বর্ষায় ভালো নেই কিস্তাকাঠি আবাসনের বাসিন্দারা

বর্ষায় ভালো নেই কিস্তাকাঠি আবাসনের বাসিন্দারা

ঝালকাঠির উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্প অনেক পুরোনো। তাই প্রতিটি ঘরের চাল পরিবর্তন করে নতুন টিন না দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ইতোমধ্যে সংস্কারের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

‘বইষ্যা নামলে মোর ঘরের চালের যে কয় জায়গা দিয়া পানি পরে, হেই পানি ধরার লইগ্যা মোর ঘরে হেতডি হাঁড়ি-পাতিলও নাই।’

আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন কিস্তাকাঠি আবাসনের ২২/৮ নম্বর ঘরের নাসিমা বেগম।

২১/৫ চা-বিক্রেতা নূপুর বেগম। তিনি শহর থেকে শাড়ি কিনে আবাসনে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে সংসার চালান। তার ঘরটির চাল এমনভাবে ঝাঁজরা হয়ে গেছে যে এখন ভিতর থেকে আকাশ দেখা যায়। নূপুর গত বর্ষায় অন্যত্র গিয়ে থেকেছেন। চালের টিনের যে অবস্থা তার চেয়ে তার ঘরের বেড়ার অবস্থা আরও খারাপ। যখন-তখন তার ঘরের ভিতর সাপ ঢোকে বলেও জানান তিনি।

এমন বাস্তবতায় দিনাতিপাত করছেন ঝালকাঠির উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা। নির্মাণের পর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংস্কার না করায় অধিকাংশ ঘরই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এসব ঘরের টিনের চালাগুলো মরিচা ধড়ে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। চালার ছিদ্র দিয়ে দেখা যাচ্ছে আকাশ।

এ ছাড়া বেশির ভাগ শৌচাগার ও গোসলখানা এখন ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট পাকা না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এখানকার বসবাসকারীরা।

২০০৭ সালে ঝালকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৫ একর খাসজমিতে স্থাপন করা হয় উত্তর কিস্তাকাঠির এই আবাসন প্রকল্পটি। তিনটি ব্যারাকে নির্মাণ করা হয় ৪৫০টি ঘর। যা বরাদ্দ দেয়া হয় ৪৫০টি ভূমিহীন নিম্ন আয়ের পারিবারকে। সংস্কার না হওয়ায় প্রকল্পের ৪৫০টি পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। টিনের চালা এবং বেড়ায় হওয়া ছিদ্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে পানি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন তারা।

প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য ২টি শৌচাগার ও ২টি করে গোসলখানা রয়েছে এখানে। শৌচাগারগুলো এখন ব্যবহারের অযোগ্য। পয়োনিষ্কাশনের জন্য ব্যারাকে কোনো ড্রেন না থাকায় ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি যাচ্ছে এখানকার একমাত্র পুকুরটিতে। আর দূষিত পুকুরের পানি ব্যবহার করে বাসিন্দারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

বর্ষায় ভালো নেই কিস্তাকাঠি আবাসনের বাসিন্দারা

দুই-একজন সচ্ছল বাসিন্দা ঘর মেরামত করে বসবাস করলেও নিম্ন আয়ের অসহায় বাসিন্দারা সংস্কার না করেই দিনের পর দিন কষ্ট করে কাটাচ্ছেন।

ঝালমুড়ি বিক্রেতা ৬৮ বছর বয়সী খলিল সিকদার আবাসনের ২ নম্বর ব্যারাকের ১০ নম্বর ঘরে থাকেন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে মাঠের চেয়ে আমার ঘরে পানি বেশি ওঠে। পলিথিন টাঙিয়েও বৃষ্টি ঠেকানো যায় না।’

১২ বছরে একবার প্রত্যেকটি ঘরে দুটি করে নতুন টিন দিয়ে মেরামত করা হয়েছিল। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্ন।

৩ নম্বর ব্যারাকের ২০/৫ নম্বর ঘরের বাসিন্দা শহিদ হাওলাদার বলেন, ‘পেত্তেক ঘরে ৩ বান হইরা টিনের প্রয়োজন। অথচ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে মাসে ঘরপ্রতি দু’হান হইরা টিন লাগাইয়া দেছেলে সদর উপজেলা টিএনও (ইউএনও)।’

বাসিন্দাদের দুর্দশা নিয়ে উত্তর কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্প সমবায় সমিতি-১-এর সাধারণ সম্পাদক মন্টু খলিফা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময় আবাসনের এসব সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনেক সময় বিভিন্ন কর্মকর্তা এখানে পরিদর্শনে এসে সংস্কারের কথা বলে চলে যান।’

জরাজীর্ণ ঘর তো আছেই, এ ছাড়া এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে নেই ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র। গোরস্থানও নেই। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাদের শহরে গিয়ে উঠতে হয়। আর এখানে বসবাসরত সাড়ে ৪০০ পরিবারের কোনো সদস্য মারা গেলে দাফনের জন্য যেতে হয় ছয় কিলোমিটার দূরে পৌর গোরস্থানে।

এরই মধ্যে অনেক বাসিন্দাই আশ্রয়ণ কেন্দ্র ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বাধ্য হয়ে যারা বসবাস করছেন তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। তাদের দাবি দ্রুত প্রতিটি ঘরের চালের টিন পরিবর্তন করে নতুন করে চালা তৈরি করে দেয়াসহ শৌচাগার ও গোসলখানাগুলো সংস্কার করা।

এ প্রসঙ্গে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কিস্তাকাঠি আবাসন প্রকল্প অনেক পুরোনো। তাই প্রতিটি ঘরের চাল পরিবর্তন করে নতুন টিন না দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ইতোমধ্যে সংস্কারের জন্য চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক জোহর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, প্রকল্পের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ নিরসনের জন্য যথাসাধ্য কাজ করা হবে। বিষটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ডিসি আরও বলেন, শুধু কিস্তাকাঠিই নয়, ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও যেসব আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী সবগুলো ঘরই মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের আহত নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম হামলা চালায়।’

টাঙ্গাইলের বাসাইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বাজারের পাশে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইশরাক আল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিক এবং সদস্য মো. ছাব্বির ও মো. সানী।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনূর রশিদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহত সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

স্থানীয়রা আহত চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মাথা ও হাতে দায়ের কোপের চিহ্ন আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য হাবলা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়াকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

ওসি হারুনূর রশিদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

বরিশালের গৌরনদীতে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের মন্দির ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল।

বরিশালের গৌরনদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও কিছু বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল কাজিরপাড় গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এসব হামলা হয়।

এ ঘটনায় ফেসবুকে কমেন্টকারী যুবক মহানন্দ বৈদ্যকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় লোকজন।

আটক মহানন্দ বৈদ্য কাজিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পবিত্র কোরআন নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করেন মহানন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি স্থানীয় কিছু মুসলমানের নজরে এলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসলিমরা মহানন্দকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে ওই রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির এবং জগদীশ বৈদ্যর বাড়ির হরি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ওই এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত বালা জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা মুসলমানদের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কোরআন শরিফ নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

প্রশান্ত বলেন, মন্তব্যকারী যে সম্প্রদায়েরই হোক, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

‘টাঙ্গুয়ার হাওরে বন্ধ হবে ইঞ্জিনচালিত নৌকা’

সুনামগঞ্জে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। ছবি: নিউজবাংলা

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।’

আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

তাহিরপুর উপজেলার শহীদ সিরাজ লেকে (নীলাদ্রি লেক) শনিবার দুপুরে হাওর পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান ডিসি জাহাঙ্গীর হোসেন।

ডিসি বলেন, ‘একসময় মিঠাপানির টাঙ্গুয়ার হাওরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো। তবে এখন মাছ পাওয়া যায় না, কারণ হাওরে অবাধে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলে। তাই আগামী পর্যটন মৌসুম থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ইঞ্জিনচালিত নৌকা বন্ধ করা হবে।

‘আমরা পর্যটকদের একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেখিয়ে দেব। তারা লগি-বৈঠার নৌকা নিয়ে হাওরে ঘুরতে যাবেন। এটি কার্যকর হলে হাওরবাসীদের জীবনমান উন্নত হবে। তাদের কর্মসংস্থানও বাড়বে।’

উদ্বোধন শেষে ডিসি হাওর এলাকার প্লাস্টিক ও ময়লা আবর্জনা পরিচ্ছন্ন করেন এবং বিভিন্ন নৌকায় সচেতনতামূলক বিলবোর্ড টানান।

ডিসি জাহাঙ্গীর বলেন, ‘সুনামগঞ্জ হাওর বেষ্টিত একটি জেলা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেন্দ্র করে বিগত সময়ে অনেক পর্যটক এসেছেন।

‘তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাওরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের প্লেট, ময়লা-আবর্জনা ফেলে যান, যার কারণে এখানে পরিবেশদূষণ হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে হাওরের জীববৈচিত্র্য। আমরা এগুলো আর মেনে নেব না। নৌকার মাঝি থেকে শুরু করে সব পর্যটকদের সর্তক করে দিতে চাই আমরা।’

জেলা প্রশাসক জানান, তাদের এ অভিযান চলতে থাকবে। এছাড়া হাওরের মাঝিদের তালিকা করে নিবন্ধনের আওতায় এনে মাঝিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এছাড়া এখন থেকে সব নৌকায় একটি করে ডাস্টবিন থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক অমল কর, হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা, ইউপি চেয়ারম্যান খসরুল আলমসহ অনেকে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর ও তার আশপাশের হাওর এলাকার পরিবেশদূষণ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন

পানিতে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু

পানিতে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু

আখাউড়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বাড়ির পাশে দুই ভাইবোন খেলছিল। অনেকক্ষণ তাদের না দেখে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরপর স্থানীয়রা বাড়ির সামনের পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বাড়ির সামনের পুকুরে ডুবে ভাইবোনের মৃত্যু হয়েছে।

আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের দিঘীরজান গ্রামে শনিবার বেলা ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত দুই ভাইবোন হলো সাত বছর বয়সী আয়েশা ও পাঁচ বছর বয়সী স্বাদ।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাড়ির পাশে দুই ভাইবোন খেলছিল। অনেকক্ষণ তাদের না দেখে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এরপর স্থানীয়রা বাড়ির সামনের পুকুরে নেমে তাদের উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, মরদেহগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন

মেস থেকে আটক শিবিরের দুই নেতা

মেস থেকে আটক শিবিরের দুই নেতা

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই বাসায় ৭ থেকে ১০ জন শিবিরকর্মী মেস বানিয়ে থাকত। শুক্রবার অভিযানে দুজনকে আটক করা সম্ভব হলে প্রায় ১৫ জন পালিয়ে যান। তারা জিহাদি বই বিতরণের মাধ্যমে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ষড়যন্ত্র করছিলেন।

লিফলেট ও ‘জিহাদি’ বইসহ মৌলভীবাজার শহরের একটি মাদ্রাসার শিবির সভাপতি ও সম্পাদককে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার শনিবার বেলা ১১টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। শুক্রবার মৌলভীবাজারের পূর্ব সুলতানপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক দুজন হলেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসার শিবির সভাপতি সাব্বির হোসেন তানভির ও সাধারণ সম্পাদক কুতুবউদ্দিন মো. বখতিয়ার। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই ও লিফলেট জব্দ করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ওই বাসায় ৭ থেকে ১০ জন শিবিরকর্মী মেস বানিয়ে থাকত। শুক্রবার অভিযানে দুজনকে আটক করা সম্ভব হলে প্রায় ১৫ জন পালিয়ে যান। তারা জিহাদি বই বিতরণের মাধ্যমে ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ষড়যন্ত্র করছিলেন।

তাদের কর্মকাণ্ড সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৬(২)(ই)(ঈ)/৮/৯/১০/১২ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

ঘুমন্ত স্বামীকে বালিশচাপায় হত্যার অভিযোগ

নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

নাটোরের নলডাঙ্গায় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তিকে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সালমা বেগমের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার মোমিনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

রাজ্জাক উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে। তিনি মুদি দোকানদার ছিলেন।

রাজ্জাক হত্যা মামলায় তার স্ত্রী সালমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে রাজ্জাকের বিরোধ চলে আসছিল। সালমা প্রায়ই রাজ্জাককে মারধর করতেন। একপর্যায়ে শুক্রবার রাতে রাজ্জাক ঘুমিয়ে পড়লে সালমা তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন।

ওসি জানান, শনিবার সকালে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার এবং সালমাকে গ্রেপ্তার করে।

রাজ্জাকের বাবা হামেদ আলী জানান, পুত্রবধূ সালমার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাজ্জাকের সঙ্গে তার বিরোধ লেগে থাকত। রাজ্জাক প্রায়ই সালমার মারধরের শিকার হতেন। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্জাককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হামেদ আলী বাদী হয়ে সালমাকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেছেন।

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

বড়লেখার দক্ষিণভাগ বাজারে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। এই ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দেয়া হবে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে।

তিনি বলেন, সরকার সারা দেশে ব্যাপক উন্নয়ন করছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। একটি কুচক্রী মহল সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। তবে তারা কোনো অবস্থাতেই সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বড়লেখা পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী অজিম উদ্দিন সরদার, নারীশিক্ষা একাডেমি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম হেলাল উদ্দিনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
কতজন ফিরিয়ে দিতে চান আশ্রয়ণের ঘর?
‘ইতা ঘরো আমরা থাকতাম কিলা’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ফাটল, মেরামতে দায়সারা
উপহারের ঘর ‘ভাসছে’ পানিতে
বাবুল এখন দাস হয়ে থাকবেন না মানুষের ঘরে

শেয়ার করুন