ট্রেনে নারীদের আলাদা কামরা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ট্রেনে নারীদের আলাদা কামরা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

‘বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ১৮৯০ অনুযায়ী নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ থাকার কথা থাকালেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নেই।’

নারীদের নিরাপদে রেল ভ্রমণের জন্য আলাদা কামরার বরাদ্দ বাস্তবায়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রিটকারি আইনজীবী আজমল হোসেম খোকন নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বুধবার হাইকোর্টে এ রিট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নারীরা যেন নিরাপদে রেল ভ্রমণ করতে পারেন, সেজন্য ট্রেনে আলাদা কামরা বরাদ্দ করার আইনটি বাস্তবায়নের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।’

ওই রিটে রেল সচিব, রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ও রেলওয়ে পরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে।

আজমল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ রেলওয়ে আইন, ১৮৯০ অনুযায়ী নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ থাকার কথা থাকালেও বাস্তবে তার কার্যকারিতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘ট্রেনে ভ্রমণ অত্যন্ত আরামদায়ক। কিন্তু কোনো নারী একা ট্রেনে যাতায়াত করতে গেলে তাকে ভিড় ঠেলেই উঠতে হয়। যারা শিশু নিয়ে ট্রেনে ওঠেন, তাদেরকেও একটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়।’

আইনজীবী জানান, নারীদের জন্য আলাদা কামরা বরাদ্দ চেয়ে ২০২০ সালে ১৩ অক্টোবর একটি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাতে কোন কাজ না হওয়ায় বুধবার রিট করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রংপুরে ১১ নারী পেলেন কৃতি সম্মাননা

রংপুরে ১১ নারী পেলেন কৃতি সম্মাননা

সোমবার দুপুরে জেলা সদরের টাউন হলে জেলা প্রশাসন ও মহিলা অধিদপ্তর রংপুরের আয়োজনে এক আলোচনা সভা শেষে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রংপুরের ১১ কৃতি নারীকে সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে জেলা সদরের টাউন হলে জেলা প্রশাসন ও মহিলা অধিদপ্তর রংপুরের আয়োজনে এক আলোচনা সভা শেষে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভূঞা।

সম্মাননা পাওয়া নারীরা হলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিমা জামান, গঙ্গাচড়া উপজেলা চেয়ারম্যান তাসলীমা বেগম, তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরিন জাহান, রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার নূর-ই-সাবা আশা, একই হাসপাতালের স্টাফ নার্স লিতুন জেরা, তারাগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহনাজ ফারহানা আফরোজ, তারাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিমা রানী রায়, রংপুর স্কাউট কমিশনার তৌহিদা খাতুন, গার্লস গাইড অ্যাসোসিয়েশন রংপুর অঞ্চলের রেঞ্জার ছায়মা আফরোজ এবং মাইটিভি’র রংপুর জেলা প্রতিনিধি আয়শা সিদ্দিকা আশা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জ উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) দেবদাস ভট্টাচার্য, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকারসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

প্রতিকূলতা-জয়ের গল্প শোনালেন সুইটি

প্রতিকূলতা-জয়ের গল্প শোনালেন সুইটি

নওগাঁর উদ্যোক্তা মেহের নিগার সুইটি। ছবি: নিউজবাংলা

‘ব্যবসার শুরুর দিকে প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন অনেকে হেয় করে কথা বলেছে... সেই সময়ে উৎসাহ বা সান্ত্বনা দেয়ার মতো কাউকে পাশে পাইনি ঠিকমতো... নিজের সুখকে বির্সজন দিয়ে সন্তানদের ভবিষৎ গড়তে এবং কারও কাছে যেন সাহায্যের হাত পাততে না হয়, সে জন্য পরিশ্রম করে এখন এ পর্যায়ে এসেছি।’

প্রায় সাত বছর আগে স্বামীর মৃত্যু; এরপর আর ঠাঁই হয়নি শ্বশুরবাড়িতে। আত্মসম্মান রক্ষায় যাননি বাবার বাড়িতেও। সেই থেকে দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে একাই বন্ধুর পথে চলছেন নওগাঁর মেহের নিগার সুইটি।

শহরের প্রাণকেন্দ্র বসাক শপিং কমপ্লেক্সের ‘রাশেদ ব্যাগ হাউজ’ নামে দোকানটি সুইটির। এই ব্যাগ হাউজের যাত্রা অবশ্য স্বামী রাশেদের হাত ধরে। তার মৃত্যুর পর হাল ধরেন সুইটি। কর্ম-মেধা আর কঠোর পরিশ্রমে এগিয়ে নেন প্রতিষ্ঠানটি।

দোকানে গিয়ে কথা হলো অদম্য এই নারীর সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি শোনালেন জীবনযুদ্ধ-জয়ের গল্প।

সুইটির বাড়ি জেলা সদরের ভবানীপুর গ্রামে। ১৭ বছর বয়সে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ানো দুরন্ত কিশোরী সুইটির বিয়ে হয় রাশেদ রহমান খানের সঙ্গে। সংসারের ১৪ বছরের মাথায় মারা যান রাশেদ। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় তার টিকে থাকার সংগ্রাম।

জেলা শহরের পুরাতন সোনালী ব্যাংক রোডের বসাক শপিং কমপ্লেক্সে স্বামীর বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘রাশেদ ব্যাগ হাউজ’ দোকানটি চালু করেন তিনি। এখন তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন ৯ জন।

ওই দোকানের কর্মী শরিফুল ইসলাম ও সাব্বির হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, তারা এখানে প্রায় ছয় বছর ধরে কাজ করছেন। বেকারত্ব ঘুঁচেছে এখানে; সংসারও চালিয়ে নিচ্ছেন নির্বিঘ্নে।

সুইটির দোকানে আছে নিয়মিত কিছু গ্রাহক। ছবি: নিউজবাংলা

সুইটির দোকানের নিয়মিত গ্রাহক বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা মুনমুন চৌধুরী ও জান্নাতুন নাঈম। তারা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর সুইটি যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, তা অন্য নারীদের জন্য অনুকরণীয়।

একা সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা কেমন, জানালেন সুইটি।

‘স্বামীর মৃত্যুর পর বিয়ে করিনি শুধু দুই সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে। তাদের উন্নত ও প্রতিষ্ঠিত জীবন উপহার দিতে নেমে পড়ি যুদ্ধে। স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়ি ছাড়া তেমন কিছুই নেই, যা দিয়ে সংসার চালাব। এমন অবস্থায় হঠ্যাৎ করে মাথায় এলো স্বামীর ব্যাগের ব্যবসার কথা।

‘রাশেদ মারা যাওয়ার পর তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রায় এক বছর বন্ধ ছিল। শুধু দোকানঘরের পজেশন নেয়া ছিল। তারপর আমার জমানো কিছু টাকা ও গয়না বিক্রি করে নতুন করে দোকানের যাত্রা শুরু করি।

‘বর্তমান আমার এ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৯ জন কর্মচারী রয়েছেন। এখান থেকে উপজেলার বিভিন্ন শোরুমে পাইকাররা পণ্য কিনে নিয়ে যায় এবং খুচরাও বিক্রি করে থাকি। এ ছাড়া আমার দোকানের পণ্যের এখন চাহিদা অনেক বেশি। তবে এ ব্যবসাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে।’

ব্যবসার পরিসর আরও বাড়াতে চান সুইটি। ছবি: নিউজবাংলা

কষ্টের দিনগুলোয় পরিবারের কেউ পাশে দাঁড়ায়নি বলে জানান সুইটি। উল্টো সমাজ থেকে আসতে থাকে নানা চাপ।

‘ব্যবসার শুরুর দিকে প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন অনেকে হেয় করে কথা বলেছে। স্বামী নাই, নতুন করে বিয়ে না করে ব্যবসা করছি, দোকানে বসছি, প্রতিদিন এগুলো নিয়ে চারপাশের সবাই কেমন জানি অন্য চোখে দেখত। এগুলো ভাবতে আমার খুবই খারাপ লাগত।

‘সেই সময়ে উৎসাহ বা সান্ত্বনা দেয়ার মতো কাউকে পাশে পাইনি ঠিকমতো। কত দিন, কত রাত নীরবে কেঁদেছি, কতটা অসহায়বোধ করেছি তা বলে বোঝাতে পারব না।

‘তবে আমার আশা-ভরসা ও নিঃসঙ্গ জীবনে দুই সন্তানই ছিল সুখ। নিজের সুখকে বিসর্জন দিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে এবং কারও কাছে যেন সাহায্যের হাত পাততে না হয়, সে জন্য পরিশ্রম করে এখন এ পর্যায়ে এসেছি।’

সুইটি জানালেন, বড় মেয়ে রেজওয়ানা রহমান রিশা এখন নওগাঁ সরকারি কলেজে প্রথম বর্ষে পড়ছে। ছেলে গোলাম মোস্তফা রিফাত পড়ে নওগাঁ জিলা স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে।

সুইটি মনে করেন, বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পেছনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা অর্থ ও দিকনির্দেশনার অভাব।

‘উদ্যোক্তা হতে গেলে কোন মাধ্যম থেকে পুঁজির ব্যবস্থা করা যাবে, সেটাই জানেন না অনেক নারী। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে টানতে হয় চড়া সুদ। সরকারিভাবে ঋণ-সেবার তথ্য ভালোভাবে সবার কাছে পৌঁছানো দরকার।’

শুধু অর্থের জোগান হলেই হবে না। পণ্যের সঠিক বাজারজাতের পদ্ধতিও জানতে হবে বলে মনে করেন সুইটি।

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

ঘরেই বিপন্ন নারীর জীবন

ঘরেই বিপন্ন নারীর জীবন

সিলেটে পারিবারিক সহিংসতায় এক মাসে ৬ নারী খুন। ছবি: নিউজবাংলা

সিলেট মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শিরিন আক্তার বলেন, ‘করোনায় অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। কারও বেতন বা রোজগার কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে তাদের মানসিক অবস্থায়। পুরুষের এই ক্ষোভ-হতাশার শিকার হচ্ছেন নারীরা। ফলে ঘরে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা আগের তুলনায় এখন অনেক বেড়েছে।’

আজ ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হবে নারী দিবস। এর ঠিক এক দিন আগে ৭ মার্চ সকালে সিলেটে নিজ ঘর থেকে সুফিয়া বেগম নামে ২২ বছরের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় সুফিয়ার স্বামী সিলেট নগরের বাগবাড়ি এলাকার আয়নুল হককে আটক করেছে পুলিশ।

সুফিয়ার পরিবারের অভিযোগ, তাকে ইনজেকশনের মাধম্যে বিষজাতীয় কিছু প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন আইনুল।

sylhet women
সিলেটের বাগবাড়িতে রোববার খুন হওয়া গৃহবধূ সুফিয়া বেগম। ছবি: নিউজবাংলা

এ ঘটনার তিন দিন আগে ৪ মার্চ সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুচাই থেকে ২৬ বছরের লাকি আক্তারের মরদেহ তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ লাকিকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে তার স্বামী শহিদ আহমদের বিরুদ্ধে। পুলিশ ওই দিনই শহিদকে আটক করে। একদিন পর স্ত্রীকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন শহিদ।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সিলেটের শাহপরাস থানাধীন বিআইডিসি এলাকা থেকে এক গৃহবধূ ও তার দুই শিশুসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই নারীর সৎছেলেকে আটক করে পুলিশ। যার বয়স মাত্র ১৭।

পুলিশ জানায়, সৎমায়ের সঙ্গে মনোমালিন্যের জের ধরেই ওই কিশোর তাদের কুপিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর ঘরে আগুনও ধরিয়ে দেয়।

সিলেটে সম্প্রতি এ রকম ঘটনা ঘটে গেছে বেশ কয়েকটি। ঘরের ভেতরেই নিজ স্বজনদের হাতে খুন হচ্ছেন নারী। সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের তথ্যে গত এক মাসে জেলায় এ ধরনের হত্যার শিকার হয়েছেন অন্তত ছয় নারী। সবগুলোই পারিবারিক কলহের জের ধরে ঘটেছে।

সিলেটের শাহপরানে খুন হওয়া গৃহবধূ ও তার দুই শিশুসন্তান। ছবি: নিউজবাংলা

দেশে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা অনেক পুরোনো। ঘরে নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও অনেক দিনের। এখন তা একেবারে খুনোখুনির পর্যায়ে চলে গেছে।

এখন ঘরে থেকেও প্রাণ বাঁচাতে পারছেন না নারীরা।

নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৯১৪ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে নারী দিবস। ১৯৭৫ সাল থেকে জাতিসংঘ দিনটি পালন করছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে।

এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’।

তবে সিলেট মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শিরিন আক্তার মনে করেন, করোনার কারণে উলটো বেড়েছে নারী নির্যাতন।

তিনি বলেন, ‘করোনার প্রকোপ কিছু কমলেও মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা এখনও আগের অবস্থায় ফেরেনি। করোনায় অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন। কারও বেতন বা রোজগার কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে তাদের মানসিক অবস্থায়। পুরুষের এই ক্ষোভ-হতাশার শিকার হচ্ছেন নারীরা। ফলে ঘরে নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা আগের তুলনায় এখন অনেক বেড়েছে।’

সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফের মতে, নারী নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনাই আলোচিত হয় না। মামলা হয় না; মিডিয়াতেও আসে না।

সিলেটের কুচাইয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে গ্রেপ্তার শহিদ আহমদ। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘খুনোখুনির মতো বড় ঘটনা ঘটলে আমাদের কাছে আসে। ফলে ঘরের ভেতরে নারী নির্যাতনের বেশির ভাগ ঘটনাই আমরা জানতে পারি না। যতটুকু জানতে পারি, তার চেয়ে অনেক বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।’

সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি স্বর্ণলতা রায় বলেন, ‘পুরুষ এখনও নারীকে তার অধীনস্থ ভাবে। ফলে সংসারে পুরুষের নির্দেশনা, ফুটফরমায়েশ খাটতে কোনো নারী আপত্তি জানালেই সে ক্ষেপে যায়। নির্যাতন চালায়। অনেক সংসারেই নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়ার পথেও নিজের পরিবারই সবচেয়ে বড় বাধা হয়।’

স্বর্ণলতার মতে, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের নারীকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা প্রদান করতে হবে। নারীকে সম্মান করতে হবে। ঘরের কাজ কেবল নারীর নয়, বরং নারী-পুরুষ উভয়েরই। এটা অনুধাবন করতে হবে। তাহলে পারিবারিক নির্যাতন অনেকাংশে কমে আসবে।

গত এক মাসে সিলেটে পারিবারিক নির্যাতন ও ঘরের ভেতরে নারীকে হত্যার ঘটনায় কয়টি মামলা হয়েছে এ ব্যাপারে সিলেট জেলা পুলিশ ও সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে রোববার জানতে চাইলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

তবে আইনজীবী শিরিন আক্তার বলেন, ‘ঘরের ভেতরে নারী নির্যাতনের ঘটনা আগের তুলনায় এখন অনেক বেড়েছে। প্রতিদিনই এ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আমাদের কাছে অনেকে আসেন।

‘আগে নারীরা ঘরে থাকতেন। এখন অনেক নারীই কাজ করছেন। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এটা কিছু পুরুষ মেনে নিতে পারছেন না। আবার আগে নারীরা সব ধরনের নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করলেও এখন তারা অনেকে প্রতিবাদী হচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদের কারণে তাদের ওপর নির্যাতন আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

সিলেটের গোলাপগঞ্জে গৃহবধূ লাকি বেগম হত্যার বিচার দাবিতে রোববার মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। ছবি: নিউজবাংলা

স্ত্রী লাকি আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করে গত শনিবার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে দক্ষিণ সুরমার কুচাইয়ের শহিদ আহমদ জানান, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর সঙ্গে তার কলহ লেগে থাকত। এর জেরে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন শহিদ। ৩ মার্চ রাতে ও পরদিন সকালে তাদের ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে লাকিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন শহিদ।

একইভাবে ২ মার্চ নিজ ঘরে খুন হন সিলেটের গোলাপগঞ্জের এক গৃহবধূ। তার নামও লাকি বেগম। স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দিগাও গ্রামের দানা মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

গোলাপগঞ্জ থানা-পুলিশ জানিয়েছে, কলহের একপর্যায়ে দানা মিয়া ছুরি দিয়ে লাকি বেগমকে কোপাতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মারা যান।

এর আগে গত ২৪ নভেম্বর সিলেট নগরের কাজীটুলা এলাকায় সৈয়দা তামান্না নামে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রেমের বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় স্বামী আল মামুন তাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় মামলা হলেও আল মামুন এখনও পলাতক।

নগরের কাজীটুলা এলাকায় খুন হওয়া গৃহবধূ তামান্না। ছবি: নিউজবাংলা

এতগুলো ঘটনা ঘটলেও নারী নির্যাতন তেমন বাড়েনি বলে মনে করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার নিশারুল আরিফ।

তিনি বলেন, ‘ঘরের ভেতর নারীর প্রতি নির্যাতন সব সময়ই ছিল। এখন এটা বেড়েছে এমন দাবির সঙ্গে আমি একমত নই। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তরা গ্রেপ্তারও হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

অর্ধেক অকেজো থাকলে সমাজ খোঁড়া: প্রধানমন্ত্রী

অর্ধেক অকেজো থাকলে সমাজ খোঁড়া: প্রধানমন্ত্রী

নারী দিবস উপলক্ষে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজকে যদি উন্নত করতে হয়, অর্ধেক যারা, নারী সমাজ- তাদের উন্নতি ছাড়া একটি সমাজ উন্নত হতে পারে না। একটি সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না।’

‘একটি সমাজের অর্ধেক যদি অকেজো থাকে, সেই সমাজটা তো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলবে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সমাজকে এগিয়ে নিতে হলে, নারী-পুরুষ সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে।

জাতীয় শিশু একাডেমিতে সোমবার আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আয়োজনে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই সমাজকে যদি আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলে এক হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে।

‘সমাজকে যদি আমাদের গড়ে তুলতে হয়, নারী পুরুষ সকলে শিক্ষা দিতে হবে। আর প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও আমরা বলছি যে, প্রতিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নারী পুরুষ নির্বিশেষে প্রশিক্ষণ নিতে পারে, যাতে যেকোনো কাজে যেন মেয়েরা নিজেদের যোগ্যতা দেখাতে পারে।’

নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর দর্শন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজকে যদি উন্নত করতে হয়, অর্ধেক যারা, নারী সমাজ- তাদের উন্নতি ছাড়া একটি সমাজ উন্নত হতে পারে না। একটি সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না।’

দাবি আদায়ের বক্তৃতা দিলেই দাবি আদায় হয় না জানিয়ে নারীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারীদের অধিকার দাও, নারীদের অধিকার দাও বলে যে শুধু চিৎকার করা, বলা আর বক্তৃতা দেয়া, এতে কিন্তু অধিকার আসে না। অধিকার আদায় করে নিতে হবে। আদায় করার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আর সেই যোগ্যতা আসবে শিক্ষা, দীক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে।’

মুজিববর্ষে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেকটা মানুষকে আমরা ঘরে করে দেব। ঘরের মালিকানা দেয়ার সময় নারী পুরুষ দুজনের নামেই আমরা দিয়ে দিচ্ছি। যাতে মেয়েদের কোনোরকম নির্যাতন বা বঞ্চিত হতে না হয়। তারা যেন সুরক্ষিত থাকে, সেই ব্যবস্থাটা নিয়েছি।’

নারীদের সুরক্ষায় নানা আইন প্রণয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি তিন মাস ছিল। সেটা ছয়মাস করে দিয়েছি। বাবার নামই সন্তানের পরিচয়ে ছিল। মায়ের স্থান ছিল না। মার পরিচয়টাও সন্তানের পরিচয়ে সম্পৃক্ত করে দিয়েছি। আসলে মায়ের না সন্তানের পরিচয়ে থাকা একান্তভাবে দরকার।’

‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব’- এই প্রতিপাদ্যে উদযাপিত হচ্ছে এবারের নারী দিবস। এদিন নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, অধিকার প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা পাঁচ নারীকে দেয়া হয় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা।

এবার শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন: অর্থনৈতিকভাবে সফল বরিশালের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হাছিনা বেগম নীলা, শিক্ষা ও চাকরি ক্যাটাগরিতে বগুড়ার মিফতাহুল জান্নাত, সফল জননী হিসেবে পটুয়াখালীর হেলেন্নেছা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা টাঙ্গাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিজান এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা নড়াইলের অঞ্জনা বালা বিশ্বাস।

তাদের সবার হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সম্মাননা তুলে দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের প্রত্যেককে জয়িতা পদক, এক লাখ টাকা ও সনদ দেয়া হয়।

যারা নিজের জীবনে শতকষ্টের মধ্যেও একাত্তরের নির্যাতন আর দারিদ্রের কষাঘাতে জর্জরিত হয়েও ভেঙে পড়েনি। বরং সমাজে উঠে দাঁড়িয়েছে তাদের খুঁজে শ্রেষ্ঠ জয়িতার সম্মান দেয়ায় সংশ্লিষ্ট সকলেকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এরাই প্রকৃত জয়িতা, যাদেরকে আপনারা খুঁজে পেয়েছেন।’

নিজের অনুভূতি জানাতে এসে হাছিনা বেগম নীলা বলেন, ‘যুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল ৩। দেশের টানে আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধে যান, কিন্তু আর কখনও ফিরে আসেনি।’

নিজের শৈশবের অবর্ণনীয় কষ্টের স্মৃতিচারণ করেন নীলা। জানান, এখন সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তাই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কাজ করে যেতে চান অসহায় ও পিছিয়ে পড়া নারীদের সাবলম্বী করার জন্য।

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

১৬ হাজার কোটি ঘণ্টার কাজ, নেই স্বীকৃতি

১৬ হাজার কোটি ঘণ্টার কাজ, নেই স্বীকৃতি

গৃহস্থালি কাজে দেশের নারীরা বছরে ১৬ হাজার ৬৪১ কোটি ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গৃহস্থালিকাজে দেশের নারীরা বছরে ১৬ হাজার ৬৪১ কোটি ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন, যার আর্থিক মূল্যমান ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। এই আর্থিক মূল্য যোগ হলে জিডিপিতে নারীর অংশ বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশে।

নাজমা আক্তার। পেশায় গৃহকর্মী। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে দুপুর পর্যন্ত মিরপুরের শেওড়াপাড়ার তিনটি বাসায় গৃহস্থালিকাজ করেন। দুপুরের পর আবার বের হন। আরও তিনটি বাসায় কমপক্ষে ছয় ধরনের কাজ শেষ করে যখন বাসায় ফেরেন, ততক্ষণে অস্তমিত সূর্য।

মাসের ২৫ থেকে ২৮ দিনই এমন রুটিন মেনে চলে জীবন। সব মিলিয়ে মাসে নাজমার আয় হয় আট থেকে নয় হাজার টাকা। ঘরভাড়া এবং দুই সন্তানের চাহিদা এই টাকায় পূরণ হয়। আর খাওয়াদাওয়ায় ব্যয় হয় স্বামীর আয়। সংসারে যে খরচ হয়, তার সিংহভাগের জোগান দেন নাজমা।

কিন্তু নাজমার এই আয় অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে কতটুকু? সংসারে আয়ের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী সমান হলেও মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে নাজমার কাজের কী মূল্যায়ন?

নাজমার মতোই দেশে গৃহকর্মে নিয়োজিত প্রায় ১৭ লাখ নারী।

শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মজীবী নারীদের একটি বড় অংশ গৃহকর্মী হিসেবে নিয়োজিত। গৃহকর্মে শ্রমের প্রায় ৯০ ভাগই নারীর। এই বিশাল জনগোষ্ঠী দেশের শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে এত দিনেও নিশ্চিত হয়নি অধিকার এবং কর্মপরিবেশ।

সরকারি পর্যায়ে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি, ২০১৫ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে এখনও শেষ হয়নি নীতিমালা তৈরির কাজ। শুধু গৃহকর্মই নয়, সার্বিকভাবে নারীর গৃহস্থালিকাজের কোনো স্বীকৃতি নেই।

গৃহস্থালি কাজে বিপুল কর্মঘণ্টা ব্যয় করেও স্বীকৃতি পান না নারীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বেসরকারি সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণা পরিচালক ড. সায়মা হক বিদিশা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৯০ শতাংশের ওপরে নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। আশির দশকে শ্রমবাজারে নারীর অবদান ছিল ৮ শতাংশ। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ৩২ শতাংশ।

‘কিন্তু সার্বিকভাবে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়, পরিচালক, বড় ধরনের উচ্চপদে নারীর অবস্থান এখনও অনেক কম। এ জন্য বাল্যবিয়ে বন্ধ, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। পারিবারিক বা গৃহস্থালি শ্রমের কারণে নারীরা মূলধারায় আসতে পারে না। এ জন্য নারীর কাজের সহায়কপদ্ধতি, পলিসি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব দিতে হবে।’

একটা স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট খুলে নারীর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমমূল্যের একটা আলাদা হিসাব করার প্রস্তাব দেন বিদিশা। তিনি বলেন, ‘এমন হিসাব করলে নারীর যে অবদান একেবারে আমাদের চোখের বাইরে থেকে যায়, সেটা বোঝা যাবে। এটা নারীর সম্মান বৃদ্ধিতে একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

তিনি বলেন, ‘অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজগুলো শুধু স্বীকৃতি দিলে হবে না, পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্যরা যেন ঘরের কাজে সমভাবে অংশ নেয়, সেটার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক কাজের চাপের কারণে নারীরা মূলধারার শ্রমবাজারে কাজ করতে চায় না।

‘ইচ্ছা করলেও নারীরা অন্য কাজ করতে পারে না। এ জন্য প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি, ব্যক্তি খাতের অফিসে শিশু দিবাকেন্দ্র থাকা জরুরি। আর যেসব অফিসে শিশু দিবাকেন্দ্র আছে সেগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।’

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের তুলনায় শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে। কিন্তু অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণই বেশি। সংসারে সচ্ছলতার জন্য নিজের জমানো অল্প কিছু অর্থ নিয়েই গ্রামের অল্পশিক্ষিত বা অশিক্ষিত একজন নারী তার ব্যবসা শুরু করার সাহস দেখাচ্ছে। তাদের এ শ্রমের মূল্যায়ন হচ্ছে না।’

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বড়সংখ্যক নারী

অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন দেশের বিপুলসংখ্যক নারী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

সবশেষ শ্রমশক্তি জরিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে জীবিকা নির্বাহ করছে দেশের শ্রমশক্তির বিশাল অংশ। মোট শ্রমশক্তির ৮৫ দশমিক ১ শতাংশেরই স্থায়ী কাজ নেই। দেশে ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে মোট শ্রমশক্তির মধ্যে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। এর মধ্যে নারীশ্রমিক রয়েছেন ১ কোটি ৭১ লাখ ২১ হাজার।

কর্মক্ষেত্রে নারী

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গৃহস্থালিকাজ নারীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেওয়ার পথে বড় বাধা। শ্রমবাজারে যোগ না দেওয়া নারীর ৮১ দশমিক ১০ শতাংশই এর জন্য ঘরের কাজের চাপকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে একই কারণে শ্রমবাজারে প্রবেশে বাধা পাচ্ছেন ৮ দশমিক ১০ শতাংশ পুরুষ। উপযুক্ত কাজ পেলে শ্রমবাজারে যোগ দিতে ইচ্ছুক এমন নারীর সংখ্যাও পুরুষের প্রায় দ্বিগুণ।

উপযুক্ত কাজ পেলে শ্রমবাজারে পুুরুষের চেয়ে নারীর আগ্রহ বেশি বলে জানিয়েছে বিবিএস। ছবি: সাইফুল ইসলাম

জিডিপিতে গৃহস্থালিকাজ

গৃহস্থালিতে নারীর যে কাজ দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয় না, সেই শ্রমের প্রাক্কলিত বার্ষিক মূল্য কত? বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির এক গবেষণা বলছে, গৃহস্থালিকাজে দেশের নারীরা বছরে ১৬ হাজার ৬৪১ কোটি ঘণ্টা সময় ব্যয় করছেন, যার আর্থিক মূল্যমান ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। এই আর্থিক মূল্য যোগ হলে জিডিপিতে নারীর অংশ বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৪৮ শতাংশ।

শ্রম জরিপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৫-২৯ বছর বয়স্ক নারীর ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা প্রশিক্ষণ নেই। অর্থাৎ তারা ঘরের ভেতরে সাংসারিক কাজে নিয়োজিত। একই বয়সের পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৮ দশমিক ১ শতাংশ। তাই শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও তা পুরুষের তুলনায় অনেক কম। প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং সার্বিক শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে না নিতে পারায় গৃহকর্মে নিয়োজিত থাকার প্রবণতা বাড়ছে।

শ্রমশক্তিতে নারী

শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩৬ ভাগের বেশি। সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতির মূলধারার কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারীর অবদান বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ কোটি ৮৬ লাখ ৪৬ হাজার নারী কৃষি, শিল্প, সেবাসহ নানা খাতে কাজ করছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ৫৯ লাখ ৩ হাজার নারী অর্থের বিনিময়ে কাজ করছে। তাদের মাসিক আয় গড়ে ১২ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকেরা জানান, শ্রমবাজারে বাংলাদেশের নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও দৈনিক মজুরির ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

নারীর কর্ম খাত

দেশের নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ কাজ করেন কৃষি খাতে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

কৃষি খাত এখনও নারীর শ্রম নিয়োজনের প্রধান জায়গা। নারীরা যেসব খাতে শ্রম দেয়, তার মধ্যে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ হচ্ছে কৃষি। ৫ দশমিক ২ শতাংশ শিল্প খাতে এবং সেবা খাতে রয়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। শিল্প খাতে নারীশ্রমিকের সংখ্যা বাড়লেও সাম্প্রতিক সময়ে নারীশ্রমিক নিয়োগের সংখ্যা কমে গেছে। আশির দশকে গার্মেন্টস খাতে নারীশ্রমিকের হার ছিল প্রায় ৮০ ভাগ। তবে এখন তা নেই।

সিপিডির সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতে নারীশ্রমিকের সংখ্যা ৬০ ভাগের বেশি না। নারীর বড় পদে না আসার কারণ দক্ষতার অভাব, পারিবারিক কাজের চাপ ও নিয়োগকর্তাদের মানসিকতা।

পিপলস ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডসের স্বত্বাধিকারী রেজবিন হাফিজ নিউজবাংলাকে বলেন, একজন নারী সামনে এগিয়ে যেতে পারবে কি না, সে বিষয়ে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তবে আগের চেয়ে পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়েছে। নারীর নিজে কিছু করার ক্ষেত্রে অর্থায়ন সবচেয়ে বড় বাধা। নারীরা ক্ষুদ্র কোনো ব্যবসার জন্যও যেন সহজে অর্থ পেতে পারে, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

ভ্যানের চাকায় ঘোরে মুংলীর সংসার

ভ্যানের চাকায় ঘোরে মুংলীর সংসার

ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালান জয়পুরহাটের মুংলী। ছবি: নিউজবাংলা

মুংলী বলেন, ‘বিয়ানে (সকালে) ভ্যান লিয়ে বাড়ি থেকে বার হই। সারা দিন জীবনের ঝুঁকি লিয়ে ভ্যান চালায়ে কেলান্ত (ক্লান্ত) হয়ে বাড়ি ফিরি। হাত-পাও তহন খুব বেদনা করে।’

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সপ্তমী রানী (মুংলী)। ২০০২ সালে যখন তার বিয়ে হয়, তখনও বয়স ১৮ হয়নি। সংসার কী, বোঝার আগেই তার জীবনে নেমে আসে নির্যাতন।

শ্বশুর ও স্বামীর মারধরে টিকতে না পেরে তিন সন্তান নিয়ে ২০১৩ সালে ফেরেন বাবার অভাবের সংসারে। মুংলী ও তার সন্তানদের ভরণপোষণের সামর্থ্য ছিল না হতদরিদ্র বাবার। তবে থেমে থাকেননি মুংলী।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে পান বিক্রি করে শুরু করেন জীবনসংগ্রাম। তাতে না পোষালে শেষ পর্যন্ত শুরু করেন ভ্যান চালানো।

মুংলীর মা শেফালী রানী জানান, সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে বাড়িতে ফেরার পর থেকেই ফেরি করে পান বিক্রি শুরু করে তার মেয়ে। মাঝে খাল-বিল থেকে মাছ ধরে বাজারেও বিক্রি করেছে। আর এখন ভ্যান চালায়।

স্থানীয় প্রদীপ কুমারসহ কয়েকজন জানান, বাবার অভাবের সংসারে বোঝা হতে চাননি মুংলী। দুবেলা খাবার জোগাড় করতে এবং তিন সন্তানকে মানুষ করতে শুরুর দিকে পাড়ায় পাড়ায় পান ফেরি করতেন। পরে মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এতেও সংসার না চললে ২০১৫ সাল থেকে শুরু করেন ভ্যান চালানো।

মুংলী বলেন, ‘আগে পাও পেডেল ঘুরে (পায়ে চালানো) ভ্যান চালাইতাম। আর এখন ব্যাটারিয়ালা (ব্যাটারিচালিত) ভ্যান চালাই। বিয়ানে (সকালে) ভ্যান লিয়ে বাড়ি থেকে বার হই। সারা দিন জীবনের ঝুঁকি লিয়ে ভ্যান চালায়ে কেলান্ত (ক্লান্ত) হয়ে বাড়ি ফিরি। হাত-পাও তহন খুব বেদনা করে।

তিনি আরও বলেন, ‘দিনে দুই-তিন শ টাকা কামাই করে বাড়ি ফিরি। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাই। তিন বেটা-বেটিক পড়াশুনা করাই। তাত্থেকে গ্যারেজআলাকও টাকা দেওন লাগে।’

মুংলীর ১২ বছরের ছেলে স্বপন কুমার পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। ৯ বছরের মেয়ে সুফলা দ্বিতীয় শ্রেণিতে। তবে ৭ বছরের মেয়ে শংকরীকে এখনও স্কুলে দিতে পারেননি জানিয়ে মুংলী বলেন, ‘হাজারও কষ্ট হোক, তিনটা বাচ্চাকে মানুষের মতো মানুষ করার ইচ্ছা আছে। জানি না, ভগবান কী করবেন।’

আনতাজ আলীসহ স্থানীয় কয়েকজন পুরুষ ভ্যানচালক জানান, তারা মুংলীর সব কিছুই জানেন। আদর করে কেউ তাকে শাপলা, আবার কেউ সপ্তমী রানী বলে ডাকেন। মুংলীর যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে সেদিকে নজর থাকে তাদের।

তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম মাহবুব সজল জানান, মুংলীকে সাহায্য দিতে চাইলেও নিতে চান না। নিজের পরিশ্রমে সৎভাবে উপার্জন করেন বলে সবাই তাকে সম্মান করেন।

তিনি আরও জানান, মুংলীর বসতবাড়ি না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের আবাসন প্রকল্পের একটি বাড়ির জন্য তার নামের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

মুংলীর মতো পরিশ্রমীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংগঠনসহ দাতাদের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

জেলা নারীবিষয়ক কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে জানান, মুংলী তাদের জন্য গর্বের। তার কাছে গেলে তিনি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন, যাতে মুংলী সেলাই বা বাটিকের প্রশিক্ষণ নিয়ে একটা সংগঠন পরিচালনা করতে পারেন।

সরকারের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহায়তা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেবে বিসিক

নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেবে বিসিক

স্বশরীরে উপস্থিত থেকে অংশ নিতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদের জন্য কোর্স ফি নির্ধারণ হয়েছে এক হাজার টাকা। অনলাইনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৫০০ টাকা। আগ্রহীদের ২১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে আবেদনসহ রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে শিক্ষিত নারীদের প্রশিক্ষণ দেবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

‘নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন’ শিরোনামে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্স হবে বিসিকের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (স্কিটি)।

শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা গড়ে তুলতে আগ্রহী নারীদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মডিউল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কোর্সটি প্রণয়ন করা হয়েছে। কোর্সটি ২১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে।

আগ্রহী নারী উদ্যোক্তারা স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে এবং ভার্চুয়ালি প্রশিক্ষণ কোর্সটিতে অংশ নিতে পারবেন।

স্কিটি ১৯৮৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

বিসিক সূত্র জানায়, সফলভাবে কোর্স সমাপ্তির পর সম্ভাবনাময় যোগ্য উদ্যোক্তাদের বিসিকের নিজস্ব তহবিল ও কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ প্রদানে সহায়তা করা হবে। পাশাপাশি পাবেন শিল্প নিবন্ধন।

স্বশরীরে উপস্থিত থেকে অংশ নিতে ইচ্ছুক উদ্যোক্তাদের জন্য কোর্স ফি নির্ধারণ হয়েছে এক হাজার টাকা। অনলাইনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ৫০০ টাকা। আগ্রহীদের ২১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে আবেদনসহ রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

আবেদন করতে হবে যেভাবে:

রকেট নম্বর: ০১৭১০-০১৩১৬১ (জোনায়েত হোসেন) এবং বিকাশ নম্বরের ০১৬৮৬-৩৯৫৪৫৯ (জুবায়ের ইসলাম) মাধ্যমে কোর্স ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা যাবে।

প্রশিক্ষণ কোর্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে বিসিকের স্কিটির শিল্পোদ্যোক্তা উন্নয়ন অনুষদের সহকারী অনুষদ সদস্য মুনিরা মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তার ঠিকানা: প্লট-২৪/এ, রোড-১৩/এ, সেক্টর-৬, উত্তরা, ঢাকা।

আরও বিস্তারিত জানতে স্কিটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী শফিকুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। তার ফোন নম্বর ৮৯৩৩৬৬১, ৪৮৯৬১৯৪৮ (অফিস)।

আরও পড়ুন:
স্যানিটারি পণ্যে কর বাতিল যুক্তরাজ্যের
নারী ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা
সাউথ আফ্রিকা নারী দল আসছে ২৮ মার্চ
সালমাদের ক্যাম্প শুরু ৩ জানুয়ারি
করোনায় বেড়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg