রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি

হাশেম ফুডের কারখানার ছয়তলায় তল্লাশি শুরু

হাশেম ফুডের কারখানার ছয়তলায় তল্লাশি শুরু

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আগুনে ভবনের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের হাশেম ফুড লিমিটেড কারখানার ছয়তলার আগুন নেভানোর পর সেখানে তল্লাশি শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস। সেখানে আর কোনো মরদেহ আছে কি না, তা খুঁজে দেখছেন দমকলবাহিনীর কর্মীরা।

ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিন মনি শারমা এই তথ্যগুলো জানিয়েছেন।

রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকার ওই কারখানায় শনিবার সকালে গিয়ে দেখা গেছে, এখনও ভবন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভবনে ছয়তলার ভেতরে আনাচকানাচে পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন দমকল কর্মীরা।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আগুনে ভবনের মধ্যে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। আমরা উদ্ধারকাজ শেষে ভবনের বিষয়ে জানাব।’

আগুনে সবশেষ ৫২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ৪৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে। রূপগঞ্জের ইউএস বাংলা হাসপাতালে দুইজন ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

৫২ জনের মৃত্যুর নিশ্চিত তথ্য মিলেছে, কিন্তু কতজনের খোঁজ নেই, সেটি নিশ্চিত নয় এখনও। এর মধ্যে একটি বেসরকারি সংস্থা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে একটি তালিকা করেছে, যাতে ৫১ জনের নাম রয়েছে।

হাশেম ফুডের কারখানার ছয়তলায় তল্লাশি শুরু

তবে নিখোঁজ এই ৫১ জনই নাকি আরও নাম আছে, সেটি নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো সূত্র নেই।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে না তাদের কতজন শ্রমিক ছিল, কতজন উপস্থিত ছিল দুর্ঘটনার আগে। ফায়ার সার্ভিসও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নয়।

আগুন নেভাতে এত সময় কেন

প্লাস্টিক দানা, বোতল, কর্ক, পলিথিন, কার্টন, মবিল ও কেমিক্যালভর্তি ছিল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের সজীব গ্রুপের প্রতিষ্ঠান হাশেম ফুডের কারখানাটি। বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য থাকায় আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের বেগ পেতে হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে কারখানাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন কেমিক্যালের ড্রাম, কনটেইনার ও প্লাস্টিকের বোতল।

কারখানাটিতে জুস, লাচ্ছি, সেমাইসহ বিভিন্ন পণ্য বোতলজাত ও প্যাকেজিং করা হতো। এসব পণ্যের গায়ে লেবেল লাগানো হতো, পলি করা হতো। প্যাকেট করা হতো কারখানার ভেতরে।

হাশেম ফুডের কারখানার ছয়তলায় তল্লাশি শুরু

ছয়তলা ভবনটিতে সজীব গ্রুপের বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন হতো।

কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিচতলায় বিভিন্ন পণ্যের কার্টন রাখা হতো। এক পাশে ছিল নুডলস ও মেকারনি তৈরির সেকশন। দ্বিতীয় তলায় টোস্ট, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারিপণ্য তৈরির কাজ চলত। তৃতীয় তলায় ছিল লাচ্ছা সেমাই ও বিভিন্ন জুস তৈরির মেশিন। চতুর্থ তলায় চকলেট, ললিপপ, চকোচকোসহ আরও কয়েকটি খাদ্যপণ্য তৈরির মেশিন।

পঞ্চম তলায় চানাচুর ও ষষ্ঠ তলায় ছিল গুদাম। এ ছাড়া ছয়তলা ভবনের ছাদের একটি অংশে ছিল আরও একটি গুদাম।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান বলেন, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে ফায়ার সার্ভিস।

যেভাবে প্রাণহানি

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ভুলতার কর্ণগোপ এলাকায় হাশেম ফুড বেভারেজ কোম্পানির কার্টন কারখানায় আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।

হাশেম ফুডের কারখানার ছয়তলায় তল্লাশি শুরু

কারখানার বেঁচে যাওয়া শ্রমিক কিশোর ফাতেমা জানিয়েছে, সে তিনতলা থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছে। আর চতুর্থ তলায় তালা দিয়ে রাখার কারণে অন্যরা বাঁচতে পারেনি।

ফায়ার সার্ভিসের ভাষ্য তার এই বক্তব্যকে সমর্থন করে। বাহিনীটি জানায়, চারতলার সিঁড়ির মুখ থেকে ৪০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাততলা ভবনটির নিচতলায় কার্টন ফ্যাক্টরি থেকে আগুনের সূত্রপাত। আগুনের লেলিহান শিখা একপর্যায়ে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন:
বিচার হয় না, এমনকি মামলাতেও বাধা
২৮ ঘণ্টা পরও নেভেনি আগুন
এখনও নিখোঁজ ৫১
মালিকের গাফিলতির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা
শিশুদের দিয়ে চলছিল কারখানাটি

শেয়ার করুন

মন্তব্য