× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

ফলোআপ
Bribery The committee investigating the transfer of that PBI officer
hear-news
player
print-icon

‘ঘুষ গ্রহণ’: সেই পিবিআই কর্মকর্তাকে বদলি, তদন্তে কমিটি

ঘুষ-গ্রহণ-সেই-পিবিআই-কর্মকর্তাকে-বদলি-তদন্তে-কমিটি
নেত্রকোণা পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর ধনরাজ দাস। ছবি: নিউজবাংলা
একটি হত্যা মামলার বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়ি ভাঙচুরের মামলা হওয়ার পর তাদের কাছ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে একটি ফোনালাপ সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ফেসবুকে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তদন্ত কমিটি করেছে পিবিআই, বদলি করা হলো সেই কর্মকর্তাকে।

নেত্রকোণায় হত্যা মামলার বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের মামলা করার পর তার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠা পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সেই কর্মকর্তা হলেন ধনরাজ দাস। তিনি নেত্রকোণা পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর ছিলেন।

পিবিআই কেন্দ্রীয় দপ্তরে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে জানিয়েছেন নেত্রকোণা পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শংকর কুমার দাশ। তিনি জানান, সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক সায়েদুর রহমানকে। কমিটির অপর দুজন সদস্য ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ও ঢাকা পিবিআইয়ের সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম।

শংকর কুমার জানান, পিবিআই কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে ইন্সপেক্টর ধনরাজকে কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।

ঘটনা যা ঘটেছিল

এই পিবিআই কর্মকর্তা যার সঙ্গে ফোনে টাকা নিয়ে কথা বলেছিলেন, তার নাম আবুল হোসাইন। তিনি বারবার ধনরাজের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছিলেন। ধনরাজ তাকে এসে টাকা নিয়ে যেতে বলছিলেন আর আবুল বলছিলেন, এসে দিয়ে যেতে হবে টাকা।

আবুল হোসাইনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সেকান্দরনগর গ্রামে। তিনি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ডাউকি গ্রামের সাবিজ মিয়ার মেয়ের জামাতা।

২০১৮ সালের ১৯ জুলাই রাত থেকে ২০ জুলাই সকালের মধ্যে কোনো এক সময়ে খুন হন কেন্দুয়ার ডাউকি গ্রামের সাবিজ মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া।

সকালে গ্রামের মসজিদের সামনে থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ওই দিন কেন্দুয়া থানায় নিহতের বাবা সাবিজ মিয়া অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।

পরে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। আর নানা হাত ঘুরে তদন্তের ভার আসে ইন্সপেক্টর আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে। তিনি গত ৪ ডিসেম্বর সাতজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

১০ ডিসেম্বর আসামি জিয়াউল ও পলাশের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা হয়, এমন অভিযোগে তার ভাই জুলহাস মামলা করেন। এই মামলাটি হয় গত ২০ জানুয়ারি।

৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার মালামাল লুট ও ভাঙচুরের এই মামলায় খুন হওয়া জুয়েলের মা ললিতা আক্তার, ভগ্নিপতি আবুল হোসাইনসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

এই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানার এসআই নোমান সাদেকীন গত ২ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে ‘ঘটনা মিথ্যা’ উল্লেখ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন।

‘মিথ্যা মামলা’ করার জন্য বাদী জুলহাস মিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা প্রয়োগের প্রস্তাবও দেন তদন্ত কর্মকর্তা নোমান সাদেকীন।

পরে এই মামলার বাদীপক্ষ আদালতে নারাজি দিলে মামলাটি আবার তদন্ত হয়। এবার দায়িত্ব পান ধনরাজ। তিনিও মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন। তবে বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ না এনে বলেন, ঘটনাটি রাতে ঘটেছে এবং কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষী পাওয়া যায়নি।

এই মামলার তদন্ত চলাকালেই আবুল হোসাইনের স্বজনদের কাছ থেকে ধনরাজ টাকা নেন বলে অভিযোগ উঠছে। তবে পিবিআই কর্মকর্তা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপে কী কথা

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কল রেকর্ডে ভুক্তভোগীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনার অফিসে গিয়া আমি টাকা দিয়া আসছি, আপনি এখন আমার বাড়িতে আইসা টাকাটা দিয়া যান। আমি অভিযোগ উঠাইয়া নিয়া আইয়াম।‘

জবাবে পিবিআইয়ের কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আসেন। দিয়ে থাকলে নিয়ে যান।’

তখন ভুক্তভোগী বলছেন, ‘নিয়ে থাকলে মানে আপনি কি কিছু নিছেন না?’

ইন্সপেক্টর বলেন, ‘নিমু না কেরে। আপনি তো মোবাইলে...‘

এভাবেই ৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের অডিও রেকর্ডে উঠে আসে ঘুষের টাকার লেনদেনের বিষয়টি।

ইন্সপেক্টর ধনরাজ কী বলছেন?

নিউজবাংলাকে পিবিআইয়ের কর্মকর্তা বলেন, ‘আবুল হোসাইন নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছিলেন মামলার বাদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার অভিযোগ করতে। কিন্তু ঘটনার সত্যতা থাকায় তার আবদার রাখার সুযোগ ছিল না। এ কারণেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তুলছেন। তার শাশুড়িকে দিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দিচ্ছেন।’

১ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করার পর কল রেকর্ডের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেয়া হলে ধনরাজ বলেন, ‘প্রায় দুই মাস আগে আবুল হোসাইনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি কথা বলার সময় বারবার টাকা ফেরত চাচ্ছিলেন। বাজেভাবে কথা বলছিলেন। আমার বিকাশ নম্বরে এক হাজার টাকা পাঠানোর কথা আবুল হোসাইন আমাকে বলেছেন। আমি বলেছি প্রমাণ দিয়ে টাকা নিয়ে যেতে।’

আবুল হোসাইন কী বলছেন

পিবিআইয়ের কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়ার অভিযোগ আনা আবুল হোসাইন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মামলায় আমাদের দায় দেখিয়ে আদালতে চার্জশিট দেয়ার ভয়ভীতি দেখান ধনরাজ। এমনকি একদিন আমাকে ডেকে নিয়ে তার অফিসে আটকে রাখেন টাকার জন্য।

‘পরে টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করে সেদিন তার অফিস থেকে ছাড়া পাই। বাধ্য হয়ে প্রথম দফায় তাকে হাতে হাতে নগদ ১ লাখ টাকা, পরে ১৯ হাজার টাকা দিই। বাকি ১ হাজার টাকার জন্য বারবার তাগাদা করছিলেন ধনরাজ। শেষে ১ হাজার টাকা বিকাশে দিই। এখন আমি এই টাকা ফেরত চাই।’

টাকা দেয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ফোনে বলা কথাবার্তার রেকর্ড আছে বলেও জানান আবুল।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বললেন, ঘটনা সত্য

ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডের কথাবার্তায় উঠে আসে কেন্দুয়া উপজেলার সান্ধিকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হাসেমের নামও।

তিনি বলেন, ‘টাকা তো নিছেন ধনরাজ দাস। ১ লাখ ২০ হাজার টাকাই নিছেন। এটা সত্য। আমি জানি। ধনরাজ দাস আমাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেছেন, আবুল হোসাইন যেন সমস্যার সৃষ্টি না করেন। টাকাটা দিয়ে দেবেন। আর যাতে কেউ না শোনে। কিন্তু ধনরাজ দাস পরে আর টাকাটা ফেরত দেননি।’

আরও পড়ুন:
পিবিআই কর্মকর্তার ঘুষ নেয়ার প্রমাণ ফোনালাপে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

ফলোআপ
Russel unleashed the Viper causing panic

রাসেলস ভাইপার অবমুক্ত করায় গড়াই পাড়ে আতঙ্ক

রাসেলস ভাইপার অবমুক্ত করায় গড়াই পাড়ে আতঙ্ক শামীম হোসেন নামে এক মাছ শিকারীর জালে ধরা পড়ে সাপটি। ছবি: নিউজবাংলা
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যেসব সাপ দেখা যায়, এদের মধ্যে রাসেলস ভাইপারই সবচেয়ে বিষাক্ত। এটি বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত।

কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ধরা পড়া বিষধর একটি রাসেলস ভাইপার সাপ গড়াই নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ওই নদী তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারীদের মধ্যে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গড়াই রেল ও সড়ক সেতুর নিচে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে উপজেলা বনবিভাগের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে পদ্মা নদীতে শামীম হোসেন নামে এক মাছ শিকারীর জালে সাপটি ধরা পড়ে।

শামিম হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আজ সকাল ৭টার দিকে নদীতে পাতা দোয়াড় জাল তুলে দেখি একটি অন্যরকম সাপ। প্রথমে অজগর মনে করেছিলাম। পরে বনবিভাগের লোকজন এটিকে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার হিসেবে চিহ্নিত করে নিয়ে যায়।’

এদিকে গড়াই নদীতে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার সাপটি অবমুক্ত করায় চিন্তিত নদীটির পাড়ে বসবাস করা লোকজন।

কুমারখালী উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. আকরাম হোসেন বলেন, ‘পদ্মা থেকে এনে সাপটিকে গড়াইয়ে ছেড়ে দিয়ে লাভ কি হলো? গড়াই নদীপাড়ে লোকালয় বেশি। এটা দায়সারা কাজ হয়েছে। অনেক দূরে কোথাও ফাঁকা স্থানে অবমুক্ত করলে ভাল হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য বিলুপ্তপ্রায এই সাপ যেমন টিকিয়ে রাখা দরকার, তেমনি মানুষের নিরাপত্তার কথাও চিন্তা করা উচিত।

রাসেলস ভাইপার অবমুক্ত করায় গড়াই পাড়ে আতঙ্ক
গড়াই রেল ও সড়ক সেতুর নিচে সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে

এদিকে কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জি এম মোহাম্মদ কবির বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে সাপটি ভারত থেকে পদ্মা নদী হয়ে এসেছে। জব্দ করার পর গড়াই নদে অবমুক্ত করা হয়। এতে আতঙ্কের কিছু নেই। নদী বেয়ে অন্যত্র চলে যাবে।’

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘এখানে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি বনবিভাগের। তারাই ভাল বলতে পারবেন।’

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও পদ্মা ও গড়াই নদীতে বেশ কয়েকবার রাসেল ভাইপার সাপ পাওয়া গেছে। পরে সেগুলো নদীর দুর্গম চরে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে যেসব সাপ দেখা যায়, এদের মধ্যে রাসেলস ভাইপারই সবচেয়ে বিষাক্ত। এটি বাংলাদেশে চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত।

আরও পড়ুন:
সাপের ছোবলে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রীর
চবিতে ১০ ফুট লম্বা অজগর
ভাইয়ের শেষকৃত্যে এসে তারও মৃত্যু সাপের ছোবলে
সাপের ছোবলে প্রাণ গেল ২ মাদ্রাসাছাত্রের
সাপের মাথার আকৃতি বলে দেয় বিষধর কি না

মন্তব্য

ফলোআপ
3 were killed in an autorickshaw hit by a bus

অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৩

অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় নিহত ৩
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশাটি কুলিয়ারচরের ছয়সূতী এলাকা পার হওয়ার সময় পেছনে থাকা একটি বাস ধাক্কা দেয়।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় তিন জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন একজন।

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কের কুলিয়ারচরের ছয়সূতী এলাকায় মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কুলিয়ারচরের লালপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান ও ভৈরবের নূরুল ইসলাম। নিহত আরেকজনের পরিচয় নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

তথ্যগুলো জানিয়েছেন কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশাটি কুলিয়ারচরের ছয়সূতী এলাকা পার হওয়ার সময় পেছনে থাকা একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজনের মধ্যে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা আহতদের হাসপাতালের নেয়ার সময় পথে আরও একজন মারা যান।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে তখনই গিয়ে বাসটিকে জব্দ করা হয়। তবে চালককে পাওয়া যায়নি। আহত ব্যক্তিকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাইক্রোবাসের চাপায় প্রাণ গেল পথচারীর
ট্রাকচাপায় পা হারাল ৩ বছরের শিশু
রাস্তা পার হওয়ার সময় বাইকের ধাক্কায় নারী নিহত
ট্রাকচাপায় ইজিবাইকে থাকা নানি-নাতনি নিহত
অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়ে প্রাণ হারালেন নারী

মন্তব্য

ফলোআপ
Chittagong DC warns around Durga Puja

দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি

দুর্গাপূজা ঘিরে চট্টগ্রামের ডিসির হুঁশিয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে মঙ্গলবার দুপুরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা
চট্টগ্রামের ডিসি বলেন, ‘এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ দেশে কোনো অপশক্তি যেনো মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

দুর্গাপূজা ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টকারীদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মমিনুর রহমান।

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরে এলজিইডি মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসন আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ডিসি বলেন, ‘কয়েক দিন পরই হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসব ঘিরে উন্নয়নবিরোধী একটি মহল দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত বছর দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লায় ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল, তা সফল হয়নি।

‘এবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করলে বিন্দুমাত্র ছাড় নেই। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ দেশে কোনো অপশক্তি যেনো মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’

সমাবেশের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার শপথ বাক্য পড়ান জেলা প্রশাসক। পরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করা হয়।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ সমাবেশে বলেন, ‘শুধু দুর্গাপূজা নয়, কখনোই কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। আগামি দুর্গাপূজায় কোনো বিশৃঙ্খল পরিবেশ থাকবে না। পূজামণ্ডপ ঘিরে কেউ নাশকতার পরিকল্পনা বা উসকানি দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. বদিউল আলম সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, জেলা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার একেএম সরোয়ার কামাল দুলু, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম এহেছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল।

আরও পড়ুন:
পূজায় এবার যেতে হবে না বাবার বাড়ি, ২ গ্রামে
দেবীপক্ষের সূচনা
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ

মন্তব্য

ফলোআপ
Madrasa teacher beaten up on charges of attempted rape

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পিটুনি

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষককে পিটুনি
শিশুর মা জানান, গত জানুয়ারি মাসে মেয়েকে স্থানীয় মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গত সোমবার সকালে মেয়েটিকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে যৌন হয়রানি করেন।

ফেনীর বালিগাঁও ইউনিয়নে ৫ বছর বয়সী ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষককে আটকে পিটুনি দিয়েছেন শিশুর মা ও স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পিটুনির ভিডিও মঙ্গলবার ভাইরাল হলে ঘটনা জানাজানি হয়।

ফেনী মডেল থানার ওসি নিজাম উদ্দিন এসব নিশ্চিত করে জানান, ওই শিক্ষকের নাম ফখরুল ইসলাম। তাকে আটক করে থানায় রাখা হয়েছে। শিশু পরিবার থেকে মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

শিশুর মা জানান, গত জানুয়ারি মাসে মেয়েকে স্থানীয় মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গত সোমবার সকালে মেয়েটিকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে হাত-পা বেঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে যৌন হয়রানি করেন। মেয়ে বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানালে মঙ্গলবার তিনি মাদ্রাসায় যান।

তিনি বলেন, ‘আমি অভিযোগ করতে মাদ্রাসায় গেলে প্রধান শিক্ষক ব্যবস্থা না নিয়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। ফখরুল ইসলামের পক্ষে সাফাই গেয়ে উল্টো বলেন যে তিনি নাকি এসবে জড়িত না।

‘এসব মাদ্রাসা চালু থাকলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আরও ঘটবে। মাদ্রাসায় কোনো নিয়ম-নীতি নাই। শুধুমাত্র টাকা রোজগার করার জন্য মাদ্রাসা চালু করেছে। এখানকার শিক্ষকরা অন্য ছাত্রীদের সঙ্গেও নাকি এসব করেছে। কেউ হয়তো মুখ খুলছে না।’

ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, মামলা হলে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করা হবে ও পরে আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি নেয়া হবে। একই সঙ্গে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন, সন্তানকে স্বীকৃতি দেয়ার নির্দেশ
২ কিশোরী ধর্ষণ মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন
ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
কিশোরীকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, ৩ যুবক কারাগারে
চাকরির প্রলোভনে কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৩

মন্তব্য

ফলোআপ
I dont have to go to my fathers house in 2 villages for puja

পূজায় এবার যেতে হবে না বাবার বাড়ি, ২ গ্রামে

পূজায় এবার যেতে হবে না বাবার বাড়ি, ২ গ্রামে শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে রুটি গ্রামের পূজা মণ্ডপ। ছবি: নিউজবাংলা
আখাউড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘এবার আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। তবে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মসজিদপাড়া ও রুটি গ্রামের পূজা।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার পৌর এলাকার মসজিদপাড়া আর ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রাম। প্রতিবছর দুর্গাপূজা এলেই তা উদযাপনের জন্য হিন্দু অধ্যুষিত এ গ্রাম দুটির গৃহবধূরা চলে যেতেন বাবার বাড়ি। কারণ গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এ দুটি গ্রামে কোনো দুর্গাপূজা হয়নি।

দীর্ঘ বছর পর এবার ওই দুটি গ্রামে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দেবী দুর্গার প্রতিমাকে ঠাঁই দিতে গ্রাম দুটির সার্বজনীন পূজা আয়োজনের স্থানে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতারও ৪/৫ বছর বছর আগে সর্বশেষ ওই দুটি গ্রামে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। পরে আর্থিক অসচ্ছলতা, লোকবল আর উদ্যোগের অভাবে অর্ধশত বছরেরও বেশি সময় ধরে দেবী দুর্গার পূজা করতে পারেননি তারা।

এ দুটি গ্রামের বাসিন্দারা তাই অন্য এলাকায় গিয়ে পূজা করতেন। পূজার সময় এলে বাবার বাড়িতে দল বেঁধে রওনা হতেন গৃহবধূদের অনেকেই।

মঙ্গলবার গ্রাম দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, পূজা উদযাপন হবে এমন আনন্দে মেতেছেন বাসিন্দারা। সাজ সাজ রব তাদের। পূজার স্থানে চলছে প্যান্ডেল ও মণ্ডপ তৈরির কাজ। নির্মিত হচ্ছে তোরণ। সড়ক থেকে পূজার জন্য নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত সরু পথের দুই পাশে থাকবে আলোকসজ্জাও।

তবে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই নয়। বাসিন্দারা জানালেন, এবার গ্রাম দুটিতে পূজা উদযাপনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র বলেন, ‘দীর্ঘদিন রুটি গ্রামের শশ্মানঘাটের জায়গা বেদখল ছিল। তবে আইনমন্ত্রী সে জায়গাটি উদ্ধার করে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই আমি গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে বলেছি- এ বছর পূজা উদযাপন করুন। আমরা সহযোগিতা করবো।’

আখাউড়া পূজা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বলেন, ‘এবার আখাউড়ায় ২২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। তবে মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকবে মসজিদপাড়া ও রুটি গ্রামের পূজা। আশা করি, এখন থেকে প্রতিবছরই এ দুটি গ্রামে পূজা উদযাপিত হবে।’

রুটি গ্রামের গৃহবধূ জোসনা রানী শীল জানান, ২৩ বছর আগে তিনি এ গ্রামটিতে বউ হয়ে এসেছেন। কিন্ত স্বামীর বাড়িতে কোনোদিন দূর্গাপুজার আয়োজন না হওয়ায় পূজার আনন্দ করতে পারেননি।

জোসনা রানীর মতো বকুল রানীও জানালেন, এবার পূজায় তাই বাবার বাড়ি যেতে হবে না তাদের।

আরও পড়ুন:
দেবীপক্ষের সূচনা
পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা
চলছে প্রতিমায় রং তুলির আচড়
পূজার ছুটিতেও পরীক্ষা নেবে ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
মেহে‌ন্দীগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর

মন্তব্য

ফলোআপ
After 11 years of rape and murder 9 people get life

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর হত্যায় ১১ বছর পর ৯ জনের যাবজ্জীবন
২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

ঝিনাইদহ সদরে ১১ বছর আগে গৃহবধুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায়ে ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিজানুর রহমান মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন।

আসামিরা হলেন বিষয়খালী এলাকার মোহাম্মদ রসুল, শরিফুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম, গোলাম রসুল, আব্দুল আজিজ, আজিজুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও আব্দুল বাতেন। এদের মধ্যে শরিফুল ও আমিরুল ইসলাম পলাতক আছেন।

মামলার আরেক আসামি মো. আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে।

২০১১ সালের মার্চ মাসে সদরের বিষয়খালী গ্রামের ওই গৃহবধূকে তুলে নিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে আসামিরা। তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এ হত্যার নিহতের স্বামী পরদিন আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

মামলার বাদী নিহতের স্বামী বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও বিচার পেয়ে আমরা খুশি। এই রায় যেন কার্যকর হয়।’

আরও পড়ুন:
রাতে শিশুটিকে ডোবায় ফেলে এসে ঘুমিয়ে পড়েন বাবা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়ার্ডবয় গ্রেপ্তার
জমি নিয়ে বিরোধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
প্রতিবেশীর আমবাগানে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ঝুলন্ত মরদেহ
চুরির অপবাদে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

মন্তব্য

ফলোআপ
The doctor was released from the peon while going to jail

জেলে যাওয়ার সময় পিয়ন, ছাড়া পেয়ে ‘ডাক্তার’

জেলে যাওয়ার সময় পিয়ন, ছাড়া পেয়ে ‘ডাক্তার’ করোনার ভুয়া সনদ তৈরি করায় গ্রেপ্তার হন সাঈদ হোসেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে গ্রামে গিয়ে হয়েছেন চিকিৎসক। ছবি: নিউজবাংলা
সাঈদ হোসেনের মা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মায়ের অনুরোধে সাঈদকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিওনের চাকরি পাইয়ে দেন সেই চিকিৎসক। করোনার ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হন ২০২০ সালের ২৫ মে। পরের বছর জামিনে মুক্তি পেয়ে ফেরেন বাড়িতে। সেখানে গিয়ে নামের সঙ্গে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করে শুরু করেন চিকিৎসা।

নওগাঁর সাঈদ হোসেন। ছিলেন ঢাকার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর অফিস সহায়ক (পিয়ন)। ২০২০ সালে দেশে করোনা মাহামারি শুরু হলে বিদেশগামী যাত্রীদের কাছে করোনার জাল সনদ বিক্রির দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে যান কারাগারে। জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি গ্রামের বাড়ি নওগাঁর হোগল বাড়িতে ফিরে বনে গেছেন চিকিৎসক।

সব রোগের ‘চিকিৎসা জানা আছে’ সাঈদের। তাই কাউকে ফেরান না। নামের আগে পদবিও লিখছেন, ‘ডাক্তার’। রোগীদের ওষুধ লিখে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়।

সেই ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের পাশে ডিগ্রি হিসেবে লিখেছেন, ‘ডিএমএফ’, নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার।

কোত্থেকে এই ‘ডিএমএফ’ ডিগ্রি নিয়েছেন, এর মানে কী, কারা এই ডিগ্রি নেন, তার সনদ বা রোল-রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী, তার কোনো কিছুই দেখাতে পারেননি সাঈদ।

এই ডিএমএফ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের একটি ডিগ্রি। তবে যে কেউ এটি করতে পারেন এমন নয়। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিয়ে এই কোর্সে ভর্তি হতে হয়।

চার বছরের এই ডিগ্রি শেষ করে সদনধারীদের কমিউনিটির ডাক্তার হিসেবে কাজ করতে হবে। তাদেরকে গ্রামে-গঞ্জে থাকতে হবে। শহরে থাকতে পারবেন না।

আবার হাইকোর্টের একটি রায় অনুযায়ী বিকল্প ধারার চিকিৎসা পদ্ধতির পেশাধারীরা নামের সঙ্গে ডাক্তার লিখতে পারবেন না।

চিকিৎসকদের নিবন্ধন দেয় যে সংস্থা, সেই বিএমডিসির আইনেও নিবন্ধনভুক্ত মেডিক্যাল বা ডেন্টাল ইনস্টিটিউট কর্তৃক এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।

তবে সাঈদ থাকেন শহরে। নওগাঁর সদর উপজেলার হোগল বাড়ি মোড়ে ভাই ভাই মেডিকেয়ার ফার্মেসিতে বসেন। রোগী দেখেন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত।

পরিচিতজনদের কাছ থেকে তথ্য মিলেছে, সাঈদ হোসেনের মা সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। মায়ের অনুরোধে সাঈদকে সাভার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিওনের চাকরি পাইয়ে দেন সেই চিকিৎসক।

করোনা শুরু হওয়ার পর সাঈদ জড়িয়ে যান করোনার ভুয়া সনদ তৈরিতে। বিষয়টি জানাজানি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা। ২০২০ সালের ২৫ মে গ্রেপ্তার হন তিনি।

মামলাটির বিচার এখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যে ২০২১ সালে জামিনে মুক্তি পান তিনি। ফিরে আসেন গ্রামের বাড়িতে। সেখানে একটি ফার্মেসি ও চেম্বার বসিয়ে শুরু করেন চিকিৎসা।


চিকিৎসা করাতে এসে প্রাণ যায় যায়

হোগল বাড়ি গ্রামের সাজু হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, মাস তিনেক আগে তার বাচ্চার সুন্নাতে খাৎনা করান সাঈদের কাছে। এরপর থেকে শিশুর রক্তপাত থামছিল না। অবস্থা বেগতিক দেখে রাত দেড়টার দিকে শিশুটিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান তার বাবা।

সাজু বলেন, ‘আমার বাচ্চা সেদিন মরেই যাচ্ছিল। আল্লাহ পুনরায় হায়াত দিছে।’

সেদিনের ঘটনা গ্রামের মাতব্বরদের জানালে শালিসে সাঈদকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জেলে যাওয়ার সময় পিয়ন, ছাড়া পেয়ে ‘ডাক্তার’
সাঈদ হোসেনের দেয়া ব্যবস্থাপত্র। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় মোতাহার হোসেন নামের এক প্রবীণ বলেন, ‘সাঈদ একটা ভুয়া ডাক্তার। আমার একটা সমস্যার জন্য দীর্ঘদিন থেকে তার কাছে চিকিৎসা করছি, কিন্তু রোগ সারেনা। উপায় না পেয়ে আমি শহরে ভালো ডাক্তার দেখাই। তারা আমাকে জানায় অসুখ অনুযায়ী ওষুধ ঠিক হয় নাই, রোগ সারবে কই থেকে?

‘পরে সেই ডাক্তার আমাকে এক শ টাকার ওষুধ দিছে, খেয়ে আমি বর্তমানে সুস্থ। এ তো রোগ-ই ধরতে পারে না, তাহলে কীসের ডাক্তার এই সাঈদ?’

চিকিৎসা নিতে আসা খাদেমুল ইসলাম নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রসাবের জ্বালাপোড়া, মাথা ঘোরানো ও চোখে ঝাপসা এই সমস্যা নিয়ে আসছি। এর আগেও চিকিৎসা নিয়েছি, কিন্তু কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং সমস্যা আরও বাড়ছে। ১০দিন পর আসতে বলছিল, তাই আবার এসেছি।’

আবুল কালাম আজাদ হোসেন নামে স্থানীয় একজন বলেন, ‘সে (সাঈদ) তো ঢাকায় একটা হাসপাতালের পিওন ছিল। এরপর শুনেছি করোনার জাল সনদ বিক্রি করার জন্য জেলে গেছে। এখন জেল থেকে এসে আবার দেখি ডাক্তার হয়ে গেছে। সে কখন ভর্তি হলো, আর কখন চাকরি করল, আর কীভাবেই বা ডাক্তার হলো বিষয়টা তদন্ত হওয়া দরকার।’


সাঈদ যা বলছেন

সাঈদ হোসেনের চেম্বারে গিয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাভার প্রিন্স মেডিক্যাল ইনস্টিটিটিউট (ম্যাটস) থেকে আমি ১১-১২ সেশনে ডিএমএফ করেছি।’

এর চেয়ে বেশি কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

আপনার কোনো সনদ বা পাশ করার প্রমাণ আছে- এমন প্রশ্ন করা হলে জবাব এড়িয়ে চেম্বার ছেড়ে বাইরে চলে যান সাঈদ।

পরে আবার ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে মাসে ২৩ তারিখ আমার মামলার হাজিরা আছে। সেটা শেষ করে এসে সকল তথ্য দেবো, আমার সকল কাগজপত্র আছে।’

এক পর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘এসব ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারব না। আপনাদের যা ইচ্ছে করতে পারেন।’

বিষয়টি নিয়ে কথা হলে নওগাঁর সিভিল সার্জন আবু হেনা মোহাম্মদ রায়হানুজ্জামান সরকার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানলাম। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
রোগীর পেটে কাঁচি ফেলে আসায় চিকিৎসক জেলে
নারী চিকিৎসক হত্যা: রেজাউলের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পিছিয়েছে
‘ভুল চিকিৎসা’য় প্রসূতির মৃত্যুর জেরে সংঘর্ষ
নিজ হাসপাতালে হয়রানির শিকার হয়ে বিস্মিত চিকিৎসক
বাবার লাশের পাশে ফেসবুক লাইভ: অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন

মন্তব্য

p
উপরে