মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

মিতু হত্যা: বাবুলের ‘প্রেমিকা’র তথ্য পেয়েছে পিবিআই

স্ত্রী মিতু নিহতের পর এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবুল আক্তার। ফাইল ছবি

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে ওই নারীর তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার আসামি সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের কথিত প্রেমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা নিউজবাংলাকে জানান, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি, যা মামলার তদন্তকাজকে এগিয়ে নেবে। তবে ওই নারী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিয়ে আমাদের কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংস্থাটি।’

২৩ মে ওই নারী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি দিয়েছিল পিবিআই। গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ওই চিঠির উত্তর পায় সংস্থাটি।

সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার এজাহারে তার তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে ওই নারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। এ জন্য ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশপ্রধান বরাবর রোববার একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে তার বর্তমান অবস্থানসহ একাধিক বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে।’

এর আগে বাবলুকে দেয়া তার কথিত প্রেমিকার দুটি বই ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে পিবিআই। তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, বই ল্যাবে পাঠানোর জন্য শিগগিরই আদালতে আবেদন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বই দুটি আমরা জব্দ করেছি। এগুলোতে কিছু লিখিত বিষয় রয়েছে, যেগুলো পরকীয়ার সম্পর্ক নির্দেশ করে। মামলার তদন্তের স্বার্থে বই দুটির ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য আদালতের অনুমতি লাগবে। আমরা শিগগিরই পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করব।’

মিতু হত্যা মামলায় বাবুল আক্তারের সঙ্গে ইউএনএইচসিআরের ওই নারীকর্মীর পরকীয়া ছিল বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী ও মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থাকার সময় ২০১৩ সালে ইউএনএইচসিআরের কর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বাবুল। এ নিয়ে মিতুর সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বাবুলের। মিতুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনও করেন বাবুল।

২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সুদানে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে ছিলেন বাবুল। এ সময় বাবুলের মোবাইল ফোনটি চট্টগ্রামের বাসায় ছিল। ওই মোবাইল ফোনে মোট ২৯ বার ম্যাসেজ দেন বাবুলের কথিত প্রেমিকা।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, বাবুলকে তার কথিত প্রেমিকার উপহার দেয়া একটি বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠায় লেখা রয়েছে ‘05/10/13, Coxs Bazar, Bangladesh. Hope the memory of me offering you this personal gist. shall eternalize our wonderful bond, love you...’

শেষ পৃষ্ঠায় বাবুল আক্তার নিজের হাতে ইংরেজিতে তার কথিত প্রেমিকার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা লেখেন।

তিনি (বাবুল) লিখেছেন ‘First Meet: 11 Sep, 2013, First Beach walk 8th Oct 2013, G Birth day 10 October, First kissed 05 October 2013, Temple Ramu Prayed together, 13 October 2013, Ramu Rubber Garden Chakaria night beach walk.’

এজাহারে বলা হয়েছে, এই পরকীয়া প্রেমের কারণে বাবুল-মিতুর দাম্পত্য অশান্তি চরমে পৌঁছে। মিতু বাবুলের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সেদিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আক্তার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরু থেকে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। পরে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলাটির তদন্তের ভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সুনামগঞ্জে ধর্মঘট, ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা

সুনামগঞ্জে ধর্মঘট, ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস থামিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘট পালন করছে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য সুনামগঞ্জ-ঢাকা রুটে রোববার সকাল ৬টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে তারা।

আন্তজেলা বাস পরিবহন সেবা চালু থাকলেও দূরপাল্লার বাস বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ঢাকাসহ আট জেলার যাত্রীরা। সেক্ষেত্রে ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা।

সুনামগঞ্জে ধর্মঘট, ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা

ঢাকা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে আসা আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি না এই ধর্মঘটের কথা। রাতে হাওরে ছিলাম। সকালে যখন কাউন্টারে আসলাম দেখি তালা দেয়া।

‘পরে এখানে একজনকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি বাস ধর্মঘট। তাই এখন আমরা সিলেট যাবো। তারপর সেখান থেকে ঢাকা।’

আরেক পর্যটক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘বাস বন্ধ করে যাত্রীদের দুর্ভোগ দিয়ে লাভ কী? আমরা এখানে ঘুরতে এসেছি এখন আমাদের ভেঙে ভেঙে যেতে হচ্ছে। সময় আর টাকা দুটোই ব্যয় হল।’

সুনামগঞ্জে ধর্মঘট, ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক বলেন, ‘এ বাইপাস সড়কে চাদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ধর্মঘট চলবে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও বলেছেন বিষয়টি নিয়ে তারা আলোচনায় বসবেন।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন

হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

হল-ক্যাম্পাস খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীরা জানান, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলে দেয়ার দাবিতে সেখানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করাসহ তিন দফা দাবি তুলেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সব সড়ক ঘুরে কাজী নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবনের সামনে গিয়ে তা শেষ হয়। পরে সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমাবেশ করেন তারা।

তাদের তিন দফা দাবিগুলো হলো, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়া, ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সহযোগিতার জন্য সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোকে হেল্প ডেস্ক বসানোর অনুমতি দেয়া।

তারা জানান, গত ২৭ আগস্ট প্রশাসনের নির্দেশে স্থগিত হওয়া পরীক্ষা নেয়ার তারিখ ঘোষণা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগ। পরীক্ষায় অংশ নিতে রাজশাহী এসে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটে পড়ছেন।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রিদম শাহরিয়ার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হল বন্ধ রেখে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা দেয়। এ কারণে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী আসতে শুরু করেছে। মেস নিয়ে তারা হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুজনের রুমে ৪ জন থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ নিয়ে কোনো চিন্তাই করছে না।

‘সামনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। হল খোলা না হলে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া নিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হবে।’

তিনি জানান, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল ও ক্যাম্পাস খুলে দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা না হলে লাগাতার আন্দোলন চলবে।

সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৫৫ শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, ‘আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে হল ও ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে আশা করছি আমরা শিগগিরই শিক্ষার্থীদের হল খুলে দিতে পারব।’

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন

২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে প্লাইউড ফ্যাক্টরির আগুন

২ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে প্লাইউড ফ্যাক্টরির আগুন

বাগেরহাট সদর উপজেলার প্লাইউড কারখানায় আগুন লাগে। ছবি: নিউজবাংলা

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক গোলাম সরোয়ার বলেন, ইঞ্জিন রুমে মজুত রাখা তেল থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়। সোডিয়াম বাই কার্বনেট ও অ্যালমিনিয়াম সালফেড দিয়ে তৈরি বিশেষ ফোম আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। 

বাগেরহাট সদর উপজেলার প্লাইউড কারখানায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

টিকে গ্রুপের এই কারখানার আগুন রোববার দুপুর ১২টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক গোলাম সরোয়ার।

তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাগেরহাট, খুলনা, মোংলা, মোংলা ইপিজেড, শরণখোলা ও মোড়েলগঞ্জ থেকে ৬টি ইউনিট সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর পর দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ইঞ্জিন রুমে মজুত রাখা তেল থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হয়। সোডিয়াম বাই কার্বনেট ও অ্যালমিনিয়াম সালফেড দিয়ে তৈরি বিশেষ ফোম আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে পরে জানান হবে। ডাম্বিংয়ের কাজ চলছে।

২০০০ সালে যাত্রা করা এই ফ্যাক্টরিতে কাঠ দিয়ে ফাইবোর বোর্ড তৈরি করা হয়।

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন

চেয়ারম্যানের বাড়িতে ককটেল হামলা, সড়ক আটকে বিক্ষোভ

চেয়ারম্যানের বাড়িতে ককটেল হামলা, সড়ক আটকে বিক্ষোভ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউপি চেয়ারম্যান এ এম রফিকউল্লাহ বলেন, ‘রোববার ভোর চারটার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন এসে বাড়িতে একের পর এক ককটেল নিক্ষেপ করে। বাড়ির লোকজন বোমার শব্দ পেয়ে বের হলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।’

পাবনার বেড়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এ এম রফিকউল্লাহর বাড়িতে ককটেল হামলায় চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা; ছুড়েছে গুলিও। এর প্রতিবাদে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে ২ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ, পূর্ব বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে জড়িত সাবেক এমপি আজিজুল হক আরজু। তবে অভিযোগ নাকচ করেছেন আজিজুল।

বেড়ার রঘুনাথপুর এলাকায় পুরান ভারেঙ্গার ইউপি চেয়ারম্যান রফিকউল্লাহর বাড়িতে রোববার ভোরে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

রফিকউল্লাহ বলেন, ‘রোববার ভোর চারটার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন এসে আমার রঘুনাথপুর এলাকার বাড়িতে একের পর এক ককটেল নিক্ষেপ করে। বাড়ির লোকজন বোমার শব্দ পেয়ে বের হলে সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে অবিস্ফোরিত কয়েকটি ককটেল উদ্ধার করেছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, পাবনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু নগরবাড়ী ঘাটে সরকারি ৮ একর জমি দখল করে অবৈধ মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় আজিজুল তার উপর ক্ষুব্ধ হন। গত শুক্রবার এলাকার একটি দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে হত্যার হুমকিও দেন।

রফিকউল্লাহর ধারণা এর জেরেই আজিজুলের নির্দেশে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

চেয়ারম্যানের বাড়িতে ককটেল হামলা, সড়ক আটকে বিক্ষোভ

হামলার খবর জানাজানি হলে কাশীনাথপুর এলাকার চেয়ারম্যানের অনুসারীরা স্থানীয়দের নিয়ে সকাল নয়টা থেকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় প্রশাসন হামলায় জড়িতদের আটকের আশ্বাস দিলে তারা বেলা ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।

চেয়ারম্যানের অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে সাবেক এমপি আজিজুল বলেন, ‘ধারাবাহিক রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ঘটনা ঘটিয়ে আমাকে ফাঁসনোর চেষ্টা হচ্ছে। আমি রাজনৈতিকভাবেই সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করব।’

এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, ‘হামলার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা আছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন

মায়া হরিণ ফিরল সুন্দরবনে

মায়া হরিণ ফিরল সুন্দরবনে

সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁদপাই রে‌ঞ্জের এ‌সিএফ এনামুল হক ব‌লেন, ‘নেটে আটকা পড়ে হরিণটির বেঁধে যাওয়ার স্থানে সামান্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর হরিণটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পরে হরিণটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।’

সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনি এলাকার গাজী বাড়ির পেছন থেকে রোববার সকাল ৬টার দিকে হরিণটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে হরিণটিকে চাঁদপাই রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়।

বন বিভাগের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, ‘মায়া হরিণটি পুরুষ। এর ওজন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কেজি হবে।'

চাঁদপাই রে‌ঞ্জের এ‌সিএফ এনামুল হক ব‌লেন, ‘নেটে আটকা পড়ে হরিণটির বেঁধে যাওয়ার স্থানে সামান্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর হরিণটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পরে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মায়া হরিণটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।’

উদ্ধারকাজে বন বিভাগ থেকে চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, বন বিভাগ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, ওহিবুল ইসলাম, সিপিজি সদস্য এনামুল সরদার, সপন মোল্যা ছিলেন।

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন

হাতিয়ায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৫

হাতিয়ায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ৫

নোয়াখালীর হাতিয়ায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয় পাঁচজন। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কিছু দিন ধরেই দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বুড়িরচর ইউনিয়নের কালিরচর গ্রামে ইব্রাহীম মার্কেটের সামনে শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন আব্দুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, সাজ্জাদুল ইকবাল, বাবর উদ্দিন ও আমির হামজা।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কিছু দিন ধরেই দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জিয়া আলী মোবারক কল্লোল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফখরুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন।

আহতদের মধ্যে আব্দুর রহমান ও বাবর উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর তিনজন হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ওই সংঘর্ষের পর রাত ৮টার দিকে উভয় পক্ষের অনুসারীরা ফের সাগরিয়া বাজারে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন

নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে নির্মাণাধীন ওই ভবনে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন আইয়ুব। এ সময় অসাবধানতাবশত ওয়েল্ডিং মেশিনের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। মুমূর্ষু অবস্থায় সাভারের সমাজভিত্তিক গণস্বাস্থ্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

সাভারের সমাজভিত্তিক গণস্বাস্থ্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে রোববার সকালে আইয়ুব আলীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগে শনিবার রাতে উপজেলার কুশুরা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত আইয়ুব আলীর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার পলাশতলী গ্রামে। তিনি ধামরাই উপজেলার কুশুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে নির্মাণাধীন ওই ভবনে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন আইয়ুব। এ সময় অসাবধানতাবশত ওয়েল্ডিং মেশিনের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। মুমূর্ষু অবস্থায় সাভারের সমাজভিত্তিক গণস্বাস্থ্য মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রশিদ উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, মরদেহ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃতের স্বজনদের খবর পাঠানো হয়েছে। তারা এলেই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বাবুল-মিতুর সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদ মাগুরায়
মিতু হত্যা: জবানবন্দি দিতে হবে দুই সন্তানকে
মিতু হত্যা: নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন মুছার স্ত্রীর
মিতু হত্যা মামলায় একজনের জবানবন্দি
বাবুলের ‘প্রেমিকার’ তথ্য চেয়ে ইউএনএইচসিআরকে চিঠি

শেয়ার করুন