বিতর্কিত ভিডিও সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাইলেন ডা. জাহাঙ্গীর

বিতর্কিত ভিডিও সরিয়ে নিয়ে ক্ষমা চাইলেন ডা. জাহাঙ্গীর

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে পরিচিতি পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

‘একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবুও আমার অনিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের বিরুদ্ধে চিকিৎসকদের একটি সংগঠন ‘অপচিকিৎসার’ অভিযোগ তোলার পর দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে বিতর্কিত একটি ভিডিওসহ আরও দুটি পোস্ট সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছেন ডা. জাহাঙ্গীর।

এই আগে সোমবার চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিটিলিস (এফডিএসআর) বিতর্কিত ভিডিও সরিয়ে নিতে ডা. জাহাঙ্গীরকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেয়। ডা. জাহাঙ্গীরের চিকিৎসাকে ‘অপচিকিৎসা’ দাবি করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বিতর্কিত ভিডিও না সরিয়ে নিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইল ডা. জাহাঙ্গীর মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘টিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা ভিডিওটি ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেরা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

এরপররই নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন আলোচিত এই চিকিৎসক। এতে তিনি বলেন, ‘সুস্থ থাকার লক্ষ্যে একটি স্বাস্থ্যকর

জীবনধারা নিয়ে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আমার রোগীদের লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ইদানিংকালে আমার একটি ভিডিও এবং দুটি পোস্ট নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

‘প্রথমত সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আমি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম সেখানে করোনার ভ্যাক্সিন বিষয়ে কিছু তথ্য সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে আমার অসাবধানতা বশত ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ভিডিওতে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল এবং যে কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে পূর্বের ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। একইসাথে সকলকে ভ্যাক্সিন দেয়ার জন্য পরামর্শ এবং উৎসাহ দিয়েছি।’

এরপরেও কয়েকজন সম্মানিত ডাক্তার ‘ভুল বুঝে’ সরাসরি নাম উল্লেখ করে নানা ধরনের পোস্ট করেছেন উল্লেখ করে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘তন্মধ্যে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট আমি আমার পেইজে শেয়ার করেছিলাম। এছাড়া অন্য একটি জনসচেতনতামূলক পোস্টে উদাহরণ স্বরুপ একটি প্রেসক্রিপশন শেয়ার করেছিলাম। ওই প্রেস্ক্রিপশনটি যিনি লিখেছিলেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমি তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি প্রকাশ করিনি। তথাপি এই পোস্টটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে তৎক্ষণাৎ দুটি পোস্টই ডিলিট করে দেই।’

ডাক্তার সমাজের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসেবা ও মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন ডা. জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবুও আমার অনিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।’

ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে আরও যে বিষয়ে সমালোচনা এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হল আমার পরামর্শকে কিটো ডায়েট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি বহুবার নানান ভিডিওর মাধ্যমে বলেছি যে আমি শুধু ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলি না। আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অটোফেজি, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা করাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেই।

‘আমি কখনোই ঔষধবিরোধী না, আমি সব সময় বলে এসেছি জরুরি চিকিৎসায় ঔষধ অপরিহার্য। তবে লাইফস্টাইল রোগগুলো লাইফিস্টাইল মডিফাই করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও আমার রোগীদের প্রয়োজনে ঔষধ লিখছি সুতরাং ঔষধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।’

বিবৃতিতে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে তাই আপনারা আমার কোনো ভুল ধরিয়ে দিলে আমি তা শুধরে নেব। নিজের ভুলকে আমি ভুল হিসেবে গ্রহণ করে তা শুধরে নেব আর আপনাদের কাছেও আমার অনুরোধ আপনারা আমার পূর্বের ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।… আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী - সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন কিংবা মনক্ষুন্ন হয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

ডা. জাহাঙ্গীরকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া এফডিএসআর-এর মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কারোরই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ করা ও অসত্য বলার অধিকার নেই এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

‘আপনি জীবনধারা পরিবর্তন ও এর মাধ্যমে নানা রকম ক্রনিক রোগের চিকিৎসা করছেন বলে দাবি করেন। এজন্য অনলাইন ও অফলাইনে মানুষকে সুস্থ জীবন গড়ে তোলার জন্য লাইফস্টাইল বা জীবনধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন। এসবই আপাত দৃষ্টিতে চমৎকার কাজ, কিন্তু আপনার মনে রাখতে হবে আপনার পরামর্শ হতে হবে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সমর্থিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক। শুধু তাই নয় এসব পরামর্শ যাতে কারও ক্ষতির কারণ না হয় সেদিকেও আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।’

ডা. জাহাঙ্গীর কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিলেও এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক কাউন্সেলিং করেন না বলে অভিযোগ করেন ডা. শেখ আব্দুল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘তিনি (ডা. জাহাঙ্গীর) ডায়াবেটিক রোগী ও কিডনি রোগীকেও কিটো ডায়েটের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আমরা জানি। এই ডায়েটের ফলে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদি যেসব স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে সেটা নিয়ে তিনি কখনও রোগীদের অবগত করেন না। এটা ম্যালপ্র্যাকটিস। অথচ কিটো ডায়েটের জন্য রোগীর ইনফর্মড কনসেন্ট নেয়া বাধ্যতামূলক।

‘তিনি বিভিন্ন চিকিৎসকের দেয়া প্রেসক্রিপশনকে হেয় করে মন্তব্য করছেন। টিকা নিয়ে ইম্যুনোলজি বিষয়েও ভুল বক্তব্য দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর করোনা, ১৪ দিন বন্ধ ক্লাস

কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না বলেন, ‘আমরা খবর নিয়ে জেনেছি তিনার মামা-মামি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করছি, তাদের থেকেই সে ও তার মা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।’

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার একটি স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ওই শ্রেণির বাকি শিক্ষার্থীকে।

তবে স্বাভাবিক রয়েছে অন্য শ্রেণির পাঠদান। শিক্ষার্থী উপস্থিতিও আছে সন্তোষজনক।

কোটালীপাড়া উপজেলার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না নিউজবাংলাকে জানান, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির চারজন শিক্ষার্থীর ঠাণ্ডা-জ্বর। তাদের মধ্যে তিনা খানম ও তার মা করোনা পরীক্ষা করালে ১৭ সেপ্টেম্বর দুজনেরই পজিটিভ ফল আসে। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে ১৮ তারিখ থেকে ১৪ দিন ওই ক্লাসের পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

পান্না বলেন, ‘আমরা খবর নিয়ে জেনেছি ওই ছাত্রীর মামা-মামি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করছি, তাদের থেকেই তিনা ও তার মা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।

‘বাকি তিন শিক্ষার্থীরও করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের নেগেটিভ ফল এসেছে। তারপরও তাদের কিছুদিন স্কুলে না পাঠানোর জন্য অভিভাবককে বলা হয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক কাজ করছে না বলে জানান এই শিক্ষক।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ‘আক্রান্ত ওই শিক্ষার্থী ও তার মা সুস্থ আছেন। আমরা তাদের করোনার চিকিৎসা দিয়েছি। তারা হোম আইসোলেশনে আছে।’

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ফেরদাউজ খান বলে, ‘অনেকদিন পর স্কুল খুলেছে। আমরা প্রতিদিন সবাই মাস্ক পরে স্কুলে আসি। করোনা নিয়ে আমাদের কোনো ভয় নাই।’

এক শিক্ষার্থীর মা আসমা বেগম বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই না স্কুল আর বন্ধ থাকুক।’

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় বাড়ানো হয় ছুটির মেয়াদ। সর্বশেষ ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়।

এরপর আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি হিসেবে ১৯টি নির্দেশনা জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনা মেনে ১২ সেপ্টেম্বর খুলেছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অর্পিতা মন্ডল জানান, শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করানো হয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করানো হয়। এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হলেও বিদ্যালয়ের উপস্থিতির হার সন্তোষজনক।

স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সোহরাব গাজী জানান, স্কুলে আসা সব শিক্ষার্থীর শারীরিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সরকার ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী পাঠদান চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘আমরা সব স্কুল মনিটর করছি। কোনো শিক্ষার্থীর করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তার নমুনা পরীক্ষা করা হবে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে ওই শ্রেণি বা স্কুল বন্ধ করে দেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন

দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্যের ৩ হাজার নিয়োগ বাতিল

দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্যের ৩ হাজার নিয়োগ বাতিল

চিঠিতে বলা হয়েছে, যেহেতু তদন্ত প্রতিবেদনে লিখিত পরীক্ষার খাতায় অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ রয়েছে, সেহেতু  নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে অল্প সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দ্রুত পুনরায় নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক। এর আগে যারা আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে আবেদনের প্রয়োজন নেই। তারা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, টেকনিশিয়ান এবং কার্ডিওগ্রাফার পদে ২ হাজার ৮৩৯টি পদে নিয়োগ বাতিল করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব আনজুমান আরা স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ কথা জানানো হয়েছে। তবে এটি গণমাধ্যমে এসেছে মঙ্গলবার।

চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ও কার্ডিওগ্রাফার পদে নিয়োগে দুর্নীতির বিষয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কমিটি গঠন করে। কমিটি থেকে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধিদপ্তরের আওতাধীন ওই তিন পদে জনবল নিয়োগের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

এতে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে লিখিত পরীক্ষার খাতায় অস্পষ্টতা পাওয়া যাওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করে অল্প সময়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক। এর আগে যারা আবেদন করেছেন, তাদের নতুন আবেদনের প্রয়োজন নেই। তারা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগ কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এ অবস্থায় অধিদপ্তরের আওতাধীন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান ও কার্ডিওগ্রাফার পদে জনবল নিয়োগে মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করা হলো।

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ছাড়াল ১৬ হাজার

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ছাড়াল ১৬ হাজার

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬ হাজার ২২২ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৫ হাজার ১৩২ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮৩৬ ডেঙ্গু রোগী।

দেশে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৪৬ জন। চলতি বছর এ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬ হাজার ২২২ জন।

মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ২১১ জন। এ ছাড়া অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৩৫ জন।

এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬ হাজার ২২২ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৫ হাজার ১৩২ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮৩৬ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসের তিন সপ্তাহে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫ হাজার ৮৬৬।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ওই বছর ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

তবে চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন, যা গত ২০ বছরে সর্বোচ্চ।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন

শনাক্তের হার পাঁচের নিচে, নিয়ন্ত্রণের পথে দ্বিতীয় ঢেউ

শনাক্তের হার পাঁচের নিচে, নিয়ন্ত্রণের পথে দ্বিতীয় ঢেউ

এর চেয়ে কম শনাক্তের হার ছিল গত ৭ মার্চ। ওই দিন ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শনাক্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়। 

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। কমেছে শনাক্তের হার; নেমে এসেছে পাঁচ শতাংশের নিচে, ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মঙ্গলবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত এক দিনে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১ হাজার ৫৬২ জনের দেহে।

দেশে এ পর্যন্ত করোনার শনাক্ত ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ২৭৭ জনের।

এর চেয়ে কম শনাক্তের হার ছিল গত ৭ মার্চ। ওই দিন ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শনাক্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়।

দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই পরিস্থিতি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে সংক্রমণ হার আবার বাড়তে থাকে। মার্চে ৫ শতাংশের ওপরে যায় শনাক্তের হার। ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে। একপর্যায়ে শনাক্তের হার ছাড়ায় ৩০ শতাংশ।

এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন এবং জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট প্রত্যাহার করা হয় এসব বিধিনিষেধ। এর মাস পাঁচেক পর সংক্রমণ পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১০টি ল্যাবে ৩৩ হাজার ৩২৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। সোমবার এই হার ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ, যা মার্চের পর সর্বনিম্ন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৬, নারী ১০ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

মৃতদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ১, ত্রিশোর্ধ্ব ২, চল্লিশোর্ধ্ব ৩, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৫, ষাটোর্ধ্ব ৮, সত্তরোর্ধ্ব ৫ ও অশীতিপর ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৩ জন, রাজশাহী ৩, খুলনাতে ২, সিলেটে ২, ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬০৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৪ হাজার ৭০৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

সংক্রমণ পরিস্থিতি উন্নতির বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার ক্ষেত্রে আমরা দেখছি সংক্রমণের ধারাটা নিম্নগামী। করোনা যা পরীক্ষা হচ্ছে, গেল এক সপ্তাহ ধরে শনাক্তের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের ঘরে।

‘তবে এখনই আমরা বলতে পারব না, এটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এটা যদি তিন সপ্তাহ পর্যন্ত একইভাবে চলে, তাহলে আমরা বলতে পারি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।’

আশঙ্কা প্রকাশ করে লেনিন বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আবার সংক্রমণ বাড়ছে। আমাদের এখনও দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমরা মনে করছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিয়ন্ত্রণে আসার চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে আবার কিন্তু নতুন ঢেউ আসার আশঙ্কা থাকে।’

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন

সঠিক জায়গার অভাবে পিসিআর ল্যাব বসাতে দেরি

সঠিক জায়গার অভাবে পিসিআর ল্যাব বসাতে দেরি

টিবি হাসপাতালে ওয়ান স্টপ সেন্টার ও রিজিওনাল টিবি ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,‘খোলা আকাশের নিচে ল্যাব স্থাপনের জায়গা দিয়ে ছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। খোলা আকাশের নিচে কখনও ল্যাব স্থাপন করা যায় না। এ কারণে ল্যাব বসাতে দেরি হচ্ছে। এখন সঠিক জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হবে।’

কর্তৃপক্ষ সঠিক জায়গা না দেয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব বসাতে দেরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

রাজধানীর শ্যামলীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ওয়ান স্টপ সেন্টার ও রিজিওনাল টিবি ল্যাবরেটরি উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পিসিআর ল্যাব এখনও বসেনি। এতো দিন সঠিক জায়গায় দিতে পারেনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ সচিবসহ সবাইকে নিয়ে বন্দরের ভেতরে জায়গা নির্ধারণ করে আসলাম।’

তিনি বলেন, ‘খোলা আকাশের নিচে ল্যাব বসানোর জায়গা দিয়ে ছিল কর্তৃপক্ষ। খোলা আকাশের নিচে কখনও ল্যাব স্থাপন করা যায় না। এ কারণে ল্যাব বসাতে দেরি হচ্ছে। এখন সঠিক জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হবে।’

বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সকাল ১০ টার দিকে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় জাহিদ মালেক বলেন, ‘বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ কারণে সকালেই ৭টি প্রতিষ্ঠানের ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ (এসওপি) সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। তবে দেশটি এখনো সাড়া দেয়নি। আমরা তাদের অপেক্ষায় আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসওপি পেলে ল্যাবের কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হবে। তবে তাদের আবেদনের জন্য আমরা বসে না থেকে ভেতরে ভেতরে কাজ এগিয়ে নেব।’

ল্যাবের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাত প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন ও পার্কিংয়ের ছাদে জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

আরব আমিরাত সরকারের শর্ত অনুযায়ী, দেশটিতে প্রবেশ করতে হলে সঙ্গে থাকতে ৬ ঘণ্টা আগের করোনা নেগেটিভ সনদ। এ প্রেক্ষিতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছেন দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরা। মূলত এ কারণেই বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন

যক্ষ্মায় মৃত্যু কমে অর্ধেক

যক্ষ্মায় মৃত্যু কমে অর্ধেক

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি সংস্থা  এই চিকিৎসা ফ্রিতে দিচ্ছে। ঔষধ ফ্রি দেয়া হচ্ছে। ল্যাবরেটরি সার্ভিস ফ্রি দেয়া হচ্ছে। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সেবা দেয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য এই রোগী আরও কমিয়ে আনা।’

সরকারের নানামুখী উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশে যক্ষ্মা এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশে যক্ষ্মাতে মৃত্যুহার প্রায় অর্ধেক কমেছে।

রাজধানীর শ্যামলীতে ওয়ান স্টপ টিবি সার্ভিস সেন্টার ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে রিজিওনাল টিবি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি উদ্বোধনের সময় তিনি এ তথ্য দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে ২০০৪ সালের যক্ষ্মাতে ৭০ হাজারের অধিক মানুষের মৃত্যু হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নানামুখী পদক্ষেপে এটি নিয়ন্ত্রণে আসছে। এখন যক্ষ্মাতে ৪৮ শতাংশ মৃত্যু কমে আসছে। এখন প্রতি বছর ২৮ হাজার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যু কমানোর চেষ্টা করছি।’

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি সংস্থা এই চিকিৎসা ফ্রিতে দিচ্ছে। ঔষধ ফ্রি দেয়া হচ্ছে। ল্যাবরেটরি সার্ভিস ফ্রি দেয়া হচ্ছে। মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এ সেবা দেয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য এই রোগী আরও কমিয়ে আনা।’

বাংলাদেশে যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ৯০ শতাংশই চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যদি যক্ষ্মা নির্মূল করতে চাই এবং যক্ষায় মৃত্যুর হার কমাতে চাই, তাহলে প্রাথমিক সময়ে শনাক্ত সঠিকভাবে করতে হবে এবং চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে। প্রাথমিকভাবে যক্ষ্মা শনাক্ত করা সম্ভব হলে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা গেলে অধিকাংশ রোগী ভালো হয়ে ওঠে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের প্রায় সব জায়গায় বিনা মূল্যে যক্ষ্মারোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সরকার। উপজেলা কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এই চিকিৎসা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

৫ থেকে ১১ বছর বয়সীদের ওপর কার্যকর ফাইজারের টিকা

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের। তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ওপর কার্যকর ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে শিশুদের দেহে টিকাটি নিরাপদ ও কার্যকর বলে প্রমাণ মিলেছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও জার্মানির জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক যৌথ ঘোষণায় জানায় এ খবর। বলা হয়, শিগগিরই পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন চাইবে ফাইজার।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২ বছর ও এর বেশি বয়সীদের টিকাটি প্রয়োগে আগেই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন সববয়সী শিশুরা স্কুলে ফিরেছে। এমন সময়ে করোনাভাইরাসের অধিক সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার বাড়ছে বলে উদ্বিগ্ন শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অভিভাবকরা। তারা শিশুদের টিকার জন্য উদগ্রীব।

শিশুদের দেহে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলশিক্ষার্থীদের খুব অল্প পরিমাণে ডোজ দিয়েছে ফাইজার। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি ডোজের এক-তৃতীয়াংশ দিয়ে এক ডোজ দিয়েছে শিশুদের।

তাও দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পর শিশুদের দেহে কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের সমপরিমাণই করোনাবিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

ফাইজারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. বিল গ্রুবার বলেন, ‘শিশুদের জন্য নির্ধারিত স্বল্প পরিমাণের ডোজ নিরাপদ। টিকাগ্রহণে প্রাপ্তবয়স্করা যেমন কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ভুগতে পারেন, তেমনই জ্বর, চুলকানি, হাতে ব্যথার মতো সাধারণ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শিশুদের দেহেও দেখা যেতে পারে।

পাঁচ থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকাদানে জরুরি অনুমোদনের জন্য এ মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) কাছে আবেদন করবে ফাইজার। পরে যুক্তরাজ্য আর ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছেও আবেদন করবে।

পশ্চিমা দেশগুলোর বেশিরভাগই ১২ বছরের কমবয়সীদের করোনা প্রতিরোধী টিকা এখনও দিচ্ছে না। এই বয়সী শিশুদের জন্য সঠিক ডোজের মাত্রা জানার অপেক্ষায় রয়েছে দেশগুলো।

তবে ক্যারিবীয় দেশ কিউবায় দুই বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও নিজস্ব গবেষণায় আবিষ্কৃত টিকা দেয়া হচ্ছে। তিন বছরের বেশি বয়সীদের জন্য চীনও নিজস্ব টিকাদানে অনুমতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘অপচিকিৎসা’র অভিযোগ তুলে ডা. জাহাঙ্গীরকে চিঠি

শেয়ার করুন