যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

দীর্ঘদিন আম সংরক্ষণ করে রাখা যাবে, সে ক্ষেত্রে মানতে হবে কিছু নিয়ম। ফাইল ছবি

আম ও কাঁঠাল ক্লাইমেকটেরিক ফল হওয়ায় এগুলো বেশি দিন রাখা যায় না। তবে কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে এক মাস পর্যন্ত আম সংরক্ষণ করা সম্ভব। 

কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়, আর আমের উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম বাংলাদেশ। তবে এসব ফল নির্দিষ্ট মৌসুমে সীমাবদ্ধ। চাইলেও বেশি দিন তাজা সংরক্ষণ করা যায় না। এতে উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সংরক্ষণকাল ১৫ দিন থেকে এক মাস বাড়িয়ে নেয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেসব ফল বেশি দিন সংক্ষণ করা যায়, যেগুলো গাছ থেকে পাড়ার পর এর অবস্থার পরিবর্তন হয় না। এসব ফল পরিপক্ব হওয়ার পর যে অবস্থায় গাছ থেকে পাড়া হয়, সে অবস্থাতেই থাকে। তবে যেসব ফল গাছ থেকে পাড়ার পর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে বা পরিপুষ্ট হওয়ার পর ঘরে রাখলে পেকে যায়, সেসব ফলের সংরক্ষণকাল কম। এর মধ্যে আম-কাঁঠাল অন্যতম।

বিজ্ঞানের ভাষায় বললে, ফল দুই ধরনের। একটি ক্লাইমেকটেরিক ফ্রুট, অপরটি নন-ক্লাইমেকটেরিক ফ্রুট।

ক্লাইমেকটেরিট ফলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব ফল গাছ থেকে বাড়িতে পেড়ে রাখার পরও রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ চলে। এ ধরনের পরিপক্ক ফল থেকে ইথিলিন উৎপন্ন হয়, যা ফলটিকে আরও পাকিয়ে তোলে। এ ছাড়া ফলের মধ্যে কোষীয় পরিবর্তন ঘটে। আম-কাঁঠাল-পেঁপে-কলা এ ধরনের ফল।

নন-ক্লাইমেকটেরিক ফল থেকে ইথিলিন উৎপন্ন হয় না। ফলে ঘরে রেখে দিলেও পাকে না, মিষ্টিও বাড়ে না। যেমন, আঙ্গুর ও স্ট্রবেরি।

ফল সংরক্ষণের উপায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমের মতো ফলগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ১৫ থেকে ২০ দিন বা সর্বোচ্চ এক মাস রাখা যায়। সংরক্ষণ সময় বাড়াতে পুরোপুরি পাকার আগে ফল পরিপক্ক হলেই গাছ থেকে পাড়তে হবে। যে স্থানে তা রাখা হবে তা অবশ্যই বাতাস চলাচলের উপযোগী ও শীতল হতে হবে। প্রয়োজনে ইলেকট্রিক ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। আর্দ্র আবহাওয়ায় ও বদ্ধ ঘরে আম তাড়াতাড়ি পাকে এবং সহজে পচন ধরে যায়।

যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন
কাঁঠাল সংরক্ষণে জানতে হবে কিছু বিষয়

তবে একেবারে কম তাপমাত্রায় রাখা যাবে না। কারণ এতে ফলের ওজন কমবে এবং ফল শুকিয়ে যাবে। তাই ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা উপযুক্ত।

কাঁঠালের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি প্রযোজ্য।

আবার এ সময় কোনো ফলে পচন দেখা দেয়ামাত্রই আলাদা করে রাখতে হবে, কারণ এর জীবাণু অন্যান্য ফলকে আক্রমণ করে।

তবে বাড়িতে রাখতে গেলে আস্ত আম প্রথমে কাগজের ব্যাগে ভরে নিতে হবে। পরে কাগজের ব্যাগটি একটি কাপড়ের ব্যাগে ভরে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। তৃতীয় ধাপে ব্যাগটি অন্য একটি পলিথিন ব্যাগে রাখতে হবে। এরপর ব্যাগটি রেখে দিতে হবে ডিপ ফ্রিজে।

এতে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে আম।

কাঁঠালের ক্ষেত্রে কোষগুলো আলাদা করে অল্প সময়ের জন্য হলে ফ্রিজের নরমাল অংশে এবং বেশি দিনের জন্য হলে ডিপে সংরক্ষণ করতে হবে।

গরম পানিতে আম শোধন

গরম পানিতে আম শোধন করলে আমের সংরক্ষণক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি আমের মধ্যে থাকা দূষিত পদার্থ এবং রোগবালাইও দূর হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) গরম পানিতে আম শোধনের (হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট) এমন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। বিদ্যুচ্চালিত এই যন্ত্রে ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পানির ভেতরে পাঁচ মিনিট আম রাখলে তা পরিশোধিত হয়। বিদ্যুচ্চালিত এ যন্ত্রের এক প্রান্তে গরম পানির মধ্যে প্লাস্টিকের আমভর্তি ঝুড়ি চুবিয়ে দেয়া হয়। এটি অন্য প্রান্তে যেতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। পরে আমগুলো থেকে পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) গবেষকরা বলছেন, দেশে গাছ থেকে আম পাড়ার পদ্ধতি অবৈজ্ঞানিক। আম পাড়ার পর আমের বোঁটা থেকে নির্গত রসে ম্যালিক অ্যাসিড থাকে। এই অ্যাসিড আমের পচন ত্বরান্বিত করে। এ রোগকে বোঁটা পচা রোগ বা অ্যানথ্রাক নোজ বলে। এ ছাড়া আমে মাছি পোকার (ফ্রুটফ্লাই) আক্রমণ হয়ে থাকলে ওই পোকার ডিমও সেখানে থাকতে পারে। সেই ডিম কয়েক দিনের ব্যবধানে পোকায় পরিণত হয়। গরম পানিতে শোধন করলে সেই ডিম নষ্ট হয়ে যায়, আমের সংরক্ষণক্ষমতাও বাড়ে। বাড়িতেও একই তাপমাত্রাায় আম শোধণ করে সংরক্ষণ করা যায়।

বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ফল) বাবুল চন্দ্র সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, উচ্চ ইথিলিন উৎপন্ন হয় এমন ফল বেশিদিন থাকে না। তাই বৈজ্ঞানিক ভাবেই আম-কাঁঠাল স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বেশি দিন তাজা রাখা যায় না। বেশি দিন কম তাপমাত্রায় রাখলেও পচন ধরে। ঠান্ডাজনিত ক্ষত হয়ে যায়। স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিশ্বের কোথাও এসব ফল এক মাসরে বেশি রাখা যায় না।

তিনি বলেন, ‘কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে কিছুদিন সংরক্ষণ করা যায়। ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে এবং আর্দ্রতা ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ রাখা গেলে আম-কাঁঠাল সর্বোচ্চ এক মাস রাখা যাবে। ট্রান্সপোর্টেশনের জন্য বা রপ্তানি করার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এর বেশি হলেই ফল নষ্ট হয়ে যাবে বা গুণগত মান আর থাকবে না। আবার আমের ক্ষেত্রে হট ওয়াটার ট্রিটমেন্টও ব্যবহার করা যায়।’

তিনি বলেন ‘তবে বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থায়। যেমন কাঁঠাল পুরোপুরি পাকার আগে একটু শক্ত থাকতে কোয়া খুলে তা একই তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। আবার আমের ক্ষেত্রে পাল্প করে রাখা যায়। পাকা আম ভালোভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিয়ে লম্বাভাবে টুকরো করে কাটতে হবে। এই আমের টুকরোগুলো ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে। বড় বড় কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে আমের পাল্প সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছে। আম-কাঁঠাল থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবারও তৈরি করা যায়। তবে সবচেয়ে ভাল বিকল্প হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জাত উদ্ভাবন, যাতে সারা বছর ফলন পাওয়া যায়।’

আম-কাঁঠালের অবস্থা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য বলছে, ২০ বছর ধরে বাংলাদেশে সাড়ে ১২ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশ কাঁঠাল উৎপাদনে সারা বিশ্বে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম ও পেয়ারায় অষ্টম। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ ১০ নম্বর স্থান দখল করেছে। এখন দেশে ৭২টিরও বেশি দেশি-বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৪ লাখ টন আম উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৯ লাখ টন আম উৎপাদন হয়। কাঁঠালের বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ ১০ লাখ টন। সংরক্ষণ সময় স্বল্পতা ও নানা কারণে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়।

আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বলছে, প্রচুর আম উৎপাদন হলেও রপ্তানিতে অবদান সামান্য – বছরে মাত্র এক হাজার টনের মতো। বিদেশে চাহিদা থাকার পরও কম সংরক্ষণ সময়ের কারণে কাঙ্খিত হারে আম রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তাই গরম পানিতে শোধনের মাধ্যমে আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে তা রপ্তানি উপযোগী করার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার।

‘ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে আমের রপ্তানি বাজার সম্পসারণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ জন কৃষক, উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ও প্রক্রিয়াজাতকারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। গরম পানিতে শোধন করলে আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে এবং আমে থাকা রোগ-বালাই ও জীবাণুও নষ্ট হবে। একই সঙ্গে সংরক্ষণ ব্যবস্থাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হবে, যা আমের রপ্তানি উপযোগিতা বাড়বে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আম উৎপাদন এলাকায় বড় পরিসরে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। একই ধরনের ভিএইচটি স্থাপন করতে চায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), বিএডিসি, ডিএইসহ কয়েকটি সংস্থা।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

স্বাস্থ্যরক্ষা করবে দেশীয় ফল

স্বাস্থ্যরক্ষা করবে দেশীয় ফল

যেকোনো ফল থেকেই মেলে ভিটামিন ও অ্যান্টি অক্সিডান্টস। অ্যান্টি অক্সিডান্টস ফ্রি রাডিকালসের আক্রমণ ঠেকায়।

‘এন অ্যাপল এ ডে, কিপস দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে’-কথাটা এমনি এমনি প্রচলিত হয়নি। শুধু আপেল নয়, প্রতিদিন যেকোনো ফল খেলে আপনি ডাক্তার থেকে দূরে থাকতে পারবেন। খুব দামি কিংবা বিদেশি অ্যাভোকডো, রাস বেরি ফল না হলেও চলবে।

আমলকী, পেয়ারা, জামরুল, কলা, আনারস কিংবা দেশি যেকোনো ফল খেলেই আমাদের শরীর থাকবে রোগমুক্ত। এর প্রতিটিই আপনার স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য একান্ত প্রয়োজনীয়। কেবল ত্বক আর চুল ভালো রাখার জন্যই যে ফল কাজে আসে, তা নয়।

আমাদের ইমিউনিটি বা প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভিটামিন সি একান্ত প্রয়োজনীয়। সেই সঙ্গে হজমশক্তি ভালো রাখতে ও পেট পরিষ্কার রাখার কাজে ফাইবার বা রাফেজের গুরুত্ব অপরিসীম। ফল থেকে এই দুটি উপাদানই মিলবে। সেই সঙ্গে এটাও খেয়াল রাখতে হবে যে, রান্না করলে ভিটামিন সি-এর গুণ নষ্ট হয়। তাই ফলের মাধ্যমে তা গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে।

যেকোনো ফল থেকেই মেলে ভিটামিন ও অ্যান্টি অক্সিডান্টস। অ্যান্টি অক্সিডান্টস ফ্রি রাডিকালসের আক্রমণ ঠেকায়। তাই কিছু তাজা ফল, অন্ততপক্ষে লেবুর রস প্রতিদিন খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন

টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি

টিকা নেয়া পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলছে সৌদি

কোয়ারেন্টিনবিহীন ভ্রমণের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের আগে করোনা টিকার সনদ দেখাতে হবে পর্যটকদের। তাদের নিতে হবে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না অথবা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ।

এক দিন পরই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হবে সৌদি আরবের দুয়ার।

১ আগস্ট, রোববার থেকে কোয়ারেন্টিনের শর্ত ছাড়াই বিদেশি নাগরিকদের স্বাগত জানাবে রিয়াদ।

তবে এ জন্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজই নিতে হবে পর্যটকদের।

আরব নিউজের শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, কোয়ারেন্টিনবিহীন ভ্রমণের জন্য সৌদি আরবে প্রবেশের আগে করোনা টিকার সনদ দেখাতে হবে পর্যটকদের। তাদের নিতে হবে ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না অথবা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা প্রতিরোধী টিকার দুই ডোজ।

সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়াদের নতুন ইলেকট্রনিক পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে ডোজ সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে পর্যটকদের।

একই সঙ্গে ‘তাওয়াক্কালনা’ অ্যাপেও এসব তথ্যের রেকর্ড রাখা হবে। যেকোনো জায়গা দর্শন বা ভ্রমণের আগে অ্যাপটিতে নিজেদের তথ্য দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন তারা।

আর সৌদি আরবে যাওয়ার উদ্দেশ্য যদি হয় বেড়ানো, তাহলে ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে ভিজিট সৌদি ডটকমে আবেদন করতে হবে।

এসব শর্ত পূরণ করতে পারলে ১ আগস্ট থেকে সৌদি আরবে ঢোকার অনুমতি পাবে যেকোনো দেশের নাগরিক।

সৌদি আরবের পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘদিন পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ ছিল। তবে খুব শিগগিরই আবার তাদের অভ্যর্থনা জানাব আমরা।’

বিদেশি পর্যটকদের জন্য ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম নিজেদের দরজা খুলে দেয় সৌদি আরব। এরপর প্রথম ছয় মাসে দেশটি প্রায় চার লাখ মানুষকে ভিসা দেয়।

এরপরই মহামারির কারণে ভ্রমণ নিষিদ্ধের পাশাপাশি সব সীমান্ত আর বন্দর বন্ধ করে দেয় রিয়াদ।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন

চায়ের নানা উপকারিতা

চায়ের নানা উপকারিতা

লাল চায়ে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা স্ট্রেস কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে মনকে চনমনে করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

চা জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে একটি। প্রতিদিন ২১৬ কোটি কাপ চা সারা বিশ্বের মানুষ পান করেন। চায়ের আছে নানা রকম গুণ। ক্লান্তি দূর করতে কিংবা প্রাণিকোষের ডিএনএ সুরক্ষায় কাজ করে চা। এদিকে ক্যানসার প্রতিরোধেও এটা কাজ করে। চায়ের আরও উপকারিতার কথা শুনুন এবার।

ক্যানসার প্রতিরোধ করে

চায়ে আছে অ্যাপিগ্যালোক্যাটেচিন-গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের একধরনের রাসায়নিক পদার্থ। এটি খুব কার্যকর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট। ভিটামিন ‘সি’-এর চেয়ে ১০০ গুণ বেশি ফলদায়ক। এটা ডিএনএ সেলকে এমনভাবে সুরক্ষা দেয়, যেন ক্যানসারের প্রভাবে এর রূপান্তর না ঘটে। ওদিকে গ্রিনটির ইজিসিজি ইউরোকিনেজ নামের এনজাইম তৈরিতে বাধা দেয়। এই এনজাইম ক্যানসার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে
রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে চা। এই পানীয়তে টেনিস নামে একটি উপাদান রয়েছে, যা নানা ধরনের ক্ষতিকর ভাইরাসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। ফলে সহজে কোনো রোগ ছুঁতে পারে না।


মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
চায়ে ক্যাফিনের পরিমাণ কম থাকায় এই পানীয়টি মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে ব্রেনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে স্ট্রেস কমে। প্রসঙ্গত, একটি গবেষণায় দেখা গেছে এক মাস টানা যদি লাল চা খাওয়া যায়, তাহলে পারকিনস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়।


ওজন হ্রাস করে
লেবু-চা হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়। ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার সুযোগই পায় না। তাই আপনি যদি ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর হন, তাহলে আজ থেকেই খাওয়া শুরু করুন এই পানীয়।


হার্ট চাঙা রাখে

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে লাল চায়ের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা কমিয়ে দেয়। প্রসঙ্গত, স্ট্রোকের অশঙ্কা কমাতেও লাল চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হাড়কে শক্তপোক্ত করে

চায়ে উপস্থিত ফাইটোকেমিক্যালস হাড়কে শক্ত করে। ফলে আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।


হজমক্ষমতার উন্নতি ঘটায়
প্রতিদিন লাল চা খেলে হজম ক্ষমতা ভালো হতে শুরু করে। আসলে এতে রয়েছে টেনিস নামে একটি উপাদান, যা হজমক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর পাশপাশি গ্য়াস্ট্রিক এবং নানা ধরনের ইন্টেস্টিনাল রোগ সারাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।


স্ট্রেস কমায়
লাল চায়ে রয়েছে অ্যামাইনো অ্যাসিড, যা স্ট্রেস কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে মনকে চনমনে করে তুলতেও বিশেষ ভূমিকা নেয়।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন

আলু কি সত্যিই ক্ষতিকর?

আলু কি সত্যিই ক্ষতিকর?

আলুর মধ্যে কোলেস্টেরলও থাকে না। তবে খারাপ তেলে যেহেতু ভাজা হয়, তাই প্যাকেটবন্দি আলু বা ফ্রেঞ্চফ্রাই নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে।

আমরা যারা স্বাস্থ্যসচেতন, তারা আজকাল আলু এড়িয়ে চলতে চাই। আলু খেলে মোটা হতে হবে, এই ভয়ে আলু দেখলেই নাক সিটকাই।

কিন্তু সত্যিই কি আলু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? আলু কি আমাদের ব্লাড সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়? পেটের চারপাশে জমিয়ে দেয় বাড়তি মেদ?

ডায়েটিশিয়ানদের মতে, ১০০ গ্রাম আলু থেকে কম-বেশি ১০০ ক্যালোরি পাওয়া যায়। এর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর কিছু নেই। আলু সেদ্ধ করে, তেলে ভেজে, মাছ-মাংসের সঙ্গে রেঁধে খেলেও কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

তবে সমস্যা হয় যখন লবণ দেয়া পটেটো চিপস পেটে ঢোকালে, অথবা ফাস্ট ফুডের দোকানে গিয়ে তেলে ভাজা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়মিত খেলে। তখন আলুর সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা তেলও ঢোকে শরীরে। বলাই বাহুল্য যে তার মধ্যে পুষ্টিগুণ বিন্দুমাত্র থাকে না।

এদিকে আলুর মধ্যে কোলেস্টেরলও থাকে না। তবে খারাপ তেলে যেহেতু ভাজা হয়, তাই প্যাকেটবন্দি আলু বা ফ্রেঞ্চফ্রাই নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে।

তাই রান্নার আলু বাদ না দিয়ে ভাজাপোড়া আলু আর পটেটো চিপসকে বাদ দেয়াই ভালো।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন

কোন খাবারে অ্যালার্জি হয় জেনে নিন

কোন খাবারে অ্যালার্জি হয় জেনে নিন

নিউট্রিশনিস্টদের মতে, অ্যালার্জির নানা লক্ষণ থাকতে পারে। বিশেষ কোনো খাবার খেলে কারও ডায়রিয়া হয়, কারও র‌্যাশ ওঠে। কারও কারও শরীরের কোনো অংশ ফুটে যায়।

কোনো খাবার খাওয়ার পর যদি শরীরের প্রতিরোধক্ষমতা সেই খাবারে উপস্থিত কোনও উপাদানকে ক্ষতিকারক বা বিপদের কারণ বলে ভেবে নেয়, তা হলে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণের মাধ্যমে তা বুঝিয়ে দেয়। সেই লক্ষণগুলোই হচ্ছে অ্যালার্জি।

নিউট্রিশনিস্টদের মতে, অ্যালার্জির নানা লক্ষণ থাকতে পারে। বিশেষ কোনো খাবার খেলে কারও ডায়রিয়া হয়, কারও র‌্যাশ ওঠে। কারও কারও শরীরের কোনো অংশ ফুটে যায়। বারবার যদি পেট ফাঁপা, গ্যাস্ট্রাইটিস বা বদ হজমের সমস্যায় ভোগেন, তা হলেও সাবধান হতে হবে। সেগুলো বাদ দিতে হবে খাদ্যতালিকা থেকে।

অনেকে অ্যালার্জি পারিবারিক সূত্রে উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়ে যান। শিশুকাল কেটে গেলে তা কমেও যায়। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ট্র্যাক্ট, কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম এবং শ্বাসনালিতে এই লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে। একসঙ্গে একাধিক অঙ্গে প্রতিক্রিয়া হয়েছে, এমনও হতে পারে। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, কারও কারও ক্ষেত্রে আবার ঘণ্টা দুই-তিন পরে লক্ষণ ফুটে ওঠে।

অ্যালার্জিযুক্ত খাবার

দুধ, ডিম, বাদাম, শর্ষে-সূর্যমুখীর বীজ, গম, ডাল, সয়াবিন, সামুদ্রিক মাছ ও প্রাণী, চিংড়ি ইত্যাদি। যাদের দুধে অ্যালার্জি থাকে, তাদের অনেকেরই গমের প্রোটিন থেকেও সমস্যা হয়। যাদের সয়াবিন সহ্য হয় না, তারা রাজমাও হজম করতে পারেন না। যাদের দুধে অসুবিধা হয়, তাদের ঘি, মাখন, ছানা খেলেও অ্যালার্জি হতে পারে।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী

ঈদের দিন পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে দর্শনার্থীদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও পবিত্র ঈদুল আজহায় দর্শনার্থীদের সৈকতে প্রবেশ ঠেকানো যায়নি। বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেই সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের কারণে তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সব পর্যটনকেন্দ্র।

প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও পবিত্র ঈদুল আজহায় দর্শনার্থীদের সৈকতে প্রবেশ ঠেকানো যায়নি। বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেই সমুদ্র সৈকতসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। নজরদারি এড়িয়ে সমুদ্রেও নামছেন অনেকে।

কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী, হিমছড়ি ও দরিয়া নগর পয়েন্টে বুধবার দুপুরে দেখা গেছে হাজারও মানুষ। মাস্ক পরাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না তারা।

বিধিনিষেধের কারণে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি ফটকগুলোতে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। সৈকতমুখী মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক মাইকিংও করা হচ্ছে। বাধা দেয়া হচ্ছে সৈকতে নামতে।

প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ডে অবশ্য খুব একটা কাজ হচ্ছে না। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট, সুগন্ধা, কলাতলী ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নামতে না দিলেও অন্যান্য স্থানে নজরদারি কম থাকায় ঠিকই সমুদ্রে নামছেন অনেকে। সৈকতেও হাজারো মানুষ।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হিমছড়ি, দরিয়া নগর, ইনানী, গোয়ালিয়া, পটুয়ারটেকসহ বেশ কিছু স্থানে প্রশাসনের নজরদারি কম দেখা গেছে।

টুরিস্ট পুলিশ বলছে, দীর্ঘ ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সব স্থানে পুলিশের টহল সম্ভব নয়।‌ আর তাই অনেক স্থানে দলে দলে সমুদ্রে নেমেছেন দর্শনার্থীরা। প্রশাসনের লোকজন আসলে তারা উঠে গেছেন, তবে পরক্ষণেই আবার নেমেছেন জলে।

দর্শনার্থীরা বলছেন, ঈদ আনন্দ উপভোগে সৈকতে ছুটে এসেছেন তারা।

মুনতাসীর নামে এক পর্যটক বলেন, ঈদের সময় একটু বাড়তি আনন্দের জন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আসলাম। তবে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৈকতে বেড়াচ্ছি।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কক্সকাজার সৈকতে আসেন অনেকে। ছবি: নিউজবাংলা

হিমছড়ির দরিয়া নগরে আরেক দর্শনার্থী রায়হান বলেন, অনেক দিন ধরে বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও বের হওয়া যাচ্ছিল না। বাচ্চারাও বায়না ধরেছে ঘুরতে যাবে। তাই বাচ্চাদের নিয়ে সৈকতে বেড়াতে আসলাম।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সৈকতে দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করলেও ট্যুরিস্ট পুলিশ বলছে, সব স্থান কড়া নজরদারিতে রয়েছে। সৈকতে নামতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসপি মো. জামাল নিউজবাংলাকে জানান, সৈকতমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি যতটুকু সম্ভব প্রায় সব পয়েন্টে টহল বাড়ানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানতে ও দর্শনার্থীদের ঘরে ফেরাতে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে সচেতনতামূলক মাইকিং।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, সৈকতে কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কক্সবাজার জেলার সমন্বয়ক হেলালুদ্দীন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যে পর্যটকদের আসা বন্ধ থাকলেও শহরবাসীকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মামুনুর রশীদ বলেন, সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত পর্যটন স্পট খুলে দেয়া হবে না।

তিনি আরও জানান, সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজারে সংক্রমণ বেড়েছে। জেলায় সংক্রামণের হার ২৫ শতাংশের উপরে। আগে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই চিন্তা মাথায় রেখে করোনা মহামারি রোধে কঠোর লকডাউন পালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ১ এপ্রিল বন্ধ ঘোষণা করা হয় কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ রয়েছে।

কুয়াকাটায় হোটেলে স্থানীয়রা

ঈদের ছুটিতে অন্য এলাকার দর্শনার্থী না থাকলেও কুয়াকাটা সৈকতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু আবাসিক হোটেলে তারা থাকছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়। তবে টুরিস্ট পুলিশের কড়াকড়ির কারণে সৈকতে নামতে পারেননি তারা। পরে বিকল্প হিসেবে কুয়াকাটার পশ্চিমে ব্লোকপাড়ে ভিড় করেন তারা।

সৈকতে আসা এসব দর্শনার্থীদের সামাজিক দূরত্ব মানতে দেখা গেলেও অনেককে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। সমুদ্রের কাছে এসেই অনেকে মাস্ক খুলে ফেলেন। পরিবারের সদস্য নিয়েও অনেককে সৈকতে ঘুরতে দেখা গেছে।

বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সৈকতে দর্শনার্থী

কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ী কে এম বাচ্চু জানান, কুয়াকাটায় প্রতি বছর রমজান ও কোরবানির ঈদের দিন থেকে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম ঘটে। তখন পর্যটন ব্যবসায়ীদের ভালোই ব্যবসা হয়। তবে এ বছর ঈদের দিন বিকেলে কিছু দর্শনার্থীর দেখা মিললেও তারা সব বরিশাল বিভাগের।

গ্রিন ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবুল হোসেন রাজু জানান, শুক্রবার থেকে ফের লকডাউনের ঘোষণা থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার পর্যটকরা আসেননি। এ ছাড়া প্রশাসনের কড়াকড়িও চোখে পড়ার মতো।

ভোলা থেকে আসা সামসুর রহমান বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে বরিশালে বেড়াতে আইছি। সেখান থেকে চলে আসলাম কুয়াকাটায়। পরিবেশটা খুব ভালো। পর্যটক নাই। ভালোই লাগছে। রাতেই চলে যাব বরিশালে।’

বরিশালের হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চার বন্ধু মিলে দুই মোটরসাইকেলে আইয়া পড়লাম সাগরের বাতাস খাইতে। কোনো হোটেল মোটেল খোলা পাইলাম না। কিছুক্ষণ থেকে আবার চইলা যামু।’

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী সুপার আবদুল খালেক জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যটন এলাকায় হোটেল মোটেল বন্ধ রাখার কথা। কুয়াকাটায়ও তা মানা হচ্ছে। কিছু পর্যটক আসলেও তাদের সৈকতে নামতে দেয়া হয়নি।

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন

এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে

দীর্ঘ লকডাউনে দেশের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প পর্যটন। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, তাদের ৪০ থেকে ৫০ ভাগই অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কর্মীকে অন্য পেশায় চলে যেতে হয়েছে। তাদের আশঙ্কার, যারা এখান থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছেন তাদের অনেকেই হয়তো আর এ পেশায় ফিরবেন না।

বাংলাদেশে বিদেশি পর্যটকদের নিয়ে প্রায় ২৮ বছর ধরে কাজ করছেন তৌফিক রহমান। তিনি জার্নি প্লাস নামে একটি ট্যুর অপারেটর কোম্পানির স্বত্বাধিকারী।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছর মার্চ থেকে পর্যটন খাতে অচলাবস্থা শুরু হলে বন্ধ হয়ে যায় পর্যটক আনাগোনা। এ অবস্থার মধ্যেও আগস্ট পর্যন্ত নিজের অফিসটি চালিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এক পর্যায়ে গুটিয়ে নিতে হয় অফিস।

তৌফিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত অফিস চালিয়েছি। তারপর দেখলাম, মাসে অফিস ভাড়াই যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। স্টাফ বেতন মিলিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ।

‘যেহেতু আমার এক পয়সা আয় নেই, আমি অফিস গুটিয়ে নিয়েছি। মানে আমার বাসায় অফিস নিয়ে এসেছি। একভাবে বলা যায়, আমি বেকার হয়ে গেলাম। পরে আমি অন্য কিছু একটা করার চেষ্টা করছি। আমার অফিসের যারা স্টাফ ছিল, তাদের অনেককেই ছেড়ে দিতে হয়েছে। কয়েকজনকে আমার অন্য প্রতিষ্ঠানে নিয়েছি।’

তৌফিক বলেন, ‘আমরা যারা পর্যটনের সাথে জড়িত, তাদের মোটামুটি ৪০ থেকে ৫০ ভাগই মূল অফিস বন্ধ করে দিয়েছে। ৫০ থেকে ৬০ ভাগ কর্মীকে অন্য পেশায় চলে যেতে হয়েছে।

‘৫০ থেকে ৬০ ভাগ যারা এ ব্যবসাকে উপজীব্য করেই বেঁচে ছিলেন, তারা অন্য ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছেন। আশঙ্কার কথা হচ্ছে, যারা এখান থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছেন তাদের অনেকেই হয়তো আর এ পেশায় ফিরবেন না।’

দেশি ট্যুর অপারেটরদের শীর্ঘ সংগঠন ট্যুর অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন (টোয়াব) বলছে, দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত ৪০ লাখ মানুষের। করোনার কারণে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা অচলাবাস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত তাদের প্রায় সবাই।

দেশে সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে ধরা হয় পর্যটন মৌসুম। সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও টোয়াবের হিসেবে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিবছর দেশে গড়ে বিদেশি পর্যটক আসে ৫ লাখের মতো। এর বাইরেও বছর জুড়ে দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে আনাগোনা থাকে ৬০ থেকে ৭০ লাখ অভ্যন্তরীণ পর্যটকের। গত বছর করোনার মধ্যেও ৫ হাজার সাতশ কোটি টাকা আয় করেছে পর্যটন খাত।

এ বছরের এপ্রিল থেকে শুরু করে করোনার দ্বিতীয় সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে এ বছর ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছে টোয়াব। সংগঠনের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের কফিনে তো পেরেক ঠোকা হয়েছে বহু আগেই। পর্যটন খাত তো সবার আগেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আবার ক্ষতি কাটবেও সবাই করার অন্তত এক বছর পর।

‘ইতিমধ্যে তো ১৭-১৮ মাস হয়ে গেল, ট্যুর অপারেটরদের মধ্যে কোনো প্রাণের সঞ্চার নেই। অফিস বন্ধ কিন্তু খরচের খাতা তো থেমে নেই। আমাদের অবস্থা অত্যন্ত জটিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, এবারও অভ্যন্তরীণ পর্যটনের কিছুটা প্রাণের সঞ্চার হবে। এটা শুরু হয় সাধারণত সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ বা অক্টোবরের শুরুর সপ্তাহে। মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সাধারণত মৌসুমটা চলে। সেই সময়ে দেশি পর্যটকরা ভ্রমণ করে কিন্তু মনে হয় এ বছর এ সুযোগটাও আমরা পাবো না।

‘আর ইনবাউন্ড আউট বাউন্ড তো পুরোপুরিই বন্ধ। সারা বিশ্ব স্বাভাবিক না হলে এটা হবে না। এক দুই বছরেও হবে কিনা সন্দেহ। আমাদের পরিস্থিতি এখন এমন মনে হচ্ছে আমরা সিজনটা পাবো না। এটা না পেলে শিল্প সংশ্লিষ্ট যেমন লজিং ইন্ডাষ্ট্রি, ট্রান্সপোরটেশন, ক্যাটারিং, লোকাল ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড সবাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং টিকে থাকাই তাদের জন্য কষ্ট হয়ে যাবে।’

এ পরিস্থিতিতে এ খাতকে খাদের কিনার থেকে তুলে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৩ জুলাই যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন, তাতে এ খাতের অনুকূলে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। এর আওতায় পর্যটন খাতের হোটেল, মোটেল, থিম পার্কের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪ শতাংশ সুদে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ সহায়তা দেয়া হবে।

টোয়াব সভাপতি বলেন, ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে প্রধানমন্ত্রীয় যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন, এটি ভালো একটি উদ্যোগ। যদিও এটি এখনও আমরা হাতে পাইনি। তবে এটি পেলে আমরা অন্তত আমাদের অফিস খরচ ও কর্মচারিদের বেতনগুলো দিতে পারব।’

ট্রাভেল এজেন্সিগুলো অবস্থাও করুণ। দেশি ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস (আটাব) বলছে, ৯০ ভাগ ট্রাভেল এজেন্সির অবস্থাই খারাপ।

সংগঠনটির সভাপতি মনসুর আহমেদ কালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১০ ভাগের অবস্থা মোটামুটি। ৯০ ভাগের অবস্থা ছিন্নবিচ্ছিন্ন, ভেরি ব্যাড শেপ। তারা অফিসও খোলে না, লোকবলও নেই, মানে অফিস চালাতে পারছে না।

এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে


‘আমাদের নিবন্ধিত সদস্য ছিলো সাড়ে ৩ হাজার। এখন এই মুহূর্তে ২ হাজার আছে কিনা সন্দেহ। এরা মূলত টিকতে না পেরে ব্যবসা গুটিয়েছে। আমাদের সদস্যপদ নবায়নের জন্য একটি রিনিউয়াল ফিস আছে। খুব সামান্য, বছরে আড়াই হাজার টাকা। এটা দেয়ার ক্ষমতাও অনেকের নাই। তাহলে অবস্থাটা নিশ্চই অনুমান করতে পারেন।’

এ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে দূরবর্তী গন্তব্যের পর্যটক পাওয়া যাবে না। তাই এ খাত টিকিয়ে রাখতে লক্ষ্য স্থির করতে হবে আঞ্চলিক পর্যটনকে এগিয়ে নিতে।

প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পাটা) সেক্রেটারি জেনারেল তৌফিক রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে দূরবর্তী পর্যটন কম হবে। হলেও খুব কম হবে। এর ফলে স্বল্প দূরত্বের বা আঞ্চলিক পর্যটনগুলো হবে।

‘আঞ্চলিক পর্যটনের জন্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্স, কম্বোডিয়া ও নেপালকে লক্ষ্য করা যেতে পারে। এখান থেকেই যদি আমরা প্রচারণা চালাতে পারতাম, তাহলে ইনবাউন্ড ট্যুরিস্টের যে ঘাটতি, সেটা মোটানো যেত।

‘একটা মানুষ যখন কোথাও যায়, দু বছর আগে পরিকল্পনা করে। আমরা যদি এখন থেকেই প্রচারণা চালাতে পারি, তাহলে তাহলে ২০২৩ নাগাদ কিছু পর্যটক পেতে পারি। এর জন্য সরকার ও ট্যুরিজম বোর্ডকে উদ্যোগী হতে হবে।’

এমন আঁধার আর আসেনি পর্যটন খাতে


পর্যটন খাতের স্থবিরতা কাটাতে প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়েও পরিকল্পনা চলছে বলে জানান বিটিবি প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পর্যটন খাতকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। আমরাও এখন এ পদ্ধতি ব্যবহার করে লিমিটেড আকারে করার কথা চিন্তা করছি।

‘যেমন কেউ কক্সবাজার যাবে, তার জন্য একটি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। যেতে হলে আগে থেকেই নিবন্ধিত হতে হবে। এভাবেই আমরা ভাবছি। ব্যাপক হারে যেতে না দিয়ে আমরা যদি সীমিত আকারে মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাই, তাহলে জীবন ও জীবিকা বাঁচবার সম্ভাবনা আছে এবং অনেক দেশই এমনটা করছে।’

আরও পড়ুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ জাতের আমের তথ্য নিয়ে বই
নওগাঁর আম গেল ইংল্যান্ড
হাঁড়িভাঙ্গা আমের জন্য অ্যাপ

শেয়ার করুন