ফি দিয়ে ঢুকতে হবে হাজারীখিল ও বারৈয়াঢালায়

চট্টগ্রামের হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। ছবি: নিউজবাংলা

ফি দিয়ে ঢুকতে হবে হাজারীখিল ও বারৈয়াঢালায়

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষিত স্থান দুটিতে প্রবেশসহ আনুষাঙ্গিক ফি নির্ধারণ করে ১৯ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করেছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে ফি আদায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রামের হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কে ঢুকতে ফি দিতে হবে পর্যটক ও ভ্রমণার্থীদের।

গাড়ি পার্কিং, ভিডিও ধারণ, নৌকা ভ্রমণ, মাছ শিকার, রেস্ট হাউস ও পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহার করতে চাইলেও নির্ধারিত টাকা দিতে হবে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষিত স্থান দুটিতে প্রবেশসহ আনুষাঙ্গিক ফি নির্ধারণ করে ১৯ জানুয়ারি গেজেট প্রকাশ করেছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে ফি আদায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক হাছানুর রহমান বলেন, ইজারাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিগগিরই ফি আদায় শুরু হবে।

ফি আদায় কার্যক্রম শুরু হলে হাজারীখিল ও বারৈয়াঢালা এলাকায় ঢুকতে প্রাপ্তবয়স্কদের ২০ টাকা ও শিক্ষার্থীদের ১০ টাকা দিতে হবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রে প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে পাঁচ ডলার। এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা ১০০ জনের দলকে ২০০ টাকা এবং এর বেশি হলে ৪০০ টাকা দিতে হবে।

বাস ও ট্রাক পার্কিংয়ে ১৫০ টাকা; ব্যক্তিগত কার, জিপ ও মাইক্রোবাসে ১০০ টাকা; অটোরিকশা ও টেম্পুতে ৩০ টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ২০ টাকা ফি ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া একদিন একটি ক্যামেরা দিয়ে হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কে এলাকায় শুটিং করতে চাইলে ‘ফিল্মিং ফি’ দিতে হবে ছয় হাজার টাকা।

আধাঘণ্টা নৌকা ভ্রমণের ২০ টাকা ও ইঞ্জিনবিহীন নৌকা চালাতে প্রতিজন ১৫ টাকা দিতে হবে। মাছ ধরতে এক দিনের জন্য দেয়া লাগবে ৪০০ টাকা।

এ ছাড়া রেস্ট হাউসের ভাড়া ৫০০ টাকা ও পিকনিক স্পট ব্যবহারে প্রতিজন ১০ টাকা করে ফি দিতে হবে।

বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্ক। ছবি: নিউজবাংলা

গত কয়েক বছরে হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্ক পর্যটকদের অন্যতম পছন্দ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন এসব স্থানে হাজারও পর্যটক ভিড় করেন। ছুটির দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়ে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্কে দর্শনার্থীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। নভেম্বর থেকে দুটি স্থানই পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

২০১০ সালের ৬ এপ্রিল চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপজেলার ২ হাজার ৯৩৩ দশমিক ৬১ হেক্টর বনকে বারৈয়াঢালা ন্যাশনাল পার্ক (সংরক্ষিত বনাঞ্চল) ঘোষণা করা হয়।

এ পার্কের মূল আকর্ষণ নয়স্তরের খৈয়াছড়া ঝর্ণা, সহস্রধারা ঝর্ণা, নাপিত্তা ছড়া ঝর্ণা ও সোনাই ছড়া ঝর্ণা। এ ছাড়া বাওয়া ছড়া, কমলদহ ছড়া, নাপিত্তার ছড়া ও লবণাক্ত ছড়া এখানকার সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

চট্টগ্রামের হাজারীখিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নয়নাভিরাম প্রকৃতি। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির হাজারীখিলকে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হয় ২০১০ সালে। এক হাজার ১৭৭ হেক্টরের এ অভয়ারণ্যে হুদহুদ, হুতুম পেঁচা, ময়ূর, নীলকান্ত, বসন্তবাউড়ি, সুইচোরা, তোতা, আবাবিল, টুনি, শঙ্খচিলসহ প্রায় ১২৩ প্রজাতির পাখি রয়েছে।

এ ছাড়া মায়া হরিণ, হনুমান, বানর, চিতা বিড়াল, মেছোবাঘসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বাস করে এখানে। রয়েছে গর্জন, চাপালিশ, সেগুন, কড়ই, মেহগনি, চুন্দুলসহ হাজার প্রজাতির গাছ।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন সংরক্ষিত স্থান দুটিতে পর্যটকের কারণে বন্যপ্রাণীদের সমস্যা হচ্ছে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান বন সংরক্ষক হাছানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাকা টু নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেন ২৬ মার্চ

ঢাকা টু নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেন ২৬ মার্চ

রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া ধরা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে ৫০০ টাকার ট্রাভেল ট্যাক্স। তবে চিলাহাটি থেকে ভাড়া ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা। এর সঙ্গে ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স গুনতে হবে। 

এই স্বাধীনতা দিবসেই ঢাকা থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

রোববার পঞ্চগড়ে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে এই নতুন রুটে রেল যোগাযোগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি হলদিবাড়ি দিয়ে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব ৫৭৬ কিলোমিটার।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের আয়োজন ঐতিহাসিক ৭ মার্চের আলোচনা অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ট্রেনের ভাড়া ধরা হয়েছে ২ হাজার ২০০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হবে ৫০০ টাকার ট্রাভেল ট্যাক্স।

উত্তরাঞ্চলের মানুষ চিলাহাট স্টেশন থেকে এই পথে যাতায়াত করতে পারবেন জানিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘চিলাহাটি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত ভাড়া ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা। এর সঙ্গে ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স গুনতে হবে।’

রেল খাতের উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার ও মোংলা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হবে। শিগগিরই আরও ৫০টি স্টেশন আধুনিকায়নের কাজে হাত দেবে সরকার। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে এবার সাজানো হবে ১০০টি রেলস্টেশন।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

স্বর্ণের প্লেটে বিরিয়ানি

স্বর্ণের প্লেটে বিরিয়ানি

২৩ ক্যারেট খাদ্যযোগ্য স্বর্ণ থাকে দ্য রয়াল গোল্ড বিরিয়ানিতে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম

খাবারটির নাম ‘দ্য রয়্যাল গোল্ড বিরিয়ানি’। এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দামি বিরিয়ানি।

বিরিয়ানি নামটা শুনলে অনেকেরই ক্ষুধা দ্বিগুণ হয়ে যায়। জনপ্রিয় এই খাবারকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে দুবাইয়ের একটি রেস্তোরাঁ।

বোম্বাই বরো নামে রেস্তোঁরাটি পরিবেশন করছে বিশেষ বিরিয়ানি, যার এক প্লেটের দাম হাজার দিনার। বাংলাদেশি টাকায় তা ২৩ হাজারের বেশি।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘দ্য রয়্যাল গোল্ড’ নামের বিরিয়ানি পরিবেশন করা হবে স্বর্ণের বড় প্লেটে। ওই প্লেটে থাকছে বিরিয়ানি রাইস, কিমা রাইস, স্টিমড রাইস কিংবা স্যাফরন রাইস।

সব মিলিয়ে প্যাকেজের ওজন দাঁড়ায় তিন কেজি। এর মানে এক থালা বিরিয়ানি খেতে পারবেন ছয় থেকে সাতজন।

প্যাকেজের আওতায় আরও থাকছে আলুভাজা, সেদ্ধ ডিম, পেঁয়াজভাজা। সঙ্গে আছে মুরগি ও খাসির নানান ধরনের পদ। থাকছে ডালিমের তৈরি বিশেষ রায়তাও।

মুরগি বা খাসির কাবাবগুলো খাদ্যযোগ্য সোনার পাতায় মোড়ানো থাকে। সব মিলিয়ে ২৩ ক্যারেট খাদ্যযোগ্য স্বর্ণ থাকে দ্য রয়্যাল গোল্ড বিরিয়ানিতে।

এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সবচেয়ে দামি বিরিয়ানি।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের ক্যাকটাস প্রেম

জাহাঙ্গীরের ক্যাকটাস প্রেম

কুষ্টিয়ায় শখের বসে ক্যাকটাস চাষ করেন জাহাঙ্গীর আলম। তার সংগ্রহে আছে আড়াইশ প্রজাতির ক্যাকটাস। ছবি: নিউজবাংলা

আশির দশকে ২০০ প্রজাতির ক্যাকটাস দিয়ে শুরু করলেও বদলির চাকরির কারণে তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছিল। তখন অযত্ন আর অবহেলায় অধিকাংশ গাছই নষ্ট হয়ে যায়। ২০১৭ সালে অবসরে যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলম আবারও শুরু করেন ক্যাকটাস সংগ্রহ। বর্তমানে তার সংগ্রহে আছে প্রায় ২৫০ প্রজাতির কয়েক হাজার ক্যাকটাস।

মানুষ প্রকৃতি, গাছপালা, ফুল-ফলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোবাসে। এমনকি প্রকৃতির প্রতি মানুষের দুর্বলতা একটু বেশিই। এইসব মানুষ তাদের নিজেদের শখ আর আত্মতৃপ্তির জন্য বিভিন্ন জাতের গাছ লালন-পালন করেন। তেমনই এক জন বৃক্ষপ্রেমী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি গতানুগতিক কিছু করার উৎসাহ পান না। কাঁটার সৌন্দর্য, কাঁটার গাছ থেকে যে ফুল ফোটে এবং অন্য সব ফুলের চেয়ে অনেক বেশি মনোহর সেটা সবাইকে জানানো, দেখানোর জন্যই পুরো বাড়িতে বানিয়ে রেখেছেন ক্যাকটাসের বাগান।

জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার এলঙ্গি পাড়ায়। গড়াই নদীর কোল ঘেঁষে একটি পুরোনো লাল রঙের বাড়ি তার। মূল ফটক দিয়ে ঢুকেই মনে হবে বাড়িটি লতা-পাতা গাছ গাছালি দিয়ে তৈরি। বাড়ির যেদিকেই তাকানো যায় শুধু ফুল আর লতা-পাতা, ইটের গাঁথুনি দেখা কষ্টকর। বাড়ির বারান্দা থেকে শুরু করে যেদিকেই তাকানো যায় শুধু ক্যাকটাস আর ফুলের গাছ। বাড়ির ছাদে দুটি শেড সেখানে শুধু ক্যাকটাস। এসব ক্যাকটাসে আবার ফুলও ফুটেছে।

আশির দশকে ২০০ প্রজাতির ক্যাকটাস দিয়ে শুরু করলেও বদলির চাকরির কারণে তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছিল। তখন অযত্ন আর অবহেলায় অধিকাংশ গাছই নষ্ট হয়ে যায়। ২০১৭ সালে অবসরে যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর আলম আবারও শুরু করেন ক্যাকটাস সংগ্রহ। বর্তমানে তার সংগ্রহে আছে প্রায় ২৫০ প্রজাতির ক্যাকটাস কয়েক হাজার ক্যাকটাস।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘যে সময় আমি শুরু করি তখন আমাদের দেশের ক্যাকটাস ছিল নিম্নমানের। অনলাইন থেকে কেনা শুরু করি। বিদেশে গিয়েছিলাম কয়েক বার। সেখান থেকেও এনেছিলাম। বিদেশে যে সব বন্ধু-বান্ধব আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কখনও চারা, কখনও বীজ এনেছিলাম। এখন তো বাংলাদেশে ক্যাকটাস সহজলভ্য।’

ক্যাকটাসের বংশবৃদ্ধির জন্য গ্রাফটিং, শেড নির্মাণ, কাঁটা পর্যবেক্ষণ, মিডিয়া তৈরি থেকে শুরু করে সবকিছুই করেন নিজের হাতে। যখন চাকরি করতেন তখন অফিসে যাওয়ার আগে কিছুটা সময়, অফিস শেষে বাড়ি এসে আবার কিছু সময় এবং ছুটির দিনে কঠোর পরিশ্রম করে ক্যাকটাস দেখাশোনা করতেন।

তিনি নিউজবাংলাকে জানান, গাছ যেমন মাটি, সার দিলেই হয়, ক্যাকটাসে কিন্তু তেমনটা হয় না। মাটি লাগে না বললেই চলে। চারা রোপণের জন্য প্রধান কাজ মিডিয়া তৈরি। মোটা বালি, পাতাপচা সার, হাড়ের গুড়া, কয়লার গুড়া, ইটের গুড়া ও জৈব সার দিয়ে মিডিয়া তৈরি করতে হয়। পানি কম-বেশি হলেই গাছ পচে যায়।

জাহাঙ্গীরের বাসার একটি ক্যাকটাস

ক্যাকটাস চাষে যারা আগ্রহী তাদের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ক্যাকটাস পালন করতে হলে অবশ্যই এর চরিত্র, বৈশিষ্ট্য, কী খায়, কী পছন্দ করে (আলো, বাতাস, রোদ) সেসব বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে। একটু পানি কম-বেশি হলেই গাছ পচে যায়। সেই জন্য মিডিয়া তৈরি ভালো করে জানতে হবে। ক্যাকটাস প্রচুর বাচ্চা দেয়। বাসায় বসে ভেজিটেটিভ প্রোপাগেশন ও গ্রাফটিং এর মাধ্যমে ক্যাকটাসের বংশ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে অনেক দামে তা বাজারে বিক্রি করা সম্ভব। আমাদের দেশের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে, দেশ আরও উন্নত হচ্ছে। এখন অনলাইনের যুগ, সেখানেও বিক্রি করা যায়। যে কোনো কাজে লেগে থাকলে তার সফলতা আসবেই।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি

কুঞ্জবনে এখন শুধুই পরিযায়ী পাখি

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কুঞ্জবন গ্রামে আত্রাই নদীতে পরিযায়ী পাখি। ছবি: নিউজবাংলা

প্রায় ১২ বছর থেকে নওগাঁর মহাদেবপুরের আত্রাই নদীর কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে অতিথি পাখি আসছে শীত মৌসুমে। শীতপ্রধান দেশ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পরিযায়ী পাখিরা এসে কুঞ্জবনের নদীতে আশ্রয় নেয়। শীতের শুরুতে আসতে থাকে পাখি। নদীতে বছরের ৪-৫ মাস পাখিগুলো থাকে।

সবুজে ঘেরা গ্রাম কুঞ্জবন। গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। নদীর দুপারের সড়ক আর সড়কের পাশে অসংখ্য গাছে ছেয়ে থাকা সেই কুঞ্জবন গ্রাম পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে হয়ে উঠেছে মুখর।

শীতের শুরু থেকেই হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসে আবাস গড়েছে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরের সেই গ্রাম কুঞ্জবনে।

পরিযায়ী সেসব পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে নদীর দুপারের মানুষের। নিরাপদে পাখিগুলোর বসবাসের জন্য নিরাপদ আবাস করে দিতে প্রচেষ্টার কমতি রাখেনি সেখানকার সামাজিক সংগঠনগুলো।

স্থানীয় লোকজন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর থেকে নওগাঁর মহাদেবপুরের আত্রাই নদীর কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে অতিথি পাখি আসছে শীত মৌসুমে। শীতপ্রধান দেশ থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পরিযায়ী পাখিরা এসে কুঞ্জবনের নদীতে আশ্রয় নেয়। শীতের শুরুতে আসতে থাকে পাখি। নদীতে বছরের চার-পাঁচ মাস পাখিগুলো থাকে। সারা দিন নদীতে থাকলেও রাতে পাখিগুলো ফিরে যায় পাশের বিল মোহাম্মদপুর, রামচন্দ্রপুর, মধুবনসহ কয়েকটি স্থানে। ভোরে আবারও ফিরে আসে নদীতে।

মহাদেবপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে কুঞ্জবন গ্রাম। পাখিদের কেউ যেন উত্ত্যক্ত, বিরক্ত বা কোনো ধরনের শব্দ না করে সে জন্য সব সময় সচেতন করা হচ্ছে। পরিযায়ী পাখি দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে নানা বয়সী দর্শনার্থীরা আসেন।

 কুঞ্জবন গ্রামে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসেছে
আত্রাই নদীতে অবাধ বিচরণ এসব পরিযায়ী পাখির। আবাসের নিরাপত্তায় প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন

নওগাঁ সদর উপজেলার বাঙ্গাবাড়িয়া থেকে অতিথি পাখি দেখতে এসেছেন খোরশেদ আলম রাজু। কথা হয় তার সঙ্গে। রাজু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই প্রথম এখানে এসেছি অতিথি পাখি দেখতে। আত্রাই নদীতে পাখির কলরবে পুরো কুঞ্জবন এলাকা মুখরিত। কিচিরমিচির শব্দে একটা অন্য ধরনের সুখ পাওয়া যায় এখানে। খুব ভালো লাগছে এখানে আসতে পেরে।’

তিনি বলেন, সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি যদি সরকারিভাবে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয় তাহলে আগামীতে এই এলাকায় পাখিদের আরও বেশি আগমন ঘটবে, সেই সঙ্গে এলাকাটি ঘিরে সুস্থ বিনোদনের কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে।

রাজশাহী শহরের সাহেবপাড়ার গৃহিণী জাকিয়া জেসমিন এসেছেন পরিবার নিয়ে ঘুরতে। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘অতিথি পাখির কলকাকলিতে সত্যিই আমি মুগ্ধ। এতগুলো অতিথি পাখি একসঙ্গে এর আগে কখনও দেখিনি। তবে পাখিদের নিরাপদ আশ্রম হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আমার মনে হয় আরও বেশি পাখি আসবে।’

কুঞ্জবন গ্রামে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি এসেছে

বিচিত্র পাখি উৎপাদন গবেষণা পরিষদ নামের সামাজিক সংগঠনের পরিচালক মুনসুর সরকার বলেন, ‘অতিথি পাখিদের নিরাপদ অবস্থানের জন্য নদীর পানিতে বেশ কিছু বাঁশ দিয়ে ঘের তৈরি করে দেয়া হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে পানিতে পড়ছে। কেউ গা ভাসিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ গা পরিষ্কার করছে। আবার কেউ বাঁশের ওপর বসে আরাম করছে। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে নদীর দুপার।

‘এবার বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ প্রায় ১০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির বিচরণ এখানে। কেউ পাখি শিকার বা মাছ শিকার করতে গিয়ে পাখিদের বিরক্ত না করে সে জন্য আমরা কাজ করছি।’

মুনসুর সরকার বলেন, সরকারিভাবে যদি কুঞ্জবনকে অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাহলে পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়ে তোলা সম্ভব। সেই সঙ্গে সরকারি উদ্যোগ নিয়ে এলাকায় জীব-বৈচিত্র্যের নিরাপদ আবাসস্থল হতে পারে। এ ছাড়া বিনোদনের প্রাণ হিসেবে পরিচিতি পাবে এই কুঞ্জবন গ্রাম।

মহাদেবপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ কে এম জামান বলেন, পাখিদের অবাধ বিচরণ নিশ্চিতে নদীতে কেউ যেন নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে লক্ষ রাখা হচ্ছে।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এখানে পাখি শিকার নিষিদ্ধ এবং আগত পরিযায়ী পাখি প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যদি শিকার করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

বসন্তের মোহনীয় প্রকৃতি দেখতে ঘুরে আসুন তাহিরপুর

বসন্তের মোহনীয় প্রকৃতি দেখতে ঘুরে আসুন তাহিরপুর

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের শিমুল বাগান

তাহিরপুর আসতে ঢাকা থেকে প্রথম গন্তব্য সুনামগঞ্জ। ঢাকার সায়েদাবাদ ও ফকিরাপুল বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন, শ্যামলী এবং হানিফ পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মহাখালী থেকে ছাড়ে এনা পরিবহনের বাস। জনপ্রতি টিকিটের দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। সুনামগঞ্জে আসতে সময় লাগে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা।

হাওর আর ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা। খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত তাহিরপুরে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত নানা জায়গা।

যান্ত্রিক জীবনের ফাঁকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের সান্নিধ্য পাওয়া যাবে এ উপজেলায়। তাহিরপুরের অন্যতম পর্যটন স্পটগুলো হলো টাংগুয়ার হাওর, বারেক টিলা, জাদুকাটা নদী, নীলাদ্রি (শহীদ সিরাজ লেক), জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান ও হাওলি জমিদার বাড়ি।

টাংগুয়ার হাওর

টাংগুয়ার হাওর দেশের অন্যতম জলাভূমি। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও তাহিরপুরের উপজেলার দশটি মৌজায় এই হাওর বিস্তৃত। ছোট-বড় ১২০টি মিলিয়ে এ হাওর এলাকার আয়তন প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার ২৩৬ হেক্টরই জলাভূমি। বর্ষা মৌসুমে পুরো হাওর পানির নিচে তলিয়ে যায়। শীতে সুদূর সাইবেরিয়া ছাড়াও বিভিন্ন দেশ থেকে পরিযায়ী পাখি উড়ে আসে এ হাওরে। পরিযায়ী পাখির আশ্রমও বলা হয় এ হাওরকে। তবে কালের বিবর্তনে হাওরে পাখির সংখ্যা দিন দিন কমলেও সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সঙ্গে পাখির কলরবে ভরে উঠবে পর্যটকের মন।

প্রকৃতির অপূর্ব রূপ দেখতে ঘুরে আসুন তাহিরপুর
টাংগুয়ার হাওর

নীলাদ্রি লেক

বাংলার কাশ্মীর হিসেবে সুপরিচিত তাহিরপুরের নীলাদ্রি লেক বা শহীদ সিরাজ লেক। এ স্থানটি চুনাপাথরের পরিত্যক্ত খনির লাইম স্টোন লেক। উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের টেকেরঘাট গ্রামে লেকটি অবস্থিত। লেকের নীল পানি, ছোট-বড় টিলা এবং পাহাড়ের সমন্বয় নীলাদ্রি লেককে করেছে অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী।

প্রকৃতির অপূর্ব রূপ দেখতে ঘুরে আসুন তাহিরপুর
নীলাদ্রি লেক

বারেক টিলা

তাহিরপুরের আরেকটি দর্শনীয় স্থান হলো বারেক টিলা, যা স্থানীয়দের কাছে বারিক্কা টিলা নামে পরিচিত। একে বাংলার আইফেল টাওয়ারও বলেন অনেকে। এ টিলার তলদেশ দিয়ে বয়ে গেছে জাদুকাটা নদীর স্বচ্ছ পানি। সাদা মেঘ এ টিলাকে ছুঁয়ে গেলে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। তাহিরপুর এসে বারেকটিলা না দেখলে হয় না।

জাদুকাটা নদী

স্বচ্ছ নীলাভ পানির জাদুকাটা নদী ভারতের খাসিয়া জৈন্তিয়া পাহাড়ে উৎপত্তি। নদী থেকে বালু ও নুড়ি পাথর উত্তোলন করে তাহিরপুর ও পাশের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। নদীর স্বচ্ছ পানির নিচে চিকচিক করে সাদা নুড়ি।

জাদুকাটা নদী

জয়নাল আবেদীনের শিমুল বাগান

উপজেলার মানিগাঁও গ্রামে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় শিমুলবাগান। ১০০ বিঘার বেশি জায়গাজুড়ে ২০০২ সালে ৩ হাজার শিমুলগাছ রোপণ করেন বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন।

বসন্তে লাল শিমুলের রক্ত লাল পাপড়ির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে।

একদিকে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের সৌন্দর্য, অন্যদিকে জাদুকাটা নদীর তীরে শিমুল বাগান পর্যটকদের মন ভরিয়ে দেয়।

হাওলি জমিদার বাড়ি

তাহিরপুর উপজেলার অন্যতম প্রাচীন একটি নিদর্শন হাওলি জমিদার বাড়ি। এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সংরক্ষণ করছে সরকার। বলা হয়, ১ হাজার ২০০ বছর আগে লাউড় রাজ্যের রাজপ্রাসাদ হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাজা বিজয় সিংহ এটি নির্মাণ করেন।

উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামটি এক সময় লাউড় রাজ্যের রাজধানী ছিল। এই লাউড় রাজ্যের শেষ নিদর্শন হাওলি জমিদার বাড়ি। বাড়িটি ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত। ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাকে সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংরক্ষিত করার ঘোষণা দেয়।

হাওলি জমিদার বাড়ি

কীভাবে আসবেন তাহিরপুরে

তাহিরপুর আসতে ঢাকা থেকে প্রথম গন্তব্য সুনামগঞ্জ। ঢাকার সায়েদাবাদ ও ফকিরাপুল বাসস্ট্যান্ড থেকে মামুন, শ্যামলী এবং হানিফ পরিবহনের বাস সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মহাখালী থেকে ছাড়ে এনা পরিবহনের বাস। জনপ্রতি টিকিটের দাম ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। সুনামগঞ্জে আসতে সময় লাগে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা।

সুনামগঞ্জ শহরে থেকে অটোরিকশায় আব্দুর জহুর সেতুতে এলেই সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা মোটরসাইকেল ভাড়া করে জাদুকাটা নদী পার হয়ে সরাসরি বারেক টিলায় যাওয়া যায়। চাইলে তাহিরপুর বাজারে গিয়ে নৌকা নিয়েও এসব জায়গা ঘুরে দেখা যায়। সে ক্ষেত্রে ভাড়া একটু বেশি পড়বে।

টিলায় থাকার ব্যবস্থা না থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে টাংগুয়ার হাওর বা নীলাদ্রি লেকে তাঁবু টানিয়ে রাত কাটানো যায়।

তাহিরপুরের বাদাঘাট বাজারে মক্কা টাওয়ার নামের একটি থাকার হোটেল রয়েছে। খাবারের জন্য তেমন বড় কোনো হোটেল না থাকলেও আশেপাশের বাজারে কিছু ছোট দোকান আছে। সেখান বসে বা কিনে নিয়ে খাবার খাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি হিমছড়ি, দরিয়া নগর, পাটুয়ার টেক, ইনানী সৈকত, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, আদিনাথ মন্দির, রামু বৌদ্ধ বিহারসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখন পর্যটকদের ভিড়।

মাঘ মাসের শীতে পুরো দেশ কাঁপলেও শীতকে উপেক্ষা করে পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে।

করোনা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হওয়ায় দেশের সবচেয়ে বড় এই পর্যটনকেন্দ্রটি এখন লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর কক্সবাজারে পর্যটকের আনাগোনা খুবই কম ছিল। এখন দেশে করোনা মহামারি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তাই পর্যটকের ঢল নেমেছে কক্সবাজারে। শীত উপেক্ষা করে সাগরের নীল জলরাশি ও ঝর্ণার জলে নেমে উচ্ছ্বাসে মেতেছে পর্যটকেরা।

সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি হিমছড়ি, দরিয়া নগর, পাটুয়ার টেক, ইনানী সৈকত, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, আদিনাথ মন্দির, রামু বৌদ্ধ বিহারসহ দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখন পর্যটকদের ভিড়। তাদের আগমনে দারুণ খুশি পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

বেড়াতে আসা পর্যটকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের আতঙ্ক আর নগর জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি নিয়ে ভ্রমণে এসে তাদের খুব আনন্দ হচ্ছে।

পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ করতে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত কর্মী। আছেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও।

পর্যটকদের সেবা ও নিরাপত্তায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান।

কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও কটেজে প্রায় ৪ লাখ পর্যটক ধারণের ক্ষমতা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবার প্রচেষ্টা এখন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সেবা দেওয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

দেশের প্রথম ইতালিয়ান কফিশপ সেগাফ্রেডোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

দেশের প্রথম ইতালিয়ান কফিশপ সেগাফ্রেডোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডে সেগাফ্রেডো জেনেতি এসপ্রেসোর একমাত্র শাখায় বৃহস্পতিবার নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

দেশের প্রথম ইতালিয়ান ব্র্যান্ড কফিশপ সেগাফ্রেডো জেনেতি এসপ্রেসোর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ১ নম্বর রোডে প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র শাখায় বৃহস্পতিবার নানা আয়োজনে দিনটি পালন করা হয়।

এ সময় এলবিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে সেগাফ্রেডোর স্বত্বাধিকারী রাইসুল উদ্দিন সৈকতসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে সেগাফ্রেডোর স্বত্বাধিকারী রাইসুল উদ্দিন সৈকত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের মানুষের কাছে সেগাফ্রেডো মর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

‘এর মধ্যে নিরাপদ খাদ্য পরিবেশনের মাধ্যমে অগণিত গ্রাহকের সন্তুষ্টি অর্জন করে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে চলছে সেগাফ্রেডো জেনেতি এসপ্রেসো। গ্রাহকদের জন্য আরও উন্নত পরিবেশ ও সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করতে সেগাফ্রেডো কর্তৃপক্ষের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ৮০টি দেশে সেগাফ্রেডো জেনেতি এসপ্রেসো কফি শপের প্রায় ৩৭০টিরও অধিক শাখা আছে। এখানে পরিবেশিত কফি নিজস্ব চাষে উৎপাদিত কফি বিন ২৭টি দেশে উৎপাদিত হয়।

আরও পড়ুন:
ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য এলবিয়নের লাখ টাকা
বনাঞ্চল থেকে ইটভাটা উচ্ছেদ
চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই একর জমি দখলমুক্ত

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg