পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল

পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে হাওরে গড়ে ওঠা দৃষ্টিনন্দন রিসোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

এই তহবিল থেকে যে ঋণ দেয়া হবে, তার সুদ হার ৮ শতাংশ থাকলেও পরিশোধ করতে হবে ৪ শতাংশ হারে। কারণ, বাকি ৪ শতাংশ দেবে সরকার।

পর্যটন খাতের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে আরও ৫০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে পর্যটন খাতের হোটেল-মোটেল ও থিম পার্কের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ৮ শতাংশ সুদে এক হাজার কোটি টাকার স্কিম গঠন করা হয়। সব মিলিয়ে এ খাতে ঋণ দেয়ার জন্য দেড় হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন হলো।

করোনায় পর্যটন খাত ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত এপ্রিল থেকে হোটেল, মোটেলসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় জমায়েত হয়নি বললেই চলে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। কর্মীদের বেতন-ভাতাও দিতে পারেনি বহু প্রতিষ্ঠান।

রোববার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি রিসোর্ট যে আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে, তাতে করোনায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে, তা প্রকাশ পেয়েছে। কক্সবাজারের অভিজাত হোটেল সি পার্ল গত জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৬১ পয়সা আয় করতে পেরেছে। অথচ মার্চ পর্যন্ত আয় ছিল ১ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ ৯ মাসে যত আয় করেছে, ৩ মাসে, তার অর্থেক লোকসান হয়েছে তাদের।

পর্যটন খাতের জন্য আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল

নতুন এই তহবিল সি পার্লের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দেবে সন্দেহ নেই। এই তহবিল থেকে যে ঋণ দেয়া হবে, তার সুদ হার ৮ শতাংশ থাকলেও পরিশোধ করতে হবে ৪ শতাংশ হারে। কারণ, বাকি ৪ শতাংশ দেবে সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪১৭তম বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্ষদ। সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম।

করোনা মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নেয়া প্রণোদনা প্যাকেজগুলোর সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোরও উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি বছরের মুদ্রানীতিতেও বেশ কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, সিএমএসএমই, বৃহৎ শিল্প, রপ্তানিমুখী শিল্প ও সেবা খাতের জন্যে ইতোমধ্যে নেয়া পুনঃঅর্থায়ন স্কিম বর্ধিতকরণের পাশাপাশি অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারী এবং বেসরকারি শিক্ষাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন।

নতুন উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে সরকারের পক্ষ থেকে।

এদিকে প্রস্তাবিত ‘পিপলস ব্যাংক লিমিটেড’ এর অনুকূলে ইস্যু করা লেটার অব ইনটেন্টের শর্তাবলী পূরণের সময় বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

২০২০-২০২১ র্অবছরের তফসিলি ব্যাংকসমূহ কর্তৃক কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট মোকাবেলায় কৃষি খাতের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

গরম মসলার অনেক গুণ

গরম মসলার অনেক গুণ

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, হজম ক্ষমতার উন্নতিতে গরম মসলা নানাভাবে উপকারে আসে। মসলার এই মিশ্রণটি হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো রোগের প্রকোপ কমে যায়।

গরম মসলা খাবারকে শুধু সুস্বাদুই করে না, শরীরের অনেক উপকারও করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কিছু রোগ প্রতিরোধ করতে গরম মসলার ভূমিকা অসীম।

গরম মসলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো লবঙ্গ, দারুচিনি, জিরা, জায়ফল, গোলমরিচ, এলাচ ও তেজপাতা।

চলুন দেখে নেই গরম মসলা আমাদের শরীরের কী কী উপকার করে।

ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখে

গবেষণায় পাওয়া গেছে, খাবারে গরম মসলার পরিমাণ একটু বেশি হলে কোনো ক্ষতি তো হয়ই না, উল্টো দেহে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপাটিজের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শরীর এবং ত্বকের বয়স কমতে শুরু করে। ফলে খাতা-কলমে বয়স বাড়লেও শরীর এবং ত্বকের ওপর তার কোনো প্রভাবই পড়ে না।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

গরম মসলা দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে সাধারণ রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

অ্যানিমিয়ার প্রকোপ কমে

গরম মসলায় উপস্থিত জিরায় রয়েছে প্রচুর মাত্রায় আয়রন, যা শরীরে প্রবেশ করার পর লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদন এত মাত্রায় বাড়িয়ে দেয় যে রক্তস্বল্পতা দূর হতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতেও এই প্রাকৃতিক উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হজম শক্তি বাড়ে

প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, হজম ক্ষমতার উন্নতিতে গরম মসলা নানাভাবে উপকারে আসে। মসলার এই মিশ্রণটি হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে বদ-হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো রোগের প্রকোপ কমে যায়।

ক্যানসার থেকে দূরে রাখে

গরম মসলা শরীরে ক্যানসার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। মসলায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-ক্যানসার উপাদান রয়েছে। নিউট্রিশন এবং ক্যানসার নামক একটি জার্নালে প্রকাশিত একটি স্টাডি অনুসারে, টানা ১০ দিন গরম মসলা খেলে শরীরে বিষাক্ত উপাদানের মাত্রা কমাতে শুরু করে।

হার্টের ক্ষমতা বাড়ে

গরম মসলা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে কাজ করে। সেই সঙ্গে হার্টে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়। যার কারণে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ ধারেকাছে ঘেঁষার সুযোগ পায় না।

ডায়াবেটিস দূরে রাখে

গরম মসলায় থাকা দারুচিনি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। দারুচিনির মধ্যে থাকা একাধিক উপাদান ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে এড়িয়ে যাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন

জনপ্রিয় হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম

জনপ্রিয় হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম

দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রোমাঞ্চকর ভ্রমণ। ছবি: নিউজবাংলা

‘তরুণরা আগের মতো সৈকতে গিয়ে গোসল এবং হোটেলে সময় কাটানো পছন্দ করে না। তারা কায়াকিং (নদী বা হ্রদে বোট চালানো), জিপলাইনিং (উঁচু পাহাড় বা গাছে দড়ি বেঁধে চলাচল), র‍্যাপলিং-জুমারিংয়ের (দড়ির সাহায্যে পাহাড়ি পথে ওঠানামা) মতো অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করে।’

কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকত দেখা, সুন্দরবন অথবা সিলেটের চা-বাগানে ভ্রমণ– আগে শুধু এতটুকু ভ্রমণে সন্তুষ্ট থাকত ভ্রমণপ্রেমীরা। তবে বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা এখন আর এতটুকুতে সন্তুষ্ট নন, তারা এখন রোমাঞ্চ পেতে চান। তাই দিন দিন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রোমাঞ্চকর ভ্রমণ।

এই ধরনের ভ্রমণকে বলা হয় অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম। ভ্রমণপিপাসু কিছু তরুণের হাত ধরে কয়েক দশক আগে দেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের যাত্রা শুরু। তবে এখন সরকারিভাবেই এ ধরনের পর্যটন প্রসারে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড কাজ করছে। এ অবস্থায় বিশ্বের মতো আজ বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব পর্যটন দিবস।

পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে দেশে প্রতিবছর ৫৫ থেকে ৬০ লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যায়। দিন দিন পর্যটন ব্যবসার প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

জনপ্রিয় হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম

অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের একাধিক ধারণা রয়েছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি ধারণা হলো পাহাড়ে হাইকিং, ট্রেকিং, ক্লাইম্বিং, মাউন্টেনিয়ারিং, জঙ্গলে হলকেভিং, হান্টিং, আর্চারি ও ব্যাকপ্যাকিং। এ ছাড়া সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে সারফিং, হট এয়ার বেলুন, প্যারাগ্লাইডিং, হ্যান্ড গ্লাইডিং, প্যারাশুটিং, স্কাই ডাইভিং, বানজি জাম্প, মাইক্রো লাইট প্লেন ইত্যাদি।

অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের ট্যুর আয়োজন করে ফেসবুক গ্রুপগুলো। এ রকম একটি প্রতিষ্ঠান ট্রাভেল বাংলার কর্ণধার অনিক আহমেদ বলেন, ‘তরুণরা অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম ছাড়া কিছুই বোঝে না। তারা আর আগের মতো সৈকতে গিয়ে গোসল এবং হোটেলে সময় কাটানো পছন্দ করে না। কায়াকিং (নদী বা হ্রদে বোট চালানো), জিপলাইনিং (উঁচু পাহাড় বা গাছে দড়ি বেঁধে চলাচল), র‍্যাপলিং-জুমারিংয়ের (দড়ির সাহায্যে পাহাড়ি পথে ওঠানামা) মতো অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করে তারা।’

জনপ্রিয় হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম

সম্প্রতি বান্দরবান ঘুরে এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাকিব বিন আদনান। তিনি বলেন, ‘আমরা মাচান ঘরে ছিলাম। খুব ভোরে দেখতে পাই বুনো হাতির দল। সেই সঙ্গে পাহাড়ি পথে ট্রেকিং। তাঁবুতে রাতে শুয়েই শুনেছি বন্যপ্রাণীর ডাক। সবমিলিয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।’

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সরাসরি কর্মরত আছেন ১৫ লাখ মানুষ। আর পরোক্ষভাবে আরও ২৩ লাখ লোক এ খাতের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আর্থিক মূল্যে দেশীয় পর্যটন খাতের আকার দাঁড়িয়েছে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকা।

রাঙামাটির পর্যটন ব্যবসায়ী নেছার আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। দেশের ভেতরে তরুণরা এখন পাহাড়ে উঠছে। পার্বত্যাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে। নাইট ক্যাম্প, সাইক্লিং, হাইকিং, ট্রেকিং, ক্লাইম্বিং, মাউন্টেনিয়ারিং করছে। তবে দেশের বাইরে থেকে কম মানুষ আসে। এ জন্য আমাদের ব্র্যান্ডিং দরকার, বড় আয়োজন প্রয়োজন। নানাভাবে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমকে তুলে ধরা সম্ভব।’

জনপ্রিয় হচ্ছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) চট্টগ্রাম অঞ্চলের কো-চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বলেন, ‘করোনার কারণে লকডাউন ছিল সারা দেশে। এ জন্য পর্যটন ব্যবসায় মন্দা। তবে এর মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম আশার আলো দেখাচ্ছে। কারণ তরুণরা প্রতিনিয়ত ছুটছে বিভিন্ন প্রান্তে। এতে করে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের আগামীর পর্যটন ব্যবসা হবে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম।’

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বলেন, বাংলাদেশে পাহাড়, পর্বত ও বন সবই আছে। এ ছাড়া অ্যাডভেঞ্চারের জন্য কিছু কৃত্রিম আয়োজন হয় বিশ্বজুড়ে। সেটা বাংলাদেশেও সম্ভব। এ জন্য অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন

প্রকৃতির রূপে গারো পাহাড়, ফিরেছে পর্যটক

প্রকৃতির রূপে গারো পাহাড়, ফিরেছে পর্যটক

শেরপুর সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত গারো পাহাড়ে ফিরেছে পর্যটক। ছবি: নিউজবাংলা

সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে গোটা গারো পাহাড়, নানা গাছে ফুটেছে বিভিন্ন ধরনের ফুল। পাহাড়ি ঝর্ণাগুলোতে ছুটে চলেছে পানি। আর পাহাড়ের মাঝে মায়াবি লেক আলাদা রূপ দিয়েছে পর্যটন এলাকাটিকে।

শেরপুর জেলার উত্তর সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত গারো পাহাড়। মৌসুমের পরিবর্তন ও দীর্ঘদিন পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় ছিল না পর্যটকদের আনাগোনা। সুযোগ পেয়ে প্রকৃতি তার মতো করে নিজেকে গড়ে নিয়েছে। নানা রঙের ফুলে রূপ-যৌবনে হয়ে উঠেছে অনন্য।

পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানের লেকের স্বচ্ছ পানি সে সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নয়নাভিরাম গারো পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে নতুন করে ছুটেছেন পর্যটকরা। সারা দেশ থেকে মানুষ পাহাড়ে যাচ্ছেন প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাতে।

প্রকৃতির রূপে গারো পাহাড়, ফিরেছে পর্যটক

গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখাতে শেরপুর জেলা প্রশাসন গড়ে তুলেছে গজনী অবকাশ। পাশাপাশি বন বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছে মধুটিলা ইকোপার্ক নামে দুটি পর্যটন কেন্দ্র।

সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে গোটা গারো পাহাড়, নানা গাছে ফুটেছে বিভিন্ন ধরনের ফুল। পাহাড়ি ঝর্ণাগুলোতে ছুটে চলেছে পানি। আর পাহাড়ের মাঝে মায়াবি লেক আলাদা রূপ দিয়েছে পর্যটন এলাকাটিকে।

গারো পাহাড়ের সৌন্দর্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইগাতীর ফারুক হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, অনেকদিন পর এবার গারো পাহাড় সবুজে সবুজে, ফুলে ফুলে নতুন রূপ পেয়েছে। এখন দেখতে অনেক ভালো লাগছে।

শেরপুরের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ পাহাড়ে আমি অনেক বছর ধরেই আসি। এত সুন্দর কখনো দেখিনি। মনটা ভরে যায়।’

প্রকৃতির রূপে গারো পাহাড়, ফিরেছে পর্যটক

গাজীপুর থেকে আসা যুবক সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গারো পাহাড়ের কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এতো সুন্দর তা কখনো জানা ছিল না। এখানে এসে আমার প্রাণটা ভরে গেছে।’

শেরপুরের মহসিনা খাতুন বলেন, ‘আমি মায়াবি লেকে এসেছি। এতো সুন্দর একটা জায়গা, অথচ আগে আসা হয়নি। তবে এখানে আসা রাস্তা নাই। তাই হেঁটে হেঁটে অনেক পথ আসতে হলো। কীভাবে অনেকদূর হেঁটে আসলাম পাহাড়ের সৌন্দর্যের কারণে বুঝতেই পারি নাই।’

সাহানাজ নামের আরেক নারী বলেন, ‘আমি মায়াবি লেকে এসেছি অনেক কষ্ট করে, কিন্তু এখানে এসে সৌন্দর্য দেখে মনটা ভরে গেছে।’

প্রকৃতির রূপে গারো পাহাড়, ফিরেছে পর্যটক

প্রিয়া মং বলেন, ‘আমি ঢাকায় লেখাপড়া করি। অনেকদিন পর বাড়িতে এসে দেখি পাহাড়টা অনেক সুন্দর হয়ে গেছে। এখানে এসে আমার আমাদের বাড়ি তো চিনতে কষ্ট হয়েছে। পাহাড় এতো সুন্দর করে সেজেছে।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আল মাসুদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গজনী অবকাশ কেন্দ্র খুলে দিয়েছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পাহাড়ের সৌন্দর্য আরও বেড়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, পর্যটকরা তা উপভোগ করবেন।’

শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশিদ বলেন, ‘গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার অনেক দর্শনার্থীর সমাগম হবে। পাহাড়ের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এরই মধ্যে আসতে শুরু করেছেন অনেক দর্শনার্থী। ফলে এখানকার করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

বিদেশি পর্যটক টানতে নতুন কৌশল

সংবাদ সম্মেলনে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

করোনায় দেশের পর্যটনশিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এবার নতুন কৌশল অবলম্বণের কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিদেশি পর্যটক টানতে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

‘বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২১’ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে রোববার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘করোনার পর পর্যটন আকর্ষণে দেশে অন-অ্যারাইলভাল ভিসা চালুসহ ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এ বিষয়ে আমরা কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক ইচ্ছা, পর্যটনকে নিয়ে একটা প্ল্যানড ওয়েতে অগ্রসর হওয়া।

‘করোনা শুরুর আগে আমরা পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটা আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কার্যাদেশ দিয়েছি। কিন্তু করোনার কারণে তা বন্ধ ছিল। বর্তমানে আবার শুরু হয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মাস্টার প্ল্যানের কাজ শেষ হবে। মাস্টার প্ল্যান শেষ হওয়ার পরই আমরা কাজে হাত দেব।’

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দিবসটি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন’।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, পর্যটন দিবসে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ট্যুরিজম বোর্ড ও পর্যটন কর্পোরেশন বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে আলোচনা ও পর্যটন কর্পোরেশনের আয়োজনে কুকিং শো অনুষ্ঠিত হবে। একটি ঘোড়ার গাড়ির শোভাযাত্রা পর্যটন ভবনের সামনে থেকে যাত্রা শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন পর্যটন স্পট পরিভ্রমণ করে পর্যটন বিষয়ক প্রচারণা চালাবে। ২০টি সুসজ্জিত রিকশার একটি শোভাযাত্রা হবে রাজধানীর গুলশান-বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায়। প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আলোচনা সভা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।

এ ছাড়া ২ অক্টোবর নড়াইল জেলায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পগুলোর একটি পর্যটন। বর্তমানে দেশে করোনার সংক্রমণ কমার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন স্পট গুলো খুলে দেয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটকেরা বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণ কারণে পর্যটন সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এ শিল্পেও গতি ফিরছে।’

প্রস্তুতি সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. আ. হান্নান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মোশাররফ হোসেন, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. কাইয়ুম ও হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. আমিনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

করোনায় পর্যটন খাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণের জটিলতার বিষয়ে এক প্রশ্নের পর্যটন সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পর্যটন শিল্পের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন খাত, উপখাতে ভাগ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে এটা দ্রুত দেয়ার জন্য চেষ্টা করছে। আশা করছি খুব সহসাই এটা প্রদান করা হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’ শীর্ষক সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

ওই সময় একটি বৈশ্বিক জোট ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সকল নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সংযুক্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

শেখ হাসিনা তার পরামর্শে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্ধিত তহবিল প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা টেকসই নিরাপত্তা অর্জনে প্রযুক্তি শেয়ারিংসহ জলবায়ুজনিত চরম ঘটনাগুলোর সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়েরও পরামর্শ দেন।

এ শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারি পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে আমাদের জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় সমন্বিত খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরকে একটি সমন্বিত কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০ এবং এর কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০৩০) দেশের খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ 

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ 

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৪০০ থেকে ৫০০ বছর আগের কুতুবশাহী মসজিদটিকে ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

মসজিদটিতে ৩৫ বছর ধরে খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনী (র.) ৫৯০ হিজরিতে আরবের ইয়ামীন প্রদেশ থেকে ১২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে এখানে আসেন ইসলাম প্রচারের জন্য। এখানে তার কবর রয়েছে। ধারণা করা হয় তার অনুসারীরা পরবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরের জন্য বিখ্যাত হলেও সেখানে আছে ঐতিহাসিক নানা স্থান। তার মধ্যে অন্যতম কুতুবশাহী মসজিদ।

৪০০ থেকে ৫০০ বছর আগের মসজিদটিকে ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে এত দিন ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেখতে যেত কম মানুষই।

সম্প্রতি হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পর সেখানে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। ২০২০ সালের ৪ আগস্ট মসজিদটিকে সংস্কারও করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ময়মনসিংহসহ ওই এলাকার সবচেয়ে পুরোনো স্থাপনা হিসেবে ধরা হয়। এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে সুলতানি ও মোগল আমলের ছাপ।

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

দুই সময়ের নির্মাণশৈলী ও কোনো নির্মাণফলক না থাকায় মসজিদটি নির্মাণের সময় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মসজিদটি ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে বলে মনে করেন।

অন্যদের দাবি, এটি সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছে বলেই মসজিদটিতে সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনীর (র.) মাজার রয়েছে মসজিদটির পাশে। তার নামেই এ মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, তার অনুসারীরা মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কারুকার্যখচিত আয়তকার মসজিদটির বাইরের দেয়ালে আছে পোড়ামাটির চিত্রফলক, প্যানেলে আছে কারুকাজ। মসজিদের ছাদে পাঁচটি গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি বড়। বাকি চারটি একটু ছোট। এর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি করে চারটি এবং পূর্ব পাশে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। এগুলো সুলতানি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ।

এ ছাড়া মসজিদের পূর্ব পাশের প্রবেশপথের বিপরীতে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে কুতুবশাহের কবর। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে আরও পাঁচটি কবর। এগুলো কুতুবশাহের সফরসঙ্গীদের বলে কথিত আছে। মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ২০ জন খাদেমের কবরও রয়েছে।

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

মসজিদটিতে ৩৫ বছর ধরে খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ। কিছুদিন আগে তিনি চেরাগী খাদেমের দায়িত্ব পেয়েছেন।

তিনি জানান, এই মসজিদে আরও ৭ খাদেম রয়েছেন। তারা সবাই বংশপরম্পরায় দায়িত্ব পেয়েছেন। বর্তমানে খাদেমদের মধ্যে সবার মুরব্বি মরসন্দ আলী শাহ ফকির। তিনি অসুস্থ থাকায় এখন দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আজিজ।

আব্দুল আজিজ জানান, হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনী (র.) ৫৯০ হিজরিতে আরবের ইয়ামীন প্রদেশ থেকে ১২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে এখানে আসেন ইসলাম প্রচারের জন্য। এখানে তার কবর রয়েছে। ধারণা করা হয়, তার অনুসারীরা পরবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দাদাদের মুখ থেকে শুনেছি, ইংরেজ শাসনামলেও এই মসজিদে একটি শিলালিপি ছিল। পরে ইংরেজরা সেই শিলালিপিটি গায়েব করে ফেলে। ফলে এর সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারে না।’

মসজিদের আরেক খাদেম হযরত মাওলানা আবদুস সামাদ শাহ ফকির জানান, ১৯০৯ সালে সরকার ঐতিহাসিক এই মসজিদটিকে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করলেও যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় স্থানীয় লোকজন ছাড়া সেখানে বাইরের কেউ তেমন যেত না। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই দর্শনার্থী আসেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের মাঘ মাসের শেষ শুক্রবারে এখানে ওরস শরিফ পালন করেন তারা। এ ছাড়া বুধবারে মাজারে কোরআন খতম এবং মাজারে গিলাফ ছড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার হয় ওয়াজ মাহফিল।

আবদুস সামাদ বলেন, ‘প্রতিবছরই এ অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ এখানে জড়ো হন। অনেকে এখানে এসে মানত করে যান। মনের বাসনা পূরণ হলে মসজিদে এসে মানত পূরণ করেন। পুরো উপজেলার বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি এই মসজিদ জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।’

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুবশাহী মসজিদটি বাংলার সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে নির্মিত।

বিখ্যাত দরবেশ কুতুব শাহের নামানুসারে আয়তকার মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণ দিকে দৈর্ঘ্য ৪৬ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৭ ফুট ১১ ইঞ্চি। বাংলার চৌচালা ঘরের চেয়ে এর কার্নিশগুলো বেশি ঢালু। মসজিদের চার পাশে আট কোণ বিশিষ্ট চারটি মিনার রয়েছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল আলম বলেন, ‘কুতুবশাহী মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য। এই মসজিদের দেখভাল করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। তাদের নির্দেশনা ছাড়া আমরা মসজিদে কোনো কাজ করতে পারি না।

‘তবে মূল স্ট্রাকচারের বাইরে সৌন্দর্যবর্ধন বা রাস্তাঘাট, ওয়াশরুম বা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজগুলো করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমার স্থান থেকে মসজিদটির সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

খাগড়াছড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছিলেন সুমন চাকমা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তার।

সুমন চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটির কাছে খাগড়াছড়ি হলেও কম আসা হয়। সেতুতে ঘুরতে এসে দেখলাম পানির নিচে ডুবে গেছে। এত কষ্ট করে এসেও কোনো লাভ হলো না।’

প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ডুবে যায় রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এ সময় সেতুর পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপরে উঠে আসে হ্রদের পানি। নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় চলাচলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু ডুবলে পারাপারের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। কমে যায় পর্যটকের আনাগোনাও।

এসব কারণে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকও বিপাকে পড়ছেন। তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন সেতু থেকে পানি নেমে যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮৬ সালে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণের সময় যদি সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো এমন বেহাল হতো না ।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি তবলছড়ি এলাকার দুই দ্বীপের দুই পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুটি। তবে কয়েক দিন টানা হালকা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। ডুবে গেছে সেতুটিও।

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’


এ কারণে হতাশ পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন । নৌকা দিয়ে এপার থেকে ওপারে পার হচ্ছেন তারা। একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে পারাপারে দিতে হচ্ছে টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘পানি নেমে গেলে আবারও আগের মতো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে।’

সেতু দেখতে ঢাকা থেকে এসেছেন তানজিদা ও রাসেল।

তানজিদা বলেন, ‘লকডাউন খুলে দেয়ায় অনেক আশা নিয়ে রাঙামাটিতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখার ইচ্ছা ছিল খুব। এত সুন্দর রাঙামাটি। তবে সেতুটি এভাবে দেখব কখনও ভাবতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার করে যদি সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায়, তাহলে কোনো পর্যটক পরে বেড়াতে এসে হতাশ হবেন না।’

সেতু এলাকায় নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটির ডুবে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি সেতুটিতে বড় ধরনের কাজ করতে হয়, তাহলে আগামী বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন ৭৫ ভাগ
মুদ্রানীতি জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক নয় : সিপিডি
প্রণোদনার ঋণ কোথায় গেল, জানতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
প্রণোদনার টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ নেই
প্রণোদনা: যারা ঋণ পেয়েছেন তাদের আর নয়

শেয়ার করুন