ধসে পড়া ভবনটির ছিল না অনুমোদন

ধসে পড়া ভবনটির ছিল না অনুমোদন

রাজশাহী মহানগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকায় ধসে পড়া ভবনটি নির্মাণের জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদনই নেয়া হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা

‘এই ভবন নির্মাণে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিলো একারণেই এটি ধসে পড়েছে। প্রথমত অনুমোদন ছাড়াই এতবড় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল এটা একটা অপরাধ। আবার এভাবে ভাঙাড়ি যাতীয় জিনিস দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করা আরও বড় অপরাধ।’ 

রাজশাহী মহানগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকায় ধসে পড়া ভবনটি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অনুমোদন ছাড়াই তৈরি করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এটি ধসে পড়েছে বলে জানান আরডিএর কর্মকর্তারা।

আরডিএর অথরাইজড অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ওই ভবন নির্মাণে কোনো অনুমোদনই নেয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়াই এটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। আরডিএ ওই এলাকায় নকশা অনুমোদন দেয়া বন্ধ রেখেছে। এটি ধসে পড়ার পর সেখানে আরডিএর লোকজন পরিদর্শন করেছে।

‘এই ভবন নির্মাণে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। একারণেই এটি ধসে পড়েছে। প্রথমত অনুমোদন ছাড়াই এত বড় ভবন নির্মাণ করা হচ্ছিল এটা একটা অপরাধ। আবার এভাবে ভাঙাড়ির জিনিস দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করা আরও বড় অপরাধ।’

তবে এটি নিয়ে তাদের আপাতত কোনো করণীয় নেই জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবো। এভাবে যেন কেউ ভবন তৈরি না করে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েরদাঁড়া এলাকায় একটি রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে। এভাবে কোনো রকমে একটি ভবন বানিয়ে রাখতে পারলে জমি অধিগ্রহণে সময় ভালো দাম পাওয়া যাবে এমন আশা করেছিলেন ধসে পড়া ভবনের মালিক। তাই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কম খরচে ভবনটি তৈরি করছিলেন তিনি।

চারতলা ভবনটি রোববার বেলা ৩টার দিকে ধসে পড়ে। সে সময় সেখানে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে চাপা পড়েছে কয়েকটি প্রাইভেটকার।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রউফ বলেন, ‘ভবনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট। প্রস্থে ছিল ৪০ ফুট। চারতলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল। ওপরে আরেকতলা তোলার জন্য বিম ওঠানো হয়েছিল।

জানা গেছে, ভবনটির মালিক ছিলেন আক্তারুজ্জামান বাবলু নামের এক ব্যবসায়ী। প্রায় এক বছর আগে তিনি মারা গেছেন। এখন ভবনের মালিকানায় আছেন তার ছোট ভাই নুরুজ্জামান পিটার। তবে আক্তারুজ্জামান বাবলুর মৃত্যুর পর থেকে ভবনটিতে আর কাজ হয়নি।

ভবন মালিকের ব্যবস্থাপক তোফাজ্জল হোসেন দাবি করেন, ভালোমানের সামগ্রীই ব্যবহার করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘ভবন আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ থাকত না।’

আরডিএর কাছ থেকে এই ভবনটির নকশার অনুমোদন নেয়া হয়েছিল কিনা তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কলেজছাত্র হত্যার অভিযোগে ৪ যুবক আটক

কলেজছাত্র হত্যার অভিযোগে ৪ যুবক আটক

ছুরিকাঘাতে নিহত কলেজছাত্র মো. আকাশ। ছবি: নিউজবাংলা

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো. আকাশ হত্যার অভিযোগ পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ অভিযানে নামে। এরপর রাত ৩টার দিকে চার যুবককে আটক করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে এক কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে চার যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

সদর উপজেলার উজানিসার গ্রাম থেকে বুধবার রাত ৩টার দিকে তাদের আটক করা হয়।

আটক চার যুবক হলেন উজানিসার গ্রামের শেখ রিফাত হোসেন, মো. রিয়াজ, শেখ মোফাজ্জল ও মো. হাবিবুল্লাহ।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম এই আটকের বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সদর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মো. আকাশ হত্যার অভিযোগ পেয়ে বুধবার রাতে পুলিশ অভিযানে নামে। এরপর রাত ৩টার দিকে চার যুবককে আটক করা হয়।

১৮ বছর বয়সী আকাশ চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুলতানপুর গ্রামে সুলতান বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় আকাশকে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হন তার চার বন্ধু।

আহতরা হলেন মো. ফায়েজ, মো. আরমান, মো. রাকিব ও মো. মাসুম।

মাসুম জানান, সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে ওই এলাকার শেখ রিফাত বসে গাঁজা খান। এ নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার সকালে তার তর্কাতর্কি হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করলে তারা সরে যান।

এরপর বিকেলে সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যান তিনি ও আকাশসহ এলাকার কয়েকজন বন্ধু। ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সন্ধ্যায় সেখানে তাদের ওপর হামলা চালান রিফাত ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় লোকজন আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ছুরিকাহত আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতা: ৩৭ আসামি রিমান্ডে

পীরগঞ্জে সহিংসতা: ৩৭ আসামি রিমান্ডে

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ৩৭ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

পীরগঞ্জ আমলি আদালতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ৩৮ আসামিকে তোলা হলে ৩৭ জনকে রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন বিচারক ফজলে এলাহী খান।

বয়স ১৮-এর কম হওয়ায় এক আসামিকে শিশু আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ডে পেতে আবেদন করে পুলিশ। সেই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদনও করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের সাধারণ নিবন্ধক (জিআরও) শহিদুর রহমান।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলায় একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার আসামি তার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, বুধবার রাতে পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুপথ হালদার আরেকটি মামলা করেছেন এ ঘটনায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে দুজনকে।

আল আমিন ও উজ্জল হাসান নামে ওই দুজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন

কুমিল্লার সেই মণ্ডপ-মাজার পরিদর্শন পুলিশ কর্মকর্তাদের

কুমিল্লার সেই মণ্ডপ-মাজার পরিদর্শন পুলিশ কর্মকর্তাদের

কুমিল্লা শহরের নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপ ও তার কাছাকাছি এলাকায় থাকা মাজার পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মকর্তারা। ছবি নিউজবাংলা

মাজার ও মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ডিআইজি বেলালুর রহমানের কাছে কোরআন অবমাননাকারীকে আটক করা হয়েছে কি না, জানতে চান সাংবাদিকরা। তবে সে প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।

কুমিল্লা শহরের নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপ ও তার কাছাকাছি এলাকায় থাকা মাজার পরিদর্শন করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রথমে মণ্ডপ পরিদর্শন করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তারপর যে মাজার থেকে কোরআন শরিফটি আনা হয়েছে, সেই মাজার পরিদর্শন করেন তারা।

পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-ক্রাইম) এ ওয়াই এম বেলালুর রহমান, এআইজি জালাল উদ্দিন (অপারেশন), এআইজি মোহাম্মদ উল্লাহ। তাদের সঙ্গে ছিলেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) ফারুক আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহাদাৎ হোসেনসহ জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

মাজার ও মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ডিআইজি বেলালুর রহমানের কাছে কোরআন অবমাননাকারীকে আটক করা হয়েছে কি না, জানতে চান সাংবাদিকরা।

সে প্রশ্নের কোনো জবাব দেননি তিনি।

সংবাদ সম্মেলন করা হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত বুধবার ভোরে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে চলে ব্যাপক ভাঙচুর, আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশকিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা

পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ৫৩ জন।

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় আরও একটি মামলা করেছে পুলিশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে দুজনকে।

তারা হলেন আল আমিন ও উজ্জল হাসান। তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুপথ হালদার এই মামলা করেছেন। আসামিদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ৫৬ জন।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলায় একজনকে আসামি করে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার আসামি তার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনায় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মো. ইলিয়াস, একলাশপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, গনিপুরের নুরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল।

ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে বৃদ্ধ বাবাকে ঠান্ডা মাথায় ছেলে খুন করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। যদিও হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এসব জানায় র‍্যাব-৪।

এতে বলা হয়, আশুলিয়ার জিরানী কোণাপাড়ায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ছেলে আফাজ উদ্দিনের বটির আঘাতে নিজ বাড়িতে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানায় আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আফাজকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের মিসকিন শাহ রহমত উল্লাহ মাজার থেকে তাকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি, লুঙ্গি ও একটি বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।

তবে র‍্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিউজবাংলাকে নূর মোহাম্মদের মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘ জন্ম থেকেই আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা ওর দেখভাল করতো, তার সঙ্গেই রাতে ঘুমাতো।’

আফাজের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘ আমার স্বামীর মানসিক সমস্যার কারণে আড়াই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকি। মাঝেমধ্যে আমার শ্বশুর ওর সঙ্গে ঘুমাতো।’

স্বপন মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আফাজ একেক সময় একেক রকম আচরণ করতো। কখনও ভালো আবার কখনও খারাপ।’

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল

প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল গভীর রাতে শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফটি নেন। এই মাজার থেকে মণ্ডপে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। আরেকটি ফুটেজে ইকবালকে মণ্ডপে কোরআন রেখে ফিরে আসতে দেখা যায়।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান সন্দেহভাজন ইকবাল হোসেন কোরআনটি নিয়েছিলেন মণ্ডপের পাশের এক মাজারের মসজিদ থেকে।

মণ্ডপে সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন ইকবাল। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের সহযোগী হিসেবে অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

নিউজবাংলার হাতে আসা কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল গভীর রাতে কাছের একটি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফটি নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি তখন রাত ২টা ১০ মিনিট।

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এর মসজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের গদা হাতে হেঁটে যাওয়া ইকবাল

আরেকটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, মণ্ডপে হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ইকবাল ফিরে আসছেন। কোরআন রাখার সময় তিনি হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি তখন রাত সোয়া ৩টার মতো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, দারোগাবাড়ী মাজারের মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে যাওয়া ইকবালসহ তিনজন ঘটনায় সরাসরি জড়িত।

তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবীরসহ (২৫) দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর তাদের পেছনে আরও কেউ আছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরীকে ফোন করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি৷ তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি।’

মসজিদের বারান্দায় পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মাজারে এসে কোরআন শরিফ দিয়ে যান। এসব কোরআন শরিফে মসজিদের ভেতরের সেলফ পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই কিছু কোরআন শরিফ বারান্দায় রাখা হয়েছিল। তাছাড়া, বারান্দায় রাখলে যেকোনো সময় যে কারও জন্য তিলাওয়াতেরও সুবিধা হয়।

‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে গিয়ে এমন কাজ করবে। আগামীতে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দার আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখা চক্রের আরেক সদস্য ৩০ বছরের ইকরাম হোসেন। তিনিই ১৩ অক্টোবর ভোরে ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন। তারপর ওসি আনওয়ারুল আজিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কোরআন শরিফটি উদ্ধারের পাশাপাশি ইকরামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যান।

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে রাখা হনুমানের মূর্তির গদা সরিয়ে রাখা হয় পবিত্র কোরআন শরিফ। বাঁয়ের ছবিটি মঙ্গলবারের, ডানেরটি বুধবার সকালের

পুলিশের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইকবালের পাশাপাশি ইকরামও রাতে নেশা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ওই রাতে ৩ পিস ইয়াবা সেবন করেন। পরে মণ্ডপের পাশে অবস্থান নেন। মণ্ডপে কোরআন রাখেন ইকবাল। আর ইকরামের দায়িত্ব ছিল ভোরে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর। সে অনুযায়ী তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন।

ওসি আনওয়ারুল আজিম মণ্ডপ থেকে কোরআন উদ্ধারের সময় সেটি ফেসবুকে লাইভ করেন ফয়েজ নামের এক যুবক। সেই লাইভের পরেই উত্তেজিত মানুষ জড়ো হন ঘটনাস্থলে, শুরু হয় সহিংসতা। এই ফয়েজকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রধান অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

ইকবালের মা আমেনা বেগম নিউজবাংলাকে জানান, তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইকবাল সবার বড়।

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন

তিনি জানান, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই নেশা করা শুরু করেন। ১০ বছর আগে তিনি জেলার বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেন। ওই ঘরে তার এক ছেলে রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ইকবালের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তারপর ইকবাল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে আরেকটি বিয়ে করেন। এই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

আমেনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইকবাল নেশা করে পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করত। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটেও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াত।’

ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতে ভালোবাসতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেত। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল।’

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে বুধবার রাতে প্রশ্ন করা হলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে ধসে পড়ল চারতলা ভবন
কোল্ড স্টোরেজ ধসে প্রাণ গেল ৭ গরুর
ধসে পড়ল ‘৫০ বছরের’ কোল্ড স্টোরেজ
নির্মাণ শেষের আগেই ভূমি অফিসে ধস
কেরানীগঞ্জে ডোবায় তিনতলা ভবন

শেয়ার করুন