20201002104319.jpg
জেন্ডার সংখ্যালঘুদের অপরাধের শিকার হওয়ার ঝুঁকি ‘বেশি’

জেন্ডার সংখ্যালঘুদের অপরাধের শিকার হওয়ার ঝুঁকি ‘বেশি’

অন্যদের তুলনায় গে, লেসবিয়ান, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার ও কুইয়ারদের (এলজিবিটিকিউ) অপরাধের শিকার হওয়ার ঝুঁকি প্রায় চার গুণ বেশি বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভান্সেস নামের একটি সাময়িকীতে গবেষণাটি প্রকাশ হয়।

জেন্ডার সংখ্যালঘুদের নিয়ে এটিই প্রথম বিস্তৃত কোনো গবেষণা। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ

করা হয়।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এলজিবিটিকিউসহ অন্য জেন্ডার সংখ্যালঘুরা সামঞ্জস্যহীনভাবে অপরাধের শিকার হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা যায়, বছরে প্রতি এক হাজার সহিংস ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৭১.১ জনই এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের।

গবেষকরা দেখেছেন, জেন্ডার সংখ্যালঘুরা অন্যদের তুলনায় পরিচিত লোকজনের কাছ থেকে বেশিমাত্রায় অপরাধের শিকার হচ্ছেন।

এক সমীক্ষায় দেখা যায়, লিঙ্গ সংখ্যালঘুদের পরিবারে অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ হারে চুরি হয়। এ পরিবারগুলাতে বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তি চুরি হওয়ার আশঙ্কাও বেশি।

এ বিষয়ে আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান রচয়িতা অ্যান্ড্রু আর ফ্লোরেস বলেন, লৈঙ্গিক ও জেন্ডার সংখ্যালঘুরা সামঞ্জস্যহীনভাবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের শিকার হচ্ছে। তাদের ওপর আক্রমণকারীদের পরিচয় জেনে বিস্মিত হয়েছেন গবেষকরা।

এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইনের কর্মকর্তা টরি কুপারের মতে, সামাজিকীকরণে ভিন্নতার কারণেই ট্রান্স ও কুইয়ারদের অনেকে অপছন্দ করে।

হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১২ হাজার এলজিবিটিকিউ কিশোর-কিশোরীর ওপর এক জরিপ চালায়

২০১৮ সালে প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, ৬৭ শতাংশ তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের লোকজন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য শুনেছে।

হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন (এইচআরসি) ২০২০ সালে কমপক্ষে ২৯ জন ট্রান্সজেন্ডার ও ট্রান্সজেন্ডার নন এমন লোকজনের হত্যা নথিভুক্ত করেছে। হত্যার শিকার হওয়া বেশিরভাগই ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ ও ল্যাটিন ট্রান্সজেন্ডার নারী।

নতুন গবেষণায় ট্রান্সজেন্ডারদের অপরাধের শিকার হওয়ার হার নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত নমুনা ছিল না

ফেডারেল ব্যুরো অফ জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিক্স পরিচালিত গবেষণাটি জাতীয় অপরাধ সমীক্ষার ভিত্তিতে করা হয়। এতে  ২০১৬  সাল পর্যন্ত উত্তরদাতাদের যৌন দৃষ্টিভঙ্গি ও লিঙ্গ পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি । ২০১৭ সালের জরিপের প্রতিক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে গবেষকরা গত বছর প্রকাশ করেন।

সূত্র: এপি

শেয়ার করুন