ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক

ইউপি সদস্য হত্যার ঘটনা: মামলা হয়নি, নেই আটক

সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক সদস্য টিটুর মরদেহ ঘিরে স্বজনদের আহাজারি। ছবি: নিউজবাংলা

বেতাগী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে টিটুর পরিবারকে একাধিকবার মামলা করতে বলা হলেও তারা কেউ আসেননি। খুনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

বরগুনার সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম টিটু হাওলাদারকে পিটিয়ে হত্যার চার দিনেও মামলা হয়নি।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু শুক্রবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনও আটক করা যায়নি।

কেন মামলা করেননি, এমন প্রশ্নের জবাবে টিটুর স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, পরিবারের সদস্যরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। তাই থানায় যাওয়া হয়নি।

গত সোমবার টিটুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মৃত টিটুর বাড়ি উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া এলাকায়। তিনি ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।

সেদিন তার স্বজনরা দাবি করেন, সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা পাল্টা-হামলার ঘটনা ঘটে। সেই সংঘর্ষের জেরেই এই হত্যার ঘটনা। টিটু সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফের ঘনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বায়েজিদ হোসেন (টিটুর ভাইয়ের ছেলে) বলেছেন, সোমবার সকাল ১০টার দিকে টিটু বেতাগীতে ইউপি সদস্যের সম্মানী ভাতার টাকা আনতে যান। দুপুর ১২টার দিকে বেতাগী সদর থেকে বাইকে করে সরিষামুড়ি ফিরছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি কাজিরাবাদ ইউনিয়নের কাউনিয়া পোলেরহাট ইটভাটা এলাকায় পৌঁছলে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত পথরোধ করে মারধর শুরু করে। হামলার শিকার হয়ে তিনি সড়কের পাশে খালে লাফ দেন।

খাল থেকে তুলে তার ঘাড়ের পেছনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়া হয় এবং ইট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এ সময় টিটুর সঙ্গে থাকা কয়েকজন তাকে বাঁচাতে চাইলে দুর্বৃত্তরা তাদের দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখায়। পরে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কালো মাইক্রোবাসে টিটুকে তুলে নিয়ে বরগুনার দিকে চলে যায়।

হামলাকারী কয়েকজনকে মোরটসাইকেলে ওই মাইক্রোর পেছন পেছন যেতে দেখা যায়।

কালো মাইক্রোতে বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপনের ছোট ভাই রেজাউল ইসলাম ছিলেন বলে অভিযোগ করেন বায়েজিদ।

বেলা আড়াইটার দিকে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল সড়কের ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের ছোট গৌরীচন্না এলাকায় রাস্তার পাশে টিটুকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেতাগী থানার পুলিশের সহায়তায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বেতাগী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে টিটুর পরিবারকে একাধিকবার মামলা করতে বলা হলেও তারা কেউ আসেননি। খুনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।’

দুই ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব

বেতাগীর সরিষামুড়ি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ইমাম হাসান শিপন জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। অপরদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সরিষামুড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয় শিপন জোমাদ্দারকে। মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে ইউসুফ শরীফ পরাজিত হন।

এরপর থেকেই শিপন ও ইউসুফের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে।

গত বছরের ২০ নভেম্বর বিয়ের দাওয়াত থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন শিপন। কুপিয়ে তার দুই পা কেটে ফেলা হয়।

অভিযোগ ওঠে, শরীফের উপস্থিতিতে তার তিন ছেলে এবং সমর্থকরা শিপনের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। এ ঘটনায় শরীফের ছেলেসহ ১৪ জনের নামে বেতাগী থানায় মামলা হয়।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন শিপন।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ মনোনয়নপত্র জমা দেয়া নিয়ে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী শিপন ও ইউসুফ সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় টিটু মেম্বার শরীফের পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ২৪ মার্চ ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরিষামুড়ি ইউনিয়নের ভোড়া এলাকায় রাত ১০টার দিকে রফিক বিশ্বাস নামের এক যুবককে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় টিটুকে আসামি করে মামলা করা হয়।

ইউপি নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ২০ জুন রাত ১০টার দিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফের স্ত্রীকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে জখম করা হয়।

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হোটেল কক্ষে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ

হোটেল কক্ষে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ

বিলাস হোটেলের ম্যানেজার মো. হুমায়ুন বলেন, ‘রুবেল ও নাসিমা এর আগেও আমাদের হোটেলে থেকেছে। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমাদের হোটেলে থাকেন। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানি না।’

বাগেরহাটে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে নাসিমা খাতুন নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা রবিউল ইসলাম রুবেল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ের বিলাস হোটেলে শনিবার দুপুরে ৩৪ বছরের ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নাসিমার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী দক্ষিণপাড়ায়। তিনি ঢাকার সাভারের একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন। আটক রুবেলের বাড়ি একই উপজেলার চতুরা গ্রামে। শুক্রবার বিকেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা হোটেলটিতে উঠেছিলেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে ঝিনাইদহ পলিটেকনিকে পড়ার সময় তার থেকে ১১ বছরের বড় নাসিমার সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই বছরই একটি বাড়িতে তাকে আটকে নাসিমার সঙ্গে বিয়ে দেয় তার পরিবার। পরে রুবেল নাসিমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান।

২০১৬ সালে রুবেলের বাড়ি থেকে চলে যান নাসিমা। পরে রুবেলের নামে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করলে নাসিমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে রুবেল ফের বিয়ে করেন। এরপর গত এক বছর ধরে নাসিমা ও রুবেল ফের সম্পর্কে জড়ান।

বিলাস হোটেলের ম্যানেজার মো. হুমায়ুন বলেন, ‘রুবেল ও নাসিমা এর আগেও আমাদের হোটেলে থেকেছে। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমাদের হোটেলে থাকেন। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানি না।’

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম জানান, হোটেল কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তারা নাসিমার মরদেহ পান। তার সঙ্গে থাকা যুবক রুবেলকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ম্যানেজার হুমায়ুনকেও থানায় নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ওই নারীর পরিবারের লোকদের খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন

‘বিষক্রিয়ায়’ স্বামীর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক স্ত্রী

‘বিষক্রিয়ায়’ স্বামীর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক স্ত্রী

প্রতীকী ছবি

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাজিব ও লাইজুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন রাজিব। এ সময় বোতলে থাকা বাকি কীটনাশক পান করেন লাইজু।

মাদারীপুরের রাজৈরে এক ব্যক্তি বিষ খেয়ে মারা গেছে, তার স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে শনিবার বেলা ১১টায় মারা যান তালুকদার তালুকদার রাজিব। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন গৃহবধূ লাইজু আক্তার।

রাজিবের বাড়ি রাজৈর উপজেলার পশ্চিম রাজৈর গ্রামে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাজিব ও লাইজুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন রাজিব। এ সময় বোতলে থাকা বাকি কীটনাশক পান করেন লাইজু।

প্রতিবেশীরা তাদের রাজৈর হাসপাতালে নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাদের ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানেই শনিবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজিব।

পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার জানান, ‘পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রী বিষ খেতে পারেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

মাগুরায় ‘রাজনৈতিক প্রভাবকে’ কেন্দ্র করে হতাহতদের নেয়া হয় সদর হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা।

মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নে সংঘর্ষে চার খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায় উঠে এসেছে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা দাবি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। আর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এসেছে নির্বাচনের খরচ যোগাতে চাঁদা দাবির তথ্য। দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপাতে নিজ পক্ষের লোকজনকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ওই গ্রামে বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নিবার্চনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নজরুল ফের প্রার্থী হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। নজরুলের বিরোধী পক্ষ হওয়ায় হাসানকে সমর্থন দেয় সবুর মোল্লা ও তার পক্ষ। এ নিয়ে নজরুল ও সবুর মোল্লার পক্ষে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জের ধরেই এ নজরুল ও সবুরের পক্ষের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা। এতে দুই ভাই সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা, তাদের চাচাত ভাই রহমান মোল্লা এবং মো. ইমরান নামে একজন নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই ঘটনার পর গ্রামের সবাইকে পুলিশের নজরদারিতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কেউ মামলা করেনি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মামলা না হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

নিহত তিন ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের কথায়ও উঠে এসেছে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি। এ ছাড়া সবুর মোল্লার স্বজনরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য চাওয়া চাঁদা না দেয়ায় নজরুলের পক্ষ তাদের উপর হামলা চালায়।

আর নিহত ইমরানের পরিবার জানিয়েছে, ইমরান নিজের পক্ষের হওয়ার পরও নজরুল তাকে হত্যা করে দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা তাদের।

শনিবার জগদলের দক্ষিণপাড়ায় নিহত সবুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক মানুষ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’
মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত সবুরের পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া

কবির মোল্লার মেয়ে চাদনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার বাবা আর এই বাড়িতে নেই।’

ঘটনার দিনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বাবা পাশের বাড়িতে একটা দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর আমরা সেখানে খেতে যাই। তখন বাড়ির পাশে রাস্তার উপরে বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হয়। হঠাৎ শুনলাম আমাদের বাড়ির কাইকে সামনের হাকিমের মোড়ে কারা যেন মারধর করছে।

‘তখন বাবার ফোনে একটা কল আসে। বাবা সেই ফোন পেয়ে চলে যায়। এরপর আমার বাবা আর জীবিত ফেরেননি। গলা কাটা অবস্থায় আমার বাবাকে এলাকাবাসী হাকিমের মোড় থেকে উদ্ধার করে।’

সবুর মোল্লার ভাইয়ের ছেলে মাহফুজ ইয়াসিন অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকবার ইউপি সদস্য হওয়ায় নজরুলের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গিয়েছিল। তারা এর প্রতিবাদ করায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নজরুল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুল মেম্বার আগে বিএনপি করত। ২০১২ সালেও তিনি জগদল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে নিজের দল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিশে যান। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল হাসানের অন্যতম শক্তি এই নজরুল। নজরুল ছাড়া চেয়ারম্যানের কোনো ক্ষমতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এবার পরিষদ নির্বাচনে আমাদের এলাকার ভোটার টানতে আমার চাচা সবুর মোল্লাকে বলা হয়। আমার চাচা শান্তি চান, তাই তাদের অন্যায় সহ্য করেও কিছু বলেননি।

‘এ ছাড়া নির্বাচনের খরচ যোগাতে আমার দুই চাচা নিহত সবুর ও কবির মোল্লার কাছে চার লাখ টাকা চাদা দাবি করেন নজরুল মেম্বার। তা দিতে না পারায় তারা আরও ক্ষেপে যায়। এই নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। তবে চেয়ারম্যান তাদের পক্ষ নেয়।’

সবুর মোল্লার আরেক ভাইয়ের মেয়ে মোছা. মুরশিদা বলেন, ‘২০০৩ সালে আমার বাবা জরিপ মোল্লাকে বাড়ির সামনে ভোরবেলা ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে এই নজরুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। সেই ঘটনায় নজরুল মেম্বারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

‘তবে সেই মামলার সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং নজরুল তখন মেম্বারসহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। তাই বাবার হত্যার বিচার আমরা আপসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলি।’

সবুর মোল্লার স্ত্রী মিলিনা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী এলাকায় সুনামের সাথে বিভিন্ন সালিশ বিচার করত। সবাই সম্মান করত। এটাতে তার জনপ্রিয়তা ছিল। এ জন্য বহু মানুষ আমাদের কথা মতো চলত। তাই ভোটের সময় আসলি নজরুল মেম্বার আমাদের তাদেরকে সমর্থন দিতে বলত। কিন্তু এবার তারা চাঁদাও চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ার জন্য তারা এই খুন করল। এই খুনের সাথে জড়িত এই নজরুল মেম্বার। সে ১৮ বছর আগেও আমার স্বামীর ভাই জরিপ মোল্লাকে কুপিয়ে খুন করে। একই ঘটনায় এবার আমার স্বামীসহ তার আপন ভাই ও চাচাত ভাইকে আমরা হারালাম।

‘ওদের সবার আমি ফাঁসি চাই। সেই সাথে এই চেয়ারম্যান ওই নজরুল মেম্বারকে সব রকম সুযোগ দিয়ে আসছে তারেও আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিন ভাই ছাড়া নিহত আরেকজন ইমরান। মাত্র পাঁচ মাস বিয়ে করেছিলেন ইমরান। এইচএসসি শেষ করে ইমরান স্কেভেটর মেশিন চালাতেন। ঘটনার দিন চিৎকার শুনতে পেয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল মেম্বারের বাড়ির পাশে হাকিম মোড়ে যান ইমরান। পরে বাড়ির লোকজন জানতে পারেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইমরানের পরিবার জানায়, ইমরানসহ তারা সবাই নজরুলের দল করতেন। তাদের পাশেই নজরুল মেম্বারের বাড়ি।

ইমরানকে কারা হত্যা করেছে এমন প্রশ্নে তারা জানান, নজরুল মেম্বারের লোকেরাই তাকে ধরে আমাদের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

ইমরানের ভাবি জানান, ‘নজরুল মেম্বার নিজের দোষ আড়াল করতে নিজের পক্ষের ইমরানকে খুন করিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুল সুবিধাবাদী। তিনি যে দল ক্ষমতায় সেই দল করেন। বিএনপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। এরপর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার বিপরীতে কেউ প্রার্থী হলে তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এবার নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। তিনিও আওয়ামী লীগ করেন। একই গ্রামের পাশের ওয়ার্ডের সবুর মোল্লা ও তার পরিবার হাসানকে সমর্থন দেয়ায় নজরুল মেম্বার হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

শনিবার সকালে নজরুল মেম্বারের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাড়ি থেকে ফ্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র ভ্যানে করে সরাতে দেখা যায়। পরে পুলিশ বাধা দিলে ভ্যানচালক চলে যান।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই নিজেদের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এটা হতে পারে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী দেওয়া নিয়ে সেটা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, আমরা এই খুনের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি। গতকালের পর থেকে এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মামলা হলে সে মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেব।

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন

ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল

ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার লাকসামের গোবিন্দপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজাম উদ্দিন শামীম। ছবি: সংগৃহীত

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তিনি বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা মেম্বার প্রার্থী হওয়ার জন্য বিভিন্ন নেতাদের টাকা দিয়েছেন তারা টাকা ফিরিয়ে নেন। না হয় মেম্বার প্রার্থী হওয়া এবং টাকা উভয়ই হারিয়ে স্ট্রোক করে মারা যাবেন।

নিজ দলের নেতাদের নিয়ে বিষোদগার করা ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজাম উদ্দিন শামীম।

শামীম কুমিল্লা লাকসামের গোবিন্দপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী। তিনি লাকসাম উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি লাকসামের আজগরা ইউনিয়নে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি মনোনয়ন বিষয়ে দলীয় নেতাদের বিষোদগার করেন।

তিনি বলেন, ‘অ্যাডভোকেট ইউনুস ভুইয়া সাহেব, রফিকুল ইসলাম হীরা, অধ্যাপক আবুল খায়ের একশ পারসেন্ট গ্যারান্টি দিতেছে না। টেকাগুলো কিন্তু পরে লইতেন হাইত্তেন ন্ হেতাগুত্তুন। কইলাম আমনেরারে। আইজকা যারা যারা দিছেন হাতে পায়ে ধরি টাকা গুলো নিয়ে নেন অন্তত। মেম্বারিতো হাইতে ন্ হাইতেন ন্ টেহাডিও মাইর। তাইলে দুইডা একসাথে হারাইলেতো আপনি স্ট্রোক করি মরি যাইবেন।’

(আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা মেম্বার প্রার্থী হওয়ার জন্য বিভিন্ন নেতাদের টাকা দিয়েছেন তারা টাকা ফিরিয়ে নেন। না হয় মেম্বার প্রার্থী হওয়া এবং টাকা উভয়ই হারিয়ে স্ট্রোক করে মারা যাবেন।)

স্থানীয় সূত্র জানাায়, দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিব্রত হয়েছেন দলীয় নেতারা।

ভিডিওর বিষয়ে শামীম বলেন, ‘এগুলো বহু আগেই শেষ হইয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলন করে শেষ হইয়া গেছে। আমরা মন্ত্রীর নীতি নির্ধারক। আমাদের কাছে টাকা দিয়েও লাভ হবে না। তাই বলছি। টাকা নিয়ে ঘুরলে লাভ হবে না। এগুলো বলে সর্তক করেছি। আমার ভিডিও বক্তব্যও পুরোটা আসেনি। একজন লোক আমার বিরুদ্ধে লাগছে।’

এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ভূইয়া বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সঙ্গে বসেছি। শামীম তার ভুল বুঝতে পারেছেন। তবে আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতাম। দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় আমরা তাকে সতর্ক করেছি। ভবিষ্যতে যেন এমন না হয়।’

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

বেনাপোল বন্দরে ফের শুরু আমদানি-রপ্তানি

চার দিন বন্ধ থাকার পর শনিবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি

দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল ও পেট্রোপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়েছে।

শনিবার সকাল থেকেই পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে দুই বন্দর এলাকাতেই।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান।

তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় ১২ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

ভারতের পেট্রাপোল স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে এই চার দিন বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরে পণ্য খালাস এবং চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচলও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান বেনপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সুজন।

বেনাপোল বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর। বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব ৮৪ কিলোমিটার। ভারত থেকে বেনাপোল বন্দর হয়ে পণ্য বাংলাদেশে আসতে সময় কম লাগায় আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়েই অধিকাংশ পণ্য আমদানি করেন।

গার্মেন্টস শিল্পের কাঁচামাল, ওষুধের কাঁচামাল, কেমিক্যাল, মোটর পার্টসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়।

বাংলাদেশ থেকেও পাট ও পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, সয়াবিনজাতীয় পণ্য, ভুসিসহ বিভিন্ন পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়।

চার দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই পাশের বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয় পণ্যজট। শনিবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে এটি কমতে শুরু করে।

বেনাপোল কাস্টমস কার্গো কর্মকর্তা সাইফুর রহমান মামুন জানান, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৮৫টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক বেনাপোল হয়ে দেশে এসেছে। এ সময়ে ৩৫টি ট্রাক রপ্তানি পণ্য নিয়ে পেট্রপোল বন্দর হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ, আহত ৪

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের আহত নেতা-কর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম হামলা চালায়।’

টাঙ্গাইলের বাসাইলে আধিপত্য বিস্তারের জেরে ছাত্রলীগের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের বাজারের পাশে শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন হাবলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইশরাক আল হোসাইন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সৌমিক এবং সদস্য মো. ছাব্বির ও মো. সানী।

বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনূর রশিদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আহত সৌমিকের অভিযোগ, ‘হাবলা ইউনিয়ন বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বেশ কিছুদিন ধরে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে। আজকে আমরা মোটরসাইকেলে আসার সময় ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদলের নাজমুল, কাউসার, আলী আকবর, সিয়াম আমাদের ওপর হামলা চালায়।’

স্থানীয়রা আহত চারজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব জানান, আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মাথা ও হাতে দায়ের কোপের চিহ্ন আছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য হাবলা ইউনিয়ন বিএনপির ২ নম্বর সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর মিয়াকে ফোন দেয়া হলে তিনি ধরেননি।

ওসি হারুনূর রশিদ বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

ফেসবুক কমেন্টের জেরে মন্দির ও বাড়িতে হামলা

বরিশালের গৌরনদীতে ফেসবুকে কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের মন্দির ও বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল।

বরিশালের গৌরনদীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করার জেরে হিন্দুদের তিনটি মন্দির ও কিছু বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল কাজিরপাড় গ্রামে শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে এসব হামলা হয়।

এ ঘটনায় ফেসবুকে কমেন্টকারী যুবক মহানন্দ বৈদ্যকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে স্থানীয় লোকজন।

আটক মহানন্দ বৈদ্য কাজিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পবিত্র কোরআন নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে ‘আপত্তিকর’ কমেন্ট করেন মহানন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি স্থানীয় কিছু মুসলমানের নজরে এলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসলিমরা মহানন্দকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে ওই রাতেই স্থানীয় কয়েকজন মিলে ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, হরি মন্দির এবং জগদীশ বৈদ্যর বাড়ির হরি মন্দিরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় ওই এলাকার হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধুরিয়াইল কাজিরপাড় সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুভাষ বৈদ্য জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে একদল উত্তেজিত জনতা লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে মন্দিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রশান্ত বালা জানান, দীর্ঘদিন থেকে তারা মুসলমানদের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। কোরআন শরিফ নিয়ে ফেসবুকের একটি পোস্টে আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর হামলা হয়েছে।

প্রশান্ত বলেন, মন্তব্যকারী যে সম্প্রদায়েরই হোক, তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন জানান, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে যায়। হামলাকারীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালালেও মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ এর আগেই প্রতিমা বিসর্জন করা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বরগুনার আলোচিত সেই সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
‘নির্বাচনকেন্দ্রিক’ বিরোধে কুপিয়ে হত্যা
আধিপত্য বিস্তারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, মায়ের মামলা
স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘরে তালা দিয়ে পালালেন স্বামী
দুর্বৃত্তদের হাতে কিশোরী খুন

শেয়ার করুন