আর্জেন্টিনা-ইতালির দুই ফিনিক্স

আর্জেন্টিনা-ইতালির দুই ফিনিক্স

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ও ইতালির কোচ রবার্তো মানচিনি। ছবি: সংগৃহীত

স্কালোনি যখন আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন তখন তারা ২০১৮ বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কাদাজলে মাখা, টানা তিন ফাইনালে জয়ের একেবারে কাছ থেকে ফেরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা এক স্কোয়াড। দুর্দশার সময়ে দলের হাল ধরেন মানচিনি। স্কালোনির মতো তিনিও স্কোয়াডের পরিচিতি পালটে ফেলেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবল মৌসুমের কী দারুণ সমাপ্তিটাই না ঘটল! একদিকে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনা মেটাল শিরোপার জন্য তাদের ২৮ বছরের হাহাকার। তার কয়েক ঘণ্টা পরই বিশ্বকাপ কোয়ালিফাই করতে না পারার বেদনা ভুলে ইতালি উঁচিয়ে ধরে ইউরোপ সেরার ট্রফি।

দুই দলের সাফল্যের পেছনে দুই মাস্টার ট্যাকটিশিয়ান। রবার্তো মানচিনি ও লিওনেল স্কালোনি জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কখনই অতটা লাইমলাইট পাননা যতটা পান মেসি-দি মারিয়া-ডোনারুমারা। পাওয়ার কথাও না।

তবে আড়ালে আবডালে থেকি কৌশলগত উন্নতির সঙ্গে মানচিনি ও স্কালোনি খেলোয়াড়দের ‘ম্যান ম্যানেজমেন্ট’ করেছেন সমান দক্ষতায়। শুরুতেই তাকানো যাক স্কালোনির দিকে।

তিনি এমন একটা দেশের কোচ যাদের কাছে সাফল্য মানেই শিরোপা। স্কালোনি যখন আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেন তখন তারা ২০১৮ বিশ্বকাপ ব্যর্থতার কাদাজলে মাখা, টানা তিন ফাইনালে জয়ের একেবারে কাছ থেকে ফেরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা এক স্কোয়াড।

সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় স্কোয়াডের অংশ হলেও প্রত্যাশার ভারে তিনি ন্যুব্জ। বিখ্যাত আকাশী-সাদায় নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন।

সেখান থেকে ধীরে ধীর দল পুনর্গঠন করলেন স্কালোনি। বিদায় জানিয়ে দিলেন পুরনোদের। বলে দিলেন আধুনিক ফুটবলে ধীর গতির, বুড়িয়ে যাওয়া খেলোয়াড়দের জায়গা তার দলে হবে না।

ইউরোপ ও আর্জেন্টিনার লিগগুলো খুঁজে খুঁজে বের করলেন এক ঝাঁক আনকোরা খেলোয়াড়। যাদের ওপরে নেই কোনো প্রত্যাশার চাপ কিংবা ব্যর্থতার ভার যাদেরকে কাবু করেনি।

গোলবারে দুই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞ সার্হিও রোমেরোর জায়গায় নিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ধারাবাহিক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে। এভার বানেগার মতো ঝানু ও নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারকে না করে, নিলেন রদ্রিগো দে পলের মতো প্রাণবন্ত তরুণকে।

আর্জেন্টিনা-ইতালির দুই ফিনিক্স
আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলনে লিওনেল স্কালোনি। ছবি: এএফপি



মার্টিন দেমিকিলিস, মার্কোস রোহোদের জায়গায় রক্ষণে আনলেন ক্রিস্টিয়ানো রোমেরো ও গনসালো মন্তিয়েলকে। স্কালোনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খোলনলচে পালটে দিলেন স্কোয়াডের।

আর মূল অস্ত্র লিওনেল মেসিকে বললেন, সর্বকালের সেরার তকমা তিনি পেয়েই গেছেন। কোনো ট্রফি জিতে কাউকে তার কিছু প্রমাণ করতে হবে না। নিজের আনন্দে ফুটবলটা যেনো তিনি খেলে যান।

ব্যস! এতেই কাজ হলো ভোজবাজির মতো। যেই আর্জেন্টিনা হতচ্ছাড়া দলের মতো খেলে বাদ পড়ে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে তারাই কিনা টানা ১৩ ম্যাচে অপরাজিত থেকে, তিন বছরের মাথায় জিতে নিলো কোপা আমেরিকা!

আর্জেন্টিনার কোপা জয় শুধুমাত্রই একটা শিরোপা ছিল না তাদের জন্য। নিজেদের ফুটবল দলকে ঢেলে সাজানোরও প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে আলবিসেলেস্তে। স্কালোনি এখন বলতে পারেন কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ ট্রফির জন্যও চ্যালেঞ্জ করতে পারে তার দল।

একই রকম কাহিনী মানচিনির ক্ষেত্রেও। ইতালি ২০১৮ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালিতে নেমে আসে জাতীয় দুর্যোগ। ইতালিয়ানদের জাতীয় আবেগ ফুটবল ও তাদের কাছে বিশ্বকাপ না খেলাটা প্রিয়জনের বিদায়ের মতোই ব্যক্তিগত কষ্টের।

সেই দুর্দশার সময়ে দলের হাল ধরেন মানচিনি। পুরোনো ধ্যান ধারণা ত্যাগ করে নতুন আইডিয়া ও কৌশল অবলম্বন করেন এই সাবেক মিডফিল্ডার। স্কালোনির মতো তিনিও স্কোয়াডের পরিচিতি পালটে ফেলেন।

ঐতিহ্যগত ভাবে রক্ষনাত্মক ফুটবল খেলা ইতালি মাঠে উপহার দেয় নজরকাড়া আক্রমণাত্মক ও রোমাঞ্চকর ফুটবল। বিশ্বকাপ, ইউরো বাছাইপর্ব মিলিয়ে মোট ২৮ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ইউরো শুরু করে ইতালি।

আর্জেন্টিনা-ইতালির দুই ফিনিক্স
ইতালির অনুশীলনে হেড কোচ রবার্তো মানচিনি। ছবি: এএফপি

মানচিনি বনুচ্চি, কিয়েলিনিদের মতো অভিজ্ঞদের সংগে স্কোয়াডে জায়গা দেন ফেদেরিকো কিয়েসা, নিকোলো বারেল্লা, ডমিনিকো বেরার্দি ও জানলুইজি ডোনারুমাদের মতো অনূর্ধ ২৩ তরুণদের। তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে ইতালি।

গ্রুপ পর্বের সব শুধু জেতেনি ইতালি, প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৩ ম্যাচে ৭ গোল করে তারা। নক আউটে বেলজিয়ামকেও অনায়াসে হারায়। একমাত্র কঠিন চ্যালেঞ্জ আসে স্পেনের কাছ থেকে।

টাইব্রেকারে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের চ্যালেঞ্জ উৎরানোর পর ইতালি আবারও ফুটবল মানচিত্রে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।

ইতালিকে হারানো সম্মান ফিরিয়ে দেয়া মানচিনি ও আর্জেন্টিনার নতুন যুগের সূচনা করা স্কালোনির দেখা হতে পারে সামনের বছরের প্রস্তাবিত ‘ম্যারাডোনা কাপে’। দুই মাস্টার মাইন্ডের মুখোমুখি লড়াই দেখার অপেক্ষা ভক্তরা শুরু করে দিয়েছেন এরই মধ্যে।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লিগে জয়ে ফিরল কিংস ও শেখ রাসেল

লিগে জয়ে ফিরল কিংস ও শেখ রাসেল

একই ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে কিংস ও শেখ রাসেল ছবি: বাফুফে

এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছে অস্কার ব্রুজনের বাহিনী। এক ধাপ করে উপরে উঠে গেছে শেখ রাসেল ও চট্টগ্রাম আবাহনী।

প্রিমিয়ার লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হারার পরের ম্যাচেই জয়ে ফিরেছে বসুন্ধরা কিংস। জয়ে ফিরল শেখ রাসেলও। শেখ জামালের কাছে সবশেষ ম্যাচটি হেরেছিল সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা।

এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করেছে অস্কার ব্রুজনের বাহিনী। এক ধাপ করে উপরে উঠে গেছে শেখ রাসেল ও চট্টগ্রাম আবাহনী।

বুধবার বিকালে একই সময়ে দুটি ভিন্ন ভিন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচ ‍দুটি।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মুক্তিযোদ্ধা এসকেসিকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় কিংস। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে একই ব্যবধানে আরামবাগকে হারায় শেখ রাসেল।

এই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামেই নিজেদের সবশেষ ম্যাচে শেখ জামালের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারে কিংস। এ ম্যাচে তাই জয়ে ফেরা ও শিরোপার আরও একধাপ কাছে আসার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা।

আক্ষরিক অর্থে লাতিন আমেরিকান জাদুতে মুক্তিযোদ্ধা বধ করেছে কিংস। ম্যাচের ২০ মিনিটে লিড নেয় তারা। ফাহাদের পাস থেকে ব্রাজিলিয়ান রবসন রবিনিয়োর গোল। প্রথমার্ধে এই গোলের স্বস্তি নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে আরও দুটি গোল আদায় করে কিংস।

এবার ম্যাচের ৫৫ মিনিটে আর্জেন্টাইন রাউল বেসেরার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিংস। পরে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে রবিনিয়োর পাস থেকে আরেক ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফার্নান্দেজের গোলে ৩-০ ব্যবধান করে ফেলে কিংস। এই ব্যবধানেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি।

অন্যদিকে আরামবাগকে একই ব্যবধানে হারায় শেখ রাসেল। কিংসের পর এ ম্যাচেও তিন বিদেশির গোল দেখে দেশের ফুটবল।

ম্যাচের ৩৪ মিনিটে উবি মোনেকের গোলে লিড নেয় টিটুর বাহিনী। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোলে ম্যাচ বগলদাবা করে অল ব্লুস।

ম্যাচের ৮০ মিনিটে ডিফেন্ডার আসররভের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণের পর ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দুশোবেকভের গোলে ৩-০ ব্যবধান নিয়ে জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে শেখ রাসেল।

এ জয়ে ১৯ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে উঠে গেল শেখ রাসেল। আর সমান ম্যাচ খেলে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল কিংস।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন

তিন মাসে দুইবার মুখোমুখি মেসি-নেইমার

তিন মাসে দুইবার মুখোমুখি মেসি-নেইমার

কোপা আমেরিকার ফাইনালে লিওনেল মেসি ও নেইমার। ছবি: এএফপি

কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আগামী তিন মাসে মুখোমুখি হচ্ছে দুইবার। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে মোট ৮টি ম্যাচ খেলতে হবে এই বছর।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডের সূচি প্রকাশ করেছে অঞ্চলের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা কনমেবোল।

নতুন সূচিতে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল আগামী তিন মাসে মুখোমুখি হচ্ছে দুইবার।

সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে মোট ৮টি ম্যাচ খেলতে হবে এই বছর।

লিওনেল মেসিদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় পর্ব শুরু করতে হচ্ছে ২ সেপ্টেম্বর। ওই দিন ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে তাদের মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা।

পাঁচ দিন পর অর্থাৎ ৭ সেপ্টেম্বর হবে দক্ষিণ আমেরিকার সুপারক্লাসিকো। ব্রাজিলের মাঠে খেলতে নামবে আর্জেন্টিনা।

১০ সেপ্টেম্বর ঘরের মাঠে নামবে লিওনেল স্কালোনির দল। ওইদিন বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলবে আলবিসেলেস্তে।

এরপর বাছাইপর্বে প্রায় এক মাসের বিরতি। অক্টোবরেও ৩টি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।

৭ অক্টোবর আবারও অ্যাওয়ে ম্যাচ। এবারে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে।

পাঁচ দিন পর ১২ অক্টোবর নিজ মাঠে আর্জেন্টিনা লড়বে সুয়ারেস-কাভানির উরুগুয়ের বিপক্ষে।

আর অক্টোবরের শেষ ম্যাচে নিজ মাঠে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালিস্ট পেরুর মোকাবিলা করবে আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বছরের শেষ রাউন্ডে নভেম্বর মাসে দুটি ম্যাচ খেলবে কোপা বিজয়ীরা।

১১ নভেম্বর উরুগুয়ের মাঠে যাচ্ছে মেসি-দি মারিয়ারা। আর ১৬ নভেম্বর ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে ম্যাচ দিয়ে বছরের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করবে আর্জেন্টিনা।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুই নম্বরে আছে স্কালোনির দল। ৬ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট।

৬ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ব্রাজিল। সমান ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ইকুয়েডর। আর ৮ পয়েন্ট নিয়ে চারে আছে উরুগুয়ে।

সবশেষ কোয়ালিফাইং অবস্থানে আছে কলম্বিয়া। উরুগুয়ের সমান ৮ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে তারা আছে ৫ নম্বরে।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে সরাসরি চারটি দল খেলবে বিশ্বকাপে। পঞ্চম দলকে ওশেনিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে প্লে-অফ ম্যাচ খেলতে হয়।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন

ব্রাদার্সকে হারিয়ে ছয় ম্যাচ পর জয় পেল রহমতগঞ্জ

ব্রাদার্সকে হারিয়ে ছয় ম্যাচ পর জয় পেল রহমতগঞ্জ

গোলের পর রহমতগঞ্জের উল্লাস। ছবি: বাফুফে

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ব্রাদার্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে লিগে নিজেদের চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে পুরান ঢাকার জায়ান্টরা। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে এক ধাপ উপরে উঠে গেল রহমতগঞ্জ।

প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের টালবাহানা শেষে মাঠে গড়াল দেশের ফুটবল। প্রথম দিনে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে হারিয়ে ছয় ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেয়েছে রহমতগঞ্জ এমএফসি।

মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ব্রাদার্সকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে লিগে নিজেদের চতুর্থ জয় তুলে নিয়েছে পুরান ঢাকার জায়ান্টরা।

এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে এক ধাপ উপরে উঠে গেল সৈয়দ জিলানীর বাহিনী রহমতগঞ্জ।

লিগে এবার অবনমন শঙ্কায় থাকা ব্রাদার্স প্রথমার্ধ পর্যন্ত রুখে দেয় রহমতগঞ্জকে। দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে দলটি।

ম্যাচের ৪৯ মিনিটে সানোয়ার হোসেনের পাস থেকে কোত দে ভোয়ার ক্রিস্ট রেমির গোলে লিড নেয় রহমতগঞ্জ।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার আগে আরেক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জায়ান্ট কিলাররা। এনামুল হোসেনের পাস থেকে জালের দেখা পান নাইজেরিয়ান ফেলিক্স চিডি।

দুই বিদেশির গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রহমতগঞ্জ। আর লিগে ১৪তম হারের স্বাদ পায় ব্রাদার্স।

এ জয়ে বারিধারাকে হটিয়ে নয় নম্বরে উঠে যায় রহমতগঞ্জ। তাদের ঝুলিতে পয়েন্ট জমা হলো ১৮।

আর মাত্র ৬ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন শঙ্কায় আছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ১৩ দলের মধ্যে ১২তম অবস্থানে রয়েছে ব্রাদার্স।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন

মেক্সিকোকে হারিয়ে অলিম্পিকস ফাইনালে ব্রাজিল

মেক্সিকোকে হারিয়ে অলিম্পিকস ফাইনালে ব্রাজিল

মেক্সিকোকে হারিয়ে ব্রাজিল দলের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে মেক্সিকোকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ব্রাজিল।

টোকিও অলিম্পিকসের ফুটবল স্বর্ণ জয়ের আরেক ধাপ কাছে ব্রাজিল। প্রথম সেমিফাইনালে মেক্সিকোকে টাইব্রেকারে ৪-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে দানি আলভেসের দল।

২০১২ সালে এই মেক্সিকোর কাছে হেরেই স্বর্ণ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ব্রাজিলের। যদিও পরের আসরে ২০১৬ সালে অধরা সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল স্বাগতিক দলের।

টোকিওর কাশিমা সকার স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই মেক্সিকোকে চাপে রাখে ব্রাজিল। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায়ই লিড নেবার দুর্দান্ত এক সুযোগ পেয়েছিল সেলেকাওরা। কিন্তু গিয়েরমো আরানার নেয়া দুর্দান্ত সেই শটে বাঁধ সেধে বসেন মেক্সিকো গোলকিপার ওচোয়া।

২৮তম মিনিটে ব্রাজিলের পক্ষে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি। কিন্তু পরবর্তিতে ভিআর দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন তিনি।

বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে ব্রাজিলের গোলকিপার সান্তোসকে ফাঁকি দিয়েও গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড উরিয়েল আন্তানা। ফলে প্রথামার্ধে গোলের দেখা মেলেনি কারোরই।

ম্যাচের ৮২ মিনিটে দলকে এগিয়ে নেবার ফের সুযোগ পান ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রিচার্লিসন। দানি আলভেসের ক্রস হেড করলে সেটি গোলপোস্টের ভেতরে লেগে বের হয়ে যাওয়ায় গোল বঞ্চিত হয় ব্রাজিল।

নির্ধারিত সময়ে গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে মেক্সিকোকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে জারদিনের শিষ্যরা।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জাপান এবং স্পেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীদের বিপক্ষে ফাইনালে লড়বে ব্রাজিল।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন

ডুরান্ড কাপে আমন্ত্রণ পেল শেখ জামাল ও মোহামেডান

ডুরান্ড কাপে আমন্ত্রণ পেল শেখ জামাল ও মোহামেডান

ছবি: বাফুফে

৫ সেপ্টেম্বর-৩ অক্টোবর পর্যন্ত হওয়ার কথা এই টুর্নামেন্টের। কলকাতার বিশ্ব যুব ভারতী, কল্যাণী স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ দল চার গ্রুপে খেলবে। চার গ্রুপের প্রতিটি থেকে দুই সেরা দল কোয়ার্টার খেলবে।

ভারতের প্রাচীনতম ও বিশ্বের তৃতীয় প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতা ডুরান্ড কাপে খেলার আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশের দুই ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও শেখ জামাল।

১৮৮৮ সালে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক এই ফুটবল টুর্নামেন্টের এবার ১৩০ তম আসর আয়োজন করবে ভারত।

৫ সেপ্টেম্বর-৩ অক্টোবর পর্যন্ত হওয়ার কথা এই টুর্নামেন্টের। কলকাতার বিশ্ব যুব ভারতী, কল্যাণী স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ১৬টি দল নিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চায় আয়োজকরা। ১৬ দল চার গ্রুপে খেলবে। চার গ্রুপের প্রতিটি থেকে দুই সেরা দল কোয়ার্টার খেলবে।

বাংলাদেশের দুই দল মোহামেডান ও শেখ জামালকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজকরা।

এর আগে আমন্ত্রণমূলক অনেক টুর্নামেন্টে খেললেও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেখা যায়নি প্রিমিয়ার লিগের দল মোহামেডানকে।

বহুবছর পর খেলার ‍সুযোগটা কাজে লাগিয়ে খেলতে যাওয়া হবে কি না সেটা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় মোহামেডান।

এই প্রসঙ্গে মোহামেডান ক্লাবের ফুটবল কমিটির সম্পাদক আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স বলেন, ‘ডুরান্ড কাপে আমরা আমন্ত্রণ পেয়েছি। ক্লাবের সভাপতি, ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত তাদের আমন্ত্রণের উত্তর দেব’।

২০১৪ সালে ভারতের প্রাচীনতম টুর্নামেন্ট আইএফএ শিল্ডে অংশ নেয় শেখ জামাল। ফাইনালে টাইব্রেকারে কলকাতা মোহামেডানের কাছে হেরে যায়।

ডুরান্ড কাপে অংশ নেবে কিনা দল জানতে চাইলে শেখ জামালের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু জানান, ‘রোববার আমাদের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে। আমরা খেলতে যাব।’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আগস্টের মধ্যে শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে বাফুফে। যদি তা সম্ভব হয় তাহলে সঠিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে উড়াল দিতে পারে শেখ জামাল ও মোহামেডান।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন

নারী ফুটবলে স্বর্ণের জন্য লড়বে সুইডেন-কানাডা

নারী ফুটবলে স্বর্ণের জন্য লড়বে সুইডেন-কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর পর উল্লাস কানাডার। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রকে এক গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে গেল কানাডা। আরেক সেমিতে অস্ট্রেলিয়াকে এক গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছেছে সুইডেন।

১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকসে প্রথমবার নারী ফুটবল শুরু হয়। পরের ছয় বারের চারবারই স্বর্ণ বগলদাবা করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এবার সেমি ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে দেশটি।

সর্বোচ্চবার অলিম্পিক ফুটবলজয়ী দেশটিকে চমকে দিয়ে ফাইনালে উঠে গেল কানাডা। এর আগেও দুই বার সেমিতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা আছে উত্তর আমেরিকার দেশটির।

যুক্তরাষ্ট্রকে এক গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে কানাডা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকস ও ২০১৬ রিও অলিম্পিকসে ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিল দলটি।

আরেক সেমিতে অস্ট্রেলিয়াকে এক গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছেছে সুইডেন।

রিও অলিম্পিকসে জার্মানির কাছে হেরে রৌপ্য পদক নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় সুইডেনকে।

এবার স্বর্ণ জেতার সুযোগ থাকছে নতুন কোনো দলের। ৬ আগস্ট ফাইনালে মুখোমুখি হবে কানাডা-সুইডেন। তার আগের দিন ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়বে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন

‘ভয়ংকর’ মেক্সিকোকে পেল ব্রাজিল, জাপানের প্রতিপক্ষ স্পেন

‘ভয়ংকর’ মেক্সিকোকে পেল ব্রাজিল, জাপানের প্রতিপক্ষ স্পেন

ছবি: এএফপি

শেষ চারে পৌঁছে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, মেক্সিকো, স্পেন ও আয়োজক দেশ জাপান। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ব্রাজিল-মেক্সিকো আগামী ৩ আগস্ট মুখোমুখি হবে। একইদিনে দ্বিতীয় সেমিতে মুখোমুখি হবে জাপান ও স্পেন।

টোকিও অলিম্পিকসের ফুটবল টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চার দল। শেষ চারে পৌঁছেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, মেক্সিকো, স্পেন ও আয়োজক দেশ জাপান।

প্রথম ম্যাচে মিশরকে হারিয়ে টানা দুই অলিম্পিকের সেমিতে পৌঁছে গেল ব্রাজিল। ডগলাস ‍লুইজের একমাত্র গোলে মিসরকে হারায় সেলেসাওরা।

দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৬-৩ গোলে উড়িয়ে দেয় মেক্সিকো। মার্টিন ও কর্দোভার জোড়া গোলের পাশাপাশি একটি করে গোলে করেন লুইস রোমো ও এদুয়ার্দো আগুইর।

কোরিয়ার তিন গোলের দুটি আসে ডং-কিয়ং লির কাছ থেকে। বাকিটি উজো হুয়াং কাছ থেকে।

এই দুই ম্যাচজয়ী ব্রাজিল ও মেক্সিকো আগামী ৩ আগস্ট মুখোমুখি হবে সেমি ফাইনালের ম্যাচে।

দিনের অন্য দুই কোয়ার্টার ফাইনালে জয় পেয়েছে স্পেন ও জাপান।

কোট দে ভোয়াকে ৫-২ গোলে হারায় স্পেন। হ্যাটট্রিক করেন স্পেনের সেন্টার ফরোয়ার্ড রাফা মির।

নির্ধারিত ম্যাচে ২-২ থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে আরও তিন গোল দিয়ে জয় নিয়ে সেমি নিশ্চিত করে স্পেন।

দ্বিতীয় সেমিতে স্পেনকে পেয়েছে আয়োজক জাপান। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জিতে শেষ চার নিশ্চিত করেছে জাপান।

৩ আগস্ট দ্বিতীয় সেমিতে মুখোমুখি হবে জাপান ও স্পেন।

আরও পড়ুন:
ডোনারুমা: মিলানের রিজার্ভ থেকে ইউরোর সেরা
অপ্রতিরোধ্য ইতালির সামনে স্বাগতিক ইংল্যান্ড
মেসি জানতেন জিতবেন

শেয়ার করুন