পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘সাগরকন্যা’

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘সাগরকন্যা’

সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। ছবি: নিউজবাংলা

কুয়াকাটার পূর্বে গঙ্গামতী সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, লকডাউনের কারণে কোথাও কোনো কোলাহল নেই। আছে শুধু সাগরের ঢেউ, লাল কাঁকড়া, ঝিনুক আর সবুজ অরণ্য। সব মিলে প্রকৃতি যেন নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে নিজেকে।

নেই চিরচেনা কোলাহল। নিঃসঙ্গতায় যেন লজ্জা পাচ্ছে ‘সাগরকন্যা’। এই সুযোগে রাজত্ব করছে লাল কাঁকড়ারা। আর সাগরলতারা যেন দোল খাচ্ছে সৈকতে। এ যেন এক নতুন সবুজের অরণ্য।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, সব মিলে টানা লকডাউনে নতুন রূপ পেয়েছে ‘সাগরকন্যা’ হিসেবে পরিচিত কুয়াকাটা, পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতির শেষ নেই তার।

একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। স্বাভাবিক সময়ে ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সৈকতে সব সময় লেগে থাকে ভ্রমণপিপাসুদের বিচরণ।

করোনা সংক্রমণের কারণে চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। বন্ধ সেখানকার সব আবাসিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। সে অনুযায়ী পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে কুয়াকাটা সৈকত। আবাসিক হোটেল-মোটেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সাজানো-গোছানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘সাগরকন্যা’

কুয়াকাটার পূর্বে গঙ্গামতি সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, লকডাউনের কারণে কোথাও কোনো কোলাহল নেই। আছে শুধু সাগরের ঢেউ, লাল কাঁকড়া, ঝিনুক আর সবুজ অরণ্য। সব মিলে প্রকৃতি যেন নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছে নিজেকে।

সাগরলতার বিরামহীন ছুটে চলা আর লাল কাঁকড়ার ছোটাছুটি ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা।

কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ী আবুল হোসেন রাজু জানান, করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর্যটক নেই। সৈকতে মোটরসাইকেলসহ পর্যটকদের হাঁটাহাঁটি নেই। এই সুযোগে যেন নিজ রাজ্যে অবাধে বিচারণের সুযোগ পেয়েছে সৈকতের প্রাণিকুল।

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘সাগরকন্যা’

তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে দুই দফায় বন্ধ থাকার পর বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হবে ১৯ আগস্ট। পর্যটকদের স্বাগত জানাতে কুয়াকাটার সব ব্যবসায়ী প্রস্তুত।’

লম্বা সময় লকডাউনের কারণে পোয়াবারো হয়েছে কুয়াকাটার প্রকৃতি-পরিবেশের।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. ছানাউল্লাহ বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় কুয়াকাটাকে এমন দূষণমুক্ত দেখা যায়নি। পর্যটকরা আসার পরও এমন পরিবেশ থাকলে সবাই প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারত।

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘সাগরকন্যা’

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু জানান, লকডাউন শেষে পর্যটকদের গোটা সৈকতে বাধাহীন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা গেলে স্থায়ীভাবে সৌন্দর্য বজায় থাকত।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. মাসুদুর রহমান জানান, পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কুয়াকাটার দূষণমুক্ত এ অবস্থা টিকিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি। কারণ জলবায়ুর বিরূপ আচারণের প্রভাব এক সময়ে পর্যটকদের ওপরও পড়বে।

পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে ‘সাগরকন্যা’

কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার জানান, পর্যটকবান্ধব যেসব কাজ পৌরসভার অধীনে রয়েছে সেগুলো অব্যাহত রাখা হবে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীপ জানান, গোটা সৈকত এখন দূষণমুক্ত। কোনো ধরনের ময়লা-আবর্জনা নাই। সাগরপাড়ের গাছগুলো গাঢ় সবুজ রং ধারণ করেছে। পশ্চিমে ব্লকপাড়ও সেজেছে ভিন্ন আঙ্গিকে। সবমিলিয়ে পর্যটকদের হাতছানি দিচ্ছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা।

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্টের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্টের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

ফেসবুকে ধর্মীয় উস্কানি ও গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার শোভন কুমার দাস। ছবি: নিউজবাংলা

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, গত ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর সকাল থেকে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শোভন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট ও লিংক শেয়ার করেন। এ ঘটনায় আরও ৪ থেকে ৫ জন জড়িত। শিগিগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।  

ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানি ও গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছে যশোরে।

সদরের বকচর হুশতলা এলাকা থেকে শুক্রবার বিকেলে তাকে আটক করে র‍্যাব।

পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে তাকে যশোর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম শোভন কুমার দাস। ২৭ বছরের শোভনের বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার জোকারচর গ্রামে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার দুপুরে এসব নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব যশোর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লে. মো. নাজিউর রহমান।

এতে বলা হয়, গত ১৫ থেকে ২২ অক্টোবর সকাল থেকে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শোভন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু ধর্মীয় উসকানিমূলক পোস্ট ও লিংক শেয়ার করেন। এ ঘটনায় আরও ৪ থেকে ৫ জন জড়িত। শিগিগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, 
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।

বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে বিকেলে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া বিল্লাল হোসেন। তার দাবি, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। আর এর আগে তিনি যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন।

তবে মানববন্ধনে বক্তারা জানান, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে অর্থের মাধ্যমে হাত করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিৎ রায়ের মদদপুষ্ট হয়ে বিল্লাল হোসেন আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে উঠেছেন।

এভাবেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বিল্লালকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। এখন রাজাকারের ছেলে যদি নৌকা প্রতীক পান তবে আওয়ামী ইজ্জত বলে কিছু থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘারপাড়াসহ রায়পুরে শান্তি কমিটির প্রভাবশালী নেতা ছিল রাজাকার মোহাম্মদ আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানুষের বাড়িতে ডাকাতির সাথে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে সে।

‘সেই রাজাকারের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তার পরিবারও রাজাকার। বর্তমানে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পায়তারা করছে।’

রাজাকারের সন্তানের পরিবর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের নৌকা প্রতীক দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, ইয়াকুব আলী, ডা. ইরাদত আলী, হাফিজুর রহমান, আলী বক্স, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান, রিপন হোসেন ও মাসুদুর রহমান রাজু।

অভিযোগের বিষয়ে বিল্লাল হোসেন জানান, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। সে সময় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন ছড়িয়ালা আজিজ। পরে সভাপতি হন মৌলভী আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৬ সালে ভোটের মাধ্যমে জিতে রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। আমি এরশাদের সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। এর আগে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলাম।’

তবে বিল্লাল হোসেন যাদের রাজাকার কমান্ডার বলছেন কীসের ভিত্তিতে বলেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন

জেএমসেন মণ্ডপে ভাঙচুর: দায় স্বীকার নুরের সংগঠনের নেতার

জেএমসেন মণ্ডপে ভাঙচুর: দায় স্বীকার নুরের সংগঠনের নেতার

চট্টগ্রামের জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপে হামলার দায় স্বীকার যুব অধিকার পরিষদের নেতার। ছবি: নিউজবাংলা

তদন্ত কর্মকর্তা বাবলু কুমার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে সাত জনকে শুক্রবার ১ দিন করে রিমান্ডে পাই আমরা। রিমান্ড শেষে শনিবার তাদের আদালতে তোলা হলে হাবিবুল্লাহ মিজান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’

চট্টগ্রামে জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও তার সংগঠন যুব অধিকার পরিষদের নেতা হাবিবুল্লাহ মিজান।

শনিবার এক দিনের রিমান্ড শেষে মিজানসহ সাতজনকে আদালতে হাজির করলে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম শফিউদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দির বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু কুমার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে সাত জনকে শুক্রবার ১ দিন করে রিমান্ডে পাই আমরা। রিমান্ড শেষে শনিবার তাদের আদালতে তোলা হলে হাবিবুল্লাহ মিজান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’

বাবুল কুমার আরও বলেন, ‘জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা মোক্তার হোসেনের বাসায় মিটিং করেন সবাই। মিটিংয়ে আন্দরকিল্লা মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর মিছিল বের করার পরিকল্পনা করা হয়।’

মিজান আগে ছাত্র অধিকার পরিষদের বন্দর থানার আহ্বায়ক ছিলেন। পরে যুব অধিকার পরিষদে যোগ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. নাছির, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, বায়েজিদ থানার আহ্বায়ক ডা. রাসেল, ইয়ার মোহাম্মদ, কর্মী মো. মিজান, গিয়াস উদ্দিন, ইয়াসিন আরাফাত, হাবিবুল্লাহ মিজান, ইমন ও ইমরান হোসেন।

তাদের গ্রেপ্তারের পর জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপের প্রবেশ পথ ও তোরণ ভাঙচুর এবং ব্যানার ছেঁড়ার পরিকল্পনায় যুব অধিকার পরিষদের নেতারা জড়িত বলে জানায় পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন শুক্রবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করেছি। তারা ঘটনার পরিকল্পনায় ছিলেন। সাধারণ মুসল্লিদের ব্যবহার করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হামলার নেতৃত্বও দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারের বরাতে আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রাজাশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের আদালতে শনিবার বিকেলে তোলা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ৫০ বছরের মনিরুল ইসলাম, ৬৮ বছরের কলিম উদ্দিন, ২৫ বছরের আব্দুল মতিন ও আব্দুল মমিন, ২০ বছরের ফয়সাল আহমেদ, ৩৫ বছরের আজাহার আলী, ৪২ বছরের আবু বক্কর, ৩০ বছরের আব্দুর রব, ৩৪ বছরের উজ্জ্বল হোসেন, ৩৫ বছরের আব্দুল হালিম, ৫০ বছরের ওবেদ আলী ও ৬১ বছরের আবুল হোসেন। তারা সবার বাড়ি পবা উপজেলায়।

এসব নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

পরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক রেজাউল করিম কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

জমি নিয়ে বিরোধ, চাচাতো ভাইদের হাতে ‘খুন’

স্থানীয়রা জানান, আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইয়েরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু জাফর শরীফ নামের এক যুবক চাচাতো ভাইদের হাতে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার কলসকাঠি ইউনিয়নের গুড়িয়া গ্রামে শনিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ৩৮ বছর বয়সী আবু জাফর তার চাচাতো ভাইদের কাছে কিছু জমি বিক্রি করেন। ২১ অক্টোবর সেই জমির দলিল করা হয়। চাচাতো ভাইয়েরা কৌশলে জাফরের বাড়ির দাগের জমি ভেন্ডারের মাধ্যমে দলিলে যুক্ত করে নেন। ঘটনা জানতে পেরে শনিবার দুপুরে দুই পরিবারের লোকজন বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠককে কেন্দ্র করেই হত্যার ঘটনা ঘটে।

জাফরের ভাই তোফাজ্জেল শরীফ বলেন, ‘চাচাতো ভাই জামাল শরীফ ও আবুল শরীফের কাছে আমার ভাই জাফর কিছু জমি বিক্রয় করে। সেই জমি দলিল করার সময় তারা ভেন্ডারের মাধ্যমে বাড়ির দাগের জমি দলিলে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। সবকিছু জেনে আবু জাফর বাড়ির দুই পরিবারের লোকদের সঙ্গে আলোচনায় বসলে একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন চাচাতো ভাইয়েরা জাফরকে তাদের ঘরের নিয়ে আটকে রাখে। কিছুক্ষণ পরে রক্তাক্ত অবস্থায় জাফরকে বৈঠকের রুমে ফেলে তারা পালিয়ে যায়। তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

বাকেরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সত্যরঞ্জন খাসকেল এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

বন্ধু ছিতুয়ার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুকে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের দেয়া পোস্টে মাত্র দুই ঘণ্টায় লাইক ও রিঅ্যাক্ট পড়েছে আট হাজার। কমেন্ট করেছেন তেরো শর বেশি বন্ধু ও অনুসারী। তারা সবাই মন্ত্রীর এমন আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

রংপুরের পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়েছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। সেখানেই তার দেখা হয় বাল্যবন্ধু ছিতুয়ার সঙ্গে।

পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিতুয়া মানুষের ভিড়ে নিজেকে আড়াল করতে চাইলেও পারেননি। মন্ত্রী তাকে সবার সামনেই বন্ধু সম্বোধন করে টেনে নিয়েছেন বুকে। কাঁধে হাত রেখে তুলেছেন ছবি।

বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সেই ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্টও করেছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। প্রকাশ করেছেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক চিত্র।

ছিতুয়া সম্প্রতি রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। স্ত্রী গীতা রানী এখনও চাকরি করছেন। ছিতুয়ার মা চানিয়া রানীও ছিলেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বন্ধুর কর্মস্থল রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তরের সামনে জড়িয়ে ধরে রাখা ছবিটি তোলেন প্রতিমন্ত্রী এনামুর।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে সেই ছবি দিয়ে স্মৃতিচারণা করে আবেগঘন এক পোস্ট দেন ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার) এই সংসদ সদস্য।

তার সেই পোস্টে মাত্র দুই ঘণ্টায় লাইক ও রিঅ্যাক্ট পড়েছে আট হাজার। কমেন্ট করেছেন তেরো শর বেশি বন্ধু ও অনুসারী। তারা সবাই মন্ত্রীর এমন আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

হাসান ইকবাল শাহীন নামে একজন লেখেন, ‘আপনার এই অনুভূতি, চিন্তাধারা আর স্বীকারোক্তি এবং বাস্তবতার সংমিশ্রণ ভালোবাসার নিদর্শন আমাদের জন্য। প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য প্রেরণা ও আদর্শ হয়ে থাকবে। উঁচু-নিচুর বৈষম্যহীনতাই আমাদের জন্য জরুরি, যা ইসলাম ধর্মেও আছে… সবার উপরে মানুষ সত্য এটাই যেন রয়!’

মনির আহমেদ সুজন নামে আরেকজন লেখেন, ‘বাংলাদেশের সকল এমপি মহোদয়ের মনমানসিকতা এমন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যেত।’

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

মন্ত্রী তার ফেসবুকে লিখেছেন- পতাকাবাহী গাড়ি। পুলিশ প্রটোকল। বাড়তি লোকজনের ভিড়। এসব দেখে কিছুটা হতভম্ব ছিতুয়া। আমাদের সেই বন্ধুত্বের আবেগ আর আমার দুরন্তপনার দিনগুলো তখন অতীতের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে জ্বলজ্বলে তারা হয়ে উপস্থিত আমার চোখের সামনে।

কিন্তু ছিতুয়া প্রচণ্ড আড়ষ্ট। নিজেকে আড়াল করার কী ব্যর্থ চেষ্টা! আমি বুঝতে পারছিলাম, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চারপাশের প্রটোকলের আবহ ছিতুয়া আর আমার সম্পর্কের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল টেনে দিচ্ছে।

জনারণ্যে ‘এ্যাই ছিতুয়া’ বলে ডাকতেই ফিরে তাকাল সে। পড়ন্ত বয়সেও যেন সেই হারানো যৌবনের চকচকে চোখে মৃদু হাসিতে তাকাল আমার দিকে। দৃষ্টি বিনিময় হতেই বন্ধুকে বুকে টেনে নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্বের সাথে বললাম, এই ছিতুয়াই আমার স্কুলের বন্ধু। ছিতুয়ার তখন ছলছলে চোখ। আমারও গোপন অশ্রুবিন্দুগুলো তখন স্মৃতির মণিমুক্তা হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে দুই নয়ন।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছে ছিতুয়া। ছিতুয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে ধারাবাহিক পেশাগত সম্পর্ক ধরে রেখেছে বৌদি গীতা রানী। সেও এখন সুইপার পদে কর্মরত।

তো আসছি ছিতুয়ার প্রসঙ্গে। আমার বাবা মরহুম আক্তারুজ্জামান খান ছিলেন এই অফিসেরই উচ্চমান সহকারী (ইউডি অ্যাসিসট্যান্ট)। আর ছিতুয়ার মা (আমাদের প্রিয় মাসি মা) চানিয়া রানী ছিলেন সুইপার।

তখন ছিল স্বর্ণালি যুগ। আমরা যে মূল্যবোধে বেড়ে উঠছিলাম, সেখানে জাতপাতের কোনো বালাই ছিল না।

আরও অন্য বন্ধুদের মতো ছিতুয়াও ছিল আমার দুরন্ত শৈশব আর কৈশোর অসাধারণ এক বন্ধু। রংপুরের রবার্টসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই ছিল ছিতুয়া। তারপর পড়াশোনায় সে ইস্তফা দিলেও আমাদের বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি কখনো।

আহারে জীবন। আমার সোনালি অতীত। সোনালি কৈশোরের কত শত স্মৃতিমাখা এই রংপুর।

আজ ছিতুয়া ঝাপসা করে দিচ্ছে আমার চোখ দুটো।

ছিতুয়া আর আমার দুরন্তপনায় রীতিমতো অস্থির থাকত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনি। আমি দুঃসাহসী ‘গাছো’ ছিলাম। যে কোন গাছে কাঠবিড়ালের মতো তরতর উঠে পড়তে আমার আর ছিতুয়ার ছিল জুড়ি মেলা ভার। তো কলোনির আঙিনায় সারি সারি নারিকেল গাছের নারিকেল পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা আমাদের কারণে সাবাড় হয়ে যেত। তেমনি আম-কাঁঠালও।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে কৈশোরের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে অনেক কষ্টের।

সেই আনন্দ আর কষ্টের মিশেলে ভিন্ন‌ এক অনুভূতি আজ উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছে আমার বন্ধু ছিতুয়া।

সরকারি চাকরি কনটিনিউ করলে বেশ কয়েক বছর আগে আমার নিজেরও অবসর নিতে হতো। আমার বন্ধুদের অনেকেই দেশবরেণ্য চিকিৎসক, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিবসহ আরও কত কি!

ছিতুয়া অবশ্যই তাদের তুলনায় কম কিছু নয়।

বন্ধু মানে আস্থা, নির্ভরতা। বন্ধু মানে ভালোবাসা, যেখানে থাকে না কোনো স্বার্থ।

গাড়ির পতাকা, প্রটোকল, পদ-পদবি, সামাজিক অবস্থান এগুলো সব কিছুই সাময়িক। কিন্তু বন্ধুত্বের বন্ধন চিরদিনের।

ছিতুয়া বন্ধু আমার। তোর জন্য ভালোবাসা।

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন

বিএনপি আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিএনপি আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে শনিবার বিকেলে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নামক একটি দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর সমাবেশে বলে বেড়ান, নির্বাচন হতে দেবেন না। বিএনপিকে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করবে।’

বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

শনিবার বিকেলে ভোলার মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে সুধী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নামক একটি দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর সমাবেশে বলে বেড়ান, নির্বাচন হতে দেবেন না। বিএনপিকে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করবে।’

বাংলাবাজার আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব কলেজ মাঠে সমাবেশে এম এ মান্নান আরও বলেন, মনপুরা-চরফ্যাশনের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন। আগামী একনেক সভায় মনপুরা-চরফ্যাশন নদীভাঙন রোধ প্রকল্প তুলে ধরা হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, মনপুরা-চরফ্যাশনের মানুষ ভিটেমাটি রক্ষার জন্য নদীভাঙন রোধ চায়।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেলিনা আকতার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা, ওসি সাইদ আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান অলিউল্লা কাজল, নিজাম উদ্দিন হাওলাদারসহ অনেকে।

এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জ্যাকবসহ আওয়ামী লীগ নেতারা মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মেঘনার ভাঙনকবলিত মাস্টার হাট এলাকা পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
পর্যটনকেন্দ্র খুলছে আগামী বৃহস্পতিবার
খুলেছে হোটেল-মোটেল, পর্যটকে মানা
খুলছে না পর্যটনকেন্দ্র, বন্ধ জনসমাগম
হাওরে অভিজাত রিসোর্ট, ভাড়া নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে
এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

শেয়ার করুন