20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
সবার ইশতেহারেই উপেক্ষিত ‘শিশু ফুটবল’

সবার ইশতেহারেই উপেক্ষিত ‘শিশু ফুটবল’

ইশতেহারে তৃণমূল হিসাবে দেখানো হয়েছে ১৩ বছরেরর বেশি বয়সী ফুটবলারদের। উপেক্ষিত থেকে গেছে ক্ষুদে ফুটবলারদের নিয়ে পরিকল্পনার কথা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে ইশতেহার আকারে অনেক আশ্বাসই দিয়েছেন প্রার্থীরা। তৃণমূলের নামে জেলা ফুটবলের উন্নয়নে জোর দিয়েছে দুটি প্যানেলই। তবে কারও ইশতেহারে জায়গা হয়নি ‘শিশু ফুটবল’। এই দুই প্যানেলের বাইরে সভাপতি পদে স্বতন্ত্রভাবে যিনি নির্বাচন করছেন তার ইশতেহারেও নেই বিষয়টি।

সবার ইশতেহারে তৃণমূল হিসাবে দেখানো হয়েছে ১৩ বছরেরর বেশি বয়সী ফুটবলারদের। উপেক্ষিত থেকে গেছে ক্ষুদে ফুটবলারদের নিয়ে পরিকল্পনার কথা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল শেখার বয়স হলো ৮-৯ বছর। তৃণমূল ফুটবলের ব্যাখ্যা দিয়েছেন দেশে ইউয়েফার এ-লাইসেন্সপ্রাপ্ত একমাত্র কোচ মারুফুল হক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, 'ফুটবলে হাতেখড়ি ৮-৯ এর আগে হওয়া দরকার। ফিজিক্যাল স্কিল (শারীরিক দক্ষতা) শেখার গোল্ডেন বয়স হচ্ছে ৯-১২। এরপরে ফিজিক্যাল স্কিল পারমানেন্ট হয় না। এই বয়সের মধ্যে খেলোয়াড়দের ফুটবলের ট্যাকটিক্যাল ও টেকনিক্যাল বিষয়গুলো শিখতে হয়।’

জাতীয় দলের এই সাবেক কোচের মতে, কারও ইশতেহারে জায়গা পায়নি শিশু ফুটবল। বরাবারের মতো উপেক্ষিত থেকে গেছে তৃণমূলের প্রকৃত ফুটবল।

আনুষ্ঠানিকভাবে বাফুফে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দুটি প্যানেল। একটি কাজী সালাউদ্দিন-মুর্শেদী সম্মিলিত ফুটবল পরিষদ, অন্যটি শেখ আসলাম-মহি সমন্বয় পরিষদ। আর সভাপতি পদে স্বতন্ত্রভাবে লড়ছেন শফিকুল ইসলাম মানিক।
Children playing football

দেশের ফুটবল উন্নয়নে তিন পক্ষ থেকে তিনটি ইশতেহার পাওয়া গেছে। তাদের কারো ইশতেহারে কার্যত শিশু ফুটবলকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। জোর দেয়া হয়েছে তৃণমূলের নামে ১৩ এর বেশি বয়সীদের।

কাজী সালাউদ্দিন-মুর্শেদীর নেতৃত্বের প্যানেলের যে ইশতেহার দেয়া হয়েছে একমাত্র তাতেই ছোট করে বলা হয়েছে অনূর্ধ্ব ১০ বছরের জন্য একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, 'ক্রীড়া পরিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ‘ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবল’ সহ বাফুফে কর্তৃক আয়োজিত ‘শেখ রাসেল অনূর্ধ্ব-১০ জাতীয় জুনিয়র ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’ হতে প্রাপ্ত প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড়গণকে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে ‘বাফুফে ফর্টিজ ফুটবল অ্যাকাডেমি’র এবং ‘বাফুফে টেকনিক্যাল সেন্টার’ এর আওতাভুক্ত করা হবে।'

তবে সমালোচনা রয়েছে বাফুফের ফর্টিজ ফুটবল অ্যাকাডেমি নিয়েও। অ্যাকাডেমির নামে এখানে অনূর্ধ্ব ১৫ ও ১৭ বয়সের ফুটবলারদের ট্রেনিং দেওয়া হয়।

জাতীয় দলের সাবেক কোচে মারুফুল হক আরও বলেন, ‘অবশ্যই একেবারে ছোট বয়স থেকে একাডেমিতে ফুটবল শেখানো উচিত।’

শেখ আসলাম-মহির প্যানেল যে ইশতেহার দেয়া হয়েছে সেখানেও উপেক্ষিত শিশু ফুটবল। তাদের ইশতেহারে শিশু ফুটবলকে ধরা হয়েছে ১২ এর বেশি বয়সীদের।

বলা হয়েছে- অনূর্ধ্ব-১২ বছর থেকে থানা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রত্যেক ফুটবল খেলোয়াড়কে একটি একক রেজিস্ট্রেশন প্রথার আওতায় নিয়ে আসা হবে; যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বয়সভিত্তিক সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

শফিকুল ইসলাম মানিকের ইশতেহারেও নেই শিশু ফুটবল। ইশতেহারে তিনি তৃণমূল ফুটবলকে গোছাতে ক্লাবগুলোকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার কথা বলেছেন।

তিনি ইশতেহারে দিয়েছেন এভাবে 'প্রফেশনাল (সক্ষমতা সম্পন্ন) প্রতিটি ক্লাবের অন্তত দুইটি গ্রাসরুট/এইজ গ্রুপ দল থাকে তার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু/বঙ্গমাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে থেকে বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের নিয়ে পরিকল্পনা সাজানো হবে। এই বাছাইকৃত খেলোয়াড়রা যাতে প্রাতিষ্ঠানিক ফুটবল শিক্ষা পায় সেজন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।'

সবমিলে দেশজুড়ে শিশুদের সম্পৃক্ততার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা উপেক্ষিত হয়েছে এসব ইশতেহারে। যেখানে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশু ফুটবল ছাড়া তৃণমূল ফুটবলের উন্নয়ন হয় না। ইশতেহারে প্রকাশ করা ছাড়াও দেশের ফুটবলে শিশুদের সম্পৃক্ত করতে নির্বাচিতদের আগ্রহী ও উদ্যোগী হয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা নিতে হবে বলে মনে করেন তারা।

নিউজবাংলা/জাহা/আজা

শেয়ার করুন