অর্ডার নিয়ে খাবার নেই, ফুডপান্ডাকে আইনি নোটিশ

অর্ডার নিয়ে খাবার নেই, ফুডপান্ডাকে আইনি নোটিশ

নোটিশকারী আইনজীবী জানান, খাবারগুলো তার মক্কেল সন্তান ও ভাতিজা-ভাগ্নের (নেফিউ) জন্য অর্ডার করেছিলেন। অর্ডারের পর থেকে তারা খাবারের অপেক্ষায় ছিল। এক পর্যায়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় কান্নাকাটি করে তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে। ইকরাম হোসেনও অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একঘণ্টা পর ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু তখনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি পরে আর কোনো যোগাযোগও করেনি ফুড পান্ডা কর্তৃপক্ষ।

অর্ডার নিয়ে খাবার সরবরাহ না করায় পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে অর্ডার নিয়ে সময়মত খাবার সরবরাহ না করার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে ফুড পান্ডার কাছে। সেই সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে।

গুলশানে অবস্থিত ফুডপান্ডার কান্ট্রি ডিরেক্টর বরাবর নোটিশটি পাঠিয়েছেন ভুক্তভোগী ইকরাম হোসেন।

নোটিশকারীর আইনজীবী মুহাম্মাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত ১৪ মে রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বগুড়ার ‘ফুডল্যান্ড’ নামের একটি খাবার দোকান থেকে ফুডপান্ডার মাধ্যমে দুটি চিকেন বার্গার অর্ডার করেন আমার ক্লায়েন্ট ইকরাম হোসেন। খাবারটি যেই ঠিকানায় সরবরাহ করার কথা বলা হয়, সেটি ‘ফুডল্যান্ড’ থেকে ১০ মিনিটের পথ। অথচ সেখানে খাবারটি সরবরাহের জন্য ৬০ মিনিট সময় দেখানো হয়। সেই সঙ্গে, খাবারের দাম হিসেবে ২২২টাকাও কেটে নেয়া হয় অর্ডারকারীর ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের অ্যাকাউন্ট থেকে।’

এই আইনজীবী জানান, খাবারগুলো তার মক্কেল সন্তান ও ভাতিজা-ভাগ্নের (নেফিউ) জন্য অর্ডার করেছিলেন। অর্ডারের পর থেকে তারা খাবারের অপেক্ষায় ছিল। এক পর্যায়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় কান্নাকাটি করে তারা রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে। ইকরাম হোসেনও অপেক্ষায় থাকতে থাকতে একঘণ্টা পর ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু তখনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি। এমনকি পরে আর কোনো যোগাযোগও করেনি ফুড পান্ডা কর্তৃপক্ষ।

নোটিশকারী আইনজীবী বলেন, এই অবহেলায় ছোট শিশুরা রাতের খাবার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই কারণে গত ২২ মে ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের সময় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও তার কোনো জবাব তারা দেয়নি। আর দু একদিন দেখে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শালবনে পতঙ্গের প্রাসাদ

শালবনে পতঙ্গের প্রাসাদ

উইপোকারা ঢিবির মাটি থেকে পুষ্টি ও আর্দ্রতা সংরক্ষণ করে থাকে। ঢিবির নিচের অংশে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি করা আছে এসব আহরণের জন্য। সেগুলোকে উইপোকার খাবারের কক্ষ বলা যায়।

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা সদরে প্রায় ২০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে আলতাদিঘি শালবন, যা আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান নামে পরিচিত। এর মাঝখানেই ৫ হাজার ৫৪৬ একরের আলতাদিঘি।

বনের ভেতর আঁকাবাঁকা পিচঢালা রাস্তা ধরে কিছুটা এগোলেই চোখ আটকে যায় বড় বড় কিছু ঢিবিতে। দেখে মনে হয় যেন বনের সৌন্দর্য বাড়াতে কোনো শিল্পীর গড়ে তোলা ভাস্কর্য এগুলো। আসলে ঢিবিগুলো হলো উইপোকার বাসা। পুরো শালবনকে যেন ভিন্ন রূপ দিয়েছে এই ঢিবিগুলো।

উইপোকারা বনের মৃত গাছের গোড়ায় এসব ঢিবি গড়েছে। অনেক দিন ধরে একটু একটু করে গড়ে তোলায় এসব ঢিবি এখন ৫ থেকে ৬ ফুট উঁচু। এর মধ্যে একটি আবার প্রায় ১২ ফুট উঁচু।

সবচেয়ে উঁচু এই ঢিবিটির চারপাশে আবার বেষ্টনী। পতঙ্গের তৈরি এই স্থাপত্যশিল্প কোনো অংশের মানবসৃষ্ট স্থাপত্যের চেয়ে কম নয়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, ঢিবি তো নয় যেন শালবনে প্রাসাদ গড়ে তুলেছে উইপোকারা।

এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে এমন ঢিবি আছে প্রায় ৩০টির মতো।

শালবন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম রেজা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকে শালবন দেখে আসতেছি। এই শালবনের প্রকৃতির সঙ্গে আমার এক অন্য রকম ভালো লাগা ও ভালোবাসার অনুভূতি মিশে আছে। হাজারও গাছ, পাখি, সাপ, বানরসহ নানা জীবজন্তু যেন আমার খুব পরিচিত হয়ে গেছে। সময় পেলেই বনের ভেতর ঘুরতে আসি। মনটা খারাপ থাকলেও ভালো হয়ে যায়।

‘বনের মাঝখানে যে উইপোকার বিশাল ঢিবিটি দেখছেন, সেটা কিন্তু আজ থেকে কয়েক বছর আগের। পাঁচ-ছয় বছর আগে এত বড় ছিল না। বনের ভেতর আরও অনেক ঢিবি আছে। তবে এটিই সবচেয়ে বড়।’

শালবনে পতঙ্গের প্রাসাদ

রেজা আরও বলেন, লাখ লাখ উইপোকা মিলে এই ডিবিটি গড়েছে। এটি শালবনের সৌন্দর্য্যে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

নওগাঁ শহর থেকে শালবনে ঘুরতে এসেছেন আসাদ হোসেন। স্ত্রীকে নিয়ে বিশাল ঢিবিটির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে তাকে।

আসাদ বলেন, ‘এই প্রথম এখানে এসেছি। আগে থেকেই আলতাদিঘি উদ্যানে বিশাল শালবন আছে জানতাম, তবে আসা হয়ে ওঠেনি কখনও।

‘বাসাবাড়িতে বা বাড়ির উঠানে উইপোকারা ছোট ছোট ঢিবি তৈরি করে থাকে, সেগুলো দেখেছি। তবে এত বড় আকৃতির ডিবি এই প্রথম দেখলাম। সত্যিই দেখার পর অবাক হলাম। প্রথমে তো ভেবেছি কোনো মানুষ বা বন বিভাগ এটা তৈরি করেছে। একদম পিরামিডের মতো, কত সুন্দর উইপোকাদের কারুকাজ। এর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি না তুলে আর থাকতে পারলাম না।’

ধামইরহাট বন বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে কথা হয় এই ডিবি নিয়ে। তিনি নিউজবাংলাকে জানান, উইপোকারা ঢিবির মাটি থেকে পুষ্টি ও আর্দ্রতা সংরক্ষণ করে থাকে। ঢিবির নিচের অংশে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি করা আছে এসব আহরণের জন্য। সেগুলোকে উইপোকার খাবারের কক্ষ বলা যায়।

শালবনে পতঙ্গের প্রাসাদ

মান্নান জানান, প্রায় প্রতিদিনই দর্শনার্থীরা শালবনে আসে। তাদের মূল আকর্ষণ এই ঢিবিগুলো। এগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। যাতে ডিবিটির কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য নজরদারি আছে।

মান্নান বলেন, ‘এই শালবনের শুরু থেকেই উইপোকাদের বিচরণ ছিল। অনেক ঢিবি বিলীন হয়ে গেছে, আবার নতুন করে কিছু গড়ে উঠেছে।

‘এখানে উইপোকারা দলবদ্ধভাবে বাস করে। এই ঢিবি নির্মাণে প্রায় ১০ লাখ উইপোকা কাজ করেছে বলে ধারণা করছি। বনের মাঝখানে এত বড় উইপোকার ঢিবি আমি আমার চাকরিজীবনে এর আগে কোথাও দেখিনি।’

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন

দীর্ঘদিন আম সংরক্ষণ করে রাখা যাবে, সে ক্ষেত্রে মানতে হবে কিছু নিয়ম। ফাইল ছবি

আম ও কাঁঠাল ক্লাইমেকটেরিক ফল হওয়ায় এগুলো বেশি দিন রাখা যায় না। তবে কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করলে এক মাস পর্যন্ত আম সংরক্ষণ করা সম্ভব। 

কাঁঠাল উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয়, আর আমের উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম বাংলাদেশ। তবে এসব ফল নির্দিষ্ট মৌসুমে সীমাবদ্ধ। চাইলেও বেশি দিন তাজা সংরক্ষণ করা যায় না। এতে উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নষ্ট হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এর সংরক্ষণকাল ১৫ দিন থেকে এক মাস বাড়িয়ে নেয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেসব ফল বেশি দিন সংক্ষণ করা যায়, যেগুলো গাছ থেকে পাড়ার পর এর অবস্থার পরিবর্তন হয় না। এসব ফল পরিপক্ব হওয়ার পর যে অবস্থায় গাছ থেকে পাড়া হয়, সে অবস্থাতেই থাকে। তবে যেসব ফল গাছ থেকে পাড়ার পর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে বা পরিপুষ্ট হওয়ার পর ঘরে রাখলে পেকে যায়, সেসব ফলের সংরক্ষণকাল কম। এর মধ্যে আম-কাঁঠাল অন্যতম।

বিজ্ঞানের ভাষায় বললে, ফল দুই ধরনের। একটি ক্লাইমেকটেরিক ফ্রুট, অপরটি নন-ক্লাইমেকটেরিক ফ্রুট।

ক্লাইমেকটেরিট ফলের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব ফল গাছ থেকে বাড়িতে পেড়ে রাখার পরও রাসায়নিক ক্রিয়াকলাপ চলে। এ ধরনের পরিপক্ক ফল থেকে ইথিলিন উৎপন্ন হয়, যা ফলটিকে আরও পাকিয়ে তোলে। এ ছাড়া ফলের মধ্যে কোষীয় পরিবর্তন ঘটে। আম-কাঁঠাল-পেঁপে-কলা এ ধরনের ফল।

নন-ক্লাইমেকটেরিক ফল থেকে ইথিলিন উৎপন্ন হয় না। ফলে ঘরে রেখে দিলেও পাকে না, মিষ্টিও বাড়ে না। যেমন, আঙ্গুর ও স্ট্রবেরি।

ফল সংরক্ষণের উপায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমের মতো ফলগুলো বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ১৫ থেকে ২০ দিন বা সর্বোচ্চ এক মাস রাখা যায়। সংরক্ষণ সময় বাড়াতে পুরোপুরি পাকার আগে ফল পরিপক্ক হলেই গাছ থেকে পাড়তে হবে। যে স্থানে তা রাখা হবে তা অবশ্যই বাতাস চলাচলের উপযোগী ও শীতল হতে হবে। প্রয়োজনে ইলেকট্রিক ফ্যান ব্যবহার করা যেতে পারে। আর্দ্র আবহাওয়ায় ও বদ্ধ ঘরে আম তাড়াতাড়ি পাকে এবং সহজে পচন ধরে যায়।

যেভাবে আম-কাঁঠাল দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করবেন
কাঁঠাল সংরক্ষণে জানতে হবে কিছু বিষয়

তবে একেবারে কম তাপমাত্রায় রাখা যাবে না। কারণ এতে ফলের ওজন কমবে এবং ফল শুকিয়ে যাবে। তাই ১৮ থেকে ২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা উপযুক্ত।

কাঁঠালের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি প্রযোজ্য।

আবার এ সময় কোনো ফলে পচন দেখা দেয়ামাত্রই আলাদা করে রাখতে হবে, কারণ এর জীবাণু অন্যান্য ফলকে আক্রমণ করে।

তবে বাড়িতে রাখতে গেলে আস্ত আম প্রথমে কাগজের ব্যাগে ভরে নিতে হবে। পরে কাগজের ব্যাগটি একটি কাপড়ের ব্যাগে ভরে মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। তৃতীয় ধাপে ব্যাগটি অন্য একটি পলিথিন ব্যাগে রাখতে হবে। এরপর ব্যাগটি রেখে দিতে হবে ডিপ ফ্রিজে।

এতে অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকবে আম।

কাঁঠালের ক্ষেত্রে কোষগুলো আলাদা করে অল্প সময়ের জন্য হলে ফ্রিজের নরমাল অংশে এবং বেশি দিনের জন্য হলে ডিপে সংরক্ষণ করতে হবে।

গরম পানিতে আম শোধন

গরম পানিতে আম শোধন করলে আমের সংরক্ষণক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি আমের মধ্যে থাকা দূষিত পদার্থ এবং রোগবালাইও দূর হবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) গরম পানিতে আম শোধনের (হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট) এমন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে। বিদ্যুচ্চালিত এই যন্ত্রে ৫৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার পানির ভেতরে পাঁচ মিনিট আম রাখলে তা পরিশোধিত হয়। বিদ্যুচ্চালিত এ যন্ত্রের এক প্রান্তে গরম পানির মধ্যে প্লাস্টিকের আমভর্তি ঝুড়ি চুবিয়ে দেয়া হয়। এটি অন্য প্রান্তে যেতে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। পরে আমগুলো থেকে পানি ঝরিয়ে শুকিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) গবেষকরা বলছেন, দেশে গাছ থেকে আম পাড়ার পদ্ধতি অবৈজ্ঞানিক। আম পাড়ার পর আমের বোঁটা থেকে নির্গত রসে ম্যালিক অ্যাসিড থাকে। এই অ্যাসিড আমের পচন ত্বরান্বিত করে। এ রোগকে বোঁটা পচা রোগ বা অ্যানথ্রাক নোজ বলে। এ ছাড়া আমে মাছি পোকার (ফ্রুটফ্লাই) আক্রমণ হয়ে থাকলে ওই পোকার ডিমও সেখানে থাকতে পারে। সেই ডিম কয়েক দিনের ব্যবধানে পোকায় পরিণত হয়। গরম পানিতে শোধন করলে সেই ডিম নষ্ট হয়ে যায়, আমের সংরক্ষণক্ষমতাও বাড়ে। বাড়িতেও একই তাপমাত্রাায় আম শোধণ করে সংরক্ষণ করা যায়।

বারির উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ফল) বাবুল চন্দ্র সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, উচ্চ ইথিলিন উৎপন্ন হয় এমন ফল বেশিদিন থাকে না। তাই বৈজ্ঞানিক ভাবেই আম-কাঁঠাল স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বেশি দিন তাজা রাখা যায় না। বেশি দিন কম তাপমাত্রায় রাখলেও পচন ধরে। ঠান্ডাজনিত ক্ষত হয়ে যায়। স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিশ্বের কোথাও এসব ফল এক মাসরে বেশি রাখা যায় না।

তিনি বলেন, ‘কোল্ড স্টোরেজের মাধ্যমে কিছুদিন সংরক্ষণ করা যায়। ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে এবং আর্দ্রতা ৯২ থেকে ৯৫ শতাংশ রাখা গেলে আম-কাঁঠাল সর্বোচ্চ এক মাস রাখা যাবে। ট্রান্সপোর্টেশনের জন্য বা রপ্তানি করার জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্ভব। তবে এর বেশি হলেই ফল নষ্ট হয়ে যাবে বা গুণগত মান আর থাকবে না। আবার আমের ক্ষেত্রে হট ওয়াটার ট্রিটমেন্টও ব্যবহার করা যায়।’

তিনি বলেন ‘তবে বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থায়। যেমন কাঁঠাল পুরোপুরি পাকার আগে একটু শক্ত থাকতে কোয়া খুলে তা একই তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। আবার আমের ক্ষেত্রে পাল্প করে রাখা যায়। পাকা আম ভালোভাবে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিয়ে লম্বাভাবে টুকরো করে কাটতে হবে। এই আমের টুকরোগুলো ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যাবে। বড় বড় কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে আমের পাল্প সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করছে। আম-কাঁঠাল থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবারও তৈরি করা যায়। তবে সবচেয়ে ভাল বিকল্প হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের জাত উদ্ভাবন, যাতে সারা বছর ফলন পাওয়া যায়।’

আম-কাঁঠালের অবস্থা

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য বলছে, ২০ বছর ধরে বাংলাদেশে সাড়ে ১২ শতাংশ হারে ফল উৎপাদন বাড়ছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশ কাঁঠাল উৎপাদনে সারা বিশ্বে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম ও পেয়ারায় অষ্টম। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ ১০ নম্বর স্থান দখল করেছে। এখন দেশে ৭২টিরও বেশি দেশি-বিদেশি ফল চাষ হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৪ লাখ টন আম উৎপাদন হচ্ছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে ৯ লাখ টন আম উৎপাদন হয়। কাঁঠালের বার্ষিক উৎপাদনের পরিমাণ ১০ লাখ টন। সংরক্ষণ সময় স্বল্পতা ও নানা কারণে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়।

আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়াতে প্রকল্প

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বলছে, প্রচুর আম উৎপাদন হলেও রপ্তানিতে অবদান সামান্য – বছরে মাত্র এক হাজার টনের মতো। বিদেশে চাহিদা থাকার পরও কম সংরক্ষণ সময়ের কারণে কাঙ্খিত হারে আম রপ্তানি করা যাচ্ছে না। তাই গরম পানিতে শোধনের মাধ্যমে আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়িয়ে তা রপ্তানি উপযোগী করার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার।

‘ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে আমের রপ্তানি বাজার সম্পসারণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার ৮০০ জন কৃষক, উদ্যোক্তা ব্যবসায়ী ও প্রক্রিয়াজাতকারীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। গরম পানিতে শোধন করলে আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়বে এবং আমে থাকা রোগ-বালাই ও জীবাণুও নষ্ট হবে। একই সঙ্গে সংরক্ষণ ব্যবস্থাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হবে, যা আমের রপ্তানি উপযোগিতা বাড়বে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আম উৎপাদন এলাকায় বড় পরিসরে ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। একই ধরনের ভিএইচটি স্থাপন করতে চায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), বিএডিসি, ডিএইসহ কয়েকটি সংস্থা।

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা

জাফলংয়ের জলে দাপাদাপি করতে করতে পাহাড় আর মেঘের এই মিতালি তো কেবল বর্ষাকালেই দেখা মেলে। ছবি: হাসান মোরশেদ

বর্ষায় এখানকার হাওরগুলো, বিশেষত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এক আশ্চর্য সুন্দর রূপ নেয়। শুকিয়ে যাওয়া হাওরের চারদিকে থইথই করে পানি। একেবারে আদিগন্ত বিস্তৃত যাকে বলে। পানির মধ্যেই গলা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি হিজল-করচ। দূরে, আরও দূরে পানির সঙ্গে মিশে যায় আকাশ। কখনো বা সূর্য ঝুলে থাকে হিজলের ডালে।

মাত্র শেষ হওয়া বৃষ্টিতে স্নান সেরে নিয়েছে সড়কের পাশের উঁচু পাহাড়টি। গাছগুলো এখন আরও সবুজ; আরও সতেজ।

পাহাড়ের গায়ে হেলান দিয়ে আছে মেঘ। কার্পাস তুলোর মতো সাদা মেঘের দল পাহাড়ের পুরো গায়ে চুমু খেতে খেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে উত্তর থেকে দক্ষিণে।

প্রেমের এই সুখ যেন সহ্য হচ্ছে না পাহাড়টির। তার চোখের জল গড়িয়ে পড়ছে এদিকসেদিক।

পাহাড়ের চোখের জলকে কী নামে ডাকা হয়, তা অনেক আগেই গানে গানে বলে গেছেন সুবীর নন্দী: ‘পাহাড়ের কান্না দেখে তোমরা তাকে ঝরনা বলো।’

সিলেট-তামাবিল সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় চোখে পড়ল মেঘ-পাহাড়ের অভিসারের এমন স্বর্গীয় সৌন্দর্যের। এই সড়ক দিয়েই যেতে হয় সিলেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ে।

এই সড়কের পাশেই খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়। পাহাড়টির অবস্থান অবশ্য সীমান্তের ওপারে, ভারতের মেঘালয়ে। তবে সিলেট থেকেই দেখা যায় এর পূর্ণ অবয়ব।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

এই সড়ক দিয়ে জৈন্তাপুর পার হলে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে পাহাড়ের বিশাল শরীরের অনেকটা। মনে হয়, এই তো হাতের কাছেই পাহাড়, দুই কদম এগোলেই যা ছুঁয়ে দেখা যাবে। কাঁটাতারের জঞ্জালের কারণে ছোঁয়া যায় না যদিও।

তাতে অবশ্য একদিকে ভালোই হয়েছে। এখানকার পাহাড়-টিলা কেটে যেভাবে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে, তাতে ধরতে পারলে এটিরও যে ঘাড় মটকে দেয়া হতো না, সে নিশ্চয়তা কে দিতে পারে!

বর্ষায় এই পাহাড়টি মোহনীয় রূপ নেয়। ছোট-বড় অসংখ্য ঝরনা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। চাইলে দুয়েকটি ঝরনার জলে গা-ও ভিজিয়ে নেয়া যায়। আর বৃষ্টি থামার খানিক পরে গেলে তো কথাই নেই। দেখা মিলবে পাহাড়ের গায়ে মেঘের খেলা করার সুন্দরতম দৃশ্য।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা

হাদারপাড়ার বাজার থেকে ইঞ্জিন নৌকা করে সিলেটের আরেক পর্যটনকেন্দ্র বিছনাকান্দিতে যাওয়ার সময়ও দেখা মেলে এমন দৃশ্যের। পাহাড়টা একই আছে। মেঘগুলো বদলে গেছে কেবল। দৃশ্যপটও কিছুটা বদলেছে।

এখানে সড়কের পাশে নয়, পাহাড়ের অবস্থান নদী আর ধানক্ষেতের গা-ঘেঁষে। বিছনাকান্দি অথবা সাদাপাথরের জলের বিছানায় শুয়ে কিংবা জাফলং বা পাংথুমাইয়ে ঝরনার জলে দাপাদাপি করতে করতে পাহাড় আর মেঘের এই মিতালি তো কেবল বর্ষাকালেই দেখা মেলে।

বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদে বোঁদলেয়ারের সেই কবিতা তো অনেকেই পড়েছেন, ‘…বলো তবে, অদ্ভুত অচেনা মানুষ, কি ভালোবাসো তুমি?/ আমি ভালোবাসি মেঘ…চলিষ্ণু মেঘ…ওই উঁচুতে…ওই উঁচুতে…/ আমি ভালোবাসি আশ্চর্য মেঘদল!’

এমন বর্ষায়, এই পাহাড়ের পাদদেশে এসে, চলিষ্ণু মেঘদলকে ভালো না বেসে উপায় আছে!

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

শুধু এই পাহাড় আর মেঘদলের কথা বলা কেন, বর্ষায় পুরো সিলেটই তো এমন। পর্যটক আকর্ষণের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে সিলেটকে ব্র্যান্ডিং করা হয়েছে ‘প্রকৃতি কন্যা’ নামে।

সিলেট যেন প্রকৃতির সেই সুন্দরী কন্যা, বৃষ্টির স্পর্শ যাকে আরও মোহনীয়, আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। ফলে বর্ষাকালেই সিলেট ফুটে ওঠে তার পূর্ণ রূপে, পূর্ণ যৌবনে।

সাধারণ শীত মৌসুমকেই দেশে পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এই সময়েই পর্যটকরা ঘোরাঘুরি করেন বেশি। তবে সিলেট যেন বর্ষাসুন্দরী। শীত-বসন্তের ধূলি-ধূসর আর রুক্ষতা সরিয়ে বর্ষায় নবপ্রাণে জেগে ওঠে এখানকার প্রকৃতি।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, শুকিয়ে যাওয়া নদী-হাওর পানিতে টইটম্বুর হয়ে ওঠে। পাহাড়ে দৃশ্যমান হয় ঝরনা। জলে ভাসে রাতারগুল, হাওরে হিজল। আর বৃষ্টির ছোঁয়া পেয়ে চা-বাগানগুলো হয়ে ওঠে আরও ঘ্রাণময়, আরও সবুজ। এই পাহাড়, হাওর, বন, চা-বাগান, এসব নিয়েই তো সিলেট এবং এই বৃষ্টি-বর্ষা নিয়েও।

বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল মেঘালয়ের মওসিন্রামের পাশে সিলেটের অবস্থান। ফলে সারা বছরই এই অঞ্চলে বৃষ্টি থাকে। আর বর্ষা মৌসুমে তো কথাই নেই। দিন-রাতভর চলতেই থাকে ধারাপাত। এতে নাগরিক জীবনে কিছু বিপত্তিও আসে বটে।

সড়কে জল জমে। ভাঙা সড়কে কাদা হয়। যখন-তখন আসা বৃষ্টিতে ভিজে জবুথবু হতে হয় কর্মব্যস্ত নগরবাসীকে।

বর্ষার নাগরিক এই জঞ্জালের চিত্র দারুণভাবে তুলে ধরেছিলেন সুকুমার রায়, ‘আপিসের বাবুদের মুখে নাই ফুর্তি/ ছাতা কাঁধে জুতা হাতে ভ্যাবাচ্যাকা মূর্তি/ কোনখানে হাঁটু জল, কোথা ঘন কর্দম/ চলিতে পিছল পথে পড়ে লোকে হর্দম।’

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: মোসাইদ রাহাত

তবে নাগরিকদের এসব বিপত্তি নিয়ে ভাবতে প্রকৃতির বয়েই গেছে। প্রকৃতিতে তো তখন নবযৌবনের উচ্ছ্বাস।

বর্ষায় এখানকার হাওরগুলো, বিশেষত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর এক আশ্চর্য সুন্দর রূপ নেয়। শুকিয়ে যাওয়া হাওরের চারদিকে থইথই করে পানি। একেবারে আদিগন্ত বিস্তৃত যাকে বলে।

পানির মধ্যেই গলা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে সারি সারি হিজল-করচ। দূরে, আরও দূরে পানির সঙ্গে মিশে যায় আকাশ। কখনো বা সূর্য ঝুলে থাকে হিজলের ডালে।

হাওরের মধ্যে ছোট ছোট দ্বীপের মতো একেকটা জনবসতি। দেখলে মনে হবে পানির মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে এগুলো। আর জেলেরা সত্যি সত্যিই ভেসে ভেসে মাছ শিকার করে চলছেন। কেউ জাল দিয়ে, কেউ বড়শি, কেউ বা অন্য কিছু দিয়ে।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: তানভীর রুহেল

হাওরে ভাসতে ভাসতে লাউড়ের গড়, বারেকের টিলা, শহীদ সিরাজ লেক- এসব দিকে চলে গেলে আবার বিশাল দেহ নিয়ে কাছে এসে দাঁড়াবে সেই পাহাড় আর তার গায়ে খেলা করা মেঘদল।

প্রকৃতির এমন সুবিন্যস্ত সুন্দর রূপ দেখেই হয়তো এই অঞ্চলের এক উদাসী রাজা একদিন গেয়ে উঠেছিলেন, ‘আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ, আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপ রে/আরে দিলের চক্ষে চাহিয়া দেখ বন্ধুয়ার স্বরূপ রে।’

বর্ষায় বেশ দুর্ভোগও পোহাতে হয় হাওরপারের মানুষদের। শান্ত-স্থির হাওরেও হঠাৎ ঢেউ ওঠে। ভয়ংকর সব ঢেউ, স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘আফাল’ বলে। এর ধাক্কায় ভেঙে পড়ে হাওরপারের জনবসতি। তীব্র হয়ে ওঠে ভাঙন।

কখনো বা তীব্র ঝড় উড়িয়ে নিয়ে যায় ঘরের চালের টিন, মাটির বেড়া। আর বন্যা দেখা দিলে তো দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়ে যায়।

বর্ষাসুন্দরী, বৃষ্টিবন্দনা
ছবি: হাসান মোরশেদ

মানুষের এসব দুর্ভোগ, উপদ্রব সত্ত্বেও বর্ষা আসে প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের আহ্বান নিয়ে। এই সময় মাছেরা উজায়। নতুন পোনা ছাড়ে। বীজ থেকে নতুন গাছ জন্মায়। অঙ্কুরোদগম হয়। প্রকৃতিতে যেন বর্ষার আহ্বান- প্রাণের সঞ্চার করো।

সিলেট ছাড়া আর কোথায় গেলে এমন স্পষ্ট করে বোঝা যাবে বর্ষার এই আহ্বান? পাহাড়, নদী, ঝরনা, অরণ্য, হাওর—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য আর কোথায়ই বা আছে?

আচ্ছা, মানুষের জন্যও কি এই আহ্বান নিয়ে আসে বর্ষা? মিলনের, প্রাণসঞ্চারের? হবে হয়তো। না হলে রবীন্দ্রনাথের কেন মনে হবে, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়।’

কেন বর্ষায়ই ‘তারে’ বলতে হবে, কেন অন্য ঋতুতে নয়?

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

সারা বছর রেখে আম খাবেন কীভাবে

সারা বছর রেখে আম খাবেন কীভাবে

পাকা আম সংগ্রহ করে পানিতে ধুয়ে ফেলুন। আমের খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে আম কেটে নিন। টুকরাগুলো ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে ফেলুন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের অতি পছন্দের ফল আম। ফলটির স্বাদে অমৃত খুঁজে পাওয়ায় অনেকে আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা বছর যদি আম পাওয়া যেত!’

তাদের সে আক্ষেপ ঘুচে যেত আম বারোমাসি ফল হলে। কিন্তু যেহেতু এটি মৌসুমি ফল, সেহেতু নির্দিষ্ট সময় পর অনেকের জিভে জল এলেও আম খাওয়া সম্ভব হয় না।

আমপ্রেমী এমন মানুষদের জন্য আছে বিকল্প ব্যবস্থা। সঠিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে সারা বছরেই তারা নিতে পারবেন আমের স্বাদ।

তবে যেনতেনভাবে সংরক্ষণ করলে হবে না; মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম।

তিনভাবে আম সংরক্ষণ করা যায়।

১. আস্ত আম সংরক্ষণ

পাকা আম সংগ্রহ করুন। সেখান থেকে থেঁতলে যাওয়া, পচা ও পোকা ধরা ফলগুলো সরিয়ে ফেলুন। বাকি আম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। মনে রাখতে হবে আমের ওপর যেন কষ লেগে না থাকে। এবার নরম কাপড় দিয়ে আমগুলো মুছে ফেলুন।

সারা বছর রেখে আম খাবেন কীভাবে

আস্ত আম সংরক্ষণ করতে চাইলে তিন ধরনের ব্যাগ লাগবে। কাগজের, কাপড়ের ও পলিথিন ব্যাগ সংগ্রহ করুন।

শুকনো আমগুলো প্রথমে কাগজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিন। কাগজের ব্যাগ পাওয়া না গেলে পত্রিকা দিয়ে মুড়িয়েও রাখতে পারেন। সেগুলোকে কাপড়ের ব্যাগে এবং সবশেষে কাপড়ের ব্যাগটাকে পলিথিন ব্যাগে ঢুকিয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন।

২. আম কেটে সংরক্ষণ

পাকা আম বেছে নিন। পানিতে ধুয়ে আমের ওপর লেগে থাকা ময়লা ও কষ পরিষ্কার করুন। ছুরি দিয়ে আমের খোসাগুলো ছাড়িয়ে নিন। এবার আমটাকে ছোট ছোট টুকরা করে কাটুন। আঁটি সংরক্ষণের প্রয়োজন নেই বলে সেটা সরিয়ে রাখুন।

আম কেটে সংরক্ষণ করার জন্য জিপলক ব্যাগ ও প্লাস্টিকের মুখ বন্ধ বাটি লাগবে।

সারা বছর রেখে আম খাবেন কীভাবে

আমের টুকরাগুলো জিপলক ব্যাগে ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। জিপলক ব্যাগটা এবার প্লাস্টিকের মুখ বন্ধ বাটিতে রেখে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। একই ব্যাগে অনেক টুকরা না রেখে অল্প অল্প করে রাখুন।

৩. ব্লেন্ড করে সংরক্ষণ

পাকা আম সংগ্রহ করে পানিতে ধুয়ে ফেলুন। আমের খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে আম কেটে নিন। টুকরাগুলো ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে ফেলুন।

চায়ের কাপ, আইসক্রিমের কাপ কিংবা আইস কিউব বানানোর ছাঁচে জুস ঢেলে নিন। সেটাকে ডিপ ফ্রিজে রাখুন। জুস জমে শক্ত হয়ে গেলে বের করে নিন।

সারা বছর রেখে আম খাবেন কীভাবে

এবার জিপলক ব্যাগের প্রয়োজন হবে। জমে যাওয়া আমের জুস জিপলক ব্যাগে ঢুকিয়ে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।

এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে ৮ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত আম ভালো থাকবে। খেয়াল রাখবেন, কখনো দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে সংরক্ষিত আম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে রকম হলে আম খাওয়ার আগে ভালো করে পরীক্ষা করে নিতে হবে।

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

ময়মনসিংহে মটকা চায়ের সুঘ্রাণ

ময়মনসিংহে মটকা চায়ের সুঘ্রাণ

ময়মনসিংহ শহরে মটকা আঁচ’ নামের এই রেস্তোরাঁর চায়ের স্বাদে মজেছেন সব বয়সীরা। ছবি: নিউজবাংলা

চা দেয়া হয় মাটির ভাঁড়ে। অন্যান্য খাবারের পরিবেশনাতেও ভিন্নতা। মটকা চায়ের স্বাদে মজেছেন সব বয়সীরা। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আসিফুল হক আসিফ ও চয়ন দেওয়ান। করোনাভাইরাসের প্রভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের টিউশনিতেও ভাটা পড়ে। এমন বাস্তবতায় একটি বিকল্প বের করেন তারা; খোলেন ব্যতিক্রমধর্মী রেস্তোরাঁ।

‘মটকা আঁচ’ নামের সেই রেস্তোরাঁ ময়মনসিংহ শহরের র‍্যাব সদর দপ্তরের উল্টো পাশে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে রেস্তোরাঁটি।

অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করেছিলেন দুইজন। এখন সাতজন শ্রমিক কাজ করছেন এতে।

রেস্তোরাঁটি এরই মধ্যে ময়মনসিংহে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা এটি পরিচালনা করায় অল্প বয়সীরা আকৃষ্ট হয়েছেন। এ ছাড়া চাসহ বিভিন্ন খাবারের পরিবেশনায় ভিন্নতার কারণে সব বয়সীরাই এখানে আসছেন।

এখানে মাটির হাঁড়িতে চা পরিবেশন অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ময়মনসিংহে মটকা চায়ের সুঘ্রাণ

উদ্যোক্তা দুজন চারুকলার শিক্ষার্থী হওয়ায় এর ইন্টেরিয়রেও শিল্পের ছাপ। ভেতরে ডেকোরেশনে কাঠ, ফোক আর্ট ও পত্রিকার কাগজ দিয়ে সাজানো।

বাইরের দেয়ালে নব্বই দশকের জনপ্রিয় টিভি চরিত্র বাকের ভাইয়ের দেয়ালচিত্র। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত ও গ্রামীণ নারীদের জীবন তুলে ধরা হয়েছে।

রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা যায়, উদ্যোক্তা শিক্ষার্থীরা নানা বয়সী ক্রেতাদের বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করছেন। বেশির ভাগ ব্যক্তিই মটকা চা পান করছেন।

কেউ কেউ চায়ের চুমুকের ফাঁকে খোশগল্পে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে বাইরের বেঞ্চে বসে চায়ের আড্ডা জমিয়েছেন।

চা পানের ফাঁকে আসাদ, মুস্তাকিম নামে দুজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, দুই বন্ধু মাঝেমধ্যে সময় পেলে এখানে চা পান করতে আসেন। বিভিন্ন ধরনের খাবার থাকলেও এখানকার মটকা চা তাদের বেশি পছন্দ। এর স্বাদও আলাদা। ভেতরের প্রাকৃতিক পরিবেশ তাদের ভালো লাগে।

ময়মনসিংহে মটকা চায়ের সুঘ্রাণ

করোনায় হাল না ছাড়া শিক্ষার্থীদের এই রেস্তোরাঁর কর্মী আজিজুল হক রমজান, শরীফ আহমেদ ও বিল্লাল হোসেন জানান, রেস্তোরাঁয় ওয়েটারদের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও খাবার পরিবেশন করেন। ভালো ব্যবহারের কারণে তৃপ্তি নিয়ে কাজ করেন তারা।

আবিদ হাসান সাকিব নামে চারুকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ‘আসিফুল হক আসিফ ও চয়ন দেওয়ান দুই বন্ধু টিউশনি করে পড়াশোনার খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ জোগাত। করোনার প্রকোপে টিউশনি না থাকায় দুজন এই রেস্তোরাঁ দিয়েছে। বন্ধুদের এমন সাফল্য দেখে আমাদেরও ভালো লাগে।’

উদ্যোগ শুরুর প্রেক্ষাপট

মটকা আঁচের উদ্যোক্তা আসিফুল হক আসিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিউশনি হচ্ছে অস্থায়ী কাজ। যা কিছু টাকা পেতাম তা দিয়ে কোনো রকম নিজের খরচ জুগিয়েছি। তবে মনে মনে সব সময় চিন্তা করেছি, ভালো একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে পারলে আর হতাশায় ভুগতে হবে না।

‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই একজন সফল উদ্যোক্তা আফজাল হোসেন শান্ত ভাইয়ের পরামর্শ নিয়ে রেস্টুরেন্ট দিতে অনুপ্রাণিত হই। আমরা দুই বন্ধু মিলে ময়মনসিংহে এই রেস্টুরেন্ট দিয়েছি। এখন আমরা নিজেরা সচ্ছল হওয়ার পাশাপাশি তিনজনকে নিয়মিত ও আরও চারজনকে অস্থায়ী হিসেবে এখানে চাকরি দিয়েছি।’

ময়মনসিংহে মটকা চায়ের সুঘ্রাণ

আসিফ জানান, তার রেস্তোরাঁয় শুধু চায়েরই আছে নানান আইটেম। এগুলো হলো মটকা স্পেশাল চা, মটকা কুলফি, মটকা ফালুদা, রেগুলার চা, তন্দুরি চা ও স্পেশাল তন্দুরি চা। এর বাইরে আছে চিকেন মোমো, হাঁসের মাংস, খাসির নলি ও কলিজা ভুনা। সবগুলোই হাঁড়ি-পাতিলে পরিবেশন করা হয়।

মটকা আঁচের আরেক উদ্যোক্তা চয়ন দেওয়ান বলেন, ‘অন্যান্য খাবারের চেয়ে মটকা চা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছে। কারণ হচ্ছে গরুর খাঁটি দুধ, দুধের মালাই, সর্বোচ্চ ভালো মানের চা পাতি, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পাস্তাবাদাম, কিশমিশসহ আরও বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যসম্মত ড্রাইফুড দিয়ে চা পরিবেশন করা হয়।

‘চা বানানোর মাটির পাত্রটি ৩ হাজারের বেশি তাপমাত্রায় পুড়িয়ে নিই৷ ফলে এতে কোনো ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস থাকে না।’

চয়ন জানান, এ রেস্তোরাঁয় সবকিছু মাটির পাত্রে পরিবেশন করা হয়। ফলে প্রচুর মাটির পাত্রের প্রয়োজন হয়। দুটি কুমারের বাড়ি মাটির পাত্রের জোগান দেয়। মাটির হাঁড়ি বানিয়ে সুদিন ফিরেছে উজ্জ্বল কুমার পাল ও সুলভ কুমার পালের।

আরও শাখা খোলার চিন্তা

প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকে রেস্তোরাঁ। তবে সন্ধ্যার পর থেকে লোকজন বেশি আসতে শুরু করে।

উদ্যোক্তারা জানান, জনপ্রিয়তার কারণে আরও আউটলেট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এর মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চত্বরে একটির নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলে এর উদ্বোধন হবে।

ময়মনসিংহে মটকা চায়ের সুঘ্রাণ

শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রধান ড. এমদাদুর রাসেদ সুখন।

নিউজবাংলাকে সুখন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, চাকরি না হলেও হতাশ হওয়া যাবে না; উদ্যোক্তা হতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজের প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হয়েছেন।

‘ছোট পরিসরে ব্যবসা করে নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন কর্মহীনেরও তারা কর্মের ব্যবস্থা করেছেন। এটির জন্য নিঃসন্দেহে তারা প্রশংসার দাবিদার। কাজের পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

রেস্টুরেন্টে ধূমপান এলাকা নিষিদ্ধের দাবি

রেস্টুরেন্টে ধূমপান এলাকা নিষিদ্ধের দাবি

অনেক রেস্তোরাঁ কফিশপে ধূমপানের জন্যে আলাদা জায়গা থাকে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি এটি নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করেছে।

জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে দেশের রেস্টুরেন্টগুলোতে ‘নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা’ নিষিদ্ধ চান বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

বৃহস্পতিবার ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ভূমিকা’ র্শীষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি ও ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃধার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম সরকার রবিন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আন্দালিব, কোষাধ্যক্ষ তৌফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ও কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি নাইমুল হক চৌধুরী, ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের লিড পলিসি এডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গ্র্যান্টস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া, সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইজার মো. আতাউর রহমান মাসুদ, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহকারী পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান প্রমুখ। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়ক মো. শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তারা অভিমত দিয়ে বলেন, রেস্তোরাঁকে পুরোপুরি ধূমপানমুক্ত করলে ধূমপানমুক্ত রেস্তোরাঁয় মহিলা শিশুসহ সবাই স্বস্তিবোধ করে। ফলে গ্রাহক সমাগম বেশি হবে। এ ছাড়া অযথা টেবিল দখলে থাকে না বলে গ্রাহক ফিরে যায় না। রেস্তোরাঁর পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে, বিড়ি সিগারেটের আগুন থেকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে না, মালিক, ম্যানেজার বা কর্মচারীরাও পরোক্ষ ধূমপানের ধোঁয়া থেকে রক্ষা পাবে। এ জন্য রেস্তোঁরাসমূহে তামাক ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রেস্টুরেন্টগুলোকে পুরোপুরি ধূমপানমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করোর প্রতিশ্রুতি দেন।

ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের লিড পলিসি এডভাইজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যিনি ধূমপান করেন না, তার অধিকার আছে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতির হাত থেকে নিজেকে রক্ষার। অথচ পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যাই বেশি। যেহেতু ধূমপানের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেজন্য রেস্তোরাঁসহ সব ধরনের পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ করা উচিত।

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ

এই সালাদ যেকোনো সময় খাওয়া যায়। দুপুরের খাবারের সঙ্গে নিতে পারবেন। চাইলে বিকেলের নাশতা হিসেবেও খাওয়া যাবে। রাতের খাবার হিসেবে এক বাটি স্যুপ খাওয়ার পর ব্রকলি-মাশরুমের সালাদ নেয়া যেতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারি থেকে বাঁচতে আমরা সবাই মাস্ক ব্যবহার করছি। সাবান দিয়ে হাত ধুচ্ছি বারবার। এভাবে শুধু বাইরে থেকে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুললেই চলবে না। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে শরীরের ভেতর থেকেও।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করে আমরা করোনাভাইরাসের হাত থেকে সহজেই রক্ষা পেতে পারি। সে জন্য খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে এমন সব খাবার, যেগুলো সত্যিকারভাবে আমাদের ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলবে।

ফোরর্টিস হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ডাক্তার নামিতা নাদার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ব্রকলি ও মাশরুমের সালাদ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই খাবারটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ডি, ক্যালসিয়াম এবং ফাইবার আছে।

সালাদ বানানোর প্রক্রিয়া

উপাদান

১. ব্রকলি: এক কাপ

২. মাশরুম: এক কাপ

৩. জলপাইয়ের তেল: দুই চা-চামচ

৪. ওরেগানো পাউডার: স্বাদমতো

যেভাবে বানাবেন

মাশরুমগুলো জলপাইয়ের তেলে সামান্য ভেজে নিতে হবে। ভাজা শেষে সেগুলো একটা বাটিতে তুলতে হবে। ছোট ছোট করে কাটা কাঁচা ব্রকলিগুলো মাশরুমের বাটিতে ফেলে ভালো করে নেড়ে ফেলতে হবে। স্বাদ বাড়াতে সামান্য ওরেগানো পাউডার দেয়া যেতে পারে। সবশেষে ভালো করে মাখিয়ে সালাদ পরিবেশন করতে হবে।

এই সালাদ যেকোনো সময় খাওয়া যায়। দুপুরের খাবারের সঙ্গে নিতে পারবেন। চাইলে বিকালের নাশতা হিসেবেও খাওয়া যাবে। রাতের খাবার হিসেবে এক বাটি স্যুপ খাওয়ার পর ব্রকলি-মাশরুমের সালাদ নেয়া যেতে পারে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ

ব্রকলিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। রান্না করা খাবার থেকে অনেকখানি পুষ্টি বেরিয়ে যায়। ব্রকলি কাঁচা খাওয়া যায় বলে তার পুরো পুষ্টিটা পাওয়া যায়। দৈনিক এক কাপ ব্রকলি খেলে ক্যালসিয়াম এবং ফাইবারের চাহিদাও পূরণ হবে।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে মাশরুম-ব্রকলির সালাদ

মাশরুমে আছে ভিটামিন ডি। এটা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। বিশেষ করে টি কোষ এবং সি কোষ- যারা রোগ প্রতিরোধের জন্য কাজ করে, তাদের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় ব্রকলি।

আরও পড়ুন:
ভ্যাট ফাঁকি, ফুড পান্ডার বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন