বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী

ঈদের দিন পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও পবিত্র ঈদুল আজহায় দর্শনার্থীদের সৈকতে প্রবেশ ঠেকানো যায়নি। বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেই সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সব পর্যটনকেন্দ্র।

প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও পবিত্র ঈদুল আজহায় দর্শনার্থীদের সৈকতে প্রবেশ ঠেকানো যায়নি। বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেই সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে বুধবার দুপুরে দেখা গেছে হাজারও মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

বিধিনিষেধের কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ফটকগুলোতে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। সৈকতমুখী মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে। বাধা দেয়া হচ্ছে সৈকতে নামতে।

প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ডে অবশ্য খুব একটা কাজ হচ্ছে না। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে না দিলেও অন্যান্য স্থানে নজরদারি কম থাকায় ঠিকই সমুদ্রে নামছেন অনেকে। সৈকতেও হাজারো মানুষ।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি, দরিয়া নগর, ইনানী, গোয়ালিয়া, পটুয়ারটেকসহ বেশ কিছু স্থানে প্রশাসনের নজরদারি কম দেখা গেছে।

টুরিস্ট পুলিশ বলছে, দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সব স্থানে পুলিশের টহল সম্ভব নয়।‌ আর তাই অনেক স্থানে দলে দলে সমুদ্রে নেমেছেন দর্শনার্থীরা। প্রশাসনের লোকজন আসলে তারা উঠে গেছেন, তবে পরক্ষণেই আবার নেমেছেন জলে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, ঈদ আনন্দ উপভোগে সৈকতে ছুটে এসেছেন তারা।

মুনতাসীর নামে এক পর্যটক বলেন, ঈদের সময় একটু বাড়তি আনন্দের জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আসলাম। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে বেড়াচ্ছি।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কক্সকাজার সৈকতে আসেন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা

হিমছড়ির দরিয়া নগরে আরেক দর্শনার্থী রায়হান বলেন, অনেক দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও বের হওয়া যাচ্ছিল না। বাচ্চারাও বায়না ধরেছে ঘুরতে যাবে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে সৈকতে বেড়াতে আসলাম।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৈকতে দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করলেও ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, সব স্থান কড়া নজরদারিতে রয়েছে। সৈকতে নামতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি মো. জামাল নিউজবাংলাকে জানান, সৈকতমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি যতটুকু সম্ভব প্রায় সব পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও দর্শনার্থীদের ঘরে ফেরাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, সৈকতে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ক হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে পর্যটকদের আসা বন্ধ থাকলেও শহরবাসীকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশীদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত পর্যটন স্পট খুলে দেয়া হবে না।

তিনি আরও জানান, সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারে সংক্রমণ বেড়েছে। জেলায় সংক্রামণের হার ২৫ শতাংশের উপরে। আগে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে করোনা মহামারি রোধে কঠোর লকডাউন পালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ রয়েছে।

কুয়াকাটায় হোটেলে স্থানীয়রা

ঈদের ছুটিতে অন্য এলাকার দর্শনার্থী না থাকলেও কুয়াকাটা সৈকতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু আবাসিক হোটেলে তারা থাকছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে টুরিস্ট পুলিশের কড়াকড়ির কারণে সৈকতে নামতে পারেননি তারা। পরে বিকল্প হিসেবে কুয়াকাটার পশ্চিমে ব্লোকপাড়ে ভিড় করেন তারা।

সৈকতে আসা এসব দর্শনার্থীদের সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা গেলেও অনেককে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। সমুদ্রের কাছে এসেই অনেকে মাস্ক খুলে ফেলেন। পরিবারের সদস্য নিয়েও অনেককে সৈকতে ঘুরতে দেখা গেছে।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী

কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ী কে এম বাচ্চু জানান, কুয়াকাটায় প্রতি বছর রমজান ও কোরবানির ঈদের দিন থেকে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটে। তখন পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভালোই ব্যবসা হয়। তবে এ বছর ঈদের দিন বিকেলে কিছু দর্শনার্থীর দেখা মিললেও তারা সব বরিশাল বিভাগের।

গ্রিন ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবুল হোসেন রাজু জানান, শুক্রবার থেকে ফের লকডাউনের ঘোষণা থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা আসেননি। এ ছাড়া প্রশাসনের কড়াকড়িও চোখে পড়ার মতো।

ভোলা থেকে আসা সামসুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে বরিশালে বেড়াতে আইছি। সেখান থেকে চলে আসলাম কুয়াকাটায়। পরিবেশটা খুব ভালো। পর্যটক নাই। ভালোই লাগছে। রাতেই চলে যাব বরিশালে।’

বরিশালের হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চার বন্ধু মিলে দুই মোটরসাইকেলে আইয়া পড়লাম সাগরের বাতাস খাইতে। কোনো হোটেল মোটেল খোলা পাইলাম না। কিছুক্ষণ থেকে আবার চইলা যামু।’

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী সুপার আবদুল খালেক জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটন এলাকায় হোটেল মোটেল বন্ধ রাখার কথা। কুয়াকাটায়ও তা মানা হচ্ছে। কিছু পর্যটক আসলেও তাদের সৈকতে নামতে দেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন:
কোরবানির সময় আহত শতাধিক
হতদরিদ্র পরিবারের পাশে কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন
ভাসানচরে প্রথম কোরবানি ঈদ
ঈদে ঢাকায় রাস্তা ফাঁকা
কোয়ারেন্টিনে পেলেন তারা ঈদের খাবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য