন্ত্র। কিন্তু জেন্ডার পরিচয় পার্টিতে নিজের তৈরি সে যন্ত্রের বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে স্থানীয় সময় রোববার এ ঘটনা ঘটে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ২৮ বছর বয়সী পেকনির। এতে আহত হন তার ছোট ভাই মাইকেল পেকনি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ক্রিস্টোফার পেকনি রোববার জেন্ডার পরিচয় পার্টির আয়োজন করেছিলেন। এ ধরনের পার্টিতে অনাগত শিশুর জেন্ডার ঘোষণা করা হয়।

কোন ধরনের যন্ত্রে বিস্ফোরণটি হয়, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাটি তদন্ত করছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পুলিশ ও তাদের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট।

পুলিশের এক মুখপাত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, পাইপ জাতীয় কিছু দিয়ে যন্ত্রটি তৈরি করা হয়েছিল।

এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্য দেননি ওই মুখপাত্র।

মৃতের বড় ভাই পিটার পেকনি বলেন, ‘এর চেয়ে অদ্ভুত ঘটনা আগে কখনো দেখিনি।’

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন জায়গায় জেন্ডার পরিচয় পার্টিকে ঘিরে বেশ কয়েকটি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব পার্টিতে আতশবাজি ও রং-বেরঙের ধোঁয়াযুক্ত গ্রেনেডও থাকে।

আরও পড়ুন:
সেই খুকির হাতে জয়িতা পুরস্কার

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg