বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি

বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি

বরিশালের সোহেল চত্বরে শুক্রবার বিকেলে সমাবেশ করেন জেলা ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ছবি:নিউজবাংলা

‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইউএনও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। অথচ ইউএনওর বিচার না করে উল্টো মামলা হয়েছে মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজও সরব আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

নগরীর সোহেল চত্বরে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার বিকেলে সমাবেশ করেছেন জেলা ও মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশ থেকে মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিগার সুলতানা হনুফা বলেন, ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ইউএনও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। অথচ ইউএনওর বিচার না করে উল্টো মামলা হয়েছে মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।’

এর আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। মেয়রের বাসভবনের ওই কর্মসূচি থেকে মহানগর আওয়ামী লীগে সহসভাপতি গাজী নইমুল হো‌সেন লিটু বলেন, ‘ইউএনও মুনিবুর রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মেয়রের সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করেছেন। এদিন ইউএনওর বাসায় কোনো হামলা হয়নি।’

এর মধ্যেই বরিশালের ঘটনায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। পুরো বরিশাল বিভাগ মেয়রের অত্যাচারে অতিষ্ঠ বলে অভিযোগ করে তার গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের এক জরুরি সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ দাবি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার দুর্বৃত্ত বাহিনী সিটি করপােরেশনের কর্মচারীদের দিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। তারা পুরো জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্য নিয়েও চলছে সমালোচনা।

শোক দিবসের ব্যানার অপসারণের জেরে বুধবার রাতে সিটি করপোরেশন ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের (ইউএনও) আনসার বাহিনী ও পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে অনেকে আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার জেরে বৃহস্প‌তিবার ভোর থে‌কে ব‌রিশা‌লে লঞ্চ ও বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হ‌য়। থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে বিজিবি মোতায়েন করার কথা জানায় প্রশাসন।

বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি
পু‌লিশ ও সরকারদলীয় নেতা-কর্মী‌দের সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। ছবি: নিউজবাংলা

বৃহস্পতিবার দিনভর টান টান উত্তেজনার পর শুক্রবার জনজীবন ছিল অনেকটাই স্বাভাবিক। সকাল থেকে সড়কে ঘুরেছে গাড়ির চাকা। যাত্রী নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে ছুটেছে নৌযান।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বরিশালে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়নের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। তবে আশপাশের জেলা থেকে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহানগরীতে যান বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসন।

শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে টহল দিচ্ছেন র‌্যাব সদস্যরা।

নগরীর সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় কথা হয় অটোরিকশাচালক সিদ্দিকুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই গাড়ি চালাচ্ছি, কোনো জায়গায় কেউ বাধা দেয়নি। স্ট্যান্ডগুলোতে বাসও চলতে দেখেছি। সড়কে অনেক লোক রয়েছে।’

নগরীর সদর রোড এলাকার চা দোকানি মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে কোনো সমস্যা দেখছি না। আমরা স্বাভাবিকভাবেই দোকান খুলেছি। তবে রাস্তায় পুলিশ ও র‌্যাব দেখেছি অনেক।’

বরিশাল জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাসরেক বাবুল জানান, সকাল থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আগের নিয়মে বাস চলছে। শুক্রবার হলেও যাত্রীর চাপ রয়েছে।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও বাধাবিপত্তির খবর পাওয়া যায়নি।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর নাজমুল হুদা বলেন, ১০ প্লাটুন বিজিবি ও ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাজিস্ট্রেটরা এসেছেন। তবে বিজিবির মোতায়েন বা টহল এখনও শুরু হয়নি। তারা আশপাশের জেলায় অবস্থান নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে আসবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) আলী আরশাদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল হাসান বাদল বলেন, বরিশালের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে। এ মুহূর্তে বিজিবি নামানোর প্রয়োজন নেই। তবে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে।

বরিশালে সরব আ.লীগ, নামেনি বিজিবি


হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় আলাদা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মামলার বাকি আসামিদের ধরতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাতভর অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

পুলিশ ও ইউএনও মুনিবুর রহমানের করা দুটি মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে। তিনি ছাড়া আসামি ৬০১ জন।

মেয়রের ওপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া বাবুগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নিয়ে আলোচনায় অবিবাহিত মাসুম

‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নিয়ে আলোচনায় অবিবাহিত মাসুম

পেছনে বউয়ের দোয়া পরিবহন লেখা একটি ইজিবাইক। ছবি: নিউজবাংলা

মাসুম বলেন, “ইজিবাইকগুলো কেনার পর যে নামই রাখতে চেয়েছি, পরে দেখছি ওই নামে কোনো না কোনো পরিবহন রয়েছে। আসলে প্রতিটি ব্যবসায় ব্র্যান্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নাম রেখেছি।”

মায়ের দোয়া, বাবার দোয়া, বাবা-মায়ের দোয়া- এমন নামের পরিবহনের সঙ্গে পরিচিত সবাই। তবে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ এ দেশে বিস্ময়করই বটে।

ব্যতিক্রমী কাজটি করেছেন চুয়াডাঙ্গার মাসুম মিয়া। নিজের মালিকানায় থাকা ইজিবাইকগুলোর পেছনে লিখেছেন ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’। মজার বিষয় হলো, মাসুম এখনও বিয়েই করেননি। বিষয়টি বেশ সাড়া ফেলেছে চুয়াডাঙ্গা শহরে।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদপাড়ার শেখ সুলতানের ছেলে মাসুম। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি। ১২ বছর মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি। মালয়েশিয়ায় থাকা অবস্থায় সঞ্চয় করা টাকা দিয়ে কিনেছেন ১১টি ইজিবাইক।

মাসুম মিয়া জানান, তার মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইক ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নামে চুয়াডাঙ্গা শহরে চলাচল করছে। তিনি নিজে একটি চালান। বাকিগুলো ভাড়া দিয়েছেন।

অবিবাহিত হয়েও ইজিবাইকের পেছনে কেন ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ লিখেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইজিবাইকগুলো কেনার পর যে নামই রাখতে চেয়েছি, পরে দেখছি ওই নামে কোনো না কোনো পরিবহন রয়েছে। আসলে প্রতিটি ব্যবসায় ব্র্যান্ডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে ‘বউয়ের দোয়া পরিবহন’ নাম রেখেছি।”

বিদেশে থাকায় বয়স হওয়ার পরও বিয়ে করতে পারেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবা-মায়ের পছন্দের পাত্রীকে খুব শিগগির বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করব। বিদেশ যাওয়ার আর কোনো ইচ্ছা নেই। বিয়ে করে বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে বাকি জীবন দেশে কাটিয়ে দিতে চাই।’

মা-বাবার পর বউ হলো সবচেয়ে আপন ও ভালোবাসার মানুষ। বিয়ের পর সংসারের ভালোমন্দ বউই দেখাশোনা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভিন্ন নামের পরিবহনটি চুয়াডাঙ্গা শহরে তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে জানিয়ে মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে আমার মালিকানাধীন ১১টি ইজিবাইক থেকে যে টাকা আয় হয়, তা দিয়ে বাবা-মাকে নিয়ে খুব ভালোমতো চলে সংসার। বাড়তি টাকা সঞ্চয়ও করি।’

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা: মেয়রসহ ৩৬ আসামি বহাল

যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা: মেয়রসহ ৩৬ আসামি বহাল

পটুয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। ছবি:সংগৃহীত

বাদীপক্ষের আইনজীবী কমল দত্ত জানান, রোববার শুনানি শেষে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৬ আসামির নামেই মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেয়। বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে যেসব আসামি জামিনে আছেন, তাদের জামিন বহাল থাকবে। আর যেসব আসামি আদালতে অনুপস্থিত বা অনুপস্থিত থেকে সময়ের আবেদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর বাউফলে যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলসহ ৩৬ আসামির নাম বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বাদীর নারাজি পিটিশনের শুনানি শেষে রোববার পটুয়াখালীর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আল আমিন এজাহারভুক্ত সব আসামির নাম অন্তর্ভুক্ত করে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের শুনানিতে অংশ নেয়া অ্যাডভোকেট কমল দত্ত জানান, যুবলীগ নেতা তাপস হত্যা মামলার তদন্ত করে ২৮ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মতিন খান ২০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন।

মামলার বাদী পঙ্কজ দাস ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দেন।

রোববার শুনানি শেষে আদালত চার্জশিটভুক্ত ৩৬ আসামির নামেই মামলা পরিচালনার নির্দেশ দেন।

কমল দত্ত আরও জানান, শুনানির পর বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে যেসব আসামি জামিনে আছেন, তাদের জামিন বহাল থাকবে। আর যেসব আসামি আদালতে অনুপস্থিত বা অনুপস্থিত থেকে সময়ের আবেদন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়েছে। তবে অনুপস্থিত আসামিরা যদি হাইকোর্টে আবেদন করে থাকেন, আর যদি সে আবেদন পেন্ডিং থাকে, সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু হবে না।

তিনি বলেন, ‘মামলার আসামি বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল আজ নারাজি শুনানিতে হাজির না হয়ে সময়ের আবেদন করেছেন। তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে।’

এ ব্যাপারে মেয়র জিয়াউলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মামলার বাদী পঙ্কজ দাস জানান, ২০২০ সালের ২৪ মে বাউফল থানার সামনে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা তাপস ছুরিকাহত হন। রাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাপস মারা যান।

পরদিন বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলসহ ৩৬ জনকে আসামি করে বাউফল থানায় মামলা করেন তাপসের ভাই পঙ্কজ দাস।

পঙ্কজ দাস বলেন, ‘আজ আদালতের নির্দেশ শুনে ভালো লাগছে। মনে হচ্ছে ন্যায়বিচার পাব।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদ জাহিদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

চবি ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার থেকে টিকাদান

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) যারা করোনাভাইরাসের টিকাকেন্দ্র হিসেবে হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্বাচন করেছেন তারা টিকা পেতে যাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে মঙ্গলবার থেকে টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখিয়ে তারা টিকা নিতে পারবেন।

প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা টিকার জন্য হাটহাজারী কেন্দ্র নির্বাচন করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হবে।

টিকার জন্য সবাইকে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের দুই কপি নিয়ে যেতে হবে। তারা চীনের তৈরি সিনোফার্ম টিকা পাবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিতে ৪৮ হাজার টিকা চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টিকা নিতে পারেন সেই উদ্যোগও নেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রক্টর বলেন, ‘হাটহাজারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কথা বলে প্রায় ১ হাজার ডোজ টিকা আমাদের ক্যাম্পাসে নেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সব শিক্ষার্থীর টিকার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন জানানো হয়েছে। সেগুলো পেয়ে গেলে সবাইকে টিকা দেয়া হবে।’

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ২৭ হাজার ৫৫০। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া জরিপের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৩ হাজার ৩৩৬ শিক্ষার্থী টিকা গ্রহণের জন্য সার্বিক তথ্য কর্তৃপক্ষকে দিয়েছেন।

এর মধ্যে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৬৭। দুই ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ১৩৪ জন। নিবন্ধন করে টিকার জন্য অপেক্ষারত ৪ হাজার ৪০০ জন। এনআইডি না থাকায় টিকা নিতে পারেননি এমন শিক্ষার্থী ২ হাজার ২৬৭ জন।

পরীক্ষার কারণে বাড়ি থেকে ক্যাম্পাসে চলে আসায় অনেক শিক্ষার্থী টিকার দ্বিতীয় ডোজ পাননি। তাদের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘তাদের বিষয়টাও আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউজিসিতে জানিয়েছি। তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রীর ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় মামলা

স্কুলছাত্রীর ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ায় মামলা

প্রতীকী ছবি

পাথরঘাটা থানার ওসি আবুল বাশার জানান, ওই স্কুলছাত্রীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে ওই দুই কিশোর পলাতক।

বরগুনার পাথরঘাটায় জোর করে এক স্কুলছাত্রীর ‘আপত্তিকর’ ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে তারই দুই সহপাঠীর বিরুদ্ধে।

পাথরঘাটা থানায় রোববার দুপুরে ওই ছাত্রীর মা মামলাটি করেন। এতে আসামি করা হয়েছে ওই শিক্ষার্থীর দুই ছেলে সহপাঠীকে।

আসামি এক কিশোরের বাড়ি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নে। অপরজনের বাড়ি পৌরশহরে। ভুক্তভোগী কিশোরী ও মামলার আসামিরা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসামি দুই কিশোরের একজন ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল। এ নিয়ে গত বছর ওই কিশোরের পরিবারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

গত বুধবার স্কুল ছুটির পর ওই ছাত্রীর স্কুলব্যাগ নিয়ে নেয় উত্যক্তকারী কিশোর। পরে ব্যাগ আনতে গেলে সে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অসম্মানজনক আচরণ করে। আসামি অন্য কিশোর সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে।

এজাহারে আরও বলা হয়, গত শুক্রবার ওই ভিডিও ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ওই ছাত্রীর মা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। প্রধান শিক্ষক অভিযুক্ত কিশোরদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সেদিন রাত ৯টার দিকে তিনি বিষয়টি পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশারকে জানান।

পরে পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে রোববার দুপুরে আইনি সহযোগিতা দেয়ার জন্য ছাত্রীর মাকে থানায় ডাকে।

পাথরঘাটা থানার ওসি আবুল বাশার জানান, ওই স্কুলছাত্রীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুই কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে ওই দুই কিশোর পলাতক।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা-বামনা সার্কেল) তোফায়েল হোসেন সরকার বলেন, ‘ভিক্টিমকে সুরক্ষা দিয়ে আমরা তাকে বিচার পেতে আইনি সহযোগিতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করব।’

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন

তদন্ত প্রতিবেদনে নেই প্রধান আসামি, বাদীকে ‘হুমকি’

তদন্ত প্রতিবেদনে নেই প্রধান আসামি, বাদীকে ‘হুমকি’

বেগমগঞ্জে হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে সিআইডি। ছবি: সংগৃহীত

মামলার বাদী মোশারফ জানান, প্রতিবেদন থেকে নাম বাদ দেয়ার পর মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মহবুল্লাপুর গ্রামে চাঁদা না পেয়ে হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর আলমকে বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আসামির হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাদী মোশারফ হোসেন রতন ও সাক্ষীরা।

বাদী ও সাক্ষীরা জানান, মামলার তদন্তে সিআইডির কর্মকর্তাকে হামলার ঘটনায় জাহাঙ্গীরের জড়িত থাকার বিষয়টি তারা বর্ণনা করেছেন। তার পরও সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জাহাঙ্গীরের নাম বাদ দেয়া হয়েছে।

মোশারফ বলেন, ‘পল্লী চিকিৎসক জাহাঙ্গীর আলম আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি আমার বাড়িতে তিনি হামলা চালান। ওই ঘটনায় আমি নোয়াখালীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা করি।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে প্রথমে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় দেখিয়ে তার স্বভাব-চরিত্র ভালো নয় বলে উল্লেখ করা হয়। পক্ষপাত হয়েছে মনে করে বাদী পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে অনাস্থা দেন আদালতে। আদালত অধিকতর তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)পাঠায়।

২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সিআইডি মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নিয়ে ২০২১ সালের ১৪ জুন আদালতে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনেও জাহাঙ্গীরকে বাদ দেয়া হয়। মামলার অপর আসামি জিকু কামাল, খোরশেদ আলম, অজি উল্যাহ ও সেকান্দর আলমের সঙ্গে মীর হোসেন আলী বাবু, মো. হাসিব ও আবদুল্ল্যা আল নোমানের নাম যুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। সিআইডি প্রতিবেদনেও প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরের নাম বাদ দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মামলার বাদী মোশারফসহ সাক্ষীরা।

সাক্ষী জান্নাতুল নাঈম, সালমা আক্তার, সিদরাতুল মুনতাহা সিনহা, নাজমা আকতার, শাহ জাহান সাজু, আনোয়ার পারভেজ ও হাফেজ দীন ইসলাম জানান, তদন্তকালে প্রথম দিন তাদের বাড়িতে যান সিআইডির পুলিশ সুপার বশির আহম্মদ ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু নোমান। পরে একাধিকবার এসআই আবু নোমান বাড়ি গিয়ে তদন্ত চালান। পুরো ঘটনাটি জাহাঙ্গীর ঘটালেও প্রতিবেদনে তার নাম নেই।

মোশারফ জানান, মামলার সব সাক্ষী জবানবন্দিতে প্রধান আসামি জাহাঙ্গীরের অপরাধের বিবরণ দিয়েছেন। এর পরও প্রতিবেদনে নাম না থাকায় সিআইডির তদন্তের প্রতি তিনি পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছেন না।

মোশারফ ও সাক্ষীরা জানান, প্রতিবেদন থেকে নাম বাদ দেয়ার পর জাহাঙ্গীর তাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। এ হুমকিতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই, তা গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে প্রমাণ হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি কাউকে হুমকি দিইনি।’

সিআইডির কর্মকর্তা বশির আহম্মদ বলেন, ‘এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে চেষ্টা করেছি সব আসামির অপরাধের সঠিক তথ্য তুলে ধরতে। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছি। মামলার বাদী যদি মনে করেন প্রতিবেদন সঠিক হয়নি, তাহলে তিনি আদালতে নারাজি দিতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন

‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’

রংপুরে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে নিহত এএসআই পিয়ারুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

টাকার জন্য শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার সময় থানা থেকে বন্ধু রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানার সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) পেয়ারুল ইসলামকে নিয়ে গিয়েছিলেন মুন্না। শ্বশুরবাড়ি রংপুরের বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় যখন পৌঁছান তখন রাত ১১টা।

মূল সড়কের কাছেই বাড়িটি। সেখানে যাওয়ার রাস্তায় তখন মাদক সেবন করছিলেন পারভেজ রহমানসহ কয়েকজন। সেই দৃশ্য দেখে সেখানে দাঁড়িয়ে যান এএসআই পেয়ারুল; মুন্না যান শ্বশুরবাড়ি।

বাড়িতে না ঢুকে দরজা থেকেই স্ত্রী মনিকার কাছে টাকা চান মুন্না। এর একটু পরই তিনি পেয়ারুলের চিৎকার শোনেন, ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’।

তখনই সবাই দৌড়ে এসে দেখেন পেয়ারুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।

রংপুরে মাদক কারবারির ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা পেয়ারুল ইসলাম নিহতের ঘটনার এমন বর্ণনা দিয়েছেন মুন্নার শাশুড়ি লাইলী বেগম। প্রত্যক্ষদর্শী এবং পেয়ারুলের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেন তিনি।

লাইলী বেগম বলেন, ‘পেয়ারুল আমার জামাই মুন্নার বন্ধু। নিয়মিত ওঠাবসা, যায়-আসে, খাইদাই করে। ওই দিন পেয়ারুল ছিল থানায়। মুন্না তখন বলছিল, টাকা লাগবে, আমি শ্বশুরবাড়ি যাব। পরে থানাত পেয়ারুলসুদ্ধে খাওয়া-দাওয়া করছে। পরে আমার জামাই আর পেয়ারুল একসাথে আসছে।

‘পেয়ারুল বাসায় না ঢুকি ওখানে (বাড়ির কাছে) কয়টা চ্যাংড়া (ছেলে) গাঞ্জা খাইতেছে ওখানে দাঁড়াইচে। ততক্ষণে আমার জামাই আমার কাছে আসছে, বাসায় ঢোকে নাই। ওই সময় ওই ছেলেটার (গ্রেপ্তার পারভেজ) সাথে কথা-কাটাকাটি হইচে।’

পেয়ারুলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই সময় পেয়ারুল ওই ছেলেটাক কইছে, তুমি এখানে কী করো..। কেন বসি আছ, নেশা খাও কেন, এই নিয়ে কথা-কাটাকাটি হইচে। এরপর পেয়ারুল ধরছে আরকি ছেলেটাকে। মানে কোমরের বেল্ট ধরছে, ওকে চেক করবে যে তার কাছে আরও কিছু আছে নাকি।’

‘ছেলেটা কইছিল ছাড়ি দেন। পেয়ারুল যে ছাড়ি দেয় না, তখন পেয়ারুল চড়-থাপ্পড় মারছে আর কইছে এই বয়সে নেশাটেশা করো। বেয়াদব ছেলে, এইলে কথা কইছে।’

লাইলী বেগম আরও বলেন, ‘পেয়ারুল ভালো করি ধরছে তো...। এই সময় মোবাইল বের করার কথা কয়া ছেলেটা চাকু বের করে মারি দিচে। পালাবার চেষ্টা করছে তয় পারে নাই।

‘আমার জামাই তখন আমার বাড়ির সামনে দাঁড়ায়ে আছে। বেটিক ডাকে টাকা চাইতেছে... তখনই পেয়ারুল কইছে ‘মুন্না আমাকে বাঁচাও, আমাকে মারি দিচে’। অ্যাই (মুন্না) ফির দৌড়ি গেইচে। হামার বেটি ফির দৌড়ি যায়া দেখে পেয়ারুলের গাতও (শরীর) রক্ত, হামার জামাইয়ের গাতও রক্ত।

লাইলী বেগম জানান, পোশাকের কারণে তারা বুঝতে পারেননি পেয়ারুল কতটা আহত। পরে বাসায় নেয়ার পর পেয়ারুল গামছা দিয়ে তার পেটে ছুরিকাঘাতের স্থানটি বেঁধে নেন। এরপর পুলিশ আসার কিছুক্ষণ পরই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পুলিশ পেয়ারুলকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তিনি মারা গেছেন।

ঘটনার একই বর্ণনা দেন তেলিপাড়া গ্রামের আলফাজ আলী। তিনি বলেন, ‘ওমরা (লাইলী) যা কইছে ওইলে ঘটনাই হয়।’

হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওকত আলী সরকার জানান, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। পেয়ারুল সাদা পোশাকে সেই অভিযানেই ছিলেন। অভিযানে যাওয়ার আগে থানায় আবশ্যকীয় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন।

রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন (অপরাধ) নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি পুলিশের ওপর কোনো পরিকল্পিত আক্রমণ নয়। তাৎক্ষণিক একটা পরিস্থিতির কারণে সে (আসামি) হয়তো নিজেকে বাঁচানোর জন্য বা পুলিশের কাছ থেকে পালানোর জন্য কাজটা করেছে। যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে তা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাকে আমরা থ্রেট মনে করছি না।’

পুলিশের এই শীর্ষকর্তা আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় আমরা শোকাহত ঠিকই, কিন্তু আমাদের মনোবল ভেঙে যায়নি। কারণ বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য অত্যন্ত পেশাদার। আমরা সব সময় চ্যালেঞ্জিং কাজ করছি।’

এর আগে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে হারাগাছ থানা এলাকার বাহারকাছনা তেলিপাড়ায় মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পুলিশের এএসআই পেয়ারুল। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পেয়ারুল ২০১১ সালে পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে বাহিনীতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে এএসআই হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় যোগ দেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায়।

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর। ছবি: নিউজবাংলা।

প্রতিমা শিল্পী ভারত পাল বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার কাছে প্রতিমা তৈরির কাজ শেখা। প্রতিমা তৈরি আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। মনের আবেগ আর ভালোবাসা দিয়েই কাজটি করি।’

‘বুঝতে শেখার পরই প্রতিমার সঙ্গে পথ চলা শুরু। হাতেখড়ি বাবার হাতে। ১০ বছর বয়স থেকেই প্রতিমা তৈরি করি। নিখুঁতভাবে মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রতিমা তৈরি করতেন বাবা। যখন প্রতিমা বানানো শেখাতেন মনোযোগ দিয়ে শুনতাম ও দেখতাম। নিজেও এখন এরকম বানাতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার রাশড়া গ্রামের ভারত পাল।

৫০ বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি করছেন প্রতিমা। শিল্পীর ছোঁয়ায় তৈরি করছেন দেবী দুর্গাকে।

কয়েক দিন বাদেই আসছেন দেবী। তাই বেশ ব্যস্ত ভারত। দুর্গার পাশাপাশি চলছে লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজ।

১১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসব।

সরেজমিন দেখা যায়, কোনো মণ্ডপে হচ্ছে কাঠামো তৈরি আবার কোথাও হচ্ছে মাটির কাজ। শিল্পীরা দেড় মাস আগে থেকেই শুরু করেন প্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর

প্রতিমা শিল্পী ভারত পাল বলেন, ‘প্রতিমা তৈরি আমার আত্মার সঙ্গে মিশে আছে। মনের আবেগ আর ভালোবাসা দিয়েই কাজটি করি।

‘৫০ বছর থেকে প্রতিমার সঙ্গে কাটছে জীবন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।’

এ বছর প্রতিমা তৈরির সরঞ্জামের দামটাও আগের চেয়ে বেশি বলে জানান ভারত পাল।

রাশড়া গ্রামের যাদব পাল জানান, ভারত ছোট থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ করছে। বাসাইল ছাড়াও পাশের উপজেলা সখীপুরে প্রতিমা তৈরিতে ভারতের সুনাম রয়েছে।

উপজেলার জিকাতলী পাড়া গ্রামের শীতল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে কাকার প্রতিমা তৈরি দেখতে যেতাম। যতই দেখতাম কাকার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম। কী অসাধারণ, নিখুঁত কারুকাজ।’

প্রতিমার সঙ্গেই ভারত পালের ৫০ বছর


বাসাইল উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ সুনীল রায় স্বপন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার কারণে আমরা বড় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। ঈশ্বরের কৃপায় প্রকোপ কিছুটা কমায় পূজার আয়োজন ও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।

‘রাত-দিন কারিগররা পরিশ্রম করছেন। গত বছর ৪২টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বছর ৫৬টি মণ্ডপে পূজা হবে।’

এবার সরকারি সরকারি নির্দেশনায় কিছুটা ছাড় দেয়া হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে কড়াকড়ির কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ীই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

শারদীয় দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতার কথাও বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
‘বরিশালে আ. লীগের রাজনীতি অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা’
সপরিবারে ডেঙ্গু আক্রান্ত আ. লীগ নেতা দেলোয়ার
আ.লীগের নাম ভাঙানো আরেক ভুঁইফোঁড় নেতা মনিরের ফটোশপকাণ্ড
বিজিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১
অব্যাহতির ২ দিন পর স্বপদে বহাল সাংসদ জাফর

শেয়ার করুন