কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

১৯ নভেম্বর ফেনী কারাগারে জেল সুপারের কার্যালয়ে আসামি ও বাদীর বিয়ে হয়। চার দেয়ালের মধ্যে সেদিনের সে বিয়ে ছিল অন্যরকম বিয়ে। মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, বর-কনে পক্ষ, সবাই ছিল। দেনমোহর ধরা হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, এই দোয়া করেন সবাই।

ধর্ষণ মামলায় কারাগারে বিয়ে করে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়া ফেনীর জহিরুল ইসলাম জিয়া ভালো আছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনও ভালো চলছে। সম্প্রতি দুই পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পেয়েছে নিউজবাংলা।

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০২০ সালের ২৭ মে ভোরে একই ঘরে অবস্থান করায় জিয়া ও অভিযোগকারী মেয়েটিকে আটক করা হয়। এলাকাবাসী দুজনকে বিয়ে দিতে চাইলে জিয়া ও তার বাবা আবু সুফিয়ান মেম্বার রাজি হননি। মেয়েটি সোনাগাজী থানায় ধর্ষণের মামলা করলে পুলিশ ওই দিনই জিয়াকে গ্রেপ্তার করে।

বিচারিক আদালতে ব্যর্থ হয়ে জামিনের জন্য হাইকোর্টে যান জিয়ার আইনজীবীরা। ১ নভেম্বর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ আদেশ দেয়, জিয়া ওই মেয়েকে বিয়ে করলে জামিনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। আসামিপক্ষ এতে রাজি হলে বিয়ের আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয় ফেনী জেলা কারা কর্তৃপক্ষকে।

১৯ নভেম্বর ফেনী কারাগারে জেল সুপারের কার্যালয়ে আসামি ও বাদীর বিয়ে হয়। চার দেয়ালের মধ্যে সেদিনের সে বিয়ে ছিল অন্যরকম বিয়ে। মিষ্টিমুখ, কোলাকুলি, বর-কনে পক্ষ, সবাই ছিল। দেনমোহর ধরা হয় ৬ লাখ টাকা। তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, এই দোয়া করেন সবাই।

বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানোর পর ফেনী কারাগার থেকে মুক্ত হন জিয়া। তারপর থেকে চলছে তাদের দাম্পত্য জীবন।

ফেনীর সোনাগাজীর ৮ নম্বর চরদরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম চর দরবেশ গ্রামের বাসিন্দা জিয়া। তার স্ত্রীও একই গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর দুই বাড়িতেই ছোট পরিসরে খাওয়া-দাওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো মিলমিশ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিরোধের খবর শোনা যায়নি।

কারাগারে বিয়ে: কেমন আছে সেই দম্পতি

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জমান ভুট্টু বলেন, ‘তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো চলছে। কোনো পক্ষের কোনো ধরনের অভিযোগ পাইনি। মেয়ে পক্ষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। কোনো ধরনের ঝামেলা হলে আমাকে জানাতে বলেছি। আমি তাদের দাম্পত্য জীবনের সুখ কামনা করি।’

স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন বলেন, ‘তাদের বাড়ি আমাদের পাশে। কোনো ঝামেলার কথা শুনিনি। জিয়া সম্ভবত ঢাকায় চাকরি করে। এখন বাড়িতে আছে। যেহেতু আদালত-পুলিশ, এলাকার সব লোকজন তাদের ব্যাপারে জানে, সে কারণে আশা করি ঝামেলা হবে না। হলেও তারা নিজেরা নিজেরা মিটিয়ে ফেলবে।’

জিয়ার বাবা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নাই। জিয়ার শ্বশুরবাড়ি থেকে লোকজন আসে। আমরা মেহমানদারি করি। দুপক্ষের আশা-যাওয়া ঠিকঠাক চলছে। আমার ছেলে ঢাকায় চাকরি করে। কয়েক দিন পরপর বাড়িতে আসে। এখনও বাড়িতে আছে।’

জিয়া বলেন, ‘শুরুতে কিছু ভুল-বোঝাবুঝির কারণে আমাকে জেলে যেতে হয়। আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা নেই। আজীবনও আশা করি হবে না। আমাদের দাম্পত্য জীবন ভালো কাটার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাই। আমার স্ত্রীও আমার জন্য দোয়া করে।’

আপনার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যাবে, এমন প্রশ্নে জিয়া বলেন, ‘ও কথা বলতে চাইবে না।’

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘আমি চাই আমার মেয়ের সুখ-শান্তি। আমি আমার মেয়েকে দেখতে যাই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য