কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক

কারাগারে থেকে জুম মিটিং: আদালতের নজরে আনবে দুদক

কারাগারের অধীনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে জুম মিটিং করার অভিযোগ উঠেছে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনের বিরুদ্ধে। ফাইল ছবি

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, ‘যদিও তিনি (রফিকুল আমিন) আমার (দুদক) মামলার আসামি। কাজেই আমরা অপেক্ষা করছি দেখি কারা কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়। তারা (কারা কর্তৃপক্ষ) তদন্ত করে এ ঘটনায় চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এটা কঠোর পদক্ষেপ না। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, প্রয়োজনে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।’

কেন্দ্রীয় কারাগারের অধীনে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমিনের ব্যবসা সংক্রান্ত জুম মিটিং করার বিষয়টি প্রয়োজনে আদালতের নজরে আনবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শনিবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দেখুন, দুদকের মামলায় উনি (রফিকুল আমিন) বিচারাধীন। অনেকবার তার জামিনের দরখাস্ত আপিল বিভাগ পর্যন্ত খারিজ হয়েছে। এখন বিষয়টি তো কারা কর্তৃপক্ষের আওতাধানী। বিচারাধীন হিসেবে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। আর কারা কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ঘটনার পর পরবর্তী স্টেপ (পদক্ষেপ) নেয়ার দায়িত্ব তাদের। তারা কী পদক্ষেপ নেবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

খুরশিদ আলম বলেন, ‘যদিও তিনি (রফিকুল আমিন) আমার (দুদক) মামলার আসামি। কাজেই আমরা অপেক্ষা করছি দেখি কারা কর্তপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়। তারা (কারা কর্তৃপক্ষ) তদন্ত করে এ ঘটনায় চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। এটা কঠোর পদক্ষেপ না। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, প্রয়োজনে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।’

জুম মিটিংয়ের জেরে রফিকুল আমিনকে এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে শনিবার নিউজবাংলাকে কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, ‘আজ বিকেলে তাকে আমরা কারাগারে এনেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ছেড়েছেন, তাই আমরা তাকে নিয়ে এসেছি।’

রফিকুলের শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, কিছুটা সুস্থ না হলে তো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়ত না। সেটা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবেন।

কারাগারে রফিকুল আমিনকে কোথায় রাখা হয়েছে জানতে চাইলে সুভাষ কুমার ঘোষ বলেন, ‘কারাগারে তিনি ডিভিশন ওয়ার্ডে আছেন।’

অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন রফিকুল। সেখানে থেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি তার দুটি জুম মিটিংয়ের তথ্য ফাঁস হয় গণমাধ্যমে। জানা যায়, গত মে ও জুন মাসে রফিকুল দুটি অনলাইন মিটিংয়ে ডেসটিনির মতোই নতুন আরেকটি এমএলএম ব্যবসা চালুর বিষয়ে আলোচনা করছেন। এরই মধ্যে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন। আর জন্য ১ হাজার তিনশ মার্কেটিং এজেন্ট নিয়োগের কথাও বলেছেন।

২০১২ সালের ৩১ জুলাই রফিকুল আমিন এবং ডেসটিনির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা হয়। এ মামলায় ওই বছরের ১১ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন তিনি।

তাদের বিরুদ্ধে চার হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ৯৬ কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট মোট ৫৩ আসামির বিচার শুরু হয়।ে

এদিকে অর্থ পাচারের মামলায় গত বছর ২২ জুলাই জামিন চাইলে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমিনকে জামিন দেয়নি হাইকোর্ট।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে নিয়মিত কোর্ট না খোলা পর্যন্ত আবেদনটি মুলতবি করে রাখে।

দুই মামলায় পৃথক চারটি আবেদনে মেডিকেল গ্রাউণ্ডে জামিন চেয়েছিলেন ডেসটিনির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আদালত তাদের জামিন না দিয়ে নিয়মতি কোর্ট খোলা পর্যন্ত মুলতবি করে।একই সঙ্গে ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কীভাবে দীর্ঘ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকছেন সে বিষয়ে দুদককে আবেদন করতেও পরামর্শ দেয় আদালত। এরপর দুদক আর সে আবেদন করেনি।

আরও পড়ুন:
বন্দি থেকে জুম মিটিং: ডেসটিনির এমডি রফিকুল ফের কারাগারে
কারাগারে ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং: ৪ কারারক্ষী বরখাস্ত
বন্দি ডেসটিনি এমডির জুম মিটিং, প্রধান কারারক্ষীসহ প্রত্যাহার ৮

শেয়ার করুন

মন্তব্য