অ্যালোভেরার লাভ-ক্ষতি

অ্যালোভেরার লাভ-ক্ষতি

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে অ্যালোভেরার জুস পান করা সবচেয়ে ভালো। চাইলে অন্য যেকোনো সময়েও এটা খেতে পারেন।

অ্যালোভেরার গুণের কথা আমরা কম-বেশি সবাই জানি। বিশেষ করে ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এর জুড়ি নেই।

তবে আমরা অনেকেই জানি না যে, অ্যালোভেরা শরীরের আরও অনেক উপকার করে।

অ্যালোভেরায় ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন), সি, ই, ফলিক অ্যাসিড এবং কোলিনসহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা মুক্ত র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে।

যাদের পেটের সমস্যা রয়েছে এবং যারা নিয়মিত ব্রণের সমস্যায় ভুগছেন তারা অ্যালোভেরার জুস পান করলে উপকার পাবেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য কাটিয়ে ওঠার জন্য অ্যালোভেরা উপকারী। এটি মলকে নরম করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

অ্যালোভেরায় এমন কিছু খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্যাট কমায়। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

শরীরে কোলেস্টেরল থাকা প্রয়োজন। তবে বেশি পরিমাণে কোলেস্টেরলে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। খারাপ কোলেস্টেরল হার্টের ক্ষতি করে। অ্যালোভেরা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

অ্যালোভেরার জুস বানানো খুব সহজ। বাজারে প্রচুর অ্যালোভেরা পাওয়া যায়। তাজা অ্যালোভেরা সংগ্রহ করে ভেতর থেকে জেল বের করুন। পানিসহ দুই চা-চামচ অ্যালোভেরা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন। ব্যস হয়ে গেল অ্যালোভেরার জুস। চাইলে সামান্য বিট লবণ অথবা পুদিনাপাতা যোগ করতে পারেন স্বাদের জন্য।

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে অ্যালোভেরার জুস পান করা সবচেয়ে ভালো; চাইলে অন্য যেকোনো সময়েও এটা খেতে পারেন।

অতিরিক্ত কোনো কিছুই যেমন ভালো নয়, তেমনি অতিরিক্ত অ্যালোভেরাও ক্ষতিকর। দিনে ১০০ গ্রামের বেশি অ্যালোভেরা কিডনির ক্ষতি করে। হতে পারে ডায়রিয়াও। গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদের অ্যালোভেরা পান করা উচিত নয়। কারণ এটি তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।

অ্যালোভেরা ব্যবহারের কারণে যদি কোনো স্বাস্থ্য অনিয়ম হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে এটা পান বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ 

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ 

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ৪০০ থেকে ৫০০ বছর আগের কুতুবশাহী মসজিদটিকে ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

মসজিদটিতে ৩৫ বছর ধরে খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ। তিনি জানান, হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনী (র.) ৫৯০ হিজরিতে আরবের ইয়ামীন প্রদেশ থেকে ১২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে এখানে আসেন ইসলাম প্রচারের জন্য। এখানে তার কবর রয়েছে। ধারণা করা হয় তার অনুসারীরা পরবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে হাওরের জন্য বিখ্যাত হলেও সেখানে আছে ঐতিহাসিক নানা স্থান। তার মধ্যে অন্যতম কুতুবশাহী মসজিদ।

৪০০ থেকে ৫০০ বছর আগের মসজিদটিকে ১৯০৯ সালে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে এত দিন ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দেখতে যেত কম মানুষই।

সম্প্রতি হাওরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার পর সেখানে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। ২০২০ সালের ৪ আগস্ট মসজিদটিকে সংস্কারও করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ময়মনসিংহসহ ওই এলাকার সবচেয়ে পুরোনো স্থাপনা হিসেবে ধরা হয়। এর নির্মাণশৈলীতে রয়েছে সুলতানি ও মোগল আমলের ছাপ।

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

দুই সময়ের নির্মাণশৈলী ও কোনো নির্মাণফলক না থাকায় মসজিদটি নির্মাণের সময় নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মসজিদটি ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে বলে মনে করেন।

অন্যদের দাবি, এটি সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে নির্মিত হয়েছে বলেই মসজিদটিতে সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনীর (র.) মাজার রয়েছে মসজিদটির পাশে। তার নামেই এ মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, তার অনুসারীরা মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কারুকার্যখচিত আয়তকার মসজিদটির বাইরের দেয়ালে আছে পোড়ামাটির চিত্রফলক, প্যানেলে আছে কারুকাজ। মসজিদের ছাদে পাঁচটি গম্বুজের মধ্যে মাঝেরটি বড়। বাকি চারটি একটু ছোট। এর উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুটি করে চারটি এবং পূর্ব পাশে তিনটি প্রবেশপথ রয়েছে। এগুলো সুলতানি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ।

এ ছাড়া মসজিদের পূর্ব পাশের প্রবেশপথের বিপরীতে তিনটি মেহরাব রয়েছে। মসজিদের পশ্চিম পাশে রয়েছে কুতুবশাহের কবর। মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে আরও পাঁচটি কবর। এগুলো কুতুবশাহের সফরসঙ্গীদের বলে কথিত আছে। মসজিদের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে ২০ জন খাদেমের কবরও রয়েছে।

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

মসজিদটিতে ৩৫ বছর ধরে খাদেমের দায়িত্ব পালন করছেন হযরত মাওলানা শাহ আব্দুল আজিজ। কিছুদিন আগে তিনি চেরাগী খাদেমের দায়িত্ব পেয়েছেন।

তিনি জানান, এই মসজিদে আরও ৭ খাদেম রয়েছেন। তারা সবাই বংশপরম্পরায় দায়িত্ব পেয়েছেন। বর্তমানে খাদেমদের মধ্যে সবার মুরব্বি মরসন্দ আলী শাহ ফকির। তিনি অসুস্থ থাকায় এখন দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল আজিজ।

আব্দুল আজিজ জানান, হযরত শাহ কুতুব ইয়ামিনী (র.) ৫৯০ হিজরিতে আরবের ইয়ামীন প্রদেশ থেকে ১২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে এখানে আসেন ইসলাম প্রচারের জন্য। এখানে তার কবর রয়েছে। ধারণা করা হয়, তার অনুসারীরা পরবর্তী সময়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দাদাদের মুখ থেকে শুনেছি, ইংরেজ শাসনামলেও এই মসজিদে একটি শিলালিপি ছিল। পরে ইংরেজরা সেই শিলালিপিটি গায়েব করে ফেলে। ফলে এর সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে পারে না।’

মসজিদের আরেক খাদেম হযরত মাওলানা আবদুস সামাদ শাহ ফকির জানান, ১৯০৯ সালে সরকার ঐতিহাসিক এই মসজিদটিকে সংরক্ষিত পূরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করলেও যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় স্থানীয় লোকজন ছাড়া সেখানে বাইরের কেউ তেমন যেত না। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় প্রতিদিনই দর্শনার্থী আসেন।

তিনি আরও জানান, প্রতিবছরের মাঘ মাসের শেষ শুক্রবারে এখানে ওরস শরিফ পালন করেন তারা। এ ছাড়া বুধবারে মাজারে কোরআন খতম এবং মাজারে গিলাফ ছড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার হয় ওয়াজ মাহফিল।

আবদুস সামাদ বলেন, ‘প্রতিবছরই এ অনুষ্ঠানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষ এখানে জড়ো হন। অনেকে এখানে এসে মানত করে যান। মনের বাসনা পূরণ হলে মসজিদে এসে মানত পূরণ করেন। পুরো উপজেলার বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি এই মসজিদ জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন।’

হাওরের ঐতিহ্য কুতুবশাহী মসজিদ

বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট কুতুবশাহী মসজিদটি বাংলার সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে নির্মিত।

বিখ্যাত দরবেশ কুতুব শাহের নামানুসারে আয়তকার মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণ দিকে দৈর্ঘ্য ৪৬ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৭ ফুট ১১ ইঞ্চি। বাংলার চৌচালা ঘরের চেয়ে এর কার্নিশগুলো বেশি ঢালু। মসজিদের চার পাশে আট কোণ বিশিষ্ট চারটি মিনার রয়েছে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল আলম বলেন, ‘কুতুবশাহী মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য। এই মসজিদের দেখভাল করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। তাদের নির্দেশনা ছাড়া আমরা মসজিদে কোনো কাজ করতে পারি না।

‘তবে মূল স্ট্রাকচারের বাইরে সৌন্দর্যবর্ধন বা রাস্তাঘাট, ওয়াশরুম বা অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজগুলো করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। আমার স্থান থেকে মসজিদটির সৌন্দর্যবর্ধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

খাগড়াছড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছিলেন সুমন চাকমা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তার।

সুমন চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটির কাছে খাগড়াছড়ি হলেও কম আসা হয়। সেতুতে ঘুরতে এসে দেখলাম পানির নিচে ডুবে গেছে। এত কষ্ট করে এসেও কোনো লাভ হলো না।’

প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ডুবে যায় রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এ সময় সেতুর পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপরে উঠে আসে হ্রদের পানি। নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় চলাচলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু ডুবলে পারাপারের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। কমে যায় পর্যটকের আনাগোনাও।

এসব কারণে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকও বিপাকে পড়ছেন। তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন সেতু থেকে পানি নেমে যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮৬ সালে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণের সময় যদি সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো এমন বেহাল হতো না ।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি তবলছড়ি এলাকার দুই দ্বীপের দুই পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুটি। তবে কয়েক দিন টানা হালকা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। ডুবে গেছে সেতুটিও।

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’


এ কারণে হতাশ পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন । নৌকা দিয়ে এপার থেকে ওপারে পার হচ্ছেন তারা। একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে পারাপারে দিতে হচ্ছে টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘পানি নেমে গেলে আবারও আগের মতো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে।’

সেতু দেখতে ঢাকা থেকে এসেছেন তানজিদা ও রাসেল।

তানজিদা বলেন, ‘লকডাউন খুলে দেয়ায় অনেক আশা নিয়ে রাঙামাটিতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখার ইচ্ছা ছিল খুব। এত সুন্দর রাঙামাটি। তবে সেতুটি এভাবে দেখব কখনও ভাবতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার করে যদি সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায়, তাহলে কোনো পর্যটক পরে বেড়াতে এসে হতাশ হবেন না।’

সেতু এলাকায় নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটির ডুবে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি সেতুটিতে বড় ধরনের কাজ করতে হয়, তাহলে আগামী বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ চত্বরকে আরও সাজিয়ে তুলতে দেয়ালে কিছু কারুকাজ করার পরিকল্পনা আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতেই এই চত্বর করা।

একপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‍্যাল, আরেক পাশে শহীদ মিনার। মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এখন শোভা বাড়াচ্ছে এই স্থাপনাগুলো। এর নামে দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ চত্বর’।

সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের ফটক পার হলেই ডান দিকে এই চত্বর। উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় (ইউএনও) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক একর জমিতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের অর্থায়নেই এটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথমে খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ২৭ লাখ টাকা। পরে তা বেড়ে হয় প্রায় ৪১ লাখ টাকা।

এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি বাংলাদেশ চত্বর। স্থাপনাগুলোর পেছনের দেয়ালে কাজ বাকি আছে। দেয়াল ঘেঁষে লাগানো হয়েছে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছ। সেগুলো এমনভাবে লাগানো যেন বেড়ে উঠলে আর ফুল ফুটলে বাংলাদেশের পতাকার মতো সবুজের মাঝে লাল দেখায়।

দৃষ্টিনন্দন এই চত্বর পেয়ে খুশি উপজেলাবাসী।

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

স্থানীয় বালিয়াটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মিশু বলে, ‘আমাদের এখানে বাংলাদেশ চত্বর হইছে। আমরাও কিছু শিখতে পারব আর আমাদের ছোট ভাইবোন আছে, তারাও দেশের ইতিহাসের কিছু শিখতে পারবে।’

সাটুরিয়ার সৈয়দ কালু শাহ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আখি আক্তার লিজা জানান, আগে এখানে কেবল শহীদ মিনারটি ছিল। এখন নতুন স্থাপনা বসিয়ে জায়গাটি সাজানোয় তা আকর্ষণীয় হয়েছে।

বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সোহেল চৌধুরী বলেন, ‘এখানে এক চত্বরেই শহীদ মিনার, স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আছে। মোট কথা এখানে আসলে বাংলাদেশকে আমরা হাতের মুঠোয় পাই এবং বাংলাদেশের চিত্র আমাদের চোখে ফুটে ওঠে।’

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ চত্বরকে আরও সাজিয়ে তুলতে দেয়ালে কিছু কারুকাজ করার পরিকল্পনা আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতেই এই চত্বর করা।

ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, ‘এতো বড় একটা উপজেলা আর এর ওয়ালে ছিল ছোট্ট একটা শহীদ মিনার। এটা দেখে আত্মসম্মানে লাগত। এরপর ভাবছিলাম কিছু করার।

‘এরপর যখন বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যাল করার নির্দেশনা আসল, তখন চিন্তা করলাম। পুরো এরিয়াজুড়ে যদি আমরা এটা ডিজাইন করে রাখি, তাহলে পার্ট বাই পার্ট আমরা ধীরে ধীরে করতে পারব। কারণ এটা আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ন একটা অংশ।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

নীলফামারীর ‘বাঘমারা’ বটগাছটি ২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারীর ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাঘমারা’ বটগাছ যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বটগাছটি কে লাগিয়েছিলেন তার সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ বছর আগে এই এলাকার একটি বাড়িতে বাঘ ঢুকেছিল। এ সময় বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করে ওই বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই বটগাছটি ‘বাঘমারা’ নামে পরিচিতি পায়।

গাছটি লাগানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমতিবালা বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দাদা গাছটি লাগিয়েছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। এখন এটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে আসছে এই গাছটি।’

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে বটগাছটির অবস্থান। গাছটির একদিক দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন, অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং আরেকদিকে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে চলাচল করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা দিন দিন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে যারা এই পথে চলাচল করেন তারা একটু হলেও বটগাছের নিচে জিরিয়ে নেন।

হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এটি অনেক পুরোনো বটগাছ। গাছটি ঘিরেই চলাচলের এই পথ তৈরি হয়েছে। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত বলেন, ‘বটপাকুরের বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এই বটগাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে না পারলেও সবার ধারণা ২০০ বছরের কম নয়। এখানে মানুষ আড্ডা দেন, বসে থাকেন, সময় কাটিয়ে আনন্দ পান।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এত বড় বটগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বরগুনা বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। 

বরগুনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ব্যস্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এ কারণে পরিবারকে সময় দেয়া হয় কম।

স্ত্রী ও মেয়ের আবদারে তাদের নিয়ে গত রোববার ঝন্টু বেড়াতে যান বরগুনা-বরইতলা সড়কের ক্রোক এলাকায়, সদ্যঃসমাপ্ত বিসিক শিল্পনগরীতে। সেখানে এখন মাঠ ছেয়ে আছে শরতের কাশফুলে।

এলাকার লোকজন এই জায়গাটির নাম দিয়েছে ‘বরগুনার দিয়াবাড়ি’। রাজধানীর উত্তরায় কাশফুলের জন্য জনপ্রিয় স্পট দিয়াবাড়ির অনুকরণেই এই নামকরণ।

কাশফুল দেখে শৈশবে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কিছু লাইন আওড়ে নিলেন ঝন্টু।

“‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা/ একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা..’ এসব কাশফুল দেখেই তো বড় হয়েছি। নদীতীরে কাশবনের দোল খাওয়া দেখেছি। এখন আর তেমনটা নেই। এখন এ রকম কোথাও কাশফুলের দেখা পেলেই মানুষ ছুটে আসে। এখানে নিরানন্দ সময়টা কাশবনে এসে একটু উপভোগ করছি।”

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের বিকেলের স্নিগ্ধতা যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোটোখাটো এই কাশবন। বরগুনা শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে এই এলাকা।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

সদরের ঢলুয়া এলাকার তানিয়া জামান পরিবারসমেত সেখানে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসা। বাড়ির কাছেই এত সুন্দর প্রকৃতির রূপ না দেখে থাকা যায়!’

স্থানীয় সমাজকর্মী জাফর হোসেনও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতেই প্রকৃত শান্তি। শরতের আবহাওয়া এমনিতেই চমৎকার। এর মধ্যে শুভ্র কাশের বন, অন্যরকম এক ভালোলাগা।

‘আমি ঢাকার দিয়াবাড়িতেও ভ্রমণ করেছি। এই স্থানটি দেখে আমার মনে হয় এটা বরগুনার দিয়াবাড়ি। যারা এখানে আসি আমরাই এর নাম দিয়েছি- বরগুনার দিয়াবাড়ি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

নীল শাড়িতে সেজে বন্ধুদের সঙ্গে কাশবনে এসেছেন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই জান্নাত।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দি প্রায়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। একঘেয়ে জীবন। তাই সবাই পরিকল্পনা করে কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে এখানে চলে এসেছি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

বিসিকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে এখন প্লট বরাদ্দের কাজ চলছে। যে স্থানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে ওই স্থানে বালি ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন কাশফুলের সমারোহ।

‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে। একটা জমজমাট পরিবেশ। বেশ ভালো লাগে। এখনও এখানে বিসিকের কলকারখানা স্থাপন শুরু হয়নি। তাই নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হয় না।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস জানায়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনে দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পর্যটনের দেশ থাইল্যান্ড।

সোমবার থেকে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন নেয়া শুরু করছে বাংলাদেশে দেশটির দূতাবাস। রোববার ঢাকার থাই দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে গত ১০ মে থেকে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল থাইল্যান্ড।

রোববার বিজ্ঞপ্তিতে থাই দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন চালু করার ঘোষণা করছে রয়েল থাই দূতাবাস। সোমবার থেকে দূতাবাস সব ভিসা এবং সিওই আবেদন নেয়া শুরু করবে।

এতে আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে যায় পর্যটনের উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্যও অনেকে দেশটিতে যান।

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফের সারবাংয়ে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক পর্যটন নগরী। এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

কক্সবাজার সৈকতের ঘোলা পানি নিয়ে আক্ষেপের দিন শেষ হতে চলেছে। সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক।

পর্যটন পার্কটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বলছে, এটি চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত আমূল বদলে যাবে।

বেজা জানিয়েছে, পর্যটনের জন্য বিশেষ এ অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ শেষ, এখন চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজ। সেটি শেষ হলেই স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এই পর্যটন পার্কের পরিকল্পনা করা হয় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর। শুরুতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে এলাকাটি উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে দায়িত্ব পায় বেজা।

২০১৪ সালে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে ৯৬৭ একর জমিতে এ পর্যটন পার্ক তৈরির কাজ শুরু হয়। এটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা। তবে এতে দেশি পর্যটকরাও যেতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বে নির্মাণ হচ্ছে এই পার্ক।

দেশে বিদেশি পর্যটকের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সরকারি হিসেবে প্রতি বছর দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ বিদেশি নাগরিকের আনাগোনা থাকে। এর মধ্যে পর্যটক যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ীরাও। সরকার আশা করছে, সাবরাং পর্যটন পার্ক যাত্রা শুরু করলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।

বলা হচ্ছে, এই পার্কে প্রতিদিন পায় ৩৯ হাজার পর্যটক পর্যটন সেবা নিতে পারবেন।

নির্মিতব্য এই বিশেষ পর্যটন এলাকাটির অবস্থান কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার আর টেকনাফ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের সাথে এলাকাটির সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে অবস্থান বঙ্গোপসাগরের। কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে সাবরাং যেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

এখন পর্যন্ত এই সাবরাং পর্যটন পার্কে বিনিয়োগ এসেছে ২৪ কোটি ডলারেরও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক এক পর্যটন নগরী।

এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন মাঝ পর্যায়ের কাজগুলো চলছে। প্লট তো দেয়া হয়ে গেছে। ক্যানেলের কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে একটি প্রশাসনিক ভবন করছিলাম সেটার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

‘মাটি ভরাটের টেন্ডার ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার, সেটার পর্যবেক্ষণ চলছে। মাটি ভরাট হলেই আসলে ডেভেলপার যারা প্লট নিয়েছে তারা কাজ শুরু করে দেবে।’

সাবরাং পর্যটন পার্কটি তৈরি হয়ে গেলে পুরো কক্সবাজারের পর্যটন খাত বদলে যাবে বলে মনে করছে বেজা। মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর কারণ হলো এটা সমুদ্রের কাছে। তারপর এটা আমরা পুরোটাই পরিকল্পিতভাবে করছি। এতে খোলা জায়গা থাকবে, ক্যানেল থাকবে, ভেতরে এমিউজমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। মানে একটা অত্যাধুনিক পরিকল্পনা করে আমরা সামনে এগুচ্ছি।

‘কক্সবাজারে যেটা হয়েছে, সেটা কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছে, করেছে। এখানে কিন্তু সেটা না। প্লট দেয়া হলেও একটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখেই ভবন করতে হবে। ভেতরে সবুজ বাতাবরণ থাকবে। পরিবেশটাই হবে অন্যরকম। যখন এটা চালু হবে, আমার মনে হয় পর্যটকরা অবশ্যই এখানে আসবে।’

সাবরাং থেকে মাত্র আধাঘণ্টায় যাওয়া যায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস। এর ফলে পর্যটকরা দিনে গিয়ে দিনেই সেখান থেকে ফিরে আসতে পারবেন। আর এতে ঝুঁকির মধ্যে থাকা সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ বৈচিত্রও রক্ষা পাবে।

মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এখান থেকে আবার সেন্ট মার্টিন দেখা যায়, খুব কাছেই। এ কারণে এটিই হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। এখানে আবার আমরা একটি ফটো কর্নার করেছি, ক্লক টাওয়ারের মতো।

‘এটা চালু হলে এই এলাকার অর্থনীতিই বদলে যাবে পাশাপাশি মানুষের রুচিতেও আমূল পরিবর্তন আসবে।’

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হলেও এটিতে যেতে পারবেন দেশি পর্যটকরাও। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা এক্সক্লুসিভলি বিদেশি পর্যটকদের জন্য হবে না। যদিও এখন আমরা যে পলিসি তৈরি করছি তাতে বিদেশি পর্যটকই আমাদের মূল টার্গেট। বৈদেশিক মুদ্রা মূল টার্গেট। কিন্তু এর মধ্যে দেশিরা যে আসতে পারবে না তা না।

‘এখানে যে হোটেল রিসোর্টগুলো হবে, সেগুলোতে একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। যেমন, যদি ধরা যায় রয়্যাল টিউলিপ হোটেল, এটাতে তো বিদেশি ও দেশি উভয় পর্যটকই থাকতে পারে। ঠিক এ ধরনের স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। ভেতরে যে কেউ যেতে পারবে, ঘুরতে পারবে। সুন্দর একটা গেট করছি, টেন্ডার হয়ে গেছে। যখন মূল কাজগুলো হয়ে যাবে, তখন বিনিয়োগকারীরা আসবে, কাজ করতে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই পর্যটনের বিকাশ হবে না, বরং মনোযোগ দিতে হবে ব্র্যান্ডিংয়ে।

পর্যটন বিষয়ক পত্রিকা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহেদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম একটি পার্ক বা পর্যটন অঞ্চল যদি করা যায়, এটি নিঃসন্দেহে খুব ভালো একটি উদ্যোগ। তবে যে কোনো ভাল উদ্যোগকে সমর্থনের জন্য ভাল নীতিও থাকতে হয়। আমাদের দেশের ট্যুরিজম পলিসিটাই তো এখনও ঠিক হয়নি। পর্যটনের জন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যানও নেই।

‘এই যে একটা ভাল জিনিস আমরা করছি, এটাকে মার্কেটিং কীভাবে করব? কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের এখানে আসতে উদ্বুদ্ধ করব? আমরা কতটুকু সুযোগ সুবিধা দিতে পারব – এই বিষয়গুলোও একই সাথে ভাবতে হবে। দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের তো অনেক প্রডাক্ট রয়েছে, যেমন সুন্দরবন বা কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত অথবা বুদ্ধিস্ট হ্যারিটেজ। কিন্তু এগুলো কি আমরা বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে পারছি?’

তিনি বলেন, ‘শুধু কিছু অবকাঠামো তৈরি করেই যদি আত্মতুষ্টিতে ভুগি, তাহলে কিন্তু সুফল পাওয়া যাবে না। পর্যটকবান্ধব একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে, ব্র্যান্ডিং করতে হবে। সর্বোপরি পর্যটন খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
লকডাউনে প্রেম ধরে রাখবেন যেভাবে
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিন
বাড়ি থেকে অফিস
লম্বা চুল পেতে চাইলে
শ্যাম্পু ব্যবহারের নিয়মকানুন

শেয়ার করুন