‘গৌরাঙ্গ খুনি নন, তিনি খুন হয়েছেন’

‘গৌরাঙ্গ খুনি নন, তিনি খুন হয়েছেন’

গৌরাঙ্গের বড় ভাই মোহরচাঁদ সরকার বলেন, ‘আমার ভাই নিরীহ মানুষ। ওই রাতে সেও খুন হয়েছে। তাদের দুজনকে হত্যা করেছে খুনিরা। অথচ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

সিলেটের ওসমানী নগরে স্কুলশিক্ষক তপতী রানী দে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ বৈদ্যকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা পরিবার। গৌরাঙ্গের ভাইয়ের দাবি, তপতী রানীর সঙ্গে একইদিনে গৌরাঙ্গও খুন হন।

ওসমানী নগরের দয়ামীর ইউনিয়নের সোয়ারগাঁও এলাকার গত শনিবার (১৯ জুন) মধ্যরাতে নিজ ঘরে পাওয়া যায় তপতীর গলাকাটা মরদেহ। পাশে ঝুলছিল গৌরাঙ্গ বৈদ্যের মরদেহও।

পুলিশের ধারণা, গৌরাঙ্গই গৃহকর্ত্রীকে গলাকেটে হত্যা করেছেন। পরে নিজে ফাঁস লেগে আত্মহত্যা করেন।

গৌরাঙ্গের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলায়। তিনি কাজের জন্য তপতীর বাড়িতেই থাকতেন।

তপতী রানীর পরিবারের অভিযোগও গৌরাঙ্গের দিকে। মা হত্যার ঘটনায় রোববার রাতে ওসমানীনগর থানায় মামলা করেন তপতীর চিকিৎসক ছেলে তন্ময় দে বিপ্লব। মামলায় মৃত গৌরাঙ্গ বৈদ্যকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

গৌরাঙ্গের বড় ভাই মোহরচাঁদ সরকার বলেন, ‘আমার ভাই নিরীহ মানুষ। ওই রাতে সেও খুন হয়েছে। তাদের দুজনকে হত্যা করেছে খুনিরা। অথচ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

তপতী ও গৌরাঙ্গ হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতেই এমনটি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভাইয়ের ‘খুনিদের’ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মোহরচাঁদ বলেন, ‘গৌরাঙ্গ হত্যার ঘটনায় আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করব।’

তবে পুলিশ বলছে, গৌরাঙ্গের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

অপমৃত্যু মামলার বাদী গৌরাঙ্গ বৈদ্যের আরেক ভাই গোবিন্দ বৈদ্য বলেন, ‘ময়নাতদন্তের কথা বলে পুলিশ আমার স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমি কোনো অপমৃত্যু মামলা করিনি। পরিকল্পিতভাবে স্কুলমাস্টারকে খুনের পর আমার ভাইকে হত্যা করে খুনিরা লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রেখেছে।’

গৌরাঙ্গের পরিবারের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তন্ময় দে বিপ্লবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তাপতী রাণী দে উপজেলার সোয়ারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার স্বামী বিজয় দে ও দুই ছেলেমেয়ে চিকিৎসক।

পুলিশ জানিয়েছে, তপতীর মৃতদেহের পাশ থেকে একটি ছুরি ও একটি বটি পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডে এ দুইটি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর কোনো এক সময়ে এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে।

প্রতিবেশীরা জানান, শনিবার বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে গিয়েছিলেন তপতীর স্বামী ও ছেলে। ঘরে তপতী ও গৌরাঙ্গ ছিলেন। এক প্রতিবেশি রাত ১১টার দিকে টয়লেটের জানালা দিয়ে গৌরাঙ্গর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। প্রায় সে সময় তপতীর স্বামী বিজয় বাড়ি ফেরেন। তিনি সে দৃশ্য দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মেঝে থেকে তপতীর গলাকাটা ও গৌরাঙ্গর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

গৌরাঙ্গ বৈদ্যের ভাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, সব কিছুই পুলিশের তদন্তে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ সবদিক পর্যালোচনার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ ঘটনার পরদিন রোববার দুপুরে সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি তপতীকে বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে নিজে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন গৃহকর্মী গৌরাঙ্গ।

‘তপতী রানী যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়ির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা খুবই শক্ত। ভেতর থেকে ফটক তালা দেয়াই ছিল। ফলে বাইরে থেকে কেউ ভেতরে প্রবেশের কোনো আলামত পাইনি। ক্ষোভের বশে গৌরাঙ্গই তপতী রানীকে হত্যা করতে পারে। আপাতত এই ধারণা থেকেই তদন্ত এগোচ্ছি। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’

আরও পড়ুন:
ঘরে দুই মরদেহ: ‘গৃহকর্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা’
ঘরের ভেতরে স্কুলশিক্ষকের গলাকাটা ও গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য