অধ্যক্ষের মুখে এমন শব্দ অপ্রত্যাশিত: হাইকোর্ট

player
অধ্যক্ষের মুখে এমন শব্দ অপ্রত্যাশিত: হাইকোর্ট

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। ফাইল ছবি

শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেছেন, ফোনালাপে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা যদি সত্যি হয় তাহলে সেটি অবশ্যই নিন্দনীয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় করা রিটের শুনানি হয়েছে।

শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেছেন, ফোনালাপে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা যদি সত্যি হয় তাহলে সেটি অবশ্যই নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, ‘এটা আনএক্সপেকটেড (অপ্রত্যাশিত)। একজন অধ্যক্ষের মুখ থেকে এ ধরনের ভাষা আশা করা যায় না।’

পরে আদালত ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়। তদন্ত প্রতিবেদন দেখে এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ঠিক করে দেয় আদালত।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার শুনানি হয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আব্দুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

পরে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা জানেন গত ২৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ওই প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থী তার বাবাকে অডিওটি শুনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমে আসায় এরই মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ সম্পর্কে সব শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। সার্বিক বিষয়টি নিয়ে আমরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করি।

‘আদালত রিটের শুনানি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির রিপোর্টটি ৩০ আগস্টের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ১ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দিয়েছেন। এ সময় আদালত বলেছেন, এই ফোনালাপ যদি সত্য হয় তাহলে বিষয়টি নিন্দনীয়।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে গত ৮ জুলাই হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিটে কামরুন নাহারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রিটটি করেন।

রিটে শিক্ষাসচিব ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং গভর্নিং বডির সভাপতিকে বিবাদী করা হয়।

গত ২৭ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়।

ফোনালাপে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগের বিষয় নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

শাবি উপাচার্য ভবন পানি-বিদ্যুৎহীন

ভিসির বাসভবনের পানি-বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় আন্দোলনকারীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।’

সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বাসভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে এই জরুরি পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্দোলকারী শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন।

অনশনের পরও উপাচার্য (ভিসি) পদত্যাগ না করলে তাকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ।

এর আগে শিক্ষার্থীরা তাদের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, রোববারের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনে পুলিশ ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারবেন না। তার বাসায় পানি, বিদ্যুৎসহ সব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।


সংবাদ সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।

‘তখন তার বাসার জরুরি পরিষেবাও (পানি, বিদ্যুৎ) বন্ধ করে দেব আমরা। আর আজ থেকে পুলিশ ছাড়া কেউ তার বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।’

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘এই উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অনশনের চেয়ে বড় কোনো অহিংস আন্দোলন হতে পারে না। আমরা এটিই চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

সুমিত্রা-রুপাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। ছবি: নিউজবাংলা

বাপ-দাদার ভিটেমাটি থাকতেও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সুমিত্রা রানী ও তার স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী এক পরিবারের শখের বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে উচ্ছেদ করা হয় ওই পরিবারটিকে।

ভিটেমাটি হারানো সেই সুমিত্রা-রুপাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ফরিদপুর ও শরীয়তপুর জেলার নেতারা।

রোববার দুপুরে ওই বাড়িটি পরিদর্শনে যান তারা।

এ সময় শরীয়তপুর পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু মহাজোট সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরে ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র দিয়ে পাশে দাঁড়ায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ফরিদপুর জেলা।

নগদ ৭ হাজার টাকা, চাল, ডাল, তেল ও লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী, পরিধেয় পোশাক ও শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল দেয়া হয়।

এ ছাড়া ওই পরিবারের তিন কন্যার পড়াশোনার জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা করে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ভবতোষ কুমার বসু রায়।

এ সময় ভবতোষ কুমার বসু জানান, গত শনিবার সুমিত্রা-রুপাদের ভিটেমাটি হারানোর বিষয়ে নিউজবাংলার সংবাদটি তার নজরে আসে।

তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি অমানবিক। পরিবারটিতে সবাই নারী সদস্য। একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সমস্যা, অন্যদিকে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে তারা। অসহায় এই পরিবারটি যেন তাদের জমি ফিরে পায় সে জন্য আমাদের সংগঠন থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করা হবে।’

এর আগে গত শনিবার নিউজবাংলায় ‘সুমিত্রা রুপাদের স্বপ্ন কেড়ে নিল সিকদারের বাগানবাড়ি’ শিরোনামে খবরটি প্রকাশিত হয়।

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গামানিক মৌজার মধুপুর গ্রামে ৩০ একর জমির ওপর একটি বাগানবাড়ি নির্মাণ করেছে প্রয়াত ব্যবসায়ী জয়নুল হক সিকদারের পরিবার।

অভিযোগ উঠেছে, এই বাগানবাড়ি বানাতে গিয়ে একটি হিন্দু পরিবারকে জোর করে উচ্ছেদ করেছে সিকদার রিয়েল এস্টেট।

পরে নানা ঘাত-প্রতিঘাতে ওই পরিবারের দুই পুরুষ সদস্যের মৃত্যু হলে ভাইয়ের তিন মেয়েকে নিয়ে ডিঙ্গামানিক গ্রামের কাদির শেখের পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আশ্রয় নেন সুমিত্রা।

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন

শাবি উপাচার্য ভবনে পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা

শাবি উপাচার্য ভবনে পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা

শাবি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হব।’

অনশনের পরও উপাচার্য (ভিসি) পদত্যাগ না করলে তাকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে রোববার সন্ধ্যায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ।

এর আগে শিক্ষার্থীরা তাদের মঞ্চ থেকে ঘোষণা দেন, রোববারের পর থেকে উপাচার্যের বাসভবনে পুলিশ ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারবে না। তার বাসায় পানি, বিদ্যুৎসহ সব পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এসে শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রায় ১০০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন। অথচ এখন পর্যন্ত উপাচার্যের পদত্যাগের কোনো লক্ষণ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা উপাচার্যকে পূর্ণ অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হবো।

‘তখন তার বাসার জরুরি পরিষেবাও (পানি, বিদ্যুৎ) বন্ধ করে দেব আমরা। আর আজ থেকে পুলিশ ছাড়া কেউ তার বাসায় প্রবেশ করতে পারবেন না।’


শাবি উপাচার্য ভবনে পানি-বিদ্যুৎ বন্ধের ঘোষণা


উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তার পদত্যাগ দাবিতে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার থেকে একই স্থানে অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী।

বাসভবনের সামনে অবস্থানের কারণে গত ১৭ জানুয়ারি থেকেই অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তবে তার বাসায় প্রতিদিনই শিক্ষক, কর্মকর্তা, পুলিশ ও সাংবাদিকরা যাওয়া-আসা করছেন। চালু রয়েছে তার বাসার সব জরুরি পরিষেবাও।

উপাচার্যের বাসার সামনে মানবপ্রাচীর গড়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘এই উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। মৃত্যুবরণ করার আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। অনশনের চেয়ে বড় কোনো অহিংস আন্দোলন হতে পারে না। আমরা এটিই চালিয়ে যাব।’

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন

অনশনে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা নিয়ে শঙ্কা

অনশনে অনড় শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা নিয়ে শঙ্কা

শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের সবশেষ আলাপ হয়েছে। তিনি আমাদের সম্ভব হলে অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন... এরপর তাদের সঙ্গে আমাদের আর কোনো আলাপ হয়নি।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকট নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক দফা ভার্চুয়ালি বৈঠক করলেও কোনো সমাধান হয়নি।

বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার প্রস্তাব দেন। তবে উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান শিক্ষার্থীরা।

এ অবস্থায় আজ দুপুরে আবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দীপু মনির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে এদিন বিকেল ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক হয়নি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ইয়াছির সরকার বলেন, ‘আজ দুপুরে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের সর্বশেষ আলাপ হয়েছে। তিনি আমাদের সম্ভব হলে অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘তবে আমরা তাকে বলেছি, এতটা মানুষের জীবনের চাইতে একজনের পদ রক্ষা করা কি মূল্যবান। তিনি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। এরপর তাদের সঙ্গে আমাদের আর কোনো আলাপ হয়নি।’

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে না এলে পুনরায় আলোচনা না-ও হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি উপাচার্যের পদত্যাগ, এ ব্যাপারে সরকার থেকে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে শনিবার শাবি ক্যাম্পাসে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

তিনি রোববার বিকেলে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কিছুক্ষণ আগেও আমার আলাপ হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভেঙে আলোচনায় আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের কষ্ট তিনি মেনে নিতে পারছেন না।’

নাদেল বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী সব আলোচনায় প্রস্তুত। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আলোচনা করতে উদ্গ্রীব হয়ে আছেন। কিন্তু আলোচনা যৌক্তিকভাবে করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি নিজ দাবিতে অনড় থাকেন, তাহলে আলোচনা কতটুকু সফল হবে সেই প্রশ্ন থেকে যায়।

‘শনিবারের আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী একটি ছাড়া শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বাকি দাবি লিখিত আকারে দিতে বলেছেন। তাদের আইনগত ও অ্যাকাডেমিক সমস্যা যাতে না হয় তা দেখবেন বলেছেন। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদেরও কিছুটা এগিয়ে আসা উচিত।’

এখনও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন জানিয়ে নাদেল বলেন, ‘আমি আজ দুপুরেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের শিক্ষামন্ত্রীর অনুরোধের কথা জানিয়েছি। আশা করছি তারা মন্ত্রীর অনুরোধ রাখবেন।’

আলোচনায় দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন নাদেল।

উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শনিবার মধ্যরাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশার রাজ বলেন, ‘মন্ত্রী আমাদের অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা অনশন থেকে সরব না।’

শনিবার রাত থেকে নতুন করে অনশন শুরু করেছেন আরও চার শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন

প্রশ্নফাঁস: সেই চেয়ারম্যানকে জেলা আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

প্রশ্নফাঁস: সেই চেয়ারম্যানকে জেলা আ.লীগের পদ থেকে অব্যাহতি

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপা। ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের সঙ্গে রুপার জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’

সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহ এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে বগুড়ার সেই নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে জেলা আওয়ামী লীগের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আল রাজি জুয়েলের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে রোববার দুপুরে বিষয়টি জানানো হয়।

দুপচাঁচিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা নাসরীন রুপা জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

জুয়েল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তর সরবরাহের সঙ্গে রুপার জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

‘তার এ ধরনের কাজে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।’

শুক্রবার রাজধানীর তিনটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী ভাইস চেয়ারম্যান রুপাসহ ১০ জন আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।

দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হাসান জানান, শনিবার সন্ধ্যায় রুপাসহ ১০ জনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় সবাইকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন

হামলার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না: শাবি শিক্ষকদের বিবৃতি

হামলার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না: শাবি শিক্ষকদের বিবৃতি

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা চরম হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বাস্তবে উল্লেখিত তদন্ত কমিটি কোনো রকম অগ্রগতি করেছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে-যাওয়া ঘটনার দায়ভার কোনোভাবেই প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এড়াতে পারেন না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদের’ নেতারা।

শিক্ষকদের এই প্যানেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ মস্তাবুর রহমানের এক বিবৃতিতে শনিবার রাতে এমন দাবি জানানো হয়।

হামলার ছয়দিন পর এ ঘটনায় শিক্ষকদের কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এলো।

সিরাজুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চলাকালে গত ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। দুইপক্ষের সংঘর্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

হামলার পর ওই রাত থেকেই উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডি ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে আমরণ অনশনও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের তিনটি বলয় রয়েছে। আওয়ামী-বামপন্থি শিক্ষকদের প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ ও বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক পরিষদ’।

বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রক্টর ও ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। আর শনিবার বিবৃতি দেয়া ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকা শিক্ষকদের বিরোধী বলয়ের।

‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’-এর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন হতে চলেছে। এমতাবস্থায় শিক্ষক হিসেবে আমরা শুরু থেকেই চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি যে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আক্রমণের ব্যাপারে কোনো অফিশিয়াল ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে না-দিয়ে কালক্ষেপণ করে অনশনরত শিক্ষার্থীদের জীবন চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।

‘আমরা চরম হতাশার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি এ সংক্রান্ত একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও বাস্তবে উল্লেখিত তদন্ত কমিটি কোনো রকম অগ্রগতি করেছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে-যাওয়া ঘটনার দায়ভার কোনোভাবেই প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এড়াতে পারেন না।’

বিবৃতি বলা হয়, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাবতীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যক্তিদের প্রত্যেকের অফিশিয়াল ব্যাখ্যা জনসমক্ষে উপস্থাপন করার দাবি জানান হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন

দীপু মনিকে লিখিত দাবি দিচ্ছেন শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা দুপুরের পর

দীপু মনিকে লিখিত দাবি দিচ্ছেন শাবি শিক্ষার্থীরা, আলোচনা দুপুরের পর

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশা রাজ বলেন, ‘আমাদের মূল দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ। এটা কালকের বৈঠকেও আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব না।’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে তাদের দাবি লিখিতভাবে দেবেন বলে জানিয়েছেন। দুপুরের পর তারা মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করবেন বলেও জানান।

তবে শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের মূল দাবি উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ। এই দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবেন না।

উপাচার্য ইস্যুতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শনিবার গভীর রাতে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

দীপু মনি আশ্বস্ত করেন, লিখিত দাবি পেলে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবে সরকার।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল বাশা রাজ রোববার সকালে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী আমাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেয়ার কথা বলেছেন। এরপর আজ আবার আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে দুপুরের মধ্যেই মন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রস্তাব জমা দেব।

‘আমাদের মূল দাবি একটাই, উপাচার্যের পদত্যাগ। এটা কালকের বৈঠকেও আমরা শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছি। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে সরে আসব না।’

এখনও সময় নির্ধারণ না হলেও শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা রোববার দুপুরের পর হবে বলে জানান রাজ।

এর আগে শনিবার রাতে ঢাকায় নিজ বাসভবনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, প্রয়োজনে তার প্রতিনিধিদল শাবিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীরা যখন কথা বলতে রাজি হবে, তখনই প্রতিনিধি যেতে পারবে। পারিবারিক কারণে এখন তিনি সিলেটে যেতে পারছেন না।

প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ জানিয়েছিলেন, তারা আলোচনায় প্রস্তুত। শনিবার রাতে যদি সম্ভব হয়, যদি এই মুহূর্তেও সম্ভব হয়, তারা আলোচনা করতে চান।

এরপর রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মন্ত্রীর পক্ষে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনসহ কয়েকজন নেতা। এতে দীপু মনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

প্রেক্ষাপট

শাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরু ১৩ জানুয়ারি। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী।

১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ।

এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন নামেন।

বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী।

তাদের মধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরদিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার দুপুরে কাফন পরে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় দেন গণ-অনশনের ঘোষণা। রোববার আরও চারজন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
ভিকারুননিসায় ‘ব্যয় মানেই অনিয়ম’
ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের অডিওর ফরেনসিক চান সুমন
ভিকারুননিসার ঘটনায় তদন্ত কমিটি
ভিকারুননিসায় দ্বন্দ্বের নেপথ্যে ভর্তিবাণিজ্য, আর্থিক অনিয়ম
ভিকারুননিসা থেকে সরানো হলো ফওজিয়াকে

শেয়ার করুন