চার হাত ঘুরে মন্ত্রীর ফোন বিক্রি ৩০ হাজারে

চার হাত ঘুরে মন্ত্রীর ফোন বিক্রি ৩০ হাজারে

ছিনতাইকারী সন্দেহে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কাজের কাজ ফোনটিই পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ এটুকু জানতে পেরেছে যে ফোনটি শেষ পর্যন্ত হাতিরপুলের একটি দোকান থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

রাজধানীর বিজয় সরণিতে গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় ছোঁ মেরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের যে মোবাইল ফোনটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেটি উদ্ধার না হলেও চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে।

যিনি ফোনটি ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, তাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ। তিনি ফোনটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন একজনের কাছে। এরপর আরও দুই হাত ঘুরে সেটি ওঠে হাতিরপুলের একটি দোকানে। সেখান থেকে একজন ‘আইফোন-এক্স’ মডেলের ফোনটি কিনেছেন ৩০ হাজার টাকায়।

তবে যিনি মোবাইলটি কিনেছেন তাকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ওই দোকানি তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারেননি।

আর ফোনটি কিনলেও সেই ব্যক্তি সেটি চালু করেননি। পুলিশ ধারণা করছে, ফোনটি মন্ত্রীর, সেটি হয়তো তিনি জেনে গেছেন। তাই এটি চালু করছেন না।

গত ৩০ মে সন্ধ্যায় বিজয় সরণি এলাকায় যানজটে আটকা থাকা অবস্থায় মন্ত্রীর ফোনটি কেড়ে নিয়ে যান কেউ একজন। এরপর এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাফরুল থানায় মামলা করা হয়।

মোবাইল ফোন ছিনতাই প্রসঙ্গে ২ জুন পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমার ফোনটি চুরি হয়েছে। গাড়িতে বসে কথা বলছিলাম, ছিনতাইকারী ফোনটি নিয়ে গেছে। গানম্যান চেষ্টা করেও ধরতে পারেনি।’

এরপর থেকে একের পর এক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আটক করা হয়েছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের। ছিনতাইকারী সন্দেহে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কাজের কাজ ফোনটিই পাওয়া যাচ্ছে না।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক ফরিদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মোবাইল ফোনটি ছিনতাই হওয়ার পর কীভাবে কার কাছে গেছে, তা জানতে পেরেছি। কিন্তু একটি জায়গায় আমরা আটকে আছি। আশা করি, সেটারও সমাধান করে ফোনটি উদ্ধার করতে পারব।’

মামলাটির তদন্তের সঙ্গে জড়িত পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, সর্বশেষ ৩০ হাজার টাকায় হাতিরপুলে একটি দোকান থেকে মন্ত্রীর ফোনটি বিক্রি হয়েছে। তবে যার কাছে বিক্রি হয়েছে, তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ওই দোকানির কাছে সেই ব্যক্তির কোনো তথ্য নেই।

মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যিনি সর্বশেষ ফোনটি কিনেছেন, তিনি তো চোর নন। কিন্তু সম্ভবত বিষয়টি জানতে পেরে ভয়ে ফোনটি বন্ধ করে রেখেছেন।’

আরও পড়ুন:
ছিনতাই হওয়া ফোন নিয়ে আশা ছাড়ছেন না পরিকল্পনামন্ত্রী
এক সপ্তাহেও ফোন ফিরে পেলেন না পরিকল্পনামন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য