দলে ২০ জনের করোনা, গোলবার সামলালেন মিডফিল্ডার

রিভার প্লেটের হয়ে গোলকিপারের দায়িত্ব পালন করেন মিডফিল্ডার এনসো পেরেস। ছবি: টুইটার

দলে ২০ জনের করোনা, গোলবার সামলালেন মিডফিল্ডার

লিওনেল মেসির সাবেক সতীর্থ পেরেস ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন জার্মানির। তাই চাপ নেয়ার অভিজ্ঞতা তার আছে। কিন্তু গোলকিপিংয়ের অভিজ্ঞতা এই প্রথম।

দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী কোপা লিবার্তাদোরেস টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও কলম্বিয়ার সান্তা ফের ম্যাচ। ম্যাচের আগে রিভারের ম্যানেজার মার্সেলো গায়ার্দোর কপালে চিন্তার ভাঁজ। দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নস লিগ খ্যাত টুর্নামেন্টে খেলার চাপ তো আছেই। পাশাপাশই গায়ার্দোর লড়তে হচ্ছে অদৃশ্য এক শত্রুর সঙ্গে।

তার দলের মূল ও রিজার্ভ স্কোয়াড মিলিয়ে ২০ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। সবশেষ লিগ ম্যাচে রিজার্ভের খেলোয়াড় নামিয়ে কোনোমতে চালিয়েছেন। কোপা লিবার্তাদোরেসে সেই সুযোগও নেই। টুর্নামেন্টের আগে রেজিস্টার্ড খেলোয়াড়দের নিয়েই মাঠে নামার নিয়ম দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্টে।

আর্জেন্টিনার অন্যতম বড় ক্লাব রিভার প্লেটে খেলেছেন বহু রথী-মহারথী। নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ও বিশ্বকে উপহার দেয়ার যেন ভাণ্ডার আছে তাদের। আর তারাই কিনা পড়েছে খেলোয়াড় সংকটে।

ম্যাচের জন্য কোনোমতে ১১ জন খেলোয়াড় বাছেন গায়ার্দো। বিপত্তি বাঁধে গোলকিপারকে নিয়ে। মূল দল ও রিজার্ভ মিলিয়ে ছয় গোলকিপারের চারজনের করোনা। পঞ্চম ও ষষ্ঠ জনকে খেলার অনুমতি দেয়নি দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কনমেবোল)।

উপায়ান্তর না দেখে গায়ার্দো পরামর্শ করলেন দলের অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এনসো পেরেসের সঙ্গে। পেরেস অদ্ভুত এক বুদ্ধি বের করলেন। নিজেই দাঁড়াবেন গোলবারের নীচে।

গায়ার্দো কি করবেন ভেবে না পেয়ে রাজি হয়ে গেলেন তার প্রস্তাবে। গোলকিপারের জার্সিতে ম্যাচে নামলেন পেরেস।

লিওনেল মেসির সাবেক সতীর্থ পেরেস ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন জার্মানির। তাই চাপ নেয়ার অভিজ্ঞতা তার আছে। কিন্তু গোলকিপিংয়ের অভিজ্ঞতা এই প্রথম।

কলম্বিয়ার দল সান্তা ফেকে শুরুতেই নাস্তানাবুদ করে দেয় রিভার প্লেট। প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুই গোল করে আর্জেন্টিনার ক্লাবটি। ফাব্রিসিও আনহিলেরি দলের খাতা খোলেন তিন মিনিটে। এর দুই মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করেন হুলিয়ান আলভারেস।

ওই দুই গোলই যথেষ্ট ছিল রিভারের জয়ের জন্য। বাকি সময়টাতে তেমন একটা ভালো খেলতে পারেনি সানতা ফে। পেরেসকে খুব বেশি সেইভও করতে হয়নি।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে কেলভিন অসোরিও পরাস্ত করেন পেরেসকে। বাকি সময়ে আর ভুল করেননি অধিনায়ক। রিভার ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

পুরো ম্যাচে রিভার খেলেছে সাবধানে। বল দখলের লড়াইয়ে হার্ড ট্যাকলে যায়নি। কারণ তাদের বেঞ্চে কোনো খেলোয়াড় ছিল না। মাঠের ১১ জনই সম্বল ছিল গায়ার্দোর। রেফারি কাউকে লাল কার্ড দেখালে বা কেউ চোট পেলে কোনো বদলি ছিল না বেঞ্চে। কম খেলোয়াড় নিয়েই শেষ করতে হতো ম্যাচ।

তবে, তেমনটা হয়নি। নিজ স্টেডিয়ামে ভালোভাবেই ম্যাচ জিতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে রিভার প্লেট। তাদের পরের ম্যাচ আক সপ্তাহ পর। ততদিনে হয়তো সুস্থ আর এক-দুইজন খেলোয়াড় পেয়ে যাবেন গায়ার্দো।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মাঠে হার্ট অ্যাটাক এরিকসেনের, স্থগিত ইউরোর ম্যাচ

মাঠে হার্ট অ্যাটাক এরিকসেনের, স্থগিত ইউরোর ম্যাচ

এরিকসেনকে স্ট্রেচারে করে বাইরে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: টুইটার

৪০ মিনিটের মাথায় থ্রো পায় ডেনমার্ক। লাইনের কাছাকাছি ছিলেন এরিকসন। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে সতীর্থরা ঘিরে ধরেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ‘বি’ গ্রুপের ডেনমার্ক-ফিনল্যান্ডের ম্যাচে ডেনমার্ক ও টটেনহ্যাম হটস্পারের তারকা মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান এরিকসন ম্যাচের মাঝেই হঠাৎ মুখ থুবড়ে মাটিতে পড়ে যান।

পরে ধরা পড়ে তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর, ম্যাচ স্থগিত করা হয়। রোববার আবারও হবে দুই দলের ম্যাচ।

আর এরিকসনকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নেয়া হয়। আপাতত সুস্থ আছেন এই ড্যানিশ ফুটবলার।

ইউরোপ সেরার টুর্নামেন্ট ইউরোতে কোপেনহেগেনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ড। ইতিহাসে প্রথমবার কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলছিল ফিনল্যান্ড।

ম্যাচ গোলশূন্য নিয়ে চলছে প্রথমার্ধে। ৪০ মিনিটের মাথায় থ্রো পায় ডেনমার্ক। লাইনের কাছাকাছি ছিলেন এরিকসন। হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

পরে সতীর্থরা ঘিরে ধরেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

প্রায় ১৩ মিনিট পর চোখ খুলতে দেখা যায় টটেনহ্যামের এই ফুটবলারকে। হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় তাকে সিপিআর দেয়া হয় মাঠের মধ্যেই।

এরপর দ্রুত তাকে নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ডেনিশ ফুটবল জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে এরিকসনের। অন্যান্য টেস্টের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে তাকে।

এদিকে একটি জরুরি বৈঠক ডেকে ম্যাচটি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় ইউয়েফা ইউরো ২০২০ আয়োজকরা।

এরিকসনের ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সুস্থতা চেয়ে পোস্ট করছেন ক্লাবের সতীর্থ, সাবেক ও বর্তমান ফুটবলাররা।

ইউয়েফা এক টুইট বার্তায় জানায় ম্যাচ ৪১ মিনিট থেকে আবারও একই ভেন্যুতে খেলা হবে রোববার রাতে। দুই দলের খেলা ৪১ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য ছিল।

শেয়ার করুন

রকস্টার লিওনেল মেসি

রকস্টার লিওনেল মেসি

হার্ড রক ক্যাফের বিজ্ঞাপণে লিওনেল মেসি। ছবি: টুইটার

বিশ্বখ্যাত রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে চেইন হার্ড রক ক্যাফে মেসিকে নিজেদের শুভেচ্ছাদূত করেছে শনিবার। তাই রেস্তোরাঁর থিমের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে মেসির এমন লুক।

সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবেই তাকে চেনেন সবাই। ছয়টি ব্যলন ডরের পাশাপাশি অসংখ্য ট্রফি জিতেছেন বার্সেলোনার হয়ে। চিরপরিচিত ফুটবলার বেশে নয় আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসিকে এবারে দেখা গেল একেবারে অন্য অবতারে।

রকস্টারদের মতো লুকে গিটার নিয়ে ব্ল্যাক লেদার জ্যাকেট ও ডেনিমে হাজির হলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও বার্সেলোনা অধিনায়ক। মাঠ ছেড়ে এবারে কি কনসার্ট মাতাতে যাচ্ছেন এই ক্ষুদে যাদুকর?

না, তেমন কিছুই না। বিশ্বখ্যাত রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে চেইন হার্ড রক ক্যাফে মেসিকে নিজেদের শুভেচ্ছাদূত করেছে শনিবার। তাই রেস্তোরাঁর থিমের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে মেসির এমন লুক।

হার্ড রক ক্যাফের বিজ্ঞাপণে দেখা যায়, গিটারের কেইসে বল নিয়ে ক্যাফেতে প্রবেশ করছেন মেসি। তার সাজ রকস্টারদের মতো। গায়ে কালো জ্যাকেট ও জিন্স।

বিখ্যাত রেস্তোরাঁটি তাদের সূবর্ণজয়ন্তী পালন করছে এই বছর। বিশেষ এই সময়ে বিখ্যাত রকস্টারদের পাশে ফুটবল মাঠের ‘রকস্টার’ মেসিকে রেখেছে তারা।

‘এমন একটা ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারাটা সম্মানের ব্যাপার। বিশেষ করে এতোজন রকস্টারদের সঙ্গে তাদের ৫০ বছর পূর্তীর অংশ হতে পারাটা আসলেই স্পেশাল,’ সাংবাদিকদের বলেন মেসি।

বিশেষ এই উপলক্ষে মেসি তার ব্যলন ডরের একটি রেপ্লিকাতে সই করে দিয়েছেন হার্ড রক ক্যাফেকে। আর ক্যাফের প্রেসিডেন্ট জিম অ্যালেন মেসিকে উপহার দিয়েছেন তার জন্য বানানো বিশেষ একটি ইলেক্ট্রিক গিটার।

হার্ডরক ক্যাফের অন্যতম জনপ্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে তাদের সিগনেচার বার্গারগুলো। মেসির কাছে তার প্রিয় বার্গারে কী কী থাকবে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, ‘গরুর মাংস, টোমাটো, চিজ, মেয়োনেজ ও ডিম।’

মেসি সদলবলে আছেন ব্রাজিলে। সেখানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে কোপা আমেরিকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মঙ্গলবার রাতে চিলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতিটা সুখের হয়নি মেসিদের জন্য। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে প্রথম চিলি ও পরের ম্যাচে কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

গতবারের কোপা আমেরিকায় সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল মেসির দলকে।

শেয়ার করুন

‘সারা জীবন ফুটবলকেই ভালোবেসেছি’

‘সারা জীবন ফুটবলকেই ভালোবেসেছি’

নেইমার জুনিয়র। ফাইল ছবি

কোপা আমেরিকায় নেইমারকে অধিনায়ক নির্বাচন করেছেন কোচ লিওনার্দো তিতে। ব্রাজিলের জার্সিতে দায়িত্ব নেবার সময় এসেছে নেইমারের এমন ধারণা থেকেই তার হাতে আর্মব্যান্ড দিয়েছেন তিনি।

নেইমারও এত বড় দায়িত্ব পেয়ে শিহরিত। ২০১৪ বিশ্বকাপের উঠতি তারকা থেকে তার সময় এখন বিশ্বসেরায় পরিণত হওয়া। কোপা আমেরিকা হতে পারে সেটির জন্য উপযুক্ত মঞ্চ।

নিজ দেশে দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ টুর্নামেন্টের আগে খুদে ভক্তদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন এই সুপারস্টার। ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা পুমা আয়োজিত এক ক্যাম্পেইনে স্কুলের শিশু-কিশোরদের নেইমার জানান তার ছেলেবেলার স্বপ্নের কথা।

‘শৈশবে আমার স্বপ্ন একটাই ছিল। আমি সব সময়ই চেয়েছি ফুটবল খেলোয়াড় হতে। অন্য কোনো কিছু হতে চাইনি কখনও। অন্য কিছু করতেও চাইনি। নিজেকে একটা কাজেই নিয়োজিত রেখেছি। সারা জীবন ফুটবলকে ভালোবেসেছি,’ বলেন নেইমার।

লিওনেল মেসিকে আইডল ভেবে বড় হওয়া নেইমার এখন বিশ্বজুড়ে লাখো-কোটি শিশু-কিশোরের আইডল। অগুনতি তরুণদের ভক্তের জন্য নেইমারের কাছ থেকে এসেছে বিশেষ বার্তা।

‘ভবিষ্যৎ তাদেরই উজ্জ্বল, যারা বড় কিছুতে বিশ্বাস করে। আমি শিশুদের সঙ্গে আমার নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে চাই। তাদের বয়সে আমার যে স্বপ্ন ছিল সেটার কথা জানাতে চাই। আর বলতে চাই প্রত্যেকে যেন নিজের স্বপ্নের পেছনে ছোটে,’ খুদে ভক্তদের বলেন ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত নেইমার।

শিশুদের কাছ থেকে নেইমার জানতে চান তাদের স্বপ্নের কথা। কেউ হতে চায় স্ট্রাইকার, কেউবা গোলকিপার। কারও স্বপ্ন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা ,কেউবা খেলতে চায় কোরিন্থিয়ান্সে।

সবার উদ্দেশেই নেইমারের একই আহ্বান, ‘তোমাদের সবার মতোই আমিও ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম বড় কিছু হওয়ার। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখো। স্বপ্নকে তাড়া করো। তোমরাই ভবিষ্যৎ।’

নেইমারের কাঁধে এখন গুরুদায়িত্ব নিজ মাটিতে কোপা আমেরিকা জয়। তার আগে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ জিতে দারুণ ছন্দে আছে ব্রাজিল।

ইকুয়েডর ও প্যারাগুয়েকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রস্তুতি সেরেছেন নেইমার-জেসুসরা। সোমবার ভোর ৩টায় ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিল শুরু করছে তাদের কোপা আমেরিকার চ্যালেঞ্জ।

টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে কলম্বিয়া ও আর্জেন্টিনা বাদ পড়ার পর আয়োজকের ভার পড়েছে ব্রাজিলের ওপর। টুর্নামেন্টের মাত্র ১৩ দিন বাকি থাকতে এবারের আসর আয়োজনের দায়িত্ব কাঁধে নেয় ব্রাজিল। কিন্তু দেশটির বেগতিক করোনা পরিস্থিতির মধ্যে কোপা আয়োজন করতে যাওয়ায় নানা মহল থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি গড়ায় আদালতে।

কোপা আয়োজনের পক্ষেই শেষ পর্যন্ত রায় দেয় ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চের ১১ জন বিচারকের বেশির ভাগই কোপা আমেরিকা ব্রাজিলে আয়োজনের পক্ষে রায় দেন। যদিও তারা ব্রাজিল সরকারকে কোপা আয়োজনে অতিরিক্ত সতর্কতা মেনে চলতে বলেছেন।

শেয়ার করুন

বাফুফের সঙ্গে মেয়াদ বাড়ল সোহাগের

বাফুফের সঙ্গে মেয়াদ বাড়ল সোহাগের

ফুলেল শুভেচ্ছায় সোহাগকে অভ্যর্থনা দিচ্ছে বাফুফে। ছবি: বাফুফে

২০১১ সালের মে মাসে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির সাদী মারা যাওয়ার পর বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন সোহাগ। ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে তাকে সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু নাঈম সোহাগের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়াল বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

শনিবার বাফুফের নির্বাহী কমিটির সভায় সোহাগের চুক্তির বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এজেন্ডায় যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে আলোচনা হচ্ছিল সেটা হচ্ছে সাধারণ সম্পাদকের। তার সঙ্গে আমাদের চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। যিনি চুক্তিতে থাকেন তার সবসময় চিন্তায় থাকেন। চুক্তি দীর্ঘ হবে কি না। আমাদের আলোচনাতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবাই একমত পোষণ করেছি সাধারণ সম্পাদককে আরও দুই বছরের জন্য মেয়াদ বর্ধিত করা হয়েছে।’

এর আগে ২০০৫ সালে বাফুফেতে ম্যানেজার কম্পিটিশনস (ক্লাব অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) হিসেবে যোগ দেন সোহাগ। ২০১১ সালের মে মাসে মারা যান সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির সাদী। ওই সময় বাফুফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন সোহাগ।

দেড় বছর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োগ দেয়া হয় তাকে।

আবু নাইম সোহাগ বাংলাদেশ ব্যাংক হাই স্কুল, নটরডেম কলেজ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ছিলেন।

শেয়ার করুন

পিএসজি নিয়ে নিশ্চিত নন এমবাপে

পিএসজি নিয়ে নিশ্চিত নন এমবাপে

কিলিয়ান এমবাপে। ফাইল ছবি

বিশ্বসেরা তরুণ প্রতিভাকে দলে টানতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের পেছনেই লিভারপুল। দুই ক্লাবই ফ্রেঞ্চ তারকার সইয়ের জন্য যেকোনো অঙ্ক খরচ করতে রাজি তারা। পিএসজি সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা এমবাপেকে বিক্রির কথা ভাবছেই না।

ছেলেবেলা থেকেই তিনি রিয়াল মাদ্রিদের ভক্ত। বহুবার বহু সাক্ষাৎকারে কিলিয়ান এমবাপে জানিয়েছেন মাদ্রিদের সাদা জার্সি তার স্বপ্ন। তার আইডল ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো যেমন খেলেছেন মাদ্রিদের হয়ে, তিনিও একদিন চান সান্তিয়াগো বার্নাবুর মূল আকর্ষণে পরিণত হতে।

মোনাকো থেকে ১৮ কোটি ইউরোতে ২০১৮ সালে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দেয়া এমবাপে এখনও সতীর্থ নেইমারের পর বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলার।

ক্লাবে তারকাখ্যাতিতেও নেইমারের পরেই তার অবস্থান। তবে গত এক বছর যাবৎই পিএসজিতে মন টিকছে না ২২ বছরের এই ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ডের। নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের জন্য মুখিয়ে আছে তার মন।

বিশ্বসেরা তরুণ প্রতিভাকে দলে টানতে প্রস্তুত রিয়াল মাদ্রিদ। তাদের পেছনেই লিভারপুল। দুই ক্লাবই ফ্রেঞ্চ তারকার সইয়ের জন্য যেকোনো অঙ্ক খরচ করতে প্রস্তুত। পিএসজি সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা এমবাপেকে বিক্রির কথা ভাবছেই না।

এমবাপে অবশ্য ফ্রান্স ফুটবলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শুক্রবার জানান পিএসজিতে মন টিকছে না তার। তবে এখনই নিশ্চিত করে উঠতে পারছেন না ক্লাব ছাড়ার বিষয়ে।

‘আমাকে খুব যে দ্রুত ছাড়তে হবে তাও না বিষয়টা। সঠিক সিদ্ধান্তটাই নিতে হবে। সেটা খুব কঠিন একটা কাজ। তবে নিজের মত বদলানোর সুযোজ নিজেকে দেয়া উচিত। আমি যেখানে আছি এটা ভালোই। এখানে আমি ভালো আছি। কিন্তু এটাই কি আমার জন্য সেরা ক্লাব? আমি সেটার উত্তর এখনও জানি না।’

পিএসজিতে পারিশ্রমিক, তারকাখ্যাতি, শিরোপা কোনো কিছুর কমতি নেই এমবাপের। ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা না হলেও ফ্রেঞ্চ ঘরোয়া ফুটবলের সবগুলোই জিতেছেন পাঁচ বছরের ছোট ক্যারিয়ারে।

এমবাপে নিজেও জানেন ২৯ বছরের নেইমার নন, তিনিই পিএসজির ভবিষ্যৎ। বলেন, ‘আমি জানি আমাকে নিয়ে বা আমাকে ছাড়া ক্লাবের পরিকল্পনা একরকম থাকবে না। আশা করি পিএসজি আমার অনুভূতি বুঝতে পারবে। কারণ তারাও জানে আমি কাউকে না জানিয়ে কিছু করব না।’

ক্লাব ছাড়তে হলে নিজের ও ক্লাবের সম্মান রেখেই ছাড়বেন জানালেন এমবাপে। সেরা খেলোয়াড়দের দায়িত্ব জানা আছে তার।

‘সেরা খেলোয়াড় হলে মাঠের বাইরেও আমাকে এর প্রমাণ রাখতে হবে। মাঠের বাইরে পরিষ্কারভাবে ও সম্মানের সঙ্গে সবকিছু করতে হবে,’ বলেন এমবাপে।

আপাতত দলবদল নিয়ে ভাবতে হচ্ছে না এমবাপেকে। তিনি ব্যস্ত ইউরোর লড়াইয়ে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের হয়ে আতোয়াঁ গ্রিজমান, উসমান ডেম্বেলের সঙ্গে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন তিনি।

১৬ জুন জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের ইউরো অভিযান শুরু করছে ফ্রান্স।

শেয়ার করুন

তুর্কিদের উড়িয়ে ইতালির শুভসূচনা

তুর্কিদের উড়িয়ে ইতালির শুভসূচনা

তুরস্কের বিপক্ষে গোল করার পর ইতালির চিরো ইমোবিলের উচ্ছ্বাস। ছবি: টুইটার

৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণভাবে ইউরো পুনরুদ্ধারের মিশনটা শুরু করল ইতালি। সবশেষ একবারই ১৯৬৮ সালে ইউরো জিতেছিল দলটি। শেষ বার চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী দেশ ইতালি ফাইনালে খেলেছিল ২০১২ সালে।

তুরস্কের বিপক্ষে জয়টা অনুমিতই ছিল ইতালির। তবে বাঁধ সাধে প্রথমার্ধটা। গোলশূন্যভাবে শেষ করার পর দ্বিতীয়ার্ধে এসে নিজেদের শক্তিটা দেখাল কোচ রবার্তো মানচিনির শিষ্যরা। তুর্কিদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দারুণভাবে ইউরো পুনরুদ্ধারের মিশনটা শুরু করল দলটি।

শুরুর অর্ধে আধিপত্য ধরে রাখলেও গোলের দেখা পায়নি ইতালি। খুব কাছাকাছি এসেছিলেন জর্জো কিয়েলিনি। তার হেডটা কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান তুর্কি গোলরক্ষক উয়ুরচান চেকির।

দ্বিতীয়ার্ধে মেরিহ দেমিরালের ভুলে শুরু। ডমিনিকো বেরার্দির পাস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদেরই জালে জড়ান ইউভেন্তাস ডিফেন্ডার। ৬৬ মিনিটে লিওনার্দো স্পিনাতসোলার শট ঠেকান তুর্কি গোলরক্ষক চেকির। কিন্তু রিবাউন্ডে চিরো ইমোবিলের শটটা ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ম্যাচে ৭৯ মিনিটে শেষ গোলটি আসে লরেঞ্জো ইনসিনিয়ের পা থেকে।

ইমোবিলের পাস থেকে দারুণ এক ফিনিশে দলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। তাতে বড় জয় নিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা নিশ্চিত করে দলটি।

ম্যাচ শুরুর আগে ছোট্ট কিন্তু বর্নাঢ্য এক আয়োজনে উদ্বোধন করাহয় ইউরো ২০২০-এর। করোনাভাইরাস মহামারিতে এক বছর পিছিয়ে যাওয়া আসরের প্রথম ম্যাচ বল মাঠে প্রবেশ করে রিমোট কন্ট্রোলড গাড়িতে।

আতশবাজি ও দৃষ্টিনন্দন পারফর্মেন্সের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল কিংবদন্তি ইতালিয়ান গায়ক আন্দ্রেয়া বোচেলির গান। বিখ্যাত অপেরা সঙ্গীত 'নেসুম দর্মা' পরিবেশন করেন বোচেলি।

এই জয়ের ফলে নিজেদের গ্রুপ এ-এর শীর্ষে চলে গিয়েছে আৎসুরিরা। ইতালি তাদের পরবর্তী ম্যাচে খেলবে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। রাজধানী রোমে খেলাটি হবে আগামী ১৭ জুন।

শেয়ার করুন

মিডফিল্ডে ‘মরুভূমি’, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ

মিডফিল্ডে ‘মরুভূমি’, কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ

অনুশীলনে জাতীয় দলের ফুটবলাররা। ছবি: বাফুফে

মিডফিল্ড সংকটে দলের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ দুটোই দেখছেন জাতীয় দলের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহ পারভেজ।

আগামী ১৫ জুন ওমান ম্যাচের আগে কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। কার্ড সমস্যায় স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন তিন ফুটবলার। আর ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন একজন। ভারত ম্যাচের আগে ইনজুরিতে দলের বাইরে থাকতে হয় আরেক ফুটবলারকে।

তাদের মধ্যে সিংহভাগই মিডফিল্ডার।

কার্ড সমস্যায় জর্জরিত হয়ে ওমান ম্যাচে খেলতে পারছেন না অধিনায়ক ও মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া, বিপলু আহমেদ (মিডফিল্ডার), ডিফেন্ডার রহমত মিয়া।

আর ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন দুই মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও মাসুক মিয়া জনি। নিয়মিত একাদশের চারজন মিডফিল্ডার নেই এই ওমান ম্যাচে। এর আগে ইনজুরিতে দলের বাইরে ছিটকে যান গোলকিপার উইঙ্গার সাদ ও ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ।

সব মিলিয়ে এবার বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইটা ফুটবলারের অভাব নিয়েই কেটেছে বাংলাদেশের।

এই অবস্থায় বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে তাই মাঝমাঠে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে প্রধান কোচ জেমি ডেও। কাতারের পর সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মাঝমাঠ সাজাতেও বেশ জটিলতার মধ্যে পড়তে হবে এই ইংলিশ টেকটিশিয়ানকে।

এ অবস্থায় দলের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ দুটোই দেখছেন জাতীয় দলের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আব্দুল্লাহ পারভেজ।

তিনি বলেন, ‘মিডফিল্ডারের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্ব আমাদের। আমরা যারা মিডফিল্ড খেলি আমরা যদি পজিটিভ ফুটবল খেলতে পারি তাহলে সহজ হবে। ভারত ম্যাচ ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সামনে ওমান ম্যাচ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। কোচ সেভাবেই নির্দেশনা দিচ্ছেন।’

ওমানের বিপক্ষে দলে একঝাঁক উদীয়মান ফুটবলারের সুযোগ হচ্ছে এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মিডফিল্ডে এই সংকট নতুনদের সুযোগ হিসেবেই দেখছেন আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘ওমানের বিপক্ষে কীভাবে খেলব আমরা আর আমাদের দুর্বলতা নিয়ে কাজ করছেন কোচ। যারাই সুযোগ পাবে তাদের জন্যই চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ আমি মনে করি।’

ওমানের বিপক্ষে ইতিবাচক ফুটবল খেলে ভালো ম্যাচ উপহার দেয়ার আশ্বাস আব্দুল্লাহর, ‘ওমানের শক্তি সম্পর্কে আমরা অবগত। ওরা কাতারের সঙ্গে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে। আমরা যদি আমাদের জায়গা থেকে সেরাটা দেই ভালো কিছু আশা করা যায়।’

শেয়ার করুন