ফাইনাল ছাপিয়ে ‘দুই বন্ধু’ মেসি-নেইমারের দ্বৈরথ

ফাইনাল ছাপিয়ে ‘দুই বন্ধু’ মেসি-নেইমারের দ্বৈরথ

ছবি: সংগৃহীত

মেসির চার গোলের বিপরীতে নেইমারের গোল দুটি। মেসি অ্যাসিস্ট করেছেন ৫টি, নেইমার করেছেন ৩টি। গোলে শট নেওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে মেসি। ৪০টি শট নিয়েছেন তিনি পুরো টুর্নামেন্টে। নেইমার নিয়েছেন ২০টি।

কোপা আমেরিকার মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল রোববার। দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই ম্যাচ নিয়ে পুরো বিশ্ব দ্বিধাবিভক্ত। এক ভাগের চোখে নীল-সাদাই সেরা, আরেক দলের কাছে হলুদ-নীলরাই শিরোপার দাবিদার।

এমন লড়াইয়ে দুই দলের দুই মধ্যমণি লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়র। এফসি বার্সেলোনায় খেলার সুবাদে স্মরণীয় কিছু সময় কাটানোর স্মৃতি রয়েছে তাদের। গভীর বন্ধুত্বও গড়ে উঠেছে দুই দেশের দুই মহাতারকার।

ফাইনালের আগে অবশ্য দুইজনই ভুলে যাচ্ছেন সেই ভালোবাসা। বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান রেখেই নিজ দলের হয়ে সেরাটা দিয়ে মুখিয়ে নেইমার ও মেসি।

ফাইনালের আগের দিন নেইমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে ম্যাচে ব্রাজিল খেলেনি সেই ম্যাচে সব সময়ই বন্ধু মেসির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছেন তিনি। তবে রোববার ফাইনাল হবে একেবারেই ভিন্ন।

ব্রাজিলের নাম্বার টেন বলেন, ‘আমি আগেও বলছি মেসি আমার দেখা সেরা খেলোয়াড় আর আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। তবে ফাইনালে আমরা একে অপরের প্রতিপক্ষ। আমি আমার প্রথম কোপা আমেরিকা শিরোপাটা জিততে চাই।

‘যখনই ব্রাজিল খেলেনি আমি মেসিকে সমর্থন জানিয়ে এসেছি। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে আমি তেমনটা করেছি। এবারে তেমনটা হবে না। দুইজনের একজনই ফাইনালে জিতবে।’

ফাইনাল ছাপিয়ে ‘দুই বন্ধু’ মেসি-নেইমারের দ্বৈরথ
ফাইনালের আগে ব্রাজিল দলের অনুশীলনে। ছবি: এএফপি

আর্জেন্টিনার মূল তারকা লিওনেল মেসি তার নবম বড় টুর্নামেন্ট খেলছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই আধুনিক ফুটবলের গ্রেটের বয়স এখন ৩৪। এটাই হয়তো তার শেষ কোপা আমেরিকা। তাই আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে শিরোপা জেতার শেষ সুযোগ মেসির সামনেও।

এর আগে ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকা আসরের ফাইনালে খেলার সুযোগ হয়েছে মেসির। কিন্তু প্রতিবারেই পরাজিত হয়েছেন।

কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বের পর মেসি বলেছিলেন শিরোপা জিতলেই তার ও তার দলের মিশন পূর্ণ হবে। ফাইনালের আগেও একই সুর আর্জেন্টিনা অধিনায়কের কণ্ঠে।

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘এখানে আমরা একটা স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। প্রায় ৪০ দিন ধরে আমরা সবাই পরিবারের থেকে দূরে আছি। বারবারই বলেছি ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে আমার কাছে দলীয় অর্জনই বড়। শিরোপা জেতাটাই হবে আমাদের যোগ্য পুরস্কার।’

ফাইনালে বলার অপেক্ষা রাখে না, দুই দলের লড়াইয়ের চেয়ে নজর বেশি থাকবে নেইমার-মেসির দ্বৈরথের দিকে। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে যে তারকা জ্বলে উঠবেন তার দলই জিতবে ট্রফি এমনটা প্রায় নিশ্চিত।

ফাইনাল ছাপিয়ে ‘দুই বন্ধু’ মেসি-নেইমারের দ্বৈরথ
আর্জেন্টিনা দলের অনুশীলনে লিওনেল মেসি। ছবি: এএফপি

দুই তারকার কোপার পরিসংখ্যানও কাছাকাছি। মেসির চার গোলের বিপরীতে নেইমারের গোল দুটি। মেসি অ্যাসিস্ট করেছেন ৫টি, নেইমার করেছেন ৩টি।

গোলে শট নেওয়ার দিক থেকেও এগিয়ে মেসি। ৪০টি শট নিয়েছেন তিনি পুরো টুর্নামেন্টে। নেইমার নিয়েছেন ২০টি। ড্রিবলে অবশ্য এগিয়ে নেইমার। ব্রাজিলিয়ানের ৮২ ড্রিবলের বিপরীতে মেসির ড্রিবল ৬৮টি।

কোপায় দলীয় হেড টু হেড লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২০০৪ ও ২০০৭ সালে দুটি বড় জয় রয়েছে তাদের। ব্রাজিলকে কোপার ফাইনালে আর্জেন্টিনা সর্বশেষ হারিয়েছে ১৯৩৭ সালে।

আরও পড়ুন:
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা খেলা নিয়ে পুলিশের সতর্কতা
আর্জেন্টাইন পত্রিকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভক্তদের সংঘর্ষের খবর
‘নেইমার চ্যালেঞ্জ’ মাথায় নিয়ে অনুশীলন শুরু আর্জেন্টিনার
মেসির হাতে শিরোপা দেখতে চান ব্রাজিল ফ্যান জিকো
আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়াতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য