মাদক মামলায় নায়িকা একার জামিন

মাদক মামলায় নায়িকা একার জামিন

পুলিশ হেফাজতে নায়িকা সিমন হাসান একা। ফাইল ছবি

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে নায়িকা সিমন হাসান একাকে আটক করে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। সে সময় তার বাসা থেকে ৫ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা ও প্লাস্টিকের বোতলে মদ পাওয়ার তথ্য জানায় পুলিশ।

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সিমন হাসান একা জামিন পেয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায়।

ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের ভার্চুয়াল আদালতে মঙ্গলবার ১ হাজার টাকা মুচলেকায় এ জামিনের আদেশ দেয়া হয়।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ৩১ জুলাই নায়িকা সিমন হাসান একাকে আটক করেছিল। এ সময় হাতিরঝিল থানাধীন উলন রোডে তার বাসা থেকে ৫ পিস ইয়াবা, ৫০ গ্রাম গাঁজা ও প্লাস্টিকের বোতলে মদ পাওয়ার তথ্য জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়।

মাদকের মামলায় নায়িকা একার পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার শুনানিতে তিনি নায়িকা একাকে চরম অসুস্থ দাবি করে যেকোনো শর্তে জামিন চান।

রাষ্ট্রপক্ষে তার জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ১ হাজার টাকা মুচলেকায় নায়িকা একাকে জামিন দেন।

গ্রেপ্তারের পর নায়িকা একাকে গত ১ আগস্ট ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। তখনও তার জামিন আবেদন করা হয়েছিল। অন্যদিকে পুলিশ রিমান্ড আবেদন জানায়। আদালত রিমান্ড ও জামিন না দিয়ে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা চালান ময়লার গাড়ি?

পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা চালান ময়লার গাড়ি?

চালক সংকট এবং স্থায়ী চালকদের অনুপস্থিতির কারণে ময়লাবাহী ভারী ট্রাকগুলো চালাচ্ছে অদক্ষ চালকরা। অনেক ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মধ্যে যারা গাড়ি চালাতে পারেন, তাদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে স্টিয়ারিং। গত সপ্তাহে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় একজন শিক্ষার্থী এবং একজন সাবেক সংবাদকর্মী মারা গেছেন।

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ময়লাবাহী গাড়ির সংখ্যা ৩৩০। অথচ স্থায়ী চালক আছেন ১২৯ জন। যান্ত্রিক ত্রুটি না থাকলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সবগুলো গাড়িই ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। তা হলে বাকি অর্ধেক গাড়ি চালান কারা?

দুই সিটির অর্ধেকের বেশি গাড়ি মাস্টাররোল এবং দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োজিত চালকরা চালিয়ে থাকেন। স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত চালকদের বাইরে যারা ময়লা বহনকারী ভারী ট্রাকগুলো চালান, তাদের একটা বড় অংশ অপেশাদার চালক, যাদের অধিকাংশেরই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই।

আবার যারা স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে চালক হিসেবে আছেন, তাদের একটা অংশ নিজে গাড়ি না চালিয়ে দিয়ে দেন অন্যের কাছে। সেই প্রক্সি চালকও লাইসেন্সধারী নন।

দুই সিটির পরিসংখ্যান ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চালক সংকট এবং স্থায়ী চালকদের অনুপস্থিতির কারণে ময়লাবাহী ভারী ট্রাকগুলো চালাচ্ছেন অদক্ষ চালকরা। এতে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা।

গত সপ্তাহে ময়লার গাড়ির ধাক্কায় একজন শিক্ষার্থী এবং একজন সাবেক সংবাদকর্মী মারা গেছেন।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অপেশাদার এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের দিয়ে ময়লাবাহী গাড়িগুলো চালানোর কারণে সড়কে দুর্ঘটনা প্রবণতা বাড়ছে। দুই মৃত্যু সেটাই প্রমাণ করে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে হল মার্কেটের পাশের সড়কে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান নটর ডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান।

ঘটনাস্থল থেকেই রাসেল নামে চালককে আটক করা হয়। রাসেলের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি মাস্টাররোলে একসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেই চাকরি আগে চলে গেছে। বর্তমানে তিনি হারুন নামে একজনের কাছ থেকে গাড়িটা নিয়ে চালাচ্ছিলেন।

পুলিশ ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, হারুনও দুর্ঘটনা ঘটানো গাড়িটির প্রকৃত চালক নন। তিনিও পরিচ্ছন্নতাকর্মী। হারুন গাড়িটি নিয়েছেন স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত চালক ইরানের কাছ থেকে। রাসেল ও হারুন গ্রেপ্তার হলেও পলাতক রয়েছেন ইরান।

নাঈমের মৃত্যুর পর থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আবার আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালেই বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পান্থপথে আহসান কবীর খান নামে এক সাবেক সংবাদকর্মী মারা যান। উত্তর সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী একটি গাড়ির চাপায় তিনি প্রাণ হারান।

চালক হানিফ গাড়ি ফেলে পালিয়ে গেলেও গত শনিবার তাকে চাঁদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর হানিফ র‌্যাবকে জানিয়েছেন, তিনি উত্তর সিটি করপোরেশনের বেতনভুক্ত চাকরিজীবী না। সিটি করপোরেশনের গাড়ি থেকে তেল চুরি করে বিক্রিই হানিফের আয়ের উৎস।

দক্ষিণে গাড়ি ১৮৫, চালক ৯৫

বাসা, মার্কেট, প্রতিষ্ঠান থেকে ময়লা নিয়ে রাখা হয় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে। সেখান থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ময়লাবাহী ভারী ট্রাক মাতুয়াইলে ভাগাড়ে ফেলে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তাদের ময়লাবাহী ভারী ট্রাকের সংখ্যা ১৮৫। এর বিপরীতে তাদের নিয়োগ করা চালকের সংখ্যা ৯৫। এই ৯৫ জনের মধ্যে ১৯ জন গত মাসে নিয়োগ পেয়েছেন।

বাকি গাড়িগুলো দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কর্মচারী দিয়ে চালানো হয়।

সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডের পাশে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লাবাহী গাড়ির স্ট্যান্ড। সোমবার ওই স্ট্যান্ডে গিয়ে কথা হয় কয়েকজন চালকের সঙ্গে। তারা জানান, পর্যাপ্ত চালক না থাকায় সিটি করপোরেশনের যেসব কর্মচারী গাড়ি চালাতে পারেন, তাদের দিয়ে ভারী ট্রাকগুলো চালানো হয়।

এ ছাড়া স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন অসাধু চালক নিজেরা না চালিয়ে অন্যকে দিয়ে গাড়ি চালান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন পুরোনো চালক নিউজবাংলাকে বলেন, যারা প্রকৃত চালকের বদলি হিসেবে চালান, তারা কিছু টাকা ওই চালকের কাছ থেকে পান। বাকি টাকা বরাদ্দ তেলের অংশ বিক্রি করে তারা আয় করেন। সিটি করপোরেশন এদের কোনো টাকা দেয় না।

মহিউদ্দিন নামে এক চালক বলেন, ‘রাতে জ্যাম ঠেলে দুই থেকে তিনটি ট্রিপ দেয়া যায়। প্রতি ট্রিপ পৌঁছানোর পর স্লিপ দেয়া হয়। সেই স্লিপ অনুযায়ী আমরা তেল পাই। গড়ে এক থেকে দুই লিটার তেল থাকে।’

অনেক সময় গাড়ির কাজ নিজেকেই করাতে হয় বলে দাবি করেন এই চালক। এতে এই তেল বিক্রি করে পাওয়া টাকা ও গাড়ি মেরামতের খরচ সমান সমান হয়ে যায়।

মো. আলী নামে এক চালক বলেন, ‘আমাদের চালকের সংখ্যা কম, এটা সত্য। কিন্তু বর্তমান মেয়র উদ্যোগ নিলে এ সমস্যা থাকবে না। আমি ’৯৬ সাল থেকে গাড়ি চালাই। আমার গাড়ি কোনোদিন কাউকে দিইনি। অন্য কেউ দিলে সেটা আমার জানা নেই।’

এই চালকের সঙ্গে কথা বলার সময় এগিয়ে আসেন আরেক চালক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার পর নিয়োগ পাওয়া সব চালকই গাড়ি চালাচ্ছেন। আগে তাদের অনেকে নিজেরা না চালিয়ে অন্যদের দিয়ে গাড়ি চালাতেন।

বাইরের চালকরা কীভাবে ট্রাক চালাচ্ছেন, জানতে চাইলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া চালকদের বাইরে যারা গাড়ি চালান, তারাও সিটি করপোরেশনের কর্মচারী, অন্য কাজ করেন। বাড়তি হিসেবে দৈনিক মজুরিতে তারা ময়লার গাড়ি চালিয়ে থাকেন।’

দৈনিক মজুরিতে যারা গাড়ি চালান, তারা কত করে পান এবং প্রত্যেকের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স আছে কি না সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি আবু নাছের।

চালক সংকট ও এই সংকট নিয়ে কীভাবে গাড়িগুলো চালানো হচ্ছে, জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি দক্ষিণ সিটির মহাব্যবস্থাপক (পরিবহন) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস।

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান মৃত্যুর ঘটনায় দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে বিপুল চন্দ্র বিশ্বাসও রয়েছেন। গত ২৪ নভেম্বর করা কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন জমার আগে কোনো মন্তব্য করতে চান না বিপুল চন্দ্র।

উত্তরে গাড়ি ১৪৭, চালক ৩৪

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ময়লা বহনকারী গাড়ির সংখ্যা ১৪৭। তাদের স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত চালক ৩৪ জন। এর বাইরে ৬৭ জন চালক আছেন, যারা মাস্টাররোলে চালক হিসেবে চাকরি করেন। বাকি ৪৬ জন দক্ষ শ্রমিক, যারা উত্তর সিটিতে চাকরি করেন। বাড়তি কাজ হিসেবে গাড়ি চালান।

১৪৭ জন চালকেরই গাড়ি চালানোর লাইসেন্স আছে বলে দাবি করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক(পরিবহন) মিজানুর রহমান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেক চালকের লাইসেন্স আছে। সেকেন্ডারি স্টেশন থেকে তারা রাতের বেলা গাড়িতে করে আমিনবাজার পেরিয়ে বুলিয়ারপুর ল্যান্ডফিল্ডে ময়লা ফেলে আসে।’

ময়লাবাহী গাড়িগুলো ভারী যান হলেও পান্থপথে গাড়িচাপায় একজনের মৃত্যুতে মারুফ নামে যে চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল না। তার কাছে হালকা যান চালানোর লাইসেন্স ছিল।

তিনি কীভাবে ভারী গাড়ি চালাচ্ছিলেন? এমন প্রশ্নে মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়টা তদন্তনাধীন। তদন্ত শেষে বলা যাবে।’

ময়লাবাহী গাড়ি নিয়ে অব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা যারা যুক্ত, প্রত্যেককে বিচার এবং জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সারওয়ার জাহান। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ময়লাবাহী গাড়িগুলোর বেপরোয়া চলাচল, উল্টোপথে যাওয়া, অদক্ষ চালক দিয়ে চালানো- সব অভিযোগ পুরোনো। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু চালক-শ্রমিক নন, যারা এই অব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে। যাদের অবহেলায় এগুলো হচ্ছে, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

পাহাড়ে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি ঘাঁটি গড়ছে : মেনন

পাহাড়ে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি ঘাঁটি গড়ছে : মেনন

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ফাইল ছবি

মেনন বলেন, ‘বান্দরবানের থানচির কাছে একটি অঞ্চলে দাওয়াতি ইসলাম ২০০৬ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল আটজনকে নিয়ে। সেখানে আর এই সশস্ত্র সংগঠন ১০৬ জনে কার্যক্রম চালায়। আমি আশা করি, সরকার নিশ্চয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’

পাহাড়ে মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি ঘাঁটি গড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে রাজধানীর আগারগাওঁয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে এক আলোচনায় তিনি এই সতর্কতা করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের যৌথ আয়োজনে এই আলোচনায় মেনন বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে আজকে দেশের জন্য আর একটি বিপদ অপেক্ষা করছে। সেটা হলো মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামে যারা বাঙালিদের মধ্যে যারা সেটেলার হয়েছেন তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তারা নতুন সংগঠন গড়ে তুলেছে ‘উপজাতি মুসলিম নাগরিক পরিষদ’ নামে।”

তিনি বলেন, ‘বান্দরবানের থানচির কাছে একটি অঞ্চলে দাওয়াতি ইসলাম ২০০৬ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল আটজনকে নিয়ে। সেখানে আর এই সশস্ত্র সংগঠন ১০৬ জনে কার্যক্রম চালায়। আমি আশা করি, সরকার নিশ্চয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।’

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে রাজনৈতিক সমাধানই যদি উপলক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সামরিক সমাধান থেকে দূরে থাকতে হবে। চুক্তির ধারাগুলোকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

মেনন বলেন, ‘২৪ বছর পর চুক্তি নিয়ে যে আনন্দ উচ্ছ্বাস থাকার কথা ছিল, তা আজ নেই বলে আমার মনে হয়।’

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কারও পেয়েছিলেন। কিন্তু আজ হয়তো সামরিক বন্দুকের জায়গায় অন্য কৌশল নেয়া হয়েছে। এই করোনার সময়েও অন্তত ২০টি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’

কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, ‘জনসংহতি সমিতির যে বক্তব্য আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেখানে যতটা না ক্ষোভ তার চেয়ে আছে বেদনা ও হতাশা। এটার জন্য নিশ্চয় জনসংহতি সমিতি নয়, সরকারি পক্ষ যারা চুক্তি বাস্তবায়ন করছেন না, তারাই দায়ী। এটার জন্য তাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রংয়ের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) এবং ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের কো-চেয়ার সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল ও সাদেকা হালিম, আইনজীবী সারা হোসেন এবং বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা কাজল দেবনাথও এতে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

রমনা পার্কে হাঁটতে গিয়ে বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

রমনা পার্কে হাঁটতে গিয়ে বাইকের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু

লকডাউনে দীর্ঘ সময় রমনা পার্ক বন্ধ থাকার পর গত ১৮ জুন বিনোদন ও শরীরচর্চার জন্য সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়। এসময় পার্কে নানা বয়সীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: সাইফুল ইসলাম

ওই নারীর সঙ্গে থাকা তার বান্ধবী কল্পনা রানী বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেলে রমনা পার্কে হাঁটাহাঁটি করি। হাঁটাহাঁটি শেষে বাসায় যাওয়ার সময় দুজনেই রাস্তা পার হচ্ছিলাম। আমি ছিলাম একটু সামনে সে আমার পেছনে। হঠাৎ শব্দ পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি তৃষ্ণাকে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ছেঁচড়ে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

রাজধানীর রমনা পার্কে হাঁটাহাঁটি শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তৃষ্ণা সাহা নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল জব্দ ও চালককে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৬টা ৩৬ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই নারীর সঙ্গে থাকা তার বান্ধবী ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকার বাসিন্দা কল্পনা রানী বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেলে রমনা পার্কে হাঁটাহাঁটি করি। হাঁটাহাঁটি শেষে বাসায় যাওয়ার সময় দুজনেই রাস্তা পার হচ্ছিলাম। আমি ছিলাম একটু সামনে সে আমার পেছনে। হঠাৎ শব্দ পেয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখি তৃষ্ণাকে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ছেঁচড়ে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

তিনি বলেন, তৃষ্ণা সাহার বাসা বিজয়নগর এলাকায়। তার স্বামীর নাম উত্তম সাহা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দুই মেয়ের জননী ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি বলেন, তার পরিবারকে সংবাদ দেয়া হয়েছে।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন চালককে আটক এবং মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা অবগত রয়েছে।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

খালেদার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল

খালেদার মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিএনপির মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত এই মশাল মিছিলে নেতাকর্মীরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ্রুত মুক্তি এবং তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দাবিতে রাজধানীতে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল মোড় থেকে শান্তিনগর মোড় পর্যন্ত এই মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

এ সময় নেতাকর্মীরা অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মশাল মিছিলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. জাহেদুল কবির, যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আহমেদ, ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেবুব মাসুম শান্ত, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের রবিউল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি পার্থদেব মণ্ডল, ওমর ফারুক কাওছার, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন নাছির, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও সদস্য রাজু আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদলের আব্দুর রহিম প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

বিএনপির নামে ফেসবুকে পেজ খুলে অপপ্রচার: রিজভী

বিএনপির নামে ফেসবুকে পেজ খুলে অপপ্রচার: রিজভী

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

‘মহল বিশেষের’ প্ররোচনায় গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারি নীলনকশা বাস্তবায়নের সক্রিয় সদস্য।’

ফেসবুকে রিসার্চ সেন্টার-বিএনপি (আরসিবি) নামে পেজ থেকে দলের নেতাদের নামে কুৎসা রটানো হচ্ছে অভিযোগ করে পেজটির বিষয়ে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আমি দেশবাসীসহ দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ‘রিসার্চ সেন্টার-বিএনপি (আরসিবি) সহ এ ধরনের ফেসবুক পেজের অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করছি।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘মহল বিশেষের’ প্ররোচনায় গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে এই অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘অপপ্রচারকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা বিএনপির বিরুদ্ধে সরকারি নীলনকশা বাস্তবায়নের সক্রিয় সদস্য।’

টাকা দিয়ে স্পন্সর করে সেই ভুয়া পেজগুলো প্রমোট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করে রিজভী বলেন, এতেই প্রমাণ হয়, এর পেছনে সরকারের লোকজন জড়িত।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি এবং এর গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্পর্কে মিথ্যাচার, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছাড়াও উসকানিমূলক বক্তব্য, মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে- যার সঙ্গে বিএনপির বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই।

‘এরা ষড়যন্ত্রকারীদের এজেন্ট হিসেবে বিএনপির নেতাদের ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’

আরবিসি ছাড়াও অপপ্রচার চালানোর জন্য আরও নানা পেজ খোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির মুখপাত্র।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘একাত্তরের হাতিয়ের গরজে উঠুক আরেকবার’,  ‘জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান ধরেন।

পুলিশের বাধা ঠেলে নিরাপদ সড়কসহ নানা দাবিতে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের ওপর আবার বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান করার কথা থাকলেও শুরুতে পুলিশের বাধায় তারা প্রথমে নামতে পারেননি। সময়ের সঙ্গে ছাত্রদের সংখ্যা বাড়ে। পরে তারা দুপুর দেড়টার দিকে রাস্তায় নামেন। অবস্থান করেন ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত।

বিক্ষোভের এ সময় তারা নিরাপদ সড়ক চেয়ে শ্লোগান দেন। সবশেষে রাজধানীতে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই ছাত্রের উদ্দেশে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রামপুরা ব্রিজের ওপর শুক্রবার সকাল ১০টায় আবারও জমায়েত হবেন বলে জানান ছাত্ররা।

শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘আমরা আছি থাকব, যুগে যুগে লড়ব’, ‘একাত্তরের হাতিয়ের গরজে উঠুক আরেকবার’, ‘জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান ধরেন।

পুলিশের বাধা ঠেলে আবার বিক্ষোভ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা ১২টার দিকে রামপুরা ব্রিজে এসে দাঁড়াতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদেরকে লাঞ্চনা করা হয়। পুলিশ কয়েকজনের ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা নিয়েছে বলেও জানান তারা।

খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী বলেন, ‘জেলখানা বড় করেন আমরা আসতেছি। পুলিশ আমাদের আজ আটকিয়েছে। তাদের কাছে বন্দুক আছে, কামান আছে, হাতিয়ার আছে। এক মাঘেই তো শীত চলে যায় না। আজকে আমাদের আটকিয়েছে। ছাত্ররা যখন দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামবে। তখন কীভাবে আটকাবে? ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে যখন জনগণ রাস্তায় নামবে, তখন তাদের কিছু করার থাকবে না।’

আরেক শিক্ষার্থী মো. রাব্বি বলেন, ‘২০১৮ এর আন্দোলন থেমে গেছে কিন্তু ছাত্ররা হাল ছেড়ে দেয় নাই। তাই তারা আবার রাস্তায় নেমেছে। পুলিশ আমাদের সঙ্গে নয় সাংবাদিকদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেছে। তারা আমাদের দাঁড়াতে দেয় নাই। আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে দাঁড়াতে চেয়েছি। পুলিশ আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। আমাদের ফোন নম্বর বাসার ঠিকানা নিয়েছে। হয়তো আমাদের নামে মামলা নেবে।’

রাজধানীর খিলগাঁও জোনের এডিসি নুরুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে তাদের দাবি জানাতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা আগেই করে দিয়েছি। ছাত্রদের আন্দোলনে কিছু কুচক্রী আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে। তারা আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। গতকাল থেকেই আমরা এটা খুব সুক্ষ্মভাবে ফলো করছি।

‘কারা কারা এই কাজ করছে এমন কিছু মানুষকে আমরা শনাক্ত করেছি। এই কুচক্রীরা ছাত্রদের আন্দোলনে যাতে ঢুকে পড়তে না পারে, আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত না করতে পারে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ দৃষ্টি রাখছি। আমরা তাদের আন্দোলনকে শ্রদ্ধা করি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে তাদের প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যেহেতু মেনে নেয়া হয়েছে, সেখানে আন্দোলন করার কোন সু্যোগ নাই। রোগীসহ সাধারণ মানুষের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। তাদের যেন কোনো সমস্যা না হয় আমরা সেদিকে খেয়াল রাখছি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের উত্তরে এডিসি নুরুল আমীন বলেন, ‘ছাত্ররা যেন আমাদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, আমরা সে দিকে খেয়াল রাখছি। তাদের সেঙ্গে আমরা কোন খারাপ আচরণ করি নাই। তারা আমাদের ছোট ভাই-বোন। আমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে যেন আমরা খারাপ আচরণ না করি।’

বাসভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের মাঝে গত সোমবার রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয় নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এ ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাসভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় মঙ্গলবার ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। বুধবার থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হবে হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তজুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। হাফ পাস কার্যকর সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোতে কোনো হাফ পাস থাকবে না।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন

এবার ময়লার গাড়ির ধাক্কায় বৃদ্ধা আহত, চালক আটক

এবার ময়লার গাড়ির ধাক্কায় বৃদ্ধা আহত, চালক আটক

পুলিশ জানায়, আজ সকালে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি একটি বাসকে ধাক্কা মারে। তখন এ বাস থেকে ওই বৃদ্ধা নামতে ছিলেন। ময়লার গাড়ির ধাক্কা বাসে লাগলে বৃদ্ধা নামতে গিয়ে তার কোমরে ব্যথা পান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি এবার যাত্রীবাহী একটি বাসকে ধাক্কা দিয়েছে। এতে বাস থেকে নামার সময় আরজু বেগম নামে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা আহত হন।

মোহাম্মদপুর আল্লাহ করিম মার্কেটের সামনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসান।

তিনি জানান, এ ঘটনায় ময়লার গাড়ির চালক রতনকে আটক করা হয়েছে। আর ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আজ সকালে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ি একটি বাসকে ধাক্কা মারে। তখন এ বাস থেকে ওই বৃদ্ধা নামতে ছিলেন। ময়লার গাড়ির ধাক্কা বাসে লাগলে বৃদ্ধা নামতে গিয়ে তার কোমরে ব্যথা পান।

‘এ সময় ময়লার গাড়িটি খালি ছিল। গাড়িতে কোনো ধরনের ময়লা ছিল না। এ ঘটনায় চালক রতনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই বৃদ্ধাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় নাঈম হাসান নামের নটর ডেম কলেজের এক ছাত্রের।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীজুড়ে আন্দোলনের মাঝে বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সের উল্টো দিকে ঢাকা উত্তরের এক ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন আহসান কবির খান নামের এক ব্যক্তি। তিনি প্রথম আলোর সাবেক কর্মী ছিলেন।

আরও পড়ুন:
একার ঠিকানা কাশিমপুর কারাগার
গৃহকর্মী নির্যাতন: থানায় অভিনেত্রী একা

শেয়ার করুন