সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনের বিচার শুরু

সিনহা হত্যা: ওসি প্রদীপসহ ১৫ জনের বিচার শুরু

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফরিদুল আলম মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে তোলা হয় আসামিদের। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১, ১০৯, ৩৪ ধারাসহ আরও কয়েকটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পিপি ফরিদুল।

কক্সবাজারের টেকনাফে সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় সাবেক ওসি প্রদীপসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে রোববার সকালে অভিযোগ গঠন হয়।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফরিদুল আলম মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি করেন।

এর আগে সকাল ১০টায় কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে তোলা হয় আসামিদের।

দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১, ১০৯, ৩৪ ধারাসহ আরও কয়েকটি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন পিপি ফরিদুল।

বিচারক তিন আসামির জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন।

এ মামলায় ৯ জুন টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও ১০ জুন উপপরিদর্শক নন্দদুলাল রক্ষিত জামিন আবেদন করেন।

১০ মাসের বেশি সময় পলাতক থাকার পর গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মামলার আরেক আসামি কনস্টেবল সাগর দেব। তিনিও জামিনের আবেদন করেন।

এই হত্যা মামলায় ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল ইসলাম।

সে বছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।

শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সিনহা তল্লাশিচৌকিতে বাধা দেন। আর তিনি পিস্তল বের করলে চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে।

তবে পুলিশের বক্তব্য নিয়ে সে সময় প্রশ্ন ওঠে। আর সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস মামলা করেন নয়জনের বিরুদ্ধে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে। ওসি (বরখাস্ত) প্রদীপ কুমার দাসকে করা হয় দুই নম্বর আসামি। মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে।

এরপর অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে র‌্যাব স্থানীয় তিনজন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য এবং প্রদীপের দেহরক্ষীসহ মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

আরও পড়ুন:
সিনহা হত্যা: আদালতে ১৫ আসামি
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার কারাগারে ওসি প্রদীপ
সিনহা হত্যা: শিপ্রার অব্যাহতির বিরুদ্ধে পুলিশের নারাজি
সিনহা হত্যা: এসপি মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ
প্রদীপের মাদক কারবার জেনে ফেলায় সিনহা হত্যা: র‌্যাব

শেয়ার করুন

মন্তব্য