অবিশ্বাস্য কামব্যাকে কোপার ফাইনালে বার্সা

দ্বিতীয় গোলের পর সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে পিকে। ছবি: টুইটার

অবিশ্বাস্য কামব্যাকে কোপার ফাইনালে বার্সা

৯৩ মিনিটে জেরার্ড পিকের হেড থেকে ম্যাচে ফেরে বার্সা। ৯৪ মিনিটে ব্র্যাথওয়েইটের গোলে নিশ্চিত হয় জয়।

ম্যাচের বয়স ৯৩ মিনিট। সেভিয়ার বিপক্ষে কোপা দেল রে সেমিফাইনালে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বার্সেলোনা। কিন্তু তাতে লাভ নেই। প্রথম লেগ ২-০ গোলে হারায় খেলা অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে হলেও আরেকটি গোল দরকার কাতালানদের।

এ সময়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির কর্নারটা জুতসই হলো না, কিন্তু সেভিয়া ডিফেন্ডার ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারলেন না, বল পেলেন বাম উইংয়ে থাকা আঁতোয়ান গ্রিজমান। নিখুঁত ক্রস করতে ভুল করেননি তিনি।

আর সেই ক্রসে মাথা ছোঁয়ান জেরার্ড পিকে। পিকের মাথা থেকে বল যায় জালে, শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচ বাঁচিয়ে ফেলে বার্সা।

এর আগে মাত্র ১২ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে উসমান ডেম্বেলের দারুণ শটে লিড পায় বার্সেলোনা। ম্যাচজুড়ে আক্রমণের বাহার সাজিয়ে বসেছিল কাতালানরা। কিন্তু অধরা দ্বিতীয় গোল ধরা দিচ্ছিল না তাদের কাছে।

জর্দি আলবার দুর্দান্ত এক ভলি ফিরে এসেছিল বারে লেগে। মেসির একটি শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেছিল সেভিয়া।

উলটো ৭৩ মিনিটে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেভিয়ার লুকাস অকাম্পোসকে অস্কার মিনগুয়েজা বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু অকাম্পোসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন বার্সা গোলকিপার মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগেন।

এরপর পিকের সেই গোল। এরপর অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে লিড নিতে অবশ্য সময় নেয়নি বার্সা। মাত্র চার মিনিটের মাথায়ই আলবার ক্রস থেকে গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে প্রথমবারের মত বার্সাকে লিড এনে দেন মার্টিন ব্র্যাথওয়েইট।

বাকি সময়ে যতটুকু না আক্রমণ করেছে সেভিয়া, তার চেয়ে বেশি বার্সেলোনা বল নিয়ে যুঝেছে, সময় কাটিয়েছে। মাঝখানে বার্সা ডিফেন্ডার ক্লেমেন্ট লংলের বিপক্ষে একটি পেনাল্টির আবেদন জানালেও, তা নাকচ করে দিলে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি সেভিয়ার।

ম্যাচের পর বার্সেলোনা কোচ রোনাল্ড কুম্যান জানান, গ্রীষ্মে বার্সেলোনায় যোগদানের পর এটিই ক্লাবে তার সেরা মুহূর্ত।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটিই আমার জন্য এখানে আসার পর সবচেয়ে খুশির মুহূর্ত। আমরা দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছি।’

এই নিয়ে গত সাত মৌসুমে ষষ্ঠ বারের মতো কোপা দেল রে এর ফাইনালে উঠল বার্সেলোনা। এর মধ্যে বাকি পাঁচ ফাইনালের চারটিই জিতেছে কাতালানরা। আপাতত তাদের অপেক্ষা প্রতিপক্ষে কে হবে, সেটি জানা।

কোপা দেল রে এর অন্য সেমিফাইনালে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে অ্যাথলেটিক বিলবাও ও লেভান্তে। প্রথম লেগ শেষে দুই দল রয়েছে ১-১ সমতায়।

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চ্যাম্পিয়নস লিগে থাকছে রিয়াল, সিটি ও চেলসি:পেরেস

চ্যাম্পিয়নস লিগে থাকছে রিয়াল, সিটি ও চেলসি:পেরেস

ছবি: এএফপি

সব জল্পনা-কল্পনায় পানি ঢেলে দিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেস। রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি সুপার লিগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার রাতে স্প্যানিশ টিভি প্রোগ্রাম এল চিরিঙিতোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান তিন দলের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা কেউ থামাতে পারবে না। এমনকি পেরেসের দাবি ঘরোয়া লিগ থেকেও তাদের নিষিদ্ধ করতে পারবে না ইউয়েফা।

রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি ইউরোপিয়ান সুপার ক্লাবে যোগ দেয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ইউরোপের সংবাদ মাধ্যমে, এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বহিস্কৃত হতে যাচ্ছে তিন দল। তিন সেমিফাইনালিস্টকে বরখাস্ত করে দেয়ার পর চার নম্বর দল প্যারিস সেইন্ট জার্মেইকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হতে পারে এমন হিসেবেও করেছেন কেউ কেউ।

তবে, সব জল্পনা-কল্পনায় পানি ঢেলে দিলেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেস। রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি সুপার লিগের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার রাতে স্প্যানিশ টিভি প্রোগ্রাম এল চিরিঙিতোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান তিন দলের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলা কেউ থামাতে পারবে না। এমনকি পেরেসের দাবি ঘরোয়া লিগ থেকেও তাদের নিষিদ্ধ করতে পারবে না ইউয়েফা।

‘রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি ও সুপার লিগের অন্যান্য ক্লাবকে চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ঘরোয়া লিগ থেকে নিষিদ্ধ করা হবে না। এটা অসম্ভব। আমি শতভাগ নিশ্চিত এই ব্যপারে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বা জাতীয় দল থেকেও খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ করা হবে না। চিন্তার কিছু নেই এটা হবে না’

১২টি ক্লাব একজোট হলেও নির্ধারিত লক্ষ্যের আরও তিন ক্লাবকে এখনও খুঁজে পায়নি সুপার লিগ। পিএসজি, আর বায়ার্ন মিউনিখ জানিয়েছে তারা বিদ্রোহী লিগে খেলবে না। পেরেস নিশ্চিত ওই দুই ক্লাব ছাড়াও আরও আগ্রহী ক্লাবকে তারা সঙ্গে পাচ্ছেন।

‘পিএসজিকে আজকে (সোমবার) পর্যন্ত ডাকা হয়নি। আমরা জার্মান ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা বলিনি। এখন পর্যন্ত ১২টি ক্লাব এসেছে। আমরা চাই ১৫টিকে। পিএসজি আর বায়ার্ন মিউনিখ না খেলতে চাইলেও প্রতিযোগিতা বাতিল হবে না। এটা হাস্যকর একটা ধারণা।’

ইউয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন সুপার লিগের উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এটি ফ্যানদের মুখে থুথু দেয়ার সামিল’। ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থার প্রধানের কড়া সমালোচনা করে পেরেস বলেন এই ধরনের লোকের দরকার নেই।

‘ইউয়েফার প্রেসিডেন্ট হিসেবে উনি যা বলেছেন সেটা হাস্যকর। এই ধরনের লোককে ফুটবলে দরকার নেই। এটা অসস্মানজনক ও অগ্রহণযোগ্য। তাদের ধারণা আমরা তাদের সম্পত্তি এবং তারা চাইলে আমাদের সঙ্গে যা খুশি করতে পারে। তাদের ধারণা ভুল। তাদের আধিপত্য শেষ করতে হবে।’

অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন সুপার লিগ হলে শুধুমাত্র বড় ক্লাবগুলোর সুবিধা হবে ছোট ক্লাবগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। এই ধারণার সঙ্গে একমত নন পেরেস।

‘সুপার লিগ ছাড়া ২০২৪ সালের মধ্যে ফুটবলের মৃত্যু হবে। ছোট ও বড় ক্লাব গুলো ধ্বংস হয়ে যাবে। সুপার লিগটা ধনীদের জন্য নয়। এটা ফুটবলকে রক্ষা করার জন্য। সাওনের কিছুদিনের মধ্যে আপনারা লাপোর্তা (বার্সেলোনা সভাপতি) সহ অন্যদেরও এই বিষয়ে কথা বলতে শুনবেন। একমাত্র ফ্যানদেরই এটা নিয়ে কিছু বলার অধিকার আছে। আমরা জানি তারা আরও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল দেখতে চায়। আমরা ফ্যানদের কাছে পরিস্থিতি বদলাতে দায়বদ্ধ।’

সবশেষে পেরেস ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সুপার লিগ হতে না দেয়ার হুমকিকেও উড়িয়ে দেন।

‘বরিস জনসন বলেছেন তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যেনো সুপার লিগ না হয়। এটার কারণ তারা রাকে বুঝিয়েছে সুপার লিগ হলে প্রিমিয়ার লিগ ধ্বংস হয়ে যাবে। বিষয়টা আসলে এমন না। সবকিছুই আগের মতো হবে।’

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন

মেসি-রোনালডোদের নিষিদ্ধ হতে দেবে না ফিফপ্রো

মেসি-রোনালডোদের নিষিদ্ধ হতে দেবে না ফিফপ্রো

ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়েছে পেশাদার ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো। তারা জানিয়েছে ক্লাব ও ইউয়েফার নেয়া সিদ্ধান্তের কারণে তারা খেলোয়াড়দের ক্ষতি হতে দেবে না। সোমবার রাতে এক বিবৃর্তিতে সংস্থাটি জানায় ইউয়েফা ও ক্লাবের দড়ি টানাটানিতে তারা সবসময় ফুটবলারদের পাশে আছে।

সুপারলিগ ঘোষণার পর ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ইউয়েফা কড়া হুঁশিয়ারি ছিল অংশগ্রহণকারী ক্লাব ও খেলোয়াড়দের প্রতি। ক্লাবগুলোকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক আসর থেকে বহিস্কারের পাশাপাশি খেলোয়াড়দেরকেও জাতীয় দলে নিষিদ্ধ করার হুমকি দেয় ইউয়েফা।

তবে,মেসি-রোনালডোদের জন্য ভরসার কথা, ফুটবলারদের পাশে দাঁড়িয়েছে পেশাদার ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিফপ্রো। তারা জানিয়েছে ক্লাব ও ইউয়েফার নেয়া সিদ্ধান্তের কারণে তারা খেলোয়াড়দের ক্ষতি হতে দেবে না।
সোমবার রাতে এক বিবৃর্তিতে সংস্থাটি জানায় ইউয়েফা ও ক্লাবের দড়ি টানাটানিতে তারা সবসময় ফুটবলারদের পাশে আছে।

‘দুই পক্ষের কোনো পদক্ষপের কারণে খেলোয়াড়দের যদি জাতীয় দলে খেলতে না পারার মতো অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয় তাহলে আমরা ওইসব পদক্ষেপের তীব্র বিরোধীতা করছি।’

সংস্থাটি মনে করে দুই পক্ষে নেয়া যেকোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারকে ব্যহত করবে।

‘সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপরে ফুটবল দাঁড়িয়ে আছে। এই বিশেষ ঐতিহ্য খেলাটির সঙ্গে ফ্যানদের এমন এক সম্পর্ক তৈরি করেছে যা বিশ্বজুড়ে খেলাটিকে ছড়িয়ে দেয়ার মূল চালিকাশক্তি।এটিকে ধরে রাখতে হলে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে একটু সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সহযোগীতা থাকা জরুরী।‘

বিদ্রোহী লিগের ধারণা নতুন কিছু নয়। এবং ফিফপ্রো মনে করে সংশ্লিষ কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণেই এমনটা ঘটছে।

‘ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই পর্যায়ে আসার পেছনে যেভাবে ফুটবলকে পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে সেটিও দায়ী। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের পাশ কাটিয়ে সংস্থাগুলো ক্ষমতার অসামঞ্জস্যেতাই এর পেছনে দায়ী।’

ক্লাব ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুল কাছ থেকে আরও স্বচ্ছতা দাবী করে ফিফপ্রো। খেলোয়াড়দের কোনো ভাবেই সমঝোতার ঘুঁটি হতে দিতে চায় না তারা।

‘খেলোয়াড়দেরকে এইসব সমঝোতার ঘুঁটি ও উদ্দেশ্যসাধন্যের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফিফপ্রো কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না। আমাদের সংস্থা, এর অন্তর্গত ৬৪টি আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের অ্যাসোসিয়েশন ও ৬০ হাজার খেলোয়ারের কাছে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।‘

খেলোয়াড় ও ফুটবলের স্বার্থে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপ নেবে বলে ফিফপ্রো আশ্বাস দিয়েছে ফুটবলারদের।

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন

সুপার লিগ অপছন্দ করলেও চাকরি ছাড়ছেন না ক্লপ

সুপার লিগ অপছন্দ করলেও চাকরি ছাড়ছেন না ক্লপ

লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। ছবি: টুইটার

লিভারপুল সহ-অধিনায়ক জেমস মিলনার অবশ্য একদমই পছন্দ করছেন না সুপার লিগের ব্যাপারটি। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি এটা একদমই পছন্দ করি না এবং আমি আশা করছি এটা হবে না। লম্বা সময় ধরে বর্তমান পদ্ধতিটি ভালোভাবে কাজ করেছে।’

ফুটবল বিশ্ব কেঁপে উঠেছিল রোববার। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ১২টি ক্লাব মিলে ঘোষণা করে, নতুন একটি ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে তারা। তারা আরও জানায়, আগামী মৌসুম থেকে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশও নেবে না।

সেই ১২টি ক্লাবের একটি লিভারপুল। ২০১৯ সালে ক্লাবটির কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেছিলেন, তিনি চান না কোনো সুপার লিগের আয়োজন হোক।

সেটি বললেন সোমবারও। তিনি বলেন, ‘আমি এটি (সুপার লিগ) পছন্দ করি না এবং আমি চাই না এটি হোক। আমরা ব্যাপারটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি মাত্র রোববার।’

লিভারপুল যখন সুপার লিগ আয়োজনের অন্যতম কান্ডারি, অনেকেই আশা করছিলেন ক্লাবটির কোচের চাকরি ছাড়বেন এই জার্মান।

তবে আপাতত সেটি হচ্ছে না। লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ড্রয়ের আগে ক্লপ জানান, কঠিন সময়ে থাকবেন তিনি।

‘আমি শুনেছি আমি চাকরি ছাড়ব। কঠিন সময়ে আমি আরও দৃঢ় হই যে আমি থাকব’, বলেন ক্লপ।

লিভারপুল সহ-অধিনায়ক জেমস মিলনার অবশ্য একদমই পছন্দ করছেন না সুপার লিগের ব্যাপারটি।

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমি এটা একদমই পছন্দ করি না এবং আমি আশা করছি এটা হবে না। লম্বা সময় ধরে বর্তমান পদ্ধতিটি ভালোভাবে কাজ করেছে।’

লিভারপুলজুড়ে অবশ্য ভক্তদের প্রতিবাদ চলছেই। লিভারপুলের স্টেডিয়াম অ্যানফিল্ড থেকে নিজেদের ব্যানার সরিয়ে নিয়েছেন তাদের সমর্থকরা। স্টেডিয়ামের বাইরে ব্যানার টাঙিয়েছেন তারা, যাতে লেখা, ‘চিরশান্তিতে থাকো লিভারপুল, ১৮৯৯-২০২১।’

লিডসের বিপক্ষে সোমবার ম্যাচের আগে লিভারপুলের জার্সি পুড়িয়ে প্রতিবাদ করেছে তারা। প্রতিবাদ করেছে লিডস ইউনাইটেডও। ম্যাচের আগে ট্রেনিংয়ে তারা ভিন্ন জার্সি পরে নামে, যেখানে চ্যাম্পিয়নস লিগের লোগোর নিচে লেখা ছিল, ‘অর্জন করো।’

ক্লপ জানান, তিনি বা তার খেলোয়াড়রা জানতেন না, এমন কোনো বিষয়ে সমালোচনা নিতে তিনি রাজি নন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শহরে হাঁটছিলাম। তখন লোকজন আমাদের দিকে চিৎকার করছিল। আমরা ক্লাবের কর্মচারী।

‘আমি অনেক কিছুর জন্যই দায়ী এবং যখন আমি দায়ী, আমি সেটার সমালোচনা শুনতে রাজি আছি। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি বা খেলোয়াড়রা কেউই যুক্ত নয়।’

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন

লকডাউন বাড়ছে, শঙ্কায় ঘরোয়া ফুটবল

ঘরোয়া ফুটবল

লকডাউন বাড়ছে, শঙ্কায় ঘরোয়া ফুটবল

ছবি: সংগৃহীত

২১ এপ্রিলের সাতদিন পর থেকে এসব ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে)। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় এই টুর্নামেন্টগুলোর মাঠে গড়ানো নিয়ে আবারও ভাবতে হচ্ছে ফেডারেশনকে।

দেশে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবনা এসেছে। আগামীকালের মধ্যে আসতে পারে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া বিমান চলাচলও বন্ধ থাকছে। এই অবস্থায় দেশের ঘরোয়া ফুটবল মাঠে গড়ানো নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।

লকডাউনের কারণে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে সাময়িক স্থগিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্ব, চ্যাম্পিয়নসশিপ লিগ, প্রথম বিভাগ ও নারী লিগ।

২১ এপ্রিলের সাতদিন পর থেকে এসব ঘরোয়া টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর পরিকল্পনা করছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় এই টুর্নামেন্টগুলো মাঠে গড়ানো নিয়ে আবারও ভাবতে হচ্ছে ফেডারেশনকে।

এরমধ্যে প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসর মাঠে গড়ানো নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। দ্রুত লিগ মাঠে নামানোর ব্যাপারে মত দিয়েছে লিগের ক্লাবগুলো। লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় চিন্তার ভাজ পড়ছে কর্মকর্তাদের কপালে।

এ ব্যাপারে পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারপারসন আব্দুস সালাম মুর্শেদী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত আছি। ২১ এপ্রিল আমাদের জরুরি সভা আছে। অবশ্যই বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে।’

লকডাউনের মেয়াদ বাড়ায় এএফসি কাপের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ম্যাচ খেলতে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ঢাকা আবাহনীকে। ২৬ এপ্রিল ভারতে ম্যাচ খেলার কথা দলটির। ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় ভারতে যাওয়া নিয়েও শঙ্কা আছে।

আবাহনীর ক্লাব সূত্রে জানা যায়, মে মাসে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্ব ম্যাচ খেলতে মালদ্বীপে যাবে বসুন্ধরা কিংস। গ্রুপ পর্বের আগে প্রিলিমিনারি রাউন্ডের ম্যাচ খেলা যায় কী না তা নিয়ে ভাবছে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট। বিষয়টি এএফসিকে অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছে আবাহনী।

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন

সমর্থকদের পাশ কাটিয়ে সুপার লিগ নয়

সমর্থকদের পাশ কাটিয়ে সুপার লিগ নয়

ভক্তদের ক্ষোভটা বোঝা গেছে তাদের প্রতিক্রিয়াতেই। ইংল্যান্ডের ছয়টি ক্লাবের সমর্থকেরা ক্লাবের সামনে ঝুলিয়ে দিয়েছেন নানা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। কোনোটাতে লেখা ‘গরীবদের থেকে ছিনিয়ে ধনীদের জন্য’, কোনোটাতে ‘ধিক্কার তোমাদের’।

২০১২ সালে ম্যানচেস্টার সিটির ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পর একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়। ৪৪ বছর পর সিটির লিগ শিরোপা জয়ের ম্যাচ দেখে ফেরা এক ভক্তের সাক্ষাৎকার ছিল ওই ছোট ভিডিওতে।

ইতিহাদ স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বয়স্ক ওই সিটি সমর্থক বলেন, ‘আমার ৪৪ বছরের অপেক্ষা শেষ হলো। ১৯৬৮ সালে তাদেরকে শিরোপা জিততে দেখেছি। তাদেরকে আমি ৭৫ বছর যাবৎ সমর্থন করে আসছি। ছয় ফিট দুই ইঞ্চি লম্বা এক তরুণ ছিলাম। মাথা ভর্তি চুল ছিল আমার। দেখো এরা আমার কী অবস্থা করেছে (নিজের টাক মাথার দিকে ইঙ্গিত করে)!

ভাইরাল হয়ে পড়া সেই বৃদ্ধের নাম জানা যায়নি। জানার প্রয়োজনও নেই বোধহয়। যারা ফুটবলকে ভালোবাসেন তারা জানেন খেলাটার আবেগটাই এমন। দলের যে অবস্থাই থাকুক না কেনো ভক্তরা সমর্থন যুগিয়ে যান আজীবন।

ইউরোপে ফুটবল সংস্কৃতির দিকে তাকালে দেখা যাবে এই সমর্থন ও সমর্থকেরাই টিকিয়ে রেখেছে ফুটবল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম জুড়ে চলে আসে নির্দিষ্ট কোনো দলের সমর্থন। কেউ বা বাবাকে দেখেছেন সমর্থন করতে। কারও বা জন্ম ও বেড়ে ওঠা নির্দিষ্ট শহরে যেখানে ফুটবল ক্লাব হাতে গোনা। ছোটবেলা থেকে তাদেরই সমর্থন করে চলা।

শহর বা এলাকা ভিত্তিক সমর্থকেরাই মূল ভিত্তি ইউরোপিয়ান ফুটবলের। লিভারপুল, ম্যানচেস্টার, মাদ্রিদ, মিলান, বার্সেলোনা কিংবা মিউনিখ এই শহরগুলোর পরিচয় বিশ্বজুড়ে এখন তাদের ফুটবল ক্লাবগুলোকে দিয়েই।

এই সমর্থকদের কথা না ভেবেই বা কিছু ক্ষেত্রে পাশ কাটিয়েই যখন ইউরোপের সেরা ১২টি ক্লাব চুক্তি করে ফেলে বিদ্রোহী এক টুর্নামেন্টের তখন তা আলোচনা- সমালোচনার ঝড় তুলবে সেটাই স্বাভাবিক। নতুন সুপার লিগ যাত্রার প্রাক্কালে ফুটবল ফ্যানদের কথা ভেবেছে কি না ক্লাবগুলো সেই প্রশ্ন তুলেছেন খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সুপার লিগে যোগ দেয়া ছয় ইংলিশ ক্লাবের সমালোচনা করে বরিস জনসন বলেন, ‘পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে ক্লাবগুলোকে তাদের সমর্থক ও ফুটবল কমিউনিটিকে জবাব দিতে হবে।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পর এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করেছে খোদ ইউয়েফা। তাদের চেয়ারম্যান আলেক্সান্ডার সেফেরিনের কাছে এই পদক্ষেপ ভক্তদের মুখে থুথু দেয়ার সমান।

‘আমার মতে এই পরিকল্পনা সমর্থক ও পুরো সমাজের মুখে থুতু দেয়ার মতো। আমরা কোনোভাবেই খেলাটিকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যেতে দেবো না।’

ক্লাব ও ইউয়েফা দ্বন্দ্বের শুরুটা কোথায় সেটা জানতে কিছুটা পেছাতে হবে।

ইউরোপের সেরা ক্লাব নির্ধারণ করার জন্যে ১৯৫৫ সালে শুরু হয় ইউরোপিয়ান কাপ। তবে এতে অংশগ্রহণ ছিল সীমিত। শুধু মাত্র চ্যাম্পিয়নরাই এতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেতো। আর টুর্নামেন্ট নক-আউট হওয়ায় খুব বেশি ম্যাচ খেলারও সুযোগ পেতো না ক্লাবগুলো।

১৯৯২ সালে ইউয়েফা বদলায় টুর্নামেন্টের নাম। অ্যাপিয়ারেন্স ফি ও প্রাইজমানি বাড়লেও দলের সংখ্যা রয়ে যায় আটে। পরের বছর সংখ্যা দ্বিগুণ হলেও বড় ক্লাবগুলো নাখোশ ছিল তাতেও। মূলত তখন থেকেই শুরু হয় সুপার লিগের পরিকল্পনা।

সেটি ঠেকাতে ১৯৯৭-৯৮ সালে ইউয়েফা বর্ধিত কলেবরে আয়োজন করে চ্যাম্পিয়নস। ১৬ দল থেকে করা হয় ২৪ দলের টুর্নামেন্ট। তারও দুই বছর পর ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে শুরু হয় ৩২ দলের আসর। যা এখনও টিকে আছে।

ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো বরাবরের দাবী ছিল বড় ক্লাবগুলো যেন লভ্যাংশ বেশি পায় যেহেতু তারাই টিভি রেটিং ও মাঠের দর্শককে বেশি আকর্ষণ করে। কিন্তু ইউয়েফা তাদের দাবিতে কান না দেয়ায় পরিকল্পনা করা হয় সুপার লিগের।

সুপার লিগে অংশ নিলে বাড়তি অর্থ সুবিধা পাবে দলগুলো এটা নিশ্চিত। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী আমেরিকান কোম্পানি জেপি মরগ্যান টুর্নামেন্টের জন্য বাজেট করেছে ছয় বিলিয়ন ডলার। আর ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কোম্পানি ডিএজিএন দিচ্ছে সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার। প্রতিটি দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য পাবে অন্তত ১২ কোটি ডলার। যেটি যেয়ে ঠেকতে পারে ৪৩ কোটি ডলারে।

এ ছাড়া লক্ষ্য করার মতো বিষয় ১২ ক্লাবের জোটের পাঁচটি ক্লাব আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম হটস্পার, মিলান ও ইন্টারনাৎসিওনাল গত এক দশকে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিয়মিত নয়। ঘরোয়া সাফল্যও কম পাচ্ছে এই দলগুলো।

বিশেষ করে ইংল্যান্ডের মাঝারি মানের দল আর্সেনাল, যারা সবশেষ লিগ জিতেছে ২০০৪ সালে ও কখনই চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেনি। তাদের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগের আশায় বসে না থেকে সুপার লিগে খেলার প্রস্তাবই ভালো।

কারণ, এই ১২টি ক্লাব সহ মোট ১৫টি ক্লাবকে করা হবে টুর্নামেন্টের স্থায়ী সদস্য। বাকি ৫টি ক্লাব নির্বাচন করা হবে ঘরোয়া লিগে পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে। ফলে, আর্সেনাল বা টটেনহ্যামের মতো অসফল কিন্তু জনপ্রিয় দলগুলোর সামনে সুযোগ নিশ্চিত ভাবে ১২ কোটি ডলার বাগানোর। সঙ্গে প্রতি মৌসুমের অন্যান্য আয় তো থাকছেই!

পাশাপাশি রয়েছে টিভি রেটিং ও স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির বিষয়ও। ১২টি বিশ্বের অন্যতম জিনপ্রিয় ক্লাব হওয়ার কারণে প্রায় সবসময়ই তাদের ম্যাচের রেটিং থাকে উচ্চ। তবে, যখন তারা নিচু সারির কোনো দলের বিপক্ষে খেলেন ও ওই একই সময়ে অন্য দেশের লিগে বড় কোনো খেলা হচ্ছে তখন রেটিং কমে যাবার সম্ভাবনা থাকে বৈকি!

উদাহরণ হিসবে বলা যায়, যদি লিগ ম্যাচে আর্সেনাল মুখোমুখি হয় ফুলহ্যামের আর অন্য চ্যানেলে যদি থাকে মিলান বনাম ইউভেন্তাস লড়াই, বৈশ্বিক বাজারে দ্বিতীয়টিরই চাহিদা বেশি থাকবে সন্দেহ নেই।

এ ছাড়া এই ১২টি ক্লাবের স্টেডিয়ামগুলোও বিরাট। অন্তত ৭০ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুয়ে ধরে প্রায় এক লাখ (৯৯ হাজার ৫০০)। এমন কোনো দল যখন চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে যায় বেলারুশের বাতে বরিসভের ১৩ হাজার ধারণক্ষমতার মাঠে, তখন টিকিট বিক্রি থেকে থেকে পাওয়া লভ্যাংশের পরিমাণ নিয়ে দুশ্চিন্তা করাটাই স্বাভাবিক তাদের জন্যে।

মোটা দাগে এই সব বিষয়গুলোই চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার প্রতি অনাগ্রহ সৃষ্টি করে ক্লাবগুলোর মধ্যে। সুপার লিগ হলে প্রতি সপ্তাহেই থাকবে ব্লকবাস্টার সব ম্যাচ। স্পনসররা ঝাপিয়ে পড়বেন, দর্শকে টইটুম্বুর হয়ে থাকবে গ্যালারি এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

তবে, এতো পরিকল্পনা ও অর্থকড়ির ঝনঝনানিতে ক্লাবগুলো ভুলে গেছে ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের কথা। সমর্থক। শুরুতে যেমনটা বলা হয়েছে, সেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের ভক্তদের কথা ভাবতে হবে ক্লাবগুলোকে সবার আগে। ভাবতে হবে তাদের সংস্কৃতি ও চিরকালীন অভ্যাসের কথা।

যে অভ্যাসে তারা প্রতি উইকেন্ডে ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী-বান্ধবী-বন্ধুকে নিয়ে যান মাঠে। ম্যাচ শেষ দলের জয়ে একান থেকে ওকান হাসি নিয়ে ফেরেন, প্রতিপক্ষ সমর্থকদের দু’কথা শোনাতে শোনাতে। লোকাল ডার্বিগুলো এখনও সমর্থকদের দেয় ‘ব্র্যাগিং রাইটস’।

ইউয়েফা এরই মধ্যে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। বলেছে সুপারলিগের দলগুলোকে তারা খেলতে দেবে না ঘরোয়া লিগ ও অন্য মহাদেশিয় আসরগুলোতে। নিষিদ্ধ হবেন ফুটবলাররা।

এই কারণেই ভক্তরা সুপার লিগ চাচ্ছেন না। তাদের ভয় ক্লাবগুলো ঘরোয়া ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে ও শুধুমাত্র খেলবে সুপারলিগে। নিষেধাজ্ঞার পরও থামবে না তাদের সেই নতুন ‘পয়সা বানানোর মেশিন’।

ভক্তদের ক্ষোভটা বোঝা গেছে তাদের প্রতিক্রিয়াতেই। ইংল্যান্ডের ছয়টি ক্লাবের সমর্থকেরা ক্লাবের সামনে ঝুলিয়ে দিয়েছেন নানা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। কোনোটাতে লেখা ‘গরীবদের থেকে ছিনিয়ে ধনীদের জন্য’, কোনোটাতে ‘ধিক্কার তোমাদের’।

সার্বজনীনতার কারণে ফুটবলকে ডাকা হয় দ্য বিউটিফুল গেইম। ভিয়া ফিয়োরিতার দিয়েগো মারাদোনা কিংবা আলজেরিয়ান ইমিগ্র্যান্ট জিনেদিন জিদান দোলা দেন ধনী গরীব নির্বিশেষে সকল সমর্থকের মনে। সুপার লিগ যদি জয় করতে পারে এই সমর্থকদের মন তাহলেই একমাত্র ইউয়েফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেও সাফল্য পাওয়া সম্ভব।

আর যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে যেয়ে শুধুমাত্র টিভি রেটিং, বিজ্ঞাপণ ও মার্চেন্ডাইসিং-এ মনোযোগী হয় নতুন এই লিগ তাহলে হয়তো পুরনো সমর্থকদের ভুলে নতুনদের আকর্ষণ করার পরিকল্পনা আঁটতে হবে ক্লাবগুলোকে।

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন

হারানো প্রিয়জনদের নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস সোহেলের

হারানো প্রিয়জনদের নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস সোহেলের

ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর বাইক দুর্ঘটনায় দুই প্রিয়জনকে হারান সোহেল। এরপর নিজেকে সামলে আবারও ফুটবলে ফিরেছেন। সেসময় শেখ রাসেল থেকে ঢাকা আবাহনীতে নাম লেখান। আসন্ন এএফসি কাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের সঙ্গে। আছেন ক্লাবের আবাসিক ক্যাম্পে।

সাজানো সংসার ছিল তখন। প্রায় আড়াই বছর আগে একমাত্র ছেলে ও সহধর্মিনী ঝুমা খাতুনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জে ফিরছিলেন ঢাকা আবাহনীর মিডফিল্ডার সোহেল রানা। এক দুর্ঘটনায় নিমিষেই চোখের সামনে দুই প্রিয়জনকে হারাতে দেখেছেন এই ফুটবলার। এই ঘটনা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে।

হারানো এই প্রিয়জনদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনভূতির কথাগুলো জানান সোহেল।

ছেলে আর স্ত্রীর মৃত্যু কখনই মেনে নেয়া সম্ভব না উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘আজ বিশ্বব্যাপী যে মহামারীর ভয়াবহতা চলছে, হয়তো তা একদিন থেমে যাবে। এর মধ্যেই কেউ হারাবে প্রিয়জন, আবার কেউবা হারাবে স্বজন। সত্যিকার অর্থে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারি কিন্তু কিছু অস্বাভাবিক মৃত্যু আমরা কখনই মেনে নিতে পারি না।

‘হয়তো কিছু দিন পর পৃথিবীটা আবার আগের মতই শান্ত হবে কিন্তু এই প্রিয়জন হারানোর কষ্টটা তাদের বয়ে বেড়াতেই হবে।’

২০১৮ সালের ২৪ নভেম্বর বাইক দুর্ঘটনায় দুই প্রিয়জনকে হারান সোহেল। এরপর নিজেকে সামলে আবারও ফুটবলে ফিরেছেন। সেসময় শেখ রাসেল থেকে ঢাকা আবাহনীতে নাম লেখান। আসন্ন এএফসি কাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দলের সঙ্গে। আছেন ক্লাবের আবাসিক ক্যাম্পে।

দেশের করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর রেকর্ড ছাড়াচ্ছে। এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সবার সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

লেখেন, ‘দোয়া করি দ্রুতই পৃথিবী শান্ত হোক এবং ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মানুষ। সবাই সুস্থভাবে জীবনযাপন করুন এই কামনাই করি।’

আর কবরে চিরজীবনের জন্য শুয়ে থাকা দুই প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘আমিও ভাল আছি এবং তুমিও ভাল থেকো প্রিয়।’

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন

‘এটা ফুটবল সমর্থকদের মুখে থুতু দেয়ার মতো ঘটনা’

‘এটা ফুটবল সমর্থকদের মুখে থুতু দেয়ার মতো ঘটনা’

সাবেক ও বর্তমান ফুটবলার, ভক্ত-সমর্থক ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পর তাদের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা করেছে ইউয়েফা। তাদের চেয়ারম্যান আলেক্সান্ডার সেফেরিনের কাছে এই পদক্ষেপ ভক্তদের মুখে থুতু দেয়ার শামিল।

ঘোষণা আসার পর থেকেই তোপের মুখে পড়েছে ইউরোপিয়ান সুপার লিগ। রোববার এই লিগের ঘোষণা দেয় ইংল্যান্ডের ছয় শীর্ষ ক্লাব। এরপর এতে যোগ হয় স্পেন ও ইতালির তিন ক্লাব।

দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলো মহাদেশের সেরা প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানাচ্ছিল ইউরোপিয়ান ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ইউয়েফাকে।

তাদের দাবি ছিল বড় ক্লাবগুলো যেন লভ্যাংশ বেশি পায়। কারণ তারাই টিভি রেটিং ও মাঠের দর্শককে বেশি আকর্ষণ করে। কিন্তু ইউয়েফা তাদের দাবিতে কান না দেয়ায় ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের বেশ কয়েকটি ক্লাব মিলে পরিকল্পনা করে সুপার লিগের।

সাবেক ও বর্তমান ফুটবলার, ভক্ত-সমর্থক ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পর তাদের এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউয়েফা। তাদের চেয়ারম্যান আলেক্সান্ডার সেফেরিনের কাছে এই পদক্ষেপ ভক্তদের মুখে থুতু দেয়ার শামিল।

‘আমার মতে এই পরিকল্পনা সমর্থক ও পুরো সমাজের মুখে থুতু দেয়ার মতো। আমরা কোনোভাবেই খেলাটিকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যেতে দেবো না।’

সেফেরিনের মতে, দলগুলো শুধু অর্থলোভী হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নির্দিষ্ট কিছু ক্লাব লোভের বশবর্তী হয়ে স্বার্থপরের মতো যে অপমানজনক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে ইউয়েফা ও পুরো ফুটবল বিশ্বকে এক হয়ে দাঁড়াতে হবে।’

ইউয়েফা সভাপতি আরও জানান, এরই মধ্যে ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো ও ফিফা তাদের সমর্থন দিয়েছে।

‘শুধু ফুটবল, কমিউনিটি ও সরকারগুলোই এর বিরোধিতা করছে তা নয়, আমরা সবাই এর বিরুদ্ধে। ইংলিশ এফএ, স্প্যানিশ ও ইতালিয়ান ফেডারেশন ও ৫৫টি সদস্য ফেডারেশন সম্পূর্ণভাবে এর বিরোধিতা করছে।’

সোমবার ইউয়েফার এক বিশেষ সভা শেষে সেফেরিন জানান, সুপার লিগে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের বিপক্ষেও কড়া পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত সংস্থাটি।

‘খেলাধুলার ক্ষেত্রে ও আইনিভাবে এই লিগকে রুখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। ফিফা ও এর ছয়টি কনফেডারেশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ঘরোয়া, ইউরোপিয়ান ও বৈশ্বিক যেকোনো প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে তাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে খেলা থেকে বিরত রাখা হবে।’

তেমনটা হলে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ বিশ্ব ক্লাব কাপসহ সব ধরনের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা হারাবে দলগুলো।

একই সঙ্গে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো, পল পগবাদের মতো তারকারা সুযোগ হারাতে পারেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেয়ার। তবে সিদ্ধান্তগুলো এখনও চূড়ান্ত নয়।

ফিফা ও ইউয়েফাকে দেয়া এক চিঠিতে সুপার লিগ কর্তৃপক্ষ (যার প্রধান রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস) জানায়, তারা ফিফা ও ইউয়েফার সঙ্গে আলোচনায় বসবে শিগগিরই।

‘আমরা শঙ্কিত যে এই চিঠির উত্তরে ফিফা ও ইউয়েফা অংশগ্রহণকারী ক্লাব ও খেলোয়াড়দের সংস্থা দুটি আয়োজিত ও অনুমোদিত সব আসর থেকে বর্জন করার শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। আশা করি তাদের জবাব এমনটা হবে না। আমাদের মতো আপনারাও সুপার লিগ কোম্পানি গঠনের তাৎক্ষণিক সুফল অনুধাবন করতে পারবেন।’

সুপার লিগ আরও জানায়, তারা এরই মধ্যে আদালতে প্রয়োজনীয় আবেদন করেছে যাতে করে তাদের আসরকে থামানোর উদ্যোগ সফল না হয়।

আরও পড়ুন:
সাবেক বার্সেলোনা সভাপতি বার্তোমিউ গ্রেফতার
মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়
‘মেসি একাই সব করতে পারবে না’

শেয়ার করুন