পুলিশের দুর্দান্ত কামব্যাকে পয়েন্ট খোয়াল জামাল

তিন তিনবার পিছিয়ে দারুণ কামব্যাকে জামালের সঙ্গে ড্র করে বাংলাদেশ পুলিশ

পুলিশের দুর্দান্ত কামব্যাকে পয়েন্ট খোয়াল জামাল

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার দশম রাউন্ডের ৩-৩ গোলের রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে শেখ জামাল-পুলিশ ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

প্রিমিয়ার লিগের প্রথম পর্বে জায়ান্ট বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছিল শেখ জামাল। হঠাতই যেন ছন্দপতন। প্রথম পাঁচ ম্যাচে জয় পাওয়া দলটি পরে টানা চার ম্যাচে পয়েন্ট খুইয়েছে। দুর্দান্ত কামব্যাকে শেখ জামালকে রুখে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার দশম রাউন্ডের ৩-৩ গোলের রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে শেখ জামাল-পুলিশ ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

দারুণ একটা ম্যাচ উপহার দিয়েছে দুই দল। একবার জামাল এগিয়ে যায়তো পরমুহূর্তে সমতায় ফেরে পুলিশ।

আধিপত্য বিরাজ করে ম্যাচের ১০ মিনিটে এগিয়ে যায় শেখ জামাল। মিডফিল্ডার সুলায়মান সিল্লাহর পাস থেকে পুলিশের গোলকিপার জিয়াকে চিপ করে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান নাম্বার নাইন পা ওমর জবে।

এবার ৩৩ মিনিটে দারুণভাবে ম্যাচে পুলিশ। প্রায় ৪০ গজ দূর থেকে ফ্রি-কিকে বুলেট শটে বল জালে জড়ান আখমেদভ।

ম্যাচের ৪০ মিনিটের আবারও লিড নেয় শফিকুল ইসলাম মানিকের শিষ্যরা।

পুলিশের রক্ষণভাগের ভুলে ডি-বক্সের ভেতর থেকে গোল করে বসেন জামালের মিডফিল্ডার ওটাবেক ভালিদজানোভ। ২-১ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যেতে পারত ধানমন্ডির জায়ান্টরা।

তা আর হতে দেয়নি পাকের আলীর দল পুলিশ। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচে ফেরে তারা। স্বাধীনের পাস থেকে গোলকিপার জিয়াকে বোকা বানিয়ে বাম কোনা দিয়ে বুলেট শটে বল জালে পাঠান ফেদেরিক পুডা।

বিরতি থেকে ফিরে সলোমন কনফর্মের গোলে তৃতীয়বারের মতো লিড নেয় শেখ জামাল। সুলেমান সিল্লাহর বারে লেগে ফিরে এলে বল জালে জড়ান এই গাম্বিয়ান।

লিডে থাকার স্বস্তিও বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি জামাল। ৬৯ মিনিটে আবারও সমতায় ফেরে পুলিশ। কর্নার থেকে বল ডি-বক্সের জটলায় পড়লে সেখান থেকে স্লাইড শটে বল জালে জড়ান মোহাম্মদ জুয়েল।

বাকী সময় অ্যাটাক-কাউন্টার অ্যাটাকে ভরপুর ম্যাচটায় কোনো গোলের দেখা না পেলে ৩-৩ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

এ ড্রয়ে টানা চার ম্যাচে পয়েন্ট খোয়াল শেখ জামাল। ৯ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে অবস্থান করছে তারা। এক ম্যাচ বেশি খেলে ২২ পয়েন্ট নিয়ে আবাহনী আছে দুইয়ে। আর নয় ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে আটে পুলিশ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আবাহনীকে উড়িয়ে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল কিংস

আবাহনীকে উড়িয়ে শীর্ষস্থান আরও পাকাপোক্ত করল কিংস

ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববার আবাহনীকে রীতিমত ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল কিংস। আর্জেন্টাইন রাউল বেসেরার জোড়া গোলের ঝলকের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ও রবসন রবিনহোর দুর্দান্ত ফুটবল নৈপুণ্য বড় জয় এনে দিয়েছে অস্কার ব্রুজনকে। এ জয়ে শিরোপা দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেল কিংস।

চলতি প্রিমিয়ার লিগের দুই অপরাজিত হেভিওয়েট দলের ম্যাচ। শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকা দুই দলের ম্যাচ। অপ্রতিরোধ্য বসুন্ধরা কিংসের সামনে অপরাজিত ঢাকা আবাহনীর হাইভোল্টেজ ম্যাচটা যে এমন একতরফা হবে তা ভুলেও হয়তো মাথায় আনবে না কেউ। বলতে গেলে আবাহনীকে দাঁড়াতেই দিল না কিংস।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববার আবাহনীকে রীতিমত ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল কিংস। এ ম্যাচেও অনুমেয় লাতিন আমেরিকার জাদু দেখেছে ফুটবল সমর্থকরা।

আর্জেন্টাইন রাউল বেসেরার জোড়া গোলের ঝলকের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ও রবসন রবিনহোর দুর্দান্ত ফুটবল নৈপুণ্য বড় জয় এনে দিয়েছে অস্কার ব্রুজনকে। এ জয়ে শিরোপা দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে গেল কিংস।

ম্যাচের ১৮ মিনিটে লাতিন জাদুতে এগিয়ে যায় কিংস। ডি-বক্সের ভেতরে ডান প্রান্ত থেকে বাঁ পায়ে দারুণ শট নেন রবসন রবিনিয়ো। শটটা বারে লেগে ফিরে আসার সময় আলতো টোকায় বল জালে জড়ান রাউল বেসেরা।

সাত মিনিট পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কিংস। এবার কর্নার থেকে রবসনের কিকটা দারুণভাবে ব্যাকহিল করেন ডিফেন্ডার খালেদ শাফিহ। গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেলকে ফাঁকি দিয়ে শটটা গোললাইন ক্রস করে। অবশ্য বলটাকে ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন সোহেল। ফলে ২-০ ব্যবধান করে ফেলে লিগ টপাররা।

দুই গোলের লিডের স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় কিংস।

দ্বিতীয়ার্ধেও যেন আরও ক্ষীপ্র হয়ে ওঠে কিংস। আবাহনীর রক্ষণে আক্রমণের পসরা সাজিয়ে ব্যবধান মুহূর্তেই ৪-০ করে ফেলে অস্কার ব্রুজনের শিষ্যরা।

ম্যাচের ৫১ মিনিটে বেসেরার বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন জোনাথন ফার্নান্দেজ। সামনে একমাত্র গোলকিপার সোহেল ছাড়া কেউ না থাকায় ঠান্ডা মাথায় বামে বল ঠেলে জালে জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান।

তিন গোলের লিডকেও যথেষ্ট মনে করেনি কিংস। প্রতিপক্ষ আবাহনী বলেই কি না বল দখলের লড়াইটা নিজেদের দখলে রেখে হালি গোল পূর্ণ করে তারা। এবার ম্যাচের ৭৬ মিনিটে জোনাথনের পাস থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করে ফেলেন রাউল বেসেরা। তার জোড়া গোলেই আবাহনীর বড় হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

ম্যাচে ফিরতে একটু বেশি বিলম্বই করে ফেলে মারিও লেমসের আবাহনী। ৮১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আকাশী-হলুদদের সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন কারভেন্স বেলফোর্ট।

এ জয়ে লিগে অপরাজিত থাকার ধারাটাও অব্যাহত রাখল কিংস। টানা চার ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ব্রুজনের শিষ্যরা। অন্যদিকে লিগে অপরাজিত থাকা হলো না আবাহনীর। কিংসের কাছে লিগে প্রথম হারের স্বাদ পেতে হয় জায়ান্টদের।

এ জয়ে লিগের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থান আরো পাকাপোক্ত করে ফেলল বসুন্ধরা কিংস। ১২ ম্যাচে ১১ জয় ও এক ড্রয়ে কিংসের পয়েন্ট ৩৪। এক ম্যাচ কম খেলা আবাহনীর পয়েন্ট ২২। লিগ টাইটেলের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল কিংস।

শেয়ার করুন

শেখ রাসেলকে চমকে প্রথম জয় বারিধারার

শেখ রাসেলকে চমকে প্রথম জয় বারিধারার

ফাইল ছবি

টঙ্গীর শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে রোববার বিকেলে ১০ রাউন্ডের ম্যাচে এক গোলে এগিয়ে থেকেও বারিধারার কাছে ২-১ গোলে হারে শেখ রাসেল। দারুণ কামব্যাকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বারিধারা।

লিগে কোনো জয়ের দেখা না পাওয়া উত্তর বারিধারা উপহার দিল দারুণ চমক। হেভিওয়েট শেখ রাসেলকে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দিকে থাকা দলটি।

টঙ্গীর শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে রোববার বিকেলে দশম রাউন্ডের ম্যাচে এগিয়ে যাবার পরও বারিধারার কাছে ২-১ গোলে হারে শেখ রাসেল। দারুণ কামব্যাকে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বারিধারা।

প্রথম পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত থাকা শেখ রাসেলের এটা লিগের চতুর্থ হার। এর আগে লিগে শেখ জামালের কাছে প্রথমবার হারের স্বাদ পায় সাইফুল বারী টিটুর শিষ্যরা।

আর শেখ জাহিদুর রহমানের বারিধারা ছিল প্রথম জয়ের অপেক্ষায়। সেই অপেক্ষার অবসান যে এমন দুর্দান্ত কামব্যাকে হবে তাও শেখ রাসেলের মতো দলের বিপক্ষে, সেটা অনুমান করা যায়নি।

টঙ্গীতে প্রথম জয়ের দেখা পায় তারা।

ম্যাচের ১৫ মিনিটেই লিড নেয় শেখ রাসেল। গোল করে দলকে দারুণ শুরু এনে দেন খন্দকার আশরাফুল ইসলাম। লিডের স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় রাসেল।

ফিরেই সব হিসাব ওলট-পালট করে দেয় বারিধারা। দ্বিতীয়ার্ধে নেমে দুই মিনিটের মধ্যে মোহাম্মদ সাইদের গোলে সমতায় ফেরে তারা (১-১)।
অপেক্ষা শুরু হয় জয়সূচক গোলের।

ম্যাচের ৭৪ মিনিটে কোচনেভের পাস থেকে বল জালে জড়ান পাপন সিং (২-১)। জয় নিশ্চিত করার জন্য এই গোলই শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়।

ম্যাচে আর ফেরা হয়নি টিটু বাহিনীর। লিগে প্রথম জয়ের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ত্যাগ করে বারিধারা। আর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারের স্বাদ নিয়ে ফিরতে হয় রাসেলকে।

এ জয়ে দুই ধাপ এগিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৯-এ উঠে এসেছে বারিধারা। ১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট অর্জন করেছে তারা। অন্যদিকে হারে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে চারে অবস্থান করছে শেখ রাসেল।

শেয়ার করুন

‘ইউভেন্তাসের উচিত হয়নি রোনালডোকে নেয়া ’

‘ইউভেন্তাসের উচিত হয়নি রোনালডোকে নেয়া ’

কাসানোর সমালোচনা এসেছে শনিবার রাতে ভেরোনার বিপক্ষে ইউভেন্তাস পয়েন্ট খোয়ানোর পর। ভেরোনার মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে চ্যাম্পিয়নরা।

তিন বছর আগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো যখন মাদ্রিদ থেকে তুরিনে পা দেন তখন তার উদ্দেশ্য একটাই; ইউভেন্তাসের হয়ে ইউরোপ সেরা টুর্নামেন্ট ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ‘মিস্টার চ্যাম্পিয়নস লিগ’ রোনালডোকে রিয়াল মাদ্রিদ থেক ১০ কোটি ইউরো দিয়ে দলে টানার পেছনে সেটাই ছিল ইতালিয়ান জায়ান্টদের স্বপ্ন।

তবে, এত অর্থ খরচ করে পর্তুগিজ মহাতারকাকে দলে টানা উচিত হয়নি ইউভের এমনটা মন্তব্য সাবেক ইতালিয়ান ফরোয়ার্ড আন্তোনিও কাসানোর।

‘ইউভেন্তাস তাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার জন্য সই করিয়েছিল। তাকে নিয়ে তারা আরও খারাপ করেছে। ওকে ছাড়াই ইউভে সেরি আ জিততো। প্রজেক্টটাই ভুল ছিল’

কাসানোর কথায় যুক্তি অবশ্য আছে। রোনালডো আসার আগে টানা সাতবার ইতালিয়ান লিগের চ্যাম্পিয়ন ছিল ইউভেন্তাস। তাকে নিয়ে লিগ জিতেছে দুইবার। তবে মূল লক্ষ্য চ্যাম্পিয়নস লিগ এখনও অধরাই তাদের। ক্রীড়া বিষয়ক ইতালিয়ান দৈনিক কোরিয়ের দেল্লো স্পোর্তকে কাসানো বলেন, রোনালডো যেখানেই যাবেন গোল করবেন কিন্তু খেলার অন্যান্য অনুষঙ্গে তার অংশগ্রহণ কম।

‘যত কিছুই হোক সে গোল করবেই। কারণ, সে জানে কীভাবে গোল করতে হয়। ও সাধারণত বক্সের বাঁ দিক থেকে ঢুকে ডান পায়ে শট নেয়। তার হেডারগুলো অসাধারণ। কিন্তু কোচ পিরলো যখন খেলা বিল্ড আপ করতে চায় বা প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় তখন ক্রিস্টিয়ানোকে খুব একটা কাজে লাগানো যায় না।’

কাসানোর সমালোচনা এসেছে শনিবার রাতে ভেরোনার বিপক্ষে ইউভেন্তাস পয়েন্ট খোয়ানোর পর। ভেরোনার মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের ৪৯ মিনিটে রোনালডোর গোলে লিড নেয়ার আধঘণ্টার মধ্যে আন্তোনিন বারাক সমতা এনে দেন ঘরের দলকে। ফলে, এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইউভেন্তাসকে।

ড্রয়ের ফলে শীর্ষে থাকা ইন্টারনাৎসিওনালের চেয়ে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে আছে ইউভে। ২৩ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের তিনে। সমান ম্যাচে ইন্টারের ঝুলিতে ৫৩ পয়েন্ট। আর দুইয়ে থাকা এসি মিলান সংগ্রহ করেছে ৪৯।

শেয়ার করুন

ধারাবাহিকতাকে মানসিক সমস্যা বললেন পচেত্তিনো

ধারাবাহিকতাকে মানসিক সমস্যা বললেন পচেত্তিনো

পচেত্তিনোর অধীনে ১০টি লিগ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জয় ও দুটিতে হেরেছে প্যারিসের জায়ান্টরা। এই মৌসুমে তাদের আর অজেয় মনে হচ্ছে না। পচেত্তিনোও স্বীকার করছেন দলে ধারাবাহিকতার সমস্যা রয়েছে।

কিলিয়ান এমবাপের দুই গোলে লিগ ওয়ানের তলানির দল দিঁজকে ৪-০ ব্যাবধানে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি)। এমবাপের ১৭ ও ১৮ নম্বর গোলে শীর্ষে থাকা লিলের উপর চাপ সৃষ্টি করল চ্যাম্পিয়নরা।

দিঁজর মাঠে মরিসিও পচেত্তিনোর দলের হয়ে বাকি দুই গোল করেছেন মোয়েস কিন ও দানিলো পেরেইরা। নিজেদের শেষ ম্যাচে মোনাকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে যাওয়া পিএসজি জয়ে ফেরায় সন্তুষ্ট পচেত্তিনো। ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘সত্যিই দারুন গর্বিত। অত্যন্ত পেশাদার ম্যাচ খেলেছি। জয়ের ধারায় ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

পরের ম্যাচে বুধবার বর্দো সফরে যাবে পিএসজি। পচেত্তিনোর অধীনে ১০টি লিগ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জয় ও দুটিতে হেরেছে প্যারিসের জায়ান্টরা। এই মৌসুমে তাদের আর অজেয় মনে হচ্ছে না। পচেত্তিনোও স্বীকার করছেন দলে ধারাবাহিকতার সমস্যা রয়েছে।

‘দলটির লিগে আরও ধারাবাহিকতা দেখানো উচিত। অবশ্যই এটা একটি মানসিক বিষয়। কিন্তু একইসাথে শারিরীক। সব মিলিয়ে দিনের শেষে ভাল পারমেন্সই দুই দলের পার্থক্য গড়ে দেয়।’

বোর্দোর বিপক্ষে ম্যাচে তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারকে ফিরে পাবেন কি না পচেত্তিনো সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। টানা চতুর্থ ম্যাচে কুঁচকির ইনজুরির কারনে মাঠে ছিলেন না বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার।

ব্যক্তিগত অনুশীলনে ফিরলেও দলের পুর্ণাঙ্গ অনুশীলনে এখনও যোগ দেননি তিনি। ইনজুরির কারণে পিএসজি স্কোয়াডে আরও নেই হুয়ান বারনাত, আনহেল দি মারিয়া, মার্কো ভেরাত্তি, মাউরো ইকার্দি, লিয়ান্দ্রো পারদেস ও আলেসান্দ্রো ফ্লোরেঞ্জি খেলতে পারেননি।

এতজন নিয়মিত তারকা না থাকার পরও আত্মবিশ্বাসী পচেত্তিনো। খেলোয়াড় না থাকায় সমস্যা হচ্ছে না এই আর্জেন্টাইন ট্যাকটিশিয়ানের।

‘আমাদের দলটি বেশ বড়। সকলেরই নিজেদের জায়গা শক্তিশালী করার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে।’

রাতের জয়ের পর ২৭ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট পিএসজির। ২৬ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে লিল। সমান ম্যাচ খেলা অলিম্পিক লিঁও ৫৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তিন নম্বরে আছে।

শেয়ার করুন

মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়

মেসিতে ভর করে সেভিয়ার মাঠে বার্সার জয়

উদযাপনে বার্সেলোনা। ছবি: এফসি বার্সেলোনা

অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও উসমান ডেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে ঘরে ফিরছে বার্সেলোনা। এই জয় দিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে রোনাল্ড ক্যুমানের শিষ্যরা।

আড়াই সপ্তাহ আগে সেভিয়ার মাঠে এসে কোপা দেল রে এর ম্যাচে ২-০ গোলের হার মানতে হয় বার্সেলোনাকে। ঠিক ১৭ দিন পর লা লিগার ম্যাচের জন্য সেভিয়ার মাঠে কাতালানরা ফেরে শনিবার। এবার অবশ্য ভুল করেনি তারা।

অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও উসমান ডেম্বেলের গোলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে ঘরে ফিরছে বার্সেলোনা। এই জয় দিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে উঠে এসেছে রোনাল্ড কুমানের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই সেভিয়াকে চাপে রাখে বার্সেলোনা। প্রথম ২৫ মিনিটে হয়নি উল্লেখযোগ্য কিছু।

২৯তম মিনিটে গিয়ে মাঝমাঠে বল পেয়ে দারুণ এক পাসে ডেম্বেলেকে খুঁজে নেন মেসি। সেভিয়া গোলকিপার বোনোর পায়ের মাঝখান দিয়ে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি এই ফরাসি উইঙ্গার।

ডেম্বেলের এই গোলে লা লিগায় পাঁচ ম্যাচ পরে প্রথম গোল হজম করে সেভিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশ কিছু সুযোগ পায় বার্সা। কিন্তু সার্জিনিয়ো ডেস্টের শট ফিরে আসে বারে লেগে। এরপর ডেম্বেলের পাস থেকে মেসি বল মারেন বারের বেশ ওপর দিয়ে।

চাপ বাড়াতে থাকে সেভিয়াও। লিগ জয়ের দৌড়ে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয় ছাড়া কোনো উপায় ছিল না দুই দলেরই। তার উপর সপ্তাহখানেক আগেই কাদিসের সঙ্গে সুযোগ নষ্ট করে পয়েন্ট হারানো বার্সেলোনার মনে ভয় ছিল পয়েন্ট খোয়ানোর।

সেটি যেন না হয়, তা নিশ্চিত করেন মেসি। ১৮ বছর বয়সী ইলাইশ মরিবার পাস থেকে বল পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি এই আর্জেন্টাইন। তার গোলেই নিশ্চিত হয় বার্সার জয়।

এটি ছিল মেসির লিগে ১৯তম গোল। লা লিগার গোলদাতাদের তালিকার শীর্ষে আছেন বার্সা অধিনায়ক।

সব ভালোর ম্যাচেও বিপদের শঙ্কায় বার্সেলোনা। চোট পেয়ে ৭১ মিনিটে মাঠ ছাড়তে হয় পেদ্রিকে। আর চোট থেকে ফেরা রোনাল্ড আরাউহো খেলতে পারেন মাত্র ১৩ মিনিট। আবারও চোটে পড়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

এই জয়ে ২৫ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগা পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচ কম খেলে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

এক ম্যাচ কম খেলে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ আছে তিন নম্বরে। ২৪ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে সেভিয়া।

শেয়ার করুন

চার মৌসুমে আট কোচ সাইফের

চার মৌসুমে আট কোচ সাইফের

চলতি লিগে সাইফের ডাগ আউটে পল পুট। ছবি: সাইফ স্পোর্টিং

২০১৬ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের শিরোপা ঘরে তুলে প্রিমিয়ার লিগে উঠে সাইফ। ২০১৭ সাল থেকে চলতি লিগ পর্যন্ত মোট আট কোচ সাইফের ডাগ আউটে দাঁড়ান। সবশেষ ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ পল পুটকে বিদায় বলেছে সাইফ।

ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ পল পুটকে বিদায় বলেছে প্রিমিয়ার লিগের দল সাইফ। লিগে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে এই বেলজিয়ান কোচকে সমঝোতায় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। পুটের চলে যাওয়ায় সাইফের ডাগ আউট থেকে বিদায় নেয়া কোচের তালিকাটা বড় হলো আরেকবার।

চার মৌসুমে আট কোচকে বদলিয়েছে সাইফের ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের শিরোপা ঘরে তুলে প্রিমিয়ার লিগে ওঠে সাইফ। ২০১৭ সাল থেকে চলতি লিগ পর্যন্ত মোট আট কোচ সাইফের ডাগ আউটে দাঁড়ান।

প্রিমিয়ার লিগের প্রথম মৌসুমে সার্বিয়ান নিকোলা কারায়োভিচকে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয় সাইফ।

নিকোলার অধীনে ১৪ ম্যাচে ছয়টিতে জেতে সাইফ। কোনো ম্যাচ না হেরে আটটিতে ড্র করে দল। ৪২ শতাংশ সফলতার হার এই সার্বিয়ানের। এরপর ব্রিটিশ কোচ ক্রিম গ্রান্ডের অধীনে ১৩ ম্যাচে ছয়টিতে জেতে দল। সঙ্গে যোগ হয় পাঁচটি ড্র ও দুই হার। সফলতার হার ৪৬ শতাংশ।

এই ব্রিটিশ কোচের বিদায়ের পর একই দেশের কোচ রায়ান নর্থমোরেকে দায়িত্ব দেয় সাইফ। রায়ানের অধীনে ১৫ ম্যাচে পাঁচটিতে জয় ছয়টিতে ড্র ও চার ম্যাচে হারে সাইফ। সফলতার হার ৩৩ শতাংশ।

তিন মাসেই তিনি বিদায় নিলে তার জায়গায় দায়িত্ব পান ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট হল। মাত্র ২ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে বিদায় নেন তিনি। দুটিতেই জয় পান। এরপরে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জোনাথন ম্যাকেন্সট্রিকে দায়িত্ব দেয় সাইফ।

ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার অধীনে মোট ২৭টি ম্যাচ খেলে সাইফ। ১৫ জয়ের পাশাপাশি পাঁচ ম্যাচে ড্র ও সাতটিতে হারের স্বাদ পান এই কোচ। সফলতার হার ৫৫ শতাংশ।

তার বিদায়ের পর মোহাম্মেদ মিজামকে কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়। মাত্র তিন ম্যাচেই শেষ হয় তার সাইফ ক্যারিয়ার। একটি জয়, এক ড্র ও এক হারে এই অধ্যায়ের সমাপ্তি হলে ক্রোয়েশিয়ান বর্ষিয়ান কোচ দ্রাগো মামিচকে নিয়োগ দেয় সাইফ। তার অধীনে ছয় ম্যাচে তিন জয়, দুই ড্র একটি হার পায় সাইফ। সফলতার হার ৫০ শতাংশ।

ডিফেন্ডার রিয়াদুল হাসান রাফিকে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড পরিয়ে দিচ্ছেন পল পুট

মামিচ অধ্যায়ের সমাপ্তির পর গত বছরের অক্টোবরে নিয়োগ দেয়া হয় বেলজিয়ান কোচ পল ‍পুটকে। তার অধীনে সবচেয়ে সফল সাইফ। ১৬ ম্যাচে দশটিতে জয়। একটি ড্র ও পাঁচ হারের পর তাকেও বিদায় বলা হয়।

অন্তত পাঁচ ম্যাচে ডাগ আউটে ছিলেন এমন কোচের তালিকায় সবচেয়ে সফল কোচ ছিলেন পল পুট। তার অধীনে ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবার ফেডারেশন কাপের ফাইনালে খেলে সাইফ। তার সফলতার হার হলো ৬২ শতাংশ।

তার অবর্তমানে দলের আপদকালীন প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী কোচ জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। আর দুই ম্যাচ পর শেষ হবে লিগের প্রথম পর্বের খেলা। এর পর দ্বিতীয় পর্বের আগে আরেকজন বিদেশি কোচ নিয়োগ দেয়ার কথা ভাবছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

সাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিরউদ্দীন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রথম লেগে আর দুই ম্যাচ রয়েছে। মধ্যবর্তী দলবদল শেষে দ্বিতীয় লেগ শুরু হতে সময় লাগবে। একটু ধীরে সুস্থেই কোচ খুঁজব।’

শেয়ার করুন

বিশ্বকাপ বাছাই অনিশ্চিত জীবনের

বিশ্বকাপ বাছাই অনিশ্চিত জীবনের

লিগে এক ম্যাচ খেলার পর চোটের কারণে মাঠের বাইরে নবীব নেওয়াজ জীবন। ছবি: সংগৃহিত

এই ইনজুরিতেই অনিশ্চয়তায় আরও চার মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে জীবনকে। ফলে সামনের মার্চ-জুনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে জাতীয় দলের হয়ে খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এই স্ট্রাইকারের।

গত বছর নভেম্বরে নেপালের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে লিগামেন্টে চোট পান জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নবীব নেওয়াজ জীবন। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর ক্লাবের হয়ে ফেডারেশন কাপ খেললেও লিগে এক ম্যাচের বেশি মাঠে নামতে পারেননি ঢাকা আবাহনীর এই ফরোয়ার্ড।

পুরনো সেই ইনজুরিতে কাবু জীবন মাঠের বাইরে গত দেড় মাস মাস ধরে। চোট সারাতে অস্ত্রোপচারের দরকার হলে চার মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যেতে হবে তাকে।

ফলে সামনের মার্চ ও জুনে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে খেলা অনিশ্চিত এই স্ট্রাইকারের।

লিগে প্রথম ম্যাচে চোট পাওয়ার পর হাসপাতালে এমআরআই করান জীবন। দুই রকমের ফল আসায় ভারতে চিকিৎসা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ভারতের কলকাতায় এমআরআইয়ের ফলের উপর সিদ্ধান্ত নেবেন এই স্ট্রাইকার। অস্ত্রোপচার করাতে হলে সারতে সময় লাগবে চার মাস।

জীবন বলেন, ‘দুইবার এমআরআই করিয়েছি। দুইবারই ভিন্ন ফল এসেছে। এখন আগামী মাসে কলকাতায় যাবো। সেখানে পরীক্ষার পর যদি মনে হয় এসিএল সার্জারি করতে হবে। তাহলে করে ফেলবো।’

সেক্ষেত্রে প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্ব ও বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে পারছেন না জীবন। অস্ত্রোপচার করতে না হলে পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে মাঠে ফিরবেন তিনি। বলেন, ‘তবে অস্ত্রোপচার না করতে হলে তখন হয়তো মাঠে ফেরার সুযোগ থাকবে।’

জীবনকে ছাড়াই রোববার বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে মাঠে নামবে ঢাকা আবাহনী।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg