কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

১৯ নভেম্বর ফেনী কারাগারে জেল সুপারের কার্যালয়ে আসামি ও বাদীর বিয়ে হয়। চার দেয়ালের মধ্যে সেদিনের সে বিয়ে ছিল অন্যরকম বিয়ে। মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, বর-কনে পক্ষ, সবাই ছিল। দেনমোহর ধরা হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, এই দোয়া করেন সবাই।

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে বিয়ে করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া ফেনীর জহিরুল ইসলাম জিয়া ভালো আছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনও ভালো চলছে। সম্প্রতি দুই পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০২০ সালের ২৭ মে ভোরে একই ঘরে অবস্থান করায় জিয়া ও অভিযোগকারী মেয়েটিকে আটক করা হয়। এলাকাবাসী দুজনকে বিয়ে দিতে চাইলে জিয়া ও তার বাবা আবু সুফিয়ান মেম্বার রাজি হননি। মেয়েটি সোনাগাজী থানায় ধর্ষণের মামলা করলে পুলিশ ওই দিনই জিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

বিচারিক আদালতে ব্যর্থ হয়ে জামিনের জন্য হাইকোর্টে যান জিয়ার আইনজীবীরা। ১ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ আদেশ দেয়, জিয়া ওই মেয়েকে বিয়ে করলে জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। আসামিপক্ষ এতে রাজি হলে বিয়ের আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয় ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষকে।

১৯ নভেম্বর ফেনী কারাগারে জেল সুপারের কার্যালয়ে আসামি ও বাদীর বিয়ে হয়। চার দেয়ালের মধ্যে সেদিনের সে বিয়ে ছিল অন্যরকম বিয়ে। মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, বর-কনে পক্ষ, সবাই ছিল। দেনমোহর ধরা হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, এই দোয়া করেন সবাই।

বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানোর পর ফেনী কারাগার থেকে মুক্ত হন জিয়া। তারপর থেকে চলছে তাদের দাম্পত্য জীবন।

ফেনীর সোনাগাজীর ৮ নম্বর চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম চর দরবেশ গ্রামের বাসিন্দা জিয়া। তার স্ত্রীও একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর দুই বাড়িতেই ছোট পরিসরে খাওয়া-দাওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো মিলমিশ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিরোধের খবর শোনা যায়নি।

কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জমান ভুট্টু বলেন, ‘তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো চলছে। কোনো পক্ষের কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। মেয়ে পক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোনো ধরনের ঝামেলা হলে আমাকে জানাতে বলেছি। আমি তাদের দাম্পত্য জীবনের সুখ কামনা করি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘তাদের বাড়ি আমাদের পাশে। কোনো ঝামেলার কথা শুনিনি। জিয়া সম্ভবত ঢাকায় চাকরি করে। এখন বাড়িতে আছে। যেহেতু আদালত-পুলিশ, এলাকার সব লোকজন তাদের ব্যাপারে জানে, সে কারণে আশা করি ঝামেলা হবে না। হলেও তারা নিজেরা নিজেরা মিটিয়ে ফেলবে।’

জিয়ার বাবা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নাই। জিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে লোকজন আসে। আমরা মেহমানদারি করি। দুপক্ষের আশা-যাওয়া ঠিকঠাক চলছে। আমার ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। কয়েক দিন পরপর বাড়িতে আসে। এখনও বাড়িতে আছে।’

জিয়া বলেন, ‘শুরুতে কিছু ভুল-বোঝাবুঝির কারণে আমাকে জেলে যেতে হয়। আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই। আজীবনও আশা করি হবে না। আমাদের দাম্পত্য জীবন ভালো কাটার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাই। আমার স্ত্রীও আমার জন্য দোয়া করে।’

আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যাবে, এমন প্রশ্নে জিয়া বলেন, ‘ও কথা বলতে চাইবে না।’

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি চাই আমার মেয়ের সুখ-শান্তি। আমি আমার মেয়েকে দেখতে যাই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বঙ্গবন্ধুর সহচর গোলাম হাসনায়েন আর নেই

বঙ্গবন্ধুর সহচর গোলাম হাসনায়েন আর নেই

একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হাসনায়েন।

গোলাম হাসনায়েন উল্লাপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষে তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর গোলাম হাসনায়েন আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

একুশে পদক প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক গণপরিষদ সদস্য, ৭২ এর সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য পাবনার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম হাসনায়েন মারা গেছেন।

শনিবার ভোরে শহরের পৌর এলাকার নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। গোলাম হাসনায়েন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল তার মৃত্যুর তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেলে ভোকেশনাল স্কুল মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

গোলাম হাসনায়েন উল্লাপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন। আইন বিষয়ে লেখাপড়া শেষে তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর গোলাম হাসনায়েন আজীবন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন।

ভাষা আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে জাতীয় নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে উল্লাপাড়া আসন থেকে সদস্য (এমসিএ) নির্বাচিত হন।

তিনি ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র সংগ্রহসহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে ১৯৭২ সালের দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।

আজীবন পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২০২১ সাল তাকে একুশে পদক দেয়া হয়।

গোলাম হাসনায়েনের মৃত্যুতে পাবনার মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শেয়ার করুন

রোস্তম আলীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রোস্তম আলীর ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

রোস্তম আলী মিয়া

রোস্তম আলী মিয়া ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক। তার সন্তানদের মধ্যে একজন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। একজন জেলা ও দায়রা জজ এবং আরেকজন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কর্মরত।

বাংলাদেশ সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক রোস্তম আলী মিয়ার একাদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

এ উপলক্ষে তার নামে প্রতিষ্ঠিত চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল রোস্তম আলী ডিগ্রি কলেজে স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

রোস্তম আলীর সন্তানদের মধ্যে ড. সেলিম মাহমুদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন ট্রাইব্যুনানের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

এক ছেলে আ ন ম জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব পালন করছেন জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে। আরেক ছেলে সালাউদ্দিন মাহমুদ বিসিএস তথ্য ক্যাডারে কর্মকর্তা। বাংলাদেশ বেতারের উপ-নিয়ন্ত্রক (বার্তা) সালাউদ্দিন বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে কর্মরত।

রোস্তম আলীর জন্য তার পরিবারের সদস্যরা শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও আত্নীয়স্বজনের কাছে তাঁর জন্য দোয়া কামনা করছেন।

শেয়ার করুন

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শান্তি প্রতিষ্ঠার দায় সবার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।’

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হয়। শান্তি সরকারের একার পক্ষে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

শনিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বিশ্ব শান্তি সম্মেলন’ প্যানেল আলোচনা শুরুর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এর উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মেলনে ৫০টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।

এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের ৬০ জন প্রতিনিধি ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন। আর বাকি ৪০ জন সশরীরে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রোববার বিকেলে এ সম্মেলন শেষ হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মেয়ে, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শান্তির জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দেশে ও বিদেশে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছেন। এই যে শান্তির প্রতি তারও অগাধ বিশ্বাস, এটি আমরা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।

‘জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী যে শান্তির সংস্কৃতির ধারণা দিয়েছেন, সম্মেলন থেকে আমরা পৃথিবীতে শান্তির বার্তা দিতে চাই। আমরা চাই, এই বার্তা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ুক। পৃথিবীতে টেকসই শান্তির জন্য প্রয়োজন একে-অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, সহনশীলতা- এগুলো আমরা তুলে ধরব।’

শেয়ার করুন

ক্যাম্প থেকে অস্ত্র, ইয়াবাসহ যুবক আটক

ক্যাম্প থেকে অস্ত্র, ইয়াবাসহ যুবক আটক

কামরান হোসেন জানান, রবিনের কাছ থেকে একটি রিভলবার, চারটি গুলি ও ২ হাসার ২৭২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা শেষে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের রোহিঙ্গা শিবির থেকে অস্ত্র, ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার ভোররাতে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে রবিন লেতটিয়াকে আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কামরান হোসেন।

আটক রবিন টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের হরিণখোলা এলাকার ক্যাচচিং চাকমার ছেলে।

কামরান হোসেন আরও জানান, রবিনের কাছ থেকে একটি রিভলবার, চারটি গুলি ও ২ হাসার ২৭২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা শেষে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হবে।

শেয়ার করুন

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

রামপুরার শিক্ষার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক উসকানি: কাদের

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘তারপরেও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনি রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে কিছুদিন ধরে রাজধানীর রামপুরায় আন্দোলন করতে থাকা শিক্ষার্থীদের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধন আছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে শনিবার সকালে সড়ক নিরাপত্তা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক দল থেকে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়া হয়। সেটার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এর ভিডিও ফুটেজ আছে। এটা একটা রাজনৈতিক দলের মহানগরের মহিলা নেত্রী রামপুরায় রাস্তায় নেমে ছাত্রছাত্রীদের উসকানি দিচ্ছেন, স্কুলের ড্রেস পরে।

‘তারপরেও এই আন্দোলনটা একটি বিশেষ এলাকায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। এটা রামপুরা এলাকাতেই শুধু হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীরা যখন আন্দোলন শেষে লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করছে তখনি রাজনৈতিক উসকানি দিচ্ছে একটি মহল।’

বাস ভাড়া অর্ধেক করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাঝে ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের বাসের ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক ছাত্রের প্রাণ যায়।

এর আগে ২৪ নভেম্বর রাজধানীর গুলিস্তানে সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন নটর ডেম কলেজের এক ছাত্র।

এসব ঘটনার পর নানা দাবিতে প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পেছনে যারা জড়িত, তাদের বিচারের পাশাপাশি অন্যতম দাবি ছিল বাস ভাড়া অর্ধেক করা।

এমন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা। পরের দিন থেকেই ঢাকা শহরে ছাত্রদের জন্য কার্যকর করা হয় হাফ পাস।

হাফ পাসের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে হাফ পাস কার্যকর হবে শুধু রাজধানীতে, হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই ছবিসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এবং সরকারি ছুটির দিনগুলোয় কোনো হাফ পাস থাকবে না।

তবে রাস্তা ছাড়ছেন না রামপুরার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনই দুপুর ১২টা থেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার জন্য নিয়ম করে রামপুরার ব্রিজে অবস্থান নেন তারা। এতে বাড্ডা-এয়ারপোর্ট রোডে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

রাস্তা ছেড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দিলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্যান্ডামিকের কারণে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। অনেক ক্ষতি হয়েছে তাদের। তারা এখন পড়াশোনায় মননিবেশ করুক এটাই আমাদের চাওয়া।’

শেয়ার করুন

আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

আশ্বাসে টঙ্গীতে মহাসড়ক ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

সারা দেশে গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিতের দাবিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে সড়ক ছাড়েন তারা।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ গেইট এলাকায় সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরমুখী সড়ক অবরোধ করেন।

এসময় ওই সড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বেলা ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেন। তবে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কের পাশেই অবস্থান নিয়ে হাফ ভাড়ার দাবিতে বিক্ষোভ করে। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকেও সরে যায় শিক্ষার্থীরা।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সারা দেশের গণপরিবহনে হাফ ভাড়া নিশ্চিত করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। আমরা তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছি বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সমাধান করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ঢাকার শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস, অথচ সারা দেশের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ ভাড়া দেবে, এটা হতে পারে না। এক দেশে দুই নীতি কেন? ঢাকার মতো সারা দেশেও গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকর করতে হবে।’

রাজধানী ঢাকায় নিরাপদ সড়ক, গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার দাবিতে দীর্ঘদিন থেকেই বিক্ষোভ চলছে। দাবির মুখে সরকার বিটিআরসির সব বাসে হাফ ভাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার কথা জানায়।

পরে বাস মালিক সমিতিও রাজধানীতে বাসে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখানোসহ কয়েকটি শর্তে হাফ ভাড়া কার্যকর করে। তবে সারা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যই হাফ ভাড়া দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে তারপর থেকেই বিক্ষোভ চলছে।

শেয়ার করুন

কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু: ফের তদন্ত কমিটি

কুয়েটে শিক্ষকের মৃত্যু: ফের তদন্ত কমিটি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কুয়েটের সহকারী রেজিস্ট্রার আক্কাস আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগের কমিটি অপারগতা প্রকাশ করায় তা বাতিল করে শুক্রবার রাতে নতুন কমিটি করা হয়েছে।’

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) শিক্ষক অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কুয়েটের সিন্ডিকেট সভায় শুক্রবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় কমিটি গঠন করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর গঠিত প্রথম তদন্ত কমিটিটি বাতিল করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুয়েটের সহকারী রেজিস্ট্রার আক্কাস আলী। তিনি বলেন বলেন, ‘আগের কমিটি অপারগতা প্রকাশ করায় তা বাতিল করে শুক্রবার রাতে নতুন এই কমিটি করা হয়েছে।’

নতুন কমিটিতে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক আলহাজ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে কুয়েটের অধ্যাপক খন্দকার মাহবুব, খুলনা জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের একজন প্রতিনিধিকে।

কমিটিকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়।

কিছু ছাত্রের কারণে এই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি তুলে বৃহস্পতিবার প্রতিবাদ র‍্যালি ও সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্রের অপমান, অবরুদ্ধ ও মানসিক নির্যাতনে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যু হয়েছে।

সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষকরা সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন বলেও ঘোষণা দেন তারা।

এই প্রেক্ষাপটে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা ই‌তিম‌ধ্যে হল ছে‌ড়ে‌ছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতা‌য়েন র‌য়ে‌ছে।

শেয়ার করুন