পরিস্থিতি দেখে দ্রুতই খুলে দেয়া হবে পর্যটনকেন্দ্র: প্রতিমন্ত্রী

পরিস্থিতি দেখে দ্রুতই খুলে দেয়া হবে পর্যটনকেন্দ্র: প্রতিমন্ত্রী

‘পর্যটনকেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত পেছানো হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিগগিরই আবারও পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়া হবে।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে শিগগিরই পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব।

তিনি বলেন, ‘পর্যটনকেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত পেছানো হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিগগিরই আবারও পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়া হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সবকিছু প্রায় প্রস্তুত। দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।’

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোকাম্মেল হোসেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মুফিদুর রহমান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদসহ প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সোমবার রাতে জেলার পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংগঠন বৈঠক করে। পরে বৃহস্পতিবার হাঁড়ি-পাতিল মিছিল করার ঘোষণা দেন নেতারা।

আরও পড়ুন:
পর্যটনে ক্ষতি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
যে কাঠের বাড়ি জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের
চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক
বছরে বেতন পেলাম ৪ মাস, আমাদের কিসের ঈদ
‘গ্রামে কোনো করোনা নেই’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লবণে আয়োডিন না মেশালে ৩ বছরের জেল

লবণে আয়োডিন না মেশালে ৩ বছরের জেল

বিলে মানুষের জন্য ভোজ্য লবণ এবং প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহৃত লবণে আয়োডিন না থাকলে সর্বোচ্চ ৩ বছর জেল এবং ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। খুচরা লবণ বিক্রেতারা এই অপরাধে দণ্ডিত হবেন না।

লবণে আয়োডিন না মেশালে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল-২০২১’ পাস হয়েছে। এ আইন অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ ৩ বছর জেল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সোমবার শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বিলটি পাসের সুপারিশ করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে বিলের ওপর দেয়া জনমত ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

১৯৮৯ সালের ‘আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন’ রহিত করে নতুন আইন করতে বিলটি আনা হয়েছিল।

বিলে মানুষের জন্য ভোজ্য লবণ এবং প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহৃত লবণে আয়োডিন না থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছর জেল এবং ১৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। খুচরা লবণ বিক্রেতারা এই অপরাধে দণ্ডিত হবেন না।

বিলে বলা হয়, লবণ আমদানি, উৎপাদন, গুদামজাত, ভোক্তা পর্যায়ে পাইকারি সরবরাহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন করতে চাইলে এ আইনের অধীনে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন না করলে ২ বছরের জেল এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

প্যাকেট বা লেবেলহীন ভোজ্য বা অভোজ্য লবণ বিক্রি করলে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

এতে আরও বলা হয়, একটি জাতীয় লবণ কমিটি থাকবে। কমিটি লবণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন, আয়োডিনযুক্তকরণ, মজুত, বিক্রয়, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, লবণ কারখানার জন্য আয়োডিন সরবরাহ, আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নীতির বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়ন করবে।

১৪ সদস্যের জাতীয় লবণ কমিটিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব সভাপতি ও বিসিক চেয়ারম্যান সদস্যসচিব হবেন। কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে আয়োডিনযুক্ত লবণ পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন সেল কার্যক্রমগুলো নজরদারি করবে।

বিলে বলা হয়, জাতীয় মানমাত্রা নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ৩০ থেকে ৫০ পিপিএম এবং খুচরা পর্যায়ে ২০ থেকে ৫০ পিপিএম মাত্রার আয়োডিন থাকতে হবে।

সরকার জাতীয় লবণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী লবণ পরিশোধনাগার আয়োডিনযুক্তকারী কারখানার জন্য আয়োডিনের সরবরাহ নিশ্চিত করবে। সরকার প্রয়োজনে লবণ গবেষণা ইনস্টিটিউট করতে পারবে।

লবণ প্রক্রিয়াজাতকরণে শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়, ভোজ্য লবণে আয়োডিনযুক্তকরণ এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণিখাদ্য তৈরিতে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দেশের আয়োডিনযুক্ত লবণ খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বিদ্যমান আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন-১৯৮৯ রহিতক্রমে প্রয়োজনীয় সংশোধনপূর্বক যুগোপযোগী করে লবণ বিল-২০২১ সংসদে উত্থাপন করা হলো।

আরও পড়ুন:
পর্যটনে ক্ষতি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
যে কাঠের বাড়ি জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের
চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক
বছরে বেতন পেলাম ৪ মাস, আমাদের কিসের ঈদ
‘গ্রামে কোনো করোনা নেই’

শেয়ার করুন

ভারত জয় করছে বাংলাদেশের বিস্কুট

ভারত জয় করছে বাংলাদেশের বিস্কুট

বাংলাদেশের বিস্কুট মাতিয়েছে ভারত। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় অনেক কোম্পানি থাকার পরও এক দশক আগে প্রাণের পণ্য এ অঞ্চলে যাত্রা শুরু করে। পটাটা তাদের প্রথম পণ্য যা পুরো ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি এখন পূর্বে জয়পুর থেকে দক্ষিণে বেঙ্গালুর পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

শুরুটা ছিল অবসাদগ্রস্ত দিনের একটি টুইট থেকে। টুইটে লেখা ছিল, ‘এই বিস্কুট সত্যিই আসক্তিকর।’

উজ্জ্বল লাল রঙের বিস্কুটের প্যাকেটের ওপর টানা অক্ষরে লেখা ছিল ‘প্রাণ পটাটা স্পাইসি বিস্কুট’।

তারপর দেখলাম এই প্যাকেটটি প্রায় সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে। আমার টুইটার টাইম লাইনের সবাই এটি নিয়ে কথা বলছে। কীভাবে লকডাউনের সময় কেউ এটি খুঁজে পেয়েছে সেটি নিয়েও কথা হচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও স্টোরিতেও একই অবস্থা। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরেও আলোচনা দেখলাম কীভাবে এই মেড ইন বাংলাদেশ বিস্কুটটি সহজে সংগ্রহ করা যাবে।

দেরি না করে আমাজনে অর্ডার করলাম। একজন জানাল, সে তার কাছের এক মুদি দোকানে এই বিস্কুট খুঁজে পেয়েছে। শিগগিরই কয়েক প্যাকেট পটাটা বিস্কুট ডেলিভারি সেবা ডুঞ্জোর মাধ্যমে বেঙ্গালুরুতে অনেকের কাছে পাঠানো হলো।

কয়েক ঘণ্টা পর একজন জানাল, ‘আমি এক শ্বাসে পুরো এক প্যাকেট খেয়ে ফেলি’।

আমার প্যাকেটটি পৌঁছাল পরের দিন। আমি এক প্যাকেট আলাদা করলাম। তবে ভয়ে ছিলাম, যদি হতাশ হই।

পাঠক, এখন বাস্তবে পরখ করে দেখার পালা। প্যাকেটের ভেতর চিকন সারিতে গোল ও সোনালি চাকতির মতো বিস্কুটগুলো ঠিকঠাক রাখা। এতে যথেষ্ট পরিমাণে আলুকে বিস্কুটে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এগুলো পাতলা, ছোট এবং মুড়মুড়ে। স্বাদের মিশ্রণ, প্রয়োজনীয় মিষ্টি-লবণ-টক-মসলার সমন্বয় এটিকে পরিণত করেছে শক্তিশালী স্বাদের বোমায়।

পটাটা নিয়ে মুম্বাইয়ের কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাহুল যাদব বলেন, ‘এটি একেবারেই বহুমুখী স্বাদের। চিজ এবং মসলাদার আলুর তরকারি হিসেবেও এটিকে পরখ করেছি। এটি স্বাদে অনন্য।’

রাহুলের করা টুইটে অনেকে প্রথমবারের মতো পটাটার নাম শোনেন। তিনি বিস্কুটটি সম্পর্কে প্রথম জেনেছিলেন ২০১৯ সালের দিকে ‘হাইওয়ে অন মাই প্লেট’ নামের শোর দুই হোস্ট রোকেয়া সিং ও ময়ূর শর্মার টুইট থেকে।

এটি অনেকটাই ধাঁধার মতো, কেন একটি প্যাকেজড ফুড মানুষের কাছে এত জনপ্রিয় হলো।

কেন ম্যাগি নুডলস ভারতের অন্য যেকোনো নুডলসের চেয়ে বেশি জনপ্রিয়?

পালস ক্যান্ডি আসার অনেক আগে থেকেই লেমন ক্যান্ডি ছিল। তবুও এখন পালস যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, অন্য কোনো ক্যান্ডি সেটি স্বপ্নেই দেখে।

একই কথা কোকা-কোলা, আমুল বাটার বা হলদিরাম আলু ভুজিয়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। হয়তো তারা মানুষের অতীত স্মৃতি-প্রত্যাশা-নতুনত্বের মধুর কোনো জায়গাকে জাগিয়ে তুলতে পেরেছে।

বাংলাদেশি কনজ্যুমার কোম্পানি প্রাণের এই বিস্কুট সেই জায়গাটি খুঁজে পেয়েছে।

লাইভমিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় অনেক কোম্পানি থাকার পরও এক দশক আগে প্রাণের পণ্য এ অঞ্চলে যাত্রা শুরু করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল টোস্ট বিস্কুট, প্যাকেট ঝালমুড়ি, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং প্যাকেট জুস।

সম্ভবত পটাটা তাদের প্রথম পণ্য যা পুরো ভারতে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি এখন পূর্বে জয়পুর থেকে দক্ষিণে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত অধিকাংশ জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘প্রাণ এখন পুরো ভারতেই ছড়িয়ে পড়েছে। এই ব্র্যান্ডের মূল কোম্পানি কৃষি ও খামার যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে স্টেশনারি, খেলনাসহ প্রায় সব কিছু তৈরি এবং বিক্রি করছে।’

প্রাণ কি বাংলাদেশে রিলায়েন্স (ভারতের বহুজাতিক কোম্পানি)- এমন প্রশ্নে আহসান খান বলেন, ‘না না, ভারতের বড় কোম্পানির তুলনায় আমরা অনেক ছোট। যদিও এই কোম্পানি এখন পর্যন্ত এক লাখ লোকের কর্মসংস্থান করেছে। ১৪৫ দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তাদের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১১০ কোটি টাকা বা প্রায় ৯৩ কোটি ভারতীয় রুপি।

২০১৫ সালে কোম্পানিটি ভারতে তাদের প্রথম কারখানা চালু করে ত্রিপুরার আগরতলায়। আহসান খান বলেন, ‘ভারত আমাদের জন্য বড় বাজার। আমরা ভারতের ৭০০ জেলায় থাকতে চাই। আমরা করপোরেট ভারতকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি, কীভাবে আরও সংগঠিত হওয়া যায়, কীভাবে আরও প্রফেশনালি কোম্পানি চালানো যায়।

‘মাত্রই আমি ঝাড়খন্ডের এক ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে কথা বলেছি, এর কিছু আগে আফ্রিকায় একজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার স্বপ্ন একটি গ্লোবাল কোম্পানি হওয়া। বর্ডারস আর মিনিংলেস।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার এক দশক পর ১৯৮১ সালে প্রাণ ফুডসের মূল কোম্পানি প্রাণ-আরএফএল শুরু করেছিলেন আহসান খানের বাবা আমজাদ খান চৌধুরী।

আহসান খান বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক রিটায়ার্ড মেজর জেনারেল আমজাদ খান চৌধুরীর ছিল কঠিন দেশপ্রেম। তিনি চেয়েছিলেন নবীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হোক, দারিদ্র্যমুক্ত হোক। কৃষি-ব্যবসার মাধ্যমে কৃষকদের শক্তিশালী করা ছিল তার লক্ষ্য।

আহসান খান আমেরিকার আইওয়া রাজ্যের ওয়ার্টবুর্গ কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে ২১ বছর বয়সে প্রাণে যোগ দেন। তিনি কোম্পানিকে আরও বেশি ভোক্তার কাছে নিয়ে যাওয়া এবং নতুনত্ব আনতে কাজ করছেন। নতুন কিছু বের করতে এবং কারখানায় তা উৎপাদনে বেশ দক্ষ আহসান খান।

তিনি বলেন, ‘যখন আমি দক্ষিণ ভারতে সফরে যাই, দেখি এমটিআরের (ভারতের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রতিষ্ঠান) মতো কোম্পানি খাবার উপযোগী উপমা-ইডলি মিক্স বিক্রি করছে। ইন্ডিগোতে ভ্রমণের সময় দেখি তাদের উপমা ও ডাল-চাল বক্সে গরম পানির সঙ্গে মেশালে খাবার তৈরি হয়ে যায়। আমি ভাবি কীভাবে এমন খাবার আমরা তৈরি করতে পারি।’

চীন ভ্রমণের সময় তাদের আলুর ওয়েফারের মতো বিস্কুট দেখে পটাটা তৈরির উৎসাহ পান আহসান খান। দেশে আসার পর তিনি খাদ্য প্রকৌশলীদের ডেকে পটেটো প্লেক্স, পটেটো পেস্ট এবং স্টার্চের সঙ্গে অন্যান্য স্বাদের মিশ্রণে পটেটো চিপসের মতো নতুন কিছু তৈরি করতে বলেন, যা খেতে মুড়মুড়ে হলেও পাতলা হবে।

আহসান খান জানতেন, তিনি ব্রিটানিয়া ও আইটিসি বিস্কুটের দাপট থাকা ভারতের বড় বাজারে ঢুকতে যাচ্ছেন। তবে সাহস হারাননি প্রাণের এই কর্ণধার।

আহসান খান বলেন, ‘তারা অনেক বড়, তাদের কাছ থেকে আমার অনেক কিছু শেখার আছে। এমনকি ভারতের অন্য বড় কোম্পানি থেকেও শেখার আছে। ভারত অনেক বড় বাজার। আমি পটাটা বিস্কুটকে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে চাই।’

আরও পড়ুন:
পর্যটনে ক্ষতি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
যে কাঠের বাড়ি জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের
চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক
বছরে বেতন পেলাম ৪ মাস, আমাদের কিসের ঈদ
‘গ্রামে কোনো করোনা নেই’

শেয়ার করুন

সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার দাবি টোয়াবের

সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়ার দাবি টোয়াবের

করোনার মহামারির কারণে চরম সংকটে দেশের পর্যটন খাত।

টোয়াব নেতাদের দাবি, গত বছর করোনার কারণে পর্যটনের সঙ্গে জড়িতদের ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এ বছর ডিসেম্বর পর্যন্ত লকডাউন চললে আরও ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হতে পারে।

বাজেটে পর্যটন খাতের বিকাশের কথা বলা হলেও এই খাতের আর্থিক সংকট থেকে বের হয়ে আসার কোনো দিকনির্দেশনা অর্থমন্ত্রী দেননি বলে জানিয়েছে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব)। এই খাতের যথাযথ উন্নয়নে আলাদা মন্ত্রণালয়ের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বর্তমানে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যটন খাত নিয়ন্ত্রিত হয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান পর্যটনশিল্পকে করোনাকালে টেনে তোলার জন্য পাঁচ দফা দাবি জানান।

এ মুহূর্তে পর্যটন খাতের সব কিছু খুলে দেয়ার দাবি জানান তিনি।

রাফেউজ্জামান বলেন, ‘যদি আমাদেরকে সময় বলতে বলা হয়, তবে আমি বলব, এই মুহূর্তে সকল পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেয়া হোক। পর্যটন এখন প্লেজার নয়, বরং এটি এখন ট্রিটমেন্ট।’

গত বছর করোনার কারণে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত সকলের ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু টোয়াব সদস্যদের ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের মার্চ থেকে সবকিছু আবার স্থবির হয়ে যাওয়ায় পর্যটন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে। চলমান পরিস্থিতি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হলে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে।

এ সময় তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজটে এ খাতে এবার ৪ হাজার ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যা আগের বাজেটের চেয়ে ৩৪৪ কোটি টাকা বেশি। এই বরাদ্দ বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য খুবই সামান্য।

তিনি বলেন, ‘বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প বিকাশের কথা বলেছেন, কিন্তু খাতটিকে আর্থিক সংকট থেকে বের করে আনার বিষয়ে কোনো দিক নির্দেশনা খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

২০১৯ সালের জিডিপিতে পর্যটন ৪ দশমিক ৪ শতাংশ যোগ করেছিল জানিয়ে তিনি বলেন, মহামারির কারণে এ শিল্পে জড়িত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। তিনি এ শিল্পের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে একই জায়গায় দুই রকম নীতি চলে না মন্তব্য করে অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরামের (এটিজেএফবি) সভাপতি নাদিরা জামান বলেন, ‘আমরা দেখছি দেশে গণমানুষের উপস্থিতি বেশি থাকে এমন জায়গা খোলা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন খাত খুলে দেয়া উচিত।’

পর্যটন খাতকে শিল্পে পরিণত করার ব্যর্থতা নিজেদের নিতে হবে জানিয়ে নাদিরা বলেন, ‘এতদিন এই খাতে জড়িত থেকে যারা এটাকে শিল্প খাতে পরিণত করতে পারেননি, এটার দায় তাদের। তাহলে আজ প্রণোদনা পাওয়া যেত।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন টোয়াবের পরিচালক (গণমাধ্যম ও প্রকাশনা) জনাব মোহাম্মদ সাহেন উল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন টোয়াবের পরিচালকরা, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়া তুষার, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সভাপতি মো. মইনুল ইসলাম জমাদ্দার, ট্যুর অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের সভাপতি এম রেজাউল করিম রেজা, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) সভাপতি রাফেউজ্জামান।

এ সময় তারা নিজ নিজ এলাকার পর্যটন খাতের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন:
পর্যটনে ক্ষতি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
যে কাঠের বাড়ি জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের
চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক
বছরে বেতন পেলাম ৪ মাস, আমাদের কিসের ঈদ
‘গ্রামে কোনো করোনা নেই’

শেয়ার করুন

হোটেল মোটেল খুলতে আন্দোলনের ডাক পর্যটন ব্যবসায়ীদের

হোটেল মোটেল খুলতে আন্দোলনের ডাক পর্যটন ব্যবসায়ীদের

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুবীর চৌধুরী মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে জানান, বৈঠকে আগামী বৃহস্পতিবার হাঁড়ি-পাতিল মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ কামনা করা হয়।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজারের হোটেল মোটেলগুলো খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সোমবার রাতে পর্যটনশিল্পের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে এক বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুবীর চৌধুরী মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে জানান, বৈঠকে আগামী বৃহস্পতিবার হাঁড়ি-পাতিল মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ কামনা করা হয়।

সুবীর চৌধুরী বাদলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন উদ্যোক্তা মুফিজুর রহমান মুফিজ।

এতে বক্তব্য রেখেন কক্সবাজার সাউন্ড অ্যান্ড লাইটিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাহেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রিপন বড়ুয়া অর্ণব, সাংগঠনিক সম্পাদক মোরশেদ, ঘোড়ামালিক সমিতির সহসভাপতি নিশান, বিচ বাইক মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন হিরু ও রিয়াদ হোসেন রাসেল, আবাসিক সঞ্চয় ও আত্ম-উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মো. ইউনুস, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও হোটেল শ্রমিকনেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ।

সভায় সুবীর চৌধুরী বাদল বলেন, দীর্ঘদিন পর্যটন সেক্টর বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে কক্সবাজারের হোটেল মোটেলের প্রায় ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এ ছাড়া রেস্তোরাঁর কর্মচারী, ঝিনুক ব্যবসায়ী, বিচ হকার, জিপগাড়ির চালক ও সহায়তারী, কিটকট কর্মচারী, শুঁটকি বিক্রেতা, বার্মিজ পণ্য ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক মানুষ বেকার হয়ে গেছে। সবকিছু খুলে দিয়ে শুধু কক্সবাজার পর্যটন সেক্টর বন্ধ রাখা অনুচিত। করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের জীবন চালাতে হবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে কক্সবাজারের পর্যটন স্পট ও হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস খুলে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পর্যটনভিত্তিক সংগঠন ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজারের (টুয়াক) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এম এ হাসিব বাদল, এস এম কিবরিয়া, টুয়াক-এর সাধারণ সম্পাদক আশিক, আনোয়ার করিম, হোসাইন ইসলাম বাহাদুর, তুহিদুল ইসলাম তোহা, সুজন লস্কর, শওকত আলী খান, লোকমান হোসেন, আবদুর রহমান পাঞ্জেরী, নাজিম উদ্দীন, মিজানুর হক সিকদার, আবদুল মাজেদ পারভেজ, সোহেল শাহ, আরিফুল ইসলাম রিপন, আলাউদ্দিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
পর্যটনে ক্ষতি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
যে কাঠের বাড়ি জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের
চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক
বছরে বেতন পেলাম ৪ মাস, আমাদের কিসের ঈদ
‘গ্রামে কোনো করোনা নেই’

শেয়ার করুন

বরাদ্দ বাড়ল বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে

বরাদ্দ বাড়ল বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

নতুন অর্থবছরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। নতুন অর্থবছরে তিনি এ খাতের জন্য ৪ হাজার ৩২ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ প্রস্তাব করেছেন। এটি মোট প্রস্তাবিত বাজেটের শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৯৮৪ টাকা।

এটি বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। আর মূল বাজেটের চেয়ে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি।

বাজেট বক্তৃতায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আলোকে পর্যটন শিল্পকে একটি উন্নত, টেকসই ও সমৃদ্ধ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পর্যটন খাত করোনা ভাইরাস মহামারির নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যটন কার্যক্রম চালু রাখার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর প্রণয়ন করেছে।

‘অধিকন্তু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক, ঐতিহাসিক, সংস্কৃতিক, ধর্মীয়, তীর্থস্থান সমুহের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বমানের বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প ও কমিউনিকেশন, নেভিগেটর অ্যান্ড সার্ভেইলেন্স এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম রাডার স্থাপন।

‘এছাড়াও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়ন ও কার্গো টার্মিনাল নির্মাণ, যশোর বিমানবন্দর উন্নয়ন, পিপিপির আওতায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ এবং সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী বিমানবন্দর রানওয়ে ১০ হাজার ফুট উন্নীতকরণ প্রকল্প।’

গত বছরের মার্চ থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে সবচেয়ে বেশি যে খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেটি হলো বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাত। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ছিল সব পর্যটন কেন্দ্র। এ সময় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইটও বন্ধ ছিল।

জুলাইয়ের পর ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচল শুরু হলেও অক্টোবরের আগে যাত্রী ছিল নিতান্তই কম। এ সময় অভ্যন্তরীণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোও ছিলো অনেকটাই পর্যটক শূন্য। পরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। এ বছরের মার্চে এসে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় আবারও ক্ষতির মুখে পড়ে এ খাত।

অর্থমন্ত্রী বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বললেও তার বক্তৃতায় এর থেকে উত্তরণের বিষয়ে কোনো দিক নির্দেশনা আসেনি।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটস এসোসিয়েশনের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মো. রাফেউজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা দেখি বাজেটে যে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয় তার সিংহভাগই ব্যয় হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তপক্ষের নানা প্রকল্পে। অল্প কিছু পায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

‘সরকার যদি আসলেই পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে চায়, এতে বরাদ্দ বেশি দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে না টানতে পারলে এ খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

আরও পড়ুন:
পর্যটনে ক্ষতি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
যে কাঠের বাড়ি জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের
চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক
বছরে বেতন পেলাম ৪ মাস, আমাদের কিসের ঈদ
‘গ্রামে কোনো করোনা নেই’

শেয়ার করুন

শর্তে হলেও পর্যটনকেন্দ্র খোলা চায় টোয়াব

শর্তে হলেও পর্যটনকেন্দ্র খোলা চায় টোয়াব

শর্ত দিয়ে হলেও পর্যটনকেন্দ্র খোলা চান ব্যবসায়ীরা। ফাইল ছবি

টোয়াব জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে স্থবির হওয়ায় পর্যটনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক। এই পরিস্থিতি জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে ট্যুর অপারেটরদের ক্ষতি হবে প্রায় ছয় হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ডিসেম্বর থাকলে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে নয় হাজার কোটি টাকায়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের পর্যটন খাত। দুই দফায় বিধিনিষেধে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ খাতের ক্ষতি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা। বিধিনিষেধ আরও দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। তাই শর্ত দিলে হলেও পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ বা টোয়াব।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টোয়াব জানায়, করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর দেশের পর্যটন খাত আভ্যন্তরীণ পর্যটনের মাধ্যমে কিছুটা ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যেই দ্বিতীয় ঢেউ হানা দিয়েছে। এতে পর্যটন শিল্প আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। গত বছর করোনায় পর্যটন খাতের ক্ষতির পরিমাণ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। শুধু টোয়াব সদস্যদের ক্ষতি হয়েছে পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

সংগঠনটি জানায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে স্থবির হওয়ায় পর্যটনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও অনেক। এই পরিস্থিতি জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে ট্যুর অপারেটরদের ক্ষতি হবে প্রায় ছয় হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ডিসেম্বর থাকলে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে নয় হাজার কোটি টাকায়।

টোয়াব বলছে, পর্যটন খাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। করোনাকালীন সময়ে প্রায় সব টোয়াব সদস্যদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও উচ্চ ট্রেড লাইসেন্স রিনিউয়াল ফি দিতে হচ্ছে। আবার কিন্তু ট্যুর অপারেটরদের জন্য কোনো প্রণোদনার ব্যাবস্থা নেই। টোয়াব সদস্যদের অনেকেই হতাশ হয়ে পর্যটন সেবা থেকে অন্য ব্যবসায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কয়েক লাখ মানুষের বেকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টোয়াব সভাপতি রাফেউজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে পর্যটন শিল্পকে ধ্বংস থেকে রক্ষায় বেশ কিছু দাবি করা হয়েছে।

এসব দাবির মধ্যে রয়েছে, পরিবহণ, দোকানপাট ও অন্য সেবার মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধারণক্ষমতার ৫০ ভাগ পর্যটক সেবা দেয়ার শর্তে দ্রুত খুলে দিতে হবে।

ট্যুর অপারেটরদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে।

পরের বছরের জন্য ট্রেড লাইসেন্স রিনিউয়াল ফি মওকুফ করতে হবে।

টোয়াব সদস্যদের ও টোয়াবের সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাদানের ব্যবস্থা করতে হবে।

পর্যটন শিল্পের যথাযথ উন্নয়ন ও বিকাশে শুধু পর্যটনের স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।

আরও পড়ুন:
পর্যটনে ক্ষতি প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা
যে কাঠের বাড়ি জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের
চেকপোস্ট বসিয়েও ঠেকানো যাচ্ছে না পর্যটক
বছরে বেতন পেলাম ৪ মাস, আমাদের কিসের ঈদ
‘গ্রামে কোনো করোনা নেই’

শেয়ার করুন