কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

১৯ নভেম্বর ফেনী কারাগারে জেল সুপারের কার্যালয়ে আসামি ও বাদীর বিয়ে হয়। চার দেয়ালের মধ্যে সেদিনের সে বিয়ে ছিল অন্যরকম বিয়ে। মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, বর-কনে পক্ষ, সবাই ছিল। দেনমোহর ধরা হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, এই দোয়া করেন সবাই।

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে বিয়ে করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া ফেনীর জহিরুল ইসলাম জিয়া ভালো আছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনও ভালো চলছে। সম্প্রতি দুই পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০২০ সালের ২৭ মে ভোরে একই ঘরে অবস্থান করায় জিয়া ও অভিযোগকারী মেয়েটিকে আটক করা হয়। এলাকাবাসী দুজনকে বিয়ে দিতে চাইলে জিয়া ও তার বাবা আবু সুফিয়ান মেম্বার রাজি হননি। মেয়েটি সোনাগাজী থানায় ধর্ষণের মামলা করলে পুলিশ ওই দিনই জিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

বিচারিক আদালতে ব্যর্থ হয়ে জামিনের জন্য হাইকোর্টে যান জিয়ার আইনজীবীরা। ১ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ আদেশ দেয়, জিয়া ওই মেয়েকে বিয়ে করলে জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। আসামিপক্ষ এতে রাজি হলে বিয়ের আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয় ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষকে।

১৯ নভেম্বর ফেনী কারাগারে জেল সুপারের কার্যালয়ে আসামি ও বাদীর বিয়ে হয়। চার দেয়ালের মধ্যে সেদিনের সে বিয়ে ছিল অন্যরকম বিয়ে। মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, বর-কনে পক্ষ, সবাই ছিল। দেনমোহর ধরা হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, এই দোয়া করেন সবাই।

বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানোর পর ফেনী কারাগার থেকে মুক্ত হন জিয়া। তারপর থেকে চলছে তাদের দাম্পত্য জীবন।

ফেনীর সোনাগাজীর ৮ নম্বর চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম চর দরবেশ গ্রামের বাসিন্দা জিয়া। তার স্ত্রীও একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর দুই বাড়িতেই ছোট পরিসরে খাওয়া-দাওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো মিলমিশ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিরোধের খবর শোনা যায়নি।

কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জমান ভুট্টু বলেন, ‘তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো চলছে। কোনো পক্ষের কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। মেয়ে পক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোনো ধরনের ঝামেলা হলে আমাকে জানাতে বলেছি। আমি তাদের দাম্পত্য জীবনের সুখ কামনা করি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘তাদের বাড়ি আমাদের পাশে। কোনো ঝামেলার কথা শুনিনি। জিয়া সম্ভবত ঢাকায় চাকরি করে। এখন বাড়িতে আছে। যেহেতু আদালত-পুলিশ, এলাকার সব লোকজন তাদের ব্যাপারে জানে, সে কারণে আশা করি ঝামেলা হবে না। হলেও তারা নিজেরা নিজেরা মিটিয়ে ফেলবে।’

জিয়ার বাবা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নাই। জিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে লোকজন আসে। আমরা মেহমানদারি করি। দুপক্ষের আশা-যাওয়া ঠিকঠাক চলছে। আমার ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। কয়েক দিন পরপর বাড়িতে আসে। এখনও বাড়িতে আছে।’

জিয়া বলেন, ‘শুরুতে কিছু ভুল-বোঝাবুঝির কারণে আমাকে জেলে যেতে হয়। আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই। আজীবনও আশা করি হবে না। আমাদের দাম্পত্য জীবন ভালো কাটার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাই। আমার স্ত্রীও আমার জন্য দোয়া করে।’

আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যাবে, এমন প্রশ্নে জিয়া বলেন, ‘ও কথা বলতে চাইবে না।’

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি চাই আমার মেয়ের সুখ-শান্তি। আমি আমার মেয়েকে দেখতে যাই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ

ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ

প্রতীকী ছবি

ইভ্যালির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলা হয়, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পুনরায় দ্রুত সার্ভার চালু করে দেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’ 

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্ট্যাটাসে বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা সবাই অবগত। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার অংশীদার হয়ে দেশের অনলাইন কেনাকাটাকে সবার হাতের মুঠোয় নিয়ে যেতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি অবিরাম। আমরা এই কাজকে এগিয়ে নিতে চাই।

‘চাই আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে চালিয়ে যেতে। আর এই সুযোগ পেলে সকলের সব ধরনের অর্ডার ডেলিভারি দিতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ ছিলাম; আছি, থাকব।’

এতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আমাদের সকল এমপ্লয়ি শঙ্কার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। আমাদের সম্মানিত সিইও এবং চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় আমাদের ব্যাংকিংও সাময়িকভাবে বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের সার্ভারসহ অফিসের খরচ চালানো এবং আমাদের এমপ্লয়িগণের দায়িত্ব নেয়ার বিষয়গুলোতে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

‘আমাদের উকিলের মাধ্যমে আমাদের সম্মানিত সিইওর বক্তব্য হলো সুযোগ এবং সময় পেলে আমাদের পক্ষে ৪ মাসের মধ্যেই সকল জটিলতা গুছিয়ে ওঠা সম্ভব।’

ভেরিফায়েড পেজে বলা হয়, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পুনরায় দ্রুত সার্ভার চালু করে দেয়ার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

‘গ্রাহক এবং সেলারদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সচেষ্ট। দেশীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত হতে আমাদের এই যাত্রায় আমরা আপনাদের পাশে পেয়েছি সবসময়। আপনাদের এই ভালোবাসায় আমরা চিরকৃতজ্ঞ। সামনের দিনগুলোতেও আমরা এভাবে আপনাদের পাশে চাই।’

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মাঝে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে।

শেয়ার করুন

হোটেল কক্ষে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ

হোটেল কক্ষে নারীর ঝুলন্ত মরদেহ

বিলাস হোটেলের ম্যানেজার মো. হুমায়ুন বলেন, ‘রুবেল ও নাসিমা এর আগেও আমাদের হোটেলে থেকেছে। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমাদের হোটেলে থাকেন। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানি না।’

বাগেরহাটে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে নাসিমা খাতুন নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা রবিউল ইসলাম রুবেল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বাগেরহাট শহরের রাহাতের মোড়ের বিলাস হোটেলে শনিবার দুপুরে ৩৪ বছরের ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নাসিমার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী দক্ষিণপাড়ায়। তিনি ঢাকার সাভারের একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন। আটক রুবেলের বাড়ি একই উপজেলার চতুরা গ্রামে। শুক্রবার বিকেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা হোটেলটিতে উঠেছিলেন।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে ঝিনাইদহ পলিটেকনিকে পড়ার সময় তার থেকে ১১ বছরের বড় নাসিমার সখ্যতা গড়ে ওঠে। ওই বছরই একটি বাড়িতে তাকে আটকে নাসিমার সঙ্গে বিয়ে দেয় তার পরিবার। পরে রুবেল নাসিমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যান।

২০১৬ সালে রুবেলের বাড়ি থেকে চলে যান নাসিমা। পরে রুবেলের নামে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করলে নাসিমার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে রুবেল ফের বিয়ে করেন। এরপর গত এক বছর ধরে নাসিমা ও রুবেল ফের সম্পর্কে জড়ান।

বিলাস হোটেলের ম্যানেজার মো. হুমায়ুন বলেন, ‘রুবেল ও নাসিমা এর আগেও আমাদের হোটেলে থেকেছে। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে আমাদের হোটেলে থাকেন। এর থেকে বেশি কিছু আমি জানি না।’

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম জানান, হোটেল কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তারা নাসিমার মরদেহ পান। তার সঙ্গে থাকা যুবক রুবেলকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের ম্যানেজার হুমায়ুনকেও থানায় নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়ে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ওই নারীর পরিবারের লোকদের খবর দেয়া হয়েছে। তারা আসলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

এটি আসলে কিসের ছবি?

এটি আসলে কিসের ছবি?

অ্যাটাকাস অ্যাটলাস। ছবি: টুইটার

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ছবিটি টুইট করে একটি ধাঁধা দিয়েছিল। আর লিখেছিল, ‘সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে এই ধাঁধার উত্তর দেয়া হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে সাধারণত নিজেদের খবরের লিঙ্ক শেয়ার করে গণমাধ্যমগুলো।

কিন্তু শনিবার এই অদ্ভূত ছবিটি নিজেদের টুইটার পেজে শেয়ার করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে। আর অনুসারীদের কাছে প্রশ্ন রেখেছে, ‘আপনি কি জানেন এই সৃষ্টির নাম কী?’

প্রাথমিকভাবে ছবিটি দেখে অনেকেই জোড়া সাপের মাথা বলেই মনে করবেন। কিন্তু টুইটে একটি ক্লুও দিয়ে দেয় পোর্টালটি। ক্লু’তে বলা হয়- ‘এটি আসলে সাপ নয়!’

সাপ নয়, কিন্তু অবিকল সাপের মতো দেখতে। ভ্যাবাচেকা খাওয়ার মতো দশা। তবে কি এটি একটি ফুল?

এক্ষেত্রে বলে রাখা উচিত, এটি আসলে ফুলও নয়। তবে এটি কী?

ভারতীয় গণমাধ্যমটি টুইট-এর শেষ লাইনটিতে লিখেছিল- ‘সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে এই ধাঁধার উত্তর দেয়া হবে।’

তবে, তার আগেই কমেন্টে অনেকে সঠিক উত্তরটি দিয়ে দিয়েছেন বলেই মনে হলো। অন্তত গুগল ঘেঁটে এর সত্যতা মিললো।

জানা গেল, এটি আসলে একটি প্রজাপতি!

শুধু প্রজাপতি বললেও ভুল হবে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রজাপতিগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রজাতি।

টুইটটির কমেন্ট বক্সে এ নিয়ে মালতি চন্দ্রশেখর নামে একজন উত্তর দিয়েছিলেন, ‘প্রথম দেখায় আমি এটিকে সাপ ভেবেছি। তারপর ভাবলাম এটি হয়তো কোনো বিচিত্র ফুল কিংবা উদ্ভিদ। কিন্তু ভালো করে দেখে বুঝতে পারলাম এটি আসলে একটি প্রজাপতি।

কৃষ্ণকুমার পজুভাল নামে একজনের কমেন্ট থেকে জানা গেল, ‘পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ এই প্রজাপতিটির নাম অ্যাটাকাস অ্যাটলাস। অনেকে আবার এটিকে ‘স্ন্যাক মাউথ’ বাটারফ্লাই বলেও ডাকেন। শত্রুদের চোখে ধুলা দিতেই এর পাখনাগুলো দেখতে এমন সাপের মতো। আরও সহজ করে বললে, নিজের ডিমগুলোকে এই বিশেষ রূপের সাহায্যেই সুরক্ষা দেয় ‘স্ন্যাক মাউথ’ বাটারফ্লাই।

ছবিটি নিয়ে অনেকে মজার মজার মন্তব্যও করেছেন। সাপের দুটি মুখ দেখে, জাসমিত লালি নামে এক ভারতীয় মন্তব্য করেছেন, ‘মোদি আর যোগি!’

শেয়ার করুন

‘বিষক্রিয়ায়’ স্বামীর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক স্ত্রী

‘বিষক্রিয়ায়’ স্বামীর মৃত্যু, আশঙ্কাজনক স্ত্রী

প্রতীকী ছবি

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাজিব ও লাইজুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন রাজিব। এ সময় বোতলে থাকা বাকি কীটনাশক পান করেন লাইজু।

মাদারীপুরের রাজৈরে এক ব্যক্তি বিষ খেয়ে মারা গেছে, তার স্ত্রীর অবস্থাও আশঙ্কজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালে শনিবার বেলা ১১টায় মারা যান তালুকদার তালুকদার রাজিব। এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন গৃহবধূ লাইজু আক্তার।

রাজিবের বাড়ি রাজৈর উপজেলার পশ্চিম রাজৈর গ্রামে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাজিব ও লাইজুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতেও স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা কীটনাশক পান করেন রাজিব। এ সময় বোতলে থাকা বাকি কীটনাশক পান করেন লাইজু।

প্রতিবেশীরা তাদের রাজৈর হাসপাতালে নিয়ে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাদের ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানেই শনিবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজিব।

পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার জানান, ‘পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রী বিষ খেতে পারেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

মাগুরায় ‘রাজনৈতিক প্রভাবকে’ কেন্দ্র করে হতাহতদের নেয়া হয় সদর হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা।

মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নে সংঘর্ষে চার খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায় উঠে এসেছে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা দাবি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিবাদমান দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। আর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এসেছে নির্বাচনের খরচ যোগাতে চাঁদা দাবির তথ্য। দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপাতে নিজ পক্ষের লোকজনকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ওই গ্রামে বিবাদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নিবার্চনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নজরুল ফের প্রার্থী হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। নজরুলের বিরোধী পক্ষ হওয়ায় হাসানকে সমর্থন দেয় সবুর মোল্লা ও তার পক্ষ। এ নিয়ে নজরুল ও সবুর মোল্লার পক্ষে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জের ধরেই এ নজরুল ও সবুরের পক্ষের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা। এতে দুই ভাই সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা, তাদের চাচাত ভাই রহমান মোল্লা এবং মো. ইমরান নামে একজন নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই ঘটনার পর গ্রামের সবাইকে পুলিশের নজরদারিতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কেউ মামলা করেনি। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মামলা না হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

নিহত তিন ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের কথায়ও উঠে এসেছে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি। এ ছাড়া সবুর মোল্লার স্বজনরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য চাওয়া চাঁদা না দেয়ায় নজরুলের পক্ষ তাদের উপর হামলা চালায়।

আর নিহত ইমরানের পরিবার জানিয়েছে, ইমরান নিজের পক্ষের হওয়ার পরও নজরুল তাকে হত্যা করে দোষ প্রতিপক্ষের উপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা তাদের।

শনিবার জগদলের দক্ষিণপাড়ায় নিহত সবুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক মানুষ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’
মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত সবুরের পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া

কবির মোল্লার মেয়ে চাদনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার বাবা আর এই বাড়িতে নেই।’

ঘটনার দিনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বাবা পাশের বাড়িতে একটা দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর আমরা সেখানে খেতে যাই। তখন বাড়ির পাশে রাস্তার উপরে বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হয়। হঠাৎ শুনলাম আমাদের বাড়ির কাইকে সামনের হাকিমের মোড়ে কারা যেন মারধর করছে।

‘তখন বাবার ফোনে একটা কল আসে। বাবা সেই ফোন পেয়ে চলে যায়। এরপর আমার বাবা আর জীবিত ফেরেননি। গলা কাটা অবস্থায় আমার বাবাকে এলাকাবাসী হাকিমের মোড় থেকে উদ্ধার করে।’

সবুর মোল্লার ভাইয়ের ছেলে মাহফুজ ইয়াসিন অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকবার ইউপি সদস্য হওয়ায় নজরুলের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গিয়েছিল। তারা এর প্রতিবাদ করায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নজরুল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুল মেম্বার আগে বিএনপি করত। ২০১২ সালেও তিনি জগদল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে নিজের দল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিশে যান। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল হাসানের অন্যতম শক্তি এই নজরুল। নজরুল ছাড়া চেয়ারম্যানের কোনো ক্ষমতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এবার পরিষদ নির্বাচনে আমাদের এলাকার ভোটার টানতে আমার চাচা সবুর মোল্লাকে বলা হয়। আমার চাচা শান্তি চান, তাই তাদের অন্যায় সহ্য করেও কিছু বলেননি।

‘এ ছাড়া নির্বাচনের খরচ যোগাতে আমার দুই চাচা নিহত সবুর ও কবির মোল্লার কাছে চার লাখ টাকা চাদা দাবি করেন নজরুল মেম্বার। তা দিতে না পারায় তারা আরও ক্ষেপে যায়। এই নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। তবে চেয়ারম্যান তাদের পক্ষ নেয়।’

সবুর মোল্লার আরেক ভাইয়ের মেয়ে মোছা. মুরশিদা বলেন, ‘২০০৩ সালে আমার বাবা জরিপ মোল্লাকে বাড়ির সামনে ভোরবেলা ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে এই নজরুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। সেই ঘটনায় নজরুল মেম্বারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

‘তবে সেই মামলার সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং নজরুল তখন মেম্বারসহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। তাই বাবার হত্যার বিচার আমরা আপসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলি।’

সবুর মোল্লার স্ত্রী মিলিনা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী এলাকায় সুনামের সাথে বিভিন্ন সালিশ বিচার করত। সবাই সম্মান করত। এটাতে তার জনপ্রিয়তা ছিল। এ জন্য বহু মানুষ আমাদের কথা মতো চলত। তাই ভোটের সময় আসলি নজরুল মেম্বার আমাদের তাদেরকে সমর্থন দিতে বলত। কিন্তু এবার তারা চাঁদাও চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ার জন্য তারা এই খুন করল। এই খুনের সাথে জড়িত এই নজরুল মেম্বার। সে ১৮ বছর আগেও আমার স্বামীর ভাই জরিপ মোল্লাকে কুপিয়ে খুন করে। একই ঘটনায় এবার আমার স্বামীসহ তার আপন ভাই ও চাচাত ভাইকে আমরা হারালাম।

‘ওদের সবার আমি ফাঁসি চাই। সেই সাথে এই চেয়ারম্যান ওই নজরুল মেম্বারকে সব রকম সুযোগ দিয়ে আসছে তারেও আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিন ভাই ছাড়া নিহত আরেকজন ইমরান। মাত্র পাঁচ মাস বিয়ে করেছিলেন ইমরান। এইচএসসি শেষ করে ইমরান স্কেভেটর মেশিন চালাতেন। ঘটনার দিন চিৎকার শুনতে পেয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল মেম্বারের বাড়ির পাশে হাকিম মোড়ে যান ইমরান। পরে বাড়ির লোকজন জানতে পারেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইমরানের পরিবার জানায়, ইমরানসহ তারা সবাই নজরুলের দল করতেন। তাদের পাশেই নজরুল মেম্বারের বাড়ি।

ইমরানকে কারা হত্যা করেছে এমন প্রশ্নে তারা জানান, নজরুল মেম্বারের লোকেরাই তাকে ধরে আমাদের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

ইমরানের ভাবি জানান, ‘নজরুল মেম্বার নিজের দোষ আড়াল করতে নিজের পক্ষের ইমরানকে খুন করিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুল সুবিধাবাদী। তিনি যে দল ক্ষমতায় সেই দল করেন। বিএনপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। এরপর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার বিপরীতে কেউ প্রার্থী হলে তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এবার নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। তিনিও আওয়ামী লীগ করেন। একই গ্রামের পাশের ওয়ার্ডের সবুর মোল্লা ও তার পরিবার হাসানকে সমর্থন দেয়ায় নজরুল মেম্বার হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

শনিবার সকালে নজরুল মেম্বারের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাড়ি থেকে ফ্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র ভ্যানে করে সরাতে দেখা যায়। পরে পুলিশ বাধা দিলে ভ্যানচালক চলে যান।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই নিজেদের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এটা হতে পারে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী দেওয়া নিয়ে সেটা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, আমরা এই খুনের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি। গতকালের পর থেকে এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মামলা হলে সে মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন ট্রেজারার সিরাজুল হক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির নতুন ট্রেজারার সিরাজুল হক

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এএসএম সিরাজুল হক। ছবি: সংগৃহীত

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেয়ার আগে সিরাজুল হক বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ সরকারি ধামরাই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেন। প্রায় ৩৬ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অধ্যাপক এএসএম সিরাজুল হককে।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মো. আব্দুল হামিদ এ নিয়োগ দেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়য়ের ২১ সেপ্টেম্বরের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজুল হক ২৫ সেপ্টেম্বর কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন।

এ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেয়ার আগে সিরাজুল হক বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ সরকারি ধামরাই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেন। প্রায় ৩৬ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা আছে তার।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি পরিচালিত এনসাইক্লোপিডিয়া অফ বাংলাদেশের লিবারেশন ওয়ার অংশে ধামরাই উপজেলার ওপর গবেষণা করেন সিরাজুল হক।

১৯৮৪ সালে গোপালগঞ্জের সরকারি এস কে কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এ শিক্ষক। ১৯৯৪ সালে সহকারী অধ্যাপক ও ২০০২ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

২০০৮ সালে সিরাজুল সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ফরিদপুর সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে যোগ দেন। পরে একই কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন সিরাজুল। পরে তিনি সরকারি ধামরাই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে অতিরিক্ত ২ বছর সরকারি ধামরাই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিরাজুল।

১৯৮০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৮১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় ইসলামী আন্দোলন

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বায়তুল মোকাররমে সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম নয় এবং অচিরেই সংসদে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বিল উত্থাপন করা হবে বলে বক্তব্য দেয়ায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

কুমিল্লায় কুরআন অবমাননাকারীদের বিচার এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে শনিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান দলটির নেতারা।

পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও পদত্যাগ দাবি করা হয় সমাবেশ থেকে।

ঢাকা মহানগর ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত সমাবেশে কুমিল্লার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি এবং দেশের অন্য জায়গায় সহিংসতার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলকে দায়ী করেন নেতারা।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম বক্তব্যে বলেন, ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে, এটা মিমাংসিত বিষয়। এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না।’

সম্প্রতি দেয়া তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও তার পদত্যাগ দাবি করেন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়াবহ হবে তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। সরকার যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছে, তাতে সরকার আরেকটা দাঙ্গা করতে চায়। আমরা মনে করছি, সরকারের বিভিন্ন মহলের উসকানিতে কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দপ্তর সম্পাদক লোকমান বলেন, ‘আপনি সংবিধান মানেন না, আপনাকে মন্ত্রী হিসেবে মানি না। উনার বিচার করতে হবে।’

সংগঠনের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা নেছার উদ্দিন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে না পারলে পদত্যাগ করুন। এই সরকারকে পুতুল সরকার মনে করি।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

তিনি বলেন, ‘বাজার করে খাওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বাজারে গিয়ে খোঁজ নেন।’

কুমিল্লার ঘটনা ও পরের পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ি করেন ফজলে বারী মাসউদ। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও পরের ঘটনার জন্য সরকার দায়ী।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী।

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করবে। ইসলামের শত্রুরা এটা করেছে। সরকার ঘোলা পানিতে মাছ শিকার না করে তদন্ত করে বের করেন এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে।

‘ইসলামের অবমাননা করলে প্রতিবাদ করা ঈমানি দায়িত্ব। একটা মহল আমাদের দেশে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বাধায়া দিতে এটা করেছে। হিন্দুরাও এটা করতে পারে না। হাজীগঞ্জে ৫-৬ জন মারা গেছেন। কেন গুলি করলেন।’

তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে বয়কট করার আহ্বান জানান আল-মাদানী। তিনি বলেন, ‘মুরাদকে বয়কট করেন। ওর জানাজা হবে না, পানিতে ভাসায়া দাও। ওরা কাফেরদের থেকেও ভয়ঙ্কর।’

তিনি বলেন, ‘সব জিনিস ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। না কমাতে পারলে গদি থেকে নেমে যান।’

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি পল্টন মোড় হয়ে নাইটেঙ্গেল মোড়ে গিয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

শেয়ার করুন